Sodepur High school রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের উত্তর নবম শ্রেণী বাংলা

 Sodepur High school রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের উত্তর নবম শ্রেণী বাংলা 

sodepur-high-school


9 Sodepur High school


 Sodepur High school নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচি অনুযায়ী 'সোদপুর হাই স্কুল'-এর রায় ও মার্টিন  প্রশ্নপত্রের নির্ভুল ও সহজ সমাধান নিচে দেওয়া হলো:

​১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো :

১.১ “না পায় দেখিতে কেহ” – কী দেখতে পায় না?

উত্তর: (খ) রবির কিরণ। (প্রবল মেঘের অন্ধকারে সূর্যের আলো কলিঙ্গদেশে পৌঁছাচ্ছিল না)।

১.২ “বন্ধুগণ হাসবেন না।” — উক্তিটির বক্তা হলেন —

উত্তর: (গ) ইলিয়াস।

১.৩ “চল রে গাঁটকাটা!” - বক্তা কে?

উত্তর: (খ) প্রথম রক্ষী।

১.৪ “কলকাতার জাদুঘরে যেটা আছে তার প্রায় দ্বিগুণ।” – উক্তিটি যে বস্তুকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে তা হল একটি —

উত্তর: (গ) মমি। (প্রোফেসর শঙ্কু তাঁর আলমারিতে রাখা মমির কথা বলেছিলেন)।

১.৫ অপিনিহিতি লক্ষ করা যায়:

উত্তর: (ঘ) বঙ্গালী উপভাষায়।

১.৬ কোনটি উপসর্গ নয়?

উত্তর: (খ) প্রস্। (প্র, পরা, পরি — এগুলি উপসর্গ, কিন্তু 'প্রস্' কোনো বাংলা বা সংস্কৃত উপসর্গ নয়)।

​২। কমবেশি ১৫টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

২.১ “ঝড়ের গতিতে এগিয়ে চলতো খড়ি।” – কখন এমন ঘটত?

উত্তর: ‘দাম’ গল্পে সুকুমারের মাস্টারমশাই যখন ব্ল্যাকবোর্ডে অংক কষতেন, তখন খড়ি ঝড়ের গতিতে চলত।

২.২ “সারারাত মিছে দাঁড় টানি,” এর অন্তর্নিহিত অর্থটি কী?

উত্তর: এর অর্থ হলো— সংসারের মায়াবন্ধনে আটকে থেকে জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর সমস্ত প্রচেষ্টাই বৃথা বা ব্যর্থ হওয়া।

২.৩ “প্রভু, অনুগৃহীত হলাম।” - বক্তা কীভাবে অনুগৃহীত হয়েছিলেন?

উত্তর: চুরির অপবাদ থেকে মুক্তি পেয়ে এবং রাজা আংটির মূল্যের সমান পারিতোষিক দেওয়ায় ধীবর অনুগৃহীত হয়েছিলেন।

২.৪ “একটা বিশ্রী কাণ্ড ঘটে গেল।” — কাণ্ডটি কী?

উত্তর: প্রোফেসর শঙ্কুর তৈরি রোবট ‘বিধুশেখর’ হঠাৎ করে পাহারাদার প্রহ্লাদকে জাপটে ধরে নাচতে শুরু করেছিল।

২.৫ কৃদন্ত শব্দ কাকে বলে?

উত্তর: ধাতুর সঙ্গে 'কৃৎ' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে কৃদন্ত শব্দ বলে। যেমন: চল্ + অন্ত = চলন্ত।

২.৬ ধ্বনি পরিবর্তনের দুটি কারণ লেখো।

উত্তর: (১) দ্রুত উচ্চারণের প্রবণতা এবং (২) ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত প্রভাব।

​৩। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও : Sodepur High school 

৩.১ “সেই বিভীষিকা মন থেকে গেল না।” — বক্তা কে? তিনি কোন্ বিভীষিকার কথা বলেছেন?

উত্তর: বক্তা হলেন সুকুমার। তিনি তাঁর স্কুলের অংকের মাস্টারমশাইয়ের কড়া শাসন এবং অংক না পারলে যে চরম ভীতি প্রদর্শন করতেন, সেই বিভীষিকার কথা বলেছেন।

৩.২ “বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।।” — প্রসঙ্গসহ উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য লেখো।

উত্তর: কলিঙ্গদেশে দেবী চণ্ডীর মায়ায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও মেঘের অন্ধকার নেমে আসে। প্রজারা নিজেদের ঘরবাড়ি নিরাপদ মনে না করে প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে পালাতে শুরু করে। 'রড়' শব্দের অর্থ হলো দৌড় দেওয়া।

৩.৩ “এখন মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন।”— তাৎপর্য লেখো।

উত্তর: ধীবর যখন আংটি চুরির অভিযোগে রক্ষীদের হাতে ধরা পড়ে, তখন সে বারবার নির্দোষ দাবি করলেও রক্ষীরা তাকে অপমান করে। নিরুপায় ধীবর অদৃষ্টের ওপর নির্ভর করে এই কথাটি বলেছিল।

​৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও :

৪.১ “স্বর্গের দরজাতেও ঠিক ওই কথাই লেখা রয়েছে —”

  • স্বর্গের দরজায় কী লেখা আছে? উত্তর: "অঙ্ক জানি না বলিয়া যাহারা গর্ব করে, তাহারা এখানে প্রবেশ করিবে না।"
  • বক্তা কখন একথা বলেছেন? উত্তর: মাস্টারমশাই যখন ক্লাসে ছাত্রদের অংকের গুরুত্ব বোঝাতেন এবং ছাত্ররা অংককে ভয় পেত, তখন তিনি এই কথা বলতেন।
  • পরিপ্রেক্ষিত: মাস্টারমশাই বিশ্বাস করতেন অংক হলো সমস্ত জ্ঞানের ভিত্তি। প্লেটোর একাডেমির দরজায় লেখা এই কথাটি তিনি ছাত্রদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও মেধা বিকাশের উদ্দেশ্যে শোনাতেন।

৪.২ “সে একেবারে সর্বহারা হয়ে পড়ল।”

  • কে, কীভাবে সর্বহারা হয়েছিল? উত্তর: গল্পের নায়ক ইলিয়াস সর্বহারা হয়েছিল। সন্তানদের অবাধ্যতা, সম্পত্তিতে ভাগ দেওয়া, পশুর মড়ক, দুর্ভিক্ষ এবং সবশেষে কিরগিজদের হাতে ঘোড়া চুরির ফলে একসময়ের ধনী ইলিয়াস বৃদ্ধ বয়সে নিঃস্ব হয়ে পড়ে।
 যদি এই উত্তরটি  আরও বড় করে লিখতে চাও তবে এটি লিখতে পারো 

লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্র ইলিয়াস কীভাবে তাঁর দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের অর্জিত সম্পত্তি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিলেন, তার বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:

​কে সর্বহারা হয়েছিল?

​রুশ লেখক লিও তলস্তয়ের লেখা ‘ইলিয়াস’ গল্পে রাশিয়ার উফা প্রদেশের বাসকির জনজাতির অন্তর্গত ইলিয়াস সর্বহারা হয়ে পড়েছিলেন।

​কীভাবে সর্বহারা হয়েছিল?

​ইলিয়াসের সর্বহারা হওয়ার পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণ ছিল না, বরং কতগুলো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর্যায়ক্রমিক সমাপতন তাকে নিঃস্ব করে দিয়েছিল। কারণগুলি হলো:

  • সন্তানদের অবাধ্যতা ও সম্পত্তি ভাগ: ইলিয়াসের বড় ছেলেটি এক মারপিটে মারা যায় এবং ছোট ছেলেটি বাবার অবাধ্য হয়ে এক একগুঁয়ে স্ত্রী বিয়ে করে। ফলে ইলিয়াস তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে বাধ্য হন। আলাদা হওয়ার সময় ছোট ছেলেকে একটি বাড়ি এবং কিছু গবাদি পশু দিয়ে দিতে হয়, যার ফলে ইলিয়াসের মূল সম্পত্তিতে টান পড়ে।
  • পশু মড়ক: ছোট ছেলে আলাদা হওয়ার পরেই ইলিয়াসের ভেড়ার পালে এক ভয়াবহ মড়ক লাগে। এতে তাঁর বহু ভেড়া মারা যায় এবং সম্পত্তির পরিমাণ অনেকটা কমে যায়।
  • দুর্ভিক্ষের প্রভাব: এর পরের বছরই দেশে প্রবল দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। খাদ্যের অভাবে অর্থাৎ খড় না পাওয়ায় শীতকালে ইলিয়াসের অনেকগুলো গরু ও ঘোড়া না খেতে পেয়ে মারা যায়।
  • কিরগিজদের হানা: ইলিয়াসের অবশিষ্ট যেটুকু সম্পত্তি ছিল, তার ওপর আঘাত হানে তস্কর জাতি ‘কিরগিজ’রা। তারা ইলিয়াসের পালের সেরা ঘোড়াগুলো চুরি করে নিয়ে যায়।
  • দারিদ্র্য ও বার্ধক্য: এই একের পর এক দুর্যোগে ইলিয়াসের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। তাঁর কর্মশক্তিও কমে আসছিল। অবশেষে অভাবের তাড়নায় তিনি তাঁর পশম বা লোমের কোট, ঘোড়ার জিন, তাবু এবং অবশিষ্ট গবাদি পশুগুলো বিক্রি করে দেন।

উপসংহার: এইভাবে সত্তর বছর বয়সে পৌঁছে এককালের প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তি ইলিয়াস একেবারে নিঃস্ব বা সর্বহারা হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত নিজের এবং স্ত্রীর গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য তাঁকে প্রতিবেশী মহম্মদ শাহের বাড়িতে মজুরের কাজ নিতে হয়।


​ব্যক্তিগত পরামর্শ:

​এই উত্তরটি লেখার সময় মনে রাখবে যে, ইলিয়াসের জীবনের এই পতন কেবল অর্থনৈতিক নয়, এটি একটি জীবনদর্শনেরও অংশ। তাই পয়েন্ট করার সময় পশু মড়ক, দুর্ভিক্ষ এবং চুরি—এই তিনটি বিষয় অবশ্যই উল্লেখ করবে।


​৫। কমবেশি ১৫০ শব্দে উত্তর দাও : Sodepur High school 

৫.২ “নোঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে।”

  • নোঙর কী? উত্তর: নৌকাকে এক জায়গায় স্থির রাখার জন্য ব্যবহৃত লোহার ভারী যন্ত্র। এখানে এটি সংসারের মায়াবন্ধনের প্রতীক।
  • তট শব্দের অর্থ: তীর বা কিনার।
  • ফলাফল: কবি সুদূরের পানে তরী নিয়ে যেতে চাইলেও তটের কিনারে নোঙর পড়ে যাওয়ায় তাঁর যাত্রা থমকে যায়। শত দাঁড় টানলেও নৌকা আর এগোয় না, কেবল জীবনের বৃথা আস্ফালনই অবশিষ্ট থাকে।

​৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও :

৬.১ প্রথম দিনে কী ঘটেছিল?

উত্তর: প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়রি পড়ার প্রথম দিনেই লেখক দেখেন ডায়রির কালির রঙ সবুজ থেকে লাল হয়ে গেছে। এছাড়া ডায়রিটি পিঁপড়েরা খাচ্ছিল না এবং আগুনেও তা পুড়ছিল না।

৬.২ “ওকে আপাতত অকেজো করেই রেখে দেবো।” — কার কথা বলা হয়েছে? কেন?

উত্তর: রোবট বিধুশেখরের কথা বলা হয়েছে। সে মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার পর অদ্ভুত আচরণ শুরু করেছিল এবং শঙ্কুর কথা না শুনে নিজের বুদ্ধিতে চলতে শুরু করেছিল, তাই তাকে সাময়িকভাবে অকেজো রাখার কথা ভাবা হয়েছিল।


 এই ছয়ের দাগের উত্তর গুলো যদি বড় করে লিখতে চাও তাহলে এগুলো লিখতে পারো 


​৬.১ “ঘটনাটা ঘটল প্রথম দিনই।” প্রথম দিনে কী ঘটনা ঘটেছিল?

​প্রোফেসর শঙ্কুর আশ্চর্য ডায়রিটি হাতে পাওয়ার পর লেখক সেটি পড়ার জন্য নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রথম দিনেই তিনি ডায়রিটির বেশ কিছু অলৌকিক ও বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য প্রত্যক্ষ করেন:

  • কালির রঙ পরিবর্তন: লেখক যখন প্রথম পড়তে শুরু করেন, তখন দেখেন লেখাটি রয়েছে সবুজ কালিতে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর চোখের সামনে সেই কালির রঙ বদলে হয়ে যায় লাল। খানিক পরে তা আবার নীল বর্ণ ধারণ করে।
  • অবিনশ্বরতা পরীক্ষা: ডায়রিটির অদ্ভুত গুণের কথা শুনে লেখক সেটিকে পরীক্ষা করতে উনুনের জ্বলন্ত কয়লার ওপর ফেলে দেন। কিন্তু দেখা যায়, দীর্ঘ সময় আগুনের ওপর থাকা সত্ত্বেও ডায়রিটির কোনো ক্ষতি হয়নি, এমনকি তার রঙও চটে যায়নি।
  • দাঁতের কামড়ে অক্ষত: ডায়রিটিকে লেখক নিজের দাঁত দিয়ে কাটার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতে একটি দাঁতের দাগও পড়েনি।
  • পিঁপড়ের অনীহা: লেখক ডায়রিটির ওপর চিনি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু দেখা যায় কোনো পিঁপড়ে সেই চিনির ধারেকাছেও ঘেঁষেনি।

​৬.২ “ওকে আপাতত অকেজো করেই রেখে দেবো।” — কার কথা বলা হয়েছে? কেন তাকে অকেজো করে রাখা হবে?

ব্যক্তি পরিচয়:

এখানে প্রোফেসর শঙ্কুর তৈরি যান্ত্রিক মানব বা রোবট 'বিধুশেখর'-এর কথা বলা হয়েছে।

অকেজো করে রাখার কারণ:

প্রোফেসর শঙ্কু এবং তাঁর সঙ্গীরা যখন মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করেন, তখন থেকে বিধুশেখরের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তাকে অকেজো করে রাখার প্রধান কারণগুলি হলো:

  • বিপথগামী হওয়া: বিধুশেখর রকেট থেকে নামার পর শঙ্কুর কোনো নির্দেশ না মেনেই নিজের ইচ্ছেমতো মঙ্গলের জনহীন প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে।
  • অদ্ভুত সতর্কতা: সে বারবার বিপদের আশঙ্কায় অদ্ভুত সব শব্দ করছিল এবং শঙ্কুকে বারবার বাধা দিচ্ছিল।
  • বিপজ্জনক আচরণ: মঙ্গলগ্রহের নদীতীরে যখন একটি দানবীয় জন্তু তাদের তাড়া করে, তখন বিধুশেখর উল্টে সেই জন্তুটির দিকে এগিয়ে যায় এবং তার পা কামড়ে ধরে। জন্তুটির আঘাতে বিধুশেখরের কলকবজা বিকল হয়ে এক অদ্ভুত আওয়াজ হতে থাকে।
  • অপ্রকৃতিস্থ অবস্থা: বিধুশেখরের মতো যন্ত্র যদি নিজের বুদ্ধিতে অবাধ্যভাবে চলতে থাকে, তবে তা মহাকাশযাত্রার মতো অভিযানে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই নিরাপত্তার খাতিরে এবং তার যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের জন্য শঙ্কু তাকে আপাতত 'অকেজো' বা সুইচ অফ করে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।


​৭। ভাবসম্প্রসারণ :

“ধর্মকারার প্রাচীরে বজ্র হানো, / এ অভাগা দেশে জ্ঞানের আলোক আনো।”

মূলভাব: ধর্ম যখন গোঁড়ামি আর কুসংস্কারে বন্দি হয়ে পড়ে, তখন তা মানুষের উন্নতির পথ রোধ করে। ধর্মের নামে যে বিভেদ আর অন্ধকারের দেওয়াল তোলা হয়েছে, তাকে যুক্তিবাদী জ্ঞানের বজ্র দিয়ে ভেঙে ফেলা প্রয়োজন। সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে অন্ধ আনুগত্য নয়, বরং প্রকৃত শিক্ষার আলো দরকার।

 এই ভাব সম্প্রসারণটি যদি বড় করে লিখতে চাও তাহলে এটি লিখতে পারো 


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নৈবেদ্য' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত এই পঙ্ক্তিদ্বয় অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে এর সহজ-সরল ভাবসম্প্রসারণ দেওয়া হলো:

ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব:

ধর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মানুষের মুক্তি এবং আধ্যাত্মিক বিকাশ। কিন্তু যখন সেই ধর্ম গোঁড়ামি, কুসংস্কার এবং সংকীর্ণতার কারাগারে বন্দি হয়ে পড়ে, তখন তা মানুষের অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এই অন্ধকারের দেয়াল ভাঙার একমাত্র উপায় হলো মুক্তবুদ্ধি এবং আধুনিক জ্ঞানের আলো।

সম্প্রসারিত ভাব:

সৃষ্টির আদি থেকে মানুষ অজানাকে জানতে এবং অজেয়কে জয় করতে চেয়েছে। এই যাত্রায় ধর্ম ছিল মানুষের নৈতিক ও মানসিক শক্তির আধার। কিন্তু কালের বিবর্তনে একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মানুষ ধর্মকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে শুরু করে। তারা ধর্মকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে আচার-সর্বস্বতা, কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাসের নিগড়ে। ফলে ধর্ম হয়ে ওঠে এক ‘কারাগার’ বা ‘কারা’, যা মানুষের স্বাধীন চিন্তা ও যুক্তিকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

​আমাদের এই হতভাগ্য দেশে ধর্মের নামে মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ, ঘৃণা এবং সাম্প্রদায়িকতার যে প্রাচীর তোলা হয়েছে, তা সমাজকে পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কবি এই সংকীর্ণতার দেয়ালে ‘বজ্র’ হানার আহ্বান জানিয়েছেন। বজ্র যেমন আকাশ পরিষ্কার করে এবং পুরনো জরাজীর্ণতাকে ধ্বংস করে নতুন প্রাণের স্পন্দন আনে, তেমনি কঠোর আঘাতের মাধ্যমে ধর্মের এই মিথ্যা দেয়ালকে ভেঙে ফেলা প্রয়োজন।

​একমাত্র জ্ঞানের আলোকই পারে এই অজ্ঞানতার অন্ধকারকে দূর করতে। জ্ঞান মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়, যুক্তিবাদী করে তোলে এবং ধর্মের আসল স্বরূপ চিনতে সাহায্য করে। যখন মানুষের মনে প্রকৃত শিক্ষার আলো প্রবেশ করবে, তখন সে ধর্মের বাহ্যিক আড়ম্বর ছেড়ে তার অভ্যন্তরীণ মানবিকতাকে গ্রহণ করতে পারবে। কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য তাই শাস্ত্রীয় গোঁড়ামির চেয়ে যুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চা অনেক বেশি জরুরি।

উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায়, ধর্ম মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, বিচ্ছিন্ন করে না। ধর্মের নামে গড়ে ওঠা সংকীর্ণতার কারাগার ভেঙে ফেলার জন্য আজ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও উদার মানবিকতার প্রয়োজন। জ্ঞানের মশাল জ্বেলে অন্ধবিশ্বাসের অন্ধকার দূর করতে পারলেই এই দেশ প্রকৃত অর্থে সুজলা-সুফলা ও শস্য-শ্যামলা হয়ে উঠবে।


ব্যক্তিগত পরামর্শ:

​পরীক্ষায় ব্যাকরণ অংশে ভালো নম্বর পেতে 'ধ্বনি পরিবর্তন' এবং 'উপসর্গ' অধ্যায় দুটি খুব ভালো করে অভ্যাস করবে। 'দাম' এবং 'ইলিয়াস' গল্পের মূল ভাববস্তু একই— মানুষের জীবনের পরিবর্তনশীলতা; এটি মাথায় রেখে উত্তর লিখলে সুবিধা হবে।

পরবর্তী কোনো স্কুল বা প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে আমাকে বলো, আমি সাহায্য করতে প্রস্তুত!


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ