রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা 2025 class 9
Balurghat Girls' High School
রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা নবম শ্রেণীর বাংলা দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের অন্তর্গত Balurghat Girls' High School বালুরঘাট গার্লস হাই স্কুলের প্রশ্নপত্রের নির্ভুল ও উচ্চমানের সমাধান নিচে দেওয়া হলো:
১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো :
১.১ “তাহারা দরিদ্র, কিন্তু লোভী নহে।” - এ মন্তব্য কার?
উত্তর: (গ) লেখকের।
১.২ ‘সারাটা রাত ______ স্বপ্ন এঁকে রাখে।' — শূন্যস্থানে বসবে -
উত্তর: (খ) তারায় তারায়।
১.৩ ‘আকাশে সাতটি তারা' কবিতায় পক্তির সংখ্যা -
উত্তর: (খ) চোদ্দোটি। (এটি একটি শেক্সপীয়রীয় রীতির সনেট)
১.৪ চিলিয়ান জাদুকর আর্গাসের পাখির খেলায় হাঁস, কাকাতুয়া, পায়রা, মোরগ, সারসের সঙ্গে ছিল -
উত্তর: (গ) এক ঝাঁক হামিং বার্ড।
১.৫ ‘আইন’ ও ‘রিকশা' শব্দদুটি যথাক্রমে -
উত্তর: (গ) ফরাসি ও জাপানি। (দ্রষ্টব্য: ‘আইন’ শব্দটি মূলত ফারসি শব্দ থেকে আগত)
১.৬ প্রত্যয়ের কাজ হল -
উত্তর: (খ) নতুন পদ তৈরি করা। (অথবা ঘ - নতুন শব্দ তৈরি করা। ব্যাকরণগতভাবে প্রত্যয় ধাতু বা শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন নামপদ বা শব্দ গঠন করে)।
১.৭ “বিজয়ী সেনাদল রাজধানীতে ফিরছে।” – ‘সেনাদল' হল -
উত্তর: (গ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
১.৮ ‘মিনি' – এই ইংরেজি উপসর্গটি যে অর্থে ব্যবহৃত হয় -
উত্তর: (ক) ক্ষুদ্র অর্থে।
২। কমবেশি ১৫টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : Balurghat Girls High School
২.১ ‘আকাশে সাতটি তারা' কবিতায় কিশোরীর হাত ভিজে কেন?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের কবিতায় কিশোরী যখন তার ঘাস-মাখা হাত দিয়ে পুকুরের শীতল জল স্পর্শ করে, তখনই তার হাত ভিজে যায়।
২.২ শংকরদর্শনের ভাষা কেমন?
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের মতে, আচার্য শঙ্করের দর্শনের ভাষা অত্যন্ত গম্ভীর এবং সেখানে যুক্তির কোনো শেষ নেই।
২.৩ মিস ম্যাকলাউডের সম্পূর্ণ নাম কী?
উত্তর: মিস ম্যাকলাউডের সম্পূর্ণ নাম হলো মিস জোসেফাইন ম্যাকলাউড।
২.৪ রুঢ় বা রূঢ়ি শব্দ কাকে বলে, উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: যে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বা মূল অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে রূঢ় শব্দ বলে।
- উদাহরণ: ‘হস্তী’ (হস্ত + ইন্)। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘হাত আছে যার’, কিন্তু শব্দটি বিশেষ এক পশুকে বোঝায়।
২.৫ কৃৎ ও তদ্ধিত প্রত্যয়ের একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় ধাতুর সঙ্গে (যেমন: কৃ + তব্য = কর্তব্য), অন্যদিকে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয় শব্দের সঙ্গে (যেমন: ঢাকা + আই = ঢাকাই)।
২.৬ বাক্যে প্রয়োগ করে উদাহরণ দাও : অনুকার অব্যয়।
উত্তর: মেঘের গুড়গুড় শব্দে বুকটা কেঁপে উঠল। (এখানে ‘গুড়গুড়’ একটি অনুকার অব্যয়)।
২.৭ ভাববাচক বিশেষ্য কাকে বলে উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: যে বিশেষ্য পদের দ্বারা কোনো কাজের নাম বা ভাবের নাম প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
- উদাহরণ: আজ অনেকক্ষণ তোমার অপেক্ষা করলাম। (এখানে ‘অপেক্ষা’ হলো ভাববাচক বিশেষ্য)।
৩। কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও : Balurghat Girls High School
৩.১ ‘যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া, / লাউমাচাটার পাশে।' – পক্তিটি কবিতায় কতবার ব্যবহৃত হয়েছে? পক্তিটির একাধিকবার ব্যবহারের তাৎপর্য লেখো। ১+৪
উত্তর: কবি নিরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতায় আলোচ্য পক্তিটি মোট দু-বার ব্যবহৃত হয়েছে।
ব্যবহারের তাৎপর্য:
‘আবহমান’ কবিতার মূল সুর হলো শিকড়ের টান এবং চিরন্তন গ্রামবাংলার হার না মানা জীবনযাত্রা। এই পক্তিটির একাধিকবার ব্যবহারের মাধ্যমে কবি নিম্নলিখিত বিষয়গুলি ফুটিয়ে তুলেছেন:
- শিকড়ের আবাহন: মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে বা আধুনিকতার টানে শহরবাসী হলেও, তার অন্তরের শান্তি লুকিয়ে থাকে সেই আদিম গ্রাম্য পরিবেশে। পক্তিটি বারবার ব্যবহার করে কবি মানুষকে সেই ফেলে আসা উঠান ও লাউমাচার কাছে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
- স্মৃতি ও মায়া: লাউমাচা এখানে কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, এটি হলো গ্রামবাংলার অতি সাধারণ কিন্তু গভীর মায়ার প্রতীক। বারবার এই চিত্রকল্পটি ব্যবহারের মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, সময়ের পরিবর্তন হলেও গ্রাম্য জীবনের এই সহজ দৃশ্যপটটি আজও অমলিন।
- অবিরাম ধারা: কবিতার গঠনগত ঐক্যের পাশাপাশি এটি বোঝায় যে, মানুষের আসা-যাওয়ার খেলা চললেও প্রকৃতি ও তার শান্ত রূপটি ‘আবহমান’ কাল ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। এটি এক চিরন্তন সত্যকে প্রতিষ্ঠা করে।
৩.২ ‘আকাশে সাতটি তারা' কবিতায় প্রথম স্তবকে গ্রামবাংলার সন্ধ্যার যে ছবি ফুটে উঠেছে, তা কবিতা অবলম্বনে লেখো। ৫
উত্তর: রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতার প্রথম স্তবকে অত্যন্ত নিপুণভাবে বাংলার গোধূলি বেলার এক মায়াবী রূপ অঙ্কন করেছেন।
চিত্রায়িত বর্ণনা:
সূর্যাস্তের সময় যখন আকাশে সাতটি তারা (সপ্তর্ষি মণ্ডল) ফুটে ওঠে, তখন কবি দেখেন কামরাঙা লাল মেঘ সাগরের ঢেউয়ে ডুবে যাচ্ছে। কবি এই সূর্যাস্তের উপমা দিয়েছেন এক ‘মৃত মনিয়া’ পাখির সাথে। সূর্যের শেষ আভা মুছে যাওয়ার পর কবি অনুভব করেন যে, বাংলার নীল সন্ধ্যা এক কেশবতী কন্যার মতো নেমে আসছে। সেই কন্যার চুলের স্পর্শ যেন কবির চোখে-মুখে লাগে। পৃথিবীর আর কোথাও এমন অপরূপ সন্ধ্যার দেখা মেলা ভার। কবির কল্পনায় সেই রূপসী কন্যার ছড়িয়ে পড়া চুলের মায়াবী অন্ধকার যেন হিজল, কাঁঠাল বা জাম গাছের ডালে ঝরে পড়ছে এবং প্রকৃতিকে এক স্নিগ্ধ শান্তিতে ভরিয়ে দিচ্ছে। এই বর্ণনায় সন্ধ্যা কেবল একটি সময় নয়, বরং এক জীবন্ত নারীমূর্তি হয়ে ধরা দিয়েছে।
৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও :
৪.১ ‘মোকদ্দমাটি বিধবা হাইকোর্টে হারিল।' উক্তিটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে? কোন্ মোকদ্দমার কথা বলা হয়েছে? মোকদ্দমাটি হারায় বিধবার কী পরিণতি হয়েছিল? ১+১+৪
উত্তর:
- উৎস: উক্তিটি সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- মোকদ্দমা: জনৈক জ্ঞাতির সঙ্গে রাধারাণীর মা ও তাঁর মৃত স্বামীর বিষয়সম্পত্তি নিয়ে যে মামলাটি চলেছিল, এখানে সেই মোকদ্দমার কথা বলা হয়েছে।
- পরিণতি: মোকদ্দমাটি হাইকোর্টে হেরে যাওয়ার ফলে বিধবার জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। ১. সর্বস্বান্ত হওয়া: রাধারাণীর মা ডিক্রিজারি করে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি হারান। প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি জ্ঞাতির দখলে চলে যায়। ২. গৃহহীনতা: নিজের বসতবাড়ি থেকেও তাঁদের উচ্ছেদ হতে হয়। ৩. আর্থিক দৈন্য: খরচপত্র চালানোর জন্য অবশিষ্ট গয়নাগাটি বিক্রি করেও তাঁদের অর্থাভাব মেটে না। শেষ পর্যন্ত তাঁদের এক কুটিরে আশ্রয় নিতে হয়। ৪. অনাহার: রাধারাণীর মা অন্যের বাড়িতে পরিশ্রম করে জীবনধারণের চেষ্টা করলেও, শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেই পথও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মা ও মেয়ের জীবন অনাহারে ও চরম কষ্টে কাটে।
৪.২ ‘রাধারাণী' গল্পানুসারে রাধারাণী চরিত্রের পরিচয় দাও। ৫
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র রাধারাণী হলো এক ধৈর্যশীল, কর্তব্যপরায়ণ এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বালিকা। তার চরিত্রের প্রধান দিকগুলি হলো:
- মাতৃভক্তি: রাধারাণীর বয়স মাত্র দশ-এগারো বছর হলেও মায়ের প্রতি তার ভালোবাসা অতুলনীয়। রথ দেখতে যাওয়ার চেয়েও অসুস্থ মায়ের পথের (পথ্য) জোগাড় করতে মালা গেঁথে মেলায় বিক্রি করতে যাওয়াই তার কাছে বড় ছিল।
- ধৈর্য ও সহনশীলতা: চরম দারিদ্র্য, অন্ধকার বৃষ্টিভেজা মেলায় একা থাকা এবং মালা বিক্রি না হওয়ায় তার কান্না—সবকিছুর মধ্যেও সে ভেঙে পড়েনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে সে লড়াই করেছে।
- সততা ও নীতিবোধ: অচেনা পথিক যখন তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এবং তার মালার দাম বেশি দিতে চান, তখন রাধারাণী তা গ্রহণে দ্বিধা প্রকাশ করে। সে দান নয়, বরং পারিশ্রমিক হিসেবে প্রাপ্ত অর্থটুকুই শুধু নিতে চেয়েছিল। এমনকি পথিকের ফেলে যাওয়া নোটটি সে খরচ না করে যত্ন করে রেখে দিয়েছিল।
- সরলতা: কিশোরীসুলভ সারল্য ও গভীর বুদ্ধিমত্তার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায় তার চরিত্রে। অপরিচিত মানুষের দয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকলেও নিজের মর্যাদা রক্ষায় সে ছিল অটল।
পরিশেষে বলা যায়, রাধারাণী চরিত্রটি অভাবের মধ্যেও চারিত্রিক দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
৫। কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও :
৫.১ 'মরদ কি বাত হাতি কা দাঁত' - বক্তা কে? কাকে, কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি করেছেন? উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। ১+১+৩
উত্তর:
- বক্তা: স্বামী বিবেকানন্দের লেখা ‘চিঠি’ প্রবন্ধের অন্তর্গত আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন খোদ স্বামী বিবেকানন্দ।
- উদ্দেশ্য: তিনি তাঁর শিষ্যা মিস মার্গারেট নোবলকে (ভগিনী নিবেদিতা) এই উক্তিটি করেছেন।
- প্রসঙ্গ: মিস নোবল যখন ভারতের নারীকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন বিবেকানন্দ তাঁকে এদেশের কঠোর দারিদ্র্য, কুসংস্কার এবং প্রতিকূলতা সম্পর্কে সতর্ক করেন। কিন্তু তিনি এও জানতেন যে নিবেদিতা একবার সিদ্ধান্ত নিলে তা থেকে বিচ্যুত হবেন না। এই দৃঢ় সংকল্পকে সমর্থন জানিয়েই উক্তিটি করা হয়েছে।
- ব্যাখ্যা: ‘মরদ কি বাত হাতি কা দাঁত’ একটি প্রচলিত প্রবাদ। হাতির দাঁত যেমন একবার মুখ থেকে বের হলে তা আর ভেতরে ঢোকে না, তেমনি প্রকৃত মানুষের (মরদ) কথাও একবার মুখ থেকে বের হলে তা নড়চড় হয় না। বিবেকানন্দ বোঝাতে চেয়েছেন যে, নিবেদিতা যদি একবার ভারতকে সেবা করার কথা দিয়ে থাকেন, তবে তিনি কোনো বাধাতেই পিছপা হবেন না। তাঁর সংকল্প হাতির দাঁতের মতোই অটল ও দৃঢ়।
৫.২ বাংলায় সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষার চর্চা এখনও প্রয়োজন বলে লেখক মনে করেছেন কেন? ৫
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর ‘নবনব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের অনুপ্রবেশ এবং শুদ্ধ ভাষা চর্চার প্রাসঙ্গিকতা আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে সংস্কৃত ও ইংরেজি চর্চা অপরিহার্য কারণ:
- সংস্কৃতের গুরুত্ব: বাংলা ভাষার মূল ভিত্তি হলো সংস্কৃত। বহু প্রাচীন এবং তৎসম শব্দ আজও বাংলায় সগৌরবে বর্তমান। নতুন কোনো ভাবনা বা পরিভাষা সৃষ্টি করতে গেলে আজও আমাদের সংস্কৃতের স্মরণাপন্ন হতে হয়। লেখক মনে করেন, সংস্কৃত চর্চা বন্ধ হলে বাংলা তার আভিজাত্য ও শব্দভাণ্ডারের গভীরতা হারাবে।
- ইংরেজির প্রয়োজনীয়তা: আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন এবং বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে সংযোগ রক্ষার প্রধান মাধ্যম হলো ইংরেজি। ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে আমরা বহির্বিশ্বের প্রগতিশীল চিন্তাধারার স্বাদ পাই। এছাড়া, বর্তমান যুগে ইংরেজি চর্চা ছাড়া উচ্চশিক্ষা ও বৈশ্বিক যোগাযোগ অসম্ভব।
- ঐতিহ্য রক্ষা: এই দুই ভাষা চর্চার মাধ্যমেই বাংলা ভাষা নিজেকে সমৃদ্ধ করেছে। তাই ভাষার গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নিজস্ব ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে এই দুই ভাষার চর্চা আজও সমানভাবে প্রয়োজন।
৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও :
৬.১ ‘ওই পাখি আমার চাই প্রোফেসর’ - বক্তা কে? কোন্ প্রসঙ্গে তাঁর এই উক্তি? শেষপর্যন্ত তিনি কী করেছিলেন? ১+১+৩
উত্তর:
- বক্তা: সত্যজিৎ রায়ের ‘কর্ভাস’ গল্পের বক্তা হলেন চিলিয়ান জাদুকর আর্গাস।
- প্রসঙ্গ: সান্টিয়াগোতে আয়োজিত পক্ষীবিজ্ঞানীদের সম্মেলনে প্রোফেসর শঙ্কু তাঁর আশ্চর্য বুদ্ধিমান কাক ‘কর্ভাস’-এর প্রতিভা প্রদর্শন করেন। কর্ভাসের অভাবনীয় বুদ্ধিমত্তা দেখে জাদুকর আর্গাস বিস্মিত ও লোভী হয়ে পড়েন। তিনি তাঁর নিজের জাদুখেলার প্রদর্শনীতে কর্ভাসকে ব্যবহার করতে চান, তাই শঙ্কুর কাছে পাখিটিকে কেনার প্রস্তাব দিয়ে এই উক্তিটি করেন।
- শেষ পরিণতি: প্রোফেসর শঙ্কু তাঁর প্রিয় শিষ্য কর্ভাসকে বিক্রি করতে অস্বীকার করলে আর্গাস অসদুপায় অবলম্বন করেন। তিনি রাতের অন্ধকারে প্রোফেসরের হোটেল থেকে কর্ভাসকে চুরি করে নিয়ে পালান। তবে শেষ পর্যন্ত কর্ভাস নিজেই নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে আর্গাসকে জব্দ করে এবং প্রোফেসরের কাছে ফিরে আসে। আর্গাসের চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
৬.২ কর্ভাসের মানবসুলভ বুদ্ধির পরিচয় কোন্ কোন্ ঘটনায় পাওয়া যায় লেখো। ৫
উত্তর: ‘কর্ভাস’ গল্পে প্রোফেসর শঙ্কুর প্রিয় পোষ্য কাক কর্ভাসের মধ্যে অভাবনীয় মানবসুলভ বুদ্ধির পরিচয় মেলে। ঘটনাগুলি হলো:
- শেখার ক্ষমতা: সাধারণ পাখির মতো না হয়ে কর্ভাস মানুষের মতো পেন্সিল দিয়ে ইংরেজি সংখ্যা ও অক্ষর লিখতে শেখে। সে গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে পারে।
- নির্দেশ পালন: প্রোফেসর যখন তাকে ইংরেজি ‘Prime Number’ বা ‘The name of a scientist’ লিখতে বলেন, সে নির্ভুলভাবে তা লেখে।
- পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলবোধ: কর্ভাস চামচ দিয়ে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করে এবং অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করে। সে আয়নায় নিজের প্রতিফলন দেখে মানুষের মতোই কৌতুহলী হয়।
- বিপদ মোকাবিলা: জাদুকর আর্গাস যখন তাকে অপহরণ করেন, তখন কর্ভাস মাথা ঠান্ডা রেখে সুযোগ বুঝে আর্গাসের চশমা ছিনিয়ে নেয় এবং তাঁকে বিভ্রান্ত করে নিজের মুক্তি নিশ্চিত করে।
- যন্ত্রের ব্যবহার: সে ইলেকট্রিক টাইপরাইটারে টাইপ করতে শেখে এবং নিজের নাম ‘CORVUS’ লিখতে পারে।
এই সমস্ত ঘটনা প্রমাণ করে যে কর্ভাস কেবল একটি পাখি ছিল না, তার মেধা ও আচরণ ছিল অনেকটা উন্নত মানুষের মতো।
৭.১ ভাবার্থ লেখো :
মূল অংশ: ‘পরকে আপন করিতে প্রতিভার প্রয়োজন... ভারতবর্ষ কিছুই ত্যাগ করে নাই এবং গ্রহণ করিয়া সকলই আপনার করিয়াছে।'
ভাবার্থ:
প্রকৃত প্রতিভা ও মহত্ত্বের লক্ষণ হলো সংকীর্ণতা বর্জন করে পরকে আপন করে নেওয়া। ভারতবর্ষ চিরকালই এই উদার আধ্যাত্মিক চেতনার পরিচয় দিয়ে এসেছে। ভারতের সংস্কৃতি কেবল নিজের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও আপাতদৃষ্টিতে ‘বীভৎস’ প্রথাগুলিকেও আপন করে নিয়ে তার মধ্যে নিজস্ব উন্নত ভাবধারা সঞ্চার করেছে। বর্জন নয়, বরং গ্রহণের মাধ্যমেই ভারতবর্ষ এক বৈচিত্র্যময় ও অখণ্ড মহামিলনের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। অন্যের সম্পদকে নিজের করে নেওয়ার এই যে অসংকোচ ক্ষমতা, এটাই হলো ভারতীয় প্রতিভার মূল ভিত্তি।
৭.২ সারাংশ লেখো :
মূল কবিতা: ‘জলহারা মেঘখানি বরষার শেষে... তোমার পূর্ণতা সে তো আমারি গৌরব।’
সারাংশ:
বর্ষা শেষে রিক্ত ও নিঃস্ব মেঘকে দেখে জলপূর্ণ সরোবর উপহাস করে নিজের স্থায়িত্ব ও গাম্ভীর্যের বড়াই করে। কিন্তু দাম্ভিক সরোবর এটা ভুলে যায় যে, তার এই জলরাশি মেঘেরই আত্মত্যাগের ফসল। আসলে পরের উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। অন্যের দানে পুষ্ট হয়ে অহংকার করা সাজে না, কারণ দাতার ত্যাগই গ্রহীতার পূর্ণতার উৎস।
আপনার জন্য একটি বিশেষ টিপস:
ভাবার্থ বা সারাংশ লেখার সময় মনে রাখবেন:
- মূল ভাবটি সহজ সরল ভাষায় লিখতে হবে।
- আমি, তুমি বা কবি—এই জাতীয় শব্দ ব্যবহার না করাই ভালো।
- লেখার আয়তন মূল অংশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হওয়া উচিত।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.