Siliguri Baradakanta Vidyapith HS রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের উত্তর নবম শ্রেণি বাংলা
৮.Siliguri Baradakanta Vidyapith (HS) উত্তর প্রথম সাবমেটিভ
১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : Siliguri Baradakanta Vidyapith HS
১.১ ইলিয়াস' গল্পটি বাংলায় তরজমা করেছেন।
(ক) সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী, (খ) শঙ্খ ঘোষ, (গ) কালিদাস, (ঘ) মণীন্দ্র দত্ত।
উত্তর: (ঘ) মণীন্দ্র দত্ত।
১.২ নোঙর পড়ে গিয়েছে –
(ক) জলে, (খ) গর্তে, (গ) তটের কিনারে, (ঘ) নদীর জলে।
উত্তর: (গ) তটের কিনারে।
১.৩ কলিঙ্গদেশে বৃষ্টি হয়েছিল -
(ক) পাঁচ দিন, (খ) ছয় দিন, (গ) সাত দিন, (ঘ) আট দিন।
উত্তর: (গ) সাত দিন।
১.৪ ‘সভায় জাঁকিয়ে বক্তৃতা করা গেল।' - বক্তা রবীন্দ্রনাথ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন –
(ক) ১০টি, (খ) ১২টি, (গ) ১৪টি, (ঘ) ১৬টি।
উত্তর: (খ) ১২টি।
১.৫ শকুন্তলার হাতের অঙ্গুরীয় হারিয়ে গিয়েছিল –
(ক) গঙ্গার জলে, (খ) শচীতীর্থের জলে, (গ) প্রয়াগতীর্থের জলে, (ঘ) পদ্মার জলে।
উত্তর: (খ) শচীতীর্থের জলে।
১.৬ কম্পিত ধ্বনিটি হল --
(ক) র্, (খ) ল্, (গ) প্, (ঘ) ক্।
উত্তর: (ক) র্।
১.৭ ঐ, ঔ কোন শ্রেণির ধ্বনি ? ----
(ক) মৌলিক, (খ) প্লুতস্বর, (গ) যৌগিক, (ঘ) কুঞ্চিত।
উত্তর: (গ) যৌগিক।
১.৮ প্রোফেসর শঙ্কুর আসল নাম হল—
(ক) বটুকেশ্বর শঙ্কু, (খ) ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু, (গ) তারকেশ্বর শঙ্কু, (ঘ) সুরেশ্বর শঙ্কু।
উত্তর: (খ) ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু।
২। কমবেশি ১৫টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
২.১ কারা ইলিয়াসের ভালো ঘোড়াগুলি চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: প্রতিবেশী তস্কর জাতি 'কিরগিজ'রা ইলিয়াসের সেরা ঘোড়াগুলো চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল।
২.২ 'স্বর্গের দরজাতেও ঠিক ওই কথাই লেখা রয়েছে।' কী লেখা রয়েছে?
উত্তর: লেখা রয়েছে— "অঙ্ক জানি না বলিয়া যাহারা গর্ব করে, তাহারা এখানে প্রবেশ করিবে না।"
২.৩ 'সূচক, এই জেলেকে ছেড়ে দাও।' জেলেকে ছেড়ে দিতে বলা হল কেন?
উত্তর: আংটিটি চুরির নয় বরং মাছের পেট থেকে পাওয়া— ধীবরের এই বিবরণ রাজা সত্য বলে মেনে নিয়েছেন এবং তাকে পারিতোষিক দিয়েছেন, তাই তাকে ছেড়ে দিতে বলা হয়।
২.৪ 'নোঙর' কবিতায় কবি কীভাবে দিকের নিশানা করেন?
উত্তর: কবি আকাশের সপ্তর্ষি মণ্ডলের দিকে তাকিয়ে দিকের নিশানা করেন।
২.৫ “ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর।” – ‘ঈশান' শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর: ‘ঈশান’ শব্দটির অর্থ হলো উত্তর-পূর্ব কোণ।
২.৬ ব্যোমযাত্রীর ডায়রিতে উল্লিখিত বিড়াল ও কুকুরের নাম কী?
উত্তর: প্রোফেসর শঙ্কুর বিড়ালের নাম 'নিউটন' এবং কুকুরের নাম 'বাঘা' (তবে প্রতিবেশী অবিনাশবাবুর কুকুরের নাম ছিল ভুলো)।
২.৭ অনুনাসিক স্বরধ্বনি কোনগুলি?
উত্তর: স্বরধ্বনির সঙ্গে চন্দ্রবিন্দু যুক্ত হয়ে যে ধ্বনি নাসিকার সাহায্যে উচ্চারিত হয়, তাদের অনুনাসিক স্বরধ্বনি বলে। যেমন: আঁ, ইঁ, উঁ ইত্যাদি।
২.৮ শ্লোক > শোলোক – ধ্বনি পরিবর্তনের কোন্ রীতিতে ঘটেছে?
উত্তর: এটি 'স্বরভক্তি' বা 'বিপ্রকর্ষ' রীতিতে ঘটেছে।
৩। কমবেশি ৬০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও : Siliguri Baradakanta Vidyapith HS
৩.১ “ফলে ইলিয়াসের সম্পত্তিতে টান পড়ল।” কেন ইলিয়াসের এমন পরিস্থিতি হয়েছিল?
উত্তর: ইলিয়াসের ছোট ছেলেটি এক একগুঁয়ে স্ত্রী বিয়ে করার পর বাবার অবাধ্য হয়ে পড়ে। ইলিয়াস তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে বাধ্য হন এবং ভাগ বাটোয়ারা হিসেবে তাকে একটি বাড়ি এবং কিছু গবাদি পশু দিয়ে দেন। প্রিয় ছোট ছেলেকে সম্পত্তির এই অংশ ছেড়ে দেওয়ার ফলেই ইলিয়াসের মূল সম্পত্তিতে টান পড়েছিল।
৩.২ ‘তা হলে নির্ভয়ে লিখতে পারি।' বক্তাকে কী বিষয়ে লিখতে বলা হয়েছিল? তিনি কেন অভয় পেলেন?
উত্তর: বক্তা সুকুমারকে তাঁর ছাত্রজীবনের অংকের মাস্টারমশাইয়ের স্মৃতি নিয়ে একটি গল্প লিখতে বলা হয়েছিল।
সুকুমার প্রথমে চিন্তিত ছিলেন কারণ মাস্টারমশাই যদি সেই লেখা পড়েন তবে হয়তো অসন্তুষ্ট হবেন। কিন্তু সম্পাদক জানান যে মাস্টারমশাই সেই দূর পল্লীগ্রামের মানুষ, তাঁর কাছে কলকাতার পত্রিকা পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই। এই কথা শুনেই সুকুমার অভয় পান।
৪। কমবেশি ৬০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও :
৪.১ “গর্ত ছাড়ি ভুজঙ্গ ভাসিয়া বুলে জলে।” – “বুলে’ কথার অর্থ কী? এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল কেন?
উত্তর: ‘বুলে’ কথার অর্থ হলো ভ্রমণ করা বা বিচরণ করা।
কলিঙ্গদেশে দেবী চণ্ডীর আদেশে একটানা সাত দিন প্রবল বৃষ্টির ফলে সমস্ত স্থলভাগ জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। সাপদের গর্তে জল ঢুকে যাওয়ায় তারা তাদের বাসস্থান হারিয়ে প্রাণ বাঁচাতে জলের ওপর ভাসতে শুরু করেছিল।
৪.২ “নোঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে।” – ‘নোঙর' কী? নোঙর পড়ে গিয়েছে বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: নোঙর হলো নৌকাকে এক জায়গায় স্থির রাখার জন্য ব্যবহৃত লোহার ভারী যন্ত্র।
এখানে ‘নোঙর’ হলো পার্থিব জীবনের মায়াবন্ধন। কবি তাঁর জীবন-তরী নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিতে চাইলেও সাংসারিক দায়িত্ব এবং পৃথিবীর মায়ার টানে তাঁর জীবন যেন তটের কিনারে আটকে গেছে। শত চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি সেই বন্ধন ছিঁড়ে এগোতে পারছেন না।
৫। কমবেশি ৬০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও : Siliguri Baradakanta Vidyapith HS
৫.১ “মহারাজ এ সংবাদ শুনে খুব খুশি হবেন।” – মহারাজ কেন খুশি হবেন?
উত্তর: রাজশ্যালক যখন ধীবরের কাছ থেকে পাওয়া রত্নখচিত আংটিটি রাজাকে দেখান, রাজা সেটি দেখে খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। শ্যালকের মতে, মহারাজ আংটিটি ফিরে পেয়ে অথবা ধীবরের সততা বা কোনো পুরনো স্মৃতির কারণে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হবেন— এই প্রেক্ষাপটেই উক্তিটি করা হয়েছে।
৫.২ “সূচক, একে পূর্বাপর সব বলতে দাও।” – ধীবর বর্ণিত কাহিনিটি বর্ণনা করো।
উত্তর: ধীবর জানায় যে সে পেশায় একজন জেলে এবং জাল ফেলে মাছ ধরে সংসার চালায়। একদিন একটি রুই মাছ কাটার সময় তার পেটের মধ্যে সে মণি-খচিত একটি উজ্জ্বল আংটি পায়। সেই আংটিটি বিক্রি করতে এসেই সে রক্ষীদের হাতে ধরা পড়ে। ধীবর দাবি করে যে সে আংটিটি চুরি করেনি, এটি সে মাছের পেট থেকেই পেয়েছে।
৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও :
৬.১ “আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে।” - বক্তা কে? কীভাবে তিনি অমরত্ব লাভ করেছেন?
বক্তা: উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন সাহিত্যিক সুকুমারের ছেলেবেলার অংকের শিক্ষক, যাঁকে সুকুমার তাঁর 'দাম' গল্পে 'মাস্টারমশাই' হিসেবে সম্বোধন করেছেন।
অমরত্ব লাভের প্রেক্ষাপট:
মাস্টারমশাই ছিলেন অত্যন্ত কড়া এবং শাসনের মানুষ। তিনি মনে করতেন শাসন ছাড়া ছাত্র তৈরি সম্ভব নয়। দীর্ঘকাল পর তাঁর প্রিয় ছাত্র সুকুমার তাঁর শাসন এবং অংক না পারার ভয় নিয়ে একটি পত্রিকায় একটি গল্প লেখেন। যদিও সুকুমার মাস্টারমশাইয়ের কঠোরতাকে সমালোচনা করেই লিখেছিলেন, কিন্তু মাস্টারমশাই সেই লেখার গভীরে লুকানো ছাত্রের শৈশবের আবেগ এবং স্মৃতিকে বড় করে দেখেছেন।
অমরত্ব লাভের কারণ:
১. গৌরববোধ: মাস্টারমশাই বৃদ্ধ বয়সে যখন দেখলেন তাঁর একদা ছাত্রটি একজন লেখক হয়েছেন এবং তাঁর কথা মনে রেখেছেন, তখন তিনি গর্বিত বোধ করেন। তিনি সুকুমারের সামান্য সেই লেখাকেই সযত্নে আগলে রাখেন।
২. স্মৃতিতে বেঁচে থাকা: মাস্টারমশাই অনুভব করেছিলেন যে, সুকুমার তাঁকে ভোলেনি। পত্রিকার সেই প্রবন্ধের মাধ্যমে মাস্টারমশাই অসংখ্য পাঠকের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন।
৩. স্নেহের জয়: সুকুমার যদিও তাঁকে 'ভয়ঙ্কর' হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন, কিন্তু মাস্টারমশাইয়ের কাছে সেই লেখাটি ছিল তাঁর প্রতি ছাত্রের এক শ্রেষ্ঠ ডালি বা দক্ষিণা। তাঁর মতে, একজন শিক্ষকের এর চেয়ে বড় পাওনা আর কিছু হতে পারে না যে তাঁর ছাত্র তাঁকে আজও মনে রেখেছে। এই ভালোবাসার ডালি দিয়েই মাস্টারমশাই নিজেকে অমর বলে মনে করেছেন।
৬.২ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে যে প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে, তার বিবরণ দাও।
কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় দেবীর ইচ্ছায় সৃষ্ট এক বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে।
- আকস্মিক অন্ধকার: হঠাৎ ঈশান কোণে কালো মেঘ জমা হয়। সেই মেঘে সমস্ত আকাশ ঢেকে যায় এবং প্রবল অন্ধকারে প্রজারা নিজের শরীর পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিল না।
- প্রবল ঝড় ও বিদ্যুৎ: ঝড়ের দাপট এতই তীব্র ছিল যে চারদিকের ধুলোয় পৃথিবী ধূসর হয়ে যায়। মেঘের গম্ভীর গর্জনের সাথে বারবার বিদ্যুতের ঝিলিক বা ‘চিকুর’ দেখা দিতে থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টি: চারিদিকের মেঘ ফেটে মুষলধারে বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। একটানা সাত দিন বৃষ্টির ফলে সমস্ত নিচু জমি প্লাবিত হয়ে যায় এবং জল ও স্থলভাগের পার্থক্য ঘুচে যায়।
- বিপর্যস্ত জনজীবন: একটানা বৃষ্টির দাপটে ঘরবাড়ি রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। গর্তের সাপেরা বাসস্থান হারিয়ে জলের ওপর ভাসতে থাকে। প্রজারা প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে পালাতে শুরু করে।
- শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব: ভাদ্র মাসের তালের মতো বড় বড় শিলাঘরের চাল ভেদ করে ঘরের মধ্যে পড়তে থাকে। দেবী চণ্ডীর আদেশে হনুমান যেন মঠ ও অট্টালিকা ভেঙে লণ্ডভণ্ড করে দেন। শস্যের ক্ষেত বৃষ্টির দাপটে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
উপসংহার: এই বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভীত প্রজারা বিপদমুক্তির জন্য ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে। কবি অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে কলিঙ্গদেশের সেই দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশের ছবি এঁকেছেন।
৭। কমবেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও :
৭.১ মহাকাশ অভিযানে প্রোফেসর শঙ্কুর সঙ্গী কারা হয়েছিল? সেই অভিযানে বিধুশেখরের ভূমিকা আলোচনা করো।
মহাকাশ অভিযানের সঙ্গী:
প্রোফেসর শঙ্কুর ঐতিহাসিক মঙ্গল অভিযানে তাঁর প্রধান সঙ্গী ছিল তিনজন— তাঁর বহুকালের বিশ্বস্ত ভৃত্য প্রহ্লাদ, তাঁর পোষা বিড়াল নিউটন এবং তাঁর নিজের হাতে তৈরি যান্ত্রিক মানব বা রোবট বিধুশেখর।
বিধুশেখরের ভূমিকা:
মঙ্গল অভিযানে বিধুশেখরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বৈচিত্র্যময়:
- সতর্ককারী: বিধুশেখর কেবল একটি যন্ত্র ছিল না, তার মধ্যে এক অদ্ভুত বোধশক্তি ছিল। রকেট যখন মঙ্গলের পথে যাচ্ছিল, তখন থেকেই বিধুশেখর বিপদের আশঙ্কায় অদ্ভুত শব্দ করে শঙ্কুকে সতর্ক করছিল। মঙ্গলগ্রহে নামার পরও সে বারবার গম্ভীর গলায় 'বিপদ' শব্দটি উচ্চারণ করে তাঁদের সাবধান করেছিল।
- বিপদ মোকাবিলা: মঙ্গলগ্রহের নদীতীরে যখন একটি অতিকায় দত্যিাকার প্রাণী শঙ্কু ও প্রহ্লাদকে আক্রমণ করতে আসে, তখন বিধুশেখর অসীম সাহসের পরিচয় দেয়। সে নিজের যান্ত্রিক শরীরের পরোয়া না করে জন্তুটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তার পা কামড়ে ধরে তাকে ব্যতিব্যস্ত রাখে। এই অবসরেই শঙ্কু ও প্রহ্লাদ রকেটে ওঠার সুযোগ পান।
- অপ্রকৃতিস্থতা ও অবাধ্যতা: অভিযানের এক পর্যায়ে বিধুশেখর কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়ে। সে শঙ্কুর নির্দেশ অমান্য করে নিজের খেয়ালমতো মঙ্গলের মাটিতে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে। তার এই খামখেয়ালি আচরণের জন্যই শঙ্কু তাকে সাময়িকভাবে অকেজো করে রাখতে বাধ্য হন।
৭.২ “আজ দিনের শুরুতেই একটা বিশ্রী কাণ্ড ঘটে গেল।” ‘আজ’ বলতে কোন্ দিনের কথা বলা হয়েছে? বিশ্রী কাণ্ডটি কী ছিল বিবৃত করো।
উৎস ও তারিখ:
উদ্ধৃত অংশটি সত্যজিৎ রায়ের 'ব্যোমযাত্রীর ডায়রি' থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে 'আজ' বলতে প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়রির প্রথম তারিখ অর্থাৎ ২০ শে জুন-এর কথা বলা হয়েছে।
বিশ্রী কাণ্ডটির বর্ণনা:
বিশ্রী কাণ্ডটি ঘটেছিল প্রোফেসর শঙ্কুর বাগানে তাঁর দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল রোবট বিধুশেখর এবং ভৃত্য প্রহ্লাদকে কেন্দ্র করে।
১. বিধুশেখরের অদ্ভুত আচরণ: ডায়রির সেই দিন সকালে শঙ্কু দেখেন যে তাঁর তৈরি রোবট বিধুশেখর হঠাৎ করে অদ্ভুত কাণ্ড শুরু করেছে। সে বাগানে দাঁড়িয়ে থাকা প্রহ্লাদকে আচমকা জাপটে ধরে এক অদ্ভুত ভঙ্গিতে নাচতে শুরু করে।
২. প্রহ্লাদের অবস্থা: যান্ত্রিক মানুষের লোহার হাতের চাপে প্রহ্লাদের প্রাণান্তকর অবস্থা হয়। সে ভয়ে ও যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকে।
৩. বিশ্রী পরিস্থিতি: রোবটটি যন্ত্রের মতো নিখুঁতভাবে তার যান্ত্রিক হাত-পা নাড়িয়ে নাচছিল, আর প্রহ্লাদকে নাকে-মুখে হাত দিয়ে গোঙাতে দেখা যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিটি একদিকে যেমন অদ্ভুত, অন্যদিকে তেমনই বিশ্রী ছিল। শেষে শঙ্কু নিজে গিয়ে বিধুশেখরের কলকবজা টিপে তাকে থামানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
৮। ভাবসম্প্রসারণ করো:
আপনি প্রশ্নের জায়গায় কোনো নির্দিষ্ট পঙ্ক্তি বা বিষয় উল্লেখ করেননি। সাধারণত এই স্কুলগুলোতে “বিরাম কাজেরই অঙ্গ এক সাথে গাঁথা / নয়নের অংশ যেন নয়নের পাতা” অথবা “ধর্মকারার প্রাচীরে বজ্র হানো”—এই ভাবসম্প্রসারণগুলো বেশি আসে। আমি আপনার সুবিধার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাবসম্প্রসারণ নিচে দিয়ে দিচ্ছি:
“বিরাম কাজেরই অঙ্গ এক সাথে গাঁথা, / নয়নের অংশ যেন নয়নের পাতা।”
মূলভাব: বিশ্রাম কর্মহীনতা নয়, বরং কাজেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষের জীবনে কর্ম ও বিশ্রাম একে অপরের পরিপূরক।
সম্প্রসারিত ভাব: আমরা অনেকেই মনে করি যে কাজ বন্ধ রাখাই হলো সময়ের অপচয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিরাম বা বিরতি কাজকে আরও গতিশীল ও ত্রুটিমুক্ত করে। চোখের পাতা যেমন প্রতিনিয়ত চোখের মণির ওপর ওঠানামা করে চোখকে ধুলোবালি থেকে রক্ষা করে এবং সতেজ রাখে, তেমনি কাজের ফাঁকে বিশ্রাম মানুষকে নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি যোগায়। অবিরাম কাজ করলে শরীরে ক্লান্তি ও মনে একঘেয়েমি আসে, ফলে কাজের মান খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু পরিমিত বিশ্রামের পর মানুষ যখন পুনরায় কাজে ফিরে আসে, তখন তার সৃজনশীলতা ও একাগ্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
উপসংহার: সুতরাং, জীবনকে সফল করতে হলে কেবল অবিরাম পরিশ্রম করলেই হবে না, শরীর ও মনের প্রশান্তির জন্য সঠিক বিরতিকেও কাজের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
ব্যক্তিগত পরামর্শ:
প্রোফেসর শঙ্কুর গল্প থেকে তারিখ (যেমন ২০শে জুন) এবং ছোট ছোট বর্ণনা (যেমন বিধুশেখরের নাচ) মনে রাখা খুব জরুরি। ভাবসম্প্রসারণ লেখার সময় উপমা (যেমন চোখের পাতার উদাহরণ) ঠিকমতো ব্যাখ্যা করবে।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.