জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান

 জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান 

জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর

জীববিদ্যা-ও-মানবকল্যাণ-অনুশীলনী-প্রশ্ন-উত্তর


​১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর 

(1) অ্যান্টিবডির রাসায়নিক প্রকৃতি হল— (a) প্রোটিন (b) গ্লাইকোপ্রোটিন (c) কার্বোহাইড্রেট (d) লিপিড

উত্তর: (b) গ্লাইকোপ্রোটিন।

(2) দেহ প্রতিরক্ষায় সাহায্যকারী যে প্রোটিন প্লাজমায় পাওয়া যায়, তাদের বলা হয়— (a) অ্যান্টিজেন (b) ইমিউনোগ্লোবিউলিন (c) টক্সয়েড (d) ইনটারফেরন

উত্তর: (b) ইমিউনোগ্লোবিউলিন।

(3) ভাইরাস আক্রান্ত কোশ থেকে যে অ্যান্টি ভাইরাল প্রোটিন ক্ষরিত হয়, তা হল— (a) ইনটারফেরন (b) HCI (c) লাইসোজাইম (d) কোনোটিই নয়

উত্তর: (a) ইনটারফেরন।

(4) হিস্টামিন নিঃসরণ করে— (a) বেসোফিল (b) মাস্ট কোশ (c) a ও b উভয়ই (d) কোনোটিই নয়

উত্তর: (c) a ও b উভয়ই (বেসোফিল ও মাস্ট কোশ দুজনেই হিস্টামিন ক্ষরণ করে)।

(5) ব্রাডিকাইনিন নিঃসৃত হয়— (a) ক্ষতিগ্রস্ত কলা কোশ থেকে (b) মাস্ট কোশ থেকে (c) বেসোফিল থেকে (d) প্লিহা থেকে

উত্তর: (a) ক্ষতিগ্রস্ত কলা কোশ থেকে।

(6) প্রদাহ সৃষ্টি করে জীবাণু ধ্বংস করে— (a) ব্রাডিকাইনিন (b) হিস্টানিন (c) হেপারিন (d) লাইসোজাইম

উত্তর: (b) হিস্টামিন (প্রদাহ বা Inflammation সৃষ্টিতে সাহায্য করে)।

(7) প্রদত্ত কোনটি একটি জলবাহিত রোগ? (a) টিটেনাস (b) ডিপথেরিয়া (c) ডায়ারিয়া (d) যক্ষ্মা

উত্তর: (c) ডায়ারিয়া।

(8) বিশ্বব্যাপী করোনা ঠেকাতে অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিল— (a) হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজার ব্যবহার (b) নিয়মিত সঠিকমাত্রায় জলপান (c) দুগ্ধজাত খাদ্যগ্রহণ (d) বিশ্রাম নেওয়া

উত্তর: (a) হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজার ব্যবহার।

(9) অণুজীব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়— (a) ব্যাকটেরিয়া (b) নীলাভ-সবুজ শৈবাল (c) ছত্রাক (d) সবকটি

উত্তর: (d) সবকটি।

(10) পতঙ্গের জৈবিক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ভাইরাসটি হল— (a) নিউক্লিওপলিহেড্রোসিস ভাইরাস (b) প্যারা মিক্সোভাইরাস (c) গ্রানুলোসিস ভাইরাস (d) a ও c উভয়

উত্তর: (d) a ও c উভয় (NPV এবং GV দুটিই ব্যবহৃত হয়)।

(11) অ্যান্টিবডির অণুতে পলিপেপটাইড শৃঙ্খলের সংখ্যা হল— (a) দুটি (b) তিনটি (c) চারটি (d) পাঁচটি

উত্তর: (c) চারটি (দুটি ভারী এবং দুটি হালকা শৃঙ্খল)।

(12) AIDS একটি ভাইরাসঘটিত রোগ। নীচের কোনটি দ্বারা AIDS সংক্রামিত হয় না? (a) রক্তসঞ্চারণ (b) একই ইনজেকশনের ছুঁচ ব্যবহার (c) করমর্দন (d) যৌনমিলন

উত্তর: (c) করমর্দন।

(13) উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের মূল ও ছত্রাকের সহাবস্থান হল— (a) সায়ানোব্যাকটেরিয়া (b) মাইকোরাইজা (c) ব্যাকটেরিয়া (d) প্রোটোজোয়া

উত্তর: (b) মাইকোরাইজা।

(14) সক্রিয় প্রাকৃতিক অর্জিত অনাক্রম্যতা ঘটে— (a) টিকাকরণের মাধ্যমে (b) মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে (c) জীবাণু সংক্রমণের ফলে (d) কোনোটিই নয়

উত্তর: (c) জীবাণু সংক্রমণের ফলে।

(15) নিষ্ক্রিয় প্রাকৃতিক অর্জিত অনাক্রম্যতা ঘটে— (a) অমরার মাধ্যমে (b) মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে (c) অমরা ও মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে (d) অ্যান্টিভেনাম দ্বারা

উত্তর: (c) অমরা ও মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে।

(16) অ্যান্টিবডিতে হালকা শৃঙ্খল ও ভারী শৃঙ্খলের মধ্যে থাকে— (a) কোভ্যালেন্ট বন্ধন (b) ডাইসালফাইড বন্ধন (c) হাইড্রোজেন বন্ধন (d) ডাইসালফাইড ও হাইড্রোজেন বন্ধন

উত্তর: (b) ডাইসালফাইড বন্ধন।

(17) সিরামে যে অ্যান্টিবডির পরিমাণ সবথেকে বেশি তা হল— (a) IgA (b) IgD (c) IgG (d) IgM

উত্তর: (c) IgG।

(18) টিকার মাধ্যমে যে অনাক্রম্যতা গড়ে ওঠে তা হল— (a) কৃত্রিম অনাক্রম্যতা (b) প্রাকৃতিক অনাক্রম্যতা (c) কৃত্রিম সক্রিয় অনাক্রম্যতা (d) কৃত্রিম নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা

উত্তর: (c) কৃত্রিম সক্রিয় অনাক্রম্যতা।

(19) ‘Lock Jaw’——এই উপসর্গ যে-রোগের, সেটি হল— (a) ডিপথেরিয়া (b) ম্যালেরিয়া (c) টিটেনাস (d) হেপাটাইটিস

উত্তর: (c) টিটেনাস।

(20) ডিপথেরিয়া রোগের কারণ হল— (a) করিনিব্যাকটেরিয়াম (b) স্ট্রেপ্টোকক্কাস (c) নিউমোকক্কাস (d) স্ট্যাফাইলোকক্কাস

উত্তর: (a) করিনিব্যাকটেরিয়াম (Corynebacterium diphtheriae)।

(21) ELISA Rapid টেস্ট দ্বারা শনাক্তকরণ সম্ভব— (a) ডেঙ্গি (b) AIDS (c) হুপিং কাশি (d) টিটেনাস

উত্তর: (b) AIDS (প্রাথমিক স্ক্রিনিং-এর জন্য ব্যবহৃত হয়)।

(22) প্রাথমিক ইমিউন রেসপন্সে উৎপাদিত প্রধান অ্যান্টিবডি হল— (a) IgA (b) IgE (c) IgM (d) IgG

উত্তর: (c) IgM।

(23) মানবদেহের প্রতিরক্ষার প্রথম স্তরটি কী— (a) অ্যান্টিজেন (b) অ্যান্টিবডি (c) ত্বক (d) মস্তিষ্ক

উত্তর: (c) ত্বক।

(24) নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী সায়ানোব্যাকটেরিয়ার নাম – (a) নস্টক (b) অ্যানাবিনা (c) নস্টক ও অলোসিরা (d) নস্টক, অ্যানাবিনা ও অলোসিরা

উত্তর: (d) নস্টক, অ্যানাবিনা ও অলোসিরা।

(25) অর্বুদ সৃষ্টিতে সক্ষম মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া হল— (a) স্পাইরুলিনা (b) রাইজোবিয়াম (c) অ্যাজোটোব্যাকটর (d) অ্যাজোস্পাইরিলাম

উত্তর: (b) রাইজোবিয়াম।

(26) মশার জৈবিক নিয়ন্ত্রণে জলাশয়ে চাষ করা হয়— (a) গ্যাম্বুশিয়া (b) পানচাক্স (c) তেলাপিয়া (d) সবকটিই

উত্তর: (d) সবকটিই (তবে গ্যাম্বুশিয়া সবচেয়ে বেশি কার্যকর)।

(27) VAM হল – (a) ভাইরাস (b) লাইকেন (c) এক্টোমাইকোরাইজা (d) এন্ডোমাইকোরাইজা

উত্তর: (d) এন্ডোমাইকোরাইজা (পুরো নাম: Vesicular Arbuscular Mycorrhiza)।

​২. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন

​[I] একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও :

(1) অ্যান্টিজেনের রাসায়নিক প্রকৃতি লেখো।

উত্তর: অ্যান্টিজেন সাধারণত প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড প্রকৃতির হয়।

(2) MMR-র পুরো নাম লেখো।

উত্তর: Measles, Mumps and Rubella.

(3) DPT-র পুরো নাম কী?

উত্তর: Diphtheria, Pertussis and Tetanus.

(4) শক্তি হ্রাসপ্রাপ্ত জীবন্ত টিকার উদাহরণ দাও।

উত্তর: বিসিজি (BCG) বা ওপিভি (OPV)।

(5) একটি মিশ্র টিকার উদাহরণ দাও।

উত্তর: DPT বা MMR।

(6) পেন্টামার হিসেবে উপস্থিত ইমিউনোগ্লোবিনটির নাম লেখো।

উত্তর: IgM।

(7) প্রাথমিক অনাক্রমণে সাড়া জাগাতে কোন্ প্রকার অ্যান্টিবডি সাহায্য করে?

উত্তর: IgM।

(8) কোন্ অ্যান্টিবডি মাতৃরক্ত থেকে প্লাসেন্টা অতিক্রম করে ভ্রূণের রক্তে যায়?

উত্তর: IgG।

(9) কোলোস্ট্রামে উপস্থিত অ্যান্টিবডি কোনটি?

উত্তর: IgA।

(10) কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতার প্রধান কোশ কোনটি?

উত্তর: T-লিম্ফোসাইট বা T-কোশ।

(11) OPV-এর পুরো নাম কী?

উত্তর: Oral Polio Vaccine.

(12) টিকাকরণের সাহায্যে পৃথিবী থেকে নির্মূল করা হয়েছে এমন একটি রোগের নাম করো।

উত্তর: গুটিবসন্ত (Smallpox)।

(13) ম্যালেরিয়া রোগজীবাণুর কোন্ দশাটি মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয়?

উত্তর: স্পোরোজোয়েট (Sporozoite)।

(14) ডিপথেরিয়ার ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের জন্য নিউট্রোফিল কোন্ পদার্থ ক্ষরণ করে?

উত্তর: নিউট্রোফিল মূলত ডিফেন্সিন (Defensin) নামক প্রোটিন এবং বিভিন্ন প্রোটিওলাইটিক এনজাইম ক্ষরণ করে।

(15) ডেঙ্গু বা Break bone fever-এর জীবাণুর নাম কী?

উত্তর: ফ্ল্যাভি ভাইরাস (Flavivirus)।

(16) ধৌতকরণের প্রধান উদ্দেশ্য কী?

উত্তর: হাত বা শরীরের অংশ থেকে রোগজীবাণু ও ময়লা দূর করে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা।

(17) অণুজীবসার হিসেবে ব্যবহৃত স্বাধীনজীবী N2 সংবন্ধনকারী সায়ানোব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো।

উত্তর: নস্টক (Nostoc) বা অ্যানাবিনা (Anabaena)।

(18) কোন্ ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন উৎপাদনে সাহায্য করে?

উত্তর: মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী এসেরিকিয়া কোলাই (E. coli) ভিটামিন B_{12} ও ভিটামিন K উৎপাদনে সাহায্য করে।

(19) গুদামজাত পেস্ট দমনে ব্যবহৃত হয় এমন একটি ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো।

উত্তর: ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস (Bacillus thuringiensis)।

(20) অ্যাজোলা প্রতিবছর প্রতি হেক্টর জমিতে কত কেজি নাইট্রোজেন সংবন্ধন করতে পারে?

উত্তর: প্রায় ৪০ থেকে ৬০ কেজি।

(21) ভাইরাসঘটিত দুটি কীটনাশকের নাম লেখো।

উত্তর: NPV (Nucleopolyhedrovirus) এবং GV (Granulovirus)।

(22) বাড়ির টয়লেট পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হয় এমন একটি রাসায়নিক পদার্থের নাম লেখো।

উত্তর: ফিনাইল বা ব্লিচিং পাউডার।

(23) HIV কোন্ কোশকে ধ্বংস করে?

উত্তর: হেল্পার T-লিম্ফোসাইট (Helper T-cell বা CD4^{+} কোশ)।

(24) ডাইমার প্রকৃতির গঠনযুক্ত অ্যান্টিবডির নাম লেখো।

উত্তর: IgA।

(25) লিম্ফোকাইনিনের কাজ কী?

উত্তর: এটি টি-কোশ থেকে নিঃসৃত হয় এবং এটি ফ্যাগোটাইটোসিস প্রক্রিয়াকে উদ্দীপ্ত করে জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

(26) টক্সয়েড কী?

উত্তর: ব্যাকটেরিয়ার নিঃসৃত বিষ বা টক্সিন যখন তার বিষক্রিয়া হারিয়ে ফেলে কিন্তু অনাক্রম্যতা জাগানোর ক্ষমতা বজায় রাখে, তখন তাকে টক্সয়েড বলে (যেমন: টিটেনাস টক্সয়েড)।

(27) মাইক্রোফাজ কী?

উত্তর: রক্তে উপস্থিত ক্ষুদ্রাকৃতির ফ্যাগোটাইটিক শ্বেত রক্তকণিকা, বিশেষ করে নিউট্রোফিল-কে মাইক্রোফাজ বলা হয়।

(28) একটি প্রোটোজোয়ার নাম লেখো যা জৈবিক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: নসিমা লোকাস্টি (Nosema locustae)।

(29) গ্লোমাস কী?

উত্তর: গ্লোমাস (Glomus) হলো এক প্রকার এন্ডোমাইকোরাইজাল ছত্রাক যা উদ্ভিদের মূলে অণুজীব সার হিসেবে কাজ করে।

(30) ভার্মিকালচার কী?

উত্তর: কেঁচো ব্যবহারের মাধ্যমে জৈব বর্জ্য পদার্থকে পচিয়ে কৃমি সার বা ভার্মিকম্পোস্ট তৈরির পদ্ধতিকে ভার্মিকালচার বলে।

​[II] শূন্যস্থানগুলিতে উপযুক্ত শব্দ বসাও :জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর 

(1) -----এর প্রভাবে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।

উত্তর: অ্যান্টিজেন

(2) টিকার মাধ্যমে ----- অনাক্রম্যতা গড়ে ওঠে।

উত্তর: কৃত্রিম অর্জিত (সক্রিয়)

(3) জন্মসূত্রে যে অনাক্রম্যতা গড়ে ওঠে তাকে বলে ----- -অনাক্রম্যতা।

উত্তর: সহজাত

(4) এডওয়ার্ড জেনার ----- রোগের টিকা আবিষ্কার করেন।

উত্তর: গুটিবসন্ত (Smallpox)

(5) প্লাসমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স একপ্রকার ---- প্রাণী

উত্তর: আদ্যপ্রাণী (বা প্রোটোজোয়া)

(6) টক্সয়েড প্রয়োগ করা হয় ---- রোগের প্রতিষেধক হিসেবে।

উত্তর: টিটেনাস (বা ডিপথেরিয়া)

(7) ব্যাকটেরিয়াঘটিত একটি ফুসফুসের রোগ হল -----

উত্তর: যক্ষ্মা (বা নিউমোনিয়া)

(8) সিরামে ---- অ্যান্টিবডি সবথেকে বেশি পরিমাণে থাকে

উত্তর: IgG

(9) B-লিম্ফোসাইট ----এ পরিণতি লাভ করে

উত্তর: অস্থিমজ্জায় (Bone Marrow)

(10) যক্ষ্মা রোগে .----ভ্যাকসিন দেওয়া হয়

উত্তর: বিসিজি (BCG)

(11) টিটেনাস রোগ সংক্রমণকারী জীবাণুটির নাম ----

উত্তর: ক্লস্ট্রিডিয়াম টিটানি (Clostridium tetani)

(12) ধান চাষে অণুজীব সার হিসেবে ব্যবহার করা হয় -----কে।

উত্তর: অ্যাজোলা (বা অ্যানাবিনা)

(13) রাইজোবিয়াম --- - উৎসেচকের সাহায্যে নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ ঘটায়

উত্তর: নাইট্রোজেনেজ (Nitrogenase)

(14) মাটির অদ্রাব্য ফসফেটকে দ্রাব্য ফসফেটে পরিণত করে ----

উত্তর: ফসফেটোব্যাকটেরিয়া (যেমন- Bacillus polymyxa)

(15) ধান চাষে অণুজীব সার হিসেবে ব্যবহার করা হয় ----কে।

উত্তর: নীল-সবুজ শৈবাল (বা সায়ানোব্যাকটেরিয়া)

(16) অলোসিরা হল এক প্রকার -----

উত্তর: সায়ানোব্যাকটেরিয়া (বা নীল-সবুজ শৈবাল)

(17) ----- ডেয়ারি দুগ্ধ সন্ধান প্রক্রিয়ার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া

উত্তর: ল্যাকটোব্যাসিলাস (Lactobacillus)

(18) চর্মশিল্প ট্যানিং-এ ব্যবহৃত অণুজীবের নাম-----

উত্তর: ব্যাসিলাস সাবটিলিস (Bacillus subtilis)

(19) ---- পতঙ্গের লার্ভা দমনে ব্যবহৃত হয় NPV ভাইরাস।

উত্তর: লেপিডোপটেরা (Lepidoptera) বর্গের

(20) নিউট্রোফিল, মনোসাইট ও ম্যাক্রোফাজ ----- পদ্ধতিতে জীবাণু ধ্বংস করে।

উত্তর: ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis)

(21) অস্থিমজ্জায় তৈরি হলেও ‘T’ কোশ ---- গ্রন্থিতে বিভেদিত ও পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়।

উত্তর: থাইমাস (Thymus)

(22) স্তন্যপায়ীদের হূৎপিণ্ডে অবস্থিত ----- এন্ডোজেনাস অ্যান্টিবডি।

উত্তর: কার্ডিওলাইপিন (Cardiolipin)

(23) ------ ভ্যাকসিনকে ট্রিপল অ্যান্টিজেন বলা হয়।

উত্তর: DPT (Diphtheria, Pertussis, Tetanus)

(24) ডায়ারিয়া, কলেরা ও আন্ত্রিক রোগ ---- বাহিত রোগ।

উত্তর: জল

(25) ডায়ারিয়া রোগে রোগীকে ----- পান করানো হয়।

উত্তর: ওআরএস (ORS - Oral Rehydration Solution)

(26) পেশির খিঁচুনি ও যন্ত্রণাদায়ক পেশিসংকোচন ----রোগের উপসর্গ।

উত্তর: টিটেনাস (Tetanus)

(27) নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া হল -----

উত্তর: স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি (Streptococcus pneumoniae)

​[III] সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপণ করো :

(1) যকৃতে কুফার কোশ থাকে।

উত্তর: সত্য। (কুফার কোশ হলো যকৃতে উপস্থিত বিশেষ ধরনের ম্যাক্রোফাজ কোশ যা জীবাণু ধ্বংস করে।)

(2) ম্যাটারনাল অ্যান্টিবডি হল IgA।

উত্তর: মিথ্যা। (ম্যাটারনাল বা মাতৃজ অ্যান্টিবডি বলতে সাধারণত IgG-কে বোঝায় কারণ এটি অমরার মাধ্যমে ভ্রূণে পৌঁছায়; তবে দুগ্ধের মাধ্যমে IgA-ও শিশুর দেহে যায়।)

(3) টিটেনাস রোগের জন্য BCG ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

উত্তর: মিথ্যা। (BCG ভ্যাকসিন দেওয়া হয় যক্ষ্মা বা টিউবারকিউলোসিস রোগের জন্য। টিটেনাসের জন্য TT বা DPT টিকা দেওয়া হয়।)

(4) গোবসন্ত ভাইরাস থেকে প্রথম বসন্ত রোগের টিকা আবিষ্কার করেন লুই পাস্তুর।

উত্তর: মিথ্যা। (গোবসন্তের ভাইরাস থেকে প্রথম বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেছিলেন এডওয়ার্ড জেনার।)

(5) ম্যালেরিয়ার জীবাণু হল প্রোটোজোয়া।

উত্তর: সত্য। (ম্যালেরিয়ার জীবাণু হলো এক প্রকার আদ্যপ্রাণী বা প্রোটোজোয়া যার নাম Plasmodium vivax।)

(6) গ্র্যানুলোসিস (GV) ভাইরাস থেকে প্রস্তুত কীটনাশকের নাম হল ম্যাটেক্স।

উত্তর: সত্য। (এটি কৃষিক্ষেত্রে পতঙ্গ দমনে ব্যবহৃত এক প্রকার জৈব কীটনাশক।)

(7) ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত কোশ থেকে ইনটারফেরন নির্গত হয়।

উত্তর: মিথ্যা। (ইনটারফেরন সাধারণত ভাইরাস আক্রান্ত কোশ থেকে নির্গত হয়ে পার্শ্ববর্তী সুস্থ কোশগুলিকে ভাইরাস প্রতিরোধে সাহায্য করে।)

(8) ফরসম্যান অ্যান্টিজেন একটি এক্সোজেনাস অ্যান্টিজেন।

উত্তর: মিথ্যা। (ফরসম্যান অ্যান্টিজেন একটি এন্ডোজেনাস বা হেটেরোফিল অ্যান্টিজেন যা বিভিন্ন প্রাণীর দেহের কোশীয় উপাদানে পাওয়া যায়।)

(9) অ্যালার্জি বিক্রিয়া ঘটায় IgA নামক ইমিউনোগ্লোবিউলিন থেকে।

উত্তর: মিথ্যা। (অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী অ্যান্টিবডি হলো IgE।)

(10) MMR ভ্যাকসিনটি মাম্পস, মিসল্স ও রুবেলার বিরুদ্ধে কাজ করে।

উত্তর: সত্য। (MMR-এর পুরো নাম হলো— Measles, Mumps, Rubella।)

(11) DPT-কে ট্রিপল অ্যান্টিজেন বলে।

উত্তর: সত্য। (কারণ এই একটি টিকা তিনটি রোগ— ডিপথেরিয়া, পারটুসিস ও টিটেনাস প্রতিরোধ করে।)

(12) AIDS রোগের জন্য দায়ী জীবাণু হল HIV।

উত্তর: সত্য। (HIV বা Human Immunodeficiency Virus হলো এই মরণব্যাধির কারণ।)

(13) রোটা ভাইরাস ডায়ারিয়া সৃষ্টি করে।

উত্তর: সত্য। (শিশুদের ডায়ারিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো রোটা ভাইরাস সংক্রমণ।)

(14) T-কোশ দ্বারা রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা গড়ে ওঠে।

উত্তর: মিথ্যা। (T-কোশ দ্বারা কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা এবং B-কোশ দ্বারা রসভিত্তিক অনাক্রম্যতা গড়ে ওঠে।)

(15) পেনিসিলিনকে বলা হয় ওয়ান্ডার ড্রাগ।

উত্তর: সত্য। (আলেকজান্ডার ফ্লেমিং আবিষ্কৃত এই অ্যান্টিবায়োটিকটি চিকিৎসার জগতে বিপ্লব এনেছিল বলে একে 'Wonder Drug' বলা হয়।)


​১. স্তম্ভ মেলাও


বামস্তম্ভ

ডানস্তম্ভ (সঠিক উত্তর)

(i) ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae)

(c) কলেরা রোগ সৃষ্টি করে

(ii) অ্যাজোটোব্যাকটর (Azotobacter)

(f) স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়া

(iii) ইমিউনোগ্লোবিউলিন

(e) অ্যান্টিবডির অপর নাম

(iv) ডিপ্লোকক্কাস (Diplococcus)

(b) নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টি করে

(v) রাইজোবিয়াম (Rhizobium)

(d) মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া



২. স্তম্ভ মেলাও

বামস্তম্ভ

ডানস্তম্ভ (সঠিক উত্তর)

(i) লাইসোজাইম

(d) দেহতরলে উপস্থিত উৎসেচক

(ii) ফুলের রেণু, পাখির পালক, পশুর লোম

(a) অ্যালার্জেন

(iii) প্যাথোজেন

(e) রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু

(iv) অ্যান্টিবডি

(b) গ্লাইকোপ্রোটিন

(v) T-লিম্ফোসাইট

(c) কোশভিত্তিক অনাক্রম্যতা



৩. স্তম্ভ মেলাও



বামস্তম্ভ

ডানস্তম্ভ (সঠিক উত্তর)

(i) পাকরসের HCl

(c) সহজাত অনাক্রম্যতা

(ii) মৌখিক টিকা (Oral Vaccine)

(e) সল্ক পোলিয়ো ভ্যাকসিন* (দ্রষ্টব্য নিচে)

(iii) টক্সয়েড

(a) টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া

(iv) তৃতীয় জনু টিকা (Third Gen Vaccine)

(f) রিকম্বিনেন্ট DNA

(v) স্মৃতিকোশ (Memory Cell)

(d) অর্জিত অনাক্রম্যতা



​৩. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রশ্নমান—২) জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর 

(1) অনাক্রম্যতা কাকে বলে?

উত্তর: বহিরাগত কোনো ক্ষতিকারক অণুজীব (প্যাথোজেন) বা বিষাক্ত পদার্থের বিরুদ্ধে দেহের যে স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে, যার ফলে দেহ সুস্থ থাকে, তাকে অনাক্রম্যতা বা ইমিউনিটি (Immunity) বলে।

(2) সহজাত অনাক্রম্যতা বলতে কী বোঝ?

উত্তর: জন্মের সময় থেকে বংশগতভাবে দেহের যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রাকৃতিকভাবেই অর্জিত থাকে, তাকে সহজাত অনাক্রম্যতা বলে। এটি কোনো নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে নয়, বরং সবরকম জীবাণুর বিরুদ্ধেই কাজ করে (যেমন— ত্বক, লালারসের লাইসোজাইম)।

(3) অ্যান্টিজেন কী?

উত্তর: দেহের বাইরে থেকে প্রবেশ করা যে সমস্ত বিজাতীয় প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড ধর্মী পদার্থ দেহে প্রবেশ করে অনাক্রম্যতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে এবং অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করে, তাদের অ্যান্টিজেন বলে।

(4) অ্যান্টিবডি কাকে বলে?

উত্তর: অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে দেহের বি-লিম্ফোসাইট কোশ থেকে উৎপন্ন যে গ্লাইকোপ্রোটিন ধর্মী প্রতিরক্ষা উপাদান নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করে, তাকে অ্যান্টিবডি বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন বলে।

(5) অর্জিত অনাক্রম্যতা বলতে কী বোঝ? উদাহরণ দাও।

উত্তর: জন্মের পর পরিবেশ থেকে জীবাণুর সংস্পর্শে এসে বা টিকাকরণের মাধ্যমে দেহের যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে, তাকে অর্জিত অনাক্রম্যতা বলে। এটি একটি নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে কাজ করে। উদাহরণ: পোলিও বা হাম হওয়ার পর দেহে যে প্রতিরক্ষা তৈরি হয়।

(6) অ্যান্টিবডির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: (i) অ্যান্টিবডি রাসায়নিকভাবে গ্লাইকোপ্রোটিন ধর্মী এবং ইংরেজি 'Y' অক্ষরের মতো দেখতে হয়।

(ii) এটি অত্যন্ত নির্দিষ্ট (Specific), অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি কেবল একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকেই ধ্বংস করতে পারে।

(7) বুস্টার ডোজ কী?

উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট টিকার (Vaccine) প্রাথমিক ডোজ নেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় অন্তর শরীরের অনাক্রম্যতা বা অ্যান্টিবডির মাত্রা বজায় রাখার জন্য যে অতিরিক্ত ডোজ দেওয়া হয়, তাকে বুস্টার ডোজ বলে (যেমন— হেপাটাইটিস বা টিটেনাসের বুস্টার ডোজ)।

(8) রসনির্ভর ও কোশনির্ভর অনাক্রম্যতা কাকে বলে?

উত্তর: * রসনির্ভর অনাক্রম্যতা: রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে B-লিম্ফোসাইট নিঃসৃত অ্যান্টিবডি দ্বারা যে অনাক্রম্যতা গড়ে ওঠে তাকে রসনির্ভর অনাক্রম্যতা বলে।

  • কোশনির্ভর অনাক্রম্যতা: T-লিম্ফোসাইট বা টি-কোশ সরাসরি জীবাণুকে আক্রমণ করে যে অনাক্রম্যতা গড়ে তোলে তাকে কোশনির্ভর অনাক্রম্যতা বলে।

(9) মানবদেহে কীভাবে ম্যালেরিয়া সংক্রমিত হয়?

উত্তর: স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা যখন কোনো সুস্থ মানুষকে কামড়ায়, তখন মশার লালারস থেকে ম্যালেরিয়ার জীবাণু ‘স্পোরোজোয়েট’ দশাটি মানুষের রক্তে প্রবেশ করে এবং যকৃত ও লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে।

(10) ডায়ারিয়া রোগে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

উত্তর: (i) বারবার পাতলা জলের মতো মলত্যাগ। (ii) পেটে অসহ্য যন্ত্রণা ও মোচড় দেওয়া। (iii) বমি ভাব এবং শরীর থেকে প্রচুর জল ও লবণ বেরিয়ে যাওয়ায় জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন হওয়া।

(11) ম্যালেরিয়া জ্বরের লক্ষণগুলি লেখো।

উত্তর: (i) কাঁপুনি দিয়ে প্রবল জ্বর আসা (১০৩°—১০৫° ফারেনহাইট)। (ii) জ্বর ছেড়ে যাওয়ার সময় প্রচুর ঘাম হওয়া। (iii) প্লীহা ও যকৃতের আকার বৃদ্ধি পাওয়া এবং মাথা ব্যথা হওয়া।

(12) জৈবিক নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বোঝ?

উত্তর: পরিবেশের কোনো প্রকার ক্ষতি না করে কোনো জীবকে (যেমন— শিকারি প্রাণী বা অণুজীব) ব্যবহার করে অন্য কোনো ক্ষতিকারক জীবের (যেমন— পেস্ট বা মশা) বংশবৃদ্ধি রোধ করার পদ্ধতিকে জৈবিক নিয়ন্ত্রণ বলে। উদাহরণ— মশা দমনে গ্যাম্বুশিয়া মাছ চাষ।

(13) উদ্ভিদের পুষ্টিতে মাইকোরাইজার ভূমিকা কী?

উত্তর: মাইকোরাইজা মাটির অদ্রাব্য ফসফরাস ও অন্যান্য খনিজ শোষণ করে উদ্ভিদের সরবরাহ করে। এটি গাছের মূলকে রোগজীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং প্রতিকূল পরিবেশে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।

(14) WASH কী?

উত্তর: WASH হলো Water (বিশুদ্ধ জল), Anitation (পরিচ্ছন্নতা/পয়ঃনিষ্কাশন) এবং Hygiene (স্বাস্থ্যবিধি)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি সংক্রামক ব্যাধি (যেমন— কলেরা, ডায়রিয়া) প্রতিরোধে বিশ্বজুড়ে গৃহীত একটি জনস্বাস্থ্য কৌশল।

(15) অর্জিত অনাক্রম্যতা কতপ্রকার ও কী কী?

উত্তর: অর্জিত অনাক্রম্যতা প্রধানত দুই প্রকার:

১. সক্রিয় অর্জিত অনাক্রম্যতা (প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম)।

২. নিষ্ক্রিয় অর্জিত অনাক্রম্যতা (প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম)।

(16) প্রাথমিক ইমিউন রেসপন্স কী?

উত্তর: দেহে প্রথমবারের মতো কোনো অ্যান্টিজেন প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে যে ধীরগতির এবং স্বল্পস্থায়ী অনাক্রম্যতা সাড়া তৈরি হয়, তাকে প্রাথমিক ইমিউন রেসপন্স বলে। এতে প্রধানত IgM অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।

(17) গৌণ ইমিউন রেসপন্স কী?

উত্তর: একই অ্যান্টিজেন দ্বিতীয়বার বা পরবর্তীকালে দেহে প্রবেশ করলে স্মৃতি কোশের (Memory cells) উপস্থিতির কারণে যে অত্যন্ত দ্রুত ও শক্তিশালী অনাক্রম্যতা সাড়া তৈরি হয়, তাকে গৌণ ইমিউন রেসপন্স বলে। এতে প্রধানত IgG অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।

(18) কীভাবে দেহে প্রথম সারির অনাক্রম্যতা সৃষ্টি হয়?

উত্তর: দেহের ভৌত এবং রাসায়নিক বাধাগুলি প্রথম সারির অনাক্রম্যতা গড়ে তোলে। যেমন— ত্বক জীবাণুকে বাধা দেয়, পাকস্থলীর HCl এবং চোখের জল বা লালারসের লাইসোজাইম জীবাণুকে ধ্বংস করে দেহকে রক্ষা করে।

(19) টিকাকরণের গুরুত্ব লেখো।

উত্তর: টিকাকরণ দেহে কৃত্রিমভাবে অনাক্রম্যতা তৈরি করে নির্দিষ্ট মারণব্যাধি (যেমন— পোলিও, যক্ষ্মা, টিটেনাস) প্রতিরোধ করে। এটি সমাজে রোগ ছড়ানো রুখতে এবং শিশু মৃত্যুর হার কমাতে সাহায্য করে।

(20) মানবদেহে যক্ষ্মা কীভাবে সংক্রমিত হয়?

উত্তর: যক্ষ্মা বা টিবি একটি বায়ুবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা থুতুর ড্রপলেটের মাধ্যমে Mycobacterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়া বাতাসে ছড়ায় এবং সুস্থ মানুষের প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে।

(21) ডেঙ্গি রোগের লক্ষণগুলি লেখো।

উত্তর: (i) হঠাৎ তীব্র জ্বর এবং চোখের পিছনের দিকে ব্যথা। (ii) হাড়ের জোড়ে এবং পেশিতে অসহ্য যন্ত্রণা (এজন্য একে ব্রেক বোন ফিভার বলে)। (iii) ত্বকে র‍্যাশ বা লাল দাগ হওয়া এবং অনুচক্রিকার সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়া।

(22) ধৌতকরণের স্তরগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর: (i) দুই হাত জলে ভিজিয়ে সাবান লাগানো। (ii) হাতের তালু, আঙুলের ফাঁক, নখ এবং কবজি পর্যন্ত ভালো করে ঘষা (কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড)। (iii) পরিষ্কার জলে হাত ধুয়ে শুকনো কাপড় বা টিস্যু দিয়ে মুছে নেওয়া।

(23) পেস্টের জৈবিক নিয়ন্ত্রণে ভাইরাসের ভূমিকা কী?

উত্তর: নির্দিষ্ট কিছু ভাইরাস (যেমন— NPV বা GV) ক্ষতিকারক পতঙ্গ বা পেস্টের লার্ভাকে আক্রমণ করে তাদের মেরে ফেলে। এই ভাইরাসগুলো অত্যন্ত নির্দিষ্ট হওয়ায় ফসল বা অন্যান্য উপকারী প্রাণীর কোনো ক্ষতি করে না।

(24) বায়োফার্টিলাইজার হিসেবে মাইকোরাইজার গুরুত্ব কী?

উত্তর: মাইকোরাইজা মাটির পুষ্টি উপাদান (বিশেষ করে ফসফরাস, জিঙ্ক, তামা) দ্রবীভূত করে উদ্ভিদের গ্রহণে সাহায্য করে। ফলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো সম্ভব হয় এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

(25) জীবসার হিসেবে অ্যাজোলাকে কীভাবে ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: ধান খেতে জল জমিয়ে তাতে অ্যাজোলা নামক জলজ ফার্ন চাষ করা হয়। অ্যাজোলার পাতায় বসবাসকারী অ্যানাবিনা নামক নীলাভ-সবুজ শৈবাল বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। অ্যাজোলা পচে গেলে সেই নাইট্রোজেন মাটিতে মিশে গিয়ে জমির উর্বরতা বাড়ায়।

(26) কৃষিকাজ ও বনসৃজনে মাইকোরাইজার একটি করে ভূমিকা উল্লেখ করো।

উত্তর: * কৃষিকাজ: মাটিতে ফসফরাসের যোগান বাড়িয়ে শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করে।

  • বনসৃজন: পাহাড়ি বা রুক্ষ মাটিতে চারাগাছকে প্রতিকূলতা সহ্য করে বেঁচে থাকতে এবং দ্রুত লম্বা হতে সাহায্য করে।

(27) এমন চারটি আগ্রাসনধর্মী কোশের নাম করো যারা সরাসরি জীবাণুদের ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে ধ্বংস করে।

উত্তর: (i) নিউট্রোফিল, (ii) মনোসাইট, (iii) ম্যাক্রোফাজ এবং (iv) কুফার কোশ।

(28) দ্বিতীয় সারির প্রতিরক্ষা কাকে বলে?

উত্তর: জীবাণু যখন দেহের প্রথম সারির বাধা (যেমন ত্বক) অতিক্রম করে ভেতরে ঢুকে পড়ে, তখন শ্বেত রক্তকণিকা (ফ্যাগোসাইট কোশ), জ্বর বা প্রদাহের মাধ্যমে দেহ যে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তাকে দ্বিতীয় সারির প্রতিরক্ষা বলে।

(29) হিস্টামিন ও ব্রাডিকাইনিন কোথা থেকে ক্ষরিত হয় এবং এগুলি কীভাবে অনাক্রম্যতায় সহায়তা করে?

উত্তর: হিস্টামিন ক্ষরিত হয় বেসোফিল ও মাস্ট কোশ থেকে। ব্রাডিকাইনিন ক্ষরিত হয় ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু বা কলা কোশ থেকে। এগুলি রক্তবাহকে প্রসারিত করে প্রদাহ (Inflammation) সৃষ্টি করে এবং ক্ষতস্থানে শ্বেত রক্তকণিকার আগমন ত্বরান্বিত করে জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

(30) যক্ষ্মা রোগের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার নাম কী? কতদিন এই চিকিৎসা করতে হয়?

উত্তর: যক্ষ্মা রোগের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির নাম DOTS (Directly Observed Treatment Short-course)। এই চিকিৎসা সাধারণত ৬ মাস থেকে ৯ মাস পর্যন্ত নিয়মিত করতে হয়।

(31) অনাক্রমণে সাড়া বা Immune Response সম্পর্কে তোমার ধারণা কী?

উত্তর: শরীরে কোনো বহিরাগত অ্যান্টিজেন প্রবেশ করলে আমাদের অনাক্রম্যতন্ত্রের লিম্ফোসাইট কোশগুলো তাকে চিনে ফেলে এবং তার বিরুদ্ধে যে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা (অ্যান্টিবডি তৈরি বা সরাসরি আক্রমণ) গ্রহণ করে, তাকেই অনাক্রমণে সাড়া বা ইমিউন রেসপন্স বলে।

(32) ডেঙ্গু কীভাবে সংক্রামিত হয়?

উত্তর: ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী আক্রান্ত স্ত্রী এডিস মশা কামড়ালে এই রোগ ছড়ায়। দিনের বেলা এই মশা বেশি কামড়ায়। মানুষ থেকে মানুষে এটি সরাসরি ছড়ায় না, তবে মশা কামড়ানোর মাধ্যমে ছড়াতে পারে।


​৪. দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রশ্নমান—৫)

(১) টিকা কী? টিকার প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করো। (২+৩)

টিকা (Vaccine): যে নিরাপদ জৈব রাসায়নিক মিশ্রণ কোনো নির্দিষ্ট অণুজীবের বিরুদ্ধে দেহে কৃত্রিম সক্রিয় অনাক্রম্যতা (Artificial Active Immunity) তৈরি করে মরণব্যাধি প্রতিরোধ করে, তাকে টিকা বা ভ্যাকসিন বলে। ১৭৯৬ সালে এডওয়ার্ড জেনার প্রথম গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন।

টিকার প্রকারভেদ: অ্যান্টিজেনের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে টিকাকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়:

​১. জীবন্ত শক্তি হ্রাসপ্রাপ্ত টিকা (Live Attenuated Vaccine): এক্ষেত্রে জীবিত জীবাণুর রোগ ঘটানোর ক্ষমতা নষ্ট করে বা কমিয়ে টিকা তৈরি করা হয়।

  • ​উদাহরণ: বিসিজি (BCG), ওপিভি (OPV), হামের টিকা।

​২. মৃত বা নিষ্ক্রিয় টিকা (Inactivated/Killed Vaccine): তাপ বা রাসায়নিকের সাহায্যে জীবাণুকে মেরে ফেলে এই টিকা তৈরি হয়।

  • ​উদাহরণ: টাইফয়েড টিকা, জলাতঙ্ক বা র‍্যাবিস টিকা, সল্ক পোলিয়ো টিকা।

​৩. টক্সয়েড (Toxoid): ব্যাকটেরিয়ার ক্ষতিকর বিষ বা টক্সিনকে অবিষাক্ত করে এই টিকা প্রস্তুত করা হয়।

  • ​উদাহরণ: টিটেনাস টক্সয়েড (TT), ডিপথেরিয়া টক্সয়েড।

​৪. রিকম্বিনেন্ট DNA বা উপ-একক টিকা (Recombinant/Sub-unit Vaccine): জীবাণুর পুরো দেহের বদলে তার দেহের কোনো নির্দিষ্ট প্রোটিন অংশ (যেমন সারফেস অ্যান্টিজেন) ব্যবহার করে এই টিকা তৈরি হয়।

  • ​উদাহরণ: হেপাটাইটিস-বি (Hep-B) টিকা।

(২) ম্যালেরিয়া রোগের কারণ ও লক্ষণ উল্লেখ করো। (২+৩)

ম্যালেরিয়া রোগের কারণ:

  • জীবাণুর নাম: ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী প্রধান জীবাণুর নাম হলো এক প্রকার আদ্যপ্রাণী বা প্রোটোজোয়া— প্লাসমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স (Plasmodium vivax)। এছাড়া P. falciparum নামক প্রজাতি থেকেও ম্যালেরিয়া হয়।
  • বাহক: এই জীবাণু প্রধানত স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা-র কামড়ের মাধ্যমে মানুষের রক্তে ছড়ায়।

ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণ:

১. পর্যায়ক্রমিক জ্বর: এই রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নির্দিষ্ট সময় অন্তর (সাধারণত ৪৮ বা ৭২ ঘণ্টা) কাঁপুনি দিয়ে প্রচণ্ড জ্বর আসা। জ্বরের তাপমাত্রা ১০৩°—১০৫° ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।

২. ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া: কয়েক ঘণ্টা তীব্র জ্বরের পর রোগী প্রচুর ঘামতে শুরু করে এবং শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এতে রোগী অত্যন্ত দুর্বল বোধ করে।

৩. রক্তাল্পতা (Anaemia): জীবাণু রক্তে লোহিত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে ফেলে, ফলে রোগীর শরীরে রক্তাল্পতা দেখা দেয়।

৪. প্লীহা ও যকৃতের বৃদ্ধি: সংক্রমণের প্রভাবে রোগীর প্লীহা (Spleen) ও যকৃৎ (Liver) অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায়।

৫. মাথা ও পেশি ব্যথা: জ্বরের সময় প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, বমি ভাব এবং হাত-পায়ের পেশিতে অসহ্য যন্ত্রণা অনুভূত হয়।

(৩) অণুজীব সার কী? বিভিন্ন প্রকার অণুজীব সার সম্পর্কে আলোচনা করো। (২+৩)

অণুজীব সার (Bio-fertilizer): যে সমস্ত অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক) সরাসরি মাটিতে বা উদ্ভিদের সঙ্গে মিথোজীবী রূপে বাস করে মাটির পুষ্টি উপাদান (যেমন— নাইট্রোজেন, ফসফরাস) বৃদ্ধি করে এবং ফলন বাড়াতে সাহায্য করে, তাদের অণুজীব সার বা জৈব সার বলে।

বিভিন্ন প্রকার অণুজীব সার:

​১. নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী সার:

  • মিথোজীবী: রাইজোবিয়াম (Rhizobium) ব্যাকটেরিয়া শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে অর্বুদ তৈরি করে বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
  • স্বাধীনজীবী: অ্যাজোটোব্যাকটর বা ক্লস্ট্রিডিয়াম মাটিতে মুক্ত অবস্থায় বাস করে নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ ঘটায়।
  • সায়ানোব্যাকটেরিয়া: অ্যানাবিনা বা নস্টক ধান খেতে নাইট্রোজেনের যোগান দেয়।

​২. ফসফেট দ্রবীভূতকারী সার: মাটিতে থাকা অদ্রাব্য ফসফেটকে ব্যাসিলাস (Bacillus polymyxa) বা সিউডোমোনাসের মতো কিছু ব্যাকটেরিয়া দ্রবীভূত করে উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

​৩. মাইকোরাইজা (Mycorrhiza): এটি উদ্ভিদের মূল এবং ছত্রাকের এক প্রকার সহাবস্থান। এই ছত্রাক মাটি থেকে ফসফরাস ও খনিজ লবণ শোষণ করে উদ্ভিদের সরবরাহ করে। যেমন— গ্লোমাস (Glomus)।

(৪) রোগ নিরাময়ে ধৌতকরণের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করো। (৫)

​ধৌতকরণ বা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের প্রথম ও প্রধান ধাপ। রোগ নিরাময়ে এর ভূমিকাগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:

​১. সংক্রমণ রোধ: আমাদের হাত হলো রোগজীবাণু ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম। খাবার আগে বা শৌচাগার ব্যবহারের পর ভালো করে হাত ধুলে টাইফয়েড, কলেরা, ডায়রিয়া এবং আমাশয়ের মতো জলবাহিত ও খাদ্যবাহিত রোগ ছড়ানো বন্ধ হয়।

২. শ্বসনতন্ত্রের সুরক্ষা: সাবান দিয়ে হাত ধুলে ইনফ্লুয়েঞ্জা, সাধারণ সর্দি-কাশি এবং সাম্প্রতিক কালের করোনা (COVID-19) ভাইরাসের মতো বায়ুবাহিত জীবাণুর সংক্রমণ হাত থেকে নাকে বা মুখে পৌঁছাতে পারে না।

৩. ত্বকের সুরক্ষা: নিয়মিত স্নান এবং শরীর পরিষ্কার রাখলে চর্মরোগ (যেমন— দাদ, চুলকানি) ও ছত্রাকঘটিত সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৪. চোখের সুরক্ষা: অপরিষ্কার হাতে চোখ স্পর্শ করলে কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠার মতো রোগ ছড়ায়। নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস এই ঝুঁকি কমায়।

৫. অস্ত্রোপচারের সুরক্ষা: চিকিৎসাক্ষেত্রে ডাক্তার ও নার্সদের হাত ধৌতকরণ বা স্টেরিলাইজেশন রোগীর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ বা সেপটিক হওয়া রোধ করে।

উপসংহার: সঠিক ধৌতকরণ পদ্ধতি (কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে ঘষা) জীবাণুর ওপরের লিপিড আবরণ ভেঙে দেয়, ফলে জীবাণু মারা যায়। তাই সুস্থ সমাজের জন্য ধৌতকরণ একটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী অস্ত্র।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ