Barlow Girls High School HS নবম শ্রেণীর বাংলা প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের উত্তর রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা
2. Barlow Girls' High School (HS) বাংলা প্রথম পর্যায়ে মূল্যায়ন
বার্লো গার্লস হাই স্কুল (Barlow Girls' High School) রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা -এর প্রশ্নগুলির সঠিক ও নির্ভুল সমাধান নিচে দেওয়া হলো:
১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো :
১.১ “সভায় জাঁকিয়ে বক্তৃতা করা গেল।” — বক্তা রবীন্দ্রনাথ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন –
(ক) ১২টি, (খ) ১৬টি, (গ) ১০টি, (ঘ) ১৪টি।
উত্তর: (গ) ১০টি।
১.২ ‘কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি।।' – জৈমিনি কী নিবারক ঋষি? –
(ক) বৃষ্টি নিবারক, (খ) ঝড় নিবারক, (গ) বজ্রপাত নিবারক, (ঘ) বন্যা নিবারক।
উত্তর: (গ) বজ্রপাত নিবারক।
১.৩ ‘আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে?' – উক্তিটির বক্তা –
(ক) ধীবর, (খ) শ্যালক, (গ) সূচক, (ঘ) জানুক।
উত্তর: (ক) ধীবর।
১.৪ “এই দুটো মাসে উল্কাপাত হয় সবচেয়ে বেশি।” – মাস দুটি হল –
(ক) ভাদ্র-আশ্বিন, (খ) কার্তিক-অগ্রহায়ণ, (গ) আশ্বিন-কার্তিক, (ঘ) পৌষ-মাঘ।
উত্তর: (খ) কার্তিক-অগ্রহায়ণ।
১.৫ বিবৃত স্বরধ্বনি হল –
(ক) অ্যা, (খ) অ, (গ) আ, (ঘ) ও।
উত্তর: (গ) আ।
১.৬ দুর্গা > দুগ্গা – ধ্বনি পরিবর্তনের কোন্ রীতি অনুযায়ী হয়েছে? –
(ক) প্রগত সমীভবন, (খ) পরাগত সমীভবন, (গ) অন্যোন্য সমীভবন, (ঘ) পরাগত স্বরসংগতি।
উত্তর: (খ) পরাগত সমীভবন (এখানে 'র' ধ্বনিটি পরবর্তী 'গ' ধ্বনির প্রভাবে 'গ'-তে রূপান্তরিত হয়েছে)।
২। কমবেশি ১৫টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : Barlow Girls' High School (HS)
২.১ “চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল।।” চারি মেঘের নাম লেখো।
উত্তর: পুরাণ মতে চারি মেঘের নাম হলো— সংবর্ত, আবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণ।
২.২ ‘নোঙর’ কবিতায় কথক কীভাবে দিকের নিশানা করেন?
উত্তর: ‘নোঙর’ কবিতায় কবি দূর সাগরের তীরে পাড়ি দেওয়ার সময় আকাশের তারার দিকে চেয়ে দিকের নিশানা করেন।
২.৩ ‘দাম’ গল্পে মাস্টারমশাই নিজে কীসের ছাত্র ছিলেন?
উত্তর: ‘দাম’ গল্পে অংকের মাস্টারমশাই নিজে সংস্কৃতের ছাত্র ছিলেন।
২.৪ বাবা মারা যাওয়ার সময় ইলিয়াসের সম্পত্তির পরিমাণ কী ছিল?
উত্তর: বাবা মারা যাওয়ার সময় ইলিয়াসের সম্পত্তি ছিল সাতটি ঘোড়া, দুটি গরু এবং কুড়িটি ভেড়া।
২.৫ ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাটকে দুই রক্ষীর নাম কী?
উত্তর: ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাটকে দুই রক্ষীর নাম হলো সূচক এবং জানুক।
২.৬ ‘এ কি যা-তা অনুগ্রহ!' ধীবর অনুগৃহীত কেন?
উত্তর: আংটি চুরির অপরাধ থেকে মুক্তি পেয়ে এবং রাজা দুষ্মন্তের কাছ থেকে আংটির মূল্যের সমান পারিতোষিক পেয়ে ধীবর অনুগৃহীত হয়েছিল।
২.৭ মঙ্গলীয় সৈন্যরা কেমন দেখতে ছিল?
উত্তর: মঙ্গলীয় সৈন্যরা ছিল লম্বায় বড়জোর তিন ফুট, তাদের সারা গায়ের চামড়া মাছের আঁশের মতো এবং তাদের বড় বড় চোখ ও দাঁত ছিল।
২.৮ কৃদন্ত শব্দ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: ধাতু বা ক্রিয়াপ্রকৃতির সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে কৃদন্ত শব্দ বলে। যেমন: চল্ + অন্ত = চলন্ত।
২.৯ ‘পরা’ উপসর্গযোগে একটি শব্দ গঠন করে বাক্যে ব্যবহার করে দেখাও।
উত্তর: শব্দ: পরাজয়। বাক্য: খেলায় পরাজয় মেনে নেওয়া বড় মনের পরিচয়।
২.১০ ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করো : সাহিত্য।
উত্তর: সহিত + য (ষ্ণ্য) = সাহিত্য।
৩। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
৩.১ “পরিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী।” – ‘পরিচ্ছিন্ন' শব্দের অর্থ কী? সন্ধ্যা দিবস রজনী পরিচ্ছিন্ন নয় কেন?
উত্তর: ‘পরিচ্ছিন্ন’ শব্দের অর্থ হলো পৃথক বা আলাদা।
‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে দেখা যায় যে, কলিঙ্গদেশে আকাশ জুড়ে ঘন কালো মেঘের সমাবেশ ঘটেছিল। এর ফলে চারদিক এতটাই অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল যে দিনের বেলাতেও রাতের মতো আঁধার নেমে এসেছিল। সূর্যের আলো না পৌঁছানোর কারণে দিন, সন্ধ্যা বা রাতকে আলাদা করে চেনা সম্ভব হচ্ছিল না।
৩.২ “ততই বিরামহীন এই দাঁড় টানা।” - কোন্ দাঁড় টানা, কেন বিরামহীন?
উত্তর: অজিত দত্তের ‘নোঙর’ কবিতায় কবির জীবন-তরিকে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাই হলো দাঁড় টানা।
সংসার বা বাস্তব জীবনের মায়ারূপ নোঙরে কবির জীবন-নৌকাটি আটকে আছে। কবি চান সুদূরের হাতছানিতে সাড়া দিতে, কিন্তু বাস্তবতার টানে তিনি সফল হন না। তবুও আশা ছাড়েন না, তাই অবিরামভাবে তিনি দাঁড় টেনে তরিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান।
৪। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
৪.১ “তা উনি পারতেন।” – ‘উনি’ কে? উনি কী পারতেন?
উত্তর: ‘উনি’ হলেন সুকুমারের স্কুলের অংকের মাস্টারমশাই।
মাস্টারমশাই জ্যামিতির চিত্র আঁকায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। কোনো কম্পাস বা জ্যামিতিক সরঞ্জাম ছাড়াই তিনি ব্ল্যাকবোর্ডের ওপর খড়ি দিয়ে একেবারে নিখুঁত বৃত্ত বা সমবাহু ত্রিভুজ এঁকে ফেলতে পারতেন।
৪.২ “শুনে অতিথিরা ভাবতে বসল।” – কোন্ কথা শুনে অতিথিরা ভাবতে বসেছিল?
উত্তর: লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পে ইলিয়াস যখন সর্বহারা হয়ে মহম্মদ শাহের বাড়িতে আশ্রয় পায়, তখন সে অতিথিদের সামনে তার জীবনের সারসত্য প্রকাশ করে। সে জানায় যে, যখন সে ধনী ছিল তখন তার কোনো শান্তি ছিল না। কিন্তু আজ সর্বহারা হয়ে সে আর তার স্ত্রী প্রকৃত শান্তি খুঁজে পেয়েছে। ধনের পেছনে ছোটা যে বৃথা— এই নিগূঢ় সত্য শুনে অতিথিরা ভাবতে বসেছিল।
৫। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও :Barlow Girls' High School (HS)
৫.১ শকুন্তলা কীভাবে রাজা দুষ্মন্তের দেওয়া স্মারকটি হারিয়ে ফেলেছিল?
উত্তর: মহর্ষি কণ্বের তপোবন থেকে পতিগৃহে যাত্রার পথে শকুন্তলা ‘শচীতীর্থ’ নামক স্থানে স্নান করেছিলেন। স্নান সেরে ওঠার সময় বা অঞ্জলি দেওয়ার সময় তাঁর অসতর্কতায় আঙুল থেকে রাজা দুষ্মন্তের দেওয়া নামাঙ্কিত রাজ-আংটিটি (স্মারকটি) নদীতে পড়ে গিয়েছিল।
৫.২ “ঋষি অপমানিত বোধ করলেন এবং অভিশাপ দিলেন,” – ঋষির নাম কী? তিনি কাকে, কী অভিশাপ দিয়েছিলেন?
উত্তর: ঋষির নাম হলো দুর্বাসা।
তিনি শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। শকুন্তলা যখন রাজা দুষ্মন্তের চিন্তায় মগ্ন ছিলেন, তখন অতিথি হিসেবে আসা ঋষি দুর্বাসার উপস্থিতি তিনি টের পাননি। এতে অপমানিত বোধ করে ঋষি অভিশাপ দেন যে, যাঁর চিন্তায় মগ্ন থেকে শকুন্তলা ঋষিকে অবজ্ঞা করেছেন, সেই প্রিয়তম ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন (স্মরণ করিয়ে দিলেও চিনতে পারবেন না)।
৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও :
৬.১ “আমি তাঁকে দশ টাকায় বিক্রি করেছিলুম।” – এই উক্তির আলোকে সুকুমার চরিত্রটি আলোচনা করো।
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুকুমার একজন আধুনিক মনস্ক শিক্ষিত মানুষ। এই উক্তির মাধ্যমে তাঁর চরিত্রের কয়েকটি দিক ফুটে উঠেছে:
- অনুশোচনা: সুকুমার বড় হয়ে উপলব্ধি করেছেন যে ছাত্রজীবনে তিনি তাঁর শিক্ষককে যে বিদ্রূপ করেছিলেন, তা ঠিক ছিল না। দশ টাকা সম্মানিকের জন্য তিনি তাঁর শিক্ষককে নিয়ে লিখেছিলেন— এটি তাঁর কাছে ‘বিক্রি করার’ মতো হীন মনে হয়েছে।
- আত্মসমালোচনা: সুকুমার নিজের ভুল স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি। তিনি বুঝেছিলেন যে তাঁর শিক্ষকের শাসন ছিল স্নেহেরই বহিঃপ্রকাশ।
- মানবিকতা: তাঁর মধ্যে আত্মসম্মানবোধ থাকলেও যখন তিনি তাঁর বৃদ্ধ মাস্টারমশাইয়ের দেখা পান, তখন তাঁর সমস্ত অহংকার ধূলিসাৎ হয়ে যায়। তিনি উপলব্ধি করেন যে মাস্টারমশাইয়ের হৃদয়ের বিশালতার কাছে তাঁর পাণ্ডিত্য অতি তুচ্ছ।
৬.২ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় প্রকাশিত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিত্র
সূচনা:
মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী তাঁর ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আখেটিক খণ্ডে কলিঙ্গদেশের ওপর দেবী চণ্ডীর রোষানলে সৃষ্ট এক প্রলয়ংকরী ঝড়-বৃষ্টির বর্ণনা দিয়েছেন। এই বিপর্যয় ছিল জনজীবন বিপর্যস্তকারী এক অলৌকিক অথচ জীবন্ত উপাখ্যান।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের স্বরূপ:
- অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশ: বিপর্যয়ের শুরুতেই দেখা যায় ঈশান কোণে মেঘের ঘনঘটা। দেখতে দেখতে সমগ্র আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। এই অন্ধকার এতটাই গভীর ছিল যে প্রজারা নিজেদের শরীর পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিল না— “দূরূ দূরূ মেঘ ডাকে অন্তরীক্ষে।”
- ভয়াবহ ঝড় ও বৃষ্টি: ঝড়ের দাপটে চারদিক ধুলোয় ধূসর হয়ে যায়। সবুজ শস্যের খেত ধুলোয় লুটিয়ে পড়ে। উলটপালট হয়ে যায় প্রকৃতি। বৃষ্টির তীব্রতা বোঝাতে কবি বলেছেন— “করি-কর সমান বরিষে জলধারা।” অর্থাৎ হাতির শুঁড়ের মতো মোটা ধারায় অবিরাম জলপাত শুরু হয়।
- বজ্রপাত ও মেঘের গর্জন: আকাশ চিরে ঘনঘন বজ্রপাত হতে থাকে। মেঘের গুরুগম্ভীর গর্জনে কলিঙ্গবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তারা এই মহাপ্রলয় থেকে বাঁচতে বজ্রনিবারক ঋষি জৈমিনির নাম স্মরণ করতে থাকে।
- শিল ও জলোচ্ছ্বাস: বৃষ্টির সঙ্গে বড় বড় শিল পড়তে শুরু করে। কবির ভাষায় সেই শিলগুলো ছিল ভাদ্র মাসের পাকা তালের মতো বড়। এই শিলের আঘাতে ঘরের চাল ফুটো হয়ে যায়। টানা সাতদিনের অবিরাম বর্ষণে চারদিকের স্থলভাগ জলমগ্ন হয়ে পড়ে, ফলে পথঘাট ও মাঠের পার্থক্য মুছে যায়।
- বাস্তুহারা জনজীবন: বন্যার জলে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় সাপেরা গর্ত ছেড়ে জলে ভেসে বেড়াতে শুরু করে। ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার ভয়ে এবং জীবন বাঁচাতে প্রজারা ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালাতে থাকে। দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান যেন কলিঙ্গদেশের সমস্ত মঠ ও অট্টালিকা ধ্বংস করে চলেন।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী তাঁর নিপুণ বর্ণনায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের যে ছবি এঁকেছেন, তা কেবল দেবীর মহিমা প্রচারই নয়, বরং মধ্যযুগের বাংলার পল্লীজীবনের অসহায়তা ও প্রকৃতির রুদ্র রূপের এক অসামান্য দলিল।
৭। কম-বেশি ১৫০ শব্দে নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও :
৭.১ “আজ দিনের শুরুতেই একটা বিশ্রী কাণ্ড ঘটে গেল।” – দিনটা কত তারিখ ছিল? বিশ্রী কাণ্ডটা কী ঘটেছিল?
উত্তর: দিনটা ছিল ১ জানুয়ারি।
বিশ্রী কাণ্ডটি ছিল এই যে— সেইদিন সকালে প্রোফেসর শঙ্কু যখন তাঁর বাগানে কাজ করছিলেন, তখন তাঁর প্রিয় বিড়াল 'নিউটন' তাঁর তৈরি একটা বৈজ্ঞানিক রাসায়নিক ওষুধ খেয়ে ফেলেছিল। সেই ওষুধের প্রভাবে নিউটন মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়ে লজেন্স খেতে শুরু করে এবং তার মধ্যে অদ্ভুত আচরণ দেখা যায়। প্রোফেসর ভয় পেয়েছিলেন যে ওষুধটি তাঁর বিড়ালের কোনো বড় ক্ষতি করে ফেলল কি না।
৭.২ লেখক কার থেকে প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়রিটি পেয়েছিলেন? ডায়রিটির বিশেষত্ব কী ছিল?
উত্তর: লেখক (সত্যজিৎ রায়) তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকে ডায়েরিটি পেয়েছিলেন, যে বন্ধুটি আবার সেটি পেয়েছিলেন জনৈক তারকবাবুর কাছ থেকে।
ডায়েরিটির বিশেষত্ব: ডায়েরিটির বিশেষত্ব ছিল তার অদ্ভুত গঠন। এটি ছিল লাল রঙের এবং এর পাতাগুলো ছিল অত্যন্ত পাতলা কিন্তু অবিনশ্বর। কোনোভাবে ডায়েরিটিকে ছিঁড়ে ফেলা বা পোড়ানো যাচ্ছিল না। এমনকি ডায়েরির কালির রঙও সময়ের সাথে সাথে বদলে যেত। ডায়েরিটি ছোট হলেও এর মধ্যে থাকা তথ্যের সম্ভার ছিল অপরিসীম।
৮। কমবেশি ১২৫ শব্দে ভাবসম্প্রসারণ করো :
৮.১ মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয় / আড়ালে তার সূর্য হাসে।
উত্তর: মানুষের জীবন সুখ এবং দুঃখের সমষ্টি। আকাশে যেমন মেঘ থাকলে সূর্য ঢাকা পড়ে যায়, কিন্তু মেঘ সরে গেলেই আবার সূর্যের আলো দেখা দেয়, তেমনি মানুষের জীবনেও বিপদ বা দুঃখ চিরস্থায়ী নয়। মেঘ সূর্যকে সাময়িকভাবে আড়াল করতে পারে কিন্তু চিরতরে মুছে ফেলতে পারে না। মানুষের জীবনে যখন বড় কোনো বিপদ আসে, তখন ভেঙে পড়লে চলবে না। মনে রাখতে হবে, অন্ধকারের পরেই আলোর দেখা মেলে। ধৈর্য ও সাহসের সাথে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করলে সাফল্যের মুখ দেখা সম্ভব। দুঃখের অমানিশা কাটিয়েই জীবনের নতুন সূর্যের উদয় হয়।
আপনার সাহায্য করতে পেরে ভালো লাগছে। আমি কি আপনার জন্য অন্য কোনো প্রশ্নপত্রের সমাধান করে দেব?
৮.২ চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষা শতগুণে দোষী।
মূলভাব: সমাজে চুরি একটি অপরাধ এবং চোর অবশ্যই দোষী। কিন্তু যে ধনী ব্যক্তি অঢেল সম্পদের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও অভাবী ও ক্ষুধার্ত মানুষের প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখায় না, নৈতিক বিচারে সেই কৃপণ ধনী চোরের চেয়েও বড় অপরাধী।
সম্প্রসারিত ভাব: প্রচলিত আইন ও সামাজিক দৃষ্টিতে চুরি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অন্যের সম্পদ না বলে গ্রহণ করাকে সমাজ অনৈতিক কাজ হিসেবেই দেখে। কিন্তু একটু গভীরে চিন্তা করলে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ শখ করে চোর হয় না; পেটের জ্বালা এবং চরম দারিদ্র্যই মানুষকে চুরির পথে ঠেলে দেয়। যখন ক্ষুধার্ত মানুষের সামনে অন্নের কোনো সংস্থান থাকে না, অথচ সমাজের এক শ্রেণির হাতে অঢেল সম্পদ কুক্ষিগত থাকে, তখনই সমাজে চুরির প্রবৃত্তি জন্মায়।
পৃথিবীর সকল সম্পদের ওপর সমস্ত মানুষের অধিকার থাকা উচিত। কিন্তু সমাজের ভারসাম্যহীন ব্যবস্থায় দেখা যায়, কেউ প্রাচুর্যের মধ্যে বিলাসিতা করছে, আবার কেউ একমুঠো খাবারের জন্য হাহাকার করছে। কৃপণ ধনীরা তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদ দিয়ে অনায়াসেই বহু দরিদ্র মানুষের অন্নসংস্থান করতে পারত। কিন্তু তারা স্বার্থপরের মতো সেই সম্পদ আগলে রাখে। তাদের এই 'অদয়া' বা নিষ্ঠুরতাই পরোক্ষভাবে দরিদ্রকে চোর হতে বাধ্য করে।
চোর হয়তো অন্যের সামান্য সম্পদ কেড়ে নেয়, কিন্তু কৃপণ ধনীরা দরিদ্রের প্রাপ্য অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করে সামাজিক অবিচার করে। শাস্ত্র ও নীতিশাস্ত্র অনুসারে, অভাবীর ক্ষুধা নিবারণ না করে অকারণে ধন সঞ্চয় করা এক প্রকার সামাজিক পাপ।
মন্তব্য: তাই কেবল চোরকে শাস্তি দিলেই সমাজ থেকে চুরি নির্মূল হবে না। যদি ধনীরা তাদের কৃপণতা ত্যাগ করে আর্তের সেবায় এগিয়ে আসে এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়, তবেই সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং চুরির প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.