Uttarpara Govt High School রায় ও মার্টিন প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের উত্তর নবম শ্রেণী বাংলা
10 Uttarpara Govt High School রায় ও মার্টিন ফাস্ট সাবমিটিভ
'উত্তরপাড়া গভর্মেন্ট হাই স্কুল'-এর প্রশ্নপত্রের নির্ভুল উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : Uttarpara Govt High School
১.১ কলিঙ্গদেশে বৃষ্টি হয়েছিল – (ক) ছয় দিন, (খ) পাঁচ দিন, (গ) সাত দিন, (ঘ) আট দিন।
উত্তর: (গ) সাত দিন।
১.২ নোঙর কোথায় পড়ে গিয়েছে? – (ক) জলে, (খ) গর্তে, (গ) তটের কিনারে, (ঘ) খাদের কিনারে।
উত্তর: (গ) তটের কিনারে।
১.৩ ‘ইলিয়াস’ গল্পটি বাংলায় তরজমা করেছেন– (ক) অনিন্দ্য সৌরভ, (খ) মণীশ দত্ত, (গ) মণীন্দ্র দত্ত, (ঘ) শঙ্খ ঘোষ।
উত্তর: (গ) মণীন্দ্র দত্ত।
১.৪ “সভায় জাঁকিয়ে বক্তৃতা করা গেল।” – বক্তা রবীন্দ্রনাথ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন – (ক) ১২টি, (খ) ১৬টি, (গ) ১০টি, (ঘ) ১৪টি।
উত্তর: (ক) ১২টি।
১.৫ ঐ, ঔ কোন্ শ্রেণির ধ্বনি? – (ক) মৌলিক, (খ) যৌগিক, (গ) প্লুতস্বর, (ঘ) কুঞ্চিত।
উত্তর: (খ) যৌগিক।
১.৬ রত্ন > রতন এখানে কোন্ ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন হয়েছে? – (ক) স্বরভক্তি, (খ) অপিনিহিতি, (গ) ধ্বনিলোপ, (ঘ) স্বরসংগতি।
উত্তর: (ক) স্বরভক্তি (একে মধ্যস্বরগাম বা বিপ্রকর্ষও বলা হয়)।
১.৭ “সূচক, একে পূর্বাপর সব বলতে দাও।” – একথার বক্তা হলেন – (ক) প্রথম রক্ষী, (খ) দ্বিতীয় রক্ষী, (গ) শ্যালক, (ঘ) ধীবর।
উত্তর: (গ) শ্যালক।
১.৮ মঙ্গলগ্রহের জল প্রথম পান করল – (ক) বিধুশেখর, (খ) প্রোফেসর শঙ্কু, (গ) প্রহ্লাদ, (ঘ) নিউটন।
উত্তর: (খ) প্রোফেসর শঙ্কু (বি.দ্র. বিধুশেখর প্রথমে আপত্তি করেছিল, শঙ্কু নিজে খেয়ে পরীক্ষা করেছিলেন)।
২। কমবেশি ১৫টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
২.১ “চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল।।” – “চারি মেঘে’-র নাম লেখো।
উত্তর: কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর মতে চারি মেঘ হলো— সম্বর্ত, আবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণ।
২.২ বাবা মারা যাওয়ার সময় ইলিয়াসের সম্পত্তি কী ছিল?
উত্তর: বাবা মারা যাওয়ার সময় ইলিয়াস না-ধনী না-দরিদ্র অবস্থায় ছিল; তার সম্পত্তি ছিল সাতটি ঘোড়ী, দুটি গরু এবং কুড়িটি ভেড়া।
২.৩ বিধুশেখর চলিত ভাষা ছেড়ে শুদ্ধ ভাষা ব্যবহার করেছিল কেন?
উত্তর: মঙ্গলগ্রহের অদ্ভুত ও আতঙ্কময় পরিবেশ দেখে ভয়ে এবং উত্তেজনায় বিধুশেখর সাধু বা শুদ্ধ ভাষা ব্যবহার করতে শুরু করেছিল।
২.৪ পীণায়ন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: অল্পপ্রাণ ধ্বনি মহাপ্রাণ ধ্বনিতে রূপান্তরিত হলে তাকে পীণায়ন বা মহাপ্রাণীভবন বলে। যেমন: কাঁঠাল > কাঁঠাল (ঠ মহাপ্রাণ)।
২.৫ সন্ধি বিচ্ছেদ করো : দেশান্তর।
উত্তর: দেশ + অন্তর = দেশান্তর।
২.৬ নিহিত স্বরধ্বনি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে কোনো স্বরচিহ্ন না থাকলেও যে 'অ' ধ্বনিটি প্রচ্ছন্নভাবে থাকে, তাকে নিহিত স্বর বা লীন স্বর বলে। যেমন: 'কর' শব্দের ক-এর সাথে থাকা 'অ' (ক্ + অ)।
২.৭ রাজ-শ্যালক রাজবাড়ি থেকে ফিরে এসে রক্ষীদের কী নির্দেশ দিয়েছিলেন?
উত্তর: রাজ-শ্যালক নির্দেশ দিয়েছিলেন যে ধীবরকে ছেড়ে দেওয়া হোক এবং তাকে আংটির মূল্যের সমান পারিতোষিক দেওয়া হোক।
২.৮ “এ লজ্জা আমি কোথায় রাখব!” - কোন্ লজ্জা?
উত্তর: ‘দাম’ গল্পে সুকুমার যখন উপলব্ধি করেন যে তাঁর মাস্টারমশাই তাঁর লেখা সাধারণ একটি পত্রিকার প্রবন্ধকে অত্যন্ত যত্ন করে আগলে রেখেছেন, তখন নিজের সংকীর্ণতা ভেবে তাঁর লজ্জা হয়।
৩। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও : Uttarpara Govt High School
৩.১ “গর্ত ছাড়ি ভুজঙ্গ ভাসিয়া বুলে জলে।” – “বুলে’ কথার অর্থ কী? এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল কেন?
উত্তর: ‘বুলে’ শব্দের অর্থ হলো ভ্রমণ করা বা বিচরণ করা।
কলিঙ্গদেশে একটানা সাত দিন প্রবল বৃষ্টির ফলে সমস্ত স্থলভাগ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বৃষ্টির দাপটে গর্তের ভেতর জল ঢুকে যাওয়ায় সাপেরা থাকার জায়গা হারিয়ে জলের ওপর ভেসে বেড়াতে শুরু করে।
৩.২ “নোঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে।” – বক্তব্যটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: কবির জীবন-তরী তটের কিনারে নোঙর করে আটকে গিয়েছে। এখানে ‘তট’ হলো পার্থিব জগতের বন্ধন বা মায়া। কবি সুদূরের হাতছানিতে ভেসে যেতে চাইলেও সাংসারিক দায়বদ্ধতা ও বাস্তবের টানে তাঁর জীবন থমকে দাঁড়িয়েছে।
৪। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও : Uttarpara Govt High School
৪.১ “স্বর্গের দরজাতেও ঠিক ওই কথাই লেখা রয়েছে – কোন্ কথা? তা আর কোথায় লেখা ছিল? কে, কাদের উদ্দেশে একথা বলেছেন?
উত্তর: কথাটি হলো— "অংক জানি না বলিয়া যাহারা গর্ব করে, তাহারা এখানে প্রবেশ করিবে না।"
এই কথাটি প্লেটোর জ্যামিতিক স্কুলের (একাডেমি) দরজায় লেখা ছিল।
‘দাম’ গল্পে সুকুমারের মাস্টারমশাই তাঁর স্কুলের ছাত্রদের উদ্দেশ্যে এই কথাটি বলেছিলেন।
৪.২ “পঞ্চাশ বছর ধরে সুখ খুঁজে খুঁজে এতদিনে পেয়েছি।” – বক্তা কে? এখন কীভাবে তাঁরা সুখ অনুভব করেন?
উত্তর: বক্তা হলেন ইলিয়াসের স্ত্রী শ্যাম-শেমাগি।
সম্পত্তি হারিয়ে সর্বহারা হয়ে এখন তাঁরা অন্যের বাড়িতে (মহম্মদ শাহ) আশ্রিত। এখন তাঁদের কোনো পিছুটান নেই, সম্পত্তির দেখাশোনার চিন্তা নেই। শান্তিতে ভগবানের প্রার্থনা করতে পারেন এবং স্বামী-স্ত্রী মন খুলে গল্প করতে পারেন। এই অভাবের মাঝেই তাঁরা প্রকৃত সুখ খুঁজে পেয়েছেন।
৫। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৫.১ “প্রভু, অনুগৃহীত হলাম।” – “প্রভু’ কে? কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি করা হয়েছে?
উত্তর: এখানে ‘প্রভু’ হলেন রাজার শ্যালক।
ধীবর যখন মাছের পেট থেকে পাওয়া রত্নখচিত আংটি বিক্রির অপরাধে ধরা পড়ে, তখন রাজা তাকে নির্দোষ বলে মুক্তি দেন এবং আংটির সমমূল্য পুরস্কার দেন। এই অনুগ্রহ পাওয়ার পর ধীবর শ্যালকের উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা জানাতে এই উক্তিটি করে।
৫.২ “... ঋষি অপমানিত বোধ করলেন এবং অভিশাপ দিলেন,” - ঋষির নাম কী? তিনি কাকে, কী অভিশাপ দিয়েছিলেন?
উত্তর: ঋষির নাম দুর্বাসা।
তিনি শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। শকুন্তলা যখন পতি-চিন্তায় মগ্ন হয়ে দুর্বাসা ঋষির উপস্থিতি লক্ষ্য করেননি, তখন ঋষি ক্রুদ্ধ হয়ে অভিশাপ দেন যে শকুন্তলা যার কথা ভাবছেন, সেই ব্যক্তি তাকে ভুলে যাবেন।
৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : Uttarpara Govt High School
৬.১ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় প্রকাশিত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিত্রটি আলোচনা করো।
কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে দেবী চণ্ডীর মায়ার প্রভাবে কলিঙ্গদেশে যে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল, তার একটি সজীব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- আকাশের অবস্থা: হঠাৎ করেই ঈশান কোণে (উত্তর-পূর্ব দিক) কালো মেঘ জমা হয়। দেখতে দেখতে সেই মেঘে সমগ্র আকাশ ঢেকে যায় এবং চারিদিক অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। অবস্থা এতটাই ভয়াবহ হয় যে, প্রজারা নিজেদের শরীর পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিল না।
- প্রবল বৃষ্টিপাত: মেঘের গম্ভীর গর্জনের সঙ্গে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। কবি একে ‘মুষলধারে’ বৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করেছেন। চারিদিকের মেঘ থেকে যেন করকা (শিলা) ও বৃষ্টির ধারা ঝরতে থাকে। সাত দিন ধরে একটানা এই বৃষ্টিপাত চলতে থাকে।
- বজ্রপাত ও পবন: মেঘের গর্জনে কেউ কারো কথা শুনতে পাচ্ছিল না। তার সঙ্গে যুক্ত হয় প্রবল ঝড়ের দাপট। ঝড়ের দাপটে মাঠের শস্য সব উল্টে পড়ে যায়।
- জলোচ্ছ্বাস ও প্লাবন: একটানা বৃষ্টির ফলে কলিঙ্গদেশের স্থলভাগ ও জলভাগ একাকার হয়ে যায়। নিচু জমিগুলো জলে ডুবে যায়। গর্তে জল ঢুকে যাওয়ায় সাপেরা বাসস্থান হারিয়ে জলের ওপর ভেসে বেড়াতে শুরু করে।
- শিলাবৃষ্টি ও ধ্বংসলীলা: ভাদ্র মাসের তালের মতো বড় বড় শিলা ঘরের চাল ফুটো করে পড়তে থাকে। দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান যেন মঠ ও অট্টালিকা ভেঙে খানখান করে দেন। দেবী চণ্ডীর আদেশে অবিরত বৃষ্টির ফলে প্রজারা অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়ে এবং বিপদমুক্ত হতে ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে।
৬.২ “... সে একেবারে সর্বহারা হয়ে পড়ল।” – কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে? কার কথা বলা হয়েছে? তার সর্বহারা হওয়ার কারণ কী?
উৎস: উদ্ধৃত অংশটি বিশ্ববিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের লেখা এবং মণীন্দ্র দত্তের অনূদিত ‘ইলিয়াস’ নামক ছোটগল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।
ব্যক্তি পরিচয়: এখানে গল্পের প্রধান চরিত্র বাশকির জনজাতির প্রতিনিধি ইলিয়াস-এর কথা বলা হয়েছে।
সর্বহারা হওয়ার কারণ:
ইলিয়াস এবং তার স্ত্রী দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের কঠোর পরিশ্রমে প্রচুর ধন-সম্পত্তি ও প্রতিপত্তি অর্জন করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে বৃদ্ধ বয়সে তারা সব হারিয়ে সর্বহারা হয়ে পড়েন। এর কারণগুলি হলো:
- সন্তানদের অবাধ্যতা: ইলিয়াসের বড় ছেলেটি এক মারপিটে মারা যায় এবং ছোট ছেলেটি বাবার অবাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে আলাদা হয়ে যায়। তাকে আলাদা করে দেওয়ার সময় ইলিয়াসকে তার সম্পত্তির একটি বড় অংশ (বাড়ি, গরু, ঘোড়া) দিয়ে দিতে হয়, ফলে ইলিয়াসের সম্পদে টান পড়ে।
- পশু মড়ক: এরপর এক বছর ইলিয়াসের ভেড়াগুলোর মধ্যে মড়ক লাগে, যার ফলে অনেক ভেড়া মারা যায়।
- দুর্ভিক্ষ: পরের বছরই দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। খাদ্যের অভাবে সে বছর অনেক গবাদি পশু না খেতে পেয়ে মারা যায়।
- লুঠতরাজ: এখানেই শেষ নয়, কিরগিজরা হানা দিয়ে ইলিয়াসের পালের সেরা ঘোড়াগুলো চুরি করে নিয়ে যায়।
- দারিদ্র্য: এইভাবে একের পর এক বিপদে ইলিয়াসের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। অবশেষে অবশিষ্ট যা কিছু ছিল, তা বিক্রি করে সত্তর বছর বয়সে ইলিয়াস ও তার স্ত্রী পুরোপুরি নিঃস্ব বা সর্বহারা হয়ে পড়েন।
৭.১ লেখক কার থেকে প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়রিটি পেয়েছিলেন? ডায়রিটির বিশেষত্ব কী?
ডায়রি প্রাপ্তি:
বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক প্রোফেসর তিলোকেশ্বর শঙ্কু দীর্ঘ ১৫ বছর নিরুদ্দেশ থাকার পর তাঁর একটি ডায়রি আবিষ্কৃত হয়। লেখক (সত্যজিৎ রায়) এই ডায়রিটি পেয়েছিলেন তাঁর পরিচিত তারক চাটুজ্যের কাছ থেকে। তারকবাবু আবার সেটি সুন্দরবনের কোরকচিটা অঞ্চলে বাঘ মারতে গিয়ে এক উল্কাপাতের গর্তের ভেতর থেকে খুঁজে পেয়েছিলেন।
ডায়রিটির বিশেষত্ব:
প্রোফেসর শঙ্কুর এই লাল রঙের ডায়রিটি ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং অলৌকিক গুণসম্পন্ন। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- কালির অদ্ভুত পরিবর্তন: ডায়রিটির লেখার কালি কোনো নির্দিষ্ট রঙের ছিল না। লেখক লক্ষ্য করেন, প্রথমে লেখাটি ছিল সবুজ, পরে সেটি লাল হয়ে যায় এবং শেষে নীল রঙে পরিণত হয়। অর্থাৎ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কালির রঙ নিজে থেকেই বদলে যেত।
- অবিনশ্বরতা: ডায়রিটিকে কোনোভাবেই ধ্বংস করা সম্ভব ছিল না। লেখক এটি আগুনে ফেলেছিলেন, কিন্তু তা পুড়েনি। এমনকি কুকুরের কামড়েও এতে কোনো দাগ পড়েনি এবং কাঁচি দিয়েও এটি কাটা যায়নি।
- স্থিতিস্থাপকতা: ডায়রিটিকে টানলে তা রাবারের মতো লম্বা হতো, কিন্তু ছিঁড়ত না।
- পিঁপড়ের আক্রমণ: আশ্চর্যের বিষয় হলো, ডায়রিটির ওপর চিনি ছড়িয়ে দিলেও কোনো পিঁপড়ে তাতে মুখ দিত না।
৭.২ টাফা কী? সেখানকার পরিবেশ ও প্রাণীদের পরিচয় দাও।
টাফা-র পরিচয়:
প্রোফেসর শঙ্কুর বর্ণনামানুসারে 'টাফা' হলো মঙ্গলগ্রহের একটি ক্ষুদ্র উপগ্রহ বা অ্যাস্টেরয়েড। মহাকাশ ভ্রমণের পথে মঙ্গলগ্রহের বিভীষিকা থেকে বাঁচতে গিয়ে শঙ্কু ও তাঁর সঙ্গীরা এই শান্ত ও নিরাপদ আশ্রয়ে অবতরণ করেছিলেন।
পরিবেশের বর্ণনা:
টাফার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত আরামদায়ক এবং পৃথিবীর তুলনায় অনেক উন্নত।
- এখানকার বাতাস ছিল সতেজ ও স্বস্তিদায়ক।
- টাফার আকাশ গাঢ় নীল রঙের এবং এখানে কোনো মেঘ ছিল না।
- চারিদিক অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং একটি স্নিগ্ধ শান্তি এই গ্রহে বিরাজ করত।
- এখানকার গাছপালাগুলো দেখতে অনেকটা পৃথিবীর ফার্ন বা শ্যাওলার মতো হলেও সেগুলো ছিল অনেক বড় বড় এবং নীল রঙের।
প্রাণীদের পরিচয়:
টাফার বাসিন্দারা পৃথিবীর মানুষের মতো হলেও দৈহিক গঠন ছিল অদ্ভুত।
- তাদের মাথাগুলো শরীরের তুলনায় বেশ বড় এবং তাদের কোনো চুল ছিল না।
- তাদের চোখগুলো ছিল মাছের চোখের মতো স্বচ্ছ এবং স্থির।
- এরা কথা বলত না, বরং ভাববিনিময়ের জন্য অদ্ভুত এক ধরনের শব্দ ব্যবহার করত।
- এরা অত্যন্ত দয়ালু এবং অতিথিবৎসল। তারা প্রোফেসর শঙ্কু এবং তাঁর সঙ্গীদের কোনো ক্ষতি না করে বরং ফলমূল দিয়ে আপ্যায়ন করেছিল। টাফাবাসীরা আসলে মহাকাশের এক অত্যন্ত উন্নত ও বুদ্ধিমান প্রজাতি।
৬ ও ৭ এর উত্তর (সংক্ষেপে মূল পয়েন্ট):
৬.১ কলিঙ্গদেশের বিপর্যয়: চারিদিক অন্ধকারে ঢেকে যাওয়া, ঈশান কোণে মেঘ জমা, প্রবল বজ্রপাত, সাত দিন একটানা বৃষ্টি, শস্য নষ্ট হওয়া এবং দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমানের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার চিত্র ফুটে উঠেছে।
৭.১ ডায়রিটির বিশেষত্ব: এটি লাল রঙের একটি ছোট ডায়রি। এর বিশেষত্ব হলো এর কালি সময় ও আবহাওয়া অনুযায়ী রঙ পরিবর্তন করে এবং ডায়রিটি কোনোভাবেই ধ্বংস করা যায় না— আগুন, জল বা দাঁত দিয়েও তা কাটা অসম্ভব।
৮। ভাবসম্প্রসারণ:
“বিরাম কাজেরই অঙ্গ এক সঙ্গে গাঁথা, / নয়নের অংশ যেন নয়নের পাতা।”
মূলভাব: কাজের ফাঁকে বিশ্রাম বা বিরতি কর্মহীনতা নয়, বরং তা কর্মকে সচল রাখার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। চোখের পাতা যেমন চোখের সুরক্ষা দেয় এবং পলক ফেলার মাধ্যমে চোখকে সতেজ রাখে, তেমনি কাজের মাঝে বিরাম মানুষের কর্মশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করে। বিশ্রামহীন কাজ ক্লান্তি ও একঘেয়েমি আনে, কিন্তু পরিমিত বিরতি কাজের মান ও গতি বাড়িয়ে দেয়।
ব্যক্তিগত পরামর্শ:
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য পাঠ্যবইটি খুঁটিয়ে পড়া খুব জরুরি। বিশেষ করে কবিতার প্রতিটি শব্দের অর্থ এবং ব্যাকরণ অংশের সংজ্ঞা ও উদাহরণ ভালো করে মুখস্থ করবে। উত্তর লেখার সময় হাতের লেখা পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করবে।
Call to Action: যদি তোমাদের কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্নে সন্দেহ থাকে বা আরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন হয়, তবে অবশ্যই কমেন্ট করে জানিও। পড়াশোনার ক্ষেত্রে নিয়মিত অভ্যাসই হলো সাফল্যের চাবিকাঠি। শুভকামনা রইল!




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.