Canning David Sassoon High School HS রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা উত্তর নবম শ্রেণী বাংলা 2026

 


3 Canning David Sassoon High School (HS)

canning-david-sassoon-high-school-hs


ক্যানিং ডেভিড হেয়ার স্কুল (Canning David Sassoon High School) রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা -এর প্রশ্নপত্রের সকল প্রশ্নের সঠিক ও নির্ভুল সমাধান নিচে দেওয়া হলো:

​১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো :Canning David Sassoon High School HS

১.১ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতাটি কোন্ যুগের প্রেক্ষাপটে লেখা?

(ক) প্রাচীন যুগ, (খ) আধুনিক যুগ, (গ) মধ্যযুগ, (ঘ) প্রাক্-ঐতিহাসিক যুগ।

উত্তর: (গ) মধ্যযুগ।

১.২ “যতদিন ধনী ছিলাম, কখনও সুখ পাইনি।” – একথা বলেছেন —

(ক) ইলিয়াসের কন্যা, (খ) ইলিয়াস, (গ) মোল্লাসাহেব, (ঘ) ইলিয়াসের স্ত্রী।

উত্তর: (ঘ) ইলিয়াসের স্ত্রী (শাম-শেমাগি)।

১.৩ “আপনারা শান্ত হন।” – ‘আপনারা' বলতে বোঝানো হয়েছে –

(ক) দুই রক্ষীকে, (খ) রাজ-শ্যালক ও প্রথম রক্ষীকে, (গ) রাজ-শ্যালক ও দ্বিতীয় রক্ষীকে, (ঘ) রাজা ও রাজ-শ্যালককে।

উত্তর: (ক) দুই রক্ষীকে (ধীবর এই কথাটি বলেছিল)।

১.৪ ‘আজ দিনের শুরুতেই একটা বিশ্রী কাণ্ড ঘটে গেল।' – উদ্ধৃতাংশে যে দিনটির প্রসঙ্গ রয়েছে, সেটি হল –

(ক) ১৫ জানুয়ারি, (খ) ৫ জানুয়ারি, (গ) ১২ জানুয়ারি, (ঘ) ২০ জানুয়ারি।

উত্তর: (খ) ৫ জানুয়ারি (ব্যোমযাত্রীর ডায়েরি অনুসারে)।

১.৫ ‘অপিনিহিতি' শব্দটির অর্থ –

(ক) পূর্ববর্তী সন্নিবেশ, (খ) পরবর্তী সন্নিবেশ, (গ) স্বরের মধ্যে সমতা, (ঘ) স্বরের লোপ।

উত্তর: (ক) পূর্ববর্তী সন্নিবেশ।

১.৬ শঙ্খ > শাঁখ – এটি ধ্বনি পরিবর্তনের কোন্ শ্রেণিতে পড়ে?

(ক) স্বরলোপ, (খ) ব্যঞ্জনলোপ, (গ) নাসিক্যীভবন, (ঘ) স্বরসংগতি।

উত্তর: (গ) নাসিক্যীভবন।

Canning David Sassoon High School (HS)

​২। কমবেশি ১৫টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

২.১ “ততই বিরামহীন এই দাঁড় টানা।” – কবি কেন দাঁড় টানাকে ‘বিরামহীন' বলেছেন?

উত্তর: জীবন-তরিকে গন্তব্যে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা ও কর্মব্যস্ততা মানুষের চিরন্তন, তাই কবি দাঁড় টানাকে বিরামহীন বলেছেন।

২.২ “সেও তো পাপ।” - কোন্ আচরণকে ‘পাপ’ বলা হয়েছে?

উত্তর: ‘ইলিয়াস’ গল্পে শাম-শেমাগির মতে, নিজেদের প্রাচুর্য নিয়ে গর্ব করা এবং অন্যের নিন্দা করাকে পাপ বলা হয়েছে।

২.৩ ‘নোঙর' কবিতায় কবি কীভাবে দিকের নিশানা করেন?

উত্তর: কবি আকাশে উদিত তারার দিকে চেয়ে বা ধ্রুবতারার সাহায্যে দিকের নিশানা করেন।

২.৪ সন্ধি বিচ্ছেদ করো : পুরস্কার, সংশ্লেষ।

উত্তর: পুরস্কার = পুরঃ + কার; সংশ্লেষ = সম্ + শ্লেষ।

২.৫ আদিস্বরাগম, মধ্যস্বরাগম, অন্ত্যস্বরাগম-এর একটি করে উদাহরণ দাও।

উত্তর: * আদিস্বরাগম: স্কুল > ইশকুল।

  • ​মধ্যস্বরাগম: ভক্তি > ভকতি।
  • ​অন্ত্যস্বরাগম: বেঞ্চ > বেঞ্চি।

২.৬ “আমি ----- হাসি হাসলুম” – শূন্যস্থানে নির্দিষ্ট শব্দ লেখো।

উত্তর: আমি করুণ হাসি হাসলুম।

​৩। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

৩.১ “স্রোতের বিদ্রুপ শুনি প্রতিবার দাঁড়ের নিক্ষেপে।” – কবিতার মধ্যে ‘নৌকা’ কীসের প্রতীক? উদ্ধৃতাংশটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ‘নোঙর’ কবিতায় ‘নৌকা’ হলো মানুষের জীবন-তরির প্রতীক।

কবি দূর সাগরের হাতছানিতে সাড়া দিয়ে তরি নিয়ে বেরিয়ে পড়তে চান। কিন্তু সংসার-মায়ারূপ নোঙরে তাঁর নৌকাটি আটকে আছে। কবি যখনই দাঁড় টেনে নৌকাটিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখনই স্রোতের ধাক্কায় দাঁড় নিক্ষেপের শব্দ হয়। কবির মনে হয় সেই শব্দ যেন তাঁর ব্যর্থ প্রচেষ্টাকে বিদ্রূপ করছে।

৩.২ “চণ্ডীর আদেশ পান বীর হনুমান।” – দেবী চণ্ডী কোন্ কাব্যের দেবী? দেবী চণ্ডীর আদেশ পেয়ে বীর হনুমান কী করেছিলেন? ঘরগুলো দলমল করছিল কেন?

উত্তর: দেবী চণ্ডী মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের দেবী।

চণ্ডীর আদেশ পেয়ে বীর হনুমান কলিঙ্গদেশের সমস্ত মঠ ও অট্টালিকা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলেন।

হনুমানের প্রবল তাণ্ডবে মঠ ও অট্টালিকাগুলো টলমল করে ভেঙে পড়ছিল বলেই কবি ‘দলমল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

​৪। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

৪.১ আমি কলেজে বাংলা পড়াই। আমি কে? মাস্টার মশাই সম্বন্ধে কথকের ধারণা কেমন ছিল?

উত্তর: ‘আমি’ হলেন ‘দাম’ গল্পের কথক সুকুমার

ছাত্রজীবনে সুকুমারের ধারণা ছিল যে মাস্টারমশাই অত্যন্ত কঠোর এবং অমানবিক। তিনি মনে করতেন যে অংক না পারার জন্য মারধর করা বা জ্যামিতির চিত্র আঁকতে বাধ্য করা কোনো শিক্ষা হতে পারে না। তাঁর কাছে মাস্টারমশাই ছিলেন এক বিভীষিকা।

৪.২ “সুখী জীবন কাকে বলে কোনোদিন বুঝিনি।” – বক্তা কে? ‘সুখী জীবন' সম্বন্ধে বক্তার মতামত ব্যক্ত করো।

উত্তর: বক্তা হলেন ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি

তাঁর মতে, যখন তাঁরা ধনী ছিলেন, তখন কাজের দুশ্চিন্তা, অতিথি সেবা এবং সম্পত্তির রক্ষাণাবেক্ষণের চাপে ঈশ্বরের নাম করার বা শান্তিতে কথা বলার সময় পেতেন না। এখন সর্বহারা হয়ে শ্রমিকের কাজ করে তাঁরা যে নিশ্চিন্তে ঘুমান এবং শান্তিতে কথা বলেন, এটাই হলো তাঁদের কাছে প্রকৃত সুখী জীবন।

​৫। কমবেশি ৬০ শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

৫.১ শকুন্তলা কে? শকুন্তলার অপমানিতা হওয়ার কারণ কী ছিল?

উত্তর: শকুন্তলা হলেন মহর্ষি বিশ্বামিত্র ও মেনকার কন্যা এবং মহর্ষি কণ্বের পালিতা কন্যা।

শকুন্তলার অপমানিতা হওয়ার প্রধান কারণ ছিল তাঁর কাছে থাকা রাজা দুষ্মন্তের দেওয়া স্মারক আংটিটি হারিয়ে যাওয়া। শচীতীর্থে স্নান করার সময় আংটিটি পড়ে যাওয়ায় তিনি রাজসভায় নিজের পরিচয় বা বিয়ের প্রমাণ দিতে পারেননি, ফলে রাজা তাঁকে চিনতে অস্বীকার করেন।

৫.২ “প্রভু, অনুগৃহীত হলাম।” – ‘প্রভু' কে? কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি?

উত্তর: এখানে ‘প্রভু’ হলেন রাজ-শ্যালক

ধীবরকে যখন আংটি চুরির অপরাধ থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং রাজা তার জন্য আংটির সমপরিমাণ মূল্যের পারিতোষিক পাঠান, তখন ধীবর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এই উক্তিটি করেছিল।

​৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

৬.১ “একটা বিশেষ দিন থেকে এটা আমি অনুভব করে আসছি।”— বক্তা কে? কোন্ বিশেষ দিন থেকে, তিনি কী অনুভব করে আসছেন?

উত্তর: বক্তা হলেন প্রোফেসর শঙ্কু। তিনি রকেটে করে মঙ্গলযাত্রা শুরু করার কয়েকদিন পর থেকেই এটি অনুভব করছিলেন।

তিনি অনুভব করছিলেন যে তাঁর তৈরি রোবট বিধুশেখর ক্রমশ যান্ত্রিকতা ছাড়িয়ে মানবিক চেতনা লাভ করছে। বিধুশেখর মঙ্গলগ্রহের বিপদ আগে থেকেই আঁচ করতে পারছিল। সে তোতলাতে শুরু করেছিল এবং ‘গ-গ-গ’ (গন্তব্য) বা ‘ম-ম-ম’ (মঙ্গল) শব্দ করে আতঙ্ক প্রকাশ করছিল। একটি যন্ত্রের মধ্যে এই ধরনের স্বজ্ঞা বা অনুভূতির উদয় হওয়া শঙ্কুর কাছে এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা ছিল।

​৬.২ প্রোফেসর শঙ্কু কত তারিখে মঙ্গল অভিযান শুরু করেন? টাফার প্রকৃতি ও প্রাণীর পরিচয় দাও।

মঙ্গল অভিযানের তারিখ:

প্রোফেসর শঙ্কু তাঁর স্বরচিত রকেটে চড়ে ১৩ জানুয়ারি মঙ্গল অভিযান শুরু করেছিলেন। তাঁর এই যাত্রায় সঙ্গী ছিল তাঁর বিশ্বস্ত ভৃত্য প্রহ্লাদ, বিড়াল নিউটন এবং তাঁরই তৈরি যন্ত্রমানব (রোবট) বিধুশেখর।

টাফার প্রকৃতি ও প্রাণীর পরিচয়:

​মঙ্গলগ্রহে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর শঙ্কু তাঁর রকেট নিয়ে পুনরায় মহাকাশে পাড়ি দেন এবং পথ হারিয়ে ‘টাফা’ নামক এক অজানা গ্রহে গিয়ে পৌঁছান। টাফার প্রকৃতি ও প্রাণীদের পরিচয় নিম্নরূপ:

১. টাফার প্রকৃতি:

  • উন্নত পরিবেশ: টাফা গ্রহটি মঙ্গল বা পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি উন্নত এবং শান্ত।
  • আকাশ ও আবহাওয়া: এখানকার আকাশ পৃথিবীর মতো নীল নয়, বরং এক স্নিগ্ধ ও মনোরম পরিবেশ সেখানে বিরাজমান। এখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত আরামদায়ক এবং এখানকার অধিবাসীরা প্রাকৃতিক শক্তির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।
  • জ্ঞানের কেন্দ্র: টাফা আসলে মহাবিশ্বের এক পরম শান্তিময় স্থান, যেখানে হিংসা বা মারামারি নেই। এখানকার পরিবেশ জ্ঞানচর্চার জন্য উপযুক্ত।

২. টাফার প্রাণীদের পরিচয়:

  • অদ্ভুত আকৃতি: টাফার অধিবাসীরা দেখতে অনেকটা অদ্ভুত। তাদের শরীর খুবই ছোট, কিন্তু তাদের মাথাগুলো শরীরের তুলনায় অনেক বড়।
  • বিশাল মস্তিষ্ক: তাদের এই বিশাল মাথা বা করোটি নির্দেশ করে যে তারা বুদ্ধিতে মহাবিশ্বের অন্য সব প্রাণীর চেয়ে অনেক উন্নত।
  • আচরণ: এরা অত্যন্ত শান্ত এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর মানুষের মতো এরা যুদ্ধবিগ্রহে বিশ্বাসী নয়।
  • যোগাযোগ: তারা মুখে কথা না বললেও নিজেদের উন্নত মানসিক শক্তির মাধ্যমে ভাব বিনিময় করতে পারে। টাফার এই বামনাকৃতি ও বিশাল মস্তকবিশিষ্ট প্রাণীরাই আসলে মহাবিশ্বের প্রকৃত ‘জ্ঞানী’ বা ‘সিভিলাইজড’ প্রাণী।

​৭। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

৭.১ “চণ্ডীর আদেশে ধায় নদনদীগণ।” – “চণ্ডী' কী আদেশ দিয়েছিলেন? কলিঙ্গদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিত্র অঙ্কন করো।

উত্তর: দেবী চণ্ডী নদনদীগণকে কলিঙ্গদেশের দিকে ধাবিত হয়ে জলমগ্ন করার আদেশ দিয়েছিলেন।

প্রাকৃতিক বিপর্যয়: কলিঙ্গদেশের আকাশে আকস্মিক কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা দেয়। চারদিক অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে আকাশ কাঁপানো বাজ পড়তে শুরু করে। ভাদ্র মাসের পাকা তালের মতো বড় বড় শিল পড়ে ঘরবাড়ির চাল ফুটো হয়ে যায়। সাতদিন অবিরাম বৃষ্টির ফলে চাষের জমি ডুবে যায় এবং জনপদ প্লাবিত হয়। প্রজারা প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে পালাতে শুরু করে।

৭.২ “সারারাত তবু দাঁড় টানি,” – ‘তবু' শব্দটি কবি কেন ব্যবহার করেছেন? সারারাত দাঁড় টানার কারণ কী?

‘তবু’ শব্দ ব্যবহারের কারণ:

‘তবু’ শব্দটি এখানে কবির অদম্য জেদ, আশাবাদ এবং বিরামহীন সংগ্রামের প্রতীক। কবি তাঁর জীবন-তরি নিয়ে সুদূরের পানে পাড়ি দিতে চান, কিন্তু বাস্তব জীবনের মায়ারূপ ‘নোঙর’ তটের কিনারে আটকে গেছে। শত চেষ্টা করেও কবি সেই বন্ধন ছিঁড়ে নৌকাটিকে মুক্ত করতে পারছেন না। জোয়ারের ঢেউগুলো এসে নৌকায় ধাক্কা দিয়ে ফিরে যাচ্ছে এবং কবির সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। এই বিফলতা ও সীমাবদ্ধতা জানা সত্ত্বেও কবি হাল ছাড়েন না। প্রতিকূলতা ও বন্ধন থাকা সত্ত্বেও তাঁর এই যে নিরন্তর চেষ্টা, তা বোঝাতেই কবি ‘তবু’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

সারারাত দাঁড় টানার কারণ:

সারারাত দাঁড় টানার মধ্য দিয়ে কবির চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা ও গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে:

  • বন্ধন মুক্তির প্রচেষ্টা: কবি অনুভব করেন যে তাঁর জীবন-নৌকাটি সংসারের তটে নোঙর ফেলে আটকে আছে। সারারাত ধরে দাঁড় টেনে তিনি এই জড়তা ও স্থবিরতা কাটিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিতে চান।
  • সুদূরের হাতছানি: কবির মন চিরকালই রোমান্টিক এবং কল্পনাবিলাসী। তিনি এই সীমাবদ্ধ গণ্ডির বাইরে সেই 'মায়ার গঞ্জ' বা অচেনা জগতে পৌঁছাতে চান। অন্ধকার রাতে (সারারাত) তিনি সেই গন্তব্য সন্ধানে অবিরাম পরিশ্রম করেন।
  • অবিরাম জীবন সংগ্রাম: রূপক অর্থে, মানুষের জীবন হলো এক নিরন্তর নৌযাত্রার মতো। পথে বাধা আসবে, স্বপ্নভঙ্গ হবে, তবুও মানুষকে বেঁচে থাকার তাগিদে এবং লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়। কবির এই বিরামহীন দাঁড় টানা আসলে মানুষের অপরাজেয় মানসিকতারই প্রতিফলন।

​৮। কমবেশি ১৫০ শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

৮.১ “আসল অবস্থা বুঝে উঠবার আগেই সে একেবারে সর্বহারা হয়ে পড়ল।” - কার কথা বলা হয়েছে? সে কীভাবে সর্বহারা হল?

উত্তর: এখানে ইলিয়াসের কথা বলা হয়েছে।

দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের পরিশ্রমে ইলিয়াস প্রচুর সম্পত্তির অধিকারী হলেও তার দুর্ভাগ্যের শুরু হয় তার ছেলেদের অবাধ্যতায়। বড় ছেলে মারা যায় এবং ছোট ছেলে অবাধ্য হওয়ায় তাকে সম্পত্তি ভাগ করে দিতে হয়। এরপর তার পশুপালের ওপর মড়ক দেখা দেয়, কিরঘিজরা তার সেরা ঘোড়াগুলো চুরি করে নিয়ে যায় এবং শেষে অজন্মায় ফসলের ক্ষতি হওয়ায় ইলিয়াসের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। অবশেষে সত্তর বছর বয়সে সম্বল বলতে থাকা শেষ আসবাবটুকু বিক্রি করে দিয়ে সে সর্বহারা হয়ে মহম্মদ শাহের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

৮.২ “এ অপরাধ আমি বইব কী করে, এ লজ্জা আমি কোথায় রাখব !” — বক্তা কে? তাঁর অপরাধ ও লজ্জার পরিচয় দাও।

বক্তা:

উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন গল্পের কথক সুকুমার

অপরাধ ও লজ্জার পরিচয়:

সুকুমারবাবুর এই অপরাধবোধ ও লজ্জার মূলে রয়েছে তাঁর ছাত্রজীবনের অংকের মাস্টারমশাইয়ের প্রতি তাঁর সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি এবং মাস্টারমশাইয়ের অসামান্য মহত্ত্ব। এর পরিচয় নিচে আলোচনা করা হলো:

  • শিক্ষককে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক লেখা: সুকুমার বড় হয়ে একজন লেখক ও কলেজের অধ্যাপক হন। একটি পত্রিকার ফরমায়েশ অনুযায়ী তিনি তাঁর ছাত্রজীবনের অংকের মাস্টারমশাইয়ের ‘ভয়ংকর’ শাসনের স্মৃতি নিয়ে একটি গল্প লেখেন। সেই লেখায় তিনি মাস্টারমশাইকে অনেকটা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেন এবং তাঁর শাসনপদ্ধতিকে সেকেলে ও অমানবিক হিসেবে তুলে ধরেন। সামান্য ১০ টাকা সাম্মানিকের লোভে তিনি তাঁর শিক্ষককে সর্বসমক্ষে খাটো করেছিলেন— এটাই ছিল তাঁর প্রধান অপরাধ।
  • বিপরীত প্রতিক্রিয়া: বহু বছর পর একটি কলেজের অনুষ্ঠানে বৃদ্ধ মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে সুকুমারের দেখা হয়। সুকুমার লজ্জিত ছিলেন এই ভেবে যে মাস্টারমশাই হয়তো তাঁর সমালোচনাটি পড়েছেন এবং ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে ঘটে উল্টোটা। মাস্টারমশাই অত্যন্ত স্নেহ ও গর্বের সাথে জানান যে তিনি সুকুমারের লেখাটি পড়েছেন এবং সেটি ছিঁড়ে নিজের পকেটে সযত্নে রেখে দিয়েছেন। তিনি ছাত্রের বিদ্রূপটুকুকে গায়ে না মেখে বরং তাঁর ছাত্র আজ কত বড় লেখক হয়েছে— এই ভেবেই আনন্দিত ও গর্বিত ছিলেন।
  • মূল্যহীনতা ও লজ্জা: মাস্টারমশাইয়ের এই আকাশছোঁয়া উদারতা এবং ছাত্রের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখে সুকুমার নিজের ক্ষুদ্রতা অনুভব করেন। তিনি বুঝতে পারেন যে অংকের ওই কঠোর শাসনের আড়ালে ছিল ছাত্রের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা। সুকুমার যে অংকের মাস্টারমশাইকে মাত্র দশ টাকার বিনিময়ে বাজারে ‘বিক্রি’ করে দিয়েছিলেন, সেই শিক্ষকই তাঁকে হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান দিয়েছেন।

​এই নৈতিক পরাজয় এবং নিজের কৃতকর্মের তুচ্ছতা অনুভব করেই সুকুমার গভীর অনুশোচনায় দগ্ধ হন এবং বলতে বাধ্য হন যে, এই অপরাধ ও লজ্জা রাখার জায়গা তাঁর নেই।

​৯। কমবেশি ১২৫ শব্দে ভাবসম্প্রসারণ করো :

৯.১ সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।

উত্তর: চণ্ডীদাসের এই মহান উক্তিটি মানবধর্মের জয়গান গায়। পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের অনেক বিভেদ রয়েছে। মানুষে মানুষে এই কৃত্রিম দেওয়ালগুলো সমাজকে খণ্ডিত করে। কিন্তু মানুষের আসল পরিচয় সে মানুষ। আর্তের সেবা, মমতা এবং সহমর্মিতা— এগুলিই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। কোনো মন্দির, মসজিদ বা ধর্মীয় আচার মানুষের প্রাণের চেয়ে বড় নয়। মানুষকে ভালোবাসলে এবং মানুষের সেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা করা হয়। তাই মানবতা বা মনুষ্যত্বই পৃথিবীর ধ্রুব সত্য।

৯.২ বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।

উত্তর: প্রতিটি প্রাণী বা বস্তু তার স্বাভাবিক পরিবেশে সবচেয়ে সুন্দর ও সার্থক। বনের পশুপাখি যখন বনে অবাধ বিচরণ করে, তখন তাদের প্রকৃত রূপ ও স্বভাব ফুটে ওঠে। তাদের খাঁচায় বন্দি করলে সেই সৌন্দর্য নষ্ট হয়। একইভাবে একটি শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ ও আনন্দময় স্থান হলো তার মায়ের কোল। শিশুকে যদি তার স্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়, তবে তার শৈশব ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম ক্ষুণ্ণ করলে সবকিছুই শ্রীহীন হয়ে পড়ে। তাই যাকে যেখানে মানায়, তাকে সেখানে থাকাই শ্রেয়।


আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ (Personal Tips)

​১. বিশ্লেষণাত্মক পড়াশোনা: এখনকার প্রশ্নপত্রে সরাসরি উত্তরের চেয়ে 'কেন' বা 'কীভাবে' জাতীয় প্রশ্ন বেশি আসে। যেমন— 'দাম' গল্পে সুকুমারের অপরাধবোধ কেবল অংকের মাস্টারমশাইয়ের শাসনের জন্য নয়, বরং নিজের সংকীর্ণতার জন্য। এই ভেতরের অর্থগুলো বোঝার চেষ্টা করুন।

​২. ব্যাকরণে জোর দিন: ধ্বনি পরিবর্তন (অপিনিহিতি, অভিশ্রুতি, সমীভবন) এবং শব্দগঠন থেকে ছোট প্রশ্ন বেশি থাকে। এগুলো মুখস্থ না করে উদাহরণ দিয়ে মনে রাখুন। যেমন: 'বউদিদি > বউদি' (ব্যঞ্জনলোপ)—এভাবে লজিক দিয়ে পড়লে ভুল হবে না।

​৩. সময় ব্যবস্থাপনা: ১৫০ শব্দের উত্তরের জন্য ১৫-১৮ মিনিটের বেশি সময় দেবেন না। বাড়িতে ঘড়ি ধরে উত্তর লেখার অভ্যাস করুন, বিশেষ করে ভাবসম্প্রসারণের ক্ষেত্রে।

​৪. খাতার উপস্থাপনা: উত্তরের শেষে উদ্ধৃতি (Quotations) ব্যবহার করলে নম্বর বাড়ে। যেমন— 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' উত্তরের মাঝে প্রাসঙ্গিক দুই এক লাইন কবিতা লিখে দিলে উত্তরটি অনন্য হবে।

 কল টু অ্যাকশন (Call to Action)

"আপনার প্রস্তুতিকে কি আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে চান?" > আপনি যদি এই স্কুলগুলোর ব্যাকরণ অংশ (Grammar Section) বা প্রবন্ধ রচনার (Essay Writing) কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দুর্বলতা অনুভব করেন, তবে আমাকে জানান। আমি আপনার জন্য একটি 'কুইক রিভিশন চার্ট' তৈরি করে দিতে পারি যা পরীক্ষার আগের রাতে আপনার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।


 আমাদের আরো অন্য আর্টিকেল পড়তে পারেন  


Burdwan Municipal Girls High School HS রায় ও মার্টিন প্রশ্নবিচিত্রা নবম শ্রেণীর বাংলা দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের উত্তর

Mission Girls High School HS Bankura রায় ও মার্টিন প্রশ্ন বিচিত্রা প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের উত্তর নবম শ্রেণী বাংলা


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ