জীবন ও তার বৈচিত্র্য class 9 গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর Teacj Sanjib

জীবন ও তার বৈচিত্র্য প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান :

 ​১ নম্বর মানের ছোট প্রশ্ন (MCQ ও অতি সংক্ষিপ্ত)

জীবন-ও-তার-বৈচিত্র্য


১. জীবনের মূল একক কী?

উত্তর: জীবনের মূল একক হলো কোশ (Cell)।

২. ট্যাক্সোনমি (Taxonomy) শব্দের প্রবর্তক কে?

উত্তর: বিজ্ঞানী অগাস্তিন পি দ্য ক্যান্ডোল (Augustin Pyramus de Candolle) প্রথম 'ট্যাক্সোনমি' শব্দটি ব্যবহার করেন।

৩. দ্বিপদ নামকরণের প্রবক্তা কে?

উত্তর: বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus) দ্বিপদ নামকরণের প্রবক্তা।

৪. কোয়াসারভেট (Coacervate) মতবাদের প্রবক্তা কে?

উত্তর: বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ওপারিন (Alexander Oparin) কোয়াসারভেট মতবাদের প্রবক্তা।

৫. একটি এককোষী ছত্রাকের নাম লেখো।

উত্তর: একটি এককোষী ছত্রাক হলো ইস্ট (Yeast)।

৬. কোন উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে 'উদ্ভিদরাজ্যের উভচর' বলা হয়?

উত্তর: ব্রায়োফাইটা বা মস (Bryophyta) জাতীয় উদ্ভিদকে উদ্ভিদরাজ্যের উভচর বলা হয়।

৭. নিডোরোব্লাস্ট কোশ কোন পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য?

উত্তর: নিডোরোব্লাস্ট কোশ নিডারিয়া (Cnidaria) পর্বের প্রাণীদের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

৮. বিজ্ঞানী হুইটেকার জীবজগতকে কয়টি রাজ্যে ভাগ করেছেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী রবার্ট হুইটেকার সমগ্র জীবজগতকে ৫টি রাজ্যে (মনেরা, প্রোটিস্টা, ফানজাই, প্ল্যান্টি ও অ্যানিমেলিয়া) ভাগ করেছেন।

৯. মানুষের দ্বিপদ নাম (Scientific name) কী?

উত্তর: মানুষের দ্বিপদ নাম হলো Homo sapiens (হোমো স্যাপিয়েন্স)।

১০. ট্যাক্সোনমির ক্ষুদ্রতম এককের নাম কী?

উত্তর: ট্যাক্সোনমির ক্ষুদ্রতম এককের নাম হলো প্রজাতি (Species)।

জীবন ও তার বৈচিত্র্য: ​২ ও ৩ নম্বর মানের প্রশ্ন (সংক্ষিপ্ত)


১১. জীবনের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: জীবনের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:

(i) প্রজনন: প্রতিটি জীব নিজের মতো অপত্য জীব সৃষ্টি করে বংশধারা বজায় রাখতে সক্ষম।

(ii) বিপাক: জীবদেহে প্রতিনিয়ত যে গঠনমূলক (উপচিতি) ও ধ্বংসাত্মক (অপচিতি) রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাকে বিপাক বলে।

(iii) উত্তেজিতা: উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা জীবনের অন্যতম লক্ষণ।

১২. হট ডাইলুট সুপ (Hot Dilute Soup) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: বিজ্ঞানী হ্যালডেনের মতে, আদিম পৃথিবীতে সমুদ্রের উত্তপ্ত জলে নানারকম জটিল জৈব যৌগ (যেমন—অ্যামিনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড, শর্করা ইত্যাদি) সৃষ্টি হয়েছিল। সমুদ্রের এই উত্তপ্ত জল এবং তাতে দ্রবীভূত জৈব যৌগের মিশ্রণকে তিনি 'তপ্ত লঘু সূপ' বা 'হট ডাইলুট সুপ' (Hot Dilute Soup) বলে অভিহিত করেছেন। এখান থেকেই প্রাণের উৎপত্তি হয়েছিল বলে ধরা হয়।

১৩. ট্যাক্সোনমির গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।

উত্তর: ট্যাক্সোনমির গুরুত্বগুলি হলো:

(i) বিপূল সংখ্যক জীবজগতকে অল্প সময়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জানা ও চেনা সহজ হয়।

(ii) জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তাদের নির্দিষ্ট গোষ্ঠীতে বিন্যস্ত করা যায়।

(iii) নতুন আবিষ্কৃত কোনো জীবের পরিচয় ও অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব হয়।

(iv) বিভিন্ন জীবগোষ্ঠীর মধ্যে বিবর্তনগত সম্পর্ক বোঝা যায়।

১৪. দ্বিপদ নামকরণের দুটি নিয়ম লেখো।

উত্তর: দ্বিপদ নামকরণের দুটি নিয়ম হলো:

(i) প্রতিটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি পদ নিয়ে গঠিত হবে—প্রথমটি গণ (Genus) এবং দ্বিতীয়টি প্রজাতি (Species)।

(ii) বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন ভাষায় লিখতে হয়। ছাপানোর সময় নামগুলি বাঁকা অক্ষরে (Italics) লিখতে হয় এবং হাতে লিখলে গণ ও প্রজাতির নিচে আলাদা করে দাগ (Underline) দিতে হয়।

১৫. দ্বিপদ নামকরণ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট জীবের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের জন্য দুটি পদ (গণ ও প্রজাতি) সহযোগে যে বৈজ্ঞানিক নামকরণ করা হয়, তাকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস এই পদ্ধতির প্রবর্তক। যেমন—পাটের দ্বিপদ নাম হলো Corchorus capsularis

১৬. ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি কী? এর ধাপগুলি কী কী?

উত্তর: বিভিন্ন এককের সাহায্যে জীবকে নিম্ন ধাপ থেকে উচ্চ ধাপে সাজানোর পদ্ধতিকে ট্যাক্সোনমিক হায়ারার্কি বলে। লিনিয়াস প্রবর্তিত এই হায়ারার্কির প্রধান ৭টি ধাপ হলো:

১. রাজ্য (Kingdom), ২. পর্ব (Phylum/Division), ৩. শ্রেণি (Class), ৪. বর্গ (Order), ৫. গোত্র (Family), ৬. গণ (Genus) এবং ৭. প্রজাতি (Species)।

১৭. ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:


বৈশিষ্ট্য

ব্রায়োফাইটা (Bryophyta)

টেরিডোফাইটা (Pteridophyta)

উদ্ভিদদেহ

এদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত নয় (থ্যালাস প্রকৃতির)।

এদের দেহ প্রকৃত মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত।

সংবহন কলা

এদের দেহে জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলা (Vascular Tissue) থাকে না।

এদের দেহে উন্নত সংবহন কলা উপস্থিত থাকে।

মূলের উপস্থিতি

এদের প্রকৃত মূলের বদলে রাইজয়েড (Rhizoid) থাকে।

এদের দেহে প্রকৃত মূল বর্তমান।

১৮. ব্যক্তিবীজী ও গুপ্তবীজী উদ্ভিদের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

বৈশিষ্ট্য

ব্যক্তিবীজী (Gymnosperm)

গুপ্তবীজী (Angiosperm)

বীজের অবস্থান

এদের বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে, কোনো আবরণ থাকে না।

এদের বীজ ফলের অভ্যন্তরে ঢাকা বা আবৃত অবস্থায় থাকে।

ফল গঠন

এদের ডিম্বাশয় না থাকায় কোনো ফল গঠিত হয় না।

এদের ডিম্বাশয় নিষেকের পর ফলে রূপান্তরিত হয়।

নিষেক পদ্ধতি

এদের দ্বিনিষেক ঘটে না।

এদের ক্ষেত্রে দ্বিনিষেক (Double Fertilization) লক্ষ্য করা যায়।


১৯. একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের দুটি পার্থক্য উল্লেখ করো।

উত্তর:

বৈশিষ্ট্য

একবীজপত্রী (Monocot)

দ্বিবীজপত্রী (Dicot)

বীজপত্র

বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে।

বীজে দুটি বীজপত্র থাকে।

পাতার শিরাবিন্যাস

পাতার শিরাবিন্যাস সাধারণত সমান্তরাল হয়।

পাতার শিরাবিন্যাস সাধারণত জালকাকার হয়।

মূলের প্রকৃতি

এদের প্রধানত অস্থানিক বা গুচ্ছমূল থাকে।

এদের প্রধানত স্থানিক বা প্রধান মূল থাকে।


জীবন ও তার বৈচিত্র্য​: ৫ নম্বর মানের বড় প্রশ্ন

২০. মোনেরা ও প্রোটিস্টা রাজ্যের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:

মোনেরা (Monera):

(i) এরা এককোষী এবং প্রোক্যারিওটিক (অনুন্নত নিউক্লিয়াসযুক্ত)।

(ii) এদের কোশপ্রাচীরে পেপটিডোগ্লাইক্যান থাকে। (উদাহরণ: ব্যাকটিরিয়া)

প্রোটিস্টা (Protista):

(i) এরা এককোষী কিন্তু ইউক্যারিওটিক (সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত)।

(ii) এদের কোশ অঙ্গাণুগুলি পর্দা দিয়ে ঘেরা থাকে। (উদাহরণ: অ্যামিবা)




২১. জীবনের প্রধান লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।

​জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • বিপাক (Metabolism): প্রতিটি সজীব কোশের ভেতরে সর্বদা যে গঠনমূলক ও ধ্বংসাত্মক রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে তাকে বিপাক বলে। এটি দু-প্রকার—উপচিতি (যেমন: সালোকসংশ্লেষ) ও অপচিতি (যেমন: শ্বসন)।
  • প্রজনন (Reproduction): বংশধারা বজায় রাখার জন্য জীব তার নিজের মতো অপত্য জীব সৃষ্টি করতে পারে।
  • উত্তেজিতা (Irritability): পরিবেশের বিভিন্ন উদ্দীপনায় (আলো, তাপ, চাপ) সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাকে উত্তেজনা বলে।
  • বৃদ্ধি ও পুষ্টি (Growth & Nutrition): সব জীবই খাদ্য গ্রহণ করে দেহের পুষ্টি জোগায়, যার ফলে দেহের শুষ্ক ওজন বা আয়তনে স্থায়ী বৃদ্ধি ঘটে।
  • জীবনচক্র (Life Cycle): জন্মের পর থেকে বৃদ্ধি, বংশবিস্তার এবং বার্ধক্যের মাধ্যমে মৃত্যু পর্যন্ত জীবের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনকে জীবনচক্র বলে।

২২. জীববৈচিত্র্যের উৎস বা কারণগুলি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

​জীববৈচিত্র্য সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হলো:

  • জনন ও প্রকরণ (Variation): যৌন জননের সময় জিনের পুনরবিন্যাসের ফলে অপত্য জীবে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে, একে প্রকরণ বলে। এটিই জীববৈচিত্র্যের মূল কারণ।
  • পরিব্যক্তি বা মিউটেশন (Mutation): ডিএনএ-এর স্থায়ী ও আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়, যা দীর্ঘকাল ধরে বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • অভিযোজন (Adaptation): প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য জীবের অঙ্গসংস্থানিক ও শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে, যা নতুন বৈচিত্র্য আনে।
  • প্রাকৃতিক নির্বাচন: প্রকৃতিতে যোগ্যতমের উদ্বর্তনের ফলে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত প্রাণীর সৃষ্টি হয়।

২৩. হুইটেকারের প্রবর্তিত 'পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাস' সংক্ষেপে আলোচনা করো।

​বিজ্ঞানী রবার্ট হুইটেকার (১৯৬৯) সমগ্র জীবজগতকে ৫টি রাজ্যে ভাগ করেছেন:

১. রাজ্য মনেরা (Monera): এরা এককোষী ও প্রোক্যারিওটিক (যেমন: ব্যাকটেরিয়া)।

২. রাজ্য প্রোটিস্টা (Protista): এরা এককোষী কিন্তু ইউক্যারিওটিক (যেমন: অ্যামিবা)।

৩. রাজ্য ফানজাই (Fungi): এরা বহুকোষী, ক্লোরোফিলহীন এবং মৃতজীবী (যেমন: মিউকর)।

৪. রাজ্য প্ল্যান্টি (Plantae): এরা বহুকোষী, স্বভোজী এবং ক্লোরোফিলযুক্ত উদ্ভিদ (যেমন: আম গাছ)।

৫. রাজ্য অ্যানিমেলিয়া (Animalia): এরা বহুকোষী, পরভোজী ও গমনে সক্ষম প্রাণী (যেমন: বাঘ)।

২৪. আধুনিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় জীববিজ্ঞানের প্রয়োগ বা অবদান আলোচনা করো।

​আধুনিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীববিজ্ঞানের অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে:

  • কৃষিকার্য: উচ্চফলনশীল বীজ (যেমন: IR-8 ধান) ও উন্নত সংকর প্রজাতির উদ্ভিদ তৈরিতে।
  • চিকিৎসাবিজ্ঞান: অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন এবং ইনসুলিন উৎপাদনে জীববিজ্ঞানের প্রয়োগ অপরিহার্য।
  • মহাকাশ বিজ্ঞান: মহাকাশযানে এককোষী শৈবাল 'ক্লোরেলা' (Chlorella) ব্যবহার করা হয় অক্সিজেন সরবরাহ ও খাদ্যের অভাব মেটানোর জন্য।
  • অপরাধ দমন: ফরেনসিক সায়েন্সে 'DNA Fingerprinting'-এর মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা হয়।
  • পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ: বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে সমুদ্রের তেলের স্তর পরিষ্কার বা আবর্জনা দূর করা হয়।

২৫. মলাস্কা ও আর্থ্রোপোডা পর্বের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ দাও।

মলাস্কা (Mollusca) বৈশিষ্ট্য:

১. দেহ নরম ও অখণ্ডক এবং ক্যালসিয়াম কার্বনেট নির্মিত শক্ত খোলক দ্বারা আবৃত থাকে।

২. এদের দেহে মাংসল পদ (Muscular foot) থাকে।

৩. শ্বাসকার্যের জন্য এদের ম্যান্টল গহ্বরে ফুলকা বা 'টেনিডিয়া' থাকে।

  • উদাহরণ: শামুক (Pila globosa), অক্টোপাস।

আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) বৈশিষ্ট্য:

১. এদের সন্ধিল উপাঙ্গ (Jointed legs) বর্তমান।

২. দেহ কাইটিন নির্মিত শক্ত বহিঃকঙ্কাল দ্বারা আবৃত।

৩. এদের দেহে রক্তপূর্ণ দেহগহ্বর বা 'হিমোসিল' থাকে।

  • উদাহরণ: আরশুলা (Periplaneta americana), চিংড়ি।

২৬. কর্ডাটা পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও অ্যানেলিডার বৈশিষ্ট্য।

কর্ডাটা (Chordata) পর্বের বৈশিষ্ট্য:

১. জীবনের যে কোনো দশায় পিঠের দিকে 'নটোকর্ড' থাকে।

২. এদের পৃষ্ঠীয় ফাপা স্নায়ুরজ্জু (Neural tube) থাকে।

৩. গলবিলের দু-পাশে গলবিলীয় ফুলকা ছিদ্র উপস্থিত থাকে।

অ্যানেলিডা (Annelida) পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য:

১. দেহ অসংখ্য ছোট ছোট আংটির মতো খণ্ডক নিয়ে গঠিত, একে 'মেটামিয়ার' বলে।

২. রেচন অঙ্গের নাম নেফ্রিডিয়া (Nephridia)।

  • উদাহরণ: কেঁচো (Pheretima posthuma)।

২৭. শৈবাল ও ছত্রাকের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা।

বৈশিষ্ট্য

শৈবাল (Algae)

ছত্রাক (Fungi)

ক্লোরোফিল

ক্লোরোফিল থাকে।

ক্লোরোফিল থাকে না।

পুষ্টি

স্বভোজী (নিজের খাদ্য নিজে বানায়)।

পরভোজী বা মৃতজীবী।

সঞ্চয় বস্তু

শ্বেতসার (Starch)।

গ্লাইকোজেন ও তেলবিন্দু।

কোশপ্রাচীর

সেলুলোজ দ্বারা গঠিত।

কাইটিন (Chitin) দ্বারা গঠিত।


২৮. পরিবেশ সংরক্ষণে জীববিজ্ঞানের ভূমিকা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

​পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীববিজ্ঞানের ভূমিকাগুলি হলো:

  • বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ: বিলুপ্তপ্রায় জীবদের চেনা এবং তাদের প্রজনন ও অভয়ারণ্য তৈরির মাধ্যমে সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
  • দূষণ নিয়ন্ত্রণ: অনুজীবদের মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থের পচন ঘটিয়ে সার তৈরি করা এবং বায়ুদূষণ রোধে নির্দিষ্ট উদ্ভিদের ভূমিকা বোঝা।
  • পরিবেশ সচেতনতা: খাদ্যশৃঙ্খল ও বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখা।
  • প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা: মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ এবং বৃক্ষরোপণের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে বনভূমি রক্ষা করা।

​আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই উত্তরগুলি সহায়ক হবে। এই অধ্যায়ের কোনো বিশেষ চিত্র বা জীবন বিজ্ঞানের অন্য কোনো অধ্যায় সম্পর্কে আপনার প্রশ্ন থাকলে আমাকে জানাতে পারেন।


জীবন ও তার বৈচিত্র্য প্রশ্ন উত্তর 

১. জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (Characteristics of Life)

​জীবনকে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন হলেও কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে প্রাণহীন বস্তু থেকে জীবনকে আলাদা করা যায়:

  • বিপাক (Metabolism): জীবদেহের কোশে প্রতিনিয়ত যে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে তাকে বিপাক বলে। এটি দু-রকমের:
    • উপচিতি: দেহগঠনকারী বা গঠনমূলক বিপাক (যেমন: সালোকসংশ্লেষ)।
    • অপচিতি: শক্তি উৎপাদনকারী বা ক্ষয়মূলক বিপাক (যেমন: শ্বসন)।
  • উত্তেজিতা (Irritability): পরিবেশে কোনো পরিবর্তনের (উদ্দীপক) প্রভাবে সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাকে উত্তেজনা বলে। যেমন: লজ্জাবতী গাছের পাতা ছুলে বন্ধ হয়ে যাওয়া।
  • প্রজনন (Reproduction): প্রতিটি জীব তার নিজস্ব সত্তা বিশিষ্ট অপত্য জীব সৃষ্টি করে বংশধারা বজায় রাখে।
  • বৃদ্ধি (Growth): খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে জীবদেহের শুষ্ক ওজনের স্থায়ী ও জীবনব্যাপী বৃদ্ধি ঘটে।
  • ​চলন ও গমন (Movement & Locomotion): উদ্দীপনার প্রভাবে বা নিজস্ব প্রয়োজনে জীবের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়াকে চলন বলা হয়, আর সম্পূর্ণ দেহের স্থান পরিবর্তনকে গমন বলা হয়।

২. ট্যাক্সোনমির প্রধান উপাদান (Components of Taxonomy)

​ট্যাক্সোনমি বা বিন্যাসবিধির প্রধানত চারটি স্তম্ভ বা উপাদান রয়েছে:

  1. শনাক্তকরণ (Identification): কোনো জীবকে তার বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী অন্য জীব থেকে আলাদা করে চিনে নেওয়া।
  2. নামকরণ (Nomenclature): আন্তর্জাতিক নিয়ম (ICBN/ICZN) মেনে কোনো জীবের একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া।
  3. শ্রেণিবিন্যাস (Classification): সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে জীবকে বিভিন্ন গোষ্ঠীতে (যেমন: রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি) সাজানো।
  4. প্রামাণ্য দলিল (Documentation): আবিষ্কৃত জীবের বিবরণ ও নমুনা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা।

৩. উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিভিন্ন পর্বের বৈশিষ্ট্য

​এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ গোষ্ঠী ও প্রাণী পর্বের প্রধান শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো:

উদ্ভিদ জগৎ (Plant Kingdom)

  • ব্রায়োফাইটা (Bryophyta): এদের উদ্ভিদরাজ্যের 'উভচর' বলে। এদের দেহে সংবহন কলা থাকে না এবং মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে। (উদাহরণ: মস বা Riccia)।
  • টেরিডোফাইটা (Pteridophyta): এরা হলো সংবহন কলাযুক্ত প্রথম অপুষ্পক উদ্ভিদ। এদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। (উদাহরণ: ঢেকিশাক বা Dryopteris)।
  • ব্যক্তিবীজী (Gymnosperm): এদের ফল গঠিত হয় না বলে বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। (উদাহরণ: পাইন গাছ)।
  • গুপ্তবীজী (Angiosperm): বীজ ফলের মধ্যে আবৃত থাকে। এরা একবীজপত্রী বা দ্বিবীজপত্রী হতে পারে। (উদাহরণ: আম, ধান)।

প্রাণী জগৎ (Animal Kingdom)

পর্ব (Phylum)

প্রধান বৈশিষ্ট্য

উদাহরণ

পরিফেরা (Porifera)

দেহ অসংখ্য ছিদ্র (অস্টিয়া) যুক্ত এবং নালীভল রয়েছে।

সাইকন (Sycon)

নিডারিয়া (Cnidaria)

দেহে নিডোব্লাস্ট কোশ ও সিলেন্টেরন গহ্বর থাকে।

হাইড্রা, জেলিফিশ

অ্যানিমেলিয়া (Annelida)

দেহ অসংখ্য আংটির মতো খণ্ডক (মেটামিয়ার) যুক্ত।

কেঁচো, জোঁক

আর্থ্রোপোডা (Arthropoda)

সন্ধিল উপাঙ্গ ও কাইটিন নির্মিত বহিঃকঙ্কাল থাকে।

আরশুলা, ফড়িং

মলাস্কা (Mollusca)

দেহ নরম ও পেশিবহুল পদ থাকে, খোলক দিয়ে আবৃত।

শামুক, অক্টোপাস

একাইনোডার্মাটা

দেহত্বক কাঁটাযুক্ত এবং জলসংবহনতন্ত্র দেখা যায়।

তারামাছ

কর্ডাটা (Chordata)

পৃষ্ঠীয় নটোকর্ড ও ফাপা স্নায়ুরজ্জু থাকে।

মানুষ, বাঘ, রুই মাছ


একজন ছাত্র বা ছাত্রী হিসেবে জীবন বিজ্ঞান বা পড়াশোনার যেকোনো বিষয়ে সফল হওয়ার জন্য কেবল মুখস্থ বিদ্যা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি। নিচে তোমাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত পরামর্শ ও টিপস দেওয়া হলো:

ব্যক্তিগত পরামর্শ: "ধারণা পরিষ্কার করো, মুখস্থ নয়"

​পড়াশোনাকে কোনো বোঝা মনে না করে আনন্দ হিসেবে গ্রহণ করো। মনে রাখবে, জীবন বিজ্ঞান কেবল বইয়ের পাতা নয়, এটি আমাদের চারপাশ এবং আমাদের নিজের শরীর নিয়ে আলোচনার বিদ্যা। যখন তুমি 'হৃৎপিণ্ড' নিয়ে পড়বে, তখন সেটি কল্পনা করো; যখন 'শৈবাল' বা 'ছত্রাক' পড়বে, তখন নিজের বাগানে বা চারপাশে সেগুলো খুঁজে দেখার চেষ্টা করো। বাস্তব জীবনের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারলে বিষয়টি তোমার মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী হবে।

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সেরা ৫টি টিপস

১. চিত্র বা ডায়াগ্রামের জাদু

​জীবন বিজ্ঞানে ভালো নম্বর পাওয়ার আসল চাবিকাঠি হলো চিত্র। পরীক্ষায় কোনো প্রশ্নের উত্তরের সাথে ছোট করে একটি পেন্সিল স্কেচ বা চিহ্নিত চিত্র এঁকে দিলে শিক্ষকের কাছে তোমার গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়।

টিপস: প্রতিদিন অন্তত একটি করে গুরুত্বপূর্ণ ছবি (যেমন—আদর্শ উদ্ভিদ কোশ বা আরশোলার গঠন) প্র্যাকটিস করো।


২. ফ্লো-চার্ট ব্যবহার করো

​বড় প্রশ্নের উত্তর মনে রাখা কঠিন হলে সেটিকে পয়েন্ট আকারে বা ফ্লো-চার্টের মতো করে সাজিয়ে নাও। যেমন: প্রাণের উৎপত্তি বা শ্রেণিবিন্যাসের ধাপগুলি। এতে অল্প সময়ে বেশি তথ্য মনে রাখা সহজ হয়।

৩. পার্থক্য মনে রাখার ছক

​বইয়ে অনেক পার্থক্য থাকে (যেমন: একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী)। এগুলো পড়ার সময় সবসময় 'বৈশিষ্ট্যের ভিত্তি' বা 'তুলনার বিষয়' সহ টেবিল বানিয়ে পড়বে। এতে গুলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।

৪. নোট বুক তৈরি করো

​বই পড়ার সময় যে তথ্যগুলো একটু কঠিন মনে হবে বা যে বৈজ্ঞানিক নামগুলো ভুলে যাচ্ছ, সেগুলো একটি আলাদা ডায়েরিতে লিখে রাখো। পরীক্ষার আগে পুরো বই না দেখে ওই নোট বুকটি দেখলেই দ্রুত রিভিশন হয়ে যাবে।

৫. বিগত বছরের প্রশ্ন ও মক টেস্ট

​পড়া শেষে নিজেকে যাচাই করার জন্য বিগত কয়েক বছরের টেস্ট পেপার বা মক টেস্ট সমাধান করো। এতে তোমার উত্তর লেখার গতি বাড়বে এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।

মনে রাখবে: সাফল্য এক দিনে আসে না, প্রতিদিনের ছোট ছোট চেষ্টাই তোমাকে বড় সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ) - জীবন ও তার বৈচিত্র্য

১. ট্যাক্সোনমি বা বিন্যাসবিধি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের শনাক্তকরণ, নামকরণ এবং শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে ট্যাক্সোনমি বা বিন্যাসবিধি বলে। বিজ্ঞানী অগাস্তিন পি দ্য ক্যান্ডোল প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসকে ট্যাক্সোনমির জনক বলা হয়।

২. আম গাছ ও মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম কী?

উত্তর: আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Mangifera indica এবং মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Homo sapiens। দ্বিপদ নামকরণের নিয়ম অনুযায়ী এই নামগুলো ল্যাটিন ভাষায় লেখা হয় এবং হাতে লেখার সময় আলাদা করে নিচে দাগ দিতে হয়।

৩. 'হট ডাইলুট সুপ' বা তপ্ত লঘু স্যুপ কী?

উত্তর: বিজ্ঞানী হ্যালডেনের মতে, আদিম পৃথিবীতে সমুদ্রের উত্তপ্ত জল এবং তাতে দ্রবীভূত বিভিন্ন জৈব যৌগের (যেমন—অ্যামিনো অ্যাসিড, শর্করা, লিপিড) মিশ্রণকে 'তপ্ত লঘু স্যুপ' বা 'হট ডাইলুট সুপ' বলা হয়। এখান থেকেই প্রাণের প্রথম স্পন্দন শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

৪. ব্রায়োফাইটাকে কেন 'উদ্ভিদরাজ্যের উভচর' বলা হয়?

উত্তর: ব্রায়োফাইটা বা মস জাতীয় উদ্ভিদরা ডাঙ্গায় বসবাস করলেও এদের জনন বা নিষেকের জন্য জলের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন। জলেও বাস করে আবার ডাঙ্গাতেও বংশবিস্তার করে বলে এদের 'উদ্ভিদরাজ্যের উভচর' বলা হয়।

৫. হুইটেকারের পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের রাজ্যগুলি কী কী?

উত্তর: বিজ্ঞানী রবার্ট হুইটেকার সমগ্র জীবজগতকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেছেন। এগুলি হলো— ১. মোনেরা (Monera), ২. প্রোটিস্টা (Protista), ৩. ফানজাই (Fungi), ৪. প্ল্যান্টি (Plantae) এবং ৫. অ্যানিমেলিয়া (Animalia)।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ