4 Falakata High School (HS)
Falakata High School HS রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা উত্তর
নবম শ্রেণীর বাংলা দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের অন্তর্গত ফালাকাটা হাই স্কুল (HS)-এর প্রশ্নপত্রের সমাধান নিচে দেওয়া হলো:
১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো :Falakata High School HS রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা উত্তর
১.১ ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধ অনুসারে বিদেশি শব্দগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনটি ঠিক?
(ক) বিদেশি শব্দ বর্জনীয়, (খ) বিদেশি শব্দগ্রহণ প্রয়োজনীয়, (গ) বিদেশি শব্দগ্রহণ ভালো না মন্দ প্রশ্নটিই অবান্তর, (ঘ) শুধুমাত্র ইংরেজি শব্দ গ্রহণীয়।
উত্তর: (গ) বিদেশি শব্দগ্রহণ ভালো না মন্দ প্রশ্নটিই অবান্তর।
১.২ ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় ‘কামরাঙা-লাল মেঘ' কার সঙ্গে তুলনীয়?
(ক) মৃত মনিয়ার সঙ্গে, (খ) গঙ্গাসাগরের ঢেউ-এর সঙ্গে, (গ) অস্তগামী সূর্যের সঙ্গে, (ঘ) কেশবতী কন্যার সঙ্গে।
উত্তর: (ক) মৃত মনিয়ার সঙ্গে।
১.৩ স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবলকে ভারতে এসে কোন্ কাজে আত্মনিয়োগ করতে বলেছেন?
(ক) নারীসমাজের উন্নতি, (খ) বেদান্ত প্রচার, (গ) মঠ স্থাপন, (ঘ) ইংরেজি শিক্ষাদান।
উত্তর: (ক) নারীসমাজের উন্নতি।
১.৪ ‘আবহমান' কবিতায় ‘লাউমাচা' কীসের প্রতীক?
(ক) গ্রাম্য সরলতা, (খ) কবির শৈশব, (গ) হারানো আশ্রয়, (ঘ) গ্রামবাংলার চিরকালীন আশ্রয় ও শিকড়ের প্রতীক।
উত্তর: (ঘ) গ্রামবাংলার চিরকালীন আশ্রয় ও শিকড়ের প্রতীক।
১.৫ রাধারাণীর সম্পত্তি বিষয়ক মামলায় ডিক্রিদার কে ছিল?
(ক) তার জ্ঞাতি, (খ) পদ্মলোচন সাহা, (গ) রুক্মিণীকুমার রায়, (ঘ) ইংরেজ সরকার।
উত্তর: (ক) তার জ্ঞাতি।
১.৬ ‘শয়ন’ কী ধরনের বিশেষ্য পদ?
(ক) সংজ্ঞাবাচক, (খ) গুণবাচক, (গ) ক্রিয়াবাচক, (ঘ) সমষ্টিবাচক।
উত্তর: (গ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য।
১.৭ অশোক স্বয়ং এই মহৎ কাজের দৃষ্টান্ত রেখেছেন। রেখাঙ্কিত পদটি (স্বয়ং) কোন্ সর্বনামের উদাহরণ?
(ক) ব্যক্তিবাচক, (খ) নির্দেশক, (গ) সাকল্যবাচক, (ঘ) আত্মবাচক।
উত্তর: (ঘ) আত্মবাচক।
১.৮ অতি দ্রুত চলো। - নিম্নরেখ পদটি (দ্রুত) কী জাতীয় বিশেষণ?
(ক) ক্রিয়াবিশেষণ, (খ) সর্বনামের বিশেষণ, (গ) ধ্বন্যাত্মক বিশেষণ, (ঘ) সংজ্ঞাবাচক বিশেষণ।
উত্তর: (ক) ক্রিয়াবিশেষণ।
১.৯ ‘ঘুড়ি’ শব্দটি কোন্ শ্রেণির শব্দ?
(ক) তৎসম, (খ) তদ্ভব, (গ) দেশি, (ঘ) বিদেশি।
উত্তর: (গ) দেশি।
২। কমবেশি ২০টি শব্দে উত্তর দাও : Falakata High School HS রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা উত্তর
২.১ ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে কোন্ দুটি ভাষার শব্দ বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি প্রবেশ করেছে?
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নবনব সৃষ্টি’ প্রবন্ধ অনুসারে বাংলা ভাষায় আরবি ও ফারসি—এই দুটি ভাষার শব্দ সবচেয়ে বেশি প্রবেশ করেছে।
২.২ ‘আকাশে সাতটি তারা' কবিতায় কবি কোন্ কোন্ গাছের নাম উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ তাঁর ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় হিজল, কাঁঠাল এবং জাম গাছের নাম উল্লেখ করেছেন।
২.৩ ‘তাঁর সঙ্গে বনিয়ে চলা অসম্ভব।’ - কার সম্পর্কে, কে এই উক্তি করেছেন?
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর ‘চিঠি’ প্রবন্ধে মিস্টার স্টার্ডি সম্পর্কে মিস নোবলকে (ভগিনী নিবেদিতা) এই উক্তিটি করেছেন।
২.৪ ‘আবহমান’ কবিতায় ‘নেভে না তার যন্ত্রণা’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: জীবিকার প্রয়োজনে গ্রামছাড়া মানুষের মনে নিজের আদিম ভিটেমাটির জন্য যে অন্তহীন বিচ্ছেদ বেদনা ও আর্তি কাজ করে, কবি তাকেই না নেভা যন্ত্রণা বলেছেন।
২.৫ একটি সংখ্যাবাচক ও একটি পূরণবাচক বিশেষণের উদাহরণ দাও।
উত্তর: * সংখ্যাবাচক বিশেষণ: দশ টাকা (এখানে ‘দশ’)।
- পূরণবাচক বিশেষণ: দশম শ্রেণী (এখানে ‘দশম’)।
২.৬ নবগঠিত শব্দ কতপ্রকার ও কী কী?
উত্তর: নবগঠিত শব্দ মূলত দুই প্রকার:
১. অমিশ্র শব্দ: (যেমন— অনাচার)
২. মিশ্র বা জোড়কলম শব্দ: (যেমন— মাস্টার-মশাই বা ফি-বছর)
২.৭ শব্দ ও পদের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: * ১. বিভক্তিহীন বর্ণসমষ্টি হলো শব্দ, আর বিভক্তিযুক্ত শব্দ হলো পদ।
- ২. শব্দ অভিধানে থাকে, কিন্তু পদ বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
২.৮ অনির্দেশক সর্বনামের একটি উদাহরণ দিয়ে বাক্যরচনা করো।
উত্তর: অনির্দেশক সর্বনামের উদাহরণ হলো— কেউ।
- বাক্যরচনা: বাইরে কেউ একজন ডাকছে।
৩। অনধিক ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও : Falakata High School HS রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা উত্তর
৩.১ “বাঙালির চরিত্রে বিদ্রোহ বিদ্যমান।” -- প্রাবন্ধিক কীভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন? ৩
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর ‘নবনব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে দেখিয়েছেন যে, বাঙালি জাতি রাজনীতি, ধর্ম বা সাহিত্য—যেকোনো ক্ষেত্রেই যখনই সত্য, শিব ও সুন্দরের সন্ধান পেয়েছে, তখনই সে পুরনো ঐতিহ্য বা অনুশাসন ত্যাগ করে নতুনকে গ্রহণ করেছে। প্রথাগত গণ্ডি ভেঙে নতুনের এই অন্বেষণ ও গতানুগতিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মনোভাব দেখেই প্রাবন্ধিক বাঙালির চরিত্রে বিদ্রোহ বিদ্যমান বলে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।
৩.২ “...আমি পাই টের।” 'আমি' কে? তিনি কী টের পান? ১+২
উত্তর: উদ্ধৃত অংশে ‘আমি’ হলেন রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ।
কবি টের পান যে, কামরাঙা লাল মেঘ গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে যাওয়ার পর রূপসী বাংলার স্নিগ্ধ নীল সন্ধ্যা এক কেশবতী কন্যার মতো নেমে আসছে। সেই সন্ধ্যার মায়াবী অন্ধকার আর স্নিগ্ধ রূপ যখন তাঁর চোখে-মুখে স্পর্শের অনুভূতি নিয়ে আসে, কবি তা নিবিড়ভাবে অনুভব করতে পারেন।
৪। অনধিক ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৪.১ ‘রাধারাণী' রচনা অবলম্বনে রাধারাণীর চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। ৫
উত্তর: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র রাধারাণী প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করা এক কিশোরী। তার চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- মাতৃভক্তি: রাধারাণীর বয়স মাত্র দশ-এগারো হলেও অসুস্থ মায়ের পথ্যের সংস্থান করতে সে রথের মেলায় মালা বিক্রি করতে যায়। শৈশবের আমোদ-প্রমোদের চেয়ে মায়ের সেবাই তার কাছে অগ্রাধিকার পেয়েছে।
- সততা ও নীতিবোধ: চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও রাধারাণী অচেনা পথিকের দান গ্রহণ করতে চায়নি। সে পরিশ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্য অর্থটুকুই নিতে চেয়েছিল। এমনকি পথিকের দেওয়া নোটটি সে খরচ না করে সযত্নে রেখে দিয়ে তার সততার পরিচয় দিয়েছে।
- ধৈর্য ও সাহস: অন্ধকার ও বৃষ্টিভেজা মেলায় একা দাঁড়িয়ে মালা বিক্রি না হওয়ার দুঃখে কাঁদলেও সে সাহস হারায়নি। অভাবের কাছে সে মাথানত না করে চারিত্রিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে।
৪.২ “ফুরয় না সেই একগুঁয়েটার দুরন্ত পিপাসা।” -- এখানে 'একগুঁয়েটার দুরন্ত পিপাসা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? পিপাসা ফুরয় না বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? ১+৪
উত্তর: নিরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতায় ‘একগুঁয়ে’ বলতে সেই মানুষকে বোঝানো হয়েছে, যে গ্রাম ছেড়ে শহরে গেলেও বার বার সেই ফেলে আসা ভিটেমাটির টানে ফিরে আসে। তার এই নাছোড়বান্দা ফিরে আসার ইচ্ছাকেই ‘দুরন্ত পিপাসা’ বলা হয়েছে।
‘পিপাসা ফুরয় না’ বলতে কবি মানুষের শিকড়ের প্রতি চিরন্তন টানকে বুঝিয়েছেন। মানুষ যান্ত্রিক সভ্যতায় যতই অভ্যস্ত হোক না কেন, তার মনের গভীরে প্রকৃতির শান্তি আর হারানো শৈশবের জন্য এক তৃষ্ণা থেকে যায়। সময় অতিবাহিত হয়, জীবন বদলায়, কিন্তু জন্মভূমির চেনা উঠান, লাউমাচা আর ভিজে ঘাসের গন্ধের প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা কোনোদিন শেষ হয় না। এই তৃষ্ণা বা আকর্ষণ বংশপরম্পরায় বেঁচে থাকে এবং মানুষকে বারবার তার শিকড়ে ফিরিয়ে আনে।
৪.৩ 'তুমি ঠিক সেইরূপ নারী, যাকে আজ প্রয়োজন।' -- কোন্ নারীর কথা এখানে বলা হয়েছে? তাঁকে আজ প্রয়োজন কেন? ১+৪
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ প্রবন্ধ অনুসারে এখানে তাঁর শিষ্যা মিস মার্গারেট নোবল (ভগিনী নিবেদিতা)-র কথা বলা হয়েছে।
তাঁকে আজ প্রয়োজন হওয়ার কারণগুলি হলো:
- ভারতীয় নারীকল্যাণ: স্বামীজি বুঝেছিলেন ভারতের অশিক্ষা ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত নারীজাতির কল্যাণে একজন প্রকৃত শিক্ষিতা ও সাহসী নারীর প্রয়োজন। নিবেদিতার মধ্যে সেই গুণাবলি পূর্ণমাত্রায় ছিল।
- চরিত্রের দৃঢ়তা: বিবেকানন্দের মতে, নিবেদিতার ধমনিতে প্রবাহিত কেল্টিক রক্ত এবং তাঁর মধ্যে থাকা ‘সিংহী’র মতো তেজ ভারতের কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।
- সেবাব্রত: কেবল শিক্ষা নয়, ভারতের মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং চরম প্রতিকূলতায় (দারিদ্র্য ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ) টিকে থাকার মতো মানসিক শক্তি নিবেদিতার ছিল বলেই স্বামীজি তাঁকে উপযুক্ত বলে মনে করেছিলেন।
৫। নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের নিজের ভাষায় উত্তর দাও :
৫.১ ভাবার্থ লেখো : ৫
মূল অংশ: "তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব... হাসিছেন তিনি অমৃত-হিয়ার নিভৃত অন্তরালে!"
ভাবার্থ: ঈশ্বর বা পরম সত্যকে পাওয়ার জন্য বাইরের মন্দির-মসজিদ কিংবা মৃত পুঁথি-কঙ্কালের মধ্যে অনুসন্ধান করা বৃথা। মানুষের অন্তরের মধ্যেই সকল জ্ঞান, সকল ধর্ম আর পবিত্র তীর্থস্থান বিদ্যমান। নিজের আত্মাকে চিনতে পারলেই পরমেশ্বরকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। বাইরের উপাসনা লোক দেখানো মাত্র, কারণ ঈশ্বর আসলে প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ের নিভৃত কোণেই অবস্থান করেন।
৫.২ সারাংশ লেখো : ৫
সারাংশ:
শিরোনাম: প্রকৃত মনুষ্যত্বের সার্থকতা
বিবেক ও বুদ্ধির অধিকারী হওয়ার কারণেই মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। পশুবল বা অর্থবল মানুষকে মহৎ করে না; বরং জ্ঞান ও মনুষ্যত্বের বিকাশের মাধ্যমেই মানুষ অমর কীর্তি স্থাপন করতে পারে। যে ব্যক্তির জ্ঞান ও চরিত্রের প্রকৃত উন্নতি ঘটে, তিনিই জগতের মঙ্গল সাধন করেন। তাই জাতীয় জীবনের উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন নৈতিক ও চারিত্রিক গুণসম্পন্ন প্রকৃত মানুষ।
৬। অনধিক ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৬.১ ‘কর্ভাস' গল্পে কর্ভাস কীভাবে তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে জাদুকর আর্গাসকে জব্দ করেছিল, তা নিজের ভাষায় লেখো। ৫
উত্তর: ‘কর্ভাস’ গল্পে প্রোফেসর শঙ্কুর অবিশ্বাস্য বুদ্ধিমান কাক ‘কর্ভাস’ কেবল যান্ত্রিক বা গাণিতিক মেধার অধিকারীই ছিল না, তার উপস্থিত বুদ্ধিও ছিল প্রখর। জাদুকর আর্গাস কর্ভাসকে অপহরণ করে গাড়িতে করে পালানোর সময় কর্ভাস অত্যন্ত কৌশলে তাকে জব্দ করে।
আর্গাস যখন কর্ভাসকে নিয়ে দ্রুতবেগে গাড়ি চালিয়ে পালাচ্ছিলেন, তখন কর্ভাস আক্রমণাত্মক না হয়ে অত্যন্ত শান্তভাবে সুযোগের অপেক্ষা করছিল। একসময় সে ছোঁ মেরে আর্গাসের চোখ থেকে চশমাটি কেড়ে নিয়ে গাড়ির বাইরে ফেলে দেয়। আর্গাস অত্যন্ত বেশি মাত্রার চশমা (মাইনাস ২০ পাওয়ার) ব্যবহার করতেন, যা ছাড়া তিনি কার্যত অন্ধ ছিলেন। চশমা হারিয়ে আর্গাস দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে ধাক্কা খায়। কর্ভাস এই সুযোগে গাড়ির খোলা জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসে। এরপর সে বুদ্ধি খাটিয়ে আর্গাসের ব্রিফকেস থেকে শঙ্কুর দেওয়া চাবি ব্যবহার করে নিজের খাঁচা খুলে মুক্ত হয় এবং আর্গাসের চশমাটি উদ্ধার করে শঙ্কুর কাছে ফিরে আসে। এভাবেই কর্ভাস তার বুদ্ধিমত্তার দ্বারা শক্তিশালী জাদুকর আর্গাসকে সম্পূর্ণ কুপোকাত করে দেয়।
৬.২ ‘কর্ভাস' গল্প অবলম্বনে চিলিয়ান জাদুকর আর্গাসের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। ৫
উত্তর: সত্যজিৎ রায়ের ‘কর্ভাস’ গল্পে চিলিয়ান জাদুকর আর্গাস হলেন এক খলনায়ক চরিত্র। তাঁর চরিত্রের প্রধান দিকগুলি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
- অস্বাভাবিক চেহারা ও দম্ভ: আর্গাস ছিলেন দীর্ঘদেহী এবং তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদে এক রহস্যময় ও ভয়ানক ভাব ছিল। তিনি নিজেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাদুকর মনে করতেন এবং তাঁর কথাবার্তায় এক ধরনের ঔদ্ধত্য প্রকাশ পেত।
- চরম লোভ: আর্গাস একজন পেশাদার জাদুকর হিসেবে সবসময় নতুন ও রোমাঞ্চকর উপাদানের সন্ধানে থাকতেন। প্রোফেসর শঙ্কুর কর্ভাসকে দেখার পর তাঁর লোভ জাগ্রত হয়। তিনি টাকার বিনিময়ে পাখিটিকে কিনতে চেয়েছিলেন এবং ব্যর্থ হয়ে তা চুরির পরিকল্পনা করেন।
- নীতিহীনতা: আর্গাসের চরিত্রে নৈতিকতার অভাব স্পষ্ট। এক বিজ্ঞানীর আবিষ্কারকে জোরপূর্বক বা গোপনে হস্তগত করার চেষ্টা তাঁর নিচ মানসিকতার পরিচয় দেয়। অতিথিপরায়ণতার বদলে তিনি অপহরণ ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন।
- অসহায়তা: খলনায়ক হলেও আর্গাস একটি বিষয়ে অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন—তাঁর দৃষ্টিশক্তি। চশমা ছাড়া তিনি এতটাই অসহায় হয়ে পড়তেন যে, শেষ পর্যন্ত একটি পাখির বুদ্ধির কাছে তাঁকে পরাজিত হতে হয়।
পরিশেষে বলা যায়, আর্গাস চরিত্রটি মেধা ও শক্তির অধিকারী হলেও তাঁর নৈতিক অবক্ষয় এবং লোভই তাঁর পরাজয়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.