পথের দাবী গল্পের নোটস ও বড় প্রশ্ন উত্তর দশম শ্রেণি বাংলা


  • পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর


পথের দাবী – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।


পথের-দাবী-গল্পের-নোটস


১ নম্বরের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন: পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর 

পথের দাবী' – অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ()

১. 'পথের দাবী' উপন্যাসটি কবে প্রকাশিত হয়েছিল?

  • উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত হয়েছিল।

২. গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাগ থেকে কী কী পাওয়া গিয়েছিল?

  • উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাগ থেকে একটি টাকাগণ্ডা ছয় পয়সা পাওয়া গিয়েছিল।

৩. "অপূর্বর ঘরে যখন চুরি হয়েছিল"— তখন অপূর্ব কোথায় ছিল?

  • উত্তর: অপূর্ব যখন বর্মা অয়েল কোম্পানির কাজে ভামো (Bhamo) নামক স্থানে গিয়েছিল, তখন তার ঘরে চুরি হয়েছিল।

৪. পলিটিক্যাল সাসপেক্ট-এর নাম কী ছিল?

  • উত্তর: পলিটিক্যাল সাসপেক্ট বা রাজদ্রোহী সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম ছিল সব্যসাচী মল্লিক

৫. "বুড়ো মানুষের কথাটা শুনো"— এখানে বুড়ো মানুষ কে?

  • উত্তর: এখানে 'বুড়ো মানুষ' বলতে পুলিশ ইন্সপেক্টর নিমাইবাবু-কে বোঝানো হয়েছে।

৬. গিরীশ মহাপাত্রের রুমালে কীসের ছবি আঁকা ছিল?

  • উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে পাওয়া রুমালে একটি বাঘের (Tiger) ছবি আঁকা ছিল।

আপনার প্রস্তুতির সুবিধার জন্য একটি ছোট টিপস:

গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে আরও কিছু জিনিস পাওয়া গিয়েছিল— যেমন একটা লোহার কম্পাস, ফুটরুল, কয়েকটা বিড়ি, একটা দেশলাই এবং একটা গাঁজার কল্কে। এগুলোও মনে রাখবেন, কারণ অনেক সময় 'পকেট' ও 'ট্যাগ'-এর জিনিসের মধ্যে গুলিয়ে যায়।


​২. ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন: পথের দাবী গল্পের নোটস

১. "বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে"— কার কথা বলা হয়েছে? তার শৌখিনতার পরিচয় দাও।

  • কার কথা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' পাঠ্যাংশে এখানে গিরীশ মহাপাত্রের (ছদ্মবেশী সব্যসাচী মল্লিক) কথা বলা হয়েছে।
  • শৌখিনতার পরিচয়:
    • ​তার মাথায় সামনের দিকে বড়ো চুল থাকলেও মাঝখানে সিঁথি করা এবং ঘাড়ের দিকে চুলের কোনো অস্তিত্ব নেই।
    • ​তার মুখে লেবুর তেলের উগ্র গন্ধ বেরোচ্ছিল।
    • ​তার পরনে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি, যার বুকপকেট থেকে বাঘ-আঁকা রুমাল উঁকি মারছিল।
    • ​পায়ে ছিল সবুজ রঙের মোজা এবং চকচকে বার্নিশ করা পাম-শু, যার তলাটা ছিল লোহার নাল লাগানো।

২. "ইনিই আমার পরম আত্মীয়"— বক্তা কে? কাকে তিনি 'পরম আত্মীয়' বলেছেন এবং কেন?

  • বক্তা: উক্তিটির বক্তা হলেন উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র অপূর্ব
  • কাকে বলা হয়েছে: অপূর্ব পুলিশ ইন্সপেক্টর নিমাইবাবু-কে তার 'পরম আত্মীয়' বলেছে।
  • কারণ: নিমাইবাবু ছিলেন অপূর্বর বাবার বন্ধু এবং বাল্যকাল থেকে তিনি অপূর্বকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। রেলে হেনস্তা হওয়ার পর থানায় অভিযোগ জানাতে এসে নিমাইবাবুকে দেখে অপূর্ব মানসিকভাবে সস্তি  পেয়েছিল।

৩. "আমি ভীরু কিন্তু আমি তো গুণ্ডা নই"— বক্তার এই মানসিকতার পরিচয় দাও।

  • প্রেক্ষাপট: রেল স্টেশনে ফিরিঙ্গি যুবকদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার পর পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপূর্ব অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিল।
  • মানসিকতা:
    • ​অপূর্ব স্বীকার করেছে যে সে সাধারণ রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে শারীরিক শক্তিতে দুর্বল বা ভীরু হতে পারে, কিন্তু সে হীনবল বা অপরাধী (গুণ্ডা) নয়।
    • ​তার এই উক্তির মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠেছে একজন শিক্ষিত ও আত্মমর্যাদাশীল ভারতীয়ের প্রতিবাদ। সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শারীরিক লড়াই করতে না পারলেও নৈতিকভাবে ভেঙে পড়েনি।

৪. "পলিটিক্যাল সাসপেক্ট নিমাইবাবুর সম্মুখে হাজির করা হইল"— পলিটিক্যাল সাসপেক্ট কে ছিলেন? তাকে দেখে নিমাইবাবুর কী মনে হয়েছিল?

  • পরিচয়: পলিটিক্যাল সাসপেক্ট বা রাজদ্রোহী ব্যক্তিটি ছিলেন বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক (যিনি গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশে ছিলেন)।
  • নিমাইবাবুর ধারণা:
    • ​গিরীশ মহাপাত্রের জীর্ণ চেহারা, ক্রমাগত কাশি এবং হাড়-জিরজিরে শরীর দেখে নিমাইবাবুর মনে হয়েছিল এই লোকটি আর বড়জোর মাসখানেক বাঁচবে।
    • ​নিমাইবাবুর বিশ্বাস হয়েছিল যে, এমন রুগ্ন ও বেশভূষায় অদ্ভুত মানুষটি কখনোই ভয়ংকর বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক হতে পারেন না।

৫. "বিনা দোষে ফিরিঙ্গি ছোড়ারা আমাকে লাথি মারল"— এই ঘটনার মধ্য দিয়ে পরাধীন ভারতের কোন ছবি ফুটে উঠেছে?

  • নির্যাতনের ছবি: পরাধীন ভারতে শ্বেতাঙ্গ বা ইংরেজদের (ফিরিঙ্গি) কাছে সাধারণ ভারতীয়রা যে কতটা তুচ্ছ ও অবহেলিত ছিল, এই লাঞ্ছনা তারই প্রমাণ।
  • বিচারের অভাব: অপূর্ব একজন প্রথম শ্রেণীর যাত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাকে বিনা কারণে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং স্টেশন মাস্টার তার অভিযোগ শুনতে অস্বীকার করেন।
  • বৈষম্য: এই ঘটনার মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন যে পরাধীন দেশে আইন ও বিচারব্যবস্থা কেবল শাসক শ্রেণির জন্য, সাধারণ ভারতীয়দের সেখানে আত্মমর্যাদার কোনো স্থান নেই।

​৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন (রচনাধর্মী)পথের দাবী গল্পের নোটস


১. গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত পোশাক ও চেহারার বর্ণনা

উৎস: কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসের পাঠ্যাংশ থেকে উদ্ধৃত অংশটি নেওয়া হয়েছে।

চেহারার বর্ণনা: গিরীশ মহাপাত্রের বয়স ছিল ৩০-৩২ বছরের বেশি নয়, কিন্তু তার শরীর ছিল অত্যন্ত রোগা। তার চোখের দৃষ্টি ছিল গভীর ও অতলস্পর্শী, যা দেখে মনে হয় যেন তার সমস্ত প্রাণশক্তি ঐ চোখের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত। তাকে দেখে নিমাইবাবুর মনে হয়েছিল সে আর বড়জোর মাসখানেক বাঁচবে।

পোশাকের বাহার: গিরীশ মহাপাত্রের সাজসজ্জা ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত ও হাসির উদ্রেককারী:

  • মাথার চুল: সামনের দিকে বড় চুল থাকলেও মাঝখানে সিঁথি করা এবং ঘাড়ের দিকটা একেবারে কামানো। মাথায় লেবুর তেলের উগ্র গন্ধ।
  • পোশাক: গায়ে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি। তার বুকপকেট থেকে একটি বাঘ-আঁকা রুমাল উঁকি দিচ্ছিল।
  • নিচের সাজ: পরনে ছিল বিলেতি খাতি রঙের হাফপ্যান্ট এবং পায়ে সবুজ রঙের মোজা। হাঁটু পর্যন্ত লাল ফিতে দিয়ে মোজা বাঁধা ছিল।
  • জুতো: পায়ে ছিল চকচকে বার্নিশ করা পাম-শু, যার তলাটা ছিল লোহার নাল লাগানো। হাতে ছিল একটি হরিণের শিং-এর হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি।

২. অপূর্ব চরিত্র বিশ্লেষণ (দেশপ্রেম ও ভীরুতার দ্বন্দ্ব)

চরিত্রের প্রেক্ষাপট: অপূর্ব একজন শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাঙালি যুবক। তার চরিত্রের মধ্যে একদিকে যেমন ভীরুতা আছে, অন্যদিকে প্রগাঢ় দেশপ্রেমও বিদ্যমান।

দেশপ্রেম ও ভীরুতার দ্বন্দ:

  • মানবতা ও দেশপ্রেম: অপূর্ব বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে শ্রদ্ধা করে। সে নিমাইবাবুকে স্পষ্ট জানায় যে, তার স্বজাতির মঙ্গল কামনায় যারা জীবন উৎসর্গ করেছে, তারা তার কাছে পরম শ্রদ্ধেয়।
  • রেল স্টেশনের অপমান: রেলে ভ্রমণের সময় ফিরিঙ্গি যুবকেরা তাকে বিনা কারণে লাথি মেরে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়। এই অপমানের কথা সে যখন নিমাইবাবুকে বলে, তখন তার চোখে জল এবং কণ্ঠে তীব্র ক্ষোভ ছিল।
  • প্রতিবাদ ও সীমাবদ্ধতা: অপূর্ব নিজেকে 'ভীরু' বলেছে কারণ সে সরাসরি ফিরিঙ্গি যুবকদের বা স্টেশনে ইংরেজ শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেনি। কিন্তু তার হৃদয়ে পরাধীনতার জ্বালা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রবল ছিল। সে অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়ায়নি, বরং তার ক্ষোভকে আদর্শে রূপান্তর করতে চেয়েছিল।

৩. সব্যসাচী মল্লিককে ধরার পুলিশের তৎপরতা ও চোখে ধুলো দেওয়ার কৌশল

পুলিশের তৎপরতা: পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে ধরার জন্য পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক ছিল। নিমাইবাবু এবং জগদীশবাবুর নেতৃত্বে পুলিশ ব্রহ্মদেশের রেঙ্গুন স্টেশনে প্রতিটি যাত্রীকে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছিল। সন্দেহভাজনদের থানায় এনে জেরা করা হচ্ছিল।

চোখে ধুলো দেওয়ার কৌশল: সব্যসাচী মল্লিক একজন অসাধারণ কৌশলী বিপ্লবী ছিলেন। তিনি পুলিশের চোখে ধুলো দিতে গিরীশ মহাপাত্র নামক এক মরণাপন্ন রোগীর ছদ্মবেশ ধারণ করেন।

  • ​তার রুগ্ন শরীর, অদ্ভুত পোশাক এবং কাশির আড়ালে তিনি নিজের তেজস্বী বিপ্লবী সত্তাকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে ফেলেন।
  • ​তার পকেটে পাওয়া গাঁজার কল্কে সম্পর্কে জেরা করা হলে তিনি অত্যন্ত শান্তভাবে মিথ্যে বলে নিমাইবাবুকে বিশ্বাস করান যে তিনি একজন সাধারণ নেশাখোর মানুষ।
  • ​তার বুদ্ধিদীপ্ত অভিনয়ের কাছে দুঁদে পুলিশ অফিসার নিমাইবাবুও হার মানেন এবং তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

৪. নিমাইবাবু ও অপূর্বর কথোপকথনে দেশাত্মবোধের পরিচয়

প্রেক্ষাপট: থানায় গিরীশ মহাপাত্রের তল্লাশি শেষ হওয়ার পর নিমাইবাবু ও অপূর্বর মধ্যে যে সংলাপ বিনিময় হয়, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

দেশাত্মবোধের পরিচয়:

  • অপূর্বর স্পষ্টবাদিতা: নিমাইবাবু যখন সব্যসাচীকে ধরার জন্য ব্যস্ত, তখন অপূর্ব সরাসরি বলে— "যাকে খুঁজছেন সে যে এ নয়, তার আমি জামিন হতে পারি।" সে আরও জানায় যে, সব্যসাচী মল্লিক তার আত্মীয় না হলেও তিনি তার 'পরম শ্রদ্ধেয়'।
  • বিপ্লবীর প্রতি শ্রদ্ধা: অপূর্ব মনে করে যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করেছে, তারা তার কাছে সাধারণ চোর-ডাকাতের মতো অপরাধী নয়।
  • প্রতিবাদের ভাষা: নিমাইবাবুর প্রতি অপূর্বর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা থাকলেও, ব্রিটিশ পুলিশের চাকরি করা নিমাইবাবুর কর্তব্যের চেয়ে নিজের দেশের বিপ্লবীর আদর্শকে অপূর্ব উপরে স্থান দিয়েছে। এই সংলাপগুলোর মাধ্যমেই এক গভীর অন্তলীন দেশাত্মবোধ প্রকাশ পায়।

সব্যসাচী মল্লিক বনাম গিরীশ মহাপাত্র: বৈপরীত্যের ছক


বৈশিষ্ট্য

সব্যসাচী মল্লিক (আসল সত্তা)

গিরীশ মহাপাত্র (ছদ্মবেশ)

শারীরিক অবস্থা

অত্যন্ত শক্তিশালী, তেজস্বী এবং ক্ষিপ্র।

রুগ্ন, জীর্ণ শরীর এবং অবিরত কাশির রুগী।

চোখের দৃষ্টি

গভীর, অতলস্পর্শী এবং বুদ্ধিতে উজ্জ্বল।

উদভ্রান্ত এবং নেশাখোরের মতো ঝিমোনো।

পোশাক-পরিচ্ছদ

সাধারণ বা ছদ্মবেশহীন অবস্থায় গম্ভীর।

বিচিত্র সাজ (জাপানি সিল্কের পাঞ্জাবি, সবুজ মোজা, পাম-শু)।

সামাজিক পরিচয়

একজন ভয়ংকর 'পলিটিক্যাল সাসপেক্ট' বা রাজদ্রোহী।

একজন নিরীহ এবং কিছুটা হাস্যকর সাধারণ মানুষ।

ব্যসন/নেশা

দেশের স্বাধীনতার নেশায় মত্ত।

গাঁজাখোর (যদিও সে নিজে তা অস্বীকার করে)।

বুদ্ধিমত্তা

প্রখর কূটনৈতিক এবং রণকৌশলী।

বোকাসোকা এবং অত্যন্ত সাধারণ কথার মানুষ।


গিরীশ মহাপাত্রের ঝোলা ও পকেটের জিনিসের তালিকা (একনজরে)

​পরীক্ষায় ছোট প্রশ্নের জন্য এই তালিকাটি খুব কার্যকর:

  • ট্যাগ (Teig): একটি টাকা ও গণ্ডা ছয় পয়সা।
  • পকেট: লোহার কম্পাস, ফুটরুল, কয়েকটা বিড়ি, দেশলাই এবং একটি গাঁজার কল্কে।
  • হাতের জিনিস: হরিণের শিং-এর হাতল দেওয়া একটি বেতের ছড়ি।
  • রুমাল: পকেটে থাকা রুমালে একটি বাঘের ছবি আঁকা ছিল।

অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ টিপস:

​১. উদ্ধৃতি (Quotes): ৫ নম্বরের উত্তরে বইয়ের লাইন যেমন— "যাকে খুঁজছেন সে যে এ নয়, তার আমি জামিন হতে পারি"— এই ধরণের লাইন ব্যবহার করলে উত্তরের মান বহুগুণ বেড়ে যায়।

২. শব্দার্থ: 'ট্যাগ' মানে কোমরের কাপড় বা গেঁজে, আর 'পলিটিক্যাল সাসপেক্ট' মানে রাজনৈতিক সন্দেহভাজন। এগুলো মাথায় রাখবেন।

পথের দাবী' – গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি MCQ

​১. 'পথের দাবী' পাঠ্যাংশটি মূল উপন্যাসের কততম পরিচ্ছেদ থেকে নেওয়া হয়েছে?

(ক) ষষ্ঠ ও সপ্তম (খ) পঞ্চম ও ষষ্ঠ (গ) ষষ্ঠ ও অষ্টম (ঘ) দ্বিতীয় ও তৃতীয়

উত্তর: (গ) ষষ্ঠ ও অষ্টম

​২. পলিটিক্যাল সাসপেক্ট-এর নাম কী ছিল?

(ক) গিরীশ মহাপাত্র (খ) সব্যসাচী মল্লিক (গ) নিমাইবাবু (ঘ) অপূর্ব

উত্তর: (খ) সব্যসাচী মল্লিক

​৩. গিরীশ মহাপাত্রের বয়স কত ছিল?

(ক) ২০-২২ বছর (খ) ২৫-২৬ বছর (গ) ৩০-৩২ বছর (ঘ) ৪০-৪২ বছর

উত্তর: (গ) ৩০-৩২ বছর

​৪. গিরীশ মহাপাত্রের চোখের দৃষ্টি ছিল—

(ক) চঞ্চল (খ) বিষণ্ণ (গ) গভীর ও অতলস্পর্শী (ঘ) ক্রুর

উত্তর: (গ) গভীর ও অতলস্পর্শী

​৫. গিরীশ মহাপাত্রের পাঞ্জাবির রঙ কী ছিল?

(ক) সাদা (খ) সবুজ (গ) রামধনু রঙের (ঘ) খাকি

উত্তর: (গ) রামধনু রঙের

​৬. গিরীশ মহাপাত্রের রুমালে কীসের ছবি আঁকা ছিল?

(ক) হরিণ (খ) বাঘ (গ) সিংহ (ঘ) হাতি

উত্তর: (খ) বাঘ

​৭. গিরীশ মহাপাত্রের হাতে যে ছড়িটি ছিল সেটি কীসের তৈরি?

(ক) বাঁশের (খ) লোহার (গ) বেতের (ঘ) কাঠের

উত্তর: (গ) বেতের (হরিণের শিং-এর হাতল দেওয়া)

​৮. গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাগ থেকে কত টাকা পাওয়া গিয়েছিল?

(ক) দশ টাকা (খ) একটি টাকা (গ) পাঁচ টাকা (ঘ) দু-টাকা

উত্তর: (খ) একটি টাকা

​৯. গিরীশ মহাপাত্রের বুকপকেটে কী উঁকি মারছিল?

(ক) কলম (খ) চিরুনি (গ) ডায়েরি (ঘ) রুমাল

উত্তর: (ঘ) রুমাল

​১০. নিমাইবাবু সম্পর্কে অপূর্বর কী হন?

(ক) কাকা (খ) মামা (গ) বাবার বন্ধু (ঘ) দাদা

উত্তর: (গ) বাবার বন্ধু

​১১. অপূর্বর ঘরে যখন চুরি হয়, তখন সে কোথায় ছিল?

(ক) রেঙ্গুন (খ) রেলে (গ) ভামো (ঘ) কলকাতা

উত্তর: (গ) ভামো

​১২. অপূর্বর ভৃত্যের নাম কী ছিল?

(ক) রামদাস (খ) তেওয়ারি (গ) হরিপদ (ঘ) জনার্দন

উত্তর: (খ) তেওয়ারি

​১৩. "ইনিই আমার পরম আত্মীয়"— এখানে কার কথা বলা হয়েছে?

(ক) জগদীশবাবু (খ) নিমাইবাবু (গ) সব্যসাচী মল্লিক (ঘ) তলোয়ারকর

উত্তর: (খ) নিমাইবাবু

​১৪. গিরীশ মহাপাত্রের পায়ে যে মোজা ছিল তার রঙ কী ছিল?

(ক) লাল (খ) কালো (গ) সবুজ (ঘ) নীল

উত্তর: (গ) সবুজ

​১৫. গিরীশ মহাপাত্রের জুতোর তলায় কী লাগানো ছিল?

(ক) রাবার (খ) তামা (গ) লোহার নাল (ঘ) প্লাস্টিক

উত্তর: (গ) লোহার নাল

​১৬. "বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে"— উক্তিটি কার?

(ক) অপূর্ব (খ) জগদীশবাবু (গ) নিমাইবাবু (ঘ) সব্যসাচী

উত্তর: (গ) নিমাইবাবু

​১৭. গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে কী পাওয়া গিয়েছিল?

(ক) বই (খ) অস্ত্র (গ) গাঁজার কল্কে (ঘ) সুপুরি

উত্তর: (গ) গাঁজার কল্কে

​১৮. "পথের দাবী" উপন্যাসটি কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?

(ক) ১৯২০ (খ) ১৯২৬ (গ) ১৯৩০ (ঘ) ১৯৩৫

উত্তর: (খ) ১৯২৬

​১৯. তলোয়ারকর অপূর্বর কে ছিলেন?

(ক) ভৃত্য (খ) শত্রু (গ) বন্ধু বা সহকর্মী (ঘ) আত্মীয়

উত্তর: (গ) বন্ধু বা সহকর্মী (পুরো নাম রামদাস তলোয়ারকর)

​২০. নিমাইবাবু পলিটিক্যাল সাসপেক্টকে কোথায় হাজির করতে বলেছিলেন?

(ক) জেলখানায় (খ) আদালতে (গ) তাঁর সম্মুখে (ঘ) বাড়িতে

উত্তর: (গ) তাঁর সম্মুখে

​২১. অপূর্বকে স্টেশন মাস্টার কী বলে অপমান করেছিলেন?

(ক) চোর (খ) ডাকাত (গ) মিথ্যেবাদী (ঘ) পকেটমার

উত্তর: (গ) মিথ্যেবাদী

​২২. নিমাইবাবুর মতে গিরীশ মহাপাত্র বড়জোর আর কতদিন বাঁচবে?

(ক) দশ দিন (খ) এক সপ্তাহ (গ) মাসখানেক (ঘ) বছরখানেক

উত্তর: (গ) মাসখানেক

​২৩. গিরীশ মহাপাত্রের চুলে কীসের উগ্র গন্ধ ছিল?

(ক) চন্দন তেল (খ) নারকেল তেল (গ) লেবুর তেল (ঘ) আমলকী তেল

উত্তর: (গ) লেবুর তেল

​২৪. অপূর্ব কোন্ শ্রেণির যাত্রী ছিল?

(ক) প্রথম শ্রেণির (খ) দ্বিতীয় শ্রেণির (গ) তৃতীয় শ্রেণির (ঘ) সাধারণ

উত্তর: (ক) প্রথম শ্রেণির

​২৫. "বিনা দোষে ফিরিঙ্গি ছোড়ারা আমাকে লাথি মারল"— কার উক্তি?

(ক) নিমাইবাবুর (খ) রামদাসের (গ) অপূর্বর (ঘ) সব্যসাচীর

উত্তর: (গ) অপূর্বর

​২৬. গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাগে গণ্ডা কত পয়সা ছিল?

(ক) দুই (খ) চার (গ) ছয় (ঘ) আট

উত্তর: (গ) ছয়

​২৭. নিমাইবাবু জাতিতে কী ছিলেন?

(ক) ইংরেজ (খ) মারাঠি (গ) বাঙালি (ঘ) পাঞ্জাবি

উত্তর: (গ) বাঙালি

​২৮. গিরীশ মহাপাত্রের পাঞ্জাবিটি কীসের তৈরি ছিল?

(ক) সুতির (খ) পশমের (গ) জাপানি সিল্কের (ঘ) মখমলের

উত্তর: (গ) জাপানি সিল্কের

​২৯. অপূর্ব ট্রেন থেকে নামার সময় পুলিশ তাকে কী পরীক্ষা করেছিল?

(ক) পকেট (খ) জুতোর তলা (গ) নাম ও ঠিকানা (ঘ) টিকিট

উত্তর: (গ) নাম ও ঠিকানা

​৩০. "যাকে খুঁজছেন সে যে এ নয়, তার আমি জামিন হতে পারি"— বক্তা কে?

(ক) নিমাইবাবু (খ) অপূর্ব (গ) জগদীশবাবু (ঘ) রামদাস

উত্তর: (খ) অপূর্ব


 পথের দাবী উপন্যাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর 

১. মূল বক্তব্য, কাহিনী ও পটভূমি

  • পটভূমি: বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে ব্রিটিশ শাসিত পরাধীন ভারতবর্ষ এবং সুদূর বার্মায় (মায়ানমার) গড়ে ওঠা ভারতীয় বিপ্লবীদের ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে এটি রচিত।
  • মূল বক্তব্য: পরাধীনতার গ্লানি থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য বিপ্লবীদের অদম্য জেদ, দেশপ্রেম এবং ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার কৌশলী লড়াই-ই এই কাহিনীর মূল উপজীব্য।
  • কাহিনী সংক্ষেপ: রাজদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিককে ধরার জন্য পুলিশের সতর্ক নজরদারি এবং সব্যসাচীর 'গিরীশ মহাপাত্র' ছদ্মবেশে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালানোর নাটকীয় ঘটনাই এখানে বর্ণিত।

২. চরিত্র ও ব্যক্তিগত তথ্য

  • কেন্দ্রীয় চরিত্র: বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক
  • গিরীশ মহাপাত্রের আসল নাম: সব্যসাচী মল্লিক (ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন)।
  • বিখ্যাত মহাপাত্র: পাঠ্যাংশে 'গিরীশ মহাপাত্র' ছিলেন একজন কাল্পনিক ছদ্মবেশী চরিত্র, যাকে পুলিশ সব্যসাচী মল্লিক ভেবে ভুল করেছিল।
  • লোকটির বয়স (কাশিতে কাশিতে আসিল): লোকটির বয়স ছিল ৩০-৩২ বছরের বেশি নয়
  • লেখক: কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • অপূর্বর সঙ্গী: ভামো যাত্রায় ট্রেনে অপূর্বর সঙ্গী ছিল তেওয়ারি (তার হিন্দুস্থানি ভৃত্য) এবং এক আর্দালি।

৩. গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (Short Q&A)

  • উপন্যাসটি কবে প্রকাশিত হয়? ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে।
  • কবে নিষিদ্ধ হয়েছিল? রাজদ্রোহের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার ১৯২৭ সালে (প্রকাশের মাত্র ৪ মাস পর) বইটি নিষিদ্ধ করে।
  • বুড়ো মানুষ কে? পুলিশ ইন্সপেক্টর নিমাইবাবু
  • নিমাইবাবু চুপ করে থাকার কারণ: গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত পোশাক, রুগ্ন চেহারা এবং হাস্যকর কথাবার্তা শুনে নিমাইবাবু এতটাই অবাক ও সন্দিহান হয়েছিলেন যে তিনি কিছুক্ষণ কোনো কথা বলতে পারেননি।
  • চুরির সময় তেওয়ারি কোথায় ছিল? তেওয়ারি তখন বর্মা নাচ দেখতে গিয়েছিল।
  • নিমাইবাবু কাকে সদাশয় ব্যক্তি বলেছেন? নিমাইবাবু জগদীশবাবু-কে সদাশয় ব্যক্তি বলেছেন (যিনি গিরীশ মহাপাত্রকে দয়া করে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন)।

৪. 'মিথ্যাবাদী' সংক্রান্ত প্রশ্ন

  • উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে কেন মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে? অপূর্ব যখন রেল স্টেশনে ফিরিঙ্গি যুবকদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ জানাতে যায়, তখন ইংরেজ স্টেশন মাস্টার তার অভিযোগ না শুনে উল্টে তাকেই 'মিথ্যাবাদী' (Liar) বলে অপমান করেন এবং ট্রেন থেকে নামিয়ে দেন।
  • মিথ্যাবাদী সিজন ১ কে? এটি সম্ভবত একটি ওয়েব সিরিজের নাম (Cheater/Mithyabadi), যা এই উপন্যাসের সাথে সম্পর্কিত নয়। তবে উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে ইংরেজরা ভারতীয়দের (অপূর্বকে) মিথ্যাবাদী বলেছিল।
  • মিথ্যাবাদীদের মোকাবিলা: পরাধীন দেশে ব্রিটিশদের এই অন্যায়ের মোকাবিলা অপূর্ব করতে পারেনি কারণ সে তখন একা ও অসহায় ছিল, কিন্তু তার হৃদয়ে এই অপমানের আগুনই দেশপ্রেমের জন্ম দিয়েছিল।

৫. পথের দাবী উপন্যাসের চরিত্রসমূহ (একনজরে)

চরিত্র

ভূমিকা

সব্যসাচী মল্লিক

প্রধান বিপ্লবী (পলিটিক্যাল সাসপেক্ট)

অপূর্ব

শিক্ষিত বাঙালি যুবক, যার মনে দেশপ্রেম ও ভীরুতার দ্বন্দ্ব রয়েছে।

নিমাইবাবু

ব্রিটিশ পুলিশের ইন্সপেক্টর এবং অপূর্বর বাবার বন্ধু।

গিরীশ মহাপাত্র

সব্যসাচীর রুগ্ন ও হাস্যকর ছদ্মবেশ।

জগদীশবাবু

পুলিশের লোক, যিনি গিরীশ মহাপাত্রের তল্লাশি নিয়ে বিরক্ত ছিলেন।

তেওয়ারি

অপূর্বর বিশ্বস্ত ভৃত্য।


রেল স্টেশনে অপূর্বর অপমানের দৃশ্য

১. ঘটনার প্রেক্ষাপট:

অপূর্ব যখন প্রথম শ্রেণীর (First Class) যাত্রী হিসেবে রেল ভ্রমণ করছিল, তখন কয়েকজন ফিরিঙ্গি যুবক (অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান বা ইংরেজ যুবক) বিনা কারণে তাকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। তারা কেবল তাকে গালিগালাজই করেনি, বরং তাকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্মে নামিয়ে দেয়

২. স্টেশনে অভিযোগ ও অপমান:

অপূর্ব এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে স্থানীয় ইংরেজ স্টেশন মাস্টারের কাছে যায়। কিন্তু সাহায্য করার বদলে স্টেশন মাস্টার অত্যন্ত রূঢ় আচরণ করেন। তিনি অপূর্বকে বলেন—

"You Liar! (মিথ্যাবাদী কোথাকার!)"


​স্টেশন মাস্টার দাবি করেন যে অপূর্ব মিথ্যে বলছে এবং কোনো অভিযোগ না শুনেই তাকে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দেন।

৩. পুলিশি অসহযোগিতা:

অপূর্ব যখন রেল পুলিশের কাছে সাহায্যের আশা করে, তখন তারা জানায় যে তারা কেবল সাহেবদের রক্ষা করার জন্য আছে, ভারতীয়দের জন্য নয়। এই ঘটনাটি পরাধীন ভারতে ভারতীয়দের অসহায়তা এবং ব্রিটিশ শাসনের নগ্ন রূপকে ফুটিয়ে তোলে।

৪. অপূর্বর প্রতিক্রিয়া ও মানসিক অবস্থা:

এই অপমানের কথা নিমাইবাবুকে বলার সময় অপূর্বর চোখ ফেটে জল আসছিল। সে বুঝতে পারে যে পরাধীন দেশে নিজের অধিকার বলতে কিছু নেই। সে নিজেকে 'ভীরু' বললেও তার মনের মধ্যে ব্রিটিশদের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও স্বদেশের বিপ্লবীদের প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যায়।

এই অংশ থেকে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন (৩ ও ৫ নম্বর):

  • "মিথ্যাবাদী কোথাকার!"— বক্তা কে? কাকে কেন মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে?
  • "আমি ভীরু কিন্তু আমি তো গুণ্ডা নই"— কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অপূর্ব এই কথা বলেছিল?
  • "বিনা দোষে ফিরিঙ্গি ছোড়ারা আমাকে লাথি মারল"— এই ঘটনার মধ্য দিয়ে পরাধীন ভারতের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা লেখো।

পথের দাবী: সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ) পথের দাবী গল্পের নোটস 

১. 'পথের দাবী' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু কী?

উত্তর: 'পথের দাবী' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো ব্রিটিশ শাসিত পরাধীন ভারতে বিপ্লবীদের সশস্ত্র সংগ্রামের কাহিনি। বিশেষ করে প্রধান চরিত্র সব্যসাচী মল্লিকের অদম্য দেশপ্রেম, পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার কৌশল এবং পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এখানে ফুটে উঠেছে।

২. ব্রিটিশ সরকার কেন 'পথের দাবী' উপন্যাসটি নিষিদ্ধ করেছিল?

উত্তর: ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ সরকার রাজদ্রোহের অভিযোগে এই উপন্যাসটি নিষিদ্ধ করে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই লেখায় ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের সরাসরি সমর্থন থাকায় ইংরেজ শাসকরা ভয় পেয়েছিল যে এটি সাধারণ মানুষকে বিদ্রোহে উস্কানি দেবে।

৩. সব্যসাচী মল্লিক কেন গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন?

উত্তর: সব্যসাচী মল্লিক ছিলেন একজন 'পলিটিক্যাল সাসপেক্ট' বা রাজদ্রোহী, যাকে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছিল। ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে রেঙ্গুন ত্যাগ করার জন্য তিনি একজন রুগ্ন, খিটখিটে এবং হাস্যকর পোশাক পরা 'গিরীশ মহাপাত্র' নামক ছদ্মবেশ ধারণ করেন।

৪. রেল স্টেশনে অপূর্বর সাথে কী ঘটেছিল?

উত্তর: রেলে ভ্রমণ করার সময় কয়েকজন ফিরিঙ্গি (ইংরেজ) যুবক বিনা কারণে অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্মে নামিয়ে দেয়। এই অপমানের বিচার চাইতে গেলে ইংরেজ স্টেশন মাস্টার তাকে সাহায্য না করে উল্টে 'মিথ্যাবাদী' বলে স্টেশন থেকে বের করে দেন।

৫. 'বুড়ো মানুষের কথাটা শুনো'—এখানে বুড়ো মানুষ কে?

উত্তর: এখানে বুড়ো মানুষ বলতে পুলিশ ইন্সপেক্টর নিমাইবাবু-কে বোঝানো হয়েছে। তিনি অপূর্বর বাবার বন্ধু ছিলেন এবং স্নেহবশত তাকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ