রায় ও মার্টিন দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন উত্তর Jalpaiguri Zilla School Class 9 Bengali Solution
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ অনুমোদিত নবম শ্রেণীর বাংলা দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের অন্তর্গত জলপাইগুড়ি জিলা স্কুল-এর প্রশ্নপত্রের নির্ভুল ও উচ্চমানের সমাধান নিচে দেওয়া হলো:
১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : Jalpaiguri Zilla School Class 9 Bengali Solution
১.১ ‘আবহমান' শব্দের প্রকৃত অর্থ হল —
(ক) আহ্বান, (খ) চিরন্তন, (গ) আগমন, (ঘ) ক্ষণকালীন।
উত্তর: (খ) চিরন্তন।
১.২ “অজস্র চুলের চুমা” ঝরে —
(ক) আমে জামে কাঠালে, (খ) হিজলে বটে অশ্বত্থে, (গ) হিজলে কাঁঠালে জামে, (ঘ) আমে কাঁঠালে অশ্বে।
উত্তর: (গ) হিজলে কাঁঠালে জামে।
১.৩ রাধারাণীদের সম্পত্তির পরিমাণ ছিল —
(ক) দশ লক্ষ টাকা, (খ) প্রায় দশ লক্ষ টাকা, (গ) এগারো লক্ষ টাকা, (ঘ) প্রায় এগারো লক্ষ টাকা।
উত্তর: (খ) প্রায় দশ লক্ষ টাকা।
১.৪ ‘নারীকুলের রত্নবিশেষ' হলেন —
(ক) মিসেস সেভিয়ার, (খ) মিস মুলার, (গ) মিসেস বুল, (ঘ) মার্গারেট নোব্ল্।
উত্তর: (ক) মিসেস সেভিয়ার। (দ্রষ্টব্য: স্বামীজি তাঁর চিঠিতে মিসেস সেভিয়ারকে এই বিশেষণে ভূষিত করেছিলেন)।
১.৫ কর্ভাসের ট্রেনিং-এর সময় ছিল —
(ক) সকাল আটটা থেকে ন'টা, (খ) সকাল সাতটা থেকে আটটা, (গ) সকাল ন'টা থেকে দশটা, (ঘ) সকাল আটটা থেকে দশটা।
উত্তর: (ক) সকাল আটটা থেকে ন'টা।
১.৬ পক্ষীবিজ্ঞানীদের সম্মেলনের চেয়ারম্যান ছিলেন —
(ক) গ্রেনফেল, (খ) প্রোফেসর শঙ্কু, (গ) কোভারুবিয়াস, (ঘ) রজার্স।
উত্তর: (গ) কোভারুবিয়াস।
১.৭ ‘শ্বেতপাথর’ শব্দটি হল —
(ক) তৎসম শব্দ, (খ) তদ্ভব শব্দ, (গ) মিশ্র শব্দ, (ঘ) অর্ধতৎসম শব্দ।
উত্তর: (ক) তৎসম শব্দ। (শ্বেত + প্রস্তর থেকে আগত শ্বেতপাথর)।
১.৮ “দারিদ্র্য সব গুণ হরণ করে” – বাক্যটিতে ‘দারিদ্র্য' শব্দটি হল —
(ক) গুণবাচক বিশেষ্য, (খ) গুণবাচক বিশেষণ, (গ) ক্রিয়াবাচক বিশেষণ, (ঘ) বিশেষণের বিশেষণ।
উত্তর: (ক) গুণবাচক বিশেষ্য।
২। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : Jalpaiguri Zilla School Class 9 Bengali Solution
২.১ প্রাচীন যুগের কয়েকটি আত্মনির্ভরশীল ভাষার নাম লেখো।
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নবনব সৃষ্টি’ প্রবন্ধ অনুযায়ী প্রাচীন যুগের কয়েকটি আত্মনির্ভরশীল ভাষা হলো— সংস্কৃত, আরবি, ফারসি, গ্রিক এবং হিব্রু।
২.২ “একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন।” – কাকে ‘প্রকৃত সিংহী’ বলা হয়েছে?
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর ‘চিঠি’ প্রবন্ধে ভারতের নারীজাতির কল্যাণে কাজ করার জন্য তাঁর শিষ্যা মিস মার্গারেট নোবলকে (ভগিনী নিবেদিতা) ‘প্রকৃত সিংহী’ বলেছেন।
২.৩ “ক্ষুদ্র বুদ্ধিটুকুতে ইহা বুঝিতে পারিল।” — কী বুঝতে পারল?
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে রাধারাণী বুঝতে পেরেছিল যে, অন্ধকারে যে পথিক তার থেকে মালা কিনেছেন, তিনি দয়ালু এবং সম্ভবত ইচ্ছা করেই তাকে সাহায্য করার জন্য মালার অতিরিক্ত দাম দিয়েছেন।
২.৪ বাংলার নীল সন্ধ্যাকে কোন্ বিশেষণে কবি বিশেষিত করেছেন?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় বাংলার নীল সন্ধ্যাকে ‘কেশবতী কন্যা’-র মতো স্নিগ্ধ এবং মায়াবী বিশেষণে বিশেষিত করেছেন।
২.৫ “বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু মুড়য় না।” - এখানে কোন্ গাছের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: নিরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতায় এখানে বাঙালির চিরন্তন শৈশব ও স্মৃতির প্রতীক ‘নটেগাছ’-এর কথা বলা হয়েছে।
২.৬ তদ্ভব শব্দ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যেসব সংস্কৃত শব্দ প্রাকৃত বা অপভ্রংশের মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, তাদের তদ্ভব শব্দ বলে।
- উদাহরণ: সংস্কৃত ‘হস্ত’ > প্রাকৃত ‘হত্থ’ > বাংলা ‘হাত’।
২.৭ উপসর্গ ও অনুসর্গের একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: উপসর্গ শব্দের শুরুতে বা আগে বসে (যেমন: বিহার), অন্যদিকে অনুসর্গ সাধারণত শব্দের পরে বা পেছনে বসে (যেমন: দুঃখ বিনা সুখ হয় না)।
৩। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :Jalpaiguri Zilla School Class 9 Bengali Solution
৩.১ “আমি পাই টের।” – কবি কী টের পান? টের পাওয়ার কথাটি কবি কেন বলেছেন? ৩
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি টের পান যে, কামরাঙা লাল মেঘ গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে যাওয়ার পর রূপসী বাংলার স্নিগ্ধ নীল সন্ধ্যা এক ‘কেশবতী কন্যা’র মতো নেমে এসেছে।
কবি ‘টের পাওয়া’ কথাটি বলেছেন কারণ এই সন্ধ্যার আগমন কেবল চোখে দেখার বিষয় নয়, এটি এক গভীর অনুভূতি। অন্ধকার যখন তাঁর চোখে-মুখে-চুলে স্পর্শ বুলিয়ে দেয় এবং প্রকৃতিতে থাকা কলমি শাক, হাঁসের পালক বা পুকুরের শীতল জল থেকে এক স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে পড়ে, তখন কবি তাঁর ইন্দ্রিয় দিয়ে প্রকৃতির সেই প্রাণস্পন্দন অনুভব করেন।
৩.২ “হারায় না তার বাগান থেকে কুন্দফুলের হাসি।” – পঙ্ক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি কোন্ জীবনসত্যকে তুলে ধরেছেন? ৩
উত্তর: নিরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতায় এই পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে কবি গ্রামবাংলার চিরন্তন ও শাশ্বত রূপের জীবনসত্যকে তুলে ধরেছেন।
নগরের যান্ত্রিকতায় মানুষের শৈশব বা স্মৃতি ফিকে হয়ে যেতে পারে, কিন্তু পল্লিগ্রামের উঠান ও তার বাগান আজও আগের মতোই অমলিন। কুন্দফুলের হাসি এখানে গ্রাম্য প্রকৃতির সহজ ও পবিত্র সৌন্দর্যের প্রতীক। সময় বয়ে গেলেও এবং মানুষ দূরে সরে গেলেও প্রকৃতির এই রূপ ও তার আনন্দধারা কখনোই হারিয়ে যায় না—এই অমোঘ সত্যই এখানে ব্যক্ত হয়েছে।
৪। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৪.১ “অগত্যা রাধারাণী কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিল।” – রাধারাণীর কাঁদার কারণ কী? ৩
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশ অনুসারে, রাধারাণীর কাঁদার প্রধান কারণ ছিল অসুস্থ মায়ের জন্য পথ্য সংগ্রহ করতে না পারা।
অসুস্থ মায়ের আহার সংস্থানের জন্য রাধারাণী অনেক আশা করে বনফুলের মালা গেঁথে রথের মেলায় বিক্রি করতে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যায় এবং অন্ধকার হয়ে আসায় কেউ তার মালা কেনেনি। রিক্ত হাতে মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার অসহায়তা এবং অনাহারে থাকা অসুস্থ মায়ের কষ্টের কথা ভেবেই রাধারাণী কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরছিল।
৪.২ “আমরাও ভিখারি হইয়াছি, দান গ্রহণ করিয়া খরচ করি।” - বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ আলোচনা করো। ৩
উত্তর: উক্তিটির বক্তা হলেন রাধারাণীর মা। জনৈক অচেনা পথিক (রুক্মিণীকুমার রায়) রাধারাণীর থেকে মালা কিনে তাকে অনেক সাহায্য করেন এবং বাড়িতে খাবার পাঠিয়ে দেন। পরে তিনি একটি নোটও সেখানে ফেলে রেখে যান।
রাধারাণীর মা ছিলেন উচ্চবংশীয় ও অভিজাত পরিবারের বধূ। কিন্তু জ্ঞাতির সঙ্গে মামলায় সর্বস্ব হারিয়ে আজ তিনি চরম নিঃস্ব। পথিকের দেওয়া এই সাহায্য কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করলেও, নিজের বর্তমান শোচনীয় অবস্থার কথা ভেবে তাঁর মনে হয়েছে যে, আগে যারা দাতা ছিলেন, ভাগ্যের পরিহাসে আজ তাঁরাই দয়া বা দান গ্রহণ করে বেঁচে থাকা ভিখারিতে পরিণত হয়েছেন।
৫। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৫.১ “এরই মাঝে বাংলার প্রাণ; ” – অংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। ৫
উত্তর: রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় গ্রামবাংলার গোধূলি বেলার এক মায়াবী ও নিবিড় রূপ বর্ণনা করেছেন। কবির মতে, বাংলার প্রাণ কোনো জাঁকজমকপূর্ণ বা কৃত্রিম ঐশ্বর্যের মধ্যে নেই, বরং তা ছড়িয়ে আছে অতি সাধারণ গ্রাম্য অনুষঙ্গের মধ্যে।
সূর্যাস্তের পর যখন আকাশে তারা ফুটে ওঠে এবং নীল সন্ধ্যা নেমে আসে, তখন কবি বাংলার প্রাণের অস্তিত্ব অনুভব করেন— নরম ধানের গন্ধে, কলমি শাকের ঘ্রাণে, পুকুরের শীতল জলে, কিংবা হাঁসের পালক আর শরবনের মায়াবী স্তব্ধতায়। কিশোরীর চালধোয়া ভিজে হাত কিংবা কিশোরের পায়ে দলা মুথা ঘাসের ঘ্রাণ কবির কাছে বাংলার শাশ্বত রূপের প্রতীক। এমনকি লাল বটের ফলের ব্যথিত গন্ধের নিবিড়তার মধ্যেও কবি বাংলার প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পান। এই অবহেলিত ও অতি সাধারণ উপাদানগুলিই কবির কাছে বাংলার চিরন্তন সত্তা ও সৌন্দর্যের আধার।
৫.২ ‘রাধারাণী’ গল্প অনুসারে রাধারাণী চরিত্রটির বর্ণনা দাও। ৫
উত্তর: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র রাধারাণী প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করা এক মহীয়সী বালিকা। তার চরিত্রের প্রধান দিকগুলি হলো:
- মাতৃভক্তি: রাধারাণীর বয়স মাত্র দশ-এগারো বছর হলেও অসুস্থ মায়ের পথ্যের জোগাড় করতে সে রথের মেলায় মালা বিক্রি করতে যায়। শৈশবের আমোদ-প্রমোদের চেয়ে মায়ের সেবাই তার কাছে অগ্রাধিকার পেয়েছিল।
- সততা ও নীতিবোধ: চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও রাধারাণী অচেনা পথিকের দান গ্রহণ করতে চায়নি। সে পরিশ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্য অর্থটুকুই নিতে চেয়েছিল। এমনকি পথিকের ফেলে যাওয়া নোটটি সে খরচ না করে সযত্নে রেখে দিয়ে তার অসামান্য সততার পরিচয় দিয়েছে।
- ধৈর্য ও সাহস: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অন্ধকারে একলা মেলায় দাঁড়িয়ে থেকেও সে ভেঙে পড়েনি। অভাবের কাছে সে মাথানত না করে এক গভীর চারিত্রিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে।
৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৬.১ “কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু।” – স্বামীজি কোন্ কোন্ বিঘ্নের কথা বলেছেন আলোচনা করো। ৫
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর ‘চিঠি’ প্রবন্ধে মিস মার্গারেট নোবলকে (ভগিনী নিবেদিতা) ভারতে কাজ করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এখানকার প্রতিকূলতা বা বিঘ্নগুলি সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন। সেই বিঘ্নগুলি হলো:
১. জলবায়ু: ভারতের গ্রীষ্মকাল অত্যন্ত তীব্র এবং তা ইউরোপীয়দের কাছে অসহ্য হতে পারে।
২. দারিদ্র্য ও কুসংস্কার: ভারতের সাধারণ মানুষ চরম দারিদ্র্য ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। তাদের মধ্যে কাজ করা নিবেদিতার মতো শিক্ষিতা নারীর জন্য মানসিকভাবে কষ্টকর হতে পারে।
৩. বিদ্বেষ: এখানকার শ্বেতাঙ্গরা নিবেদিতাকে ঘৃণা করবে এবং ভারতীয়রা তাঁকে সন্দেহের চোখে দেখবে। বিশেষ করে জাতিভেদ প্রথা তাঁর কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
৪. জীবনযাত্রার ভিন্নতা: ভারতের সমাজ ও খাদ্যাভ্যাস ইউরোপের সম্পূর্ণ বিপরীত, যার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।
৬.২ “বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি...” – কোথায়? প্রাবন্ধিক কেন সেটিকে ‘বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি' বলেছেন ? ১+৪
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নবনব সৃষ্টি’ প্রবন্ধ অনুযায়ী বাঙালির পদাবলি সাহিত্য হলো বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি।
কারণ: প্রাবন্ধিকের মতে, পদাবলি সাহিত্যের প্রাণ এবং দেহ উভয়ই খাঁটি বাঙালির। যদিও বাঙালির ওপর সংস্কৃত বা অন্যান্য ভাষার প্রভাব ছিল, তবুও পদাবলি সাহিত্যের রস ও আবেগ একান্তই বাঙালির নিজস্ব সম্পদ। শ্রীচৈতন্যদেবের প্রভাবে বাঙালির মনে যে ভাবের জোয়ার এসেছিল, তার ফসলই হলো এই পদাবলি সাহিত্য। বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি, অধ্যাত্ম চিন্তা এবং সহজ-সরল প্রেম নিবেদনের ভঙ্গি এই সাহিত্যে যেভাবে সার্থকতা পেয়েছে, তা অন্য কোনো সৃষ্টিতে মেলেনি। তাই লেখক একে বাঙালির অনন্য ও শ্রেষ্ঠ কীর্তি বলেছেন।
৭। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৭.১ “পাখির চেয়ে আমার অনেক বেশি ইনটারেস্টিং মনে হলো জাদুকর ব্যক্তিটিকে।” - জাদুকর ব্যক্তির পরিচয় দাও। তাকে ইনটারেস্টিং মনে হওয়ার কারণ কী? ২+৩
উত্তর:
- পরিচয়: সত্যজিৎ রায়ের ‘কর্ভাস’ কাহিনীতে জাদুকর ব্যক্তিটি হলেন চিলিয়ান ম্যাজিশিয়ান আর্গাস। তিনি দীর্ঘদেহী, চোখে মাইনাস কুড়ি পাওয়ারের মোটা চশমা পরতেন এবং তাঁর পরনে থাকত এক অদ্ভুত রঙিন আলখাল্লা।
- কারণ: আর্গাসকে ইনটারেস্টিং বা কৌতুহলী মনে হওয়ার কারণ ছিল তাঁর রহস্যময় ব্যক্তিত্ব এবং অস্বাভাবিক আচরণ। তিনি প্রোফেসর শঙ্কুর অবিশ্বাস্য বুদ্ধিমান কাক ‘কর্ভাস’-কে দেখে বিস্মিত হওয়ার বদলে সেটির প্রতি চরম লোভ পোষণ করেন। একজন জাদুকর হয়েও বিজ্ঞানের এক অভাবনীয় সৃষ্টিকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করার মানসিকতা এবং তাঁর সেই অদ্ভুত চাহনি ও চালচলন শঙ্কুর কাছে অত্যন্ত রহস্যময় ও আকর্ষণীয় ঠেকেছিল।
৭.২ “কিন্তু কী অসামান্য তার বুদ্ধি!” – কার, কোন্ অসামান্য বুদ্ধির কথা এখানে বলা হয়েছে, তা লেখো। ১+৪
উত্তর: এখানে প্রোফেসর শঙ্কুর পোষা কাক কর্ভাস-এর অসামান্য বুদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
বুদ্ধির পরিচয়: কর্ভাস কেবল মানুষের কথা বুঝতে পারত না, সে মানুষের মতো পেন্সিল মুখে নিয়ে নিজের নাম ‘CORVUS’ লিখতে শিখেছিল। এছাড়া জাদুকর আর্গাস যখন তাকে অপহরণ করে গাড়িতে নিয়ে পালান, তখন কর্ভাস আক্রমণাত্মক না হয়ে অত্যন্ত শান্তভাবে সুযোগের অপেক্ষা করে। সে ছোঁ মেরে আর্গাসের চশমাটি কেড়ে নিয়ে তাকে কার্যত অন্ধ করে দেয়, যার ফলে আর্গাস গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন। এরপর কর্ভাস চাবি দিয়ে নিজের খাঁচা খুলে মুক্ত হয় এবং আর্গাসের চশমাটি উদ্ধার করে শঙ্কুর কাছে ফিরে আসে। এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে কর্ভাস কেবল একটি পাখি নয়, তার বুদ্ধি ছিল উন্নত স্তরের মানুষের মতো।
FAQ টেক্সট Jalpaiguri Zilla School Class 9 Bengali Solution
প্রশ্ন ১: জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলের নবম শ্রেণীর বাংলা দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের সিলেবাস কী?
উত্তর: এই পরীক্ষার প্রধান পাঠ্যসূচির মধ্যে রয়েছে ‘আকাশে সাতটি তারা’, ‘আবহমান’ কবিতা এবং ‘রাধারাণী’, ‘নবনব সৃষ্টি’ প্রবন্ধ। এছাড়াও প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়েরি থেকে ‘কর্ভাস’ এবং বাংলা ব্যাকরণের শব্দভাণ্ডার ও বিশেষ্য-বিশেষণ অংশ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
প্রশ্ন ২: নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় ‘কর্ভাস’ থেকে কী ধরনের বড় প্রশ্ন আসতে পারে?
উত্তর: সাধারণত জাদুকর আর্গাসের চরিত্র, কর্ভাসের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় এবং প্রোফেসর শঙ্কুর আবিষ্কার ‘অরনিথন’ যন্ত্রের গঠন নিয়ে ১৫০ শব্দের বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
প্রশ্ন ৩: রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রার সমাধান কি পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট?
উত্তর: রায় ও মার্টিন বা এই ধরণের প্রশ্ন বিচিত্রা অনুশীলনের জন্য চমৎকার। তবে পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য মূল পাঠ্যবইটি খুঁটিয়ে পড়া এবং আমাদের দেওয়া জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্কুলের প্রশ্নপত্র সমাধান করা একান্ত প্রয়োজন।
প্রশ্ন ৪: নবম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ অংশে কোন বিষয়গুলোতে বেশি জোর দেওয়া উচিত?
উত্তর: দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের জন্য তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দভাণ্ডার এবং বিশেষ্য, বিশেষণ ও সর্বনাম পদের শ্রেণিবিভাগ খুব ভালো করে তৈরি করা উচিত।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.