মাকু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর
নমস্কার বন্ধুরা, আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমি প্রথম প্রথম পর্যায়ে মাকু সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরেছি। এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে নিচে দেওয়া মাকু উপন্যাসের ৩০ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করেছি। তাই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন না হলে অনেক কিছু মিস করবেন।
এই ৩০ টি প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে।
১. মাকু কি?
২. মাকু শব্দের অর্থ কি?
৩. মাকু কিভাবে কাঁদতে পারলো
৪. মাকু কে চালু করার বোতাম কোথায় ছিল?
৫. মাকু আকৃতি
৬. মাকু কী কী কাজ করত?
৭. মাকু শব্দের বাংলা অর্থ কি?
৮.হোটেলওয়ালা আসলে কে?
৯. মাকু ঘড়িওয়ালাকে কেন খুঁজছিল?
১০. পিসেমশাই কি চাকরি করতেন?
১১. হোটেলওয়ালার জন্মদিনের উৎসব কেমন ছিল?
১২. মাকুর পেটে ঘড়িওয়ালা কী দিয়েছিল?
১৩. টিয়া মাকুকে চালু করেছিল কোন চাবি দিয়ে?
১৪. কালিয়া বনের দেবতার নাম কি?
১৫. সহায়হরির স্ত্রীর নাম কী ছিল?
১৬. কালিয়ার বন কোথায় সেখানে কীভাবে যেতে হয়?
১৭. সোনা টিয়া কিভাবে বাড়ি ফিরল?
১৮. মাকু কিভাবে কাঁদতে পারে?
১৯. কে মাকুকে কাঁদার কল লাগিয়েছিল এবং কীভাবে?
২০. মাওরিদের বনের দেবতা কে?
২১. ঘড়িওয়ালা কেন মাকুকে খুঁজছিল?
২২. ঘড়িওয়ালা কেন বনে আসতো?
২৩. সোনা-টিয়া বনের মধ্যে কোন কোন জন্তুজানোয়ার দেখেছিল?
২৪. মাকু উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
২৫. মাকু কী কাজ করে?
২৬.মাকু কেন পালিয়ে ছিল?
২৭. সোনা মাকুর পুঁটলি খুলে কী কী বের করেছিল?
২৮. টিয়া মাকুকে চালু করেছিল কোন চাবি দিয়ে
২৯. কালিয়া বনের দেবতার নাম কি?
৩০. মাকু গল্পের চরিত্র
৩১. মাকু গল্প না উপন্যাস
মাকু: লীলা মজুমদারের এক জাদুকরী সৃষ্টি | সপ্তম শ্রেণীর বিস্তারিত আলোচনা
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সপ্তম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যসূচির অন্যতম আকর্ষণ হলো লীলা মজুমদারের লেখা রোমাঞ্চকর উপন্যাস 'মাকু'। এটি কেবল একটি গল্প নয়, বরং শৈশব, কল্পনা এবং মানবিকতার এক অপূর্ব মিশেল। ছোটদের জন্য লেখা হলেও এর গভীরে লুকিয়ে আছে বড়দের জন্যেও অনেক মূল্যবান শিক্ষা।
কেন 'মাকু' এত স্পেশাল?
লীলা মজুমদার ছোটদের মনস্তত্ত্ব খুব ভালো বুঝতেন। 'মাকু' উপন্যাসে তিনি এমন এক জগত তৈরি করেছেন যেখানে যন্ত্র আর মানুষ মিলেমিশে এক হয়ে গেছে।
- কল্পনার বিস্তার: এটি আমাদের সাধারণ জগতের বাইরের এক রূপকথার গল্প।
- সহজ ভাষা: কঠিন শব্দ এড়িয়ে খুব সাবলীলভাবে কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- মানবিকতা: একটি লোহার তৈরি রোবট কীভাবে হাসতে বা কাঁদতে চায়, তা পাঠকদের আবেগতাড়িত করে।
কাহিনীর সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ
গল্পের প্রধান চরিত্র দুই বোন—টিয়া এবং আম্মা (সোনা)। তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে বনের মধ্যে এক অদ্ভুত জগতে পৌঁছে যায়। সেখানে তাদের পরিচয় হয় মাকু-র সঙ্গে।
মাকু কে?
মাকু হলো একটি অসাধারণ যন্ত্রমানব বা রোবট। সে ঘড়িওয়ালার তৈরি। মাকু সব কাজ করতে পারে—রান্না করা, গান গাওয়া, নাচ করা, এমনকি অঙ্ক কষাও। কিন্তু তার একটাই দুঃখ, সে মানুষের মতো হাসতে বা কাঁদতে পারে না। সে চায় একটা 'কল' বা মেকানিজম, যা তাকে হাসাতে বা কাঁদাতে পারবে।
ঘড়িওয়ালার ভয়
মাকুর স্রষ্টা ঘড়িওয়ালা মাকুকে ভয় পায়। কারণ, মাকু যদি রেগে যায় বা তার ব্যাটারি ফুরিয়ে যায়, তবে কী হবে? এই লুকোচুরি আর বনের সার্কাস দলের রোমাঞ্চ নিয়েই এগিয়ে চলে গল্পটি।
চরিত্রের বিশ্লেষণ: এক নজরে
|
চরিত্র |
বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
|
সোনা ও টিয়া |
কৌতূহলী, সাহসী এবং দয়ালু দুই বোন। |
|
মাকু |
যান্ত্রিক শরীর কিন্তু মানুষের মতো আবেগ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। |
|
ঘড়িওয়ালা |
মাকুর সৃষ্টিকর্তা, যে নিজের সৃষ্টিকে নিয়েই ভয়ে থাকে। |
|
হোটেলওয়ালা |
বনের ভেতর অদ্ভুত এক হোটেলের মালিক, যার রান্নার স্বাদ ভোলার নয়। |
কেন এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ? (আমার বিশ্লেষণ)
বর্তমান যুগে আমরা যখন Artificial Intelligence (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মেতে আছি, লীলা মজুমদার বহু বছর আগেই মাকুর মাধ্যমে সেই ধারণা দিয়ে গেছেন।
১. যন্ত্র বনাম আবেগ: বিজ্ঞান আমাদের সব দিতে পারে, কিন্তু 'আবেগ' বা 'অনুভূতি' কেবল প্রাণের ধর্ম। মাকু উপন্যাসে লেখক বুঝিয়েছেন, মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব তার হৃদয়ে, বুদ্ধিতে নয়।
২. ভয় জয় করা: ঘড়িওয়ালা তার নিজের সৃষ্টিকেই ভয় পায়। এটি আধুনিক বিজ্ঞানের অপব্যবহারের প্রতি একটি সূক্ষ্ম সতর্কতা।
৩. শৈশবের সারল্য: সোনা ও টিয়ার চোখ দিয়ে জগতকে দেখার আনন্দ আমাদের ছোটবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
শিক্ষণীয় দিক ও সামাজিক প্রভাব
- সহমর্মিতা: অন্যের দুঃখ বুঝতে পারা বা কাউকে সাহায্য করার মানসিকতা এই গল্প থেকে শেখা যায়।
- বিজ্ঞান চেতনা: ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে।
- পরিবেশ প্রেম: বনের বর্ণনা পাঠকদের প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট করে।
বৈজ্ঞানিক ও তথ্যগত সংযোগ
যদিও এটি একটি কিশোর উপন্যাস, কিন্তু এর সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের গভীর মিল আছে:
- রোবোটিক্স: মাকু চরিত্রটি আজকের আধুনিক 'হিউম্যানয়েড রোবট'-এর আদি রূপ।
- প্রোগ্রামিং: মাকু যা যা করে, তা আসলে ঘড়িওয়ালার দেওয়া নির্দিষ্ট কমান্ড বা প্রোগ্রাম।
- মনস্তত্ত্ব: শিশুদের ভয় এবং কৌতূহলকে এখানে চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যক্তিগত পরামর্শ (আমার দৃষ্টিকোণ)
সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য আমার পরামর্শ হলো, তোমরা যখন 'মাকু' পড়বে, তখন কেবল পরীক্ষার জন্য না পড়ে কল্পনার চোখে মাকুকে দেখার চেষ্টা করো। মনে করো, তোমাদের পাশেও যদি এমন একজন বন্ধু থাকতো যে সব কাজ করে দেয়, তাহলে কেমন হতো?
শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ, মাকু পড়ানোর সময় ছোট ছোট নাটক বা অভিনয়ের মাধ্যমে এর চরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তুলুন। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।
প্রয়োজনীয় রিসোর্স
আরও বিস্তারিত জানতে বা মূল বইটি পড়তে চাইলে নিচের লিঙ্কগুলি দেখতে পারেন:
উপসংহার
'মাকু' কেবল একটি কাল্পনিক রোবটের গল্প নয়, এটি একটি চিরন্তন মানবিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। প্রযুক্তির এই যুগে দাঁড়িয়ে মাকু আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ভালোবাসা আর হাসিকান্নাই আমাদের প্রকৃত মানুষ করে তোলে। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের এই সংযোজনটি সত্যিই প্রশংসনীয়।
আপনি কি মাকু পড়েছেন?
আপনার প্রিয় চরিত্র কোনটি? নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান! আপনি চাইলে এই কাহিনী নিয়ে একটি ছোট চিত্রাঙ্কনও করতে পারেন।
ডিসক্লেমার: এই নিবন্ধটি শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। এখানে বর্ণিত তথ্যসমূহ পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পাঠ্যবই এবং সাধারণ সাহিত্যিক পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কোনো প্রকার বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য মূল প্রকাশকের অনুমতি নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
মাকু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর: মাকু উপন্যাস: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর আলোচনা
এখানে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর পাঠ্যবইয়ের মূল তথ্য অনুযায়ী সাজানো হয়েছে:
১. মাকু কী?
উত্তর: মাকু হলো বিশিষ্ট সাহিত্যিক লীলা মজুমদারের লেখা 'মাকু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। এটি একটি বিস্ময়কর যন্ত্রমানব বা রোবট, যা ঘড়িওয়ালা তার দীর্ঘ ১৭ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে তৈরি করেছিলেন। এটি দেখতে হুবহু মানুষের মতো কিন্তু এর ভেতরে ছিল ঘড়ির কলকব্জা।
২. মাকু শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আভিধানিক অর্থে 'মাকু' (Shuttle) হলো তাঁত বোনার যন্ত্রের একটি অংশ, যা দ্রুত এপাশ-ওপাশ যাতায়াত করে। তবে এই উপন্যাসে 'মাকু' একটি নির্দিষ্ট নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা ঘড়িওয়ালা তার তৈরি অদ্ভুত যন্ত্রমানবটিকে দিয়েছিলেন।
৩. মাকু কীভাবে কাঁদতে পারলো?
উত্তর: মাকু আসলে যন্ত্র হওয়ার কারণে তার চোখে কোনো অশ্রুগ্রন্থি বা কাঁদার মেকানিজম ছিল না। গল্পের শেষে দেখা যায়, মাকু যখন তার সৃষ্টিকর্তা ঘড়িওয়ালার দেখা পায় এবং জানতে পারে যে তার চাবিতে আর মাত্র অল্প সময় বাকি আছে, তখন আবেগের আতিশয্যে এবং ঘড়িওয়ালার কান্নার প্রভাবে তার যান্ত্রিক চোখেও জল আসে। মূলত মানবিক আবেগ এবং অনুভূতির তীব্রতাই মাকুকে কাঁদতে সাহায্য করেছিল।
৪. মাকু কে চালু করার বোতাম কোথায় ছিল?
উত্তর: মাকুকে চালু করার চাবি বা বোতাম ছিল তার পিঠের মাঝখানে। সেখান দিয়ে দম দিলেই মাকু সচল হয়ে উঠত।
৫. মাকুর আকৃতি কেমন ছিল?
উত্তর: মাকুর আকৃতি ছিল অনেকটা মানুষের মতো। তার মাথায় ছিল লাল কোঁকড়ানো চুল, চোখে ছিল কাঁচের গুলি এবং শরীরে ছিল ঘড়ির কলকব্জা। সে সাধারণ মানুষের মতো পোশাক পরত এবং অবিকল মানুষের মতোই চলাফেরা করতে পারত।
৬. মাকু কী কী কাজ করত?
উত্তর: মাকু ছিল এক সর্বগুণসম্পন্ন যন্ত্রমানব। সে নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে পারত:
- অঙ্ক কষা ও হাতুড়ি পেটানো।
- জামাকাপড় কাচা ও রান্না করা।
- সেলাই করা এবং গান গাওয়া।
- নাচ করা এবং এমনকি সাইকেল চালানো।
৭. মাকু শব্দের বাংলা অর্থ কী?
উত্তর: বাংলা ভাষায় 'মাকু' শব্দের অর্থ হলো তন্তুবায়ের বা তাঁতীর মাকু। তাঁত বোনার সময় সুতো চালনা করার জন্য যে ছোট নৌকাকৃতি কাঠের যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়, তাকেই মাকু বলা হয়।
৮. হোটেলওয়ালা আসলে কে?
উত্তর: হোটেলওয়ালা আসলে ঘড়িওয়ালার হারানো মেজ ভাই। সে পুলিশের ভয়ে বনে লুকিয়ে থেকে হোটেল চালাত এবং পরবর্তীকালে দেখা যায় সে-ই ছিল সেই বিখ্যাত জাদুকর বা সার্কাস দলের অন্যতম ব্যক্তি।
৯. মাকু ঘড়িওয়ালাকে কেন খুঁজছিল?
উত্তর: মাকু ঘড়িওয়ালাকে খুঁজছিল কারণ সে মানুষের মতো হাসতে এবং কাঁদতে চেয়েছিল। সে বিশ্বাস করত যে তার সৃষ্টিকর্তা ঘড়িওয়ালা তার শরীরের ভেতরে এমন কোনো 'কল' বা যন্ত্র বসিয়ে দিতে পারবে, যা দিয়ে সে মানুষের মতো আবেগ প্রকাশ করতে পারবে।
১০. পিসেমশাই কী চাকরি করতেন?
উত্তর: সোনা ও টিয়ার পিসেমশাই পুলিশে চাকরি করতেন (তিনি ছিলেন দারোগা বা পুলিশ ইন্সপেক্টর)। এই কারণেই ঘড়িওয়ালা ও হোটেলওয়ালা তাঁকে দেখলে ভয়ে লুকিয়ে পড়তেন।
ছাত্রছাত্রীদের জন্য টিপস:
পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে উত্তরের শুরুতে লেখকের নাম (লীলা মজুমদার) এবং গল্পের নাম (মাকু) উল্লেখ করা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন: "লীলা মজুমদারের লেখা 'মাকু' উপন্যাস অনুযায়ী..." এভাবে শুরু করলে উত্তরের মান বাড়ে
১১. হোটেলওয়ালার জন্মদিনের উৎসব কেমন ছিল?
উত্তর: হোটেলওয়ালার জন্মদিনের উৎসব ছিল অত্যন্ত আনন্দদায়ক এবং জমকালো। বনের ভেতরেই সার্কাসের দলবল নিয়ে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবে মাকু অদ্ভুত সব খেলা দেখিয়েছিল, জাদুকর তার জাদু প্রদর্শন করেছিলেন। ঘড়িওয়ালা ও হোটেলওয়ালার মিলন এই উৎসবের আনন্দকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। সবার জন্য বিশেষ রান্নার ব্যবস্থা ছিল।
১২. মাকুর পেটে ঘড়িওয়ালা কী দিয়েছিল?
উত্তর: ঘড়িওয়ালা মাকুর পেটের ভেতরে ঘড়ির কলকব্জা ও দম দেওয়ার যন্ত্র বসিয়ে দিয়েছিল। এই কলকব্জার সাহায্যেই মাকু মানুষের মতো চলাফেরা, কথা বলা এবং নানা কঠিন কাজ অনায়াসে করতে পারত।
১৩. টিয়া মাকুকে চালু করেছিল কোন চাবি দিয়ে?
উত্তর: টিয়া মাকুকে চালু করেছিল তার খেলনা বাক্সে থাকা একটি পিতলের চাবি দিয়ে। মাকুর পিঠের মাঝখানে চাবি ঘুরিয়ে সে তাকে সচল করে তুলেছিল।
১৪. কালিয়া বনের দেবতার নাম কী?
উত্তর: কালিয়া বনের দেবতার নাম হলো 'পাথর দেবতা'। বনের মানুষেরা বিশ্বাস করত যে এই দেবতা বনের রক্ষা করেন এবং তাঁর পুজো করলে বিপদ কেটে যায়। (কিছু ক্ষেত্রে একে 'মাওরিদের দেবতা' হিসেবেও উল্লেখ করা হয়)।
১৫. সহায়হরির স্ত্রীর নাম কী ছিল?
উত্তর: সহায়হরির স্ত্রীর নাম ছিল 'পদি'। গল্পে পদি পিসি হিসেবেই তাঁর উল্লেখ পাওয়া যায়।
১৬. কালিয়া বন কোথায় এবং সেখানে কীভাবে যেতে হয়?
উত্তর: কালিয়া বন ছিল সোনা ও টিয়াদের গ্রামের থেকে বেশ কিছুটা দূরে, পাহাড়ের ঢালে এক দুর্গম এলাকায়। সেখানে যেতে হলে গ্রামের সীমানা ছাড়িয়ে ঘন জঙ্গল আর উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ পেরিয়ে যেতে হয়। সোনা ও টিয়া বাড়ি থেকে পালিয়ে গরু খোঁজার নাম করে সেই বনে পৌঁছে গিয়েছিল।
১৭. সোনা ও টিয়া কীভাবে বাড়ি ফিরল?
উত্তর: গল্পের শেষে দেখা যায়, তাদের পিসেমশাই (যিনি পুলিশে চাকরি করতেন) এবং বাড়ির লোকজন তাদের খুঁজতে খুঁজতে কালিয়া বনে এসে পৌঁছান। বনের উৎসব শেষ হওয়ার পর এবং ঘড়িওয়ালা ও হোটেলওয়ালার রহস্য উন্মোচনের পর, বাড়ির বড়দের সঙ্গেই সোনা ও টিয়া নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসে।
১৮. মাকু কীভাবে কাঁদতে পারে? (পুনরায় বিশ্লেষণ)
উত্তর: যান্ত্রিকভাবে মাকুর কাঁদার কোনো ক্ষমতা ছিল না। কিন্তু যখন সে জানতে পারল যে তার আয়ু (চাবির দম) ফুরিয়ে আসছে এবং ঘড়িওয়ালার কান্না ও আবেগ দেখল, তখন তার যান্ত্রিক হৃদয়েও মানবিক অনুভূতির সৃষ্টি হলো। এই তীব্র আবেগ ও দুঃখবোধের কারণেই মাকুর চোখ দিয়ে জল পড়েছিল।
১৯. কে মাকুকে কাঁদার কল লাগিয়েছিল এবং কীভাবে?
উত্তর: আসলে মাকুকে কেউ আলাদা করে কোনো 'কাঁদার কল' বা মেকানিজম লাগিয়ে দেয়নি। ঘড়িওয়ালা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে মানুষের মতো অনুভূতি থাকলেই কাঁদা যায়। মাকু যখন তার স্রষ্টা ঘড়িওয়ালাকে খুঁজে পায় এবং নিজের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কিত হয়, তখন তার আবেগের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশই ছিল সেই 'কাঁদার কল'।
২০. মাওরিদের বনের দেবতা কে?
উত্তর: মাওরিদের বনের দেবতা হলেন 'টু' (Tu) অথবা কিছু বর্ণনায় তাঁদের প্রকৃতি ও পাথর পুজোর উল্লেখ আছে। তবে পাঠ্যবইয়ের প্রেক্ষাপটে বনের ভেতরের সেই রহস্যময় ও ভীতি জাগানিয়া দেবমূর্তিকে ঘিরেই মাওরিদের বিশ্বাস আবর্তিত হতো।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ:
'মাকু' থেকে বড় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় ঘটনার পেছনের আবেগ এবং লীলা মজুমদারের বর্ণনাভঙ্গি মাথায় রাখবে। ছোট প্রশ্নের ক্ষেত্রে সঠিক নাম এবং জায়গার উল্লেখ করা জরুরি।
২১. ঘড়িওয়ালা কেন মাকুকে খুঁজছিল?
উত্তর: ঘড়িওয়ালা মাকুকে তৈরি করতে তার জীবনের ১৭ বছর সময় এবং প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু মাকু তৈরির পর সে পালিয়ে যায়। নিজের তৈরি সেই অদ্ভুত ও মূল্যবান সৃষ্টিকে ফিরে পাওয়ার জন্য এবং মাকু যেন কোনো বিপদ না ঘটায়, সেই ভয়েই ঘড়িওয়ালা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল।
২২. ঘড়িওয়ালা কেন বনে আসত?
উত্তর: ঘড়িওয়ালা পুলিশ এবং তার পাওনাদারদের ভয়ে লুকিয়ে থাকার জন্য কালিয়া বনে আসত। এছাড়া তার তৈরি মাকু সেই বনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে জানতে পেরে সে তাকে খুঁজতে এবং ধরার জন্যই সেখানে যাতায়াত করত।
২৩. সোনা-টিয়া বনের মধ্যে কোন কোন জন্তু-জানোয়ার দেখেছিল?
উত্তর: কালিয়া বনের পথে সোনা ও টিয়া মূলত খরগোশ দেখেছিল। এছাড়া বনের ভেতরে সার্কাস দলের পোষা জন্তু যেমন—বাঁদর, বাঘ এবং ঘোড়া তাদের নজরে এসেছিল।
২৪. 'মাকু' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
উত্তর: 'মাকু' উপন্যাসটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক লীলা মজুমদার।
২৫. মাকু কী কাজ করে?
উত্তর: মাকু মানুষের মতোই প্রায় সব কাজ করতে পারত। সে রান্নাবান্না করা, কাপড় কাচা, ঘর মোছা, সেলাই করা, জাঁতা দিয়ে পাথর ভাঙা, সাইকেল চালানো এবং এমনকি কঠিন সব অঙ্কের সমাধানও অনায়াসে করে দিত।
২৬. মাকু কেন পালিয়েছিল?
উত্তর: মাকু যখন বুঝতে পারল যে সে মানুষের মতো হাসতে বা কাঁদতে পারে না, তখন সে তার সৃষ্টিকর্তা ঘড়িওয়ালার কাছে সেই 'কল' বা হাসিকান্নার যন্ত্র দাবি করে। ঘড়িওয়ালা তা দিতে না পারায় এবং মাকু পাছে তাকে ধরে ফেলে কোনো বিপদ ঘটায়, সেই ভয় ও অভিমানে মাকু পালিয়ে গিয়েছিল।
২৭. সোনা মাকুর পুঁটলি খুলে কী কী বের করেছিল?
উত্তর: সোনা মাকুর পুঁটলি খুলে তার মধ্য থেকে একটি পুরনো ছিঁড়ে যাওয়া গেঞ্জি, এক পাটি মোজা, একটা কাঠের চিরুনি এবং কিছু লোহার নাট-বল্টু বের করেছিল।
২৮. টিয়া মাকুকে চালু করেছিল কোন চাবি দিয়ে?
উত্তর: টিয়া মাকুকে তার খেলনা বাসের বা বাক্সের একটি পিতলের চাবি দিয়ে চালু করেছিল। সে মাকুর পিঠের ফুটোয় ওই চাবিটি ঢুকিয়ে দম দিয়েছিল।
২৯. কালিয়া বনের দেবতার নাম কী?
উত্তর: কালিয়া বনের দেবতার নাম হলো 'পাথর দেবতা'। বনের মানুষেরা এবং সার্কাস দলের লোকেরা বিপদ থেকে বাঁচতে এই দেবতার কাছে মানত করত।
৩০. মাকু গল্পের প্রধান চরিত্রগুলো কী কী?
উত্তর: এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো—সোনা, টিয়া, মাকু, ঘড়িওয়ালা, হোটেলওয়ালা, পদি পিসি এবং জাদুকর।
৩১. 'মাকু' গল্প না উপন্যাস?
উত্তর: 'মাকু' একটি কিশোর উপন্যাস। এটি একটি দীর্ঘ কাহিনী যা বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বিভক্ত, তাই একে উপন্যাস বলাই সঠিক।
পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ:
এই উত্তরগুলো খাতায় পরিষ্কারভাবে লিখলে এবং মূল বইয়ের রেফারেন্স দিলে শিক্ষকরা খুশি হন। কোনো শব্দ বুঝতে সমস্যা হলে অবশ্যই জানাবেন।
মাকু গল্পের বিষয়বস্তু :মাকু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর
১. কাহিনীর প্রেক্ষাপট ও শুরু
গল্পের মূল কেন্দ্রে রয়েছে দুই বোন—সোনা ও টিয়া। তাদের বাড়িতে গরু খোঁজার নাম করে তারা একদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং পৌঁছে যায় এক রহস্যময় কালিয়া বনে। এই বনেই শুরু হয় তাদের জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অভিযান।
২. মাকুর আগমন ও পরিচয়
বনের গভীরে তাদের দেখা হয় মাকু-র সঙ্গে। মাকু কোনো সাধারণ মানুষ নয়, সে হলো ঘড়িওয়ালার তৈরি একটি যন্ত্রমানব বা রোবট। সে দেখতে হুবহু মানুষের মতো, তার মাথায় লাল কোঁকড়ানো চুল এবং চোখে কাঁচের গুলি। মাকু অসাধ্য সাধন করতে পারে—সে রান্না করে, কাপড় কাচে, জাঁতা দিয়ে পাথর ভাঙে, এমনকি কঠিন অঙ্কও কষে দেয়।
৩. মাকুর একমাত্র দুঃখ: আবেগহীনতা
মাকু সব পারলেও তার একটি বড় অভাব ছিল—সে মানুষের মতো হাসতে বা কাঁদতে পারত না। ঘড়িওয়ালা তাকে যন্ত্র হিসেবে নিখুঁত বানালেও তার ভেতরে কোনো 'আবেগ' বা 'অনুভূতি' দেওয়ার কল বসাতে পারেনি। মাকু সেই 'হাসিকান্নার কল' পাওয়ার আশায় বনময় ঘুরে বেড়াত এবং তার সৃষ্টিকর্তা ঘড়িওয়ালাকে খুঁজত।
৪. ঘড়িওয়ালা ও হোটেলওয়ালার রহস্য
গল্পে আমরা দেখি ঘড়িওয়ালা তার নিজের সৃষ্টি মাকুকে ভয় পায়, কারণ মাকুর দম ফুরিয়ে গেলে বা সে বিগড়ে গেলে কী হবে তা সে জানে না। অন্যদিকে, বনের মধ্যে এক অদ্ভুত হোটেল চালান হোটেলওয়ালা। পরে জানা যায়, এই হোটেলওয়ালা আসলে ঘড়িওয়ালারই হারিয়ে যাওয়া মেজ ভাই। এই পারিবারিক পুনর্মিলন গল্পের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
৫. সার্কাস দল ও উৎসবের আমেজ
কালিয়া বনের ভেতরে একটি সার্কাসের দল আস্তানা গেড়েছিল। মাকু তার অসাধারণ ক্ষমতা দিয়ে সেই সার্কাস দলে যোগ দেয় এবং সবাইকে অবাক করে দেয়। গল্পের শেষে হোটেলওয়ালার জন্মদিনে এক বিরাট উৎসবের আয়োজন করা হয়, যেখানে মাকু তার কারিশমা দেখায়।
৬. চরম মুহূর্ত: মাকুর কান্না
গল্পের শেষে এক আবেগঘন মুহূর্তে দেখা যায়, মাকু যখন তার সৃষ্টিকর্তার দেখা পায় এবং জানতে পারে যে তার চাবিতে আর মাত্র অল্প সময় বাকি আছে, তখন তার যান্ত্রিক চোখেও জল আসে। অর্থাৎ, মানুষের সংস্পর্শে এবং পরিস্থিতির চাপে মাকু শেষ পর্যন্ত কাঁদতে শেখে। এটি প্রমাণ করে যে, ভালোবাসা এবং মায়ার টান যন্ত্রকেও মানবিক করে তুলতে পারে।
মূল উপজীব্য বিষয় (Core Themes)
- বিজ্ঞান বনাম মানবিকতা: যন্ত্র বুদ্ধিমান হতে পারে, কিন্তু হৃদয় বা আবেগ ছাড়া সে অপূর্ণ।
- শৈশবের সারল্য: সোনা ও টিয়ার নির্ভীকতা এবং কৌতূহল এই উপন্যাসের প্রাণ।
- সম্পর্কের টান: ভাইয়ে-ভাইয়ে পুনর্মিলন এবং পরিবারের গুরুত্ব এখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এক নজরে গল্পের সারাংশ
|
বিষয়ের পর্যায় |
মূল ঘটনা |
|---|---|
|
আদি |
সোনা ও টিয়ার কালিয়া বনে প্রবেশ ও মাকুর সাথে সাক্ষাৎ। |
|
মধ্য |
মাকুর হাসিকান্নার কলের সন্ধান এবং সার্কাস দলের রোমাঞ্চ। |
|
অন্ত |
হোটেলওয়ালার জন্মদিন পালন ও মাকুর মানবিক হয়ে ওঠা। |
উপসংহার:
লীলা মজুমদার মাকুর মাধ্যমে আমাদের শিখিয়েছেন যে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো অনুভূতি। প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক না কেন, মানুষের হাসি এবং চোখের জলই হলো প্রাণের আসল পরিচয়।
মাকু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর: মাকু উপন্যাস: সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. মাকু আসলে কী এবং তার বিশেষত্ব কী?
উত্তর: মাকু হলো লীলা মজুমদারের লেখা 'মাকু' উপন্যাসের একটি যন্ত্রমানব বা রোবট। একে ঘড়িওয়ালা ১৭ বছর ধরে তৈরি করেছিলেন। মাকুর বিশেষত্ব হলো সে মানুষের মতো প্রায় সব কাজ (রান্না, গান, অঙ্ক কষা) করতে পারলেও মানুষের মতো হাসতে বা কাঁদতে পারত না।
২. সোনা ও টিয়া কেন কালিয়া বনে গিয়েছিল?
উত্তর: সোনা ও টিয়া তাদের বাড়ির গরু 'খুদি' ও 'নোটি'কে খুঁজতে বের হওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে পালিয়ে কালিয়া বনে গিয়েছিল। মূলত রোমাঞ্চ আর বনের রহস্য দেখার কৌতূহল থেকেই তারা সেখানে পৌঁছায়।
৩. মাকু কেন তার সৃষ্টিকর্তা ঘড়িওয়ালার কাছ থেকে পালিয়েছিল?
উত্তর: মাকু মানুষের মতো হাসতে এবং কাঁদতে চেয়েছিল। যখন সে জানতে পারল যে ঘড়িওয়ালা তার ভেতরে এমন কোনো 'কল' বা যন্ত্র বসাতে পারছে না, তখন সে অভিমানে এবং নিজেকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আশায় পালিয়ে যায়।
৪. হোটেলওয়ালা আসলে কে ছিলেন?
উত্তর: গল্পের শেষে জানা যায় যে, বনের সেই রহস্যময় হোটেলওয়ালা আসলে ঘড়িওয়ালার হারিয়ে যাওয়া মেজ ভাই। তিনি একসময় খুব ভালো জাদুকর ছিলেন এবং পরে পুলিশের ভয়ে বনে লুকিয়ে থাকতেন।
৫. গল্পের শেষে মাকু কীভাবে কাঁদতে পারল?
উত্তর: মাকুর কাঁদার জন্য কোনো আলাদা কল বা মেকানিজমের প্রয়োজন হয়নি। যখন সে তার হারানো বন্ধুদের দেখা পেল এবং তীব্র আবেগ অনুভব করল, তখন তার যান্ত্রিক চোখ দিয়েও জল বেরিয়ে এল। এটি মাকুর মানবিক হয়ে ওঠার প্রতীক।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.