অদল বদল গল্পের ১- ৩ ও ৫ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর - WBBSE Class 10
অদল বদল গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর - দশম শ্রেণী বাংলা (মাধ্যমিক ২০২৬)
অদল বদল গল্পের নোটস
অদল বদল – পান্নালাল প্যাটেল।
- adol-badol-class-10-bengali-notes
১ নম্বরের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (মান - ১): অদল বদল গল্পের প্রশ্ন উত্তর
১. অমৃত ও হিসাবের জামা অদল-বদল করার বুদ্ধিটি কার মাথায় এসেছিল?
উত্তর: অমৃত ও হিসাবের ছিঁড়ে যাওয়া জামা অদল-বদল করার বুদ্ধিটি স্বয়ং অমৃতের মাথায় এসেছিল।
২. "হিসাব তো অবাক।"— হিসাব অবাক হয়েছিল কেন?
উত্তর: নিজের ছেঁড়া জামা অমৃতকে দিয়ে অমৃতের ভালো জামাটি নিজে পরার প্রস্তাব শুনে হিসাব অবাক হয়েছিল।
৩. "ওটা কী হবে?"— অমৃতের মা কোন জিনিসটি সম্পর্কে এই প্রশ্ন করেছিলেন?
উত্তর: অমৃতের মা অমৃতের হাতে থাকা এক টুকরো কাপড় (ছেঁড়া জামার অংশ) সম্পর্কে এই প্রশ্নটি করেছিলেন।
৪. অমৃত ও হিসাবের বাবাদের পেশা কী ছিল?
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের গল্প অনুযায়ী, অমৃত ও হিসাবের বাবারা দুজনেই পেশায় ছিলেন চাষি।
৫. কুস্তি লড়ার সময় অমৃতের জামা ঠিক কোথায় ছিঁড়েছিল?
উত্তর: কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়ার সময় অমৃতের নতুন জামার পকেট এবং তার নিচে প্রায় নয় ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা ছিঁড়ে গিয়েছিল।
৬. "পাথরে নাম লেখা"— কথার অর্থ কী?
উত্তর: 'পাথরে নাম লেখা' কথাটির অর্থ হলো কোনো স্মৃতি বা সম্পর্ককে চিরস্থায়ী বা অক্ষয় করে রাখা।
৭. অমৃত ও হিসাব কোন স্কুলে পড়াশোনা করত?
উত্তর: গল্পে সুনির্দিষ্ট কোনো স্কুলের নাম নেই, তবে তারা দুজনেই একই ক্লাসে এবং একই স্কুলে পড়াশোনা করত।
৮. গ্রামপ্রধান অমৃত ও হিসাবের কী কী নতুন নাম দিয়েছিলেন?
উত্তর: গ্রামপ্রধান অমৃতের নাম দিয়েছিলেন 'বদল' এবং হিসাবের নাম দিয়েছিলেন 'অদল'।
৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাধর্মী উত্তর (মান - ৩) অদল বদল গল্পের প্রশ্ন উত্তর অদল বদল গল্পের নোটস
১. "ওমা, এ তো হুবহু এক!"— কার উক্তি? কোন জিনিসটি দেখে বক্তা এমন বলেছিলেন?
- বক্তা: উক্তিটি অমৃতের মায়ের।
- প্রসঙ্গ ও কারণ: হোলির দিন বিকেলে অমৃত ও হিসাব যখন একই রকম নতুন জামা পরে কুস্তি দেখতে গিয়েছিল, তখন তাদের দুজনের চেহারা, গায়ের রং এবং পরনের জামা (রং, মাপ ও কাপড়) হুবহু এক ছিল। অমৃতের মা এই অদ্ভুত মিল দেখে এবং দুই বন্ধুর গভীর ভালোবাসা উপলব্ধি করে অবাক হয়ে কথাটি বলেছিলেন।
২. "ছেলেরা তো অবাক।"— কোন ঘটনায় ছেলেরা অবাক হয়ে গিয়েছিল এবং কেন?
- ঘটনা: অমৃত ও হিসাবের মধ্যে কুস্তি হবে বলে সবাই আশা করেছিল। কিন্তু অমৃতের পরিবর্তে কালিয়া যখন জোর করে হিসাবের সঙ্গে কুস্তি লড়তে চাইল এবং হিসাবকে মাটিতে আছড়ে দিল, তখন ছেলেরা অবাক হয়ে গিয়েছিল।
- কারণ: ছেলেরা ভেবেছিল দুই প্রাণের বন্ধু নিজেদের মধ্যে লড়াই করবে। কিন্তু অচেনা কালিয়ার এই আক্রমণাত্মক আচরণ এবং হিসাবের পরাজয় ছিল তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত।
৩. "হিসাবও এক মুহূর্তের জন্য ইতস্তত করে বলল..."— হিসাব কেন ইতস্তত করেছিল? সে শেষ পর্যন্ত কী বলেছিল?
- ইতস্তত করার কারণ: অমৃত যখন তার নিজের ভালো জামাটি ছিঁড়ে যাওয়া জামার বদলে হিসাবকে দিতে চাইল, তখন হিসাব দ্বিধায় পড়েছিল। সে জানত অমৃতের বাবা জানলে তাকে খুব মারবেন। বন্ধুর এই চরম ত্যাগ স্বীকারের কথা ভেবেই সে ইতস্তত করেছিল।
- শেষ কথা: শেষ পর্যন্ত সে অমৃতের জেদ দেখে জামা অদল-বদলে রাজি হয় এবং বলে— "তুই কী পরবি?"
৪. "ইসাবের মেজাজ চড়ে গেল।"— কার ওপর কেন হিসাবের মেজাজ চড়ে গিয়েছিল?
- ব্যক্তি: কালিয়ার ওপর হিসাবের মেজাজ চড়ে গিয়েছিল।
- কারণ: কালিয়া যখন অমৃতকে ল্যাং মেরে নিচে ফেলে দিয়ে ধুলোবালি মাখিয়ে দেয় এবং তাকে নিয়ে উপহাস করতে থাকে, তখন নিজের প্রিয় বন্ধুর এই অপমান সহ্য করতে না পেরে হিসাব অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে। বন্ধুর অপমানের বদলা নিতেই সে কালিয়াকে কুস্তির আহ্বান জানায়।
৫. "অমৃতের বুক ঠুকঠুক করছিল।"— অমৃতের বুক ঠুকঠুক করার কারণ কী ছিল?
- কারণ: অমৃতের নতুন জামার পকেট ছিঁড়ে গিয়েছিল। সেই সময়কার কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে জামা ছিঁড়ে যাওয়া মানেই ছিল বাবার কাছে প্রচণ্ড মার খাওয়ার ভয়। বাড়িতে গিয়ে বাবার মুখোমুখি হতে হবে এবং জামার এই অবস্থা দেখে বাবা কী শাস্তি দেবেন, সেই আতঙ্কেই অমৃতের বুক ঠুকঠুক করছিল।
৬. "আমার কাছে তো উত্তর তৈরিই ছিল।"— কার কাছে কী উত্তর তৈরি ছিল?
- বক্তা: উদ্ধৃত অংশে বক্তা স্বয়ং অমৃত।
- উত্তর: অমৃতের মা যখন তাকে প্রশ্ন করেছিলেন যে ছিঁড়ে যাওয়া জামার কথা জিজ্ঞেস করলে সে বাবাকে কী জবাব দেবে, তখন অমৃতের কাছে উত্তর তৈরি ছিল। সে ঠিক করে রেখেছিল যে সে বলবে— কুস্তি লড়তে গিয়ে নয়, বরং পথে কুত্তার তাড়া খেয়ে পড়ে গিয়ে তার জামা ছিঁড়ে গেছে।
৭. "আজ থেকে তোমার নাম ‘বদল’..."— কে কাকে এই নাম দিয়েছিলেন এবং কেন?
- ব্যক্তি: এই নতুন নামকরণ করেছিলেন গ্রামের গ্রামপ্রধান বা মোড়ল। তিনি অমৃতের নাম দিয়েছিলেন 'বদল' এবং হিসাবের নাম দিয়েছিলেন 'অদল'।
- কারণ: দুই বন্ধুর অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং একে অপরের জন্য জামা বদল করে ত্যাগ স্বীকারের যে গল্পটি পুরো গ্রাম জেনে গিয়েছিল, সেই ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই তিনি এই প্রতীকী নাম দিয়েছিলেন।
অদল বদল গল্পের প্রশ্ন উত্তর ৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন (মান - ৫) অদল বদল গল্পের নোটস
১. 'অদল বদল' গল্পটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উৎস: পান্নালাল প্যাটেলের লেখা এবং অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্তের অনূদিত 'অদল বদল' গল্পের নামকরণটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নামকরণের যৌক্তিকতা: গল্পের মূল ঘটনা অমৃত ও হিসাবের নতুন জামা অদল-বদল করাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। হোলির দিন কুস্তি লড়তে গিয়ে অমৃতের নতুন জামা ছিঁড়ে গেলে, বাবার মারের হাত থেকে বন্ধুকে বাঁচাতে হিসাব নিজের অক্ষত জামাটি অমৃতকে দিয়ে দেয় এবং নিজে ছেঁড়া জামাটি পরে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি কেবল দুটি জামার অদল-বদল মনে হলেও এর গভীরে লুকিয়ে ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা।
অন্য কীসের বদল ঘটেছিল: জামা বদলের মাধ্যমে এখানে মূলত হৃদয়ের ও মানসিকতার বদল ঘটেছিল।
- ধর্মীয় বিভেদের বদল: হিন্দু অমৃত আর মুসলিম হিসাবের এই ত্যাগ প্রমাণ করে যে বন্ধুত্বের কোনো ধর্ম হয় না।
- পিতা-মাতার মানসিকতার বদল: ছেলেদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখে তাদের বাবাদের কঠোর মনোভাব বদলে যায়। হাসানভাই ও অমৃতের বাবার চোখের জল প্রমাণ করে যে তারা সন্তানদের থেকে নতুন করে ভালোবাসার পাঠ নিয়েছেন।
তাই বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গল্পটির নামকরণ সার্থক ও সুন্দর হয়েছে।
২. অমৃত ও হিসাবের অটুট বন্ধুত্বের পরিচয় দাও।
পরিচয়: 'অদল বদল' গল্পের দুই প্রধান চরিত্র অমৃত ও হিসাব। তারা একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়ে, তাদের বাবাদের পেশাও এক এবং তাদের বাড়ির অবস্থানও মুখোমুখি। কিন্তু তাদের বন্ধুত্বের পরিচয় শুধু এই মিলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
বন্ধুত্বের নিদর্শন:
- সহমর্মিতা: অমৃত যখন নতুন জামার জন্য জেদ ধরে, সে কিন্তু হিসাবের মতো জামাই চেয়েছিল। অর্থাৎ বন্ধুর সমান হওয়াই ছিল তার লক্ষ্য।
- বিপদে পাশে দাঁড়ানো: কালিয়া যখন অমৃতকে ল্যাং মেরে ফেলে দেয়, তখন হিসাব নিজের গায়ে শক্তি থাকা সত্ত্বেও শান্ত না থেকে বন্ধুর অপমানের বদলা নিতে কুস্তি লড়ে।
- চরম ত্যাগ: অমৃতকে বাবার মার থেকে বাঁচাতে হিসাব নিজের নতুন জামাটি তাকে দিয়ে দেয়। সে জানত তার বাবা (হাসানভাই) তাকে মারবেন, তবুও বন্ধুর কষ্টের কথা ভেবে সে এই ঝুঁকি নেয়।
উপসংহার: তাদের বন্ধুত্ব কোনো স্বার্থের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল না। একে অপরের পরিপূরক হিসেবে তারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা প্রকৃত বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
৩. "ওদের দেখে গ্রামশুদ্ধু লোক শিখল—" গ্রামশুদ্ধু লোক কী শিখল? বর্তমান সমাজে প্রাসঙ্গিকতা আলোচনা করো।
গ্রামবাসীর শিক্ষা: অমৃত ও হিসাবের জামা অদল-বদলের ঘটনা এবং তাদের অটুট বন্ধন দেখে গ্রামবাসী প্রকৃত মানবিকতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পাঠ শিখল। তারা বুঝতে পারল যে জাত-পাত বা ধর্মের চেয়েও মানুষের হৃদয়ের টান অনেক বড়। রক্তমাংসের মানুষ হিসেবে হিন্দু-মুসলিম যে একে অপরের পরিপূরক হতে পারে, তা এই দুই কিশোর প্রমাণ করে দিয়েছিল।
বর্তমান সমাজে প্রাসঙ্গিকতা: আজকের দিনে যখন তুচ্ছ কারণে ধর্মের নামে ভেদাভেদ বা বিবাদ দেখা যায়, সেখানে 'অদল বদল' গল্পটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
- সম্প্রীতি: গল্পটি শেখায় যে ঈশ্বর বা আল্লাহ আলাদা হলেও মানুষের চোখের জল বা কষ্টের রং এক।
- সহনশীলতা: একে অপরের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোর যে মানসিকতা অমৃত-হিসাব দেখিয়েছে, তা বর্তমান অস্থির সমাজে শান্তি বজায় রাখতে একান্ত জরুরি।
৪. গল্পে অমৃত ও হিসাবের বাবাদের মানসিকতার পরিচয় দাও। হাসানভাই কেন আপ্লুত হয়েছিলেন?
বাবাদের মানসিকতা: গল্পের শুরুতে দুই বাবাকেই বেশ কঠোর ও শাসনপ্রিয় মনে হয়। বিশেষ করে হিসাবের বাবা হাসানভাই মেজাজি মানুষ ছিলেন। অভাবের সংসারে সন্তানদের আবদার মেটানো বা জামা ছিঁড়ে ফেলাকে তারা অপরাধ হিসেবেই দেখতেন। কিন্তু গল্পের শেষে তাদের মধ্যে এক গভীর মানবিকতা ও বাৎসল্য রস ফুটে ওঠে।
হাসানভাইয়ের আপ্লুত হওয়ার কারণ: হাসানভাই যখন দেখলেন যে অমৃত নিজের বন্ধুকে বাঁচাতে বাবার মার খেতেও প্রস্তুত এবং তারা জামা বদল করে নিজেদের আড়াল করতে চাইছে, তখন তিনি অবাক হয়ে যান। তিনি উপলব্ধি করেন যে ছোট ছোট এই ছেলেগুলো ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে একে অপরকে কতটা ভালোবাসে। অমৃতের এই নিঃস্বার্থ বন্ধুপ্রীতি এবং হিসাবের প্রতি তার মায়া দেখে হাসানভাইয়ের মন গলে যায়। তিনি রেগে যাওয়ার বদলে অমৃতকে জড়িয়ে ধরেন এবং তার চোখ দিয়ে আনন্দের অশ্রু ঝরতে থাকে।
৫. "ওদের ভালোবাসা দেখে হাসানভাইয়ের চোখ জুড়িয়ে গেল।"— হাসানভাই কে? তিনি কী দেখেছিলেন? কারণটি লেখো।
পরিচয়: হাসানভাই হলেন 'অদল বদল' গল্পের অন্যতম চরিত্র হিসাবের বাবা। তিনি পেশায় একজন চাষি এবং অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ।
তিনি যা দেখেছিলেন: হাসানভাই লুকিয়ে অমৃত ও হিসাবের জামা অদল-বদলের পুরো ঘটনাটি দেখেছিলেন। তিনি দেখেছিলেন কীভাবে অমৃত নিজের ভালো জামাটি হিসাবকে দিয়ে দিল এবং নিজে ছেঁড়া জামাটি পরে বাবার মার খাওয়ার ঝুঁকি নিল, যাতে হিসাবকে তার বাবা মারতে না পারেন।
চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার কারণ: হাসানভাই অভিভূত হয়েছিলেন এই ভেবে যে, অবোধ দুটি শিশু ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে একে অপরের জন্য এমন ত্যাগ করতে পারে। অমৃতের মধ্যে যে পরার্থপরতা তিনি দেখেছিলেন, তা আধুনিক মানুষের মধ্যে বিরল। এই পবিত্র এবং নিষ্কাম ভালোবাসা দেখে তার পিতৃহৃদয় তৃপ্ত হয়েছিল। তাদের এই স্বর্গীয় বন্ধুত্বের দৃশ্য দেখেই হাসানভাইয়ের চোখ জুড়িয়ে গিয়েছিল।
গল্প ও চরিত্র ভিত্তিক উত্তর অদল বদল গল্পের নোটস
- অমৃতের মায়ের নাম কী ছিল? গল্পে অমৃতের মায়ের কোনো নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাকে কেবল 'অমৃতের মা' হিসেবেই সম্বোধন করা হয়েছে।
- অমৃতকে কেন খোলা মাঠে নিয়ে এসেছিল? কালিয়া জোর করে অমৃতের সঙ্গে কুস্তি লড়ার জন্য তাকে খোলা মাঠে নিয়ে এসেছিল।
- অমৃত ও ইসাবের বয়স কত ছিল? গল্পে তাদের সুনির্দিষ্ট বয়সের কথা বলা হয়নি, তবে তারা দুজনেই দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। অর্থাৎ তাদের বয়স আনুমানিক ১৫-১৬ বছরের মধ্যে।
- ইসাবের বাবার নাম কী ছিল? ইসাবের বাবার নাম ছিল হাসানভাই।
- অমৃত কি ফতোয়া জারি করেছিল? অমৃত ফতোয়া জারি করেছিল যে, ইসাবের মতো ঠিক একই রকম নতুন জামা না পেলে সে স্কুলে যাবে না।
- অমৃতের জবাব কী ছিল? অমৃতের মা যখন জিজ্ঞেস করেছিলেন যে জামা ছিঁড়লে বাবা মারবেন না? তখন অমৃত জবাব দিয়েছিল— "আমার কাছে তো উত্তর তৈরিই ছিল।" সে ভেবেছিল বলবে যে কুত্তার তাড়া খেয়ে পড়ে গিয়ে তার জামা ছিঁড়েছে।
- কী জিনিস খাঁটি করে তোলে? গল্পের শেষে অমৃত ও ইসাবের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে যে পরস্পরের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং ত্যাগ মানুষের সম্পর্ককে খাঁটি করে তোলে।
লেখক পান্নালাল প্যাটেল সম্পর্কিত তথ্য
- পান্নালাল প্যাটেল কে ছিলেন? তিনি ছিলেন আধুনিক ভারতের একজন প্রথিতযশা কথাসাহিত্যিক এবং জ্ঞানপীঠ পুরস্কার বিজয়ী লেখক।
- পান্নালাল প্যাটেল কোন ভাষার লেখক ছিলেন? তিনি মূল গুজরাটি ভাষার লেখক ছিলেন।
- পান্নালাল প্যাটেলের ছদ্মনাম কী ছিল? পান্নালাল প্যাটেলের কোনো বহুল প্রচলিত ছদ্মনাম নেই। তিনি নিজের নামেই সাহিত্যচর্চা করতেন।
- পান্নালাল প্যাটেলের পুরো নাম কী? তাঁর পুরো নাম হলো পান্নালাল নানালাল প্যাটেল।
- প্যাটেল কোথা থেকে ভারতে আসেন? পান্নালাল প্যাটেল বর্তমান রাজস্থানের দুঙ্গারপুর জেলার মাডলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি মূলত গুজরাটের অধিবাসী ছিলেন (সেই সময় দেশ ভাগ হয়নি, তাই বাইরে থেকে আসার প্রশ্নটি এখানে প্রযোজ্য নয়)।
অনুবাদ সংক্রান্ত তথ্য
- অদল বদল গল্পটি কে তরজমা করেছিলেন? গল্পটি গুজরাটি থেকে বাংলায় তরজমা (অনুবাদ) করেছেন অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।
মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ টিপস 💡
- মূল টেক্সট খুঁটিয়ে পড়ুন: 'অদল বদল' গল্পের ছোট ছোট তথ্য যেমন—জামা কোথায় ছিঁড়েছিল, অমৃতের বাবার কী কী ছিল (জমি, গরু) এই বিষয়গুলো এমসিকিউ (MCQ)-এর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
- উদ্ধৃতির ব্যবহার: বড় প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় গল্পের সংলাপগুলো (যেমন—"ওমা, এ তো হুবহু এক!") কোটেশন মার্কের ভেতর লিখলে বেশি নম্বর পাওয়া যায়।
- বানান সচেতনতা: পান্নালাল প্যাটেল, অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত বা গল্পের চরিত্রগুলোর বানান যেন ভুল না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিন।
ব্যক্তিগত পরামর্শ (Personal Advice) ✨
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, 'অদল বদল' কেবল একটি গল্প নয়, এটি অকৃত্রিম বন্ধুত্বের এক অনন্য দলিল। উত্তর মুখস্থ করার চেয়ে গল্পের মূল ভাববস্তু—অর্থাৎ সম্প্রীতি এবং ত্যাগের বিষয়টি অনুভব করার চেষ্টা করো। পরীক্ষার খাতায় নিজের ভাষায় গুছিয়ে লিখতে পারলে পরীক্ষক বেশি খুশি হন। পড়ার সময় একটি খাতা পাশে রাখো এবং গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলো নোট করে নাও, যা পরীক্ষার আগের রাতে রিভিশন দিতে সাহায্য করবে।
কল টু অ্যাকশন (Call to Action - CTA) 📣
আপনার মতামত জানান:
এই নোটসগুলো কি আপনার উপকারে লেগেছে? 'অদল বদল' গল্পের আর কোন প্রশ্নের উত্তর আপনার প্রয়োজন? নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান।
বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:
পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আপনার বন্ধুদের সাহায্য করতে এই পোস্টটি ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করুন।
পরবর্তী আপডেট পান:
দশম শ্রেণীর অন্যান্য বিষয়ের অধ্যায়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ নোটস এবং সাজেশন পেতে আমাদের ব্লগে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন এবং নিয়মিত ভিজিট করুন।
প্রয়োজনীয় লিঙ্ক:
- [দশম শ্রেণী বাংলা সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন]
- [অন্যান্য গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর]
অদল বদল গল্পের সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs) অদল বদল গল্পের নোটস
প্রশ্ন ১: 'অদল বদল' গল্পের মূল উপজীব্য বিষয় কী?
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পের মূল বিষয় হলো দুই কিশোর বন্ধু—অমৃত ও ইসাবের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের জন্য ত্যাগ স্বীকারই এই গল্পের প্রধান বার্তা।
প্রশ্ন ২: অমৃত কেন নতুন জামার জন্য জেদ ধরেছিল?
উত্তর: অমৃতের বন্ধু ইসাব একটি নতুন জামা পেয়েছিল। বন্ধুর মতো ঠিক একই রকম জামা পরে সেও হোলির উৎসবে শামিল হতে চেয়েছিল, তাই সে নতুন জামার জন্য জেদ ধরেছিল।
প্রশ্ন ৩: 'অদল বদল' গল্পটি মূল কোন ভাষায় লেখা এবং বাংলায় কে অনুবাদ করেছেন?
উত্তর: গল্পটি মূল গুজরাটি ভাষায় লেখা। এটি বাংলায় ‘অদল বদল’ নামে অনুবাদ বা তরজমা করেছেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।
প্রশ্ন ৪: ইসাব কেন অমৃতকে নিজের জামা দিয়ে দিয়েছিল?
উত্তর: কুস্তি লড়তে গিয়ে অমৃতের নতুন জামা ছিঁড়ে গিয়েছিল। অমৃতের বাবা জানলে তাকে খুব মারবেন, এই ভয়ে অমৃত ভীত ছিল। বন্ধুকে সেই কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচাতে ইসাব নিজের ভালো জামাটি তাকে দিয়ে দিয়েছিল।
প্রশ্ন ৫: অমৃত ও ইসাবের নতুন নাম কী ছিল?
উত্তর: দুই বন্ধুর অটুট বন্ধন দেখে মুগ্ধ হয়ে গ্রামের মোড়ল বা গ্রামপ্রধান তাদের নতুন নাম দিয়েছিলেন—অমৃতের নাম ‘বদল’ এবং ইসাবের নাম ‘অদল’।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.