Mission Girls High School HS Bankura রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের উত্তর নবম শ্রেণী বাংলা

Mission Girls High School HS Bankura রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের উত্তর নবম শ্রেণী বাংলা 

mission-girls-high-school-hs-bankura


 5 Mission Girls' High School (HS), Bankura

Mission Girls High School HS Bankura বাঁকুড়া 'মিশন গার্লস হাই স্কুল (HS)'-এর প্রশ্নপত্রের নির্ভুল সমাধান নিচে দেওয়া হলো:

​১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : Mission Girls High School HS Bankura

১.১ ‘... ভাঙ্গি করে খান খান।।'—ভেঙে খান খান হয় কে?

উত্তর: (ঘ) মঠ অট্টালিকা। (দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান এগুলি ধ্বংস করেছিলেন)।

১.২ ‘সত্যকে উন্মুক্ত করেছেন।’—

উত্তর: (গ) মহম্মদ শা। (মহম্মদ শা-র প্রশ্নের উত্তরেই ইলিয়াস দম্পতি সত্যের হদিস দিয়েছিলেন)।

১.৩ ‘ব্যাটা বাটপাড়,” – বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি হল –

উত্তর: (ঘ) জানুক, ধীবর। (দ্বিতীয় রক্ষী জানুক ধীবরকে এই গালি দিয়েছিল)।

১.৪ মঙ্গলে পদার্পণের পূর্বে বিপদসংকেত দিয়েছিল –

উত্তর: (গ) বিধুশেখর। (যান্ত্রিক মানব বিধুশেখর বিপদের পূর্বাভাস দিয়ে ঘড়ঘড় শব্দ করছিল)।

১.৫ পরবর্তী স্বরধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তনকে বলা হয়—

উত্তর: (খ) পরাগত স্বরসংগতি। (যেমন: দেশি > দিশি)।

১.৬ প্রচলিত সন্ধির সূত্র কার্যকর হয় না –

উত্তর: (ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধিতে।

​২। কমবেশি ১৫টি শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :

২.১ ‘নোঙর’ কবিতায় কবি কীভাবে দিকের নিশানা করেন?

উত্তর: কবি আকাশের সপ্তর্ষিমণ্ডলের দিকে চেয়ে দিকের নিশানা করেন।

২.২ মাস্টারমশাইয়ের মমতা কীসের চেয়ে বেশি বলে সুকুমারের মনে হয়েছে?

উত্তর: মাস্টারমশাইয়ের মমতা হিমালয়ের চেয়েও উচ্চ বা বিশাল বলে সুকুমারের মনে হয়েছে।

২.৩ “সেও তো পাপ।” – কোন্ কাজকে বক্তা ‘পাপ’ বলেছেন?

উত্তর: নিজের ধন-সম্পত্তি নিয়ে গর্ব করা বা অহংকার করাকে ইলিয়াস দম্পতি ‘পাপ’ বলেছেন।

২.৪ রাজার কাছ থেকে ফিরে এসে রাজ শ্যালক রাজার কোন্ নির্দেশের কথা জানান?

উত্তর: রাজ শ্যালক জানান যে, ধীবরকে ছেড়ে দিতে হবে এবং তাকে আংটির সমমূল্য পারিতোষিক দিতে হবে।

২.৫ অবিনাশবাবু কেন প্রোফেসর শঙ্কুর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়েছিলেন?

উত্তর: শঙ্কুর রোবট বিধুশেখর অবিনাশবাবুর পোষা কুকুরকে ধরে নাচাতে শুরু করায় এবং ভয় দেখানোয় তিনি ক্ষতিপূরণ চেয়েছিলেন।

২.৬ বিষমীভবন বলতে কী বোঝো? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: শব্দমধ্যস্থ দুটি সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন: শরীর > শরীল (র > ল)।

২.৭ ‘ঐ’ এবং ‘ঔ’ যৌগিক স্বরধ্বনি দুটি কোন কোন ধ্বনির সমাবেশে গঠিত?

উত্তর: ঐ = ও + ই (বা অ + ই); ঔ = ও + উ (বা অ + উ)।

২.৮ বিচ্ছেদ করো : শিরোপরি।

উত্তর: শিরঃ + উপরি = শিরোপরি।

​৩। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও : Mission Girls High School HS Bankura

৩.১ ‘ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল।।' — প্রসঙ্গ লেখো।

উত্তর: কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে কলিঙ্গদেশে সাত দিন ধরে চলা অবিরাম বৃষ্টির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে এত বড় বড় শিলা পড়ছিল যে সেগুলোকে ভাদ্র মাসের পাকা তালের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সেই শিলার আঘাতে ঘরের চাল ফুটো হয়ে যাচ্ছিল।

৩.২ ‘নোঙরের কাছি বাঁধা তবু এ নৌকা চিরকাল।' – তাৎপর্য লেখো।

উত্তর: এখানে ‘নৌকা’ হলো মানুষের জীবন-তরী। মানুষ অজানার উদ্দেশ্যে বা মুক্তির পথে পাড়ি দিতে চাইলেও সংসারের মায়াবন্ধন ও বিষয়-আশয় তাকে আটকে রাখে। এই মায়াবন্ধনই হলো নোঙরের কাছি, যা মানুষকে স্থবির করে রাখে।

​৪। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :

৪.১ ইলিয়াস কীভাবে অতিথিদের আপ্যায়ন করতেন?

উত্তর: ইলিয়াস অত্যন্ত অতিথিবৎসল ছিলেন। তাঁর বাড়িতে কেউ এলে তিনি তাঁকে কুমিশ, চা ও মাংস দিয়ে সেবা করতেন। অতিথিদের জন্য সবসময় ভেড়া বা ঘোড়ী মারা হতো এবং তাঁদের আরাম-আয়েশের সব ব্যবস্থা করা হতো।

৪.২ ‘সেই বিভীষিকা মন থেকে গেল না।' - বক্তা কে? বিভীষিকাটি কী?

উত্তর: বক্তা হলেন সুকুমার। অংকের ক্লাসে মাস্টারমশাইয়ের প্রচণ্ড শাসন এবং অংক না পারলে তাঁর সেই চড় ও প্রচণ্ড ধমকই ছিল সুকুমারের কাছে ‘বিভীষিকা’।

​৫। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :

৫.১ ‘আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে?' – বক্তার দুশ্চিন্তার কারণ কী?

উত্তর: বক্তা ধীবর জাল ফেলে মাছ ধরে সংসার চালাত। আংটি চুরির অভিযোগে রক্ষীরা তাকে ধরে নিয়ে আসায় সেদিন সে কোনো মাছ ধরতে পারেনি। ফলে তার আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে সংসারের চিন্তায় ব্যাকুল ছিল।

৫.২ শকুন্তলাকে কে, কেন অভিশাপ দিয়েছিলেন?

উত্তর: ঋষি দুর্বাসা শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। শকুন্তলা যখন পতি-চিন্তায় মগ্ন থাকায় আশ্রমে আসা ঋষির উপস্থিতি লক্ষ্য করেননি, তখন ঋষি অপমানিত বোধ করে অভিশাপ দেন যে শকুন্তলা যার কথা ভাবছেন তিনি তাকে ভুলে যাবেন।

​৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও : Mission Girls High School HS Bankura

৬.১ কলিঙ্গবাসীর জীবন কীভাবে বিপন্ন হয়ে পড়েছিল?

উত্তর: মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে দেবী চণ্ডীর মায়ায় কলিঙ্গদেশে যে প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগ নেমে এসেছিল, তা প্রজাদের জীবনকে দুর্বিষহ ও বিপন্ন করে তুলেছিল। বিপন্নতার সেই চিত্রগুলি হলো:

  • অন্ধকার ও আতঙ্ক: হঠাৎ ঈশান কোণে কালো মেঘ জমা হয়ে সমগ্র আকাশ ঢেকে যায়। চারিদিকের ঘন অন্ধকারে প্রজারা নিজেদের শরীর পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিল না, যা তাদের মনে চরম ত্রাসের সৃষ্টি করে।
  • ঘরবাড়ি ও শস্যের বিনাশ: মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের দাপটে মাঠের শস্য সব উল্টে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। শিলাবৃষ্টির তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ভাদ্র মাসের তালের মতো বড় বড় শিলা ঘরের চাল ফুটো করে মেঝেতে পড়তে থাকে।
  • বজ্রপাত ও প্লাবন: একটানা সাত দিন বৃষ্টির ফলে কলিঙ্গদেশের স্থলভাগ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। গর্তে জল ঢুকে যাওয়ায় সাপেরা বাসস্থান হারিয়ে জলের ওপর ভেসে বেড়াতে শুরু করে। মেঘের গম্ভীর গর্জন ও মুহুর্মুহু বজ্রপাতে প্রজারা এতটাই ভীত হয় যে তারা রক্ষাকর্তা হিসেবে ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে।
  • অসহায়তা ও পলায়ন: দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান মঠ ও অট্টালিকা ভেঙে লণ্ডভণ্ড করে দেন। শস্য ও আশ্রয়ের বিনাশ দেখে প্রজারা প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে পালাতে শুরু করে।

​৬.২ ‘নোঙর’ কবিতায় ‘নোঙর’ কীসের প্রতীক? কবিতাটিতে কবির আকাঙ্ক্ষা ও আক্ষেপ কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে তা নিজের ভাষায় লেখো।

‘নোঙর’-এর প্রতীকী অর্থ:

অজিত দত্তের ‘নোঙর’ কবিতায় ‘নোঙর’ হলো মানুষের পার্থিব মায়াবন্ধন, সামাজিক দায়িত্ব এবং সাংসারিক কর্তব্যের প্রতীক। নৌকা যেমন নোঙরের বাঁধনে আটকে থাকলে এগোতে পারে না, তেমনি মানুষের মন অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিতে চাইলেও সংসারের নানা দায়বদ্ধতা তাকে স্থবির করে রাখে।

কবির আকাঙ্ক্ষা:

কবির মন চিরকালই রোমাঞ্চপ্রিয় এবং বন্ধনহীন। তাঁর আকাঙ্ক্ষা হলো ঘর ও সংসারের ক্ষুদ্র গণ্ডি পেরিয়ে সুদূর সিন্ধুপারে পাড়ি দেওয়া। তিনি সেই চিরকালীন সৌন্দর্যের দেশে যেতে চান যেখানে কোনো পিছুটান নেই। সপ্তর্ষিমণ্ডলের দিকে চেয়ে দিকের নিশানা করে তিনি সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে পৌঁছে যাওয়ার তীব্র বাসনা পোষণ করেন।

কবির আক্ষেপ:

আকাঙ্ক্ষা তীব্র হলেও কবির মনে দানা বেঁধেছে গভীর আক্ষেপ। তিনি লক্ষ্য করেন, তাঁর জীবন-তরীটি তটের কিনারে মায়াবন্ধনের নোঙরে আটকে গেছে। তিনি নিরন্তর দাঁত টানেন, কঠোর পরিশ্রম করেন, কিন্তু নৌকা একচুলও এগোয় না। জোয়ারের ঢেউগুলো যখন সমুদ্রের টানে ফুলে ওঠে, তখন কবির আকাঙ্ক্ষাও মাথা চাড়া দেয়, কিন্তু ভাঁটার শোষণে তা আবার স্তিমিত হয়ে পড়ে। শেষে কবির উপলব্ধি হয় যে, তাঁর সমস্ত শ্রম ও স্বপ্ন ব্যর্থ আস্ফালনে পরিণত হয়েছে—এই নিষ্ফল প্রচেষ্টাই তাঁর আক্ষেপের প্রধান কারণ।

​৭। কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও :

৭.১ কখন মাস্টারমশাইয়ের কথা সুকুমারের মনে এসেছে? উপলব্ধি কী?

উত্তর: স্মৃতিচারণের মুহূর্ত:

গল্পের কথক সুকুমার যখন পেশাগত জীবনে একজন লেখক এবং বক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, তখন তিনি বাংলাদেশের এক প্রান্তিক হাইস্কুলে একটি বার্ষিক উৎসবে আমন্ত্রিত হয়ে যান। সেখানে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দেওয়ার সময় এবং তাদের কৌতূহলী ও সশ্রদ্ধ চোখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ করেই সুকুমারের স্মৃতিপটে তাঁর নিজের ছোটবেলার সেই বিভীষিকাময় অংকের মাস্টারমশাইয়ের কথা ভেসে আসে।

সুকুমারের উপলব্ধি:

বহু বছর পর যখন সুকুমার সেই বৃদ্ধ মাস্টারমশাইয়ের দেখা পান, তখন তাঁর চরিত্রে এক আমূল পরিবর্তন ও গভীর জীবনবোধ লক্ষ্য করেন:

  • বিস্ময় ও অপরাধবোধ: সুকুমার দেখেছিলেন মাস্টারমশাই তাঁর লেখা সেই সাধারণ পত্রিকাটিকে সযত্নে আগলে রেখেছেন যেখানে সুকুমার মাস্টারমশাইয়ের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এই ঘটনা সুকুমারকে লজ্জিত করে।
  • হিমালয় সদৃশ ব্যক্তিত্ব: সুকুমার উপলব্ধি করেন যে মাস্টারমশাইয়ের সেই শাসনের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না, ছিল ছাত্রকে মানুষ করার তীব্র বাসনা। তাঁর সেই কঠোর শাসনের আড়ালে ছিল সমুদ্রের মতো গভীর স্নেহ।
  • নিজেকে ছোট মনে হওয়া: সুকুমারের মনে হয় তিনি মাস্টারমশাইয়ের সেই বিশাল হৃদয়ের কাছে অতি নগণ্য। তিনি মাস্টারমশাইয়ের চরিত্র নিয়ে গল্প লিখে যে 'দাম' পেয়েছিলেন, তা ছিল তুচ্ছ; কিন্তু মাস্টারমশাই যা দিয়েছেন তা অমূল্য।

​৭.২ ‘৭.২ ‘ভাগ্য যেন চাকার মতো ঘোরে; ' 5+8 বক্তা কে? ভাগ্য কীভাবে চাকার মতো ঘোরে তা ইলিয়াসের জীবন অনুসারে লেখো।

বক্তা:

উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি। ইলিয়াস দম্পতির জীবনের দীর্ঘ পঁচিশ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এই উক্তিটি করেছেন।

ইলিয়াসের জীবনে ভাগ্যের চাকা:

ইলিয়াসের জীবন আক্ষরিক অর্থেই এক আবর্তিত চাকার মতো, যেখানে সমৃদ্ধি ও দারিদ্র্য পর্যায়ক্রমে এসেছে:

  • উত্থান (চাকার উপরের গতি): শুরুতে ইলিয়াস মাঝারি অবস্থার মানুষ ছিলেন। কিন্তু পঁয়ত্রিশ বছরের হাড়ভাঙা খাটুনি আর কঠোর পরিশ্রমে তিনি প্রচুর সম্পত্তির মালিক হন। তাঁর কাছে দুশো ঘোড়া, দেড়শো গরু আর বারোশো ভেড়া ছিল। তাঁর প্রতিপত্তি এবং নামডাক চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।
  • পতন (চাকার নিচের গতি): ভাগ্যের চাকা যখন নিচে নামতে শুরু করল, তখন একের পর এক বিপর্যয় দেখা দিল। ছোট ছেলে অবাধ্য হয়ে আলাদা হওয়ায় সম্পত্তিতে টান পড়ল। তারপর পশুর মড়ক, দুর্ভিক্ষে গবাদি পশুর মৃত্যু এবং সবশেষে কিরগিজদের দ্বারা সেরা ঘোড়াগুলো চুরি হওয়ার ফলে ইলিয়াস নিঃস্ব হয়ে পড়েন।
  • পুনরায় অবস্থান পরিবর্তন: এক সময়ের মালিক ইলিয়াস বৃদ্ধ বয়সে প্রতিবেশী মহম্মদ শাহের বাড়িতে আশ্রিত মজুরে পরিণত হন। যে ইলিয়াস অতিথি আপ্যায়ন করতেন, তিনি নিজেই এখন অপরের উচ্ছিষ্ট খেয়ে জীবন কাটান।

​৮। কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও :

৮.১ এখানে কোন্ খাতার কথা বলা হয়েছে? কে, কীভাবে পেয়েছিলেন?

উত্তর: খাতার পরিচয়:

এখানে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কুর সেই অতিপ্রাকৃত ডায়রি বা খাতার কথা বলা হয়েছে, যা তিনি নিরুদ্দেশ হওয়ার আগে লিখেছিলেন। এই ডায়রিটি ছিল লাল রঙের এবং এর পাতাগুলি ছিল অবিনশ্বর—অর্থাৎ যা আগুনে পুড়ত না, ছিঁড়ত না এবং যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের লেখার কালির রঙ পরিবর্তন করত।

প্রাপ্তির বিবরণ:

  • কে পেয়েছিলেন: ডায়রিটি পেয়েছিলেন লেখকের (সত্যজিৎ রায়) পরিচিত তারক চাটুজ্যে
  • কীভাবে পেয়েছিলেন: তারকবাবু একবার সুন্দরবনের 'কোরকচিটা' অঞ্চলে বাঘ মারতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি হঠাৎ লক্ষ্য করেন যে একটি উল্কা আকাশ থেকে খসে বনের মধ্যে পড়েছে। কৌতূহলবশত তিনি যখন সেই উল্কাপাতের ফলে সৃষ্ট গর্তের কাছে যান, তখন দেখেন গর্তের ভেতর উল্কাখণ্ডের পাশেই এই লাল রঙের ডায়রিটি পড়ে আছে। তিনি সেটি সেখান থেকে তুলে আনেন এবং পরবর্তীতে লেখকের হাতে তুলে দেন।

৮.২ মঙ্গলগ্রহে শঙ্কুর অভিজ্ঞতা:

উত্তর: প্রোফেসর শঙ্কু তাঁর রকেটে করে মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করার পর যে বিচিত্র ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

পরিবেশের বর্ণনা:

মঙ্গলগ্রহের প্রকৃতি ছিল পৃথিবীর তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। শঙ্কু দেখলেন সেখানকার মাটি ও পাথর সব নরম এবং তার রঙ রক্তের মতো লাল। সেখানকার নদী বা জলাশয়ের জল ছিল স্বচ্ছ নীল। গাছপালাগুলো দেখতে পৃথিবীর ফার্ন গাছের মতো হলেও সেগুলো ছিল আকারে বিশাল এবং নীল রঙের।

অদ্ভুত প্রাণী ও আতঙ্ক:

মঙ্গলে নেমে শঙ্কু ও তাঁর সঙ্গীরা (প্রহ্লাদ, নিউটন ও বিধুশেখর) এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। সেখানকার বাতাসে এক অদ্ভুত পচা মাংসের গন্ধ ছিল। হঠাৎ তাঁরা লক্ষ্য করেন একটি প্রকাণ্ড দানবীয় জানোয়ার তাঁদের দিকে এগিয়ে আসছে। প্রাণীটি দেখতে অদ্ভুত—তার গায়ে মাছের মতো আঁশ ছিল, বড় বড় চোখ এবং দাঁতগুলো ছিল ভয়ঙ্কর।

বিধুশেখরের ভূমিকা ও পলায়ন:

সেই দানবীয় জানোয়ারটি যখন শঙ্কু ও প্রহ্লাদকে আক্রমণ করতে যায়, তখন তাঁদের যান্ত্রিক মানব বিধুশেখর অদ্ভুত সাহসিকতা দেখায়। সে যন্ত্র হওয়া সত্ত্বেও নিজের বিপদের পরোয়া না করে জানোয়ারটির পা কামড়ে ধরে। এই সুযোগে শঙ্কু ও প্রহ্লাদ কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে রকেটে ফিরে আসতে সক্ষম হন। মঙ্গলগ্রহের সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শঙ্কুর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল এবং তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে মঙ্গল কোনোমতেই মানুষের বসবাসের যোগ্য নয়।

​৯। ভাবসম্প্রসারণ :

“আরো আলো আরো আলো / এই নয়নে প্রভু, ঢালো।”

মূলভাব: এখানে ‘আলো’ হলো জ্ঞানের প্রতীক। মানুষ অবিদ্যা ও অন্ধকারের অন্ধকার দূর করে অন্তরের চোখ খুলতে চায়। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা হলো—যাতে পার্থিব মায়ার অন্ধকার কাটিয়ে সত্য ও সুন্দর জ্ঞানের আলোয় জীবন ভরে ওঠে। জ্ঞানই মানুষকে সত্যের পথে পরিচালিত করে।

​ব্যক্তিগত পরামর্শ:

​বাঁকুড়ার ছাত্রীদের জন্য পরামর্শ হলো—ব্যকরণে স্বরসংগতি এবং বিসর্গ সন্ধি ভালো করে অভ্যাস করো। 'ব্যোমযাত্রীর ডায়েরি' পড়ার সময় তারিখ ও ছোট ছোট বিবরণগুলো (যেমন ডায়েরির রঙ বদলানো) মনে রাখবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ