Santipur Municipal High School HS রায় ও মারটিন প্রশ্ন বিচিত্রা প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের উত্তর বাংলা নবম শ্রেণী

 

Santipur Municipal High School HS রায় ও মারটিন প্রশ্ন বিচিত্রা প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের উত্তর বাংলা নবম শ্রেণী 


7 Santipur Municipal High School (HS)

santipur-municipal-high-school-hs


Santipur Municipal High School HS 'শান্তিপুর মিউনিসিপাল হাই স্কুল (HS)'-এর প্রশ্নপত্রের নির্ভুল ও বিস্তারিত সমাধান নিচে দেওয়া হলো:

​১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : Santipur Municipal High School HS

১.১ কে ‘অম্বিকামঙ্গল' গান রচনা করেন?

(ক) মঙ্গলকাব্যের কবি, (খ) চণ্ডীদাস, (গ) শ্রীকবিকঙ্কণ, (ঘ) বীর হনুমান।

উত্তর: (গ) শ্রীকবিকঙ্কণ (মুকুন্দরাম চক্রবর্তী)।

১.২ ‘বন্ধুগণ হাসবেন না।' একথা বলেছে –

(ক) ইলিয়াস, (খ) শাম-শেমাগি, (গ) মহম্মদ শা, (ঘ) মহম্মদ শার জনৈক আত্মীয়।

উত্তর: (ক) ইলিয়াস।

১.৩ ‘শুনুন মহাশয়, এরকম বলবেন না।' কোন্ প্রসঙ্গে বক্তার এই উক্তি? –

(ক) রাজ শ্যালক দড়ি দিয়ে বাঁধতে হুকুম করেছিল বলে, (খ) রাজ শ্যালক জীবিকা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিল বলে, (গ) রাজ শ্যালক ধীবরকে চোর বলেছিল বলে, (ঘ) রাজ শ্যালক গালি দিচ্ছিল বলে।

উত্তর: (খ) রাজ শ্যালক জীবিকা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিল বলে।

১.৪ বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা—

(ক) ছয়টি, (খ) সাতটি, (গ) আটটি, (ঘ) চারটি।

উত্তর: (খ) সাতটি।

১.৫ 'চলত্তিকা' হল –

(ক) কাব্য, (খ) অভিধান, (গ) উপন্যাস, (ঘ) ডায়রি।

উত্তর: (খ) অভিধান (রাজশেখর বসুর সংকলিত)।

১.৬ শ্লোক > শোলোক এক্ষেত্রে ঘটেছে —

(ক) আদিস্বরলোপ, (খ) আদিস্বরাগম, (গ) মধ্যস্বরাগম, (ঘ) মধ্যব্যঞ্জনাগম।

উত্তর: (গ) মধ্যস্বরাগম (একে স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষও বলে)।

১.৭ ‘অতএব আমি ভাবলুম, তা হলে নির্ভয়ে লিখতে পারি।' - বক্তার এমন বক্তব্যের কারণ –

(ক) তার লেখা এর আগে প্রশংসা পেয়েছিল (খ) নিজের লেখার প্রতি তার অগাধ ভরসা ছিল, (গ) সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণেরা এক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিলেন, (ঘ) পত্রিকার সম্পাদক আশ্বাস দিয়েছিলেন।

উত্তর: (গ) সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণেরা এক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিলেন।

১.৮ দন্ত্য বর্ণগুলি হল—

(ক) ক্ খ্, (খ) প্ ফ, (গ) ত্ থ্, (ঘ) ট্ জ্।

উত্তর: (গ) ত্ থ্।

​২। কমবেশি ১৫টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : Santipur Municipal High School HS

২.১ 'অষ্ট গজরাজ' বলতে কী বোঝো?

উত্তর: পুরাণ মতে পৃথিবীর আটটি দিক রক্ষা করছে আটটি হাতি— ঐরাবত, পুণ্ডরীক, বামন, কুমুদ, অঞ্জন, পুষ্পদন্ত, সার্বভৌম ও প্রতীক। এদেরই 'অষ্ট গজরাজ' বলা হয়।

২.২ ইলিয়াসের সম্পত্তির শ্রীবৃদ্ধি ঘটল কীভাবে?

উত্তর: ইলিয়াস ও তার স্ত্রী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করার ফলে ৩৫ বছরের মাথায় ইলিয়াসের সম্পত্তির ব্যাপক শ্রীবৃদ্ধি ঘটে।

২.৩ রাজ শ্যালক রাজবাড়ি থেকে ফিরে এসে রক্ষীদের কী নির্দেশ দিয়েছিলেন?

উত্তর: রাজ শ্যালক নির্দেশ দিয়েছিলেন যে ধীবরকে ছেড়ে দেওয়া হোক এবং তাকে আংটির মূল্যের সমান পারিতোষিক দেওয়া হোক।

২.৪ বিধুশেখর কার লেখা, কোন্ গান গাইছিল?

উত্তর: বিধুশেখর গোবিন্দদাসের পদাবলী— "ভজহুঁ রে মন শ্রী নন্দনন্দন..." গানটি গাইছিল।

২.৫ প্লুতস্বর কাকে বলে?

উত্তর: দূর থেকে কাউকে ডাকলে বা গান করার সময় কোনো স্বরধ্বনিকে দীর্ঘ টেনে উচ্চারণ করা হলে তাকে প্লুতস্বর বলে।

২.৬ অপিনিহিতি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: শব্দের মধ্যে থাকা 'ই' বা 'উ' কার যথাস্থানে উচ্চারিত না হয়ে আগে উচ্চারিত হওয়ার রীতিকে অপিনিহিতি বলে। যেমন: করিয়া > কইর্যা।

২.৭ ‘মনে এল মাস্টারমশাইয়ের কথা।' - কখন এমনটি ঘটেছে?

উত্তর: ‘দাম’ গল্পে কথক সুকুমার যখন বাংলাদেশের এক প্রান্তিক হাইস্কুলে আমন্ত্রিত হয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন মাস্টারমশাইয়ের কথা তাঁর মনে পড়ে।

২.৮ পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিবের দুই পাশ দিয়ে শ্বাসবায়ু নির্গত হয়, তাকে পার্শ্বিক ধ্বনি বলে। যেমন: 'ল'।

​৩। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও :

৩.১ 'প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।' প্রজারা বিষণ্ণ কেন?

উত্তর: কলিঙ্গদেশে দেবী চণ্ডীর মায়ায় হঠাৎ অন্ধকার নেমে আসে এবং মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। সেই সঙ্গে মেঘের গম্ভীর গর্জন, প্রবল ঝড় ও বজ্রপাতে প্রজারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। মাঠের শস্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং ঘরের চাল ফুটো করে তালের মতো শিলা পড়ায় নিজেদের প্রাণ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা ভেবে প্রজারা বিষণ্ণ হয়ে পড়েছিল।

৩.২ “তারপর ভাঁটার শোষণ” – 'ভাঁটার শোষণ'-এর আক্ষরিক ও অন্তর্নিহিত অর্থ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: * আক্ষরিক অর্থ: জোয়ারের পর সমুদ্রের জল যখন তীরের দিক থেকে নেমে যায় এবং তীরের আবর্জনা বা সঞ্চিত অংশ টেনে নিয়ে যায়, তাকেই ভাঁটার শোষণ বলে।

  • অন্তর্নিহিত অর্থ: কবির আকাঙ্ক্ষা ও জীবনের প্রবল আবেগ জোয়ারের মতো ফুলে উঠলেও বাস্তব জীবনের জটিলতা ও বার্ধক্যের ক্লান্তি সেই আবেগকে ভাঁটার মতো শুষে নিয়ে যায়। জীবন যখন স্তিমিত হয়ে আসে, তখন সমস্ত স্বপ্ন বা কর্মক্ষমতা ক্রমশ ফিকে হতে থাকে।

​৪। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :Santipur Municipal High School HS

৪.১ ধনী ইলিয়াস কীভাবে বিত্তহীন হয়ে পড়ে?

উত্তর: ইলিয়াসের বিত্তহীন হওয়ার পেছনে একাধিক দুর্ভাগ্য দায়ী ছিল। তার অবাধ্য ছোট ছেলেকে সম্পত্তির ভাগ দেওয়া, ভেড়ার পালে মড়ক লাগা, দুর্ভিক্ষের কারণে খাদ্যাভাবে বহু গবাদি পশুর মৃত্যু এবং সবশেষে দুর্ধর্ষ কিরগিজদের হানা দিয়ে তার ভালো ঘোড়াগুলি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ফলে ধনী ইলিয়াস বৃদ্ধ বয়সে সম্পূর্ণ বিত্তহীন হয়ে পড়ে।

৪.২ বৃদ্ধ মাস্টারমশাইয়ের কথা শুনে শেষপর্যন্ত কথকের কী মনে হয়েছিল?

উত্তর: সুকুমার যখন দেখেন যে বৃদ্ধ মাস্টারমশাই তাঁর সাধারণ একটি লেখাকে যত্ন করে আগলে রেখেছেন এবং তাঁর সমালোচনাকেও স্নেহের আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তখন সুকুমারের আত্মগ্লানি শুরু হয়। তাঁর মনে হয় অংকের মাধ্যমে যে মাস্টারমশাই তাঁকে মানুষ করতে চেয়েছিলেন, তাঁর কাছে সুকুমার ছাত্র হিসেবে বড়ই ক্ষুদ্র। মাস্টারমশাইয়ের অসীম ক্ষমার কাছে সুকুমার নিজেকে ঋণী মনে করেন।

​৫। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :

৫.১ শকুগুলার হাতে থাকা রাজার আংটি কীভাবে ধীবরের হস্তগত হয়?

উত্তর: শকুন্তলা যখন শচীতীর্থে অঞ্জলি দিচ্ছিলেন, তখন অসাবধানতাবশত তাঁর হাতের আংটিটি জলে পড়ে যায়। সেই আংটিটি একটি রুই মাছ গিলে ফেলে। পরে যখন সেই ধীবর মাছটি ধরে এবং কাটে, তখন মাছের পেটের ভেতরে সে রত্নখচিত আংটিটি পায়। এভাবেই আংটিটি ধীবরের হস্তগত হয়।

৫.২ 'মুহূর্তের জন্য রাজা বিহ্বলভাবে চেয়ে রইলেন।' - রাজার বিহ্বল হওয়ার কারণ কী?

উত্তর: ধীবরের কাছ থেকে পাওয়া রত্নখচিত আংটিটি যখন রাজার সামনে আনা হয়, তখন সেটি দেখে রাজার মনে পড়ে যায় তাঁর প্রিয়তমা শকুন্তলার কথা। শাপের প্রভাবে তিনি যা ভুলে গিয়েছিলেন, আংটিটি দেখার পর সেই পুরনো স্মৃতিগুলি ফিরে আসায় এবং নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনায় রাজা কিছুক্ষণের জন্য বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন।

​৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :

৬.১ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কাব্যাংশে যে প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে তার বিবরণ দাও।

উত্তর: কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কলিঙ্গবাসীর ওপর নেমে আসা ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জীবন্ত বর্ণনা দিয়েছেন। দেবী চণ্ডীর আদেশে হঠাৎ ঈশান কোণে কালো মেঘ জমা হয় এবং নিমেষের মধ্যে ঘন অন্ধকারে ঢেকে যায় চারিদিক। প্রবল মেঘের গর্জনের সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। কলিঙ্গবাসী কেউ নিজের শরীর পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিল না।

​সাত দিন ধরে নিরন্তর বৃষ্টিতে মাঠের শস্য সব নষ্ট হয়ে যায়। প্রবল ঝড়ে ঘরবাড়ি সব ধুলোয় ঢেকে যায়। মেঘের বিদ্যুৎ বা চিকুরের ঝিলিক আর তালের মতো বড় বড় শিলাঘরের চাল ফুটো করে দিতে থাকে। সাপেরা বাসস্থান হারিয়ে জলের ওপর ভাসতে থাকে। দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান যেন মঠ ও অট্টালিকা ধ্বংস করে ফেলেন। প্রজারা প্রাণভয়ে বিপদমুক্ত হতে ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে শুরু করে।

৬.২ 'যতদিন ধনী ছিলাম, কখনও সুখ পাইনি।' – ধনী অবস্থায় ইলিয়াসের সংসারে সুখ ছিল না কেন? দুঃখের জীবন থেকে বুড়োবুড়ি কীভাবে সুখের জীবন লাভ করল?

উত্তর:

  • ধনী অবস্থায় অসুখ: ধনী থাকাকালীন ইলিয়াস দম্পতির একদিনের জন্যও মানসিক শান্তি ছিল না। তাদের দুশ্চিন্তা ছিল— যাতে সম্পত্তি নষ্ট না হয়, পশুপালন যাতে ঠিকঠাক চলে, নেকড়ে যাতে ঘোড়া না নিয়ে যায়। তা ছাড়া বাড়িতে আসা অতিথিদের সেবা করার চিন্তায় তারা অস্থির থাকত। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মন খুলে গল্প করার সময় পর্যন্ত ছিল না। এই প্রাচুর্য তাদের ঈশ্বরের উপাসনা করার সুযোগ কেড়ে নিয়েছিল।
  • সুখ লাভ: সম্পত্তি হারিয়ে মহম্মদ শাহের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার পর তাদের জীবনে প্রকৃত সুখ আসে। এখন তাদের হারানোর কোনো ভয় নেই, সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের চিন্তা নেই। তারা এখন শান্তিতে ভগবানের আরাধনা করতে পারে এবং স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সঙ্গে শান্তিতে কথা বলতে পারে। এই অভাবের মাঝেই তারা হৃদয়ের প্রশান্তি বা প্রকৃত সুখ খুঁজে পেয়েছে।

​৭। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :

৭.১ প্রোফেসর শঙ্কুর পরিচারক প্রহ্লাদ-এর যে পরিচয় ডায়রি থেকে পাওয়া যায় তা উল্লেখ করো।

উত্তর: সত্যজিৎ রায়ের ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়রি’ গল্পে প্রহ্লাদ হলো প্রোফেসর শঙ্কুর দীর্ঘ ২৭ বছরের বিশ্বস্ত পরিচারক। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

১. সরলতা ও ভক্তি: প্রহ্লাদ ছিল অত্যন্ত সহজ-সরল এবং কিছুটা বোকা প্রকৃতির মানুষ। সে শঙ্কুর বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড না বুঝলেও তাঁর প্রতি চরম অনুরক্ত ছিল।

২. সহনশীলতা: প্রহ্লাদ অনেক কষ্ট সইতে পারত। একবার রকেটের ভেতর মাইনাস কুড়ি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও সে টু শব্দটি করেনি।

৩. বীরত্ব ও সাহসিকতা: শঙ্কু যখন তাকে মঙ্গল অভিযানে তাঁর সঙ্গে নিয়ে যান, সেখানে সে সাহসিকতার পরিচয় দেয়। মঙ্গলগ্রহে যখন অতিকায় জানোয়ার তাঁদের তাড়া করে, তখন সে সাহসের সঙ্গেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে।

৪. রামায়ণ ভক্তি: সে সারাক্ষণ রামায়ণ পাঠ করত এবং তার আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ছিল অটুট। মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার সময়ও তার পকেটে রামায়ণ ছিল।

৭.২ 'টাফা' কী? 'টাফা'-র প্রকৃতি এবং প্রাণীদের সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তর: * টাফা: টাফা হলো মঙ্গলগ্রহের একটি ক্ষুদ্র উপগ্রহ বা অ্যাস্টেরয়েড। মহাকাশ ভ্রমণের পথে বিপদগ্রস্ত শঙ্কু ও তাঁর সঙ্গীরা এই নিরাপদ আশ্রয়ে অবতরণ করেছিলেন।

  • প্রকৃতি: টাফার পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত, স্নিগ্ধ এবং সুন্দর। সেখানকার আকাশ গাঢ় নীল এবং বাতাস অত্যন্ত সতেজ। এখানকার গাছপালাগুলো অনেকটা নীল রঙের ফার্ন বা শ্যাওলার মতো বড় বড়। টাফার দৃশ্য অনেকটা ছবির মতো সুন্দর এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।
  • প্রাণী: টাফার বাসিন্দারা দেখতে অনেকটা পৃথিবীর মানুষের মতো হলেও দৈহিক গঠন ছিল অদ্ভুত। তাদের মাথাগুলো শরীরের তুলনায় অনেক বড়, কোনো চুল ছিল না এবং তাদের চোখগুলো ছিল মাছের চোখের মতো স্বচ্ছ ও স্থির। তারা কথা বলত না, কিন্তু অত্যন্ত দয়ালু এবং উন্নত হৃদয়ের অধিকারী ছিল। তারা শঙ্কু ও তাঁর সঙ্গীদের বিপদে পরম আদর ও ফলমূল দিয়ে আপ্যায়ন করেছিল।

​৮। কমবেশি ১২৫ শব্দে ভাবসম্প্রসারণ করো :

৮.১ জীবে প্রেম করে যেই জন, / সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।

মূলভাব: জীবসেবার মধ্যেই ঈশ্বরের প্রকৃত উপাসনা নিহিত। সৃষ্টির সেবা করলেই তার স্রষ্টাকে পাওয়া যায়।

সম্প্রসারিত ভাব: মানুষ ঈশ্বরকে খোঁজে মন্দিরে, মসজিদে বা গির্জায়। তারা মনে করে আড়ম্বরপূর্ণ পূজা বা প্রার্থনাই ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর একমাত্র পথ। কিন্তু ঈশ্বর স্বয়ং তাঁর সৃষ্টির প্রতিটি অণু-পরমাণুতে বিরাজমান। স্বামী বিবেকানন্দ এই সত্যকেই বড় করে দেখেছেন। ক্ষুধার্তকে অন্নদান, আর্তের চোখের জল মোছানো বা পীড়িতের সেবা করার মাধ্যমে যে শান্তি ও পুণ্য অর্জিত হয়, তা হাজার বছরের তপশ্চর্যাতেও সম্ভব নয়। আর্তনাদ করা কোনো জীবের সেবা না করে পাথরের বিগ্রহকে পূজা করলে ঈশ্বর কখনও তুষ্ট হন না। তাই জীবকে ভালোবাসা মানেই ঈশ্বরকে ভালোবাসা।

৮.২ পুষ্প আপনার জন্যে ফোটে না, / পরের জন্য তোমার হৃদয় - কুসুমকে প্রস্ফুটিত করিও।

মূলভাব: পরোপকারই মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ ধর্ম। স্বার্থপরতা নয়, বরং ত্যাগের মাধ্যমেই জীবনের সার্থকতা।

সম্প্রসারিত ভাব: প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের দিকে তাকালে দেখা যায় তারা পরের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছে। ফুল ফোটে তার সৌন্দর্য ও সুগন্ধ দিয়ে অন্যের মন জয় করার জন্য, নিজে সেই সৌন্দর্য উপভোগ করে না। নদী নিজের জল নিজে পান করে না, গাছ তার নিজের ফল নিজে খায় না। তেমনি মানুষের জীবনও স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়। মানুষের উচিত তার হৃদয়ের দয়া, মমতা এবং ভালোবাসাকে পরের হিতে বিলিয়ে দেওয়া। কেবল নিজের জন্য বাঁচাই হলো পশুর মতো জীবনযাপন করা। মানুষের হৃদয় যদি অন্যের দুঃখে না কাঁদে, তবে সেই হৃদয়ের কোনো মূল্য নেই। তাই পরের উপকারে নিজেকে উৎসর্গ করার মাধ্যমেই মানুষ অমরত্ব লাভ করে।

​ব্যক্তিগত পরামর্শ:

​নবম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে হলে ব্যাকরণ (ধ্বনি পরিবর্তন ও স্বরধ্বনি) এবং টেক্সট বুকের ছোট ছোট ডিটেইলস (যেমন—অষ্ট গজরাজের নাম, টাফার পরিবেশ) ভালো করে আয়ত্ত করবে। ভাবসম্প্রসারণ লেখার সময় মূল কথাটি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ