আত্মকথা class 7 প্রশ্ন উত্তর
নমস্কার বন্ধুরা,আত্মকথা class 7 প্রশ্ন উত্তর এই আর্টিকেলটিতে আত্মকথা গল্পের বিষয়বস্তু নামকরণ অনুশীলনী প্রশ্নোত্তর এবং অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে।
আত্মকথা প্রশ্ন উত্তর
আত্মকথা
রামকিঙ্কর বেইজ
আত্মকথা গল্পের বিষয়বস্তু : আত্মকথা class 7 প্রশ্ন উত্তর
বিষয়সংক্ষেপ
লেখক গ্রামের ছেলে। শৈশব থেকেই তাঁর ছবি আঁকার প্রতি তীব্র আকর্ষণ ছিল। বাড়ির দেয়ালে টাঙানো দেবদেবীর ছবি দেখে তিনি তা আঁকতে চেষ্টা করতেন। মূর্তি গড়ার কাজেও তাঁর দক্ষতার পরিচয় মেলে। লেখকের বাড়ির পাশে কুমোরপাড়া ছিল।
সেখান থেকে তাঁর মাটির নানা কাজ দেখার অভ্যাস তৈরি হয়। আঁকার জন্য যে রংতুলির প্রয়োজন হত তা নানান জায়গা থেকে তিনি সংগ্রহ করতেন। আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় এবং অঙ্কনবিদ্যায় পারদর্শিতার জন্য বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছিলেন। বাঁকুড়াতে ম্যাট্রিক পাশ করার পর ন্যাশনাল স্কুলে ভরতি হয়ে কংগ্রেস দলের হয়ে কাজ করতে শুরু করেন।
এইসময় বেশ কিছু মহাপুরুষের ছবি ও বাণী অয়েল পেন্টিং-এর মাধ্যমে এঁকেছিলেন। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। তারপর তিনি চলে আসেন শান্তিনিকেতনে । সেখানে আচার্য নন্দলাল বসুর নির্দেশেই সব কাজ পরিচালিত হত। এখানে ছাত্রদের অ্যানাটমি ও মাস্ল সম্বন্ধেও শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। লেখক সেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
নন্দলালবাবু ছিলেন ওরিয়েন্টাল আর্টের প্রবর্তক। লেখক রামকিঙ্করের বেশিরভাগ ছবি ছিল খুবই সাধারণ, তবে তা অনেকটা নন্দলালবাবুর পরোক্ষ প্রভাবে। অয়েল পেন্টিং-এ আঁকা সুন্দর ছবিটি—গার্ল অ্যান্ড দ্য ডগ। কারণ, নন্দলালবাবুর সাদামাটা সুরটা লেখককে আশ্চর্যরকমভাবে আকর্ষণ করত।
আত্মকথা গল্পের নামকরণের সার্থকতা
নামকরণ
মানবসমাজে বাস করতে গেলে যেমন মানুষের একটা নাম জরুরি, তেমনি সাহিত্যরচনারও নামকরণ অত্যন্ত জরুরি। এটি এমন একটা বিষয়, যা তার পরিচয়ের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শর্ত বলে মনে করা যেতে পারে। মানুষের নামকরণ যেমন খুশি রাখা যেতে পারে, কিন্তু সাহিত্যের নামকরণে তা চলবে না। কেন না, সাহিত্যের নামকরণের মধ্য দিয়ে সেই গল্প বা কবিতার মূলভাবটি যেমন ধরা পড়ে, তেমনি সাহিত্যিকের মনোভাবও স্পষ্ট বোঝা সম্ভব হয়।
আমাদের আলোচ্য ‘আত্মকথা’ রচনাটির মধ্যে সেই ভাব সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘আত্মকথা’ শব্দের অর্থ হল নিজের কথা। লেখক এই রচনায় নিজের কথাই বলেছেন। খুব ছেলেবেলা থেকেই তিনি আঁকতে ভালোবাসতেন। বাড়ির দেয়ালে টাঙানো দেবদেবীর ছবি দেখে তিনি আঁকতে শুরু করেছিলেন।
কুমোরপাড়ায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে তাদের দেখে দেখে নিজেও মাটির নানান মূর্তি তৈরিতে হাত পাকিয়েছিলেন। পারিবারিক অবস্থা ভালো না হলেও নিজের আঁকার দক্ষতার জন্য বিনা বেতনে স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। পড়াশোনার থেকে আঁকার প্রতিই আগ্রহ ছিল বেশি। সারাজীবন তিনি জ্ঞানীগুণী মানুষের সান্নিধ্যলাভ করেছেন।
শান্তিনিকেতনে থাকাকালীন বহু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন আচার্য নন্দলাল বসুর সঙ্গে থেকে। সেখানেই প্রথম তিনি অয়েল পেন্টিং-এর কাজ করেন। সঠিক অর্থে তিনি একজন শিল্পী। কেমনভাবে তিনি শিল্পী হয়ে উঠেছিলেন তার সুন্দর নিখুঁত বর্ণনা ধরা পড়েছে তাঁর ‘আত্মকথা'র মধ্যে। সংগত কারণেই গদ্যাংশটির ‘আত্মকথা' নামকরণটি যথাযথ ও সার্থক হয়েছে।
আত্মকথা অনুশীলনী
প্রশ্নোত্তর বিভাগ
হাতেকলমে
ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখো :
১.১ রামকিঙ্করের প্রথম শিল্পের—ইস্কুল বাড়ির পাশের— কামারপাড়া/কুমোরপাড়া/ পটুয়াপাড়া।
উত্তর রামকিঙ্করের প্রথম শিল্পের ইস্কুল বাড়ির পাশের কুমোরপাড়া
[১.২ ‘পোর্ট্রেট' শব্দের অর্থ হল—প্রতিকৃতি/আত্ম-প্রতিকৃতি প্রকৃতির ছবি।
উত্তর ‘পোর্ট্রেট’ শব্দের অর্থ হল—প্রতিকৃতি।
১.৩ অয়েল পেন্টিং' বলতে বোঝায়—জলরঙে আঁকা ছবি/মোমরঙে আঁকা ছবি/তেলরঙে আঁকা ছবি।
উত্তর ‘অয়েল পেন্টিং' বলতে বোঝায় তেলরঙে আঁকা ছবি।
[১.8 রামকিঙ্করের ছবি বা মূর্তির অধিকাংশ ক্যারেকটারই যে খুব—অসাধারণ/সাধারণ/নগণ্য।
উত্তর রামকিঙ্করের ছবি বা মূর্তির অধিকাংশ ক্যারেকটারই যে খুব সাধারণ।
২. একই অর্থ-যুক্ত শব্দ রচনাংশ থেকে বেছে নিয়ে লেখো : বিনা ব্যয়ে, অভ্যুত্থান, দরকার, নিপুণ, সম্মাননীয়।
শব্দ একই অর্থযুক্ত শব্দ
বিনা ব্যয়ে ----- অবৈতনিক
অভ্যুত্থান - আন্দোলন
দরকার - প্রয়োজন
নিখুঁত - নিপুণ
সম্মাননীয় -- শ্রদ্ধেয়
.৩. বিশেষ্য থেকে বিশেষণ এবং বিশেষণ থেকে বিশেষ্যে
বদলাও : সার্থক, সুন্দর, মূর্তি, চরিত্র, উদ্ধৃতি।
বিশেষ্য বিশেষণ
সার্থকতা - সার্থক
সৌন্দর্য - সুন্দর
মূর্তি - মূর্তিমান
চরিত্র - চারিত্রিক
উদ্ধৃতি - উদ্ধৃত
৪ একটি বাক্যে উত্তর দাও :
8.১ কী কী দিয়ে শিল্পী রামকিঙ্কর রঙের প্রয়োজন মেটাতেন?
উত্তর : গাছের পাতার রস, বাটনা বাটা শিলের হলুদ, মেয়েদের পায়ের আলতা, মুড়ি-ভাজা খোলার চাঁছা ভুসোকালি—এসব দিয়ে শিল্পী রামকিঙ্কর রঙের প্রয়োজন মেটাতেন।
8.2 কার সৌজন্যে রামকিঙ্করের সঙ্গে শান্তিনিকেতনের যোগাযোগ হয় ?
রামানন্দ উত্তর ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সম্পাদক শ্রদ্ধেয় চট্টোপাধ্যায়ের সৌজন্যে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে রামকিঙ্করের সঙ্গে শান্তিনিকেতনের যোগাযোগ হয় ।
[8.3] শান্তিনিকেতনের আচার্য নন্দলাল বসু কাজের ক্ষেত্রে কেমন মনোভাব দেখাতেন ?
উত্তর আচার্য নন্দলাল বসু কারও কাজে কখনও ইমপোজ করতেন না। অর্থাৎ নিজের মতামত অন্যের উপর চাপিয়ে না দিয়ে তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিতেন ।
[8.8 ] নন্দলাল বসুর কাজের কোন্ দিকটা শিল্পী রামকিঙ্করকে বেশি প্রভাবিত করেছিল ?
উত্তর সাধারণ চরিত্র, কমন ল্যান্ডস্কেপ, একেবারে গ্রামের কমপ্লিট ক্যারেকটার নিয়ে যে-সমস্ত ছবিতে সাধারণ বাস্তবতার পরিচয় মেলে, নন্দলাল বসুর কাজের সেই দিকটা শিল্পী রামকিঙ্করকে বেশি প্রভাবিত করেছিল।
৫ নিম্নলিখিত ব্যক্তি ও বিষয়গুলি নিয়ে দু-একটি বাক্য লেখো : নন্-কো-অপারেশন মুভমেন্ট, অয়েল পেন্টিং, আচার্য নন্দলাল বসু, ল্যান্ডস্কেপ।
উত্তর
বিষয় বাক্য
নন্-কোঅপারেশন মুভমেন্ট - ‘নন-কো-অপারেশন’ শব্দটির অর্থ সহযোগিতা না করা অর্থাৎ অসহযোগমূলক আন্দোলন। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে গান্ধিজি অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব পেশ করেন । এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কংগ্রেস ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়। সেই আন্দোলনের সময় রামকিঙ্কর মহাপুরুষের বাণী লিখে ও ছবি এঁকে সাহায্য করতেন।
অয়েল পেন্টিং - ‘অয়েল পেন্টিং' শব্দ দুটির অর্থ তেল রঙে আঁকা ছবি। রামকিঙ্কর যখন শান্তিনিকেতনে যান তখনও পর্যন্ত কেউ তেল রঙে ছবি আঁকতেন না। রামকিঙ্কর প্রথম তা শুরু করেন। সম্ভবত এ কাজ দেখে আচার্য নন্দলাল বসু একটু অসন্তুষ্টও হয়েছিলেন।
আচার্য নন্দলাল - আচার্য নন্দলাল বসুর জন্ম ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে বসু এবং মৃত্যু ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে। তিনি একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী। রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনের কলাভবনের অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি ছিলেন ওরিয়েন্টাল আর্টের প্রবর্তক।
ল্যান্ডস্কেপ - ‘ল্যান্ডস্কেপ' শব্দটির অর্থ প্রকৃতির ছবি। আচার্য নন্দলাল বসু অতি সাধারণ প্রকৃতির ছবি আঁকানো শেখাতে এবং আঁকতে বেশি পছন্দ করতেন। সেই বাস্তব ধারাটি সযত্নে ধরে রাখতে পেরেছিলেন রামকিঙ্কর । ল্যান্ডস্কেপ
৬.নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :
৬.১ ‘ভিসুয়াল আর্টে আমার প্রথম বর্ণপরিচয়'—শিল্পী রামকিঙ্করের ছবির সঙ্গে প্রথম বর্ণপরিচয় হয়েছিল কীভাবে?
উত্তর শৈশব থেকে শিল্পী রামকিঙ্করের ছবি আঁকার প্রতি একটা বিশেষ আগ্রহ ছিল। বাড়িঘরের চারদিকের দেয়ালে নানান দেবদেবীর ছবি টাঙানো থাকত, সেগুলি দেখে তিনি খুব আনন্দ পেতেন এবং সেগুলি দেখে দেখে আঁকতে চেষ্টা করতেন। এভাবেই ভিসুয়াল আর্টের সঙ্গে বা ছবির সঙ্গে চিত্রশিল্পী রামকিঙ্করের প্রথম বর্ণপরিচয় হয়েছিল।
৬.২ 'জেনারেল লাইব্রেরির উপরতলায় কলাভবনে নিয়ে গেলেন'–কে, কাকে নিয়ে গিয়েছিলেন ? তারপর কী ঘটেছিল ?
উত্তর ‘প্রবাসী' পত্রিকার সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় লেখক রামকিঙ্কর বেইজকে জেনারেল লাইব্রেরির উপরতলায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় কলাভবনে নিয়ে গিয়ে আচার্য নন্দলাল বসুর সঙ্গে রামকিঙ্কর বেইজের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
৬.৩ 'যতদূর মনে হচ্ছে—গার্ল অ্যান্ড দ্য ডগ'—কার উক্তি? ‘গার্ল অ্যান্ড দ্য ডগ’ কীসের নাম? তিনি কীভাবে এ ধরনের কাজ শিখলেন ?
উত্তর উদ্ধৃত উক্তিটি লেখক রামকিঙ্কর বেইজ নিজে করেছিলেন।
‘গার্ল অ্যান্ড দ্য ডগ' একটি চিত্রের নাম। লেখক রামকিঙ্কর যখন শান্তিনিকেতনে আসেন তখন এখানকার কোনো শিল্পী অয়েল পেন্টিং-এর কাজ করতেন না। লেখক দোকানদারের কাছ থেকে টিউবে থাকা রং নিয়ে তেলের সঙ্গে মিশিয়ে তুলি ডুবিয়ে কী করে কাজ করতে হয়, তা শিখেছিলেন।
৬.৪ “এই সাদামাটা সুরটা আমাকে ভীষণভাবে টানে”কাকে টানে? ‘সাদামাটা সুর' বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন ? তাঁকে এই সুর টানে কেন? (পঠন সেতু) সাদামাটা সুর টানে।
উত্তর লেখক রামকিঙ্কর বেইজকে
নন্দলাল বসুর আঁকা ছবির মধ্যে একটা অতি সাধারণ গ্রামীণ সুর খুঁজে পাওয়া যেত। তাঁর সব আঁকাই সাধারণ চরিত্র, কমন ল্যান্ডস্কেপ, একেবারে গ্রামের কমপ্লিট ক্যারেকটার নিয়ে সৃষ্ট। একেই লেখক সাদামাটা সুর বলেছেন।
শান্তিনিকেতনে পৌঁছে আচার্য নন্দলাল বসুর কাছে আচরণে মুগ্ধ হন লেখক রামকিঙ্কর। তাঁর প্রতি ছিল লেখকের অসীম শ্রদ্ধা। এত বড়ো শিল্পীর সান্নিধ্যলাভ তাঁর অতিরিক্ত পাওনা এবং সৌভাগ্য বলে তিনি মনে করতেন। নন্দলাল বসুর সব ছবির বিষয় ছিল অতি সাধারণ। এই সাদামাটা সুরটাই লেখককে বিশেষভাবে আকর্ষণ করত।
আত্মকথা অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর
সঠিক উত্তর নির্বাচন করো
প্রশ্ন
১.বাড়িঘরের দেয়ালে ছবি থাকত (মনীষীদের/দেবদেবীর/প্রাকৃতিক দৃশ্যের)।
• দেবদেবীর
২. বাড়ির সামনের রাস্তাটা ঢাকা ছিল (পিচে/ইট দিয়ে/লাল মোরামে)।
লাল মোরামে
৩.এসময় শ্রদ্ধেয় রামানন্দ (বন্দ্যোপাধ্যায় / গঙ্গোপাধ্যয়/চট্টোপাধ্যায়) মহাশয় বাঁকুড়ায় আসেন।
চট্টোপাধ্যায়
৪.আচার্য (নন্দলালবাবুর/অবনীন্দ্রবাবুর/রবীন্দ্রবাবুর) সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন।
নন্দলালবাবুর
৫. শান্তিনিকেতনে ছাত্রদের শিক্ষা দেওয়া হত (গাছপালা সম্বন্ধে/অ্যানাটমি ও মাস্ল সম্বন্ধে/ পশুপালন সম্বন্ধে)।
অ্যানাটমি ও মাস্ল সম্বন্ধে
৬.রামকিঙ্কর শান্তিনিকেতনে প্রথম কোন্ বিষয়টি শুরু করেন? (পুতুল তৈরি/ অয়েল পেন্টিং পেন্টিং/ওরিয়েন্টাল আর্ট/ল্যান্ডস্কেপ)
অয়েল পেন্টিং
৭.দেখলেম বলিষ্ঠ চেহারার মানুষ, গায়ে (সুতির/সিল্কের/আদ্দির) পাঞ্জাবি পরনে ও সিল্কের ধুতি।
৮.এই (সাদামাটা/সহজসরল/জটিল) সুরটাই আমাকে ভীষণভাবে টানে।
সাদামাটা
শূন্যস্থান পূরণ করো
প্রশ্ন
১. ----- আমার প্রথম বর্ণপরিচয়।
ভিসুয়াল আর্টে।
২. ------- সুযোগ পেলেই মাটিতে হাত লাগিয়ে
করতাম।
• ছানাছানি।
৩.আমি ----- ছাত্র হিসেবে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে এসেছি।
অবৈতনিক।
৪. একমাত্র রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনই -----কর্তৃত্বের বাইরে।
ব্রিটিশ।
৫.শান্তিনিকেতন--- বিদ্যালয়।
ব্রহ্মচর্য
৬.কিন্তু নিজে-------.করতেন না।
ইমপোজ।
৭.------ কিন্তু একটু অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন অয়েলে করেছিলাম বলে ।
মর্যাদাবান।
৮.-------শিল্পী হিসেবে যেমন-------শিক্ষক হিসেবেও তেমনি।
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
১.‘আত্মকথা' প্রবন্ধটি কার লেখা ?
আত্মকথা’ প্রবন্ধটি রামকিঙ্কর বেইজ-এর লেখা ৷
২. শিল্পী রামকিঙ্করের প্রথম বর্ণপরিচয় হয় কীসে?
শিল্পী রামকিঙ্করের প্রথম বর্ণপরিচয় হয় ভিসুয়াল আর্টে।
৩. রামকিঙ্করের প্রথম শিল্পের ইস্কুল কোটি?
রামকিঙ্করের প্রথম শিল্পের ইস্কুল বাড়ির পাশের কুমোরপাড়া
8 ছেলেবেলা থেকেই রামকিঙ্করের কী অভ্যেস ছিল ?
ছেলেবেলা থেকেই রামকিঙ্করের অনেকক্ষণ ধরে কুমোরদের মূর্তি গড়া ও অন্যান্য কাজ দেখার বেশ অভ্যেস ছিল।
৫.ছেলেবেলায় রামকিঙ্কর কীভাবে তুলির কাজ চালাতেন ?
ছেলেবেলা থেকেই রামকিঙ্করের অনেকক্ষণ ধরে কুমোরদের মূর্তি গড়া ও অন্যান্য কাজ দেখার বেশ অভ্যেস ছিল।
৬.লিডারদের যে পোর্ট্রেট রামকিঙ্কর আঁকতেন, তার পদ্ধতি কী ছিল?
কংগ্রেসের কাজে প্রসেশনের সময় রামকিঙ্কর লিডারদের যে পোর্ট্রেট আঁকতেন, তাঁর অঙ্কন পদ্ধতি ছিল অয়েলপেন্ট।
৭. তৎকালীন শান্তিনিকেতন কেমন ছিল?
তৎকালীন শান্তিনিকেতন অর্থে রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন, একমাত্র এই স্থানটিই ছিল ‘ব্রিটিশ কর্তৃত্বের বাইরে
৮. অয়েল-পেন্টিং কী?
অয়েল-পেন্টিং হল তেল রং, যা দিয়ে তৈলচিত্র অঙ্কন করা হয়।
একমুখী তথ্যানু সন্ধানী প্রশ্ন উত্তর
১.“মূর্তিগড়ার ইতিহাসও খুব মজার।”—কোন্ ব্যাপারটি কেন মজার? (পঠন সেতু)
উত্তর ছেলেবেলা থেকেই মূর্তি গড়ার প্রতি রামকিঙ্করের বেশ টান ছিল। এব্যাপারে তাঁর উৎসাহ জেগেছিল বাড়ির পাশের কুমোরপাড়া থেকে। এপ্রসঙ্গে নিজের মূর্তিগড়ার যে মজার কথা তিনি জানিয়েছেন, তা হল—তাঁদের বাড়ির সামনের রাস্তা লাল-মোরামে ঢাকা থাকত। একদিন তিনি দেখলেন, হঠাৎ বৃষ্টির পরে উপরের মোরাম ধুয়ে রাস্তায় নীলরঙের মাটি বেরিয়ে এসেছে। সেই মাটি খাবলে তুলে তিনি নানারকম পুতুল তৈরি করেছিলেন।
২. এই সবের মধ্যে কখন নন্-কোঅপারেশন আন্দোলন এসে গেল।”— সে-সময়ের কথা পাঠ্য রচনায় কীভাবে এসেছে?
উত্তর জাতির জনক মহাত্মা গান্ধির ডাকে সেকালে যে অসহযোগ আন্দোলন হয়েছিল, তাই ‘নন্-কোঅপারেশন আন্দোলন।' পাঠ্য ‘আত্মকথা' রচনায় তারই একটু ছবি এঁকেছেন লেখক—“স্কুল-কলেজ বন্ধ। ন্যাশনাল স্কুলে ভর্তি হলাম আর কংগ্রেসের কাজে যোগ দিলাম।” লেখকের উপর ভার ছিল, মহাপুরুষদের বাণী থেকে উদ্ধৃতি লিখে ঝুলিয়ে দেওয়ার। তা ছাড়া প্রসেশনের সময় তাঁকে তেলরঙে লিডারদের পোর্ট্রেট এঁকে দিতে হত।
৩ ন্যাশনাল স্কুলে ভরতির পর রামকিঙ্করের উপর কোন্ ভার অর্পণ করা হয়েছিল ?
উত্তর। ন্যাশনাল স্কুলে ভরতির পর রামকিঙ্করের উপর ভার ছিল মহাপুরুষদের বাণী থেকে উদ্ধৃতি লিখে ঝুলিয়ে দেওয়া আর প্রসেশনের সময় লিডারদের পোর্ট্রেট এঁকে অয়েল-পেন্ট করা।
৪ ‘এটাই ছিল মূল ধারণা। — ধারণাটি কী ? এর ফলে কী হয়েছিল ?
। চিত্রশিল্পেরও কিছু নিজস্ব ধারণা থাকে। এক্ষেত্রে তেমন ধারণাটি হল—বাস্তবতার ভিতর দিয়ে না গেলে চিত্ররচনা সার্থক হয় না ।
এই ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীকালে শান্তিনিকেতনে প্রাকৃতিক-বাস্তবতার সূচনা হয় যা এখনও চলছে। এরই ফলশ্রুতিতে “ছাত্রদের অ্যানাটমি ও মাস্ল সম্বন্ধেও শিক্ষা দেওয়া হয়।”
৫.“আমিই প্রথম শুরু করি।” – কে, কী শুরু করেন ? কীভাবে শুরু করেন ?
উত্তরা প্রখ্যাত চিত্রকর ও ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজ শান্তিনিকেতনের শিক্ষণরীতিতে প্রথম অয়েল-পেন্টিং বা তেলরঙে কাজ করা শুরু করেন।
-পেন্টিং যেহেতু তখনও শান্তিনিকেতনের কলবিভাগে অয়েলচিত্রমাধ্যমটির সূচনাই হয়নি, তাই রামকিঙ্করের এব্যাপারে চরম কৌতূহল ছিল। তাই তিনি চিত্রসামগ্রীর দোকানে গিয়ে বলেন—“অয়েল-পেন্টিং করব, কী রং আছে? কীভাবে করতে হয়। দেখান?” তারা অয়েল-পেন্টিং-এর সরল পদ্ধতি তাকে বলে দেন। এরপর তিনি ‘গার্ল অ্যান্ড দ্য ডগ’ নামের একটা ভালো তেলরঙের কাজ করেন।
৬ — তুমি সবই জানো, আবার এখানে কেন?'—কে, কাকে এ কথা বলেছেন? এ কথা বলার পর আর কী বলেছেন ? ১+১
উত্তর। বিখ্যাত শিল্পাচার্য নন্দলাল বসু শিল্পী রামকিঙ্করকে এ কথা বলেছেন ।
এ কথা বলার পর একটু ভেবে বলেছিলেন ‘আচ্ছা দু-তিন বছর থাকো তো।'
বোধমূলক প্রশ্নোত্তর কমবেশি ছ-টি বাক্যে উত্তর লেখো
১ শৈশবেই রামকিঙ্করের মনে ও কাজে কীভাবে শিল্পপ্রভাব গড়ে উঠেছিল ?
ডিত্তরা প্রায়শই দেখা গেছে, ভবিষ্যতে যাঁরা কোনো বিষয়ে মহৎ ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে ওঠেন, তাঁদের শৈশবেই সেই বিষয়ে একটা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ দেখা দেয়। রামকিঙ্কর এক অপরিমেয় শিল্পপ্রতিভার অধিকারী হয়েছিলেন। তার সূচনার একটা মুকুলও তাঁর শৈশবে বিকশিত হতে দেখা যায়। তাঁর বাড়িঘরের চারদিকের দেয়ালে নানা দেবদেবীর ছবি দেখে শৈশবে তাঁর ভালো লাগত। তিনি সেগুলি কপি করে সেই বয়সেই ‘ভিসুয়াল আর্ট’-এ নিজের বর্ণপরিচয় ঘটিয়ে ফেলেন। মূর্তিগড়ার ক্ষেত্রেও সূচনাপর্বটি ছিল মজার।
বাড়ির সামনের লাল-মোরামে ঢাকা রাস্তা একদিন হঠাৎ-বৃষ্টিতে ধুয়ে গেলে তিনি দেখেন নীলরঙের মাটি বেরিয়ে পড়েছে। সেখান থেকে এক খাবলা মাটি তুলে, তা দিয়ে তিনি নানারকম পুতুল তৈরি করেন। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন——আমার প্রথম শিল্পের-ইস্কুল বাড়ির পাশের কুমোর পাড়া' সেখানেই ছেলেবেলায় অনেকক্ষণ ধরে কুমোরদের মূর্তিগড়া ও অন্যান্য কাজ দেখতেন আর তিনি ‘সুযোগ পেলেই মাটিতে হাত লাগিয়ে ছানাছানি' করতেন। এভাবেই তাঁর মনে শৈশবেই একটা শিল্প প্রভাব গড়ে উঠেছিল।
২.ছেলেবেলায় শিল্পচর্চা করার ক্ষেত্রে রামকিঙ্করের উদ্ভাবনী ক্ষমতার পরিচয় দাও ।
উত্তর: একজন চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর হিসেবে বিস্ময়কর প্রতিভা ছিলেন রামকিঙ্কর বেইজ। জীবনের একটা বিশেষ বয়সে এসে শান্তিনিকেতনের পরিবেশ ও শিল্প তাঁর উপর যে অসাধারণ প্রভাব ফেলেছিল, তা তাঁর ছেলেবেলায় ছিল না। কিন্তু ‘আত্মকথা’ রচনায় ছেলেবেলা সম্পর্কে কিছু বলতে গিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, পারিপার্শ্বের নানা উপকরণ থেকে তিনি সংগ্রহ করে নিতেন তাঁর শিল্পবোধের উপকরণ। এর মধ্যে একটি বিশেষ দিক হল—রং।
দেয়ালে টাঙানো দেবদেবীর ছবি এঁকে দিত ছবির বিষয়, নরম মাটি দিত তাঁকে মূর্তি গড়ার প্রেরণা। একইভাবে তিনি রঙের উৎসও খুঁজে নিয়েছিলেন নিজস্ব ভাবনায়। গাছের পাতার রস, বাটনা-বাটা শিলের হলুদ, মেয়েদের পায়ের আলতা, মুড়ি-ভাজা খোলার চাঁদা ভুষোকালি—এগুলি তাঁর রঙের প্রয়োজন মেটাত। একইভাবে তুলি গড়ার ক্ষেত্রে তাঁর উদ্ভাবনা ছিল অভিনব। পাড়ার প্রতিমা-প্রস্তুতকারক মিস্ত্রিদের দেখে ছাগলের ঘাড়ের লোম কেটে নিয়ে, তা বাঁশের কাঠির ডগায় বেঁধে নিয়ে তা দিয়ে তিনি তুলির কাজ চালতেন ।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
কমবেশি আট-দশটি বাক্যে উত্তর লেখো
১.'আত্মকথা' প্রবন্ধ অবলম্বনে লেখক রামকিঙ্কর বেইজ-এর শৈশব জীবনের পরিচয় দাও।
উত্তর লেখক রামকিঙ্কর বেইজ বাঁকুড়া জেলার অন্তর্গত এক গ্রামের মানুষ ছিলেন। শৈশব থেকেই তিনি সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকতে পারতেন। কুমোরপাড়ায় বাড়ির সুবাদে মাটি দিয়ে নানান মূর্তিও তৈরি করতে শিখেছিলেন। ঘরের দেয়ালে টাঙানো দেবদেবীর ছবি দেখে তিনি ছবি আঁকা অভ্যাস করতেন। লেখকের পারিবারিক অবস্থা ভালো ছিল না। কিন্তু আঁকার দক্ষতার জন্য বিদ্যালয়ে অবৈতনিক বা বিনা বেতনের ছাত্র হিসেবে তিনি পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
পড়াশোনার থেকে আঁকার দিকে তাঁর আগ্রহ ছিল অনেক বেশি। ভালো মাটি দেখতে পেলে তা নিয়ে তিনি পুতুল তৈরি করতেন। সুযোগ পেলে মাটিতে হাত লাগিয়ে ছানাছানি করতেন। মূর্তি তৈরি করে অতি অল্প বয়সেই তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। শৈশবকাল থেকে তাঁর আঁকা এবং মূর্তি গড়াকে কেন্দ্র করে পরবর্তী জীবনে বহু জ্ঞানীগুণী ব্যক্তির সান্নিধ্যলাভ করেছিলেন।
২.“শান্তিনিকেতনের সঙ্গে যোগাযোগ তাঁরই কৃপায় ঘটে।”—‘তাঁরই' বলতে কার কথা বলা হয়েছে? শান্তিনিকেতনের সঙ্গে যোগাযোগের পর কী ঘটেছিল ? (পঠন সেতু) ১+৪
উত্তর ‘তাঁরই’বলতে ‘প্রবাসী’ পত্রিকার পরম শ্রদ্ধেয় সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের কথা বলা হয়েছে।
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় মহাশয় বাঁকুড়ায় গিয়েছিলেন এবং রামকিঙ্করের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। তাঁরই সৌজন্যে শান্তিনিকেতনের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে। ম্যাট্রিক পরীক্ষা না দিয়েই রামকিঙ্কর চলে এসেছিলেন শান্তিনিকেতনের ব্রষ্মচর্য বিদ্যালয়ে। প্রথমেই জেনারেল লাইব্রেরির উপরতলার কলাভবনে পরিচয় হল স্বনামধন্য চিত্রশিল্পী আচার্য নন্দলাল বসুর সঙ্গে।
তিনি তাঁর কয়েকটি আঁকা ছবি দেখে বলেছিলেন “তুমি সবই জানো, আবার এখানে কেন?” একটু ভেবে তিনি বলেছিলেন, “আচ্ছা, দু-তিন বছর থাকো তো।” এই কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি প্রাকৃতিক বাস্তবতাকে খুঁজে পেয়েছিলেন নন্দলাল বসুর সান্নিধ্যে থেকে। ওরিয়েন্টাল আর্টের প্রবর্তক নন্দলালবাবুর পরোক্ষ প্রভাবে তিনি ছবির মধ্যে অতি সাধারণ ব্যাপারটাকে আরও বেশি প্রাণবন্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সত্যিকারের একজন শিল্পীর কাছে শিক্ষালাভ করায় তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করতেন।
৩.- শিল্পী রামকিঙ্কর বেইজ-এর শিল্পপ্রতিভার পরিচয় দাও।
উত্তরা রামকিঙ্কর বেইজ প্রখ্যাত ভাস্কর এবং চিত্রশিল্পী ছিলেন। ছোটোবেলা থেকেই তিনি ছবি আঁকায় পারদর্শী ছিলেন। কুমোরপাড়ার শিল্পীদের দেখে নানা দেবদেবীর ছবি আঁকতেন। ম্যাট্রিক পাস করার পর ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে শিল্পী রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের সৌজন্যে শান্তিনিকেতনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। এখানকার প্রখ্যাত শিল্পগুরু নন্দলাল বসুর কাছে শিল্পশিক্ষার সৌভাগ্য ঘটে। তাঁর আঁকা ছবি দেখে নন্দলাল বসু বলেছিলেন, “তুমি সবই জানো, আবার এখানে কেন?” অতঃপর দু-তিন বছর থাকার কথা বলেন ।
সেই দু-তিন বছর আর শেষ হয়নি; আজীবন শিল্পশিক্ষা চর্চা করেছিলেন তিনি। প্রথম প্রথম অয়েল-পেন্টিং-এ ছবি আঁকলেও পরবর্তীকালে ওরিয়েন্টাল আর্টের শিক্ষাগ্রহণ করেন। নন্দলাল বসুর শিল্পের সাদামাটা সুরটা শিল্পী রামকিঙ্করকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করে। তাই তাঁর ছবি বা মূর্তির অধিকাংশ ক্যারেকটারই যে খুব সাধারণ, তা অনেকটা নন্দলালবাবুর পরোক্ষ প্রভাবে। এতেই রামকিঙ্করের শিল্পচর্চার সার্থকতা ।
ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি আমার কিছু পরামর্শ
১. মুখস্থ নয়, অনুধাবন করো
রামকিংকর বেইজ কোনো প্রথাগত ড্রয়িং বুক দেখে ছবি আঁকা শেখেননি। তিনি শিখেছেন চারপাশের প্রকৃতি দেখে। তোমরাও যখন এই অধ্যায়টি পড়বে, তখন মুখস্থ করার চেয়ে শিল্পী কীভাবে সাধারণ মাটি বা গাছের রস দিয়ে ছবি আঁকতেন, সেই অনুভূতিটা বোঝার চেষ্টা করো।
২. ছোট ছোট তথ্যে নজর দাও
পরীক্ষায় এখান থেকে অনেক ছোট প্রশ্ন আসে। যেমন— লেখকের বাড়ির পরিবেশ কেমন ছিল? 'মডার্ন রিভিউ' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন? নন্দলাল বসু লেখককে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন? এই পয়েন্টগুলো একটি খাতায় তালিকা করে নাও।
৩. শিল্পের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাও
এই পাঠ্যটি পড়ার সময় তোমরা জানবে যে, দামী রং-তুলি ছাড়াও শিল্প সৃষ্টি সম্ভব। লেখক শিম পাতার রস বা হলুদ দিয়ে রং তৈরি করতেন। এটি তোমাদের শেখায় যে, উপকরণের অভাব কখনও প্রতিভাকে আটকে রাখতে পারে না। তোমাদের কাছে যা আছে, তা দিয়েই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করো।
৪. শব্দার্থ ও টীকা লিখে রাখো
প্রবন্ধটিতে কিছু শব্দ বা ব্যক্তির নাম আছে (যেমন: অয়েল পেন্টিং, শান্তিনিকেতন, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়)। এগুলোর সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টীকা তৈরি করে রাখলে পরীক্ষার উত্তর লিখতে অনেক সুবিধা হবে।
উত্তর লেখার বিশেষ কৌশল (Pro Tips)
- উদ্ধৃতি ব্যবহার করো: যদি বড় প্রশ্নের উত্তর লেখো, তবে প্রবন্ধ থেকে দু-এক লাইন উদ্ধৃতি (Quotation) দেওয়ার চেষ্টা করো। এতে নম্বর বেশি পাওয়া যায়।
- সহজ ভাষা: রামকিংকর বেইজ নিজে খুব সহজ মনের মানুষ ছিলেন, তাই তাঁর জীবনী সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরও সহজ কিন্তু মার্জিত ভাষায় লিখবে।
আত্মকথা class 7 প্রশ্ন উত্তর: 'আত্মকথা' (রামকিংকর বেইজ) - প্রশ্নোত্তর FAQ
১. রামকিংকর বেইজের শৈশবে ছবি আঁকার হাতেখড়ি কীভাবে হয়েছিল?
রামকিংকরের বাড়ির চারপাশের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত শিল্পময়। তিনি ছোটবেলায় দেখতেন তাঁর পাড়ার কুমোররা মাটি দিয়ে মূর্তি তৈরি করছে। তাঁদের কাজ দেখেই তাঁর মনে ছবি আঁকা ও মূর্তি গড়ার অনুপ্রেরণা জাগে। গাছ থেকে ঝরে পড়া ফুল বা লতাপাতার রস দিয়ে তিনি দেওয়ালে ছবি আঁকতেন।
২. রামকিংকরের শান্তিনিকেতনে আসার পিছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল?
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনিই প্রথম রামকিংকরের প্রতিভা বুঝতে পারেন এবং তাঁকে শান্তিনিকেতনে পাঠিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নন্দলাল বসুর সান্নিধ্যে আসার সুযোগ করে দেন।
৩. 'আত্মকথা' প্রবন্ধে লেখক তাঁর সময়ের আর্ট কলেজের প্রথাগত শিক্ষা সম্পর্কে কী বলেছেন?
লেখক লক্ষ্য করেছিলেন যে সেই সময়ের আর্ট কলেজগুলোতে বিদেশি বা ইউরোপীয় রীতির অনুকরণ বেশি হতো। কিন্তু শান্তিনিকেতনে এসে তিনি ভারতীয় ঘরানার এবং উন্মুক্ত প্রকৃতির মাঝে কাজ করার যে স্বাধীনতা পেয়েছিলেন, তা ছিল তাঁর কাছে সম্পূর্ণ নতুন এবং বৈপ্লবিক।
৪. 'অয়েল পেন্টিং' বা তৈলচিত্র নিয়ে লেখকের প্রথম অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
লেখকের কাছে শুরুতে অয়েল পেন্টিংয়ের কোনো সরঞ্জাম ছিল না। তিনি জানতেন না যে এতে তিসির তেল ব্যবহার করতে হয়। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। পরবর্তীকালে নন্দলাল বসুর কাছে তিনি এই শিল্পের সঠিক পদ্ধতি শেখেন।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.