বহুরূপী গল্পের নোটস বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর


 বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর ও বড় নোটস - মাধ্যমিক ও দশম  শ্রেণী ২০২৬ | সুবোধ ঘোষ


  • bohurupi-class-10-bengali-notes

​ বহুরূপী  – সুবোধ ঘোষ।

বহুরূপী-গল্পের-নোটস


১. অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (মান - ১) বহুরূপী গল্পের নোটস

​এই প্রশ্নগুলি মূলত খুঁটিনাটি তথ্য থেকে আসে:

  • ​হরিদার ঘরে আড্ডা দিত ক-জন? (উত্তর: চারজন— লেখক, অজিত, ভবতোষ ও অনাদি)

  • ​জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীর বয়স কত ছিল? (উত্তর: হাজার বছরের বেশি বলে দাবি করা হয়)

  • ​সন্ন্যাসী সারা বছর শুধু কী খেতেন? (উত্তর: একটি হরীতকী)

  • ​বিরাগীর ঝোলার ভেতর কী বই ছিল? (উত্তর: গীতা)

  • ​হরিদা পাগল সেজে কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন? (উত্তর: চকের বাসস্ট্যান্ডে)

  • ​জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পাওয়ার জন্য কী ফন্দি এঁটেছিলেন? (উত্তর: খড়মের গায়ে সোনার বোল লাগিয়েছিলেন)

  • ​জনৈক সাহেব হরিদাকে কত বকশিশ দিয়েছিলেন? (উত্তর: আট আনা)

২. সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্ন (মান - ৩) বহুরূপী গল্পের নোটস



১. “হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।”—হরিদার জীবনের এই নাটকীয় বৈচিত্র্যের পরিচয় দাও।

উৎস: উদ্ধৃত অংশটি সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের অন্তর্গত।

পরিচয়: হরিদা ছিলেন এক অতি দরিদ্র বহুরূপী। পেশাগত বৈচিত্র্যের কারণেই তাঁর জীবনে নাটকীয়তা আসত। তিনি ঘড়ির কাঁটা ধরে ধরাবাঁধা কাজ বা অফিসে হাজিরা দিতে পছন্দ করতেন না। অভাবের সংসার হলেও তিনি মাঝে মাঝে বহুরূপী সেজে পথে বেরোতেন। কখনও পাগল, কখনও বাউল, কখনও কাপালিক, আবার কখনও মেমসাহেব সেজে তিনি মানুষকে চমকে দিতেন। এই বিচিত্র সব ছদ্মবেশ ধারণ করে সামান্য যে বকশিশ পেতেন, তা দিয়েই তাঁর দিন চলত। দারিদ্র্যের একঘেয়েমিকে কাটিয়ে ওঠার এই অদ্ভুত শৈল্পিক প্রচেষ্টাই ছিল হরিদার জীবনের ‘নাটকীয় বৈচিত্র্য’।

২. “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।”—হরিদা কী ভুল করেছিলেন? কেন তাঁর এই ভুল ক্ষমা করা হবে না?

উৎস: প্রখ্যাত কথাশিল্পী সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্প থেকে অংশটি নেওয়া হয়েছে।

হরিদার ভুল: ছদ্মবেশী বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়ে হরিদা যখন আধ্যাত্মিক উপদেশে তাঁকে মুগ্ধ করেন, তখন জগদীশবাবু খুশি হয়ে হরিদাকে একশো টাকার একটি নোট দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু একজন খাঁটি বিরাগীর আদর্শ বজায় রাখতে গিয়ে হরিদা সেই টাকা স্পর্শও করেননি। টাকার লোভ ত্যাগ করে হাসিমুখে চলে আসাই ছিল হরিদার ‘ভুল’।

ক্ষমা না করার কারণ: হরিদা ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র। তাঁর উনুনের হাঁড়িতে অনেক সময় ভাতের বদলে শুধু জল ফুটত। এমন চরম অভাবের সংসারে একশো টাকা ছিল এক বিশাল প্রাপ্তি। দারিদ্র্যের সুযোগ পেয়েও অবহেলায় সেই টাকা প্রত্যাখ্যান করাকে অদৃষ্টের পরিহাস হিসেবে দেখা হয়েছে, যা সাধারণ বৈষয়িক বিচারে ক্ষমার অযোগ্য।

৩. “মারি তো হাতি, লুঠি তো ভাণ্ডার।”—কার উক্তি? উক্তিটির মাধ্যমে বক্তার কোন মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে?

উৎস: আলোচ্য উক্তিটি সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদার।

মনোভাব: এই প্রবাদের মাধ্যমে হরিদার উচ্চাভিলাষী শিল্পীসত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। হরিদা ছোটখাটো ছদ্মবেশে সামান্য বকশিশ (যেমন আট আনা বা দশ আনা) পেয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি এমন এক ‘কাণ্ড’ করতে চেয়েছিলেন যাতে একবারে অনেক টাকা উপার্জিত হয়। জগদীশবাবুর মতো ধনাঢ্য ব্যক্তির বাড়িতে বিরাগী সেজে যাওয়ার পরিকল্পনাটি ছিল তাঁর সেই ‘বড়ো শিকার’ বা ‘ভাণ্ডার লুঠ’-এর সংকল্প। তবে এটি কোনো অপরাধমূলক মানসিকতা নয়, বরং তাঁর পেশাদারী শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক দুঃসাহসিক চ্যালেঞ্জ ছিল।

৪. “পরম সুখ কাকে বলে জানেন?”—বিরাগীর মতে পরম সুখ কী?

উৎস: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের অন্তর্গত বিরাগীবেশী হরিদার উক্তি এটি।

বিরাগীর দর্শন: জগদীশবাবুর আতিথেয়তা ও ধনের অহংকারকে তুচ্ছ করে বিরাগীবেশী হরিদা জানিয়েছিলেন যে, সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়াই হলো ‘পরম সুখ’। তাঁর মতে, ধন-জন-যৌবন—এসবই হলো মায়া। মনকে যখন কোনো পার্থিব বস্তুর মোহ স্পর্শ করতে পারে না এবং মানুষ যখন জাগতিক মায়া কাটিয়ে সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত হতে পারে, তখনই সে প্রকৃত বা পরম সুখের সন্ধান পায়। ঈশ্বরের চরণে নিজেকে সঁপে দেওয়াই হলো বিরাগীর দৃষ্টিতে পরম প্রাপ্তি।

৫. “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।”—কোন জিনিসকে কেন ‘দুর্লভ’ বলা হয়েছে?

উৎস: আলোচ্য অংশটি সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্প থেকে সংগৃহীত।

দুর্লভ জিনিস: হিমালয় থেকে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীর ‘পায়ের ধুলো’কে এখানে ‘ভয়ানক দুর্লভ জিনিস’ বলা হয়েছে।

কারণ: ওই সন্ন্যাসী ছিলেন অত্যন্ত উঁচুদরের সাধক। তিনি সারাবছর একটি হরীতকী ছাড়া আর কিছু খেতেন না। তিনি সহজে কাউকে পায়ের ধুলো নিতে দিতেন না। জগদীশবাবু অনেক কৌশল করে, সন্ন্যাসীর পায়ে সোনার বোল লাগানো খড়ম পরিয়ে দিয়ে তবেই সেই ধুলো সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। সাধারণ মানুষের পক্ষে এমন মহৎ প্রাণের সান্নিধ্য ও আশীর্বাদ পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল বলেই একে ‘দুর্লভ’ বলা হয়েছে।

৬. “বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদার ভণ্ডামি ধরা পড়ে গিয়েছিল কী?”—কেন এমন মনে হয়েছে?

উৎস: উদ্ধৃত অংশটি সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশ্লেষণ: না, বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদার ভণ্ডামি মোটেই ধরা পড়েনি। বরং তাঁর অভিনয় এতটাই নিখুঁত ছিল যে, জগদীশবাবু তাঁকে একজন প্রকৃত মহাপুরুষ বা বিরাগী বলেই বিশ্বাস করেছিলেন।

কারণ: জগদীশবাবু অত্যন্ত চতুর ও সাবধানী মানুষ হওয়া সত্ত্বেও হরিদার শান্ত চাউনি, গম্ভীর কণ্ঠস্বর এবং ত্যাগের মহিমা দেখে অভিভূত হয়েছিলেন। হরিদা যখন একশো টাকার নোট অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করে চলে গেলেন, তখন জগদীশবাবুর মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ জাগেনি যে ইনি আদতে একজন দরিদ্র বহুরূপী। হরিদার অভিনয় বা ‘ভণ্ডামি’ শিল্পের স্তরে উন্নীত হয়েছিল বলেই তা ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিল।

শিক্ষার্থীদের জন্য টিপস: উত্তরগুলো লেখার সময় প্রতিটি অংশের শুরুতে উৎস উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ এবং পরিষ্কার হাতের লেখা ৩ নম্বরের প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর নিশ্চিত করে।


৩. রচনাধর্মী বা বড় প্রশ্ন (মান - ৫): বহুরূপী গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর

১. হরিদা চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।

উৎস: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন হরিদা। তিনি এক অতি সাধারণ দরিদ্র মানুষ হলেও তাঁর অন্তরে ছিল এক অপরাজেয় শিল্পীসত্তা।

চরিত্রের বৈশিষ্ট্য:

  • শিল্পীসত্তা ও বৈচিত্র্যপ্রিয়তা: হরিদা অভাবের সংসারে থেকেও গতানুগতিক ১০টা-৫টার কাজ করতে চাননি। তিনি ছিলেন স্বাধীনচেতা। বহুরূপী সেজে মানুষকে আনন্দ দেওয়া এবং তাঁদের বিস্ময় সৃষ্টি করাই ছিল তাঁর নেশা। পাগল, কাপালিক, বাউল বা মেমসাহেব—প্রতিটি চরিত্রে তিনি নিজেকে নিখুঁতভাবে মেলে ধরতেন।
  • পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা: হরিদা কেবল সাজপোশাকই বদলাতেন না, চরিত্রের আত্মাকেও ধারণ করতেন। বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে তিনি যখন আধ্যাত্মিক কথা বলেন, তখন তাঁর সেই গাম্ভীর্য ও ব্যক্তিত্ব দেখে কেউ সন্দেহ করতে পারেনি যে তিনি একজন সাধারণ বহুরূপী।
  • নিষ্কাম ও নির্লোভ মানসিকতা: গল্পের শেষে হরিদার মহত্ত্ব সবথেকে বেশি প্রকাশ পায়। জগদীশবাবুর দেওয়া একশো টাকার নোট তিনি স্পর্শ করেননি। তিনি মনে করেন, একজন বিরাগীর ছদ্মবেশ ধারণ করে টাকা নিলে তাঁর ‘ভণ্ডামি’ হত এবং তাঁর শিল্পের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হত।
  • উপসংহার: হরিদা কেবল একজন দরিদ্র মানুষ নন, তিনি একজন প্রকৃত শিল্পী। শিল্পের আদর্শ রক্ষা করতে গিয়ে তিনি দারিদ্র্যকে বরণ করেছেন কিন্তু নিজের বিবেককে বিক্রি করেননি।

২. ‘বহুরূপী’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো। বহুরূপী গল্পের নোটস

উৎস: সাহিত্যের নামকরণের ক্ষেত্রে বিষয়বস্তু বা প্রধান চরিত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।

সার্থকতা: গল্পের নায়ক হরিদা পেশায় একজন বহুরূপী। দারিদ্র্যের একঘেয়েমি কাটাতে তিনি বিচিত্র সব সাজে পথে বের হতেন। গল্পের মূল ঘটনা আবর্তিত হয়েছে হরিদার এই বহুরূপী জীবনের নানা অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে। তবে নামকরণের সার্থকতা কেবল পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা গভীরতর হয়েছে হরিদার অন্তরের ‘বিরাগী’ সত্তার মধ্য দিয়ে।

​জগদীশবাবুর বাড়িতে তিনি যখন বিরাগী সাজেন, তখন তা আর কেবল ছদ্মবেশ থাকে না। তিনি জাগতিক মোহ ত্যাগ করে একশো টাকা প্রত্যাখ্যান করেন। অর্থাৎ তিনি বাইরে বহুরূপী হলেও অন্তরে ছিলেন একজন সত্যনিষ্ঠ শিল্পী। তাঁর এই বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব এবং পেশার প্রতি চরম সততাই ‘বহুরূপী’ নামটিকে সার্থক করে তুলেছে। পরিশেষে বলা যায়, নামকরণটি ব্যঞ্জনাধর্মী এবং গল্পের মূল সুরের সঙ্গে একাত্ম।

৩. জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগীর সাজে হরিদার উপস্থিতির বর্ণনা দাও।

উৎস: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের সবথেকে আকর্ষণীয় অংশ হলো জগদীশবাবুর বাড়িতে হরিদার বিরাগী বেশে আগমন।

উপস্থিতি ও প্রভাব: সন্ধ্যাবেলায় জগদীশবাবুর বারান্দায় যখন বিরাগীবেশী হরিদা এসে দাঁড়ালেন, তখন তাঁর শান্ত ও গম্ভীর মূর্তি দেখে সবাই চমকে গিয়েছিল। তাঁর পরনে ছিল সাদা থান, ধবধবে সাদা উত্তরীয় এবং ঝোলার ভেতরে ছিল একটি গীতা। তাঁর পায়ের ধুলো নেওয়ার জন্য জগদীশবাবু ব্যাকুল হয়ে ওঠেন।

সংলাপ ও আচরণ: বিরাগীবেশী হরিদা জগদীশবাবুর ধনের অহংকারকে চূর্ণ করে বলেন— “টাকা তো ধুলো, আর ধুলো তো টাকা।” তাঁর আধ্যাত্মিক সংলাপে জগদীশবাবু এতটাই মুগ্ধ হন যে তিনি হরিদাকে একশো টাকা দিতে চান এবং সেখানে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু হরিদা অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে সেই টাকা প্রত্যাখ্যান করে নিঃশব্দে সেখান থেকে চলে আসেন। হরিদার এই আচরণ প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল ছদ্মবেশ ধারণ করেননি, বরং সেই মুহূর্তের জন্য তিনি নিজেই একজন প্রকৃত বিরাগী হয়ে উঠেছিলেন।

৪. পাগল সেজে হরিদা চকের বাসস্ট্যান্ডে কী কাণ্ড করেছিলেন? তাঁর সাফল্যের পরিচয় দাও।

উৎস: হরিদার বহুরূপী জীবনের অন্যতম সেরা অভিনয় ছিল চকের বাসস্ট্যান্ডে পাগল সাজা।

ঘটনার বর্ণনা: একদিন ভরদুপুরে চকের বাসস্ট্যান্ডে এক পাগলকে দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকটির মুখভর্তি ছিল খড়িমাখা, গলায় ছিল হাড়ের মালা, আর কোমরে ছেঁড়া কম্বল। সে একটা কুৎসিত ঝিঙের ফুল হাতে নিয়ে বাসের যাত্রীদের দিকে তেড়ে আসছিল এবং বাসের গায়ে ইট ছুঁড়ছিল। তার মুখ দিয়ে লালা পড়ছিল এবং চোখের দৃষ্টি ছিল ভয়ংকর।

সাফল্য: হরিদার এই ছদ্মবেশ এতটাই নিখুঁত ছিল যে বাসস্ট্যান্ডের কেউই তাকে চিনতে পারেনি। এমনকি বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ পর্যন্ত অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। পরে যখন পাগলটি বাসের যাত্রীদের কাছে হাত পেতে আট আনা বকশিশ পায় এবং ড্রাইভার তাকে হঠিয়ে দেয়, তখনও কেউ ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি যে এটি শহরের শান্ত হরিদাই ছিল। এই চরম বিস্ময় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারাই ছিল অভিনেতা হিসেবে হরিদার বিশাল সাফল্য।

৫. “হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে, ভাত ফোটে না।”—হরিদার নির্লোভ শিল্পীসত্তার পরিচয় দাও।

উৎস: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদার দারিদ্র্য ও শিল্পবোধের দ্বন্দ্বটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

দারিদ্র্যের রূপ: হরিদা ছিলেন অভাবী মানুষ। তাঁর কোনো স্থায়ী রোজগার ছিল না। অনেক সময় তাঁর বাড়িতে উনুন জ্বললেও হাড়িতে চাল জোটে না, কেবল জল ফুটে তাঁর খিদে মেটানোর বৃথা চেষ্টা করে। এই চরম দারিদ্র্য তাঁকে চাইলেই লোভী করে তুলতে পারত।

নির্লোভ শিল্পীসত্তা: জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগী সেজে গিয়ে হরিদা চাইলেই একশো টাকা নিতে পারতেন, যা তাঁর কয়েক মাসের অভাব মিটিয়ে দিত। কিন্তু তিনি তা করেননি। তাঁর যুক্তি ছিল— “বিরাগী সাজ সাজিয়ে নিয়ে আবার টাকা হাতে করে নেব? তাতেই তো আমার ঢং নষ্ট হয়ে যাবে।” অর্থাৎ শিল্পের ‘ঢং’ বা মর্যাদা রক্ষা করাই ছিল তাঁর কাছে দারিদ্র্য ঘোচানোর চেয়ে বড়। অভাবের কাছে নতিস্বীকার না করে নিজের শৈল্পিক আদর্শে অটল থাকা হরিদাকে একজন মহান ও নির্লোভ শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য টিপস: এই প্রশ্নগুলো থেকে নিশ্চিত কমন পেতে উত্তরের ভাষা মার্জিত রাখবেন এবং প্রতিটি পয়েন্ট আলাদা প্যারাগ্রাফে লিখবেন।


 আরো জ্ঞান অর্জনের জন্য আমাদের এই আর্টিকেলগুলি পড়তে পারেন 

বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর দশম শ্রেণীর বাংলা Teacj Sanjib


বহুরূপী’ গল্পের সেরা ৩০টি MCQ: বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর mcq

​১. ‘বহুরূপী’ গল্পের লেখকের নাম কী?

(a) আশাপূর্ণা দেবী (b) সুবোধ ঘোষ (c) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (d) প্রেমেন্দ্র মিত্র

উত্তর: (b) সুবোধ ঘোষ

​২. হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেক সময় ভাতের বদলে কী ফোটে?

(a) ডাল (b) তরকারি (c) জল (d) কিছুই না

উত্তর: (c) জল

​৩. জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীর বয়স কত ছিল?

(a) একশো বছর (b) পাঁচশো বছর (c) হাজার বছরের বেশি (d) আশি বছর

উত্তর: (c) হাজার বছরের বেশি

​৪. সন্ন্যাসী সারা বছর শুধু একটি কী খেতেন?

(a) আপেল (b) আমলকী (c) হরীতকী (d) বেল

উত্তর: (c) হরীতকী

​৫. সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পাওয়ার জন্য জগদীশবাবু কী ফন্দি এঁটেছিলেন?

(a) রূপোর খড়ম (b) সোনার বোল লাগানো খড়ম (c) কাঠের জুতো (d) চন্দনের মালা

উত্তর: (b) সোনার বোল লাগানো খড়ম

​৬. হরিদার জীবনের পেশা কী ছিল?

(a) মাস্টারি (b) ওকালতি (c) বহুরূপী (d) দপ্তরি

উত্তর: (c) বহুরূপী

​৭. হরিদা পাগল সেজে কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন?

(a) বাজারের মাঝখানে (b) স্টেশনে (c) চকের বাসস্ট্যান্ডে (d) মন্দিরে

উত্তর: (c) চকের বাসস্ট্যান্ডে

​৮. বাসের যাত্রীরা পাগলকে কত বকশিশ দিয়েছিলেন?

(a) চার আনা (b) আট আনা (c) দশ আনা (d) এক টাকা

উত্তর: (b) আট আনা

​৯. হরিদা বাইজি সেজে কত টাকা বকশিশ পেয়েছিলেন?

(a) আট আনা (b) চার টাকা আট আনা (c) আট টাকা দশ আনা (d) দশ টাকা

উত্তর: (c) আট টাকা দশ আনা

​১০. বিরাগীবেশী হরিদার ঝোলার ভেতর কী বই ছিল?

(a) মহাভারত (b) রামায়ণ (c) গীতা (d) উপনিষদ

উত্তর: (c) গীতা

​১১. “মারি তো হাতি, লুঠি তো ভাণ্ডার”—উক্তিটি কার?

(a) জগদীশবাবু (b) ভবতোষ (c) হরিদা (d) অনাদি

উত্তর: (c) হরিদা

​১২. সন্ন্যাসীকে জগদীশবাবু কত টাকা দিয়েছিলেন?

(a) পঞ্চাশ টাকা (b) একশো টাকা (c) পাঁচশো টাকা (d) এক হাজার টাকা

উত্তর: (b) একশো টাকা

​১৩. “পরম সুখ কাকে বলে জানেন?”—বিরাগীর মতে পরম সুখ হলো—

(a) প্রচুর অর্থ (b) সুস্বাদু খাদ্য (c) সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া (d) তীর্থ ভ্রমণ

উত্তর: (c) সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া

​১৪. “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না”—ভুলটি হলো—

(a) বিরাগী সাজা (b) টাকা না নেওয়া (c) সন্ন্যাসীকে দেখা (d) আড্ডা মারা

উত্তর: (b) টাকা না নেওয়া

​১৫. হরিদা সপ্তাহে বড়োজোর ক-দিন বহুরূপী সেজে বের হন?

(a) এক দিন (b) দু দিন (c) তিন দিন (d) প্রতিদিন

উত্তর: (a) এক দিন

​১৬. হরিদার ঘরের আড্ডায় ক-জন বন্ধু থাকতেন?

(a) দু জন (b) তিন জন (c) চার জন (d) পাঁচ জন

উত্তর: (c) চার জন

​১৭. জগদীশবাবু ছিলেন অত্যন্ত—

(a) কৃপণ (b) দয়ালু (c) ধনী (d) গরিব

উত্তর: (c) ধনী

​১৮. “খুব চমৎকার পাগল সাজতে পেরেছে তো লোকটা!”—উক্তিটি কার?

(a) হরিদার (b) যাত্রীদের (c) কাশীনাথের (d) অনাদির

উত্তর: (c) কাশীনাথের (বাসের ড্রাইভার)

​১৯. বিরাগীবেশী হরিদার গায়ের রঙ কেমন ছিল?

(a) কালো (b) শ্যামবর্ণ (c) ফরসা (d) তামাটে

উত্তর: (c) ফরসা

​২০. “টাকা তো ধুলো, আর ধুলো তো টাকা”—উক্তিটি কার?

(a) সন্ন্যাসীর (b) জগদীশবাবুর (c) বিরাগীর (d) লেখকের

উত্তর: (c) বিরাগীর

​২১. হরিদা একবার কী সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানে দাঁড়িয়ে ছিলেন?

(a) সন্ন্যাসী (b) পুলিশ (c) পাগল (d) মেমসাহেব

উত্তর: (b) পুলিশ

​২২. দয়ালবাবুর লিচু বাগান থেকে ক-টি ছেলেকে ধরা হয়েছিল?

(a) দু টি (b) তিন টি (c) চার টি (d) পাঁচ টি

উত্তর: (c) চার টি

​২৩. পুলিশ সেজে হরিদা দয়ালবাবুর কাছে কত বকশিশ পেয়েছিলেন?

(a) চার আনা (b) আট আনা (c) দু আনা (d) আট টাকা

উত্তর: (b) আট আনা

​২৪. বিরাগীবেশী হরিদা পা রাখার জন্য কী চেয়েছিলেন?

(a) কার্পেট (b) চটি (c) শীতল পাটি (d) কিছুই না

উত্তর: (c) শীতল পাটি

​২৫. হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য বলতে কী বোঝায়?

(a) থিয়েটার করা (b) গান গাওয়া (c) বহুরূপী সাজা (d) গল্প বলা

উত্তর: (c) বহুরূপী সাজা

​২৬. “চমকে উঠলেন জগদীশবাবু”—কেন?

(a) সন্ন্যাসীকে দেখে (b) চোর দেখে (c) বিরাগীর রূপ ও কথা শুনে (d) শব্দ শুনে

উত্তর: (c) বিরাগীর রূপ ও কথা শুনে

​২৭. জগদীশবাবু বিরাগী হরিদাকে কত টাকা দিতে চেয়েছিলেন?

(a) দশ টাকা (b) পঞ্চাশ টাকা (c) একশো টাকা (d) পাঁচশো টাকা

উত্তর: (c) একশো টাকা

​২৮. “হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে”—এর কারণ—

(a) হরিদা আলসে (b) হরিদা অসুস্থ (c) হরিদা দরিদ্র (d) হরিদা সন্ন্যাসী

উত্তর: (c) হরিদা দরিদ্র

​২৯. ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগী হলেন আসলে—

(a) আসল সন্ন্যাসী (b) ছদ্মবেশী হরিদা (c) জগদীশবাবু (d) গল্পের লেখক

উত্তর: (b) ছদ্মবেশী হরিদা

​৩০. “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়”—এখানে ‘ঢং’ বলতে বোঝানো হয়েছে—

(a) সাজপোশাক (b) কথা বলা (c) অভিনয়ের মর্যাদা বা শিল্পীসত্তা (d) আড্ডা

উত্তর: (c) অভিনয়ের মর্যাদা বা শিল্পীসত্তা


পরীক্ষার জন্য বিশেষ টিপস:

​১. বিরাগী ও সন্ন্যাসীর পার্থক্য: জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা আসল সন্ন্যাসী এবং ছদ্মবেশী বিরাগী (হরিদা)—এই দুই চরিত্রের বৈপরীত্য মাথায় রাখবেন।

২. হরিদার শিল্পবোধ: হরিদা কেবল টাকার জন্য বহুরূপী সাজতেন না, বরং পেশার প্রতি তাঁর সততা ও শিল্পের প্রতি ভালোবাসা বড় প্রশ্নে অবশ্যই উল্লেখ করবেন।

৩. বিরাগীর দর্শন: বিরাগীর সংলাপে যে আধ্যাত্মিকতা ও নির্লিপ্ততা প্রকাশ পেয়েছে, তা ভালো করে পড়ে রাখা জরুরি


 বহুরূপী গল্পের কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর দেওয়া হলো 

১. বহুরূপী অর্থ কী?

​'বহুরূপী' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো— যিনি বহু রূপ ধারণ করতে পারেন। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি নিজের সাজপোশাক, অঙ্গভঙ্গি এবং কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে বিভিন্ন বিচিত্র রূপ বা চরিত্র ধারণ করে মানুষকে আনন্দ দেন বা জীবিকা নির্বাহ করেন, তাকেই 'বহুরূপী' বলা হয়।

২. বহুরূপী কী?

​'বহুরূপী' হলো বাংলার এক প্রাচীন ও বিলুপ্তপ্রায় লোকশিল্প। এই শিল্পের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা কখনও দেবদেবী, কখনও বাঘ-ভাল্লুক, আবার কখনও পাগল বা পুলিশের ছদ্মবেশ ধারণ করে জনসমক্ষে অভিনয় দেখান। এর বিনিময়ে দর্শক বা গৃহস্থরা খুশি হয়ে যা দান করেন, তা দিয়েই তাদের সংসার চলে। সুবোধ ঘোষের এই গল্পটি সেই প্রাচীন লোকশিল্পীর জীবন সংগ্রামের এক অনন্য আলেখ্য।

৩. বহুরূপী কি সত্যি গল্প?

​সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' একটি কাল্পনিক ছোটগল্প, তবে এর প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত। লেখক তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় ছড়িয়ে থাকা বহুরূপী শিল্পী এবং তাদের দারিদ্র্যকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। গল্পের চরিত্র 'হরিদা' কোনো নির্দিষ্ট রক্ত-মাংসের মানুষের হুবহু প্রতিফলন না হলেও, তিনি বাংলার হাজার হাজার অভাবী অথচ আত্মমর্যাদাশীল শিল্পীর প্রতিনিধি। তাই এটি আক্ষরিক অর্থে 'সত্যি ঘটনা' না হলেও এর মূল সুর অত্যন্ত বাস্তব।

৪. বহুরূপী গল্পে হরিদার চার বন্ধুর নাম কী?

​গল্পে হরিদার ঘরে যে চারজন বন্ধু নিয়মিত আড্ডা দিতেন, তাঁরা হলেন—

১. গল্পের কথক (লেখক স্বয়ং)

২. অজিত

৩. ভবতোষ

৪. অনাদি

৫. বহুরূপী গল্পে জগদীশবাবুর চরিত্র:

​জগদীশবাবু গল্পের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্র। তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • অঢেল ঐশ্বর্য: জগদীশবাবু ছিলেন গ্রামের অত্যন্ত ধনী ব্যক্তি। তাঁর বাড়িতে সোনার বোল লাগানো খড়ম বা সন্ন্যাসীকে একশো টাকা দেওয়ার মতো বিলাসিতা দেখা যায়।
  • ধর্মভীরুতা ও ভক্তি: তিনি অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মানুষ। হিমালয়ের সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পাওয়ার জন্য তাঁর ব্যাকুলতা বা ছদ্মবেশী বিরাগীকে দেখে তাঁর ভক্তি গদগদ আচরণ তাঁর ধর্মভীরু মানসিকতার পরিচয় দেয়।
  • বিবেচনা ও আতিথেয়তা: বাড়িতে কোনো সাধু বা বিরাগী এলে তিনি তাঁকে শূন্য হাতে ফেরাতে চান না। বিরাগীকে তিনি আশ্রয় ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন।
  • সহজসরল বিশ্বাস: জগদীশবাবু বিষয়বুদ্ধিতে চতুর হলেও আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে কিছুটা সরল। হরিদার নিখুঁত অভিনয় তিনি ধরতে পারেননি এবং হরিদাকে একজন প্রকৃত মহাপুরুষ ভেবে ভুল করেছিলেন।

ব্যক্তিগত পরামর্শ (Personal Suggestion):

​আপনার এই উত্তরগুলো ব্যবহারের সময় জগদীশবাবুর চরিত্রের অংশে "বৈপরীত্য" কথাটি উল্লেখ করতে পারেন। কারণ, জগদীশবাবুর মতো ধনীর বিপরীতে হরিদার মতো নিঃস্ব মানুষের শিল্পীসত্তাই এই গল্পের মূল আকর্ষণ।


কল টু অ্যাকশন (CTA)

আপনার মতামত আমাদের জানান!

হরিদার মতো একজন নিঃস্ব শিল্পীর একশো টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কি আপনার সঠিক মনে হয়েছে? নাকি অভাবের সংসারে টাকাটা নেওয়া উচিত ছিল? নিচে কমেন্ট করে আপনার মতামত জানান! >

আর এই নোটগুলো যদি আপনার উপকারে লাগে, তবে আপনার বন্ধুদের সাথে WhatsApp-এ শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরীক্ষার প্রস্তুতি হোক সবার সাথে!

👉 [ জ্ঞানচক্ষু 'র নোটস পড়তে এখানে প্রবেশ  করুন]


বহুরূপী’ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ): বহুরূপী গল্পের নোটস  

১. ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদার জীবনের ‘নাটকীয় বৈচিত্র্য’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: হরিদা ছিলেন একজন দরিদ্র মানুষ, কিন্তু তিনি কোনো ধরাবাঁধা কাজ বা অফিসের চাকরিতে বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ‘বহুরূপী’ সাজাকে। কখনও পাগল, কখনও বাইজি, কখনও কাপালিক বা বিরাগী সেজে তিনি মানুষকে চমকে দিতেন। দারিদ্র্যের একঘেয়েমি দূর করে বিচিত্র সব সাজে পথে বের হওয়াকেই তাঁর জীবনের ‘নাটকীয় বৈচিত্র্য’ বলা হয়েছে।

২. জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীটি কেন ‘ভয়ানক দুর্লভ’ ছিলেন?

উত্তর: ওই সন্ন্যাসী ছিলেন অনেক উঁচুদরের সাধক। তাঁর বয়স ছিল হাজার বছরেরও বেশি। তিনি সারা বছর কেবল একটি করে হরীতকী খেতেন এবং সহজে কাউকে তাঁর পায়ের ধুলো নিতে দিতেন না। জগদীশবাবু অনেক কৌশল করে সোনার বোল লাগানো খড়ম পরিয়ে তবেই তাঁর চরণতলে ঠাঁই পেয়েছিলেন, যা সাধারণ মানুষের কাছে ছিল অসম্ভব।

৩. “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না”—এখানে ভুলের কথা কেন বলা হয়েছে?

উত্তর: হরিদা অত্যন্ত অভাবী ছিলেন, তাঁর বাড়িতে অনেক সময় চালও জুটত না। জগদীশবাবু হরিদাকে (বিরাগী ছদ্মবেশে) একশো টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু একজন খাঁটি শিল্পীর মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে হরিদা সেই টাকা স্পর্শ করেননি। বৈষয়িক দিক থেকে এই টাকা প্রত্যাখ্যান করা একটি বিশাল ‘ভুল’ ছিল বলে বন্ধুরা মনে করেছেন।

৪. বিরাগী সেজে হরিদা জগদীশবাবুকে কী উপদেশ দিয়েছিলেন?

উত্তর: বিরাগীবেশী হরিদা জগদীশবাবুকে উপদেশ দিয়েছিলেন যে, ধন-জন-যৌবন—সবই মায়া। তিনি বলেছিলেন, “টাকা তো ধুলো, আর ধুলো তো টাকা।” অর্থাৎ পার্থিব সম্পদের মোহ ত্যাগ করে ঈশ্বরের পথে চলাই হলো প্রকৃত পরম সুখ।

৫. হরিদার উনানের হাঁড়িতে ভাতের বদলে কেন জল ফোটে?

উত্তর: হরিদা ছিলেন অতি দরিদ্র। তাঁর কোনো স্থায়ী রোজগার বা চাকরি ছিল না। সপ্তাহে বড়জোর একদিন তিনি বহুরূপী সেজে কিছু পয়সা উপার্জন করতেন। এই সামান্য উপার্জনে তাঁর নিয়মিত খাদ্যসংস্থান হতো না বলেই তাঁর উনানে অনেক সময় ভাতের বদলে শুধু জল ফুটে তাঁর অভাবের সাক্ষী দিত।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ