Canning David Sassoon High School HS রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের উত্তর নবম শ্রেণী বাংলা
3 Canning David Sassoon High School HS রায় ও মার্টিন উত্তর
১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : Canning David Sassoon High School HS
১.১ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতাটি কোন্ যুগের প্রেক্ষাপটে লেখা?
(ক) প্রাচীন যুগ, (খ) আধুনিক যুগ, (গ) মধ্যযুগ, (ঘ) প্রাক্-ঐতিহাসিক যুগ।
উত্তর: (গ) মধ্যযুগ। (এটি মধ্যযুগের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের অন্তর্গত)
১.২ “যতদিন ধনী ছিলাম, কখনও সুখ পাইনি।” – একথা বলেছেন -
(ক) ইলিয়াসের কন্যা, (খ) ইলিয়াস, (গ) মোল্লাসাহেব, (ঘ) ইলিয়াসের স্ত্রী।
উত্তর: (ঘ) ইলিয়াসের স্ত্রী। (শাম-শেমাগি এই কথাটি বলেছিলেন)
১.৩ “আপনারা শান্ত হন।” – ‘আপনারা' বলতে বোঝানো হয়েছে –
(ক) দুই রক্ষীকে, (খ) রাজ-শ্যালক ও প্রথম রক্ষীকে, (গ) রাজ-শ্যালক ও দ্বিতীয় রক্ষীকে, (ঘ) রাজা ও রাজ-শ্যালককে।
উত্তর: (ক) দুই রক্ষীকে। (ধীবর এই অনুরোধ করেছিল)
১.৪ ‘আজ দিনের শুরুতেই একটা বিশ্রী কাণ্ড ঘটে গেল।' – উদ্ধৃতাংশে যে দিনটির প্রসঙ্গ রয়েছে, সেটি হল -
(ক) ১৫ জানুয়ারি, (খ) ৫ জানুয়ারি, (গ) ১২ জানুয়ারি, (ঘ) ২০ জানুয়ারি।
উত্তর: (খ) ৫ জানুয়ারি।
১.৫ ‘অপিনিহিতি' শব্দটির অর্থ –
(ক) পূর্ববর্তী সন্নিবেশ, (খ) পরবর্তী সন্নিবেশ, (গ) স্বরের মধ্যে সমতা, (ঘ) স্বরের লোপ।
উত্তর: (ক) পূর্ববর্তী সন্নিবেশ। (পদের মধ্যবর্তী ‘ই’ বা ‘উ’ কার আগে উচ্চারিত হওয়া)
১.৬ শঙ্খ > শাঁখ – এটি ধ্বনি পরিবর্তনের কোন্ শ্রেণিতে পড়ে?
(ক) স্বরলোপ, (খ) ব্যঞ্জনলোপ, (গ) নাসিক্যীভবন, (ঘ) স্বরসংগতি।
উত্তর: (গ) নাসিক্যীভবন। (অনুস্বার বা নাসিক্য ব্যঞ্জন লুপ্ত হয়ে পূর্ববর্তী স্বরকে অনুনাসিক করেছে)
২। কমবেশি ১৫টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
২.১ “ততই বিরামহীন এই দাঁড় টানা।” – কবি কেন দাঁড় টানাকে ‘বিরামহীন' বলেছেন?
উত্তর: সুদূর পাড়ি দেওয়ার লক্ষ্য ও বাস্তব জগতের মায়া বা পিছুটানের দ্বন্দ্বে লিপ্ত কবি নিজেকে সচল রাখতে ক্লান্তহীন চেষ্টা করে যান বলে দাঁড় টানাকে ‘বিরামহীন’ বলেছেন।
২.২ “সেও তো পাপ।” - কোন্ আচরণকে ‘পাপ’ বলা হয়েছে?
উত্তর: ল্যেভ তলস্তোয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পে অতিথিদের সামনে নিজের অতীত দুর্ভাগ্যের কথা বলে তাঁদের আনন্দ নষ্ট করাকে শাম-শেমাগি ‘পাপ’ বলেছেন।
২.৩ ‘নোঙর' কবিতায় কবি কীভাবে দিকের নিশানা করেন?
উত্তর: ‘নোঙর’ কবিতায় কবি আকাশে উদিত সুকতারা বা শুক্রগ্রহকে দেখে দিকের নিশানা করেন।
২.৪ সন্ধি বিচ্ছেদ করো : পুরস্কার, সংশ্লেষ।
উত্তর: * পুরস্কার = পুরঃ + কার
- সংশ্লেষ = সম্ + শ্লেষ
২.৫ আদিস্বরাগম, মধ্যস্বরাগম, অন্ত্যস্বরাগম-এর একটি করে উদাহরণ দাও।
উত্তর: * আদিস্বরাগম: স্কুল > ইস্কুল (শুরুতে ‘ই’ আগম)
- মধ্যস্বরাগম (বিপ্রকর্ষ): রত্ন > রতন (মাঝে ‘অ’ আগম)
- অন্ত্যস্বরাগম: বেঞ্চ > বেঞ্চি (শেষে ‘ই’ আগম)
২.৬ “আমি ----- হাসি হাসলুম” – শূন্যস্থানে নির্দিষ্ট শব্দ লেখো।
উত্তর: আমি করুণ হাসি হাসলুম। (প্রফেসর শঙ্কুর ডায়েরি ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়রি’ থেকে সংগৃহীত)
৩। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৩.১ “স্রোতের বিদ্রুপ শুনি প্রতিবার দাঁড়ের নিক্ষেপে।” – কবিতার মধ্যে ‘নৌকা’ কীসের প্রতীক? উদ্ধৃতাংশটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অজিত দত্তের ‘নোঙর’ কবিতায় ‘নৌকা’ হলো মানুষের জীবনতরণীর প্রতীক বা মানুষের আকাঙ্ক্ষার বাহন।
বাস্তবের তটে কবির জীবনতরীটি মায়ারূপ নোঙরে আটকে গেছে। তিনি সৃজনশীল বা দূরগামী জগতের উদ্দেশ্যে বিরামহীন দাঁড় টেনে চলেন। কিন্তু দাঁড়ের প্রত্যেকটি আঘাতে নৌকা এগোতে না পেরে যখন শব্দ করে, তখন কবির মনে হয় জোয়ারের উদ্দাম স্রোত তাঁর এই ব্যর্থ চেষ্টাকে উপহাস বা বিদ্রুপ করছে।
৩.২ “চণ্ডীর আদেশ পান বীর হনুমান।” – দেবী চণ্ডী কোন্ কাব্যের দেবী? দেবী চণ্ডীর আদেশ পেয়ে বীর হনুমান কী করেছিলেন? ঘরগুলো দলমল করছিল কেন?
উত্তর: দেবী চণ্ডী মধ্যযুগের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের প্রধান দেবী।
দেবী চণ্ডীর আদেশ পেয়ে বীর হনুমান কলিঙ্গ দেশের মঠ-অট্টালিকা ভেঙে চুরমার করেছিলেন এবং বিশাল পর্বত সদৃশ পাথর দিয়ে সেগুলিকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিলেন।
হনুমান দেবীর আদেশে কলিঙ্গ দেশে প্রচণ্ড ধ্বংসলীলা চালিয়েছিলেন। তাঁর সেই ধ্বংসাত্মক তাণ্ডব এবং উপড়ে ফেলা পাহাড়ের ভারে কলিঙ্গ দেশের ঘরবাড়িগুলো টলোমলো বা ‘দলমল’ করছিল।
৪। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :Canning David Sassoon High School HS
৪.১ আমি কলেজে বাংলা পড়াই। আমি কে? মাস্টার মশাই সম্বন্ধে কথকের ধারণা কেমন ছিল?
উত্তর: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বনফুলের লেখা ‘নোটবই’ (পরবর্তীতে ‘বলাই’ বা অনুরূপ গল্প হিসেবে সংকলিত হতে পারে, তবে এখানে সূত্রানুসারে) গল্পে ‘আমি’ হলেন স্বয়ং গল্পের কথক।
মাস্টার মশাই সম্পর্কে কথকের ধারণা ছিল বেশ কৌতুকপূর্ণ ও ভয় মিশ্রিত। ছাত্রাবস্থায় মাস্টার মশাইকে তাঁর কাছে পাহাড়ের মতো অটল এবং ভীষণ শাসনকর্তা বলে মনে হতো। মাস্টার মশাইয়ের ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর পড়ানোর ধরন কথকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল, যদিও বড় হয়ে সেই ভীতির জায়গাটি শ্রদ্ধায় পরিণত হয়।
৪.২ “সুখী জীবন কাকে বলে কোনোদিন বুঝিনি।” – বক্তা কে? ‘সুখী জীবন' সম্বন্ধে বক্তার মতামত ব্যক্ত করো।
উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন ল্যেভ তলস্তোয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইলিয়াস।
সুখী জীবন সম্বন্ধে ইলিয়াসের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ মতামত হলো— প্রাচুর্য বা অঢেল সম্পত্তির মধ্যে কোনো শান্তি নেই। যখন তিনি ধনী ছিলেন, তখন সম্পত্তি রক্ষা, নেকড়ের ভয় এবং দুশ্চিন্তায় তাঁর সারাদিন কাটত, ঈশ্বরের নাম নেওয়ার সময়টুকু পেতেন না। কিন্তু এখন সর্বস্ব হারিয়ে ভাড়াটে মজুর হয়ে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী মানসিক শান্তি খুঁজে পেয়েছেন এবং প্রকৃত সুখের আস্বাদ পেয়েছেন।
৫। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৫.১ “শকুন্তলা অপমানিতা হলেন রাজসভায়।” — শকুন্তলা কে? শকুন্তলার অপমানিতা হওয়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর: মহাকবি কালিদাসের ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম্’ নাট্যাংশ অনুযায়ী শকুন্তলা হলেন ঋষি বিশ্বামিত্র ও মেনকার কন্যা এবং মহর্ষি কণ্বের পালিতা কন্যা।
শকুন্তলার অপমানিত হওয়ার মূল কারণ ছিল দুর্বাসার অভিশাপ। পতিচিন্তায় মগ্ন শকুন্তলা আশ্রমে আগত ঋষি দুর্বাসার উপস্থিতি টের পাননি। এতে ক্রুদ্ধ হয়ে ঋষি অভিশাপ দেন যে, যার চিন্তায় তিনি মগ্ন, সেই ব্যক্তি (রাজা দুষ্মন্ত) তাঁকে ভুলে যাবেন। রাজসভায় রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে চিনতে না পারায় তিনি অপমানিতা হন।
৫.২ “প্রভু, অনুগৃহীত হলাম।” – ‘প্রভু' কে? কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি?
উত্তর: এখানে ‘প্রভু’ হলেন রাজা দুষ্মন্তের শ্যালক (রাজ-শ্যালক)।
ধীবর বৃত্তান্ত নাট্যাংশে, রাজমুদ্রা চুরির অপরাধে ধীবরকে যখন আটক করা হয়, তখন রাজার নির্দেশে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং রাজা তাকে আংটির সমপরিমাণ অর্থ পুরস্কার হিসেবে প্রদান করেন। ধীবরকে সসম্মানে ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়ার জন্য ধীবর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে রাজ-শ্যালককে উদ্দেশ্য করে এই উক্তিটি করেছে।
৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৬.১ “একটা বিশেষ দিন থেকে এটা আমি অনুভব করে আসছি।”— বক্তা কে? কোন্ বিশেষ দিন থেকে, তিনি কী অনুভব করে আসছেন?
উত্তর: উক্তিটির বক্তা সত্যজিৎ রায়ের ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়েরি’ গল্পের প্রধান চরিত্র প্রোফেসর শঙ্কু।
বিশেষ দিন: ২০ সেপ্টেম্বর তারিখ থেকে শঙ্কু এটি অনুভব করে আসছেন।
অনুভব: প্রোফেসর শঙ্কু অনুভব করে আসছিলেন যে তাঁর তৈরি রোবট ‘বিধুশেখর’ সাধারণ যন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠছে। সে নিজে থেকে দাবার চাল দিতে পারছে এবং মানুষের মতো চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেছে। এমনকি রকেট মহাকাশে যাত্রা করার সময় বিধুশেখর একটি অজানা বিপদের আশঙ্কা করছিল এবং গোঁ গোঁ শব্দে তার অনিচ্ছার কথা জানাচ্ছিল। শঙ্কু লক্ষ্য করেন যে যন্ত্রের মধ্যে এক অদ্ভুত প্রাণস্পন্দন ও সচেতনতা জাগ্রত হয়েছে।
৬.২ প্রোফেসর শঙ্কু কত তারিখে মঙ্গল অভিযান শুরু করেন? টাফার প্রকৃতি ও প্রাণীর পরিচয় দাও।
উত্তর: প্রোফেসর শঙ্কু ৫ জানুয়ারি মঙ্গল অভিযান শুরু করেন।
টাফার প্রকৃতি: ‘টাফা’ হলো সৌরজগতের বাইরের একটি কাল্পনিক গ্রহ। এই গ্রহের আকাশ সবুজাভ এবং এখানকার প্রকৃতি পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি শান্ত ও নীরব। টাফাতে কোনো পাহাড়-পর্বত বা জনাকীর্ণ শহর নেই।
প্রাণীর পরিচয়: টাফার প্রাণীরা দেখতে অত্যন্ত অদ্ভুত। এদের আকার মানুষের মতো নয়, বরং অনেকটা জেলি বা থকথকে সাদা রঙের চ্যাটচ্যাটে জিনিসের মতো। এদের নাক, কান বা চোখ নেই, মুখও স্পষ্ট নয়। এরা অনেকটা কেঁচোর মতো শরীর ভাঁজ করে চলাফেরা করে। এই প্রাণীরা কথা না বললেও এদের বুদ্ধিবৃত্তি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের এবং এরা টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে সক্ষম।
৭। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৭.১ “চণ্ডীর আদেশে ধায় নদনদীগণ।” – “চণ্ডী' কী আদেশ দিয়েছিলেন? কলিঙ্গদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিত্র অঙ্কন করো।
উত্তর: দেবী চণ্ডী নদনদী ও সমুদ্রকে কলিঙ্গ দেশ ভাসিয়ে দিয়ে তা ধ্বংস করার আদেশ দিয়েছিলেন।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়: মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে:
১. কলিঙ্গ দেশের আকাশে ঘন মেঘের আস্তরণ জমে দিনের বেলাতেই অন্ধকার নেমে আসে।
২. ঈশান কোণ থেকে শুরু হওয়া প্রবল ঝড়ের দাপটে আকাশ ভেঙে অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়।
৩. প্রবল মেঘের গর্জনে কেউ কারো কথা শুনতে পাচ্ছিল না।
৪. বৃষ্টির সঙ্গে পড়তে শুরু করে বড় বড় শিল, যা ঘরবাড়ির চাল ভেদ করে মেঝেতে আছড়ে পড়ে।
৫. সাতদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টির ফলে কলিঙ্গ প্লাবিত হয়, শস্যের খেত নষ্ট হয়ে যায় এবং সাপেরা জলমগ্ন হয়ে ভেসে বেড়াতে থাকে। কলিঙ্গবাসী প্রাণভয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র পালাতে বাধ্য হয়।
৭.২ “সারারাত তবু দাঁড় টানি,” – “তবু' শব্দটি কবি কেন ব্যবহার করেছেন? সারারাত দাঁড় টানার কারণ কী?
উত্তর: অজিত দত্তের ‘নোঙর’ কবিতায় ‘তবু’ শব্দটি কবির অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও অজেয় জেদ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। বাস্তব জীবনের প্রতিকূলতা ও পিছুটান জানা সত্ত্বেও কবি দমে যাননি।
দাঁড় টানার কারণ: কবি চেয়েছিলেন তাঁর জীবনতরী নিয়ে সুদূর কোনো স্বপ্নের দেশে বা সৌন্দর্যের জগতে পাড়ি দিতে। কিন্তু তাঁর নৌকাটি ‘নোঙর’ নামক বাস্তবের মায়ায় বা সংসারের বন্ধনে আটকে গেছে। কবির মন এই সীমাবদ্ধতা মানতে চায় না। তাই তিনি জানেন তাঁর নৌকা একচুলও এগোবে না, তবুও অন্তহীন আশার টানে এবং সৃষ্টির অদম্য আকাঙ্ক্ষায় তিনি সারারাত বিরামহীনভাবে দাঁড় টেনে চলেন। এটি মানুষের চিরন্তন সংগ্রাম ও অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
৮। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৮.১ “আসল অবস্থা বুঝে উঠবার আগেই সে একেবারে সর্বহারা হয়ে পড়ল।” - কার কথা বলা হয়েছে? সে কীভাবে সর্বহারা হল?
উত্তর: উদ্ধৃত অংশটিতে ল্যেভ তলস্তোয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইলিয়াস-এর কথা বলা হয়েছে।
সর্বহারা হওয়ার বিবরন:
ইলিয়াস দীর্ঘ ৩৫ বছরের কঠোর পরিশ্রমে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর এই সমৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তাঁর সর্বহারা হওয়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ ছিল:
- সন্তানদের অবাধ্যতা: ইলিয়াসের বড় ছেলে মারপিটে মারা যায় এবং ছোট ছেলে এক একগুঁয়ে স্ত্রী বিয়ে করে পিতার অবাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে ইলিয়াস তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে বাধ্য হন এবং তাকে কিছু সম্পত্তি ভাগ করে দিতে হয়। এতে ইলিয়াসের মূল সম্পত্তিতে টান পড়ে।
- মড়ক ও নেকড়ের আক্রমণ: এরপর এক বছর মড়ক লেগে ইলিয়াসের বহু ভেড়া মারা যায়। পরের বছর দুর্ভিক্ষে প্রচুর গবাদি পশু খাদ্যের অভাবে মারা পড়ে। এছাড়া কির্ভিজরা তাঁর সবচেয়ে ভালো ঘোড়াগুলো চুরি করে নিয়ে যায়।
- বার্ধক্য ও দারিদ্র্য: এই ক্রমাগত ক্ষতির ফলে ইলিয়াসের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। সত্তর বছর বয়সে উপনীত হয়ে তিনি বুঝতে পারেন তাঁর অঢেল সম্পত্তি শেষ হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত অবশিষ্ট যা কিছু ছিল— লোমশ কোট, জিন, তাবু ও গৃহপালিত পশু— তা বিক্রি করে দিয়ে ইলিয়াস ও তাঁর স্ত্রী সম্পূর্ণ নিঃস্ব বা সর্বহারা হয়ে পড়েন।
৮.২ “এ অপরাধ আমি বইব কী করে, এ লজ্জা আমি কোথায় রাখব!” - বক্তা কে? তাঁর অপরাধ ও লজ্জার পরিচয় দাও।
উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন বনফুলের ‘নোটবই’ (অথবা অনেক ক্ষেত্রে ‘মাস্টার মশাই’ হিসেবে পরিচিত) গল্পের ছাত্র বা কথক।
অপরাধ ও লজ্জার পরিচয়:
গল্পের কথক ছোটবেলায় তাঁর মাস্টার মশাইকে অত্যন্ত ভয় পেতেন। বহু বছর পর মাস্টার মশাই যখন বৃদ্ধ অবস্থায় অভাবের তাড়নায় তাঁর কাছে আসেন, তখন কথক তাঁর ছাত্রাবস্থার এক অদ্ভুত প্রতিশোধ নেন। মাস্টার মশাই একটি চমৎকার গল্প লিখেছিলেন যা কথক তাঁর পত্রিকায় ছাপিয়েছিলেন, কিন্তু তার জন্য তিনি মাস্টার মশাইকে নামমাত্র দশটি টাকা দক্ষিণা বা পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে কথক বুঝতে পারেন যে মাস্টার মশাইয়ের সেই লেখাটি ছিল অমূল্য। মাস্টার মশাই তাঁর চরম দারিদ্র্যের দিনেও সেই সামান্য দশটি টাকা নিতে দ্বিধাবোধ করছিলেন, অথচ কথক তাঁর ওপর কিছুটা প্রভুত্ব বিস্তার করার চেষ্টা করেছিলেন। এই মহান শিক্ষকের সরলতা এবং নিজের সংকীর্ণ মানসিকতার কথা ভেবে কথকের অনুশোচনা হয়। একজন শিক্ষককে তাঁর যোগ্য সম্মান না দিয়ে অতি সামান্য অর্থ দিয়ে সাহায্য করার যে মানসিকতা তিনি দেখিয়েছিলেন, সেটিকেই তিনি নিজের ‘অপরাধ’ ও ‘লজ্জা’ বলে অভিহিত করেছেন।
৯। কমবেশি ১২৫ শব্দে নীচের একটি বিষয়ে ভাবসম্প্রসারণ করো :
৯.১ সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।
ভাবসম্প্রসারণ:
মধ্যযুগের কবি চণ্ডীদাসের এই কালজয়ী উক্তিটি মানবধর্মের জয়গান গায়। পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের নানা ভেদাভেদ থাকলেও সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানুষের প্রকৃত পরিচয় সে ‘মানুষ’। স্রষ্টা মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের ভেতরেই ঈশ্বরের বাস। তাই মানুষকে অবজ্ঞা করে কোনো পূজা বা উপাসনা সার্থক হতে পারে না। যুগে যুগে ধর্ম ও রাজনীতির নামে মানুষে মানুষে প্রাচীর তোলা হয়েছে, কিন্তু সেই কৃত্রিম বিভেদ সত্য নয়।
আর্তমানবতার সেবা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসাই হলো শ্রেষ্ঠ ধর্ম। যখন আমরা পরমতসহিষ্ণু হয়ে একে অপরকে মানুষ হিসেবে সম্মান করব, তখনই পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষই ইতিহাসের নির্মাতা এবং সত্যের আধার, তাই মানবতাকে বিসর্জন দিয়ে কোনো আদর্শই টিকে থাকতে পারে না।
৯.২ বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।
ভাবসম্প্রসারণ:
প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টিরই একটি নির্দিষ্ট ও স্বাভাবিক আবাসন বা স্থান রয়েছে। সেই স্থানচ্যুত হলে তার সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতা দুই-ই নষ্ট হয়। বন্যপ্রাণীদের প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে অরণ্যের মুক্ত পরিবেশে। তাদের খাঁচায় বন্দি করলে তারা আকর্ষণীয় হতে পারে, কিন্তু তাদের বন্য শ্রী ও সজীবতা হারিয়ে যায়। তেমনি একটি শিশুর পরম আশ্রয় ও নিরাপত্তার জায়গা হলো তার মায়ের কোল।
মায়ের স্নেহ-ছায়ায় শিশু যেভাবে বিকশিত হয়, অন্য কোথাও তা সম্ভব নয়। এই মহাবিশ্বের নিয়ম হলো— যার যেখানে স্থান, সেখানে তাকে থাকতে দেওয়া। প্রকৃতি ও জীবনের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য জীবজন্তু ও মানুষকে তাদের আপন পরিবেশে রাখা প্রয়োজন। স্থান পরিবর্তনের ফলে যেমন সৌন্দর্য হানি ঘটে, তেমনি তা প্রাকৃতিক নিয়মের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.