ছেলেবেলার দিনগুলি প্রশ্ন উত্তর class 4 Teacj Sanjib

ছেলেবেলার দিনগুলি প্রশ্ন উত্তর class 4 Teacj Sanjib

ছেলেবেলার দিনগুলি
লেখিকা : পুণ্যলতা চক্রবর্তী

ছেলেবেলার দিনগুলি প্রশ্ন উত্তর ছেলেবেলার দিনগুলি গল্পের বিষয়বস্তু, প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে এখানে।

ছেলেবেলার দিনগুলি প্রশ্ন উত্তর

ছেলেবেলার দিনগুলি বিষয়বস্তু :

ছেলেবেলার দিনগুলি’ কাহিনিটিতে লেখিকা বলেছেন তাঁর নতুন বাড়িটি জ্যাঠামশাই ও পিনিমার বাড়ির কাছেই ছিল। তাই জ্যাঠতুতো, বুড়তুতো ভাইবোনদের নিয়ে দল বেঁধে নানারকম খেলা করতেন এরকমই একটি খেলা পাটগুলটিশ ওয়ার, ছাতের কোপের জলের ট্যাঙ্ক থেকে তোলা গঙ্গামাটি দিয়ে নরম কাপর গুলি বানিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা হত।
হঠাই কুবুদ্ধি করে সেগুলি উনুনে পুড়িয়ে খেলা শুরু করতেই দু-পক্ষ সেই শস্ত গুলিতে আহত হতে লাগল এবং লেখিকাদের রান্নাঘরে যাওয়াই বারণ হয়ে গেল। লেখিকার জ্যাঠামশাই ছিলেন ভারী গম্ভীর মানুষ। সবাই তাঁকে খুব ভয় করে চলত। শোনা যেত তিনি ছিলেন মস্ত বড়ো খেলোয়াড় গায়ে খুব জোর আর খুবই রাগী লেখিকারা পাটগুলটিশ এর গোলাগুলি সিঁড়ির ছাতের সিলিং এ ছুঁড়ে খুঁটে দেওয়া খেলা খেলতেন।
একবার জ্যাঠামশাই সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় ব্যাপ করে তার পায়ের কাছে কী পড়ায় তিনি চাকরকে দিয়ে আলো আনিয়ে উপর দিকে তাদিয়ে হাতের ছিরি দেখে সব বুঝতে পেরে হো হো করে হেসে ওঠার

আরেকদিন লেখিকা ও তাঁর দল চোর পুলিশ খেলছেন। লেখিকার হাতের সাপমুখো বালা হয়েছে তার হাতকড়ি। এক ঝটকায় হাত ছাড়াতে গিয়ে তার নতুন বালা ভেঙে দু-তিন টুকরো হয়ে ছাতে ছড়িয়ে পড়ল, তা দেখে মা হেসে বললেন তোমাকে দেখছি এবার লোহার বালা গড়িয়ে দিতে হবে। লেখিকা ছিলেন একটু দিদি) তাই দাদাদের সঙ্গে সব হুড়োহুড়ি খেলায় তিনি মজবুত ছিলেন। তাঁর ক্রিকেট, হকি সব থেলার হাতেখড়িই এই বাড়ির ছাতে শুরু হয়েছিল।
আবার দিদিদের সঙ্গে পুতুল খেলতেও তাঁর ভালো লাগত। তাঁর মা নানারকম পুতুল দিয়ে সুন্দর করে দোতলা পুতুল ঘর সাজিয়ে দিয়েছিলেন। দিদিরা সুন্দর জামাকাপড়, পুঁতির গয়না তৈরি করত পুতুলের বিয়েতে ছোটো ছোটো পাতায় করে ছোটো লুচি, মিষ্টি খাওয়া হত। একবার পুতুলের বিয়েতে রঙিন নোনবাতি থেকে পুতুলঘরে এক অগ্নিকাণ্ড হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি জল ঢেলে আগুন নিভানো হল আর অঙ্কের জন্য পুতুলগুলো বেঁচে গেল।

লেখিকাদের এক মজার খেলা ছিল ‘রাগ বানানো”। হয়তো কারও ওপর রাগ হয়েছে কিন্তু কিছু করা যাচ্ছে না তখন সেই লোকটির সম্বন্ধে অদ্ভুত গল্প বানিয়ে বলা হত। তাতে লোকটির কোনো অনিষ্ট করা বা তার প্রতি বিদ্বেষ ভাব থাকত না। শুধুই মজার কথা, আর তাতেই তাঁদের সব রাগ ভেসে যেত, মনটা হালকা বুশিতে ভরে উঠত। তাদের আর একটা মজার খেলা ছিল কবিতার গল্প বলা। একজন একটা কোনো জানা গল্প নিয়ে প্রথম লাইনটা বানিয়ে বলবে।
আরেকজন তার সঙ্গে মিল দিয়ে দ্বিতীয় লাইনটি বলবে তার পরের জন তৃতীয় লাইন এমনি করে গল্পটা শেষ করতে হবে। লেখিকার দাদা কখনও হার মানতেন না যতই শক্ত হোক না কেন তিনি চট করে মিলিয়ে নিতেন। ছোটোবেলা থেকেই লেখিকার দাদা কবিতা লিখতেন। তাই দাদার দেখাদেখি তাঁরও কবিতা লেখার শখ হল। একটা বাঙায় বেশ কুল লতাপাতা এঁকে লুকিয়ে দু-একটা কবিতা তিনি লিখলেন, তারপর একটা গল্পও লিখতে আরম্ভ করলেন।
একদিন দুপুরে এক ভদ্রলোক লেখিকার বাবার সঙ্গে দেখা করতে এসে টেবিলের উপর ফেলে আসা লেখিকার গল্প লেখার খাতায় অর্ধেক লেখা গল্পটার পাতায় ‘তারপর হলো কী’ বলে বাকী গল্পটা ভদ্রলোক নিজেই লিখে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সেই সময়ের একজন নামকরা লেখক নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত যিনি ‘প্রবাসী’ তে লিখছেন। কিন্তু লেখিকার মনে হল তাঁর গল্পটাই মাটি হয়ে গেল, মনের দুঃখে তিনি খাতাটাই ছিঁড়ে ফেলেন।
লেখিকার বাবা বিদেশ থেকে মজার ছবি আর পদ্যে তাঁদের চিঠি লিখতেন, সবাই সেগুলো পড়ত, সে সব সংগ্রহ করা থাকলে তাই দিয়েই একটা মজার বই হতে পারত। এইভাবেই লেখিকা এই কাহিনির মধ্যে তাঁর শৈশবকালের আনন্দের দিনগুলির এক মজার বর্ণনা দিয়েছেন।

ছেলেবেলার-দিনগুলি-প্রশ্ন-উত্তর-class-4-Teacj-Sanjib

ছেলেবেলার দিনগুলি প্রশ্ন উত্তর : হাতে কলমে : অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর

১. পুণ্যলতা চক্রবর্তীর কয়েকজন ভাইবোনের নাম লেখো।

উঃ। পুণ্যলতা চক্রবর্তীর কয়েকজন ভাইবোন হলেন সুকুমার রায়, সুবিনয় রায়চৌধুরী ও সুখলতা রাও।

২. তাঁর লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো। উঃ। তাঁর লেখা দুটি বই হল ছেলেবেলার দিনগুলি, রাজবাড়ি।

ক স্তম্ভের সঙ্গে খ স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো :

উত্তর:

উনুন – আগুন

সিঁড়ি-বাড়ি

লেখাপড়া – বই

পটগুলটিশ- খেলা

ঘুটে – গোবর

৪. নীচের এলোমেলো শব্দগুলি সাজিয়ে লেখো :

উঃ। খা ড়া লে প–লেখাপড়া; টিলগু শ ট প––পটগুলটিশ ; ঘলপু তু র-পুতুলঘর ; রা ক ম না-নামকরা ; গ র গুরু ভী-গুরুগম্ভীর।

৫. বন্ধনীর মধ্য থেকে ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে আবার লেখো :

৫.১ মা সুন্দর করে (এক/দুই/তিন/চার) তলা পুতুলঘর সাজিয়ে দিয়েছিলেন

উঃ। মা সুন্দর করে দুই তলা পুতুলঘর সাজিয়ে দিয়েছিলেন।

৫.২ তোমাকে দেখছি এবার (সোনার/তামার/লোহার/টিনের) বালা গড়িয়ে দিতে হবে।

উঃ। তোমাকে দেখছি এবার লোহার বালা গড়িয়ে দিতে হবে।

৫.৩ হাতকড়ি পরায় (চোর/উকিল/শিক্ষক/পুলিশ)।

উঃ। হাতকড়ি পরায় পুলিশ।

৫.৪ হ য ব র ল হল একটি (খেলনা/ট্রেন/গাছ/বই)।

উঃ। হ য ব র ল হল একটি বই।

৫.৫ (যোধপুরে/বিজাপুরে/ভাগলপুরে/মধুপুরে) সেই রেলগাড়ির কবিতা লিখেছিলেন। উঃ। মধুপুরে সেই রেলগাড়ির কবিতা লিখেছিলেন।

৬. কোন্‌টি বেমানান চিহ্নিত করো ঃ

ঘুঁটে/উনুন/কামান/রান্নাঘর। উঃ। কামান।
৬.২ সিঁড়ি/চিলেকোঠা/বারান্দা/বাজার। উঃ। বাজার
৬.৩ আলমারি/হাতকড়ি/চোর/পুলিশ। উঃ। আলমারি।
৬.৪ জ্যাঠা/বাবা/দাদা/কাকা উঃ। দাদা।

৭. ঘটনাক্রম অনুযায়ী সাজাও :

৭.১ খাওয়া সেরে এসে দেখি, পুতুলঘরে সে এক অগ্নিকাণ্ড।

৭.২ দেখতে দেখতে ছাদটা কাদার ঘুঁটেতে ভর্তি হয়ে গেল।

৭.৩ মনের দুঃখে খাতাটা ছিঁড়েই ফেললাম।

৭.৪ আর একটা মজার খেলা ছিল কবিতায় গল্প বলা।

৭.৫ অল্পের জন্য পুতুলগুলো বেঁচে গেল।

উঃ। ৭.২ দেখতে দেখতে ছাদটা কাদার ঘুঁটেতে ভর্তি হয়ে গেল। ৭.১ খাওয়া সেরে এসে দেখি পুতুল ঘরে

১১. জ্যেঠতুতো, পিসতুতো, মাসতুতো— এইসব সম্পর্ক ছাড়াও আরও অনেক সম্পর্ক আমাদের পরিবারগুলিতে থাকে। তুমি যে কয়টি সম্পর্কের নাম জানো সেগুলি লেখো।
উঃ। খুড়তুতো, মামাতো।

ছেলেবেলার দিনগুলি Class 4 :

১২. প্রতিশব্দ লেখো : সাথী, বিশ্রাম, মজা, সিঁড়ি, রান্নাঘর, নিশান।

উঃ। সাথী—বন্ধু, সখা, মিত্র। বিশ্রাম – বিরাম, জিরানো, থামা, অবকাশ। মজা—কৌতুক, আনন্দ। সিঁড়ি—সোপান, ধাপ। রান্নাঘর—রসুইঘর, রন্ধনশালা। নিশান – পতাকা, ঝাণ্ডা, নিদর্শন।

১৩. বর্ণবিশ্লেষণ করো : অভাব, উনুন, আহত, টুকরো, মোমবাতি, চিঠি। উঃ। অভাব—অ+ভ্+আ++অ উনুন—উ+ন্+উ+ন্+অ মোমবাতি—ম্+ও+ম্+অ+ব্+আ++ই [টুকরো–ট+উ+ক্+অ+র্+ও

১৪. সন্ধিবিচ্ছেদ করো : স্বস্তি, নগেন্দ্র, আরেক। আহত—আ+হ্‌+অ++অ চিঠি–চ+ই+ঠ+ই

উঃ। স্বস্তি = স্ব + অস্তি। নগেন্দ্র = নগ + ইন্দ্র। আরেক = আর + এক।

১৫. নীচের গদ্যটিতে যতিচিহ্ন ব্যবহার করো : ধমক দিয়ে বললেন এটা আবার কী কোত্থেকে এল চাকর কাঁচুমাচু হয়ে বলল আজ্ঞে ছেলেরা কী যেন খেলা করছিল।

উঃ। ধমক দিয়ে বললেন, ‘এটা আবার কী, কোত্থেকে এল?’ চাকর কাঁচুমাচু হয়ে বলল, ‘আজ্ঞে, ছেলেরা কী যেন খেলা করছিল।’

১৬. পাশের প্রতিটি বিষয় নিয়ে পাঁচটি করে স্বাধীন বাক্য লেখো : গয়না, পরিবার, ঘুঁটে।

গয়না : সাধারণত মেয়েরা গয়না পরে থাকেন। গয়না সোনা ও রূপা দিয়ে তৈরি হয়। আগেকার দিনে রাজারানি, জমিদাররা সবসময় গয়না পরে থাকতেন। দেবদেবীদের মূর্তিও আমরা গয়না পরা অবস্থায় দেখে থাকি। গয়না প্রতি পরিবারে মূল্যবান সম্পদ বলে মনে করা হয়।

পরিবার : মানুষ একটি পরিবার-এর মধ্যে বেড়ে ওঠে। বাবা-মা ও গুরুজনদের নিয়েই আমাদের পরিবার। পরিবারে মধ্যে নানা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রতিটি পরিবার তাদের নিজস্ব নিয়ম ও সামাজিকতা মেনে চলে। অনেকগুলি পরিবার একসাথে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।

ঘুঁটে : ঘুঁটে তৈরি হয় গোরুর গোবর থেকে। গোবরকে চ্যাপটা করে দেওয়ালের গায়ে আটকে ঘুঁটে দেওয়া হয়। গোবর শুকিয়ে গিয়ে ঘুঁটে হয়। ঘুঁটে উনানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অনেক মানুষ ঘুঁটে তৈরি করে বিক্রি করেন।

১৭. বছরের কোন্ সময় কোন্ খেলা খেলতে তুমি ভালোবাসো সেই অনুযায়ী ছকটি পূরণ করো :

খেলা ফুটবল, লুডো, ক্যারমবোর্ড ফুটবল, লুডো, কুমিরডাঙা ক্রিকেট, লুকোচুরি ব্যাডমিন্টন গ্রীষ্মের সময় বর্ষার সময় শীতের সময় বসন্তের সময় * পাঠ মূল্যায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর a

ছেলেবেলার দিনগুলি অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

১. নতুন বাড়িতে কাদের দল জুটে গেল? উঃ। নতুন বাড়িতে লেখিকার জ্যেঠতুতো, খুড়তুতো ও পিসতুতো ভাইবোনেদের দল জুটে গেল।

২. ওবাড়ির ছেলেরা কাকে ভীষণ ভয় করত? উঃ। জ্যেঠামশাইকে ওবাড়ির ছেলেরা ভীষণ ভয় করত।

৩. লেখিকার হাতে কেমন বালা ছিল? উঃ। লেখিকার হাতে সাপমুখো বালা ছিল।

৪. ওই বাড়ির ছাতে কোন্ কোন্ খেলায় লেখিকার হাতেখড়ি হয়েছিল? উঃ। ক্রিকেট, হকি প্রভৃতি খেলাতে লেখিকার হাতেখড়ি হয়েছিল।

৫. কোন্ খেলাতে ‘’ৰাঘ ও বক’ এর গল্প বলা হচ্ছিল?

উঃ। কবিতায় গল্প বলা নামে এক মজার খেলাতে ‘বাঘ ও বক’ এর গল্প বলা হচ্ছিল।

৬. ‘চঞ’ ও ‘চুঞ’ শব্দদুটির অর্থ কী?

উঃ। ‘চঞ্জু’ শব্দটির অর্থ ঠোট আর ‘চুঞ’ শব্দটির অর্থ ওস্তাদ।

৭. কার দেখাদেখি লেখিকার কীসের শখ হয়েছিল? উঃ। দাদার দেখাদেখি লেখিকারও কবিতা লেখার শখ হয়েছিল।

৮. বড়ো হয়ে লেখিকা কার লেখা কোথায় পড়েছিলেন? উঃ। বড়ো হয়ে লেখিকা প্রবাসী পত্রিকায় লেখক নগেন্দ্রনাথ গুপ্তের লেখা পড়েছিলেন।

৯. লেখিকার বাবা বিদেশে গেলে কী লিখতেন? উঃ। তিনি বিদেশ থেকে মজার ছবি আর পদ্যে লেখিকাদের চিঠি লিখতেন।

১০. কবিতায় গল্প বলা খেলায় লেখিকা ও তাঁর ভাইবোনেদের সঙ্গে কে খেলছিলেন? উঃ। লেখিকার সুন্দরকাকা।

১১. লেখিকার দাদার কোন্ কবিতা কোন্ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল? উঃ। লেখিকার দাদার প্রথম কবিতা নদী ও দ্বিতীয় কবিতা ‘টিক টিক টং’ কবিতা ‘মুকুল’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল।

ছেলেবেলার দিনগুলি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

১. আমাদের রান্নাঘরে যাওয়াই বারণ হয়ে গেল’— কোন্‌ ঘটনার ফলে এমন হয়েছিল?

উঃ। লেখিকা ও তাঁর ভাইবোনেরা মিলে গঙ্গামাটি দিয়ে গোলাগুলি বানিয়ে পটগুলটিশ ওয়ার নামে এক ভীষণ যুদ্ধের খেলা শুরু করেছিল। নরম কাদার গুলি একে অপরের গায়ে ছুঁড়ে ভালো খেলা হত। হঠাৎ কুবুদ্ধি করে তারা রান্নাঘরে নিভোনো উনুনে সেই গুলিগুলো গুঁজে দিয়ে বেশ লাল করে পুড়িয়ে নিয়ে সেই যুদ্ধ খেলা শুরু করল। সেই শক্ত পোড়ামাটির গুলির আঘাতে দু-পক্ষই এমন আহত হতে আরম্ভ করল ফলে তাদের রান্নাঘরে যাওয়াই বারণ হয়ে গেল।

২. লেখিকা গল্পটিতে দাদার ‘হযবরল’ বইটির কথা কীভাবে মনে করেছেন? উঃ। লেখিকাদের মজার খেলা ‘রাগ বানানো’তে কোনো ব্যক্তির অনিষ্ট চিন্তা না করে তার সম্বন্ধে অদ্ভুত গল্প বানিয়ে বলা হত। তখন লেখিকারা সেই ব্যক্তির নাকাল হওয়া ও অপ্রস্তুত অবস্থার কথা কল্পনা করে হেসে কুটিপাটি হতেন।
এই প্রসঙ্গে লেখিকা তাঁর দাদা সুকুমার রায়ের পরবর্তীকালে রচনা ‘হযবরল’ এর প্রসঙ্গ এনেছেন। সেই গল্পের একটি চরিত্র ‘হিজি-বিজবিজ’ যেমন ‘মনে করো’ বলে যত রকম উদ্ভট কল্পনা করত আর নিজেই হেসে দম বন্ধ হওয়ার অবস্থা করত। সেইভাবেই ‘রাগ বানানো’ খেলায় লেখিকাদেরও প্রায় সেই দশাই হত।

৩. গল্পে লেখিকার পুতুলঘরের সম্পর্কে যা জানো লেখো।

উঃ। লেখিকার মা খুব সুন্দর করে দোতলার পুতুলঘর সাজিয়ে দিয়েছিলেন। তাতে ছিল অনেক ডল পুতুল, কাচের পুতুল ও মাটির পুতুল। আর ছিল পুতুলের খাট-বিছানা, চেয়ার-টেবিল, টি সেট, ডিনার সেট, পিতল ও মাটির অনেক হাঁড়িকুড়ি, হাতাবেড়ি এবং ঘরকন্না ও রান্নাবান্নার জিনিসপত্র।

৪. ‘আর একটা মজার খেলা ছিল কবিতায় গল্প বলা’— এই খেলাটি কীভাবে খেলা হত?

উঃ। লেখিকাদের একটা মজার খেলা ছিল কবিতায় গল্প বলা। এই খেলার নিয়ম ছিল একটা কোনো জানা গল্প নিয়ে একজন প্রথম লাইনটি বানিয়ে বলবে, আরেকজন তার সঙ্গে মিল দিয়ে দ্বিতীয় লাইনটি বলবে। তার পরের জন বলবে তৃতীয় লাইন, এমনি করে গল্পটি শেষ করতে হবে। যদি কেউ না পারে সে হেরে যাবে এবং তার পরের জন বলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *