জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর ও বড় নোটস - দশম শ্রেণী ও মাধ্যমিক ২০২৬ | আশাপূর্ণা দেবী
জ্ঞানচক্ষু – আশাপূর্ণা দেবী
এখানে শুধু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের নোটস তুলে ধরা হয়েছে।
১. অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (মান - ১)
এই বিভাগে মূলত খুঁটিনাটি তথ্য থেকে প্রশ্ন আসে:
- তপনের পুরো নাম কী? (উত্তর: শ্রীতপন কুমার রায়)
- তপনের লেখা গল্পটির নাম কী ছিল? (উত্তর: প্রথম দিন)
- তপনের নতুন মেসোমশাইয়ের পেশা কী ছিল? (উত্তর: তিনি একজন প্রফেসর ছিলেন)
- তপনের গল্পটি কোন পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল? (উত্তর: সন্ধ্যাতারা)
- “রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই”—এখানে ‘জহুরি’ কে? (উত্তর: নতুন মেসোমশাই)
- তপন কাঁচা হাতে কী বিষয়ে গল্প লিখেছিল? (উত্তর: তার স্কুলে ভরতি হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে)
২. সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্ন (মান - ৩) জ্ঞানচক্ষু গল্পের নোটস
১. “এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের।” — কোন বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল? কীভাবে সেই সন্দেহ দূর হলো?
উৎস: উদ্ধৃত অংশটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের অন্তর্গত।
সন্দেহের বিষয়: তপনের ধারণা ছিল লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো হন না, তারা অন্য কোনো জগতের মানুষ। আকাশ থেকে পড়া কোনো অতিপ্রাকৃত জীব হিসেবেই সে লেখকদের কল্পনা করত। সাধারণ মানুষের মতো তারা যে দাড়ি কামান, স্নান করেন বা ঘুমান—এ বিষয়ে তপনের মনে গভীর সন্দেহ ছিল।
সন্দেহ দূর হওয়া: তপনের ছোটো মাসির বিয়ে হয় একজন নতুন মেসোমশাইয়ের সঙ্গে, যিনি ছিলেন একজন লেখক। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসে মেসোমশাইকে যখন তপন খুব কাছ থেকে দেখল, তখন তার ভুল ভাঙল। সে দেখল লেখক মেসোমশাইও সাধারণ মানুষের মতোই খবরের কাগজ পড়েন, দাড়ি কামান, মেজাজ করেন এবং সিনেমা দেখতে যান। অর্থাৎ মেসোমশাইকে চাক্ষুষ দেখার পরেই তপনের সেই আজন্ম লালিত সন্দেহ দূর হলো।
২. “তপনের মনে হয় আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।” — কোন দিনটিকে কেন তপনের জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন বলা হয়েছে?
উৎস: উদ্ধৃত অংশটি আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের অন্তর্গত।
দিনটির পরিচয়: যে দিন তপনের নিজের লেখা গল্প ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপা হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল, সেই দিনটিকেই তপনের জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন বলা হয়েছে।
দুঃখের কারণ: গল্প ছাপার সংবাদে তপন প্রথমে আনন্দিত হলেও, সে যখন বাড়িতে সবার সামনে নিজের লেখা গল্পটি পড়তে শুরু করে, তখন সে অবাক হয়ে যায়। সে দেখে তার ছোটো মেসোমশাই গল্পটি ‘একটু কারেকশন’ করার নামে আগাগোড়া বদলে দিয়েছেন। সেখানে তপনের নিজস্ব ভাষা বা মৌলিকতা বলতে কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। নিজের নামের তলায় অন্য কারোর লেখা পড়ার যে চরম অপমান ও লজ্জা, তা তপনকে বিদ্ধ করে। এই আত্মমর্যাদাবোধ থেকেই সার্থকতা বা সাফল্যের দিনটি তার কাছে সবচেয়ে দুঃখের দিন হয়ে দাঁড়ায়।
৩. “গল্প ছেপে আসার ভয়ংকর আহ্লাদটা তার কাছে বিষাদ হয়ে গেল।” — কেন আহ্লাদ বিষাদে পরিণত হয়েছিল?
উৎস: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প থেকে উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে।
আহ্লাদের কারণ: কিশোর তপন ছিল উচ্চাকাঙ্ক্ষী। তার লেখা ‘প্রথম দিন’ নামক গল্পটি স্বনামধন্য ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে দেখে সে প্রবল আহ্লাদিত বা আনন্দিত হয়েছিল।
বিষাদে পরিণত হওয়ার কারণ: তপনের এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সে বুঝতে পারে তার গল্পের সাফল্যের কৃতিত্ব মেসোমশাই নিজের পকেটে পুরে নিয়েছেন। বাড়ির সবাই বলতে থাকে মেসোমশাই না থাকলে তপনের গল্প কোনোদিন ছাপা হতো না। এরপর যখন সে গল্পটি পড়তে যায়, দেখে মেসোমশাই ‘কারেকশন’-এর নামে গল্পের প্রতিটি লাইন নিজের ভাষায় লিখে দিয়েছেন। নিজের সৃষ্টির ওপর এই পরজীবী হস্তক্ষেপ তপনের কাছে বিষাদময় হয়ে ওঠে। তার মনে হয় এর চেয়ে গল্প না ছাপাই ভালো ছিল।
৪. “মেসোমশাই একটু ‘কারেকশন’ করে দিয়েছেন।” — উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উৎস: উদ্ধৃত অংশটি আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের অন্তর্গত।
তাৎপর্য: ছোটো মেসোমশাই তপনের লেখা গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার সম্পাদকের কাছে দেওয়ার সময় বলেছিলেন যে, কাঁচা হাতের লেখা বলে তিনি একটু সংশোধন করে দিয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি তপনের প্রতি দয়া বা সাহায্য বলে মনে হলেও, এর আড়ালে ছিল এক গভীর বিদ্রূপ ও অবজ্ঞা।
আসলে মেসোমশাই ‘একটু কারেকশন’-এর ছলে গল্পের মূল বিষয়বস্তু বাদে ভাষা ও বর্ণনাভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিলেন। এর ফলে গল্পটি ছাপার উপযোগী হলেও তা আর তপনের মৌলিক সৃষ্টি থাকেনি। মেসোমশাইয়ের এই ‘কারেকশন’ আসলে তপনের মতো এক নবীন লেখকের প্রতিভাকে অস্বীকার করা এবং নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করার নামান্তর। এই তথাকথিত সংশোধনের আড়ালেই তপনের নিজস্বতা হারিয়ে গিয়েছিল।
৫. “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?” — কোন ঘটনাকে কেন ‘অলৌকিক’ বলা হয়েছে?
উৎস: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের অংশ এটি।
অলৌকিক ঘটনা: তপনের লেখা গল্প হাজার হাজার ছেলের হাতে ঘোরা ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে এবং সেখানে লেখক হিসেবে তার নাম (শ্রীতপন কুমার রায়) মুদ্রিত হয়েছে—এই অভাবনীয় ঘটনাকেই তপনের কাছে ‘অলৌকিক’ বলে মনে হয়েছে।
কারণ: তপন ছিল একজন অতি সাধারণ কিশোর। তার মতো ছোটো একটি ছেলের লেখা গল্প যে ছাপা হতে পারে এবং সাধারণ মানুষ তা পড়বে, এটা ছিল তার কল্পনার বাইরে। ছাপার হরফে নিজের নাম দেখার যে আনন্দ ও বিস্ময়, তা সাধারণ বাস্তবের ঊর্ধ্বে ছিল বলেই তপন তাকে ‘অলৌকিক’ বা অলৌকিক মহিমায় মণ্ডিত বলে মনে করেছিল। যদিও গল্পের শেষে এই অলৌকিকতা এক তিক্ত অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।
শিক্ষার্থীদের জন্য টিপস: এই নোটগুলি লেখার সময় গল্পের নাম ও লেখিকার নাম অবশ্যই উল্লেখ করবেন। এছাড়া প্রতিটি উত্তরের শেষে এক লাইনের একটি উপসংহার দিলে উত্তরের মান আরও বৃদ্ধি পাবে।
৩. রচনাধর্মী বা বড় প্রশ্ন (মান - ৫): জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর মান 5
১. তপনের ‘জ্ঞানচক্ষু’ কীভাবে খুলেছিল? (নামকরণের সার্থকতা / মানসিক বিবর্তন)
উৎস: প্রখ্যাত সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের নামকরণে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ব্যঞ্জনা রয়েছে।
ব্যাখ্যা: গল্পের শুরুতে তপনের ‘জ্ঞানচক্ষু’ উন্মোচিত হয়েছিল এক কৌতূহল থেকে। সে জানত না যে লেখকরা সাধারণ মানুষের মতোই হন। তার নতুন মেসোমশাইকে দেখে সে প্রথমবার বুঝতে পারে যে লেখকরাও দাড়ি কামান, মেজাজ করেন বা সিনেমা দেখেন। এটি ছিল তার বাহ্যিক অভিজ্ঞতার জ্ঞানচক্ষু।
কিন্তু গল্পের শেষে তপনের প্রকৃত ‘জ্ঞানচক্ষু’ উন্মোচিত হয় এক তিক্ত আত্মোপলব্ধির মধ্য দিয়ে। নিজের লেখা গল্প ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপা হওয়ার পর সে দেখে, মেসোমশাই ‘কারেকশন’-এর নামে তার গল্পের মৌলিকতা সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিয়েছেন। নিজের নামের তলায় অন্য কারোর লেখা পড়ার যে চরম অপমান, তা তপনকে বিদ্ধ করে। সে বুঝতে পারে, অন্য কারোর করুণায় বা হস্তক্ষেপে বড় লেখক হওয়া যায় না। সার্থকতা তখনই আসে যখন নিজের সৃষ্টি নিজের ভাষায় ফুটে ওঠে। এই আত্মমর্যাদাবোধ ও আত্মপরিচয় লাভের অভিজ্ঞতাই হলো তপনের প্রকৃত ‘জ্ঞানচক্ষু’ খুলে যাওয়া। তাই গল্পটির নামকরণ অত্যন্ত সার্থক।
২. তপন চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। (স্বপ্ন, উৎসাহ ও আত্মোপলব্ধি)
উৎস: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো কিশোর তপন, যার মধ্য দিয়ে এক উদীয়মান লেখকের বিবর্তন ফুটে উঠেছে।
চরিত্রের বৈশিষ্ট্য:
- লেখক হওয়ার স্বপ্ন: তপন একজন সাধারণ কিশোর হলেও তার মনের গহীনে লেখক হওয়ার তীব্র বাসনা ছিল। সে আর পাঁচটা ছেলের মতো রাজা-রানি বা রোমাঞ্চকর গল্প না লিখে নিজের অভিজ্ঞতার নিরিখে গল্প লিখেছিল।
- অদম্য উৎসাহ: নতুন মেসোকে দেখে তার মনে লেখার প্রেরণা জাগে। সে দুপুরবেলায় একলা ছাদে বসে হোম-টাস্কের খাতায় তিন তলা গল্প লিখে ফেলেছিল, যা তার নিষ্ঠার পরিচয় দেয়।
- আবেগপ্রবণতা ও লজ্জা: নিজের গল্প ছাপা হওয়ার সংবাদে সে যেমন আহ্লাদিত হয়েছিল, তেমনি বাড়িতে সবার বিদ্রূপ ও প্রশংসার মাঝে এক ধরনের কুণ্ঠা ও লজ্জা অনুভব করেছিল।
- আত্মোপলব্ধি ও চারিত্রিক দৃঢ়তা: গল্পের শেষে তপন এক পরিণত মানসিকতার পরিচয় দেয়। অন্যের দেওয়া ‘কারেকশন’ করা লেখা পড়ার অপমানে সে ভেঙে না পড়ে প্রতিজ্ঞা করে— “যদি কখনো লেখা ছাপতে দেয় তো তপন নিজে গিয়ে দেবে। নিজের কাঁচা লেখা ছাপা হয় হোক, না হয় না হোক।” এই দৃঢ়চেতা মনোভাবই তপন চরিত্রকে অনন্য করে তুলেছে।
৩. নতুন মেসোমশাইয়ের চরিত্রটি আলোচনা করো। (ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব)
উৎস: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে নতুন মেসোমশাই চরিত্রটি এক ধরনের দ্বিচারিতার প্রতীক।
চরিত্রের বিশ্লেষণ:
- ইতিবাচক প্রভাব: মেসোমশাই পেশায় প্রফেসর এবং নেশায় লেখক ছিলেন। তাঁর সান্নিধ্যেই তপন প্রথম বুঝতে পারে যে লেখকরা সাধারণ রক্ত-মাংসের মানুষ। মেসোমশাইয়ের উৎসাহেই তপন গল্প লেখায় সাহসী হয়। এমনকি তাঁর উদ্যোগেই তপনের গল্প ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সুযোগ পায়।
- নেতিবাচক প্রভাব: মেসোমশাইয়ের চরিত্রে এক ধরনের সূক্ষ্ম অহংকার ও পরশ্রীকাতরতা ছিল। তিনি তপনের কাঁচা হাতের লেখাটিকে ‘একটু কারেকশন’-এর নামে আগাগোড়া বদলে দেন। এতে তপনের মৌলিকত্ব নষ্ট হয়। মেসোমশাই সম্ভবত নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করতেই নবীন প্রতিভার ওপর নিজের কলম চালিয়েছিলেন।
- উপসংহার: মেসোমশাই তপনের সামনে সাফল্যের দরজা খুলে দিলেও, তার আত্মমর্যাদাকে চরম আঘাত করেছিলেন। তাঁর এই তথাকথিত ‘উপকার’ আসলে তপনের মতো এক উদীয়মান লেখকের সৃষ্টিকে হত্যা করার শামিল।
৪. “নিজের লেখা পড়তে গিয়ে তপন দেখল অন্য কারুর লেখা।”—অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্য জগতের কোন্ রূঢ় সত্য প্রকাশিত?
উৎস: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি কেবল এক কিশোরের গল্প নয়, এটি সমকালীন সাহিত্য জগতের এক নগ্ন বাস্তবকে উন্মোচিত করে।
রূঢ় সত্য:
- মৌলিকতার অভাব: সাহিত্য জগতে অনেক সময় প্রতিভার চেয়ে ‘সুপারিশ’ বা ‘সম্পর্ক’ বড় হয়ে দাঁড়ায়। তপনের মেসোমশাই সম্পাদককে বলেছিলেন বলে গল্পটি ছাপা হয়েছিল, তপনের গুণের জন্য নয়।
- হস্তক্ষেপ ও জালিয়াতি: নতুন লেখকদের লেখা অনেক সময় সম্পাদনা বা সংশোধনের নামে বড় লেখকরা সম্পূর্ণ বদলে দেন। এতে লেখকের নিজস্ব কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায়। মেসোমশাইয়ের কলম চালানো আসলে সাহিত্যের বাণিজ্যিক জালিয়াতির প্রতীক।
- অহংকার ও আত্মকেন্দ্রিকতা: প্রতিষ্ঠিত লেখকরা অনেক সময় নবীনদের সাহায্য করার নামে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চান। মেসোমশাই তপনের গল্পটি এমনভাবে বদলেছিলেন যেন প্রমাণ হয় যে—মেসোমশাই না থাকলে তপন কিছুই নয়। লেখিকা এই রূঢ় সত্যটিই ফুটিয়ে তুলেছেন যে, সাহিত্য জগতে অনেক সময় অন্যের নামের তলায় নিজের কথা প্রচারের নোংরা রাজনীতি কাজ করে।
৫. “তপন আর পড়তে পারে না, বোবার মতো বসে থাকে।”—তপনের এমন অবস্থার কারণ কী? এই পরিস্থিতি থেকে সে কী শিক্ষা লাভ করেছিল?
উৎস: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের চরম মূহূর্তে তপনের এই নির্বাক অবস্থাটি লক্ষ্য করা যায়।
অবস্থার কারণ: তপন খুব উৎসাহ নিয়ে বাড়ির সবার সামনে নিজের ছাপা গল্পটি পড়তে গিয়েছিল। কিন্তু পড়ার সময় সে দেখে, একটি লাইনও তার নিজের নয়। মেসোমশাই সংশোধনের ছলে তার পুরো গল্পটাই বদলে দিয়েছেন। নিজের সৃষ্টির ওপর এই পরজীবী আক্রমণ এবং বাড়িতে সবার বিদ্রূপাত্মক উক্তি (“মেসো না থাকলে কি আর ওর লেখা কোনোদিন ছাপা হতো?”) তপনকে স্তব্ধ করে দেয়। যে আনন্দের মুহূর্তের জন্য সে অপেক্ষা করছিল, তা চরম অপমানে পরিণত হওয়ায় সে বোবার মতো বসে থাকে।
প্রাপ্ত শিক্ষা: এই পরিস্থিতি থেকে তপন এক অমূল্য জীবনশিক্ষা লাভ করে—
১. নিজের লেখার কৃতিত্ব অন্যকে দেওয়ার চেয়ে বড় অপমান আর নেই।
২. কাঁচা হাতের হলেও নিজের লেখা নিজের হওয়া উচিত।
৩. ভবিষ্যতে যদি কখনও গল্প ছাপতে দেয়, তবে সে নিজেই গিয়ে দিয়ে আসবে—সেখানে অন্য কোনো মেসো বা সুপারিশের আশ্রয় সে নেবে না।
এই আত্মনির্ভরতা ও আত্মসম্মানবোধই ছিল তার জীবনের বড় শিক্ষা।
‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের সেরা ৩০টি MCQ: জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর mcq
১. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি কোন্ গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
(a) চশমা (b) কুমকুম (c) কুশুমের হাসি (d) সোনার হরিণ
উত্তর: (b) কুমকুম
২. “রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই”—এখানে জহুরি বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(a) তপন (b) মেজোকাকু (c) ছোটো মেসো (d) সম্পাদক
উত্তর: (c) ছোটো মেসো
৩. তপনের চিরকালের বন্ধু কে?
(a) মা (b) ছোটো মাসি (c) ছোটো মেসো (d) সেজো কাকিমা
উত্তর: (b) ছোটো মাসি
৪. মেসোমশাই কোন্ পত্রিকার সম্পাদককে চিনতেন?
(a) শুকতারা (b) আনন্দমেলা (c) দেশ (d) সন্ধ্যাতারা
উত্তর: (d) সন্ধ্যাতারা
৫. তপন তার প্রথম গল্পটি লিখেছিল—
(a) সকালে (b) দুপুরে (c) বিকেলে (d) রাতে
উত্তর: (b) দুপুরে
৬. ছোটো মাসি তপনের চেয়ে কত বছরের বড়ো?
(a) পাঁচ বছরের (b) সাত বছরের (c) আট বছরের (d) দশ বছরের
উত্তর: (c) আট বছরের
৭. “এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের”—সন্দেহের বিষয়টি হলো—
(a) মাসির বিয়ে (b) মেসোর লেখক হওয়া (c) লেখকরা সাধারণ মানুষ (d) গল্প ছাপা হওয়া
উত্তর: (c) লেখকরা সাধারণ মানুষ
৮. তপনের লেখা গল্পের নাম কী ছিল?
(a) শেষ দিন (b) প্রথম দিন (c) স্কুলে ভর্তি (d) মেসোমশাই
উত্তর: (b) প্রথম দিন
৯. তপনের মেসোমশাই পেশায় কী ছিলেন?
(a) ডাক্তার (b) ইঞ্জিনিয়ার (c) অধ্যাপক (d) সাংবাদিক
উত্তর: (c) অধ্যাপক
১০. “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে”—অলৌকিক ঘটনাটি হলো—
(a) মেসোমশাইয়ের লেখক হওয়া (b) তপনের গল্প ছাপা হওয়া (c) মাসির বিয়ে হওয়া (d) ছুটি ফুরিয়ে যাওয়া
উত্তর: (b) তপনের গল্প ছাপা হওয়া
১১. তপন ক-টি গল্প লিখেছিল?
(a) একটি (b) দুটি (c) তিন-চারটি (d) অসংখ্য
উত্তর: (c) তিন-চারটি
১২. “বিয়েবাড়িতে যেটি মা মাসিদের আদরের বস্তু”—সেটি হলো—
(a) গয়না (b) নতুন জামা (c) নতুন মেসো (d) তপনের গল্প
উত্তর: (c) নতুন মেসো
১৩. “গল্পের গায়ে হাত বুলিয়ে দেন”—কে?
(a) তপন (b) সম্পাদক (c) ছোটো মেসো (d) ছোটো মাসি
উত্তর: (c) ছোটো মেসো
১৪. তপন প্রথম গল্পটি কোথায় বসে লিখেছিল?
(a) একতলায় (b) দোতলার ঘরে (c) তেতলার সিঁড়িতে (d) ছাদে
উত্তর: (c) তেতলার সিঁড়িতে
১৫. “গল্পের সূচিপত্রে নাম ছিল”—
(a) শ্রী তপন রায় (b) শ্রী তপন কুমার রায় (c) তপন কুমার রায় (d) শ্রীমান তপন রায়
উত্তর: (b) শ্রী তপন কুমার রায়
১৬. “চিনতে পারে না তপন”—কাকে?
(a) মেসোকে (b) মাসিকে (c) নিজের গল্পকে (d) সম্পাদককে
উত্তর: (c) নিজের গল্পকে (কারণ মেসো সব বদলে দিয়েছিলেন)
১৭. “মেসোমশাই একটু ‘কারেকশন’ করে দিয়েছেন”—উক্তিটি কার?
(a) তপনের (b) মাসির (c) মায়ের (d) বাবার
উত্তর: (b) মাসির
১৮. “তপন আর পড়তে পারে না”—এর কারণ—
(a) সে পড়তে জানে না (b) সে বোবা হয়ে গেছে (c) গল্পটি তার নিজের নয় (d) চোখের জল
উত্তর: (c) গল্পটি তার নিজের নয়
১৯. তপনের জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন কোনটি?
(a) গল্প না লিখতে পারা (b) মেসোর বকুনি (c) গল্প ছাপা হওয়ার দিনটি (d) স্কুল খোলা
উত্তর: (c) গল্প ছাপা হওয়ার দিনটি
২০. মেসোমশাই যখন মাসিকে নিয়ে চলে যান, তখন তাঁর হাতে কী ছিল?
(a) মিষ্টির প্যাকেট (b) পত্রিকা (c) ফুল (d) ট্রলি ব্যাগ
উত্তর: (b) এক সংখ্যা ‘সন্ধ্যাতারা’
২১. “আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম”—উক্তিটি কার?
(a) মেজোকাকুর (b) ছোটো কাকুর (c) ছোটো মাসির (d) বড়ো পিসির
উত্তর: (a) মেজোকাকুর
২২. তপনের মেশোমশাই কোন সময় বেড়াতে এসেছিলেন?
(a) পুজোর ছুটিতে (b) গরমের ছুটিতে (c) শীতের ছুটিতে (d) বড়দিনের ছুটিতে
উত্তর: (b) গরমের ছুটিতে
২৩. “তপন বিড়বিড় করে পড়ে”—সে কী পড়ছিল?
(a) পাঠ্যবই (b) মেসোর বই (c) নিজের ছাপা গল্প (d) খবরের কাগজ
উত্তর: (c) নিজের ছাপা গল্প
২৪. বাড়িতে তপনের নাম কী হয়ে গিয়েছিল?
(a) মহান লেখক (b) সাহিত্যিক-কবি-কথাসাহিত্যিক (c) কবিরাজ (d) গল্পকার
উত্তর: (b) সাহিত্যিক-কবি-কথাসাহিত্যিক
২৫. ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় তপনের গল্পের নাম কী ছিল?
(a) আমার স্কুল (b) প্রথম দিন (c) ছোটো মেসো (d) এক লেখক
উত্তর: (b) প্রথম দিন
২৬. তপনের নতুন মেসোমশাই কোন্ শ্রেণির মানুষ?
(a) সাধারণ মানুষ (b) অতিমানুষ (c) অমানুষ (d) ভিনগ্রহের মানুষ
উত্তর: (a) সাধারণ মানুষ
২৭. “বড়ো চমৎকার লিখেছে তো”—উক্তিটি কার?
(a) সম্পাদক (b) ছোটো মাসি (c) ছোটো মেসো (d) তপনের মা
উত্তর: (c) ছোটো মেসো
২৮. “হর্ষ-বিহ্বল হয়ে পড়েছিল”—কে?
(a) মেসো (b) মাসি (c) তপন (d) মা
উত্তর: (c) তপন
২৯. তপন চিরকালের জন্য কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?
(a) আর লিখবে না (b) নিজে গিয়ে লেখা দেবে (c) মেসোকে দিয়ে লেখা পাঠাবে (d) মাসিকে লেখা দেবে
উত্তর: (b) নিজে গিয়ে লেখা দেবে
৩০. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের মেজাজ কেমন?
(a) ব্যঙ্গধর্মী (b) করুণ (c) রোমাঞ্চকর (d) মনস্তাত্ত্বিক
উত্তর: (d) মনস্তাত্ত্বিক
আরো জানতে এই আর্টিকেলগুলি পড়তে পারেন :
জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর দশম শ্রেণি বাংলা
জ্ঞানচক্ষু গল্পের কিছু অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর দেওয়া হলো :জ্ঞানচক্ষু গল্পের নোটস
১. জ্ঞানচক্ষু গল্পে ‘জ্ঞানচক্ষু’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘জ্ঞানচক্ষু’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো অন্তর্দৃষ্টি বা ভেতরের চোখ। গল্পের শুরুতে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলেছিল যখন সে লেখক মেসোকে দেখে বুঝল যে লেখকরাও সাধারণ মানুষের মতো। কিন্তু গল্পের শেষে তপনের প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু খোলে যখন সে বুঝতে পারে যে অন্যের দয়ায় বা অন্য কারোর বদলে দেওয়া লেখা নিয়ে লেখক হওয়ার চেয়ে নিজের কাঁচা লেখায় ব্যর্থ হওয়াও অনেক সম্মানের। এই আত্মোপলব্ধিই হলো প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু।
২. জ্ঞানচক্ষু গল্পের সারাংশ কী?
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র কিশোর তপন। তার লেখক হওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল। তার নতুন মেসোমশাই একজন লেখক ছিলেন। মেসোর প্রভাবে তপন একটি গল্প লেখে এবং মেসো সেটি 'কারেকশন' করে 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপিয়ে দেন। কিন্তু গল্পটি ছেপে আসার পর তপন দেখে মেসোমশাই সংশোধনের নামে পুরো গল্পটাই বদলে দিয়েছেন। নিজের সৃষ্টির এই অমর্যাদা তপনকে ব্যথিত করে। সে বুঝতে পারে সত্যিকারের লেখক হতে গেলে নিজের প্রতিভায় হতে হয়, অন্যের সুপারিশে নয়।
৩. জ্ঞানচক্ষু গল্পে কাকে 'জহুরি' বলা হয়েছে এবং কেন?
গল্পে তপনের নতুন মেসোমশাইকে 'জহুরি' বলা হয়েছে।
কারণ: রত্ন চেনার ক্ষমতা যেমন জহুরির থাকে, তেমনি মেসোমশাই নিজে একজন লেখক ও শিক্ষিত মানুষ হওয়ায় তিনি তপনের লেখার প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারবেন—এমনটাই মনে করেছিল তপনের ছোটো মাসি। জহুরি যেমন রত্নের মান বিচার করেন, মেসোমশাইও তেমনি তপনের সুপ্ত প্রতিভাকে চিনতে পারবেন বলে এই উপমা ব্যবহার করা হয়েছে।
৪. ছোটো মাসি তপনের থেকে কত বছরের বড়ো ছিল?
ছোটো মাসি তপনের থেকে আট বছরের বড়ো ছিল।
৫. তপনের কোন বিষয়ে সন্দেহ ছিল?
তপনের সন্দেহ ছিল যে—লেখকরাও সাধারণ মানুষের মতো হতে পারেন। সে ভাবত লেখকরা হয়তো অন্য কোনো জগতের মানুষ। তারা যে সাধারণ মানুষের মতো দাড়ি কামান, মেজাজ করেন বা সিনেমা দেখেন, সে বিষয়ে তার গভীর সন্দেহ ছিল।
৬. তপন কোন গল্প লিখেছিল এবং তার বিষয়বস্তু কী ছিল?
তপন ‘প্রথম দিন’ নামক একটি গল্প লিখেছিল।
গল্পের বিষয়বস্তু ছিল— তার স্কুলে ভরতি হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতির কথা। সে আর পাঁচটা ছেলের মতো রাজা-রানি বা রোমাঞ্চকর গল্প না লিখে নিজের জীবনের ঘটনা নিয়ে লিখেছিল।
৭. নতুন মেসোকে দেখে তপনের কীভাবে জ্ঞানচক্ষু খুলেছিল?
নতুন মেসোমশাইকে যখন তপন খুব কাছ থেকে দেখল, তখন তার বাহ্যিক জ্ঞানচক্ষু খুলল। সে দেখল মেসোমশাইও সাধারণ মানুষের মতো খবরের কাগজ পড়েন, দাড়ি কামান, সময়মতো স্নান করেন এবং সিনেমা দেখেন। একজন লেখক যে জলজ্যান্ত রক্ত-মাংসের মানুষ হতে পারে, এই সত্যটাই তপনের সামনে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।
৮. তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল কেন?
তপন যখন শুনল যে তার নতুন মেসোমশাই একজন লেখক এবং তাঁর অনেক বই ছাপা হয়েছে, তখন সে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিল। এই চরম বিস্ময় বা অবাক হওয়ার কারণেই তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গিয়েছিল।
৯. ‘রত্নের মূল্য জহুরির কাছে’—এই কথাটির অর্থ কী?
এই প্রবাদটির অর্থ হলো—যিনি গুণী মানুষ, তিনিই অন্যের গুণের সমাদর করতে জানেন। এই গল্পে তপন হলো রত্ন (প্রতিভা) এবং মেসোমশাই হলেন জহুরি (পারদর্শী বিচারক)। অর্থাৎ তপনের লেখা গল্পের মূল্য একজন লেখকই (মেসোমশাই) ঠিকমতো বুঝতে পারবেন—কথাটি এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে।
১০. তপন কেন দোকানে পাথর ছুঁড়েছিল?
ভুল তথ্য সংশোধন: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের পাথর ছোঁড়ার কোনো ঘটনা নেই। সম্ভবত আপনি অন্য কোনো গল্পের সাথে এটি মিলিয়ে ফেলছেন। এই গল্পে তপন ছিল অত্যন্ত শান্ত এবং আবেগপ্রবণ এক কিশোর।
১১. তপনের মুখ লাল কেন?
তপনের মুখ লাল হওয়ার দুটি কারণ গল্পে দেখা যায়:
১. যখন ছোটো মাসি মেসোকে তার লেখা গল্পটি দেখায়, তখন লজ্জায় তপনের মুখ লাল হয়ে যায়।
২. আবার গল্পের শেষে নিজের লেখা বদলে যাওয়ায় এবং বাড়ির সবার বিদ্রূপের শিকার হয়ে অপমানে ও ক্ষোভে তার মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল।
১২. গল্পের লেখক কে?
গল্পটির লেখিকা হলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী।
১৩. জ্ঞানচক্ষু গল্পের ভূমিকা:
আশাপূর্ণা দেবীর ‘কুমকুম’ গল্পগ্রন্থ থেকে নেওয়া ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি এক কিশোরের মনস্তাত্ত্বিক বিবর্তনের কাহিনী। গল্পটি শুরু হয় এক কিশোরের রোমাঞ্চকর কল্পনা নিয়ে এবং শেষ হয় এক রূঢ় বাস্তব সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। এক উদীয়মান লেখকের আত্মসম্মানবোধ এবং সাহিত্য জগতের এক অন্ধকার দিক এই গল্পের প্রধান উপজীব্য।
কল টু অ্যাকশন (Call to Action - CTA)
- "তপনের মতো আপনারও কি কখনও মনে হয়েছে যে নিজের সৃষ্টি অন্যের দ্বারা বদলে গেছে? আপনার কোনো ছোটগল্প বা অভিজ্ঞতার কথা আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান!"
- "জ্ঞানচক্ষু গল্পের এই নির্ভুল নোটসগুলো কি আপনার উপকারে লেগেছে? তাহলে দেরি না করে আপনার বন্ধুদের সাথে WhatsApp বা Facebook-এ শেয়ার করুন, যাতে তারাও পরীক্ষায় ভালো নম্বর পায়!"
- পরবর্তী পাঠের জন্য: "নবম শ্রেণীর বাংলার অন্যান্য অধ্যায় যেমন— 'আবহমান' বা 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি'র গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর পেতে [ লক্ষ্য করুন]।"
-
২. ব্যক্তিগত পরামর্শ (Personal Tips for Students)
ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আমার কিছু বিশেষ পরামর্শ:
- মূল পাঠ্যবই (Textbook) খুঁটিয়ে পড়া: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের প্রতিটি লাইন খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছোটো মাসি ও মেসোর সংলাপগুলো ভালো করে মনে রাখবে, কারণ ওখান থেকেই বেশিরভাগ ৩ নম্বরের প্রশ্ন আসে।
- উদ্ধৃতি (Quotation) ব্যবহার করা: ৫ নম্বরের বড় প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় গল্পের মূল কথাগুলো ইনভার্টেড কমা (" ") দিয়ে লিখলে পরীক্ষকের নজর কাড়া সহজ হয় এবং পূর্ণ নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
- চরিত্রের গভীরে যাওয়া: তপন কেন শেষে একা হয়ে গেল বা কেন তার মনে হলো আজ তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন—এই আবেগগুলো নিজের ভাষায় অনুধাবন করার চেষ্টা করো, মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে এটি বেশি কাজে দেবে।
- বানান সচেতনতা: সাহিত্য বা বাংলা পরীক্ষায় বানানের ভুল নম্বরের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই ‘জ্ঞানচক্ষু’, ‘আশাপূর্ণা দেবী’, ‘অলৌকিক’—এই ধরণের শব্দগুলো বারবার লিখে অভ্যাস করো।
- লেখার গতি বাড়ানো: মাধ্যমিক বা স্কুলের পরীক্ষায় সময়ের অভাব একটা বড় সমস্যা। তাই বাড়িতে ঘড়ি ধরে ১৫০ শব্দের উত্তর ১০-১২ মিনিটের মধ্যে শেষ করার প্র্যাকটিস করো।
১. FAQ টেক্সট জ্ঞানচক্ষু গল্পের নোটস
প্রশ্ন ১: 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কে এবং তার লেখক হওয়ার স্বপ্ন কেন ছিল?
উত্তর: গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো কিশোর তপন। তার লেখক হওয়ার প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন তার নতুন মেসোমশাই, যিনি নিজে একজন সফল লেখক ও প্রফেসর। মেসোমশাইকে চাক্ষুষ দেখে তপন বুঝতে পেরেছিল যে লেখকরা সাধারণ মানুষের মতোই হন, আর এই উপলব্ধিই তাকে নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গল্প লিখতে উৎসাহিত করেছিল।
প্রশ্ন ২: তপনের মেসোমশাই কেন তার গল্পটি 'কারেকশন' করে দিয়েছিলেন?
উত্তর: মেসোমশাই ছোটো মাসিকে বলেছিলেন যে তপনের কাঁচা হাতের লেখাটি ছাপার যোগ্য করতে হলে সামান্য সংশোধন প্রয়োজন। তবে বাস্তবে দেখা যায়, তিনি তপনের গল্পের মৌলিকতা ও নিজস্ব ভাষা সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করেছিলেন, যা তপনের জন্য ছিল অত্যন্ত অপমানজনক।
প্রশ্ন ৩: তপন কেন প্রতিজ্ঞা করেছিল যে সে আর কাউকে দিয়ে লেখা পাঠাবে না?
উত্তর: নিজের নামের তলায় অন্য কারোর লেখা পড়ার যে চরম লজ্জা ও গ্লানি, তা তপনকে বিদ্ধ করেছিল। সে অনুভব করেছিল যে অন্যের দয়ায় সাফল্য পাওয়ার চেয়ে নিজের কাঁচা লেখা নিয়ে ব্যর্থ হওয়াও অনেক ভালো। এই আত্মসম্মানবোধ থেকেই সে ভবিষ্যতে নিজে গিয়ে লেখা দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে।
প্রশ্ন ৪: 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পটির নামকরণের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য কী?
উত্তর: এখানে 'জ্ঞানচক্ষু' বলতে তপনের অন্তর্দৃষ্টির উন্মোচনকে বোঝানো হয়েছে। মেসোমশাইকে দেখে তার বাহ্যিক জ্ঞানচক্ষু খুললেও, গল্পের শেষে নিজের মৌলিকত্ব হারানোর মধ্য দিয়ে তার প্রকৃত আত্মোপলব্ধি ঘটে। এই বিবর্তনই নামকরণের সার্থকতা বজায় রাখে।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.