Chakdaha Basanta Kumari Balika Vidyapith HS রায় ও মার্টিন দ্বিতীয় মূল্যায়নের উত্তর নবম শ্রেণি বাংলা
রায় ও মার্টিন নবম শ্রেণীর বাংলা দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের অন্তর্গত চাকদহ বসন্ত কুমারী বালিকা বিদ্যাপীঠ (HS)-এর প্রশ্নপত্রের নির্ভুল সমাধান নিচে দেওয়া হলো:
১। ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো :Chakdaha Basanta Kumari Balika Vidyapith HS
১.১ “সারাটা দিন আপন মনে ______ মাখে,” - শূন্যস্থানে বসবে -
উত্তর: (ঘ) রৌদ্রের গন্ধ। (সূত্র: নিরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর 'আবহমান' কবিতা)
১.২ ‘মাহেশ’ অঞ্চলটির প্রসিদ্ধির কারণ -
উত্তর: (গ) অন্যতম প্রাচীন রথযাত্রা ও মেলা।
১.৩ ‘কামরাঙা’ হল –
উত্তর: (খ) একধরনের ফল। (কবিতায় মেঘের রঙের উপমায় এটি ব্যবহৃত হয়েছে)
১.৪ পক্ষীবিজ্ঞানী সম্মেলনে শঙ্কর পেপারের বিষয় ছিল -
উত্তর: (ঘ) পাখির মস্তিষ্ক। (প্রোফেসর শঙ্কু 'এভিয়ান ইনটেলিজেন্স' বা পাখির বুদ্ধি নিয়ে পেপার পড়েছিলেন)
১.৫ “কিন্তু চিঠিটি বড়ো শুষ্ক এবং প্রাণহীন।” - যাঁর চিঠি শুষ্ক এবং প্রাণহীন, তিনি হলেন -
উত্তর: (খ) মি. স্টার্ডি।
১.৬ ‘কর্ভাস হলো কাক জাতীয় পাখির ______ নাম।' — শূন্যস্থানে বসবে -
উত্তর: (গ) ল্যাটিন।
১.৭ ‘আলস্য’ শব্দটি কী ধরনের বিশেষ্য?
উত্তর: (খ) গুণবাচক বিশেষ্য। (এটি মানুষের একটি বিশেষ গুণ বা ধর্মকে প্রকাশ করে)
২। সম্পূর্ণ বাক্যে উত্তর দাও :
২.১ “যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া,” বাক্যটির কবিতায় কতবার উল্লেখ আছে?
উত্তর: নিরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতায় আলোচ্য বাক্যটির মোট দু-বার উল্লেখ আছে।
২.২ কিশোরীর চালধোয়া হাত কেমন ছিল?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কিশোরীর চালধোয়া হাত ছিল শীতল ও ভিজে।
২.৩ স্বামী বিবেকানন্দ ‘চিঠি’-র শুরুতে যে সম্বোধন করেছেন তা উল্লেখ করো।
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর ‘চিঠি’ প্রবন্ধের শুরুতে মিস নোবলকে (ভগিনী নিবেদিতা) ‘কল্যাণীয়া’ বলে সম্বোধন করেছেন।
২.৪ আগন্তুককে রাধারাণী নিজের বয়স কত জানিয়েছিল?
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে রাধারাণী আগন্তুক পথিককে নিজের বয়স ‘দশ এগারো বছর’ বলে জানিয়েছিল।
২.৫ পদ কাকে বলে?
উত্তর: বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতুকে পদ বলে। বাক্য গঠনের প্রাথমিক উপাদানই হলো পদ।
২.৬ বিশেষ্যের বিশেষণ পদের একটি বাক্যে উদাহরণ দাও।
উত্তর: নীল আকাশ দেখতে খুব সুন্দর। (এখানে ‘নীল’ শব্দটি ‘আকাশ’ নামক বিশেষ্যের বিশেষণ)।
২.৭ “বিমল মিষ্টিগুলো টপাটপ খেয়ে ফেলছে।” - ক্রিয়াবিশেষণের উল্লেখ করো।
উত্তর: এই বাক্যে ক্রিয়াবিশেষণটি হলো — ‘টপাটপ’। (এটি খাওয়ার ধরণকে বিশেষিত করছে)।
২.৮ নিজেরা-নিজেরা ঝগড়া বাধিও না। - নিম্নরেখ পদটি কী ধরনের সর্বনাম?
উত্তর: ‘নিজেরা-নিজেরা’ পদটি হলো একটি ব্যতিহারিক সর্বনাম (অথবা আত্মবাচক সর্বনামের দ্বিত্ব রূপ)। এটি দুই বা ততোধিক পক্ষের পারস্পরিক কাজকে বোঝায়।
৩। নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :Chakdaha Basanta Kumari Balika Vidyapith HS
৩.১ “আমার চোখের 'পরে আমার মুখের 'পরে চুল তার ভাসে" --- উদ্ধৃতাংশে কার চুলের কথা বলা হয়েছে? কবিতায় তাকে কী কী বিশেষণে বিশেষিত করেছেন কবি? ‘আমার’ শব্দটি দু-বার ব্যবহারের কারণ কী? ১+২+২
উত্তর:
- পরিচয়: জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশটিতে বাংলার নীল সন্ধ্যারূপী এক ‘কেশবতী কন্যা’-র চুলের কথা বলা হয়েছে।
- বিশেষণ: কবিতায় সেই নারীকে কবি ‘কেশবতী কন্যা’ এবং তার চুলের বিন্যাস বা রূপকে ‘রূপসী’ ও ‘স্নিগ্ধ’ বিশেষণে বিশেষিত করেছেন।
- শব্দ ব্যবহারের কারণ: ‘আমার’ শব্দটি দু-বার ব্যবহারের মাধ্যমে কবি প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত ও নিবিড় সংযোগকে ফুটিয়ে তুলেছেন। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বাংলার সান্ধ্য প্রকৃতি কেবল দেখার বিষয় নয়, তা তিনি তাঁর ইন্দ্রিয় দিয়ে (চোখ ও মুখ) নিবিড়ভাবে অনুভব করছেন। প্রকৃতির সেই মায়াবী অন্ধকার যেন তাঁর অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে গেছে।
৩.২ ‘আবহমান’ কথাটির অর্থ লেখো। ‘আবহমান' কবিতায় পল্লিগ্রামের যে ছবি ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো। ১+৪
উত্তর:
- অর্থ: ‘আবহমান’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ হলো— যা দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে বা যা চিরন্তন ও অবিরাম।
- পল্লিগ্রামের ছবি: কবি নিরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ‘আবহমান’ কবিতায় বাংলার গ্রাম্য জীবনের এক শাশ্বত ও স্নিগ্ধ ছবি এঁকেছেন। কবির বর্ণনায় পল্লিগ্রামের যে চিত্রগুলি ফুটে ওঠে তা হলো:
- অমলিন প্রকৃতি: গ্রামের ছোট উঠান, লাউমাচা আর সেখানে কুন্দফুলের মতো হাসির মতো সাদা ফুল—এই চিরচেনা দৃশ্যপট যুগ যুগ ধরে অপরিবর্তিত।
- সহজ সরল জীবন: ঘাসের গন্ধ মাখা রৌদ্র, বিকেলের মায়াবী বাতাস আর বাগান থেকে ঝরে পড়া কচি পাতার শব্দ পল্লিগ্রামের শান্ত ও নিস্তরঙ্গ জীবনের ইঙ্গিত দেয়।
- শিকড়ের টান: মানুষ জীবিকার সন্ধানে গ্রাম ছাড়লেও তার অন্তরের টান ফুরিয়ে যায় না। নদীর হাওয়া বা চেনা মাটির গন্ধ তাকে বারবার ফিরে আসার আহ্বান জানায়।
- অবিনশ্বর রূপ: সন্ধ্যা নামলে শান্ত নদীর তীরে অন্ধকার নামে, আবার রাত শেষ হলে সূর্যের উদয় ঘটে। জোনাকিরা আজও ভিজে ঘাসের ওপর খেলা করে। সময়ের নিয়মে অনেক কিছু পাল্টালেও গ্রামবাংলার এই নিসর্গ ও মানুষের হার না মানা জীবনযাত্রা আজও ‘আবহমান’ কাল ধরে একইভাবে প্রবহমান।
৪। নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :
৪.১ “কারও কারও সঙ্গে দূর থেকে বন্ধুত্ব করাই ভালো;” — কার সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন? তাঁর এমন মন্তব্যের কারণ বর্ণনা করো? ১+২
উত্তর: * পরিচয়: স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর ‘চিঠি’ প্রবন্ধে জনৈক ইংরেজ বন্ধু মি. স্টার্ডি সম্পর্কে এই মন্তব্যটি করেছেন।
- মন্তব্যের কারণ: স্টার্ডি সাহেব একসময় বিবেকানন্দের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন এবং লন্ডনে তাঁর বেদান্ত প্রচারের কাজে সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিবেকানন্দ লক্ষ্য করেন যে স্টার্ডির চিঠিগুলি হয়ে উঠেছে ‘শুষ্ক এবং প্রাণহীন’। স্টার্ডি চেয়েছিলেন বিবেকানন্দকে তাঁর নিজের ছাঁচে গড়ে নিতে, যা সম্ভব ছিল না। স্টার্ডির এই সংকীর্ণতা এবং আধিপত্য বিস্তারকারী স্বভাব দেখেই বিবেকানন্দ মনে করেছিলেন যে, তাঁর মতো মানুষের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ না হয়ে দূর থেকে বন্ধুত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়।
৪.২ ‘রাধারাণী’ গল্প অনুসারে রাধারাণী চরিত্রের পরিচয় দাও। ৩
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রটি ধৈর্য, সততা ও মাতৃভক্তির এক অনন্য উদাহরণ।
- মাতৃভক্তি: মাত্র দশ-এগারো বছর বয়সে অসুস্থ মায়ের পথ্যের জোগাড় করতে সে রথের মেলায় মালা বিক্রি করতে গিয়েছিল।
- ধৈর্য ও সাহস: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অন্ধকারে একলা মেলায় দাঁড়িয়ে থেকেও সে ভেঙে পড়েনি।
- সততা ও আত্মমর্যাদা: চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও সে অচেনা পথিকের দান গ্রহণ করতে চায়নি। সে পরিশ্রমের মূল্যটুকুই কেবল নিতে চেয়েছিল। এমনকি পথিকের ফেলে যাওয়া অতিরিক্ত টাকাটিও সে খরচ না করে সযত্নে তুলে রেখেছিল। তার এই চারিত্রিক দৃঢ়তা তাকে সাধারণ বালিকা থেকে মহীয়সী করে তুলেছে।
৪.৩ “এ সাহিত্যের প্রাণ এবং দেহ উভয়ই খাঁটি বাঙালি।” – উদ্ধৃতাংশটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে? লেখক এখানে কোন্ সাহিত্যের কথা বোঝাতে চেয়েছেন? সে সাহিত্যের যে রূপ লেখক তুলে ধরেছেন, তা নিজের ভাষায় লেখো। ১+১+১
উত্তর: * উৎস: উদ্ধৃতাংশটি সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নবনব সৃষ্টি’ প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সাহিত্যের নাম: লেখক এখানে বাঙালির নিজস্ব পদাবলি সাহিত্যের কথা বোঝাতে চেয়েছেন।
- সাহিত্যের রূপ: পদাবলি সাহিত্যের রসাস্বাদন করতে হলে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জ্ঞান প্রয়োজন। লেখক মনে করেন, যদিও এই সাহিত্য সংস্কৃতি বা অন্যান্য ভাষার দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, তবুও এর আবেদন ও প্রকাশভঙ্গি একান্তই বাঙালির হৃদয়ের ধন। এর বিষয়বস্তু এবং উপস্থাপনা দুই-ই বাঙালির নিজস্ব মানসিকতাকে প্রতিফলিত করে।
৫। নীচের প্রশ্নের উত্তর দাও :Chakdaha Basanta Kumari Balika Vidyapith HS
৫.১ “একটি চিলিয়ান জাদুকর আজ তামাশা দেখাবেন....।” - বক্তা কে? চিলিয়ান জাদুকরের নাম কী? জাদুকর ব্যক্তির চেহারা ও পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কে যা জানো লেখো। ১+১+১
উত্তর: * বক্তা: সত্যজিৎ রায়ের ‘কর্ভাস’ কাহিনীতে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন প্রোফেসর শঙ্কু।
- জাদুকরের নাম: চিলিয়ান জাদুকরের নাম হলো আর্গাস।
- চেহারা ও পোশাক: জাদুকর আর্গাস ছিলেন অত্যন্ত দীর্ঘদেহী এবং তাঁর চেহারা ছিল বেশ অস্বাভাবিক। তাঁর পরনে ছিল একটি ঢিলেঢালা অদ্ভুত ধরনের রঙিন আলখাল্লা। চোখে ছিল বড় চশমা, যা তাঁকে এক মায়াবী ও রহস্যময় রূপ দান করেছিল। তাঁর চোখ দুটির দৃষ্টি ছিল তীক্ষ্ণ ও সংকেতময়।
বাবুই ও অন্যান্য পাখির বুদ্ধিমত্তার পরিচয়
বাবুই পাখির বাসার বিশেষত্ব:
একটি বাবুই পাখির বাসা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করলে স্তম্ভিত হতে হয় কারণ এর অসাধারণ বুননশৈলী ও কারিগরি দক্ষতা। খড় ও ঘাসের সরু ফালি দিয়ে তারা যেভাবে জ্যামিতিক নিখুঁততায় বাসাটি বোনে, তা কোনো দক্ষ মানুষের হাতের কাজের চেয়ে কম নয়। বিশেষ করে বাসার ভেতরকার অন্ধকার দূর করার জন্য তারা গোবর দিয়ে কাদার প্রলেপ লাগিয়ে সেখানে জোনাকি পোকাকে আটকে রাখে, যা এক প্রকার প্রাকৃতিক আলোর ব্যবস্থা। কোনো উন্নত যন্ত্র বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই একটি ছোট পাখির এই প্রকৌশল জ্ঞান মানুষকে অবাক করে দেয়।
ম্যালি-ফাউল এবং গ্রিব পাখির বিশেষত্ব
প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়েরিতে এই দুই বিদেশি পাখির আশ্চর্য কৌশলের উল্লেখ পাওয়া যায়:
১. ম্যালি-ফাউল (Mallee-fowl):
- বাসা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: অস্ট্রেলিয়ার এই পাখিটি মাটির ওপর গাছের পাতা ও ডালপালা দিয়ে একটি বিশাল ঢিবি বা স্তূপ তৈরি করে। সেই স্তূপের ভেতরে তারা ডিম পাড়ে।
- আশ্চর্য কৌশল: ডিম ফুটে বাচ্চা বের করার জন্য ভেতরের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট থাকা প্রয়োজন। ম্যালি-ফাউল তার ঠোঁটকে থার্মোমিটারের মতো ব্যবহার করে সেই ঢিবির ভেতরের তাপমাত্রা পরিমাপ করে। তাপমাত্রা কম বা বেশি হলে তারা বালি বা পাতা সরিয়ে তা নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
২. গ্রিব (Grebe):
- ভাসমান বাসা: গ্রিব পাখি জলের ওপর পচা জলজ উদ্ভিদ দিয়ে এক প্রকার ভাসমান বাসা তৈরি করে।
- ছদ্মবেশ ও সুরক্ষা: কোনো শত্রু বা শিকারি পাখির আনাগোনা টের পেলে তারা খুব দ্রুত ডানা দিয়ে তাদের সাদা রঙের ডিমগুলোকে ঢেকে দেয়, যাতে তা আশেপাশের পচা জলজ লতাপাতার সঙ্গে মিশে যায়। এই চমৎকার ছদ্মবেশ ধারণের ক্ষমতা গ্রিব পাখির বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
৬। নীচের প্রশ্নের সংক্ষেপে উত্তর দাও :
৬.১ শঙ্কুর পাখি পড়ানোর যন্ত্রটির নাম কী? যন্ত্রটির গঠন কেমন? ২+১
উত্তর: * নাম: প্রোফেসর শঙ্কুর তৈরি পাখি পড়ানোর আশ্চর্য যন্ত্রটির নাম হলো ‘অরনিথন’।
- গঠন: যন্ত্রটি দুটি অংশে বিভক্ত। একটি অংশ হলো গোল খাঁচার মতো, যার ওপর পাখিকে বসানো হয়। অন্য অংশটি হলো একটি ইলেকট্রনিক প্যানেল যা থেকে তারের মাধ্যমে পাখির মস্তিষ্কে জ্ঞান সরবরাহ করা হয়। এটি কোনো ইলেকট্রিক শকের বদলে সরাসরি মস্তিষ্কের স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে তথ্য পাঠাতে সক্ষম।
৬.২ “কালকে তো একটা ব্যাপারে আমি রীতিমতো হকচকিয়ে গেছি।” – কে, কেন হকচকিয়ে গিয়েছিলেন? ১+২
উত্তর: * বক্তা: উক্তিটির বক্তা হলেন বিজ্ঞানী প্রোফেসর শঙ্কু।
- কারণ: শঙ্কু লক্ষ্য করেছিলেন যে তাঁর পোষা কাক কর্ভাস একটি পেনসিল মুখে নিয়ে হোটেলের টেবিলের ওপর রাখা প্যাডে বড় বড় ইংরেজি হরফে নিজের নাম ‘CORVUS’ লিখছে। একটি পাখির পক্ষে অক্ষরজ্ঞান থাকা এবং নিজের নাম লিখতে পারাটা ছিল বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অভাবনীয় ঘটনা। এই অলৌকিক বুদ্ধিমত্তা দেখেই শঙ্কু রীতিমতো হকচকিয়ে বা অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।
৭.১ শিরোনামসহ সারাংশ লেখো :
মূল অংশ: “সংসারে যারা শুধু দিলে, পেলে না কিছুই... আমার কারবার শুধু এদেরই নিয়ে।”
সারাংশ:
শিরোনাম: বঞ্চিতের বেদনাই সাহিত্যের উৎস
সংসারে একশ্রেণির মানুষ আজীবন কেবল দিয়ে যায়, বিনিময়ে তারা পায় শুধু বঞ্চনা, লাঞ্ছনা আর উৎপীড়ন। সমাজ ও সাধারণ মানুষ এই অসহায়দের চোখের জলের কোনো মূল্য দেয় না। এই অধিকারহীন ও নিঃস্ব মানুষদের অন্তহীন দীর্ঘশ্বাস আর যন্ত্রণাই লেখকের সাহিত্যসত্তাকে জাগ্রত করেছে। এই অবহেলিত মানুষের হয়ে সমাজের কাছে নালিশ জানানো এবং তাদের না-বলা কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরাই হলো প্রকৃত সাহিত্যিকের কাজ ও সার্থকতা।
৭.২ ভাবার্থ লেখো :
মূল কবিতা: “দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর— / লহো তব লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর... অনন্ত এ জগতের হৃদয়স্পন্দন।”
ভাবার্থ:
আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতা ইট-পাথর-লোহার পরিকাঠামো দিয়ে মানুষকে জাগতিক সুখ ও নিরাপত্তা দিলেও তার অন্তরের শান্তি ও স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। এই কৃত্রিম ‘পাষাণপিঞ্জর’-এর রাজভোগের চেয়েও কবির কাছে বেশি কাঙ্ক্ষিত হলো প্রাচীন তপোবনকেন্দ্রিক পবিত্র ও অনাড়ম্বর জীবন। যেখানে প্রকৃতির কোলে মানুষ মগ্ন হতে পারত গভীর আধ্যাত্মিক চিন্তায়, আর অনুভব করতে পারত মুক্ত বাতাসের স্পর্শ। নাগরিক সভ্যতার যান্ত্রিক বন্ধন ছিন্ন করে অরণ্যের শান্ত পরিবেশে নিজের লুপ্ত প্রাণশক্তি ও বিশ্বপ্রকৃতির অখণ্ড হৃদস্পন্দন ফিরে পাওয়ার ব্যাকুলতাই এখানে প্রকাশিত হয়েছে।
আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ:
- সারাংশ: সারাংশ সব সময় মূল অংশের এক-তৃতীয়াংশ হওয়ার চেষ্টা করবেন। কোনো আলঙ্কারিক ভাষা বা উদাহরণ ব্যবহার করবেন না।
- ভাবার্থ: ভাবার্থের ক্ষেত্রে মূল কবিতার অন্তর্নিহিত দর্শনটি ফুটিয়ে তোলা জরুরি। নাগরিক সভ্যতাকে কেন ‘নিষ্ঠুর’ বলা হয়েছে বা ‘অরণ্য’ কেন কাঙ্ক্ষিত—এই বৈপরীত্যটি স্পষ্টভাবে লিখবেন।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.