জৈব অনু ও তাদের বৈশিষ্ট্য জীবন সংগঠনের স্তর অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর Teacj Sanjib
জৈব অনু ও তাদের বৈশিষ্ট্য প্রশ্ন উত্তর class 9 জীবন সংগঠনের স্তর
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ): প্রশ্নমান–১ জৈব অনু ও তাদের বৈশিষ্ট্য
(১) প্রদত্ত কোন্টি অজৈব অণু? (a) অ্যাসিড (b) ক্ষার (c) জল (d) সবকটি
উত্তর: (d) সবকটি।
(ব্যাখ্যা: জীবন সংগঠনের প্রাথমিক স্তরে জল, বিভিন্ন অজৈব অ্যাসিড ও ক্ষার অজৈব উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।)
(২) প্রোটিনের গঠনগত একক— (a) অ্যামাইনো অ্যাসিড (b) ফ্যাটি অ্যাসিড (c) কার্বনিক অ্যাসিড (d) কোনোটিই নয়
উত্তর: (a) অ্যামাইনো অ্যাসিড।
(ব্যাখ্যা: অসংখ্য অ্যামাইনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে প্রোটিন গঠন করে।)
(৩) শর্করায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত হল— (a) 3 : 1 (b) 2 : 1 (c) 1 : 1 (d) 4 : 1
উত্তর: (b) 2 : 1।
(ব্যাখ্যা: শর্করায় (যেমন গ্লুকোজ C_6H_{12}O_6) হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত জলের মতোই ২:১ থাকে।)
(৪) এনার্জি কারেন্সি বা শক্তিমুদ্রা বলে– (a) GTP-কে (b) CTP-কে (c) ATP-কে (d) NADP-কে
উত্তর: (c) ATP-কে।
(ব্যাখ্যা: অ্যাডিনোসিন ট্রাই ফসফেট বা ATP কোশীয় ক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় ও সরবরাহ করে।)
(৫) ভিটামিন A-র অভাবজনিত রোগটি হল— (a) রাতকানা (b) জেরপথ্যালমিয়া (c) ফ্রিনোডার্মা (d) সবকটি
উত্তর: (d) সবকটি।
(ব্যাখ্যা: ভিটামিন A-র অভাবে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের পাশাপাশি চোখ ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।)
(৬) কোনটি জৈব অ্যাসিড— (a) ম্যালিক অ্যাসিড (b) HCl (c) H_2SO_4 (d) HNO_3
উত্তর: (a) ম্যালিক অ্যাসিড।
(ব্যাখ্যা: ম্যালিক অ্যাসিড আপেলসহ বিভিন্ন ফলে পাওয়া যায়, যা একটি কার্বনযুক্ত জৈব যৌগ।)
(৭) DNA-তে উপস্থিত শর্করাটি হল— (a) হেক্সোজ (b) ডিঅক্সিরাইবোজ (c) র্যাফিনোজ (d) রাইবোজ
উত্তর: (b) ডিঅক্সিরাইবোজ।
(ব্যাখ্যা: DNA-র পুরো নাম ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড, যা পাঁচ কার্বনযুক্ত ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা দিয়ে গঠিত।)
(৮) কোনটি তীব্র অ্যাসিড নয়? (a) H_2CO_3 (b) HNO_3 (c) H_2SO_4 (d) HCl
উত্তর: (a) H_2CO_3।
(ব্যাখ্যা: কার্বনিক অ্যাসিড (H_2CO_3) একটি মৃদু অ্যাসিড, বাকি তিনটি খনিজ ও তীব্র অ্যাসিড।)
(৯) পলিস্যাকারাইডের ভাঙনের অন্তিম ধাপে কোনটি উৎপন্ন হয়? (a) মনোস্যাকারাইড (b) অ্যামাইনো অ্যাসিড (c) ফ্যাটি অ্যাসিড (d) নিউক্লিওটাইড
উত্তর: (a) মনোস্যাকারাইড।
(ব্যাখ্যা: জটিল শর্করা বা পলিস্যাকারাইড আর্দ্রবিশ্লেষিত হয়ে সরলতম একক মনোস্যাকারাইডে (যেমন গ্লুকোজ) পরিণত হয়।)
(১০) প্রাণীজ শ্বেতসার হল— (a) সেলুলোজ (b) গ্লাইকোজেন (c) গ্যালাক্টোজ (d) স্টার্চ
উত্তর: (b) গ্লাইকোজেন।
(ব্যাখ্যা: প্রাণীদের যকৃৎ ও পেশিতে গ্লুকোজ গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত থাকে বলে একে প্রাণীজ শ্বেতসার বলা হয়।)
২. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন : প্রশ্নমান—১ জীবন সংগঠনের স্তর অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর
[I] একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও :
(১) নিউক্লিওটাইড কী কী নিয়ে গঠিত?
উত্তর: নিউক্লিওটাইড মূলত তিনটি উপাদান নিয়ে গঠিত— একটি পাঁচ কার্বনযুক্ত শর্করা (পেন্টোজ সুগার), একটি নাইট্রোজেনাস বেস (ক্ষারক) এবং একটি ফসফরিক অ্যাসিড।
(২) প্রাণীদেহে কার্বোহাইড্রেট কীরূপে সঞ্চিত থাকে?
উত্তর: প্রাণীদেহে কার্বোহাইড্রেট প্রধানত গ্লাইকোজেন রূপে যকৃৎ ও পেশিকোশে সঞ্চিত থাকে।
(৩) লিপিড কীসে দ্রবীভূত হয়?
উত্তর: লিপিড জলে অদ্রবণীয় হলেও বিভিন্ন জৈব দ্রাবক যেমন— ইথার, ক্লোরোফর্ম, বেনজিন এবং অ্যাসিটোনে সহজে দ্রবীভূত হয়।
(৪) অ্যান্টিহেমোরেজিক ফ্যাক্টর কাকে বলে?
উত্তর: ভিটামিন K-কে অ্যান্টিহেমোরেজিক ফ্যাক্টর বলা হয়, কারণ এটি রক্ত তঞ্চনে সাহায্য করে রক্তক্ষরণ (Hemorrhage) রোধ করে।
(৫) নীচে সম্পর্কযুক্ত শব্দজোড় দেওয়া আছে। প্রথম জোড়টির সম্পর্ক দেখে দ্বিতীয় জোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও—
(a) প্রাণীজ প্রোটিন : কেরাটিন :: উদ্ভিজ্জ প্রোটিন : সয়াবিন।
(ব্যাখ্যা: কেরাটিন একটি প্রাণীজ প্রোটিন, তেমনি সয়াবিন একটি উৎকৃষ্ট উদ্ভিজ্জ প্রোটিন।)
(b) রেটিনল : ভিটামিন A :: টোকোফেরল : ভিটামিন E।
(ব্যাখ্যা: রেটিনল হলো ভিটামিন A-র রাসায়নিক নাম, ঠিক তেমনি টোকোফেরল হলো ভিটামিন E-র রাসায়নিক নাম।)
(c) পেপটাইড বন্ড : প্রোটিন :: গ্লাইকোসাইডিক বন্ড : শর্করা / কার্বোহাইড্রেট।
(ব্যাখ্যা: অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলি পেপটাইড বন্ড দিয়ে প্রোটিন গড়ে তোলে, আর মনোস্যাকারাইডগুলি গ্লাইকোসাইডিক বন্ড দিয়ে শর্করা গঠন করে।)
(d) নিকটালোপিয়া : ভিটামিন A :: স্কার্ভি : ভিটামিন C।
(ব্যাখ্যা: ভিটামিন A-র অভাবে নিকটালোপিয়া বা রাতকানা হয়, আর ভিটামিন C-র অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।)
[II] শূন্যস্থানগুলিতে উপযুক্ত শব্দ বসাও : জীবন সংগঠনের স্তর
(১) প্রোটিন সংশ্লেষণে ২০ (কুড়ি) প্রকার অ্যামাইনো অ্যাসিড লাগে।
(ব্যাখ্যা: প্রকৃতিতে অনেক অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকলেও প্রোটিন গঠনের জন্য নির্দিষ্ট ২০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড অপরিহার্য।)
(২) অ্যাসিড নীল লিটমাসকে লাল করে।
(ব্যাখ্যা: এটি অ্যাসিডের একটি ধর্ম। অন্যদিকে ক্ষার লাল লিটমাসকে নীল করে।)
(৩) সরল শর্করাকে হাইড্রেট অফ অঙ্গার বলে।
(ব্যাখ্যা: শর্করার সাধারণ সংকেত C_n(H_2O)_n হওয়ায় একে কার্বনের জল বা হাইড্রেট অফ কার্বন/অঙ্গার বলা হয়।)
(৪) অনেক অ্যামাইনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধন দ্বারা যুক্ত হয়ে প্রোটিন গঠন করে।
(৫) ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যালকোহলের এস্টার হল লিপিড।
(ব্যাখ্যা: উচ্চ আণবিক গুরুত্বসম্পন্ন ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল বা অ্যালকোহলের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উৎপন্ন যৌগই হলো লিপিড।)
[III] সত্য অথবা মিথ্যা নিরুপণ করো :
(১) জল হল সর্বজনীন দ্রাবক।
উত্তর: সত্য।
(ব্যাখ্যা: জল অধিকাংশ জৈব ও অজৈব যৌগকে দ্রবীভূত করতে পারে বলে একে 'Universal Solvent' বা সর্বজনীন দ্রাবক বলে।)
(২) মানবদেহের অগ্ন্যাশয় রস ও পিত্তরস আম্লিক প্রকৃতির।
উত্তর: মিথ্যা।
(সঠিক তথ্য: অগ্ন্যাশয় রস এবং পিত্তরস উভয়ই ক্ষারীয় প্রকৃতির হয়।)
(৩) ভিটামিন K-র অভাবে রক্ততঞ্চন ব্যাহত হয়।
উত্তর: সত্য।
(ব্যাখ্যা: ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্যকারী প্রোথ্রম্বিন তৈরি করতে সহায়তা করে।)
(৪) প্রোটিন অ্যালকোহলে অদ্রবণীয়।
উত্তর: মিথ্যা।
(সঠিক তথ্য: কিছু বিশেষ প্রোটিন যেমন প্রলামিন (যেমন গমের গ্লিয়াডিন) ৭০-৮০% ইথাইল অ্যালকোহলে দ্রবীভূত হয়। সাধারণ অর্থে প্রোটিন জল বা লঘু লবণে দ্রবণীয় হলেও অ্যালকোহলে অদ্রবণীয় বলাটা পুরোপুরি সঠিক নয়।)
(৫) ফ্যাটি অ্যাসিডকে অ্যাম্ফিপ্যাথিক যৌগ বলে।
উত্তর: সত্য।
(ব্যাখ্যা: ফ্যাটি অ্যাসিড অণুর একদিকে জলস্নেহী (hydrophilic) এবং অন্যদিকে জলবিদ্বেষী (hydrophobic) প্রান্ত থাকে বলে একে অ্যাম্ফিপ্যাথিক বলে।)
৩. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন : প্রশ্নমান–২ জীবন সংগঠনের স্তর প্রশ্ন উত্তর
(১) ম্যাক্রোমলিকিউল ও মাইক্রোমলিকিউল-এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর: ম্যাক্রোমলিকিউল (বৃহদণু) ও মাইক্রোমলিকিউল (ক্ষুদ্র অণু)-এর মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হলো:
|
বৈশিষ্ট্য |
মাইক্রোমলিকিউল (Micromolecule) |
ম্যাক্রোমলিকিউল (Macromolecule) |
|---|---|---|
|
আণবিক গুরুত্ব |
এদের আণবিক গুরুত্ব খুব কম (সাধারণত ১৮ থেকে ৮০০ ডাল্টন)। |
এদের আণবিক গুরুত্ব অনেক বেশি (সাধারণত ১০,০০০ ডাল্টনের বেশি)। |
|
জটিলতা |
এগুলি সরল প্রকৃতির অণু। |
এগুলি অনেক মাইক্রোমলিকিউল যুক্ত হয়ে গঠিত জটিল অণু। |
|
উদাহরণ |
জল, খনিজ লবণ, গ্লুকোজ, অ্যামাইনো অ্যাসিড। |
প্রোটিন, শ্বেতসার, লিপিড, নিউক্লিক অ্যাসিড। |
(২) জীবদেহে জলের দুটি ভূমিকা লেখো।
উত্তর: জীবদেহে জলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো:
- দ্রাবক হিসেবে ভূমিকা: জল হলো সর্বজনীন দ্রাবক। কোশের প্রোটোপ্লাজমে উপস্থিত বিভিন্ন জৈব ও অজৈব বস্তু জলে দ্রবীভূত হয়ে সক্রিয় থাকে এবং বিপাকীয় কার্যে অংশ নেয়।
- দেহ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: জলের আপেক্ষিক তাপ বেশি হওয়ায় এটি জীবদেহের তাপমাত্রা স্থির রাখতে সাহায্য করে। ঘাম নিঃসরণের মাধ্যমে জল দেহকে শীতল রাখে।
(৩) জৈবনিক প্রক্রিয়ায় নিউক্লিওটাইড-এর ভূমিকা কী?
উত্তর: জৈবনিক প্রক্রিয়ায় নিউক্লিওটাইডের ভূমিকা অপরিসীম:
- নিউক্লিক অ্যাসিড গঠন: নিউক্লিওটাইডগুলি পর পর যুক্ত হয়ে DNA ও RNA গঠন করে, যা বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন ও প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করে।
- শক্তি সরবরাহ: ATP (অ্যাডিনোসিন ট্রাই ফসফেট) একটি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন নিউক্লিওটাইড, যা কোশের যাবতীয় রাসায়নিক কার্যে শক্তির জোগান দেয়।
(৪) মানবদেহে ভিটামিন D-এর ভূমিকা লেখো।
উত্তর: মানবদেহে ভিটামিন D-এর প্রধান দুটি কাজ হলো:
- অস্থি ও দন্ত গঠন: অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে।
- অস্থিভবন (Ossification): শিশুদের রিকেট এবং বড়দের অস্টিওম্যালেশিয়া রোগ প্রতিরোধে এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(৫) জটিল শর্করার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: জটিল শর্করা বা পলিস্যাকারাইডের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো:
- গঠন: এগুলি অসংখ্য মনোস্যাকারাইড অণু (যেমন গ্লুকোজ) গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন দ্বারা যুক্ত হয়ে গঠিত হয়।
- প্রকৃতি: এগুলি সাধারণত জলে অদ্রবণীয় এবং স্বাদে মিষ্টি হয় না (যেমন— স্টার্চ, সেলুলোজ)। এগুলি মূলত সঞ্চিত খাদ্য বা কোশপ্রাচীরের গঠনগত উপাদান হিসেবে কাজ করে।
৪. দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন : প্রশ্নমান–৫
(১) পদার্থগুলি ম্যাক্রোমলিকিউল না মাইক্রোমলিকিউল তা শনাক্ত করে প্রত্যেকটির একটি করে কাজ লেখো : অ্যামাইনো অ্যাসিড, নিউক্লিক অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড, জটিল শর্করা ও প্রোটিন।
উত্তর: নিচে পদার্থগুলির প্রকৃতি ও তাদের একটি করে প্রধান কাজ উল্লেখ করা হলো:
|
পদার্থ |
প্রকৃতি (ম্যাক্রো/মাইক্রো) |
প্রধান কাজ |
|---|---|---|
|
অ্যামাইনো অ্যাসিড |
মাইক্রোমলিকিউল |
প্রোটিন সংশ্লেষণের প্রাথমিক একক হিসেবে কাজ করে এবং উৎসেচক গঠনে সাহায্য করে। |
|
নিউক্লিক অ্যাসিড |
ম্যাক্রোমলিকিউল |
বংশগত বৈশিষ্ট্য এক জনু থেকে অন্য জনুতে বহন করে (DNA) এবং প্রোটিন তৈরিতে (RNA) সাহায্য করে। |
|
ফ্যাটি অ্যাসিড |
মাইক্রোমলিকিউল |
লিপিড বা চর্বি গঠনে অংশ নেয় এবং দেহে শক্তি সঞ্চয়ের আধার হিসেবে কাজ করে। |
|
জটিল শর্করা |
ম্যাক্রোমলিকিউল |
উদ্ভিদদেহে স্টার্চ হিসেবে এবং প্রাণীদেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে খাদ্য সঞ্চয় করে রাখে। |
|
প্রোটিন |
ম্যাক্রোমলিকিউল |
জীবদেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ এবং পেশি ও কলার গঠনগত কাঠামো তৈরি করে। |
(২) ভিটামিন C, ভিটামিন B₁₂, ভিটামিন K, ভিটামিন E ও ভিটামিন D—প্রতিটির দুটি করে প্রধান কার্যাবলি লেখো।
উত্তর: প্রদত্ত ভিটামিনগুলির দুটি করে গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিচে দেওয়া হলো:
- ভিটামিন C: (i) মাড়ি ও দাঁত সুস্থ রাখে এবং স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে। (ii) দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে।
- ভিটামিন B12: (i) লোহিত রক্তকণিকা (RBC) উৎপাদনে ও পরিপক্কতায় সাহায্য করে। (ii) স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখে।
- ভিটামিন K: (i) রক্ত তঞ্চনে সাহায্যকারী 'প্রোথ্রম্বিন' উৎপাদনে মুখ্য ভূমিকা নেয়। (ii) অত্যাধিক রক্তপাত বন্ধ করতে সাহায্য করে।
- ভিটামিন E: (i) অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে কোশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে। (ii) জননতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখে এবং বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে।
- ভিটামিন D: (i) অস্থি ও দন্ত গঠনে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। (ii) শিশুদের রিকেট এবং বড়দের অস্টিওম্যালেশিয়া রোগ প্রতিরোধ করে।
(৩) ফসফরাস, সালফার, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও লোহার (মানবদেহে) একটি করে কাজ লেখো।
উত্তর: মানবদেহে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের একটি করে প্রধান কাজ নিচে আলোচনা করা হলো:
- ফসফরাস (P): হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে এবং উচ্চ শক্তি সম্পন্ন যৌগ ATP গঠনে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
- সালফার (S): এটি বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড (যেমন- সিস্টিন, মেথিওনিন) ও ভিটামিন (যেমন- বায়োটিন) গঠনে অংশ নেয় এবং ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা বজায় রাখে।
- পটাশিয়াম (K): হৃদপিণ্ডের স্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে এবং স্নায়ু উদ্দীপনা পরিবহনে সাহায্য করে। এটি কোশের ভেতরে অভিস্রবণ চাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সোডিয়াম (Na): দেহের অম্ল-ক্ষার (pH) ভারসাম্য বজায় রাখে এবং জল সাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ।
- লোহা (Fe): রক্তে হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করে যা সারাদেহে অক্সিজেন পরিবহনের জন্য দায়ী। এর অভাবে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দেখা দেয়।
জীবন বিজ্ঞান পড়ার স্মার্ট কৌশল
- মানচিত্রের মতো করে পড়ো (Concept Mapping): জীবন সংগঠনের প্রতিটি স্তর একে অপরের সাথে যুক্ত। একটি চার্ট তৈরি করো যেখানে একদিকে থাকবে অজৈব অণু (জল, অ্যাসিড, ক্ষার) এবং অন্যদিকে জৈব অণু (শর্করা, প্রোটিন, লিপিড)। এদের কাজগুলো পাশাপাশি লিখলে পরীক্ষার সময় গুলিয়ে যাবে না।
- সংকেত ও নামের মেলবন্ধন: যেমন— 'অ্যান্টিহেমোরেজিক' মানেই রক্তক্ষরণ রোধ। নাম থেকেই কাজ মনে রাখার চেষ্টা করো। ভিটামিনগুলোর রাসায়নিক নাম (যেমন রেটিনল বা টোকোফেরল) একটি ছোট কাগজে লিখে পড়ার টেবিলের সামনে আঠা দিয়ে আটকে রাখো। রোজ একবার করে চোখ বোলালে আলাদা করে মুখস্থ করার চাপ থাকবে না।
- চিত্রের ওপর গুরুত্ব দাও: জীবন বিজ্ঞানে নম্বর তোলার আসল চাবিকাঠি হলো ছবি। পরীক্ষায় যদি কোনো অঙ্গাণু বা অণুর কাজ জানতে চায়, পাশে একটি ছোট খসড়া চিত্র (Diagram) এঁকে দিলে উত্তরের মান বহুগুণ বেড়ে যায়।
- বাস্তবের সাথে মেলাও: প্রতিদিন যা খাচ্ছো (ভাত মানে শর্করা, ডাল মানে প্রোটিন, তেল মানে লিপিড), সেগুলোর কথা ভাবো। যখন পড়াশোনা করবে, তখন কল্পনা করো সেই অণুগুলো তোমার শরীরে গিয়ে কীভাবে শক্তি (ATP) তৈরি করছে। বিষয়টিকে 'পড়া' নয়, নিজের শরীরের 'গল্প' হিসেবে নাও।
মনে রেখো: জীবন বিজ্ঞান শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, আমাদের বেঁচে থাকার রসদ জানার জন্য। মনোযোগ দিয়ে একবার বুঝে নিলে এটিই হবে তোমার সবথেকে প্রিয় বিষয়।
Call to Actionএতক্ষণ আমরা জীবন সংগঠনের আণবিক স্তর নিয়ে আলোচনা করলাম। এবার তোমাদের প্রস্তুতির পরবর্তী ধাপ হলো 'কোশ ও কোশীয় অঙ্গাণু' (Cell and Cell Organelles)। এটি এই অধ্যায়ের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং মজাদার অংশ।
তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে ১০০% সম্পূর্ণ করতে আমি কি এখন তোমাদের জন্য নিচের কোনোটি করে দেব?
- ১. চিত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কোশীয় অঙ্গাণু: মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড বা নিউক্লিয়াসের গঠন ও কাজ (যা পরীক্ষায় প্রায়ই আসে)।
- ২. উদ্ভিদকোশ ও প্রাণীকোশের পার্থক্য: একটি সহজ ছকের মাধ্যমে মনে রাখার কৌশল।
- ৩. প্রোক্যারিওটিক ও ইউক্যারিওটিক কোশ: এদের মূল পার্থক্যের জায়গাগুলো বুঝিয়ে দেওয়া।
তুমি কোনটি দিয়ে শুরু করতে চাও? শুধু নিচের নম্বরটি লিখে জানাও!
জীবন সংগঠনের স্তর: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ) জৈব অনু ও তাদের বৈশিষ্ট্য
প্রশ্ন ১: প্রোটিনকে কেন দেহ গঠনকারী খাদ্য বলা হয়?
উত্তর: প্রোটিন হলো জীবদেহের প্রধান গঠনগত উপাদান। কোষের প্রোটোপ্লাজম তৈরি, ক্ষয়পূরণ এবং নতুন টিস্যু বা কলা গঠনের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত এই ম্যাক্রোমলিকিউলটি ছাড়া শরীরের বৃদ্ধি অসম্ভব, তাই একে দেহ গঠনকারী খাদ্য বলে।
প্রশ্ন ২: ভিটামিন A এবং ভিটামিন D-এর প্রধান পার্থক্য কী?
উত্তর: ভিটামিন A প্রধানত চোখের রেটিনার সুস্থতা বজায় রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। অন্যদিকে, ভিটামিন D শরীরের ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে হাড় ও দাঁত মজবুত করে এবং রিকেট রোগ প্রতিরোধ করে।
প্রশ্ন ৩: নিউক্লিক অ্যাসিড কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: নিউক্লিক অ্যাসিড প্রধানত দুই প্রকার: DNA (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) এবং RNA (রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড)। DNA বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং RNA প্রোটিন সংশ্লেষণে সরাসরি অংশগ্রহণ করে।
প্রশ্ন ৪: লিপিড বা ফ্যাট কেন আমাদের শরীরের জন্য জরুরি?
উত্তর: লিপিড শরীরের শক্তির ঘনীভূত উৎস হিসেবে কাজ করে। এটি চর্মরোগ প্রতিরোধ করে, কোষপর্দা গঠনে সাহায্য করে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহকে যান্ত্রিক আঘাত থেকে রক্ষা করে।
প্রশ্ন ৫: মানবদেহে লোহার (Iron) গুরুত্ব কী?
উত্তর: লোহা রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনের প্রধান উপাদান। এটি ফুসফুস থেকে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লোহার অভাবে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোগ হয়।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.