সালোকসংশ্লেষ প্রশ্ন উত্তর:
নমস্কার বন্ধুরা, এই লেখাটিতে সালোকসংশ্লেষ প্রশ্ন উত্তর নিয়ে দুটি ধাপে আলোচনা করছি। প্রথম ধাপে সালোকসংশ্লেষ নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা।
দ্বিতীয় ধাপে এই বিষয়ে কিছু গুরুত্ব পূর্ণ ১৫ টি প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে।
এই ১৫ টি প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে। আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
1 সালোকসংশ্লেষ কাকে বলে?
2. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া
3. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক সমীকরণটি লেখ?
4. সালোকসংশ্লেষকে জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয় কেন?
5. সালোকসংশ্লেষ কে অঙ্গার আত্তীকরণ বলে কেন?
6. সালোকসংশ্লেষ এবং শ্বসনের পার্থক্য লেখ?
7. সালোকসংশ্লেষ কোথায় ঘটে এবং কখন ঘটে?
8. সালোকসংশ্লেষে সক্ষম প্রাণী এবং অক্ষম উদ্ভিদের নাম লেখ?
9. সালোকসংশ্লেষের আলোক দশা বর্ণনা কর?
10. সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া কয়টি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়? পর্যায় গুলি আলোচনা করো
11. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত একটি উৎসেচক এর নাম লেখ?
12. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন অক্সিজেনের উৎস কি?
13. সালোকসংশ্লেষে উৎপন্ন প্রথম স্থায়ী যৌগ কোনটি?
14. c2 চক্র কোন ধরনের উদ্ভিদের সম্পন্ন হয়?
15.সালোকসংশ্লেষে উৎপন্ন প্রথম জৈব যৌগ কোনটি?
সালোকসংশ্লেষ প্রশ্ন উত্তর: সালোকসংশ্লেষণ কী? সহজ ভাষায় সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা (২০২6 আপডেটেড গাইড)
সালোকসংশ্লেষণ: জীবনের নীরব কারখানা
আমরা প্রতিদিন নিঃশ্বাস নিই।
খাই।
বেঁচে থাকি।
কিন্তু খুব কম মানুষই ভাবি—এই জীবন টিকে আছে কেন?
আমার দৃষ্টিতে, এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে একটি শব্দে—সালোকসংশ্লেষণ।
এই প্রক্রিয়াটি না থাকলে আজ পৃথিবীতে মানুষ, পশু, পাখি—কেউই থাকত না।
সালোকসংশ্লেষ কী?
সহজ ভাষায় বললে—
সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলো ব্যবহার করে নিজের খাবার নিজে তৈরি করে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে সালোকসংশ্লেষ বলে।
এই প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ ব্যবহার করে:
- সূর্যালোক
- জল
- কার্বন ডাই-অক্সাইড
এবং তৈরি করে:
- গ্লুকোজ (খাদ্য)
- অক্সিজেন (আমাদের বাঁচার বাতাস)
সালোকসংশ্লেষ প্রশ্ন উত্তর: সালোকসংশ্লেষণের বৈজ্ঞানিক সমীকরণ
একটু বিজ্ঞান যোগ করি। ভয় পাবেন না। সহজ রাখছি।
6CO₂ + 6H₂O + সূর্যালোক → C₆H₁₂O₆ + 6O₂
মানে:
- ৬টি কার্বন ডাই-অক্সাইড
- ৬টি জল
- সূর্যের আলো
→ তৈরি করে
- ১টি গ্লুকোজ
- ৬টি অক্সিজেন
এটা শুধু একটা সমীকরণ নয়।
এটা জীবনের সূত্র।
সালোকসংশ্লেষণ কোথায় হয়?
সালোকসংশ্লেষণ হয় মূলত পাতায়।
কারণ পাতার ভেতরে থাকে একটি সবুজ রঞ্জক— ক্লোরোফিল।
এই ক্লোরোফিল:
- সূর্যের আলো শোষণ করে
- শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে
আমার মতে, ক্লোরোফিল প্রকৃতির এক অসাধারণ উপহার।
সালোকসংশ্লেষণের দুটি ধাপ
- সূর্যের আলো দরকার
- জল ভেঙে অক্সিজেন বের হয়
- শক্তি সঞ্চিত হয়
আলো-স্বাধীন পর্যায় (Calvin Cycle)
- সূর্যালোক সরাসরি লাগে না
- কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়
এই দুই ধাপ মিলেই উদ্ভিদের খাদ্য তৈরি হয়।
সালোকসংশ্লেষণ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
এখানে আমি একটু নিজের মতামত যোগ করছি --
আমার মতে, সালোকসংশ্লেষণ পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।
কারণ—
- এটি অক্সিজেন দেয়
- এটি খাদ্য শৃঙ্খলের শুরু
- এটি কার্বন ডাই-অক্সাইড কমায়
- এটি জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
একটি গাছ মানে শুধু ছায়া নয়।
একটি গাছ মানে একটি জীবনের কারখানা।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য
- পৃথিবীর মোট অক্সিজেনের প্রায় 70% আসে সামুদ্রিক ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন থেকে
- এক একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে গড়ে ১০০ কেজির বেশি অক্সিজেন উৎপন্ন করে
- সালোকসংশ্লেষণ না থাকলে খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙে পড়বে
এই তথ্যগুলো আধুনিক জীববিজ্ঞানের ভিত্তিতে প্রমাণিত।
আমার বিশ্লেষণ: মানুষ কেন এটা ভুলে যাচ্ছে?
আজকের মানুষ গাছ কাটে।
বন ধ্বংস করে।
কারখানা বাড়ায়।
কিন্তু ভুলে যায়— গাছ ছাড়া মানুষ নেই।
আমার মনে হয়, স্কুলে সালোকসংশ্লেষণ শুধু পড়ানো হয় পরীক্ষার জন্য।
জীবনের জন্য নয়।
এটাই বড় সমস্যা।
সালোকসংশ্লেষণের ভবিষ্যৎ কী?
ভবিষ্যৎ নিয়ে বিজ্ঞানীরা ভাবছেন।
আজ গবেষণা চলছে—
- কৃত্রিম সালোকসংশ্লেষণ (Artificial Photosynthesis)
- সৌর শক্তি থেকে জ্বালানি তৈরি
- কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি
এই গবেষণাগুলোতে NASA ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে।
এ বিষয়ে শেখার জন্য ভালো রিসোর্স:
ব্যক্তিগত পরামর্শ
একজন শিক্ষক হিসেবে আমার অনুরোধ—
- একটি গাছ লাগান
- গাছের গুরুত্ব শেখান
- শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করুন
এটা শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়।
এটা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাঁচানো।
সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট
- সালোকসংশ্লেষণ জীবনের ভিত্তি
- উদ্ভিদ নিজের খাবার নিজে তৈরি করে
- অক্সিজেন উৎপন্ন হয়
- পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করে
- ভবিষ্যতের শক্তির উৎস হতে পারে
Call to Action
এই লেখাটি যদি আপনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে—
- আজই একটি গাছ লাগান
- এই তথ্য অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করুন
- শিশুদের প্রকৃতির গল্প বলুন
একটি ছোট কাজ বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
Disclaimer
এই কনটেন্টটি শিক্ষামূলক ও তথ্যভিত্তিক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে।
এখানে দেওয়া তথ্য আধুনিক জীববিজ্ঞান ও বিশ্বস্ত উৎসের উপর ভিত্তি করে।
শিক্ষা বা গবেষণার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পরামর্শ নিন।
সালোকসংশ্লেষ প্রশ্ন উত্তর: এখানে সালোকসংশ্লেষ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হল :-
সালোকসংশ্লেষ বা Photosynthesis জীববিদ্যার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রতিটি প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. সালোকসংশ্লেষ কাকে বলে?
যে জটিল জৈবনিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় ক্লোরোফিলযুক্ত কোষে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে এবং ক্লোরোফিলের সহায়তায় পরিবেশ থেকে গৃহীত জল ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সরল শর্করা (গ্লুকোজ) সংশ্লেষিত হয় এবং উৎপন্ন খাদ্যে সৌরশক্তি স্থৈতিক শক্তি হিসেবে আবদ্ধ হয়, তাকে সালোকসংশ্লেষ বলে। এই প্রক্রিয়ায় উপজাত বস্তু হিসেবে অক্সিজেন ও জল উৎপন্ন হয়।
২. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া
এটি একটি জটিল জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া যা উদ্ভিদের মেসোফিল কলায় ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এটি মূলত দুটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত: আলোক-নির্ভর দশা (Light-dependent phase) এবং আলোক-নিরপেক্ষ দশা (Light-independent phase/Calvin Cycle)।
৩. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক সমীকরণ
সালোকসংশ্লেষের সামগ্রিক সমীকরণটি হলো:
6CO_2 + 12H_2O Sunlight/Chlorophyll C_6H_{12}O_6 + 6H_2O + 6O_2
৪. সালোকসংশ্লেষকে জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয় কেন?
সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় একই সাথে জারণ ও বিজারণ ঘটে:
* জারণ: এই প্রক্রিয়ায় জল (H_2O) ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয় এবং অক্সিজেন (O_2) উৎপন্ন করে।
* বিজারণ: কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO_2) ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিজারিত হয় এবং শর্করা (গ্লুকোজ) উৎপন্ন করে।
একই বিক্রিয়ায় জারণ ও বিজারণ উভয়ই ঘটে বলে একে জারণ-বিজারণ (Redox) প্রক্রিয়া বলা হয়।
৫. সালোকসংশ্লেষকে অঙ্গার আত্তীকরণ বলে কেন?
'অঙ্গার' শব্দের অর্থ কার্বন। সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের অজৈব কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO_2) থেকে কার্বন জীবদেহের কোষে জৈব যৌগে (গ্লুকোজ) রূপান্তরিত হয়ে অঙ্গীভূত বা সঞ্চিত হয়। পরিবেশের কার্বনকে এভাবে কোষে আত্তীকরণ করার পদ্ধতিকেই অঙ্গার আত্তীকরণ (Carbon Assimilation) বলে।
৬. সালোকসংশ্লেষ এবং শ্বসনের পার্থক্য
|
বৈশিষ্ট্য |
সালোকসংশ্লেষ |
শ্বসন |
|---|---|---|
|
প্রকৃতি |
উপচিতি বিপাক (শুষ্ক ওজন বাড়ে) |
অপচিতি বিপাক (শুষ্ক ওজন কমে) |
|
স্থান |
ক্লোরোফিলযুক্ত কোষে ঘটে |
সমস্ত জীবন্ত কোষে ঘটে |
|
সময় |
শুধুমাত্র দিনের বেলা ঘটে |
দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ঘটে |
|
গ্যাসের বিনিময় |
CO_2 গ্রহণ করে ও O_2 ত্যাগ করে |
O_2 গ্রহণ করে ও CO_2 ত্যাগ করে |
|
শক্তির রূপান্তর |
আলোক শক্তি স্থৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় |
স্থৈতিক শক্তি তাপ বা গতিশক্তিতে মুক্ত হয় |
৭. সালোকসংশ্লেষ কোথায় ঘটে এবং কখন ঘটে?
* স্থান: প্রধানত সবুজ পাতার মেসোফিল কলায়। কোশীয় অঙ্গাণু হিসেবে ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানা ও স্ট্রোমাতে এটি ঘটে।
* সময়: সূর্যালোকের উপস্থিতিতে মূলত দিনের বেলা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে আলোক-নিরপেক্ষ দশাটি সরাসরি আলোর ওপর নির্ভরশীল না হলেও আলোর ঠিক পরেই ঘটে।
৮. সালোকসংশ্লেষে সক্ষম প্রাণী ও অক্ষম উদ্ভিদ
* সক্ষম প্রাণী: ইউগ্লিনা (Euglena) ও ক্রাইস্যামিবা (Chrysamoeba)।
* অক্ষম উদ্ভিদ: স্বর্ণলতা (Cuscuta) এবং সমস্ত প্রকার ছত্রাক (যেমন- ব্যাঙের ছাতা)।
৯. সালোকসংশ্লেষের আলোক দশা বর্ণনা কর
আলোক দশা ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানায় ঘটে। এর প্রধান ধাপগুলো হলো:
* সৌরশক্তির শোষণ: ক্লোরোফিল সূর্যালোকের ফোটন কণা শোষণ করে সক্রিয় হয়।
* জলের আলোক বিশ্লেষণ (Photolysis): সক্রিয় ক্লোরোফিল জলকে ভেঙে H^+ এবং OH^- আয়নে পরিণত করে। একে 'হিল বিক্রিয়া' বলে।
* NADPH গঠন: H^+ আয়ন NADP^+ এর সাথে যুক্ত হয়ে NADPH + H^+ গঠন করে।
* অক্সিজেন মুক্তি: OH^- থেকে ইলেকট্রন বর্জিত হয়ে অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।
* ফটোফসফোরাইলেশন: ADP এবং অজৈব ফসফেট (Pi) যুক্ত হয়ে শক্তি সমৃদ্ধ ATP তৈরি করে।
১০. সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া কয়টি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়?
সালোকসংশ্লেষ মূলত ২টি প্রধান পর্যায়ে সম্পন্ন হয়:
* আলোক-নির্ভর দশা (Light-dependent stage): ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানায় ঘটে। এখানে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে (ATP, NADPH) রূপান্তরিত হয়।
* আলোক-নিরপেক্ষ দশা বা অন্ধকার দশা (Light-independent stage): ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমাতে ঘটে। এখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড বিজারিত হয়ে গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। এটি আলোক দশা থেকে প্রাপ্ত শক্তির ওপর নির্ভরশীল।
১১. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত একটি উৎসেচক
একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসেচক হলো রুবিস্কো (RuBisCO)। এটি আলোক-নিরপেক্ষ দশায় CO_2 সংবন্ধনে সাহায্য করে।
১২. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন অক্সিজেনের উৎস কী?
উৎপন্ন অক্সিজেনের প্রধান উৎস হলো জল (H_2O)। বিজ্ঞানী রবিন হিল এটি প্রমাণ করেন।
১৩. সালোকসংশ্লেষে উৎপন্ন প্রথম স্থায়ী যৌগ কোনটি?
অন্ধকার দশা বা ক্যালভিন চক্রে উৎপন্ন প্রথম স্থায়ী যৌগটি হলো ৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (PGA)। এটি ৩-কার্বন বিশিষ্ট।
১৪. C_2 চক্র কোন ধরনের উদ্ভিদে সম্পন্ন হয়?
C_2 চক্র (যাকে ফটোরেস্পিরেশন বলা হয়) মূলত C_3 উদ্ভিদ (যেমন- ধান, গম) সমূহে ঘটে যখন অক্সিজেনের ঘনত্ব বেশি থাকে।
১৫. সালোকসংশ্লেষে উৎপন্ন প্রথম জৈব যৌগ কোনটি?
সালোকসংশ্লেষে উৎপন্ন প্রথম জৈব যৌগ হলো ৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (PGA)। তবে প্রথম উৎপন্ন সরল শর্করাটি হলো গ্লুকোজ।
কিছু এক্সট্রা কোশ্চন
১. সালোকসংশ্লেষের সামগ্রিক প্রক্রিয়ার চিত্র (Diagram)
সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়াটি মূলত দুটি প্রধান উপ-প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে ঘটে যা ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতর সম্পন্ন হয়।
* আলোক দশা (Light Reaction): এটি ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানায় ঘটে। এখানে সূর্যালোক ও জল ব্যবহার করে ATP এবং NADPH (শক্তি) তৈরি হয় এবং অক্সিজেন উপজাত হিসেবে নির্গত হয়।
* আন্ধকার দশা বা ক্যালভিন চক্র (Dark Reaction/Calvin Cycle): এটি ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমাতে ঘটে। এখানে আলোক দশায় উৎপন্ন শক্তি ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়।
২. সালোকসংশ্লেষের গাণিতিক সমীকরণ ও তার তাৎপর্য
সালোকসংশ্লেষের সমীকরণটি কেবল কিছু সংকেতের যোগফল নয়, এটি শক্তির রূপান্তরের একটি গাণিতিক রূপ।
6CO_2 + 12H_2O Sunlight/Chlorophyll C_6H_{12}O_6 + 6H_2O + 6O_2 \
সমীকরণের গাণিতিক ব্যাখ্যা:
* কার্বন ডাই-অক্সাইড (6CO_2): ৬ অণু কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে ১ অণু গ্লুকোজ (C_6H_{12}O_6) তৈরি হয়। অর্থাৎ, গ্লুকোজের প্রতিটি কার্বন পরমাণু আসে বাতাস থেকে গৃহীত CO_2 থেকে।
* জল (12H_2O): বিক্রিয়ায় ১২ অণু জল প্রয়োজন হয়। এই জলের অণুগুলো ভেঙেই উপজাত হিসেবে ৬ অণু অক্সিজেন (6O_2) তৈরি হয়।
* শক্তির ভারসাম্য: সূর্যালোকের ফোটন কণা থেকে প্রাপ্ত শক্তি গ্লুকোজের রাসায়নিক বন্ধনীতে স্থৈতিক শক্তি (Potential Energy) হিসেবে জমা থাকে। ১ গ্রাম-অণু গ্লুকোজে প্রায় ৬৮৬ কিলো-ক্যালোরি শক্তি সঞ্চিত হয়।
৩. আলোক দশার গাণিতিক গুরুত্ব (Photolysis)
আলোক দশায় জল ভাঙার প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
H_2O \rightarrow H+ + OH-
এই OH- (হাইড্রোক্সিল আয়ন) থেকেই পরবর্তীতে ইলেকট্রন ত্যাগের মাধ্যমে অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়:
4OH^- - 4e^- \rightarrow 2H_2O + O_2 \uparrow
৪. কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
পরীক্ষায় যখন আপনি সমীকরণের নিচে কোন উপাদানটি কী কাজে লাগছে (যেমন: CO_2 বিজারণের জন্য, জল জারণের জন্য) তা লিখে দেবেন, তখন আপনার উত্তরের মান অনেক বেড়ে যায়।
আপনি কি এই প্রক্রিয়ার 'হিল বিক্রিয়া' বা 'ক্যালভিন চক্র' সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চান? আমাকে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানান
সালোকসংশ্লেষ (Photosynthesis) - সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
১. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোকের ভূমিকা কী?
সূর্যালোক সালোকসংশ্লেষের প্রধান শক্তির উৎস। সূর্যালোকের ফোটন কণা ক্লোরোফিলকে সক্রিয় করে এবং জলের অণুকে হাইড্রোজেন (H^+) ও হাইড্রোক্সিল (OH^-) আয়নে ভাঙতে সাহায্য করে (ফটোলাইসিস)। এই শক্তিই পরবর্তীতে গ্লুকোজের মধ্যে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে জমা থাকে।
২. ক্লোরোফিল ছাড়া কি সালোকসংশ্লেষ সম্ভব?
সাধারণত ক্লোরোফিল ছাড়া সালোকসংশ্লেষ সম্ভব নয়, কারণ ক্লোরোফিলই সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। তবে কিছু ব্যতিক্রমী সালোকসংশ্লেষকারী ব্যাকটেরিয়া (যেমন: রোডোস্পাইরিলাম) ক্লোরোফিলের পরিবর্তে 'ব্যাকটেরিও-ক্লোরোফিল' ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
৩. সালোকসংশ্লেষের 'হিল বিক্রিয়া' বলতে কী বোঝায়?
১৯৩৯ সালে বিজ্ঞানী রবিন হিল প্রমাণ করেন যে, সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোপ্লাস্ট জলকে ভেঙে অক্সিজেন উৎপন্ন করে। এই বিক্রিয়াটি আলোক দশায় ঘটে এবং এটি 'হিল বিক্রিয়া' নামে পরিচিত।
৪. গ্লুকোজের সংকেত কী এবং এটি উদ্ভিদে কীভাবে সঞ্চিত থাকে?
গ্লুকোজের রাসায়নিক সংকেত হলো C_6H_{12}O_6। সালোকসংশ্লেষে উৎপন্ন এই সরল শর্করা পরবর্তীতে অদ্রবণীয় স্টার্চ বা শ্বেতসারে রূপান্তরিত হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে (যেমন: মূল, কাণ্ড বা ফল) সঞ্চিত থাকে।
৫. আলোক-নিরপেক্ষ দশা বা অন্ধকার দশায় কি আলোর প্রয়োজন হয় না?
অন্ধকার দশা বা ক্যালভিন চক্র সরাসরি আলোর ওপর নির্ভর করে না, তবে এই দশাটি সম্পন্ন করার জন্য আলোক দশায় উৎপন্ন শক্তি (ATP এবং NADPH) প্রয়োজন। তাই আলো না থাকলে পরোক্ষভাবে এই প্রক্রিয়াটিও বন্ধ হয়ে যায়।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.