Itahar Girls High School HS রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের উত্তর নবম শ্রেণী বাংলা
4 Itahar Girls' High School (HS)
Itahar Girls High School HS 'ইটাহার গার্লস হাই স্কুল (HS)'-এর প্রশ্নপত্রের নির্ভুল সমাধান নিচে দেওয়া হলো:
১। ঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো :
১.১ “ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর।” - “ঈশান' হল —
(ক) দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ, (খ) উত্তর-পূর্ব কোণ, (গ) দক্ষিণ-পূর্ব কোণ, (ঘ) উত্তর-পশ্চিম কোণ।
উত্তর: (খ) উত্তর-পূর্ব কোণ।
১.২ “প্রভু, আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে?” – বক্তা —
(ক) প্রথম রক্ষী, (খ) দ্বিতীয় রক্ষী, (গ) জেলে, (ঘ) রাজ-শ্যালক।
উত্তর: (গ) জেলে (বা ধীবর)।
১.৩ “ইলিয়াসের তখন খুব বোলবোলাও,” – “বোলবোলাও’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) প্রতাপান্বিত, (খ) প্রতিপত্তি, (গ) প্রভাব, (ঘ) হাঁকডাক।
উত্তর: (খ) প্রতিপত্তি।
১.৪ ‘সভায় জাঁকিয়ে বক্তৃতা করা গেল।' - বক্তা রবীন্দ্রনাথ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন —
(ক) ১২টি, (খ) ১৬টি, (গ) ১০টি, (ঘ) ১৪টি।
উত্তর: (ক) ১২টি।
১.৫ নোঙর কোথায় পড়ে গিয়েছে?
(ক) জলে, (খ) গর্তে, (গ) তটের কিনারে, (ঘ) খাদের কিনারে।
উত্তর: (গ) তটের কিনারে।
১.৬ তারকবাবুর সুন্দরবনে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল —
(ক) শঙ্কুর ডায়রি হস্তগত করা, (খ) উল্কাখণ্ড দেখা, (গ) গোল্ডমাইন আবিষ্কার করা, (ঘ) বাঘছাল সংগ্রহ করা।
উত্তর: (ঘ) বাঘছাল সংগ্রহ করা।
১.৭ রত্ন > রতন – কোন্ ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন হয়েছে?
(ক) স্বরভক্তি, (খ) অপিনিহিতি, (গ) ধ্বনিলোপ, (ঘ) স্বরসংগতি।
উত্তর: (ক) স্বরভক্তি।
১.৮ সংবৃত স্বরধ্বনি হল —
(ক) অ, আ, (খ) ই, উ, (গ) উ, ঈ, (ঘ) এ, ও।
উত্তর: (খ) ই, উ।
২। কমবেশি ১৫টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : Itahar Girls High School HS
২.১ ‘ডাকলেন, সুকুমার।' - সুকুমার কে? কে ডাকলেন?
উত্তর: সুকুমার হলেন 'দাম' গল্পের কথক। তাঁকে তাঁর ছেলেবেলার অংকের মাস্টারমশাই ডাকলেন।
২.২ বাবা মারা যাওয়ার সময় ইলিয়াসের সম্পত্তি কী ছিল?
উত্তর: ইলিয়াসের বাবা যখন মারা যান, তখন ইলিয়াসের সম্পত্তি ছিল সাতটি ঘোড়ী, দুটি গরু এবং কুড়িটি ভেড়া।
২.৩ “চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল।।” – ‘চারি মেঘে’-র নাম লেখো।
উত্তর: পুরাণ মতে চারি মেঘ হলো— সম্বর্ত, আবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণ।
২.৪ ‘অপমানিতা হলেন রাজসভায়।' কে অপমানিতা হয়েছিলেন?
উত্তর: মহাকবি কালিদাসের 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাট্যাংশ অনুযায়ী শকুন্তলা রাজা দুষ্মন্তের রাজসভায় অপমানিতা হয়েছিলেন।
২.৫ মঙ্গলগ্রহের কোথায় বসে শঙ্কু ডায়রি লিখছিলেন?
উত্তর: মঙ্গলগ্রহের একটি রক্তবর্ণ নরম পাথরের ঢিবির ওপর বসে প্রোফেসর শঙ্কু ডায়রি লিখছিলেন।
২.৬ আদিস্বরলোপ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: শব্দের শুরুতে থাকা স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদিস্বরলোপ বলে। যেমন: অলাবু > লাউ।
২.৭ স্বরভক্তি অপর কী নামে পরিচিত?
উত্তর: স্বরভক্তি 'বিপ্রকর্ষ' বা 'মধ্যস্বরগম' নামে পরিচিত।
২.৮ বিভক্তি ও অনুসর্গের একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: বিভক্তির নিজস্ব কোনো অর্থ নেই, কিন্তু অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ আছে।
৩। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৩.১ ‘ততই বিরামহীন এই দাঁড় টানা।' - কে দাঁড় টানেন? বিরামহীন দাঁড় টানার কারণ কী?
উত্তর: কবি অজিত দত্ত তাঁর রূপকধর্মী তরী বা জীবন-তরীর দাঁড় টানেন।
সংসারের মায়াবন্ধন বা নোঙরে কবির জীবন আটকে থাকলেও তাঁর মন সুদূরের পানে পাড়ি দিতে চায়। কবির এই গন্তব্যে পৌঁছানোর তীব্র বাসনা এবং জীবনকে সচল রাখার প্রয়াস থেকেই তিনি বিরামহীন দাঁড় টানেন।
৩.২ “কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি।।” – ‘সোঙরে' কথার অর্থ কী? ‘জৈমিনি' কে?
উত্তর: 'সোঙরে' কথার অর্থ হলো স্মরণ করে।
জৈমিনি হলেন একজন প্রখ্যাত ঋষি এবং মীমাংসা দর্শনের প্রণেতা। পুরাণ মতে, বজ্রপাত ও দুর্যোগের সময় তাঁকে স্মরণ করলে বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, তাই কলিঙ্গবাসী তাঁকে স্মরণ করছিল।
৪। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও : Itahar Girls High School HS
৪.১ “তা উনি পারতেন।”- কে, কী পারতেন? একথা কে, কখন বলেছিল?
উত্তর: এখানে কথক সুকুমারের অংকের মাস্টারমশাইয়ের কথা বলা হয়েছে। তিনি অংক না পারা ছাত্রদের সপাটে চড় মেরে মাথা ঘুরিয়ে দিতে পারতেন। কথক সুকুমার তাঁর ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে এই উক্তিটি করেছেন।
৪.২ ‘সত্যি, ভাগ্য যেন চাকার মতো ঘোরে;’ একথা কে বলেছিল? কখন বলেছিল?
উত্তর: একথা ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি বলেছিল। বৃদ্ধ বয়সে সব সম্পত্তি হারিয়ে যখন তারা মহম্মদ শাহের বাড়িতে আশ্রিত মজুর হিসেবে কাজ করছিল, তখন এক অতিথির প্রশ্নের উত্তরে সে এই কথাটি বলে।
৫। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৫.১ “মুহূর্তের জন্য রাজা বিহ্বলভাবে চেয়ে রইলেন।” - বক্তা কে? রাজার বিহ্বলতার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্ধৃত অংশের বক্তা হলেন মহাকবি কালিদাস (বা গল্পের বর্ণনাকারী)।
ধীবরের কাছ থেকে পাওয়া আংটিটি যখন রাজার সামনে আনা হয়, তখন সেটি দেখে রাজার মনে তাঁর প্রিয়তমা শকুন্তলার স্মৃতি ভেসে ওঠে। শাপের প্রভাবে তিনি যা ভুলে গিয়েছিলেন, তা হঠাৎ মনে পড়ায় এবং অনুশোচনায় রাজা বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন।
৫.২ “ঋষি অপমানিত বোধ করলেন এবং অভিশাপ দিলেন,” – ঋষির নাম কী? তিনি কাকে, কী অভিশাপ দিয়েছিলেন?
উত্তর: ঋষির নাম দুর্বাসা। তিনি শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, শকুন্তলা যাঁর কথা চিন্তা করে ঋষির উপস্থিতিকে অবহেলা করেছেন, সেই ব্যক্তিই (রাজা দুষ্মন্ত) শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন।
৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৬.১ সাত দিন কোথায় বৃষ্টি হয়েছিল? এর ফলে প্রজাদের কী দুর্দশা হয়েছিল?
উত্তর: দেবী চণ্ডীর আদেশে কলিঙ্গদেশে একটানা সাত দিন প্রবল বৃষ্টি হয়েছিল।
দুর্দশার বিবরণ: আকাশের ঘন অন্ধকারে প্রজারা নিজেদের শরীর দেখতে পাচ্ছিল না। মুষলধারে বৃষ্টিতে মাঠের শস্য পচে নষ্ট হয়ে যায়। ঘরের চাল ফুটো করে ভাদ্র মাসের তালের মতো বড় বড় শিলা পড়তে থাকে। পথঘাট ও ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায় প্রজারা বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। গর্তে জল ঢোকায় সাপেরা ডাঙায় ভেসে বেড়াতে শুরু করে। দেবী চণ্ডীর আদেশে হনুমান যেন মঠ ও অট্টালিকা ধ্বংস করে প্রজাদের বাসস্থান কেড়ে নেন। জীবন বাঁচাতে প্রজারা ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
৭। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৭.১ দিনটা কত তারিখ ছিল? বিশ্রী কাণ্ডটা কী ঘটেছিল?
উত্তর:
তারিখ ও বিশ্রী কাণ্ডটির বিবরণ
তারিখ:
প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়রির প্রথম পাতায় উল্লিখিত তারিখটি ছিল ২০ শে জুন।
বিশ্রী কাণ্ডটি যা ঘটেছিল:
সেই দিন সকালে প্রোফেসর শঙ্কুর বাগানে তাঁর দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল যান্ত্রিক মানব (রোবট) বিধুশেখর এবং তাঁর পুরাতন ভৃত্য প্রহ্লাদকে কেন্দ্র করে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। শঙ্কু দেখেন যে বিধুশেখর হঠাৎ করে প্রহ্লাদকে জাপটে ধরে বাগানের মধ্যে এক অদ্ভুত ভঙ্গিতে নাচতে শুরু করেছে। লোহার তৈরি রোবটের সেই শক্ত হাতের চাপে প্রহ্লাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়েছিল। সে যন্ত্রণায় ও ভয়ে চিৎকার করছিল, কিন্তু বিধুশেখর এক অদ্ভুত যান্ত্রিক ছন্দে তাকে নিয়ে নাচিয়েই যাচ্ছিল। ঘটনাটি ছিল একদিকে যেমন হাস্যকর, অন্যদিকে তেমনই বিপজ্জনক ও বিশ্রী। শেষ পর্যন্ত শঙ্কু নিজে গিয়ে বিধুশেখরের একটি কলকবজা টিপে তাকে থামানোর পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
৭.২ “মঙ্গল যে কত অমঙ্গল হতে পারে, সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি।” – আক্ষেপের কারণ কী?
উত্তর:
আক্ষেপের কারণ:
প্রোফেসর শঙ্কু বহু গবেষণার পর রকেটে করে মঙ্গল অভিযানে গিয়েছিলেন। কিন্তু মঙ্গলগ্রহের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে সুখকর না হয়ে অত্যন্ত ভয়াবহ ও অমঙ্গলজনক হয়ে উঠেছিল। তাঁর এই আক্ষেপের প্রধান কারণগুলি হলো:
- বিপজ্জনক পরিবেশ: মঙ্গলে নেমে শঙ্কু দেখেন সেখানকার মাটি ও পাথর রক্তের মতো লাল এবং জল নীল। সেখানে এক অদ্ভুত পচা মাংসের গন্ধ বাতাসে ভাসছিল, যা তাঁদের শ্বাস নেওয়াই দুর্বহ করে তুলেছিল।
- দানবীয় জন্তুর আক্রমণ: মঙ্গলের নদীতীরে তাঁরা এক অতিকায় ও বীভৎস দর্শনের জানোয়ারের মুখে পড়েন। সেই জন্তুটির গায়ে মাছের মতো আঁশ ছিল এবং তার চোখ ও দাঁত ছিল অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। প্রাণীটি শঙ্কু ও প্রহ্লাদকে আক্রমণ করতে আসে এবং তাঁদের প্রায় প্রাণ সংশয়ের উপক্রম হয়েছিল।
- সহযোগীর অবাধ্যতা: তাঁর তৈরি রোবট বিধুশেখর মঙ্গলে গিয়ে সম্পূর্ণ অপ্রকৃতিস্থ ও অবাধ্য হয়ে পড়ে। সে শঙ্কুর নির্দেশ অমান্য করে নিজের খেয়ালখুশিমতো ঘুরে বেড়াতে শুরু করে এবং জানোয়ারটির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে বিকল হয়ে যায়।
উপসংহার: মঙ্গলের এই প্রতিকূল প্রকৃতি এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রোফেসর শঙ্কুকে এটা বুঝিয়ে দিয়েছিল যে মঙ্গলগ্রহ মোটেও মঙ্গলজনক নয়; বরং তা মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বা অমঙ্গলকর। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই তিনি উদ্ধৃত আক্ষেপটি করেছেন।
৮। কমবেশি ১৫০ শব্দে ভাবসম্প্রসারণ করো :
“নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, / ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।”
মূলভাব: মানুষের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন। বর্তমান অবস্থায় সে খুশি থাকতে পারে না, সর্বদা অন্যের অবস্থা বা অদেখাকেই বেশি সুখকর মনে করে।
সম্প্রসারিত ভাব: আমরা যা পাই তাতে সুখী হই না, বরং যা আমাদের নাগালের বাইরে, তাকেই পরম সুখের আধার মনে করি। নদীর এপারের মানুষ যখন দেখে ওপারে শান্ত পরিবেশ বা সুন্দর দৃশ্য, তখন সে মনে করে সমস্ত সুখ বুঝি ওপারেই আছে। অথচ ওপারের মানুষটিও একই রকম হাহাকার নিয়ে এপারকে সুখের স্বর্গ মনে করে। এটি মানুষের চিরন্তন অতৃপ্তি ও মোহের পরিচয়। প্রকৃত সুখ বাইরের চাকচিক্যে নয়, বরং নিজের সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে।
অথবা এটিও লিখতে পারেন.
মূলভাব:
জীবন কেবল অতিবাহিত করার নাম নয়। আত্মত্যাগ এবং সাহসিকতাহীন ভীরু জীবনকে কেউ শ্রদ্ধা করে না। যারা নিজের আদর্শের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে পারে, ইতিহাস কেবল তাদেরই মনে রাখে।
সম্প্রসারিত ভাব:
পৃথিবীতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের জন্ম হয় এবং মৃত্যু হয়। এই সাধারণ মৃত্যুকে কবি ‘শুধু মরে যাওয়া’ বলেছেন। যারা ভীরুর মতো বিনা প্রতিবাদে অন্যায় সহ্য করে কিংবা কোনো লক্ষ্য ছাড়াই পশুর মতো জীবন কাটায়, তাদের মৃত্যু সমাজের কাছে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। তারা বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়।
অন্যদিকে, ‘প্রাণ দেওয়া’ মানে হলো কোনো মহৎ কাজের জন্য বা দেশের জন্য স্বেচ্ছায় আত্মাহুতি দেওয়া। যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে, যারা মানুষের কল্যাণে নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দেয়, তারাই প্রকৃত সম্মানের অধিকারী। মৃত্যু তাদের বিনাশ করতে পারে না; বরং ত্যাগের মহিমায় তারা অমর হয়ে থাকেন। ক্ষুদিরাম, বাঘা যতীন কিংবা মাষ্টারদা সূর্য সেনের মতো বিপ্লবীরা ‘প্রাণ দিয়েছিলেন’ বলেই আজও তারা বিশ্ববন্দিত।
উপসংহার:
বিনা প্রতিবাদে বা কাপুরুষের মতো মৃত্যুবরণ করা অসম্মানের। বীরত্ব ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে জীবনকে উৎসর্গ করাই হলো প্রকৃত সার্থকতা।
২. “নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, / ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।”
মূলভাব:
মানুষের মন চিরকালই অতৃপ্ত। নিজের কাছে যা আছে তাতে সে সন্তুষ্ট হতে পারে না; বরং যা তার নাগালের বাইরে, তাকেই সে অধিক সুখকর বলে মনে করে।
সম্প্রসারিত ভাব:
নদীর দুই পারের দৃশ্যটি মানুষের জীবনের এক চিরন্তন সত্যকে তুলে ধরে। নদীর এপারের মানুষ যখন ওপারকে দেখে, তখন তার মনে হয় ওপারের প্রকৃতি বেশি সবুজ, ওপারের মানুষ হয়তো অনেক বেশি সুখে আছে। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওপারের মানুষটিও একই সময়ে ওপারের অভাবগুলো অনুভব করে এবং এপারের সৌন্দর্য দেখে এই পারকেই ‘সুখের স্বর্গ’ বলে কল্পনা করে।
আসলে মানুষের এই অতৃপ্তিই হলো দুঃখের মূল কারণ। আমরা দূরের কুয়াশা ঘেরা পাহাড়কে সুন্দর মনে করি, কিন্তু পাহাড়ে চড়লে তার পাথর আর বন্ধুর পথের কষ্টটা বুঝতে পারি। আমরা অন্যের চাকচিক্যময় জীবন দেখে ঈর্ষা করি, কিন্তু তার ভেতরের শূন্যতা আমরা দেখতে পাই না। এই ‘দূরাভিসারী’ মন সবসময় অদেখাকেই বেশি মূল্য দেয়।
উপসংহার:
সুখ আসলে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বা বস্তুতে নেই; সুখ হলো মনের একটি অবস্থা। পরের প্রাপ্তি দেখে হাহাকার না করে নিজের যা আছে তার মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পাওয়াই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।
ব্যক্তিগত পরামর্শ:
প্রিয় ছাত্রীরা, পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে হলে ব্যাকরণ (বিশেষ করে ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণগুলো) এবং কবিতার পঙ্ক্তি খুঁটিয়ে পড়বে। 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' থেকে প্রজাদের দুর্দশার বর্ণনায় মূল বইয়ের কিছু শব্দ (যেমন: 'আশু শস্য', 'জৈমিনি') ব্যবহার করলে উত্তরটি মানসম্মত হবে।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.