Class IX Geography 2nd submitive 2025-26 Roy & Martin Alipurduar Newtown Girls' High School (HS)
Alipurduar Newtown Girls' High School (HS)
নিচে আলিপুরদুয়ার নিউটাউন গার্লস হাই স্কুলের প্রশ্নপত্রের প্রশ্নগুলি সঠিক উত্তর দেওয়া হলো:
1. বিকল্পগুলি থেকে সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখ
(i) প্রদত্ত কোনটি মহাবৃত্ত?
(a) নিরক্ষরেখা
(b) মূলমধ্যরেখা
(c) আন্তর্জাতিক তারিখরেখা
(d) (a) ও (b) দুটোই সঠিক
সঠিক উত্তর: (d) (a) ও (b) দুটোই সঠিক
(ii) আন্তর্জাতিক তারিখরেখার প্রতিপাদ স্থানের দ্রাঘিমা হল —
(a) 180° দ্রাঘিমা
(b) 0° দ্রাঘিমা
(c) 90° পূর্ব দ্রাঘিমা
(d) 90° পশ্চিম দ্রাঘিমা
সঠিক উত্তর: (b) 0° দ্রাঘিমা
(iii) গিরিজনি আলোড়ন একটি —
(a) মহাজাগতিক প্রক্রিয়া
(b) অন্তর্জাত প্রক্রিয়া
(c) বহির্জাত প্রক্রিয়া
(d) আকস্মিক প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর: (b) অন্তর্জাত প্রক্রিয়া
(iv) ভারতের বাঘেলখণ্ড ও বুন্দেলখণ্ড হল —
(a) পর্বতবেষ্টিত মালভূমি
(b) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি
(c) মহাদেশীয় মালভূমি
(d) পাদদেশীয় মালভূমি
সঠিক উত্তর: (b) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি
(v) শিলাস্তর চূর্ণবিচূর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় —
(a) নগ্নীভবন
(b) ক্ষয়ীভবন
(c) আবহবিকার
(d) পুঞ্জিতক্ষয়
সঠিক উত্তর: (c) আবহবিকার
(vi) পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ —
(a) গোর্গাবুরু
(b) সান্দাকফু
(c) সবরগ্রাম
(d) ফালুট
সঠিক উত্তর: (b) সান্দাকফু
(vii) পশ্চিমবঙ্গের সর্বাধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত স্থান হল —
(a) বক্সাদুয়ার
(b) আসানসোল
(c) দার্জিলিং
(d) রায়গঞ্জ
সঠিক উত্তর: (a) বক্সাদুয়ার
বিভাগ - খ
A. নিম্নলিখিত বাক্যগুলি শুদ্ধ হলে পাশে 'শু' এবং অশুদ্ধ হলে পাশে 'অ' লেখো :
(i) অক্ষাংশের পরিবর্তনে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে।
উত্তর: শু (শুদ্ধ)
(ii) আবহবিকারে রেগোলিথ সৃষ্টি হয়।
উত্তর: শু (শুদ্ধ)
(iii) পেডিমেন্ট সমভূমির অনুচ্চ টিলাগুলি মোনাক নামে পরিচিত।
উত্তর: অ (অশুদ্ধ) — সঠিক উত্তর হবে ইন্সেলবার্জ।
(iv) দ্বারকেশ্বর ও শিলাবতী নদীর মিলিত প্রবাহ হল কংসাবতী।
উত্তর: অ (অশুদ্ধ) — সঠিক উত্তর হবে রূপনারায়ণ।
B. শূন্যস্থান পূরণ করো :
(i) গ্রিনিচের সময় নির্ণায়ক ঘড়িটি হল ———।
উত্তর: ক্রোনোমিটার (Chronometer)
(ii) ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বতটি হল ———।
উত্তর: আরাবল্লী (Aravalli)
(iii) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে ——— আবহবিকারের প্রাধান্য দেখা যায়।
উত্তর: রাসায়নিক (Chemical weathering)
(iv) ‘তরাই’ শব্দের অর্থ ———।
উত্তর: স্যাঁতসেঁতে নিচু ভূমি (Damp land)
C. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও :
(i) 15° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য কত হয়?
উত্তর: 15° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ১ ঘণ্টা (৬০ মিনিট)।
(ii) ‘পাতসংস্থান তত্ত্বের জনক' কাকে বলে?
উত্তর: ফরাসি বিজ্ঞানী পিঁশো (Le Pichon)-কে পাতসংস্থান তত্ত্বের জনক বলা হয়। (অনেকে জে. তুজো উইলসনকেও পথিকৃৎ হিসেবে মানেন)।
(iii) খোয়াই কী?
উত্তর: বীরভূম ও সংলগ্ন অঞ্চলের ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা বিশিষ্ট এলাকায় বৃষ্টির জলের ধারাবর্ষণে ভূমিক্ষয় হয়ে যে লাল রঙের উঁচু-নিচু খানাখন্দের সৃষ্টি হয়, তাকে স্থানীয় ভাষায় খোয়াই বলে।
বিভাগ - গ
3. নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :
(i) স্থানীয় সময় কাকে বলে?
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখায় সূর্যের সর্বোচ্চ অবস্থানের (মধ্যাহ্ন সূর্যের অবস্থান) ওপর ভিত্তি করে যে সময় নির্ধারণ করা হয়, তাকে সেই স্থানের স্থানীয় সময় বলে।
অথবা, রেখাজালক বা গ্র্যাটিকিউল কাকে বলে?
উত্তর: গ্লোব বা মানচিত্রের ওপর উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত কাল্পনিক অক্ষরেখা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত কাল্পনিক দ্রাঘিমারেখাগুলি পরস্পরকে ছেদ করে যে জালের মতো কাঠামো গঠন করে, তাকে ভৌগোলিক রেখাজালক বা গ্র্যাটিকিউল (Graticule) বলে।
(ii) পর্যায়ন বা ক্রমায়ন কাকে বলা হয়?
উত্তর: বহির্জাত প্রক্রিয়ার (ক্ষয় ও সঞ্চয়) মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের বন্ধুরতা বা উচ্চতার পার্থক্য দূর করে একটি সাধারণ সমতলে আনার প্রক্রিয়াকে পর্যায়ন বা ক্রমায়ন (Gradation) বলে। এটি অবরোহণ ও আরোহণ প্রক্রিয়ার মিলিত ফল।
অথবা, সূচার বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পাতসংস্থান তত্ত্ব অনুযায়ী, দুটি মহাদেশীয় পাত পরস্পরের অভিমুখে অগ্রসর হয়ে যখন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন যে রেখা বরাবর পাত দুটি জোড়া লেগে যায়, সেই সংযোগ রেখাকে সূচার (Suture) বা সেলাই রেখা বলা হয়। হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে ইন্দো-সাঙপো সূচার লাইন এর অন্যতম উদাহরণ।
(iii) পুঞ্জিতক্ষয় কাকে বলা হয়?
উত্তর: আবহবিকারের ফলে শিথিল হয়ে পড়া শিলাখণ্ড বা মৃত্তিকা যখন পৃথিবীর অভিকর্ষজ টানের প্রভাবে উচ্চভূমির ঢাল বরাবর নিচে নেমে আসে, তখন তাকে পুঞ্জিতক্ষয় (Mass Wasting) বলা হয়।
অথবা, এলুভিয়েশন বলতে কী বোঝো?
উত্তর: মাটি গঠন প্রক্রিয়ায় উপরিস্তর (A-স্তর) থেকে খনিজ ও জৈব পদার্থসমূহ বৃষ্টির জলের সাথে ধুয়ে নিচের স্তরে (B-স্তর) নেমে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে এলুভিয়েশন (Eluviation) বলে।
(iv) সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলির দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
১. এই নদীগুলি প্রধানত জোয়ারের জলে পুষ্ট, তাই এগুলি অত্যন্ত লবণাক্ত।
২. নদীগুলি অত্যন্ত আঁকাবাঁকা গতিপ্রকৃতির হয় এবং নদী মোহনাগুলি অত্যন্ত চওড়া হয়।
অথবা, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের মাটির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের মাটির দুটি বৈশিষ্ট্য হলো:
১. এই মাটি প্রধানত বালি, নুড়ি ও কাঁকর মিশ্রিত থাকে যা ছিদ্রযুক্ত প্রকৃতির হয়।
২. এই মাটিতে জৈব পদার্থের (হিউমাস) পরিমাণ বেশি থাকে, যা চা চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।
বিভাগ - ঘ
4. নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও :
(i) আন্তর্জাতিক তারিখরেখাটি সর্বদা জলভাগের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়েছে কেন?
উত্তর: আন্তর্জাতিক তারিখরেখা বরাবর তারিখের পরিবর্তন ঘটে (পূর্ব দিকে গেলে একদিন কমে এবং পশ্চিম দিকে গেলে একদিন বাড়ে)। যদি এই রেখা কোনো স্থলভাগের ওপর দিয়ে যেত, তবে একই দেশের বা দ্বীপের এক অংশে এক তারিখ এবং অন্য অংশে অন্য তারিখ হতো। এতে স্থানীয় সময়, অফিস-আদালতের কাজ এবং যাতায়াতে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতো। এই বিশৃঙ্খলা এড়াতে রেখাটিকে সম্পূর্ণভাবে জলভাগের (প্রশান্ত মহাসাগর) ওপর দিয়ে কল্পনা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনমতো দ্বীপপুঞ্জগুলিকে এড়িয়ে বাঁকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অথবা, নিরক্ষরেখা ও মূলমধ্যরেখার তিনটি পার্থক্য লেখো।
|
বৈশিষ্ট্য |
নিরক্ষরেখা |
মূলমধ্যরেখা |
|---|---|---|
|
১. প্রকৃতি |
এটি একটি পূর্ণবৃত্ত রেখা। |
এটি একটি অর্ধবৃত্ত রেখা। |
|
২. বিস্তার |
এটি পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত। |
এটি উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত। |
|
৩. মান |
এর মান ০° অক্ষরেখা। |
এর মান ০° দ্রাঘিমারেখা। |
(ii) উদাহরণ সহযোগে লোয়েস সমভূমির সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: মরুভূমি অঞ্চলের সূক্ষ্ম বালুকণা বা পলি বায়ুর দ্বারা বাহিত হয়ে বহু দূরে কোনো নিচু জায়গায় সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠন করে, তাকে লোয়েস সমভূমি বলে।
উদাহরণ: মধ্য এশিয়ার গোবি মরুভূমির ধূলিকণা বাহিত হয়ে চীনের হোয়াংহো নদী অববাহিকায় বিশাল লোয়েস সমভূমি সৃষ্টি করেছে।
অথবা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা কাকে বলে?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের দুই উপকূল বরাবর (এশিয়া ও আমেরিকা) যে ঘোড়ার খুরের মতো আকৃতির অঞ্চল জুড়ে বিশ্বের অধিকাংশ জীবন্ত আগ্নেয়গিরি অবস্থান করছে, তাকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা (Pacific Ring of Fire) বলে। পৃথিবীর প্রায় ৭৫% আগ্নেয়গিরি এখানেই অবস্থিত।
(iii) আবহবিকারের ফলাফল আলোচনা করো।
উত্তর: আবহবিকারের প্রধান তিনটি ফলাফল হলো:
১. রেগোলিথ সৃষ্টি: শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ভূপৃষ্ঠে যে শিথিল স্তরের সৃষ্টি করে তাকে রেগোলিথ বলে, যা মাটি তৈরির প্রাথমিক ধাপ।
২. মৃত্তিকা গঠন: দীর্ঘকাল ধরে রেগোলিথের ওপর বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ফলে উর্বর মাটি তৈরি হয়।
৩. ভূমিরূপ পরিবর্তন: এর ফলে পাহাড়ের উচ্চতা কমে এবং বিভিন্ন গৌণ ভূমিরূপ (যেমন— টর, ব্লক স্প্রেড) সৃষ্টি হয়।
অথবা, মৃত্তিকা সংরক্ষণের যে-কোনো তিনটি পদ্ধতি লেখো।
উত্তর: মৃত্তিকা সংরক্ষণের তিনটি কার্যকর পদ্ধতি হলো:
১. বৃক্ষরোপণ: গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে, যা জল ও বায়ুপ্রবাহ জনিত ক্ষয় রোধ করে।
২. ধাপ চাষ: পার্বত্য ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে চাষ করলে জলের গতি কমে এবং মাটি ক্ষয় কম হয়।
৩. ফালি চাষ: ঢালু জমিতে আড়াআড়িভাবে শস্যের সারি বা ফালি তৈরি করে চাষ করলে ভূমিক্ষয় রোধ পায়।
(iv) পশ্চিমি ঝামেলা বলতে কী বোঝো?
উত্তর: শীতকালে ভূমধ্যসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু উত্তর-পশ্চিম ভারতে (পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও কাশ্মীর) প্রবেশ করে যে হালকা বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত ঘটায়, তাকে পশ্চিমি ঝামেলা বা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে। এর প্রভাবে উত্তর ভারতে কনকনে শীত পড়ে।
অথবা, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্যের যে-কোনো তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্যের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
১. শ্বাসমূল (Pneumatophore): জোয়ার-ভাটায় ভিজে থাকা কাদামাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকায় বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে এদের মূল মাটির ওপরে উঠে আসে।
২. ঠেসমূল (Stilt root): জোয়ারের সময় জলের তোড়ে গাছকে স্থির রাখতে কান্ড থেকে তেরছাভাবে মূল বের হয়ে মাটিতে গেঁথে থাকে।
৩. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম: নোনা মাটিতে বীজ নষ্ট হওয়ার ভয়ে ফলের ভেতরেই বীজের অঙ্কুরোদগম হয় এবং পরে তা মাটিতে পড়ে চারাগাছ তৈরি করে।
বিভাগ - ঙ
5. (i) গাণিতিক সমস্যার সমাধান:
প্রশ্ন: জাপানের টোকিয়োতে (140° পূর্ব) যখন সময় সকাল 11 টা, তখন কলকাতার (88°30' পূর্ব) স্থানীয় সময় কত হবে?
সমাধান:
১. দ্রাঘিমার পার্থক্য: টোকিও এবং কলকাতার মধ্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য হলো (140°00' - 88°30') = 51°30'।
২. সময়ের পার্থক্য নির্ণয়:
- আমরা জানি, ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট।
- সুতরাং, ৫১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য = (51 \times 4) = ২০৪ মিনিট।
- আবার, ১' দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য ৪ সেকেন্ড।
- সুতরাং, ৩০' দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য = (30 \times 4) = ১২০ সেকেন্ড বা ২ মিনিট।
- মোট সময়ের পার্থক্য = (204 + 2) = ২০৬ মিনিট = ৩ ঘণ্টা ২৬ মিনিট।
৩. সময় নির্ধারণ: কলকাতা টোকিওর পশ্চিমে অবস্থিত, তাই কলকাতার সময় পিছিয়ে থাকবে।
- কলকাতার সময় = সকাল ১১টা — ৩ ঘণ্টা ২৬ মিনিট = সকাল ৭টা ৩৪ মিনিট।
উত্তর: কলকাতার স্থানীয় সময় হবে সকাল ৭টা ৩৪ মিনিট।
(ii) পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর পাঁচটি প্রভাব লেখো।
পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু ও অর্থনীতি মূলত মৌসুমি বায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এর পাঁচটি প্রধান প্রভাব হলো:
১. ঋতু পরিবর্তন: মৌসুমি বায়ুর আগমন (গ্রীষ্মের শেষে) এবং প্রত্যাগমনের (শরৎকালে) ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিমবঙ্গে প্রধান ঋতুগুলি আবর্তিত হয়।
২. বৃষ্টিপাতের বণ্টন: পশ্চিমবঙ্গের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫-৮০% ঘটে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর)।
৩. আর্দ্র গ্রীষ্ম ও শুষ্ক শীতকাল: গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ু সমুদ্র থেকে জলীয় বাষ্প আনে বলে বৃষ্টি হয়, কিন্তু শীতকালে স্থলভাগ থেকে আসা উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু শুষ্ক হওয়ায় বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে।
৪. কৃষিকাজ: পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ফসল ধান ও পাটের চাষ সম্পূর্ণভাবে মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো বৃষ্টি না হলে খরা এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দেয়।
৫. উষ্ণতা হ্রাস: গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহের পর মৌসুমি বায়ুর আগমনে বৃষ্টি শুরু হলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা অনেকটা কমে গিয়ে আরামদায়ক আবহাওয়া তৈরি হয়।
ব্যক্তিগত পরামর্শ (Personal Advice)
ভূগোল এমন একটি বিষয় যেখানে মুখস্থ করার চেয়ে বোঝা বেশি জরুরি। বিশেষ করে দ্রাঘিমা ও সময়ের অঙ্ক কিংবা পাতসংস্থান তত্ত্বের মতো বিষয়গুলো একবার পরিষ্কারভাবে বুঝে নিলে পরীক্ষায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। ম্যাপ পয়েন্ট করার সময় পেন্সিল ব্যবহার করা এবং নদীর নাম বা পাহাড়ের নাম নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে দেখানো অভ্যাস করুন।
পরীক্ষার বিশেষ টিপস (Exam Tips)
- পয়েন্ট করে উত্তর লেখা: ভূগোলের বড় প্রশ্নে (৩ বা ৫ নম্বর) প্যারাগ্রাফ না লিখে বুলেট পয়েন্ট বা নম্বর দিয়ে উত্তর লিখবেন। এতে পরীক্ষকের খাতা দেখতে সুবিধা হয় এবং নম্বর বেশি পাওয়া যায়।
- চিত্রের ব্যবহার: যেখানেই সম্ভব (যেমন— ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি বা পাতসংস্থান) সেখানে হাতে আঁকা ডায়াগ্রাম বা স্কেচ দিন। এতে উত্তরের মান অনেক বেড়ে যায়।
- অঙ্কের নির্ভুলতা: সময় ও দ্রাঘিমার অঙ্কে প্রতিটি ধাপ স্পষ্ট করে দেখান। কোন দ্রাঘিমা কোন গোলার্ধে (পূর্ব না পশ্চিম) তা উল্লেখ করতে ভুলবেন না।
- সময়ের ব্যবস্থাপনা: বিভাগ-ক এবং খ-এর ছোট প্রশ্নগুলো আগে শেষ করার চেষ্টা করুন যাতে বড় প্রশ্ন এবং ম্যাপ পয়েন্ট করার জন্য হাতে যথেষ্ট সময় থাকে।
- নির্ভুল পরিভাষা: ভূগোলের উত্তর লেখার সময় সঠিক ভৌগোলিক শব্দ (যেমন— 'অবরোহণ', 'আরোহণ', 'রেগোলিথ') ব্যবহার করুন।
কল টু অ্যাকশন (Call to Action)
১. অনুশীলন বাড়ান: গত ৫ বছরের টেস্ট পেপার বা পর্ষদের নমুনা প্রশ্নপত্র সমাধান করুন। এতে প্রশ্নের ধরণ সম্পর্কে সম্যক ধারণা হবে।
২. মানচিত্র চিহ্নিতকরণ (Map Pointing): প্রতিদিন অন্তত ৫টি করে জায়গা ম্যাপে চিহ্নিত করার প্র্যাকটিস করুন। ১০-এ ১০ পাওয়া এখানে খুবই সহজ।
৩. নিজের নোটস তৈরি করুন: বইয়ের কঠিন ভাষা না লিখে শিক্ষকের সহায়তায় নিজের ভাষায় সহজ অথচ তথ্যসমৃদ্ধ নোটস তৈরি করে তা বারবার রিভিশন দিন।
আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অনেক শুভকামনা রইল! আরও কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্ন বা টপিক বুঝতে অসুবিধা হলে নির্দ্বিধায় জিজ্ঞাসা করতে পারেন।




0 মন্তব্যসমূহ
Please do not send any bad messages or add any spam links.