Bagnan High School রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা উত্তর নবম শ্রেণী বাংলা

 

রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা উত্তর নবম শ্রেণী বাংলা প্রথম পেজ 


Bagnan High School

bagnan-high-school


বাগনান হাই স্কুল (Bagnan High School)-এর প্রশ্নগুলির সঠিক ও নির্ভুল সমাধান নিচে দেওয়া হলো:

​১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো :

১.১ ইলিয়াস বসবাস করত —

(ক) উলসা প্রদেশে, (খ) উলিত প্রদেশে, (গ) উফা প্রদেশে, (ঘ) উফিত প্রদেশে।

উত্তর: (গ) উফা প্রদেশে।

১.২ স্রোতের বিদ্রুপ শোনা যায় —

(ক) সাগর গর্জনে, (খ) জোয়ারের টানে, (গ) ভাটার শোষণে, (ঘ) দাঁড়ের নিক্ষেপে।

উত্তর: (ঘ) দাঁড়ের নিক্ষেপে।

১.৩ ‘চণ্ডীর আদেশ পান ...' – চণ্ডীর আদেশ পেয়েছিলেন —

(ক) জাম্বুবান, (খ) বীর হনুমান, (গ) কলিঙ্গবাসী, (ঘ) গুজরাটবাসী।

উত্তর: (খ) বীর হনুমান।

১.৪ শকুন্তলার আংটি পড়ে গিয়েছিল —

(ক) মরুতীর্থে, (খ) অপ্সরা তীর্থে, (গ) শচীতীর্থে, (ঘ) পুষ্কর তীর্থে।

উত্তর: (গ) শচীতীর্থে।

১.৫ ‘যার দাম সংসারের সব ঐশ্বর্যের চাইতে বেশি;' – কার দামের কথা বলা হয়েছে?

(ক) ক্ষমা, (খ) সেই মমতা, (গ) মায়া, (ঘ) সেই স্নেহ।

উত্তর: (খ) সেই মমতা।

১.৬ প্রোফেসর শঙ্কু মঙ্গলযাত্রা করেছিলেন —

(ক) ১০ জানুয়ারি, (খ) ১১ জানুয়ারি, (গ) ১২ জানুয়ারি, (ঘ) ১৩ জানুয়ারি।

উত্তর: (ঘ) ১৩ জানুয়ারি।

১.৭ শ্লোক > শোলোক কোন্ ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?

(ক) আদিস্বরলোপ, (খ) আদিস্বরাগম, (গ) মধ্যস্বরাগম, (ঘ) মধ্যব্যঞ্জনাগম।

উত্তর: (গ) মধ্যস্বরাগম (বা বিপ্রকর্ষ/স্বরভক্তি)।

১.৮ বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ ব্যঞ্জনকে বলা হয় —

(ক) ঘোষধ্বনি, (খ) অঘোষধ্বনি, (গ) অল্পপ্রাণ ধ্বনি, (ঘ) মহাপ্রাণ ধ্বনি।

উত্তর: (ঘ) মহাপ্রাণ ধ্বনি।

​২। অতি সংক্ষেপে উত্তর দাও : (যে-কোনো আটটি)

২.১ কলিঙ্গবাসীরা বিপর্যয়ের সময় কার নাম স্মরণ করেছিল?

উত্তর: কলিঙ্গবাসীরা আকাশছোঁয়া মেঘের ডাক আর প্রবল দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে ঋষি জৈমিনির নাম স্মরণ করেছিল।

২.২ ‘ততই বিরামহীন এই দাঁড় টানা।’ - এখানে দাঁড় টানা কেন বিরামহীন?

উত্তর: জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষকে প্রতিনিয়ত কর্মমুখর থাকতে হয়, কবির রূপক অর্থে জীবন-তরিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এই দাঁড় টানা বিরামহীন।

২.৩ “তা উনি পারতেন।” – ‘উনি’ কী পারতেন?

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পের বক্তার মতে, অংকের মাস্টারমশাই জ্যামিতির জটিল চিত্রগুলো কোনো কম্পাস ছাড়াই ব্ল্যাকবোর্ডে নিখুঁতভাবে আঁকতে পারতেন।

২.৪ দ্বিতীয় রক্ষী জেলেকে শাস্তি দেওয়ার কথা শুনিয়েছিল। শাস্তিটি কীরকম ছিল?

উত্তর: দ্বিতীয় রক্ষী ধীবরকে বা জেলেকে ফুলের মালা পরিয়ে শূলে চড়িয়ে দেওয়ার শাস্তির কথা শুনিয়েছিল।

২.৫ ইলিয়াসের বিষয়-সম্পত্তি বলতে প্রথমে কী কী ছিল?

উত্তর: বিয়ের এক বছর পরে যখন ইলিয়াসের বাবা মারা যান, তখন তার সম্পত্তি বলতে ছিল সাতটি ঘোড়া, দুটি গরু আর কুড়িটি ভেড়া।

২.৬ অবিনাশবাবু পাঁচশো টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছিলেন কেন?

উত্তর: প্রোফেসর শঙ্কুর তৈরি করা ওষুধ ‘মির্কিউরিন’ খাওয়ার ফলে অবিনাশবাবুর লিভারের পুরনো অসুখ ভালো হয়ে গিয়েছিল এবং খিদে বেড়ে যাওয়ায় তাঁর খাবারের খরচ বেড়ে গিয়েছিল। সেই খাবারের খরচ বাবদ তিনি পাঁচশো টাকা চেয়েছিলেন।

২.৭ অপিনিহিতি কাকে বলে?

উত্তর: শব্দের মধ্যে থাকা ই-কার (ই) বা উ-কার (উ) যথাস্থানে উচ্চারিত না হয়ে তার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের আগে উচ্চারিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে অপিনিহিতি বলে। যেমন: আজি > আইজ।

২.৮ প্লুতস্বর কাকে বলে?

উত্তর: গান গাওয়ার সময় বা দূর থেকে কাউকে ডাকার সময় কোনো স্বরধ্বনিকে যখন আমরা দীর্ঘক্ষণ টেনে উচ্চারণ করি, তাকেই প্লুতস্বর বলে। যেমন: ওরে আ-আ-আ।

২.৯ ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য কী?

উত্তর: ধ্বনি হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম শ্রুতিযোগ্য একক যা মুখে উচ্চারিত হয়, আর বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ বা প্রতীক।

২.১০ অভিশ্রুতির ব্যবহার কোন্ উপভাষায় বেশি দেখা যায়?

উত্তর: অভিশ্রুতির ব্যবহার পশ্চিমবঙ্গের 'রাঢ়ী' উপভাষায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

​৩। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

৩.১ “করি-কর সমান বরিষে জলধারা।” - ‘করি-কর’ শব্দের অর্থ কী? উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য লেখো।

উত্তর: মুকুন্দ চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় ‘করি’ শব্দের অর্থ হাতি এবং ‘কর’ শব্দের অর্থ শুঁড়। অর্থাৎ ‘করি-কর’ বলতে হাতির শুঁড়কে বোঝানো হয়েছে।

তাৎপর্য: কলিঙ্গদেশে যে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছিল তার ভয়াবহতা বোঝাতে কবি এই উপমা ব্যবহার করেছেন। আকাশ থেকে বৃষ্টির ধারা ঝরছিল যেন হাতির শুঁড় দিয়ে ঢালা জলের মতো মোটা ধারায়। এই অঝোর বর্ষণে প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায়।

৩.২ ‘আমি সুযোগটা ছাড়তে পারলুম না।' – কোন্ সুযোগের কথা বলা হয়েছে? সুযোগটা তিনি ছাড়তে পারেননি কেন?

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে বক্তা সুকুমারবাবুর কাছে একটি পত্রিকার পক্ষ থেকে তাঁর ছেলেবেলার কোনো স্মৃতি লেখার প্রস্তাব আসে। এখানে সেই লেখার সুযোগের কথা বলা হয়েছে।

সুকুমার বাবু ছিলেন একজন লেখক। পত্রিকার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে নগদ দশ টাকা সাম্মানিক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে দশ টাকা মূল্য অনেক ছিল, তাই টাকার লোভেই তিনি সুযোগটি ছাড়তে পারেননি।

৩.৩ ‘তা তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখছি।' বক্তা কাকে উদ্দেশ করে উক্তিটি করেছেন? কথাটা শুনে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়?

উত্তর: মহাকবি কালিদাসের ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে রাজার শ্যালক বা রাজশ্যালক ধীবর বা জেলেকে উদ্দেশ্য করে এই ব্যঙ্গোক্তিটি করেছেন।

উত্তরে ধীবর অত্যন্ত সংযতভাবে এবং আত্মমর্যাদার সাথে জানায় যে, মানুষের পেশা নিন্দনীয় হলেও তা ত্যাগ করা উচিত নয়। যেমন বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ যজ্ঞে পশুবধ করলেও আসলে তিনি দয়ালু হন, তেমনি ধীবরের মাছ ধরা পেশাটিও তার কুলক্রমাগত। এতে ছোট হওয়ার কিছু নেই।

​৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও :

৪.১ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় বর্ণিত ঝড়-বৃষ্টির জন্যে প্রজাদের যে দুর্দশা হয়েছিল তার বর্ণনা দাও।

উত্তর: মধ্যযুগের কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কাব্যাংশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কলিঙ্গবাসীর চরম দুর্দশার ছবি ফুটে উঠেছে।

  • আকস্মিক অন্ধকার: হঠাৎই মেঘের ঘনঘটায় আকাশ অন্ধকার হয়ে যায়, ফলে প্রজারা নিজেদের শরীর পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিল না।
  • প্রবল দুর্যোগ: ঈশাণ কোণে ঘন মেঘ জমা হয়ে প্রবল ঝড় ও মেঘের গর্জন শুরু হয়। মুষলধারে বৃষ্টির ফলে চাষের জমি জলে ডুবে যায় এবং শস্য নষ্ট হয়।
  • ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি: প্রবল ঝড়ো বাতাসে ঘরবাড়ি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। ঘরের ভেতর সাপ আশ্রয় নিতে শুরু করে। এমনকি বড় বড় শিল পড়ার ফলে ঘরের চাল ফুটো হয়ে যায়।
  • জীবনযাত্রা ব্যাহত: টানা সাতদিনের অবিরাম বৃষ্টিতে পথঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ে। রোদ না ওঠায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং রক্ষা পেতে ঋষি জৈমিনির নাম স্মরণ করতে থাকে। প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়, কলিঙ্গবাসী তাদের ঘর ছেড়ে বিপদের আশঙ্কায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
 ​৪.২ ‘এ অপরাধ আমি বইব কী করে, এ লজ্জা আমি কোথায় রাখব !”- কার উক্তি? বক্তার এরূপ উপলব্ধির কারণ কী?

উক্তিটির বক্তা:

আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং কথক সুকুমার

বক্তার এরূপ উপলব্ধির কারণ:

সুকুমারবাবুর এই গভীর অনুতাপ ও আত্মলজ্জার পেছনে রয়েছে তাঁর ছাত্রজীবনের অংকের শিক্ষক বা মাস্টারমশাইয়ের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের ভুল ধারণা এবং তাঁর উদারতা। এর কারণগুলি হলো:

​১. অতীতের তিক্ততা: স্কুলজীবনে সুকুমার তাঁর অংকের মাস্টারমশাইকে যমের মতো ভয় পেতেন। মাস্টারমশাইয়ের কড়া শাসন এবং অংক না পারার জন্য অবমাননা সুকুমারের মনে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল।

​২. ব্যঙ্গাত্মক লেখা: বড় হয়ে সুকুমার একটি পত্রিকায় তাঁর ছোটবেলার সেই ভয়ের স্মৃতি নিয়ে একটি গল্প লেখেন। সেখানে তিনি মাস্টারমশাইকে কিছুটা বিদ্রূপ ও ব্যঙ্গ করে চিত্রিত করেছিলেন। এমনকি তাঁর শাসনের পদ্ধতিকে ‘অমানুষিক’ বলেও পরোক্ষভাবে সমালোচনা করেছিলেন।

​৩. মাস্টারমশাইয়ের উদারতা: বহু বছর পর একটি কলেজের অনুষ্ঠানে সুকুমারের সাথে বৃদ্ধ মাস্টারমশাইয়ের দেখা হয়। সুকুমার অবাক হয়ে দেখেন যে, মাস্টারমশাই তাঁর সেই ব্যঙ্গাত্মক লেখাটি সযত্নে নিজের কাছে রেখেছেন। মাস্টারমশাই সুকুমারকে ঘৃণা বা তিরস্কার করার পরিবর্তে অত্যন্ত গর্বের সাথে বলেন যে, তাঁর ছাত্র আজ কত বড় লেখক হয়েছে। তিনি লেখাটির ভেতরের ব্যঙ্গটুকু না দেখে ছাত্রের কৃতিত্বকেই বড় করে দেখেছিলেন।

​৪. অপরাধবোধ: মাস্টারমশাইয়ের এই দেবতুল্য উদারতা এবং ছাত্রের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখে সুকুমার নিজের ক্ষুদ্রতা অনুভব করেন। তিনি বুঝতে পারেন যে, যাকে তিনি একসময় নিষ্ঠুর ভেবেছিলেন, সেই মানুষটি আসলে স্নেহ ও মমতায় পরিপূর্ণ। সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে তিনি তাঁর আদর্শবাদী শিক্ষককে বিদ্রূপ করে যে লেখাটি লিখেছিলেন, তা তাঁর কাছে এক বিরাট ‘অপরাধ’ বলে মনে হয়।

​এই নৈতিক পরাজয় এবং অনুশোচনা থেকেই সুকুমার নিজেকে অপরাধী মনে করেছেন এবং তাঁর লজ্জা রাখার জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

​৫। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও :

৫.১ “বিধুশেখর বলল, ‘গবাক্ষ উদ্ঘাটন করহ’।”–বিধুশেখরের কথা শোনার ফলে প্রোফেসর শঙ্কুর যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তা গল্প অনুসরণে লেখো।

উত্তর: সত্যজিৎ রায়ের ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়েরি’ গল্পে মঙ্গলগ্রহে পৌঁছানোর পর রোবট বিধুশেখর যখন ‘গবাক্ষ উদ্ঘাটন’ অর্থাৎ রকেটের জানালা খোলার কথা বলে, তখন শঙ্কু এক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন।

জানলা খোলার পর শঙ্কু দেখলেন মঙ্গলের আকাশ নীল নয়, বরং সবুজ। মঙ্গলের মাটি হলদে রঙের পাথর আর বালিতে ঢাকা। সেখানকার নদীগুলোর জল স্বচ্ছ নয় বরং লাল রঙের অমৃতের মতো। রকেটের বাইরে পা রাখার পর তিনি দেখলেন সেখানকার গাছপালাগুলো সব নীল রঙের এবং বড় বড় মাছের আঁশের মতো পাতা। এমনকি সেখানকার বাতাস মৃদু মিষ্টি গন্ধযুক্ত এবং শরীরকে বেশ তরতাজা করে তোলে। মঙ্গলের অদ্ভুত প্রাণীদের দেখে এবং সেই বৈচিত্র্যময় পরিবেশের সংস্পর্শে এসে প্রোফেসর শঙ্কু রোমাঞ্চিত হয়েছিলেন।


৫.২ ‘একটা বিশেষ দিন থেকে এটা আমি অনুভব করে আসছি।' - বক্তা কে? কোন্ বিশেষ দিন থেকে, তিনি কী অনুভব করে আসছেন?

বক্তা:

উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু

বিশেষ দিনটি:

প্রোফেসর শঙ্কু যেদিন থেকে তাঁর তৈরি রোবট ‘বিধুশেখর’-কে নিয়ে মঙ্গলযাত্রার প্রস্তুতি শেষ করে রকেটে চেপেছিলেন এবং মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন, মূলত সেই দিন থেকেই তিনি এক অদ্ভুত পরিবর্তন অনুভব করতে শুরু করেন। নির্দিষ্ট করে বললে, মহাকাশযানে যাত্রা শুরুর কয়েকদিন পর থেকেই তাঁর এই অনুভূতি দানা বাঁধতে থাকে।

অনুভূতির স্বরূপ:

প্রোফেসর শঙ্কু অনুভব করছিলেন যে, তাঁর তৈরি যন্ত্রমানব বিধুশেখর আর সাধারণ রোবটের মতো আচরণ করছে না। তিনি লক্ষ্য করেন:

১. বুদ্ধি ও চেতনার বিকাশ: বিধুশেখর কেবল যান্ত্রিক নির্দেশ পালন করছে না, বরং সে নিজে থেকে চিন্তা করতে শুরু করেছে। তার মধ্যে এক ধরনের ‘মন’ বা ‘চেতনার’ উদয় হয়েছে।

২. আবেগ ও আতঙ্ক: মঙ্গলগ্রহে পৌঁছানোর আগে থেকেই বিধুশেখর বিপদের আভাস পাচ্ছিল। সে তোতলাতে শুরু করেছিল এবং ‘গ-গ-গ’ বা ‘ম-ম-ম’ শব্দ করে তার আতঙ্ক প্রকাশ করছিল।

৩. বিপজ্জনক সংকেত: বিধুশেখর বারবার শঙ্কুকে মঙ্গলগ্রহে নামতে নিষেধ করছিল। সে বুঝতে পেরেছিল যে মঙ্গলের পরিবেশ বা সেখানকার প্রাণীরা তাদের জন্য নিরাপদ নয়।

​প্রোফেসর শঙ্কু অবাক হয়ে অনুভব করেন যে, লোহা আর ব্যাটারি দিয়ে তৈরি একটি যন্ত্রের মধ্যে কীভাবে মানুষের মতো দূরদর্শিতা এবং আশঙ্কার অনুভূতি তৈরি হলো। বিধুশেখরের এই চারিত্রিক বিবর্তনই ছিল শঙ্কুর সেই বিশেষ অনুভব।

​৬। কমবেশি ১২৫ শব্দে ভাবসম্প্রসারণ করো :

“স্বার্থমগ্ন যেজন বিমুখ / বৃহৎ জগৎ হতে, সে কখনো শেখেনি বাঁচিতে।”

উত্তর: মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ একাকী বা কেবল নিজের জন্য বাঁচে না। প্রকৃত মানুষ সে-ই যে দশের হিতার্থে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা অত্যন্ত স্বার্থপর। তারা কেবল নিজেদের সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য এবং স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত থাকে। বৃহৎ জগতের দুঃখ-বেদনা বা মানুষের মঙ্গলের প্রতি তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ থাকে না।

​কবি বলতে চেয়েছেন, কেবল নিজের জন্য বেঁচে থাকা প্রকৃত বাঁচা নয়। যারা স্বার্থের গণ্ডিতে নিজেকে বন্দি করে রাখে, তারা জীবনের বিশালতা থেকে বঞ্চিত হয়। সংকীর্ণ মন নিয়ে কোনোদিন মহত্ত্ব অর্জন করা সম্ভব নয়। জগতের কল্যাণ কর্মে নিজেকে যুক্ত করলেই জীবন সার্থক হয়। পরের কল্যাণে ত্যাগের মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ নিহিত। তাই যারা শুধু আত্মকেন্দ্রিক চিন্তায় মগ্ন থাকে, তারা জীবনের প্রকৃত অর্থ ও বেঁচে থাকার আনন্দ কোনোদিনও বুঝতে পারে না। ত্যাগই জীবনের প্রকৃত ধর্ম, ভোগ নয়।

​আশা করি উত্তরগুলো আপনার উপকারে আসবে। আপনি কি নবম শ্রেণীর অন্য কোনো স্কুলের বা অন্য কোনো বিষয়ের সমাধান জানতে চান?


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ