সমাস বাংলা ব্যাকরণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর

 সমাস বাংলা ব্যাকরণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর


কমবেশি কুড়িটি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও

সমাস-বাংলা-ব্যাকরণ-গুরুত্বপূর্ণ-প্রশ্ন-উত্তর



● প্রশ্ন ২.১। 'সমাস' শব্দের আক্ষরিক ও ব্যাকরণগত অর্থ কী?


উত্তর : ‘সমাস’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো ‘মিলন বা সমাহার’। ব্যাকরণগত অর্থ হলো পরস্পর অর্থসম্বন্ধযুক্ত দুই বা তার বেশি পদ মিলে একপদে পরিণত হওয়া।


প্রশ্ন ২.২। সমাসের লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।


উত্তর : সমাসে সমাসবদ্ধ হওয়ার পদগুলি—(১) পাশাপাশি অবস্থিত, (২) পারস্পরিক অর্থসম্পর্ক যুক্ত, (৩) অর্থ - সম্পর্কযুক্ত বলেই দুই বা দুইয়ের বেশি পদ একপদে পরিণত হওয়া।


প্রশ্ন ২.৩। সমাসে পাশাপাশি অবস্থিত পদের একপদী- করণ হওয়ার উদ্দেশ্য কী?


উত্তর : পদের সমাসবদ্ধ হওয়ার উদ্দেশ্য বক্তব্য প্রকাশের ভাষা প্রাঞ্জল, মধুর ও পাঠ সুখকর হয়ে ওঠা।


● প্রশ্ন ২.৪। সমাস ও সন্ধির গঠনগত পার্থক্য কী?


উত্তর : সমাস ও সন্ধির গঠনগত পার্থক্য এই যে, সমাসে পরস্পর অর্থসম্বন্ধযুক্ত দুই বা তার বেশি পদের মিলনে একপদে পরিণত


হওয়া। সন্ধিতে পাশাপাশি অবস্থিত দুই ধ্বনির পরিবর্তন বা লোপ বা মিলনের মাধ্যমে একপদীকরণ।


। প্রশ্ন ২.৫। সমাসের ব্যাসবাক্য উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।


উত্তর : সমাসবদ্ধপদকে ভাঙলে বা ব্যাখ্যা করলে যে বাক্য বা বাক্যাংশটি পাওয়া যায়, তা হলো ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য। যেমন—জলজ = জলে জন্মে যা।‘জলে জন্মে যা’ ব্যাসবাক্য।


প্রশ্ন ২.৬। উদাহরণসহ সমস্যমান পদ আলোচনা করো।


উত্তর : ব্যাসবাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি পদ সমস্যমান পদ। যেমন—পথচলা = পথে চলা।‘পথে’ ও ‘চলা’ সমস্যমান পদ।


প্রশ্ন ২.৭। পূর্বপদ ও পরপদ কী উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।


উত্তর : ব্যাসবাক্যের প্রথমাংশের পদ পূর্বপদ, শেষাংশের পদ পরপদ। যেমন—অর্থগৌরব = অর্থের গৌরব। ‘অর্থের’ পূর্বপদ, ‘গৌরব’ পরপদ।


● প্রশ্ন ২.৮। সমাস কয় প্রকার ও কী কী?


উত্তর : সমাস নয় প্রকার। যেমন—দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ বহুব্রীহি, দ্বিগু, অব্যয়ীভাব, নিত্যসমাস, অলোপ, বাক্যাশ্রয়ী।


● প্রশ্ন ২.১। কোন্ সমাসে কোন্ পদের অর্থপ্রাধান্য তার তালিকা তৈরি করো।


উত্তর : পরপদের অর্থপ্রাধান্য : তৎপুরুষ, কর্মধারয়। উভয় পদের অর্থপ্রাধান্য : দ্বন্দ্ব। অন্য পদের অর্থপ্রাধান্য : বহুব্রীহি। পূর্বপদের অর্থপ্রাধান্য : অব্যয়ীভাব।

= উত্তর : হাট ও বাজার = হাট-বাজার। পূর্ব ও পরপদ একই অর্থবিশিষ্ট, সে-অর্থে সমার্থক। উভয় পদের সমাসনিষ্পন্ন হওয়ায় উভয় পদের অর্থ প্রধান। কাজেই সমার্থক দ্বন্দ্ব।


প্রশ্ন ২.১২। ‘ইত্যাদি’ অর্থবোধক দ্বন্দ্ব বলতে কী বোঝো?



উত্তর : অনুরূপ বা সমজাতীয় ভাব প্রকাশের জন্য অনুচর, সহচর, প্রতিচর প্রভৃতি অর্থবোধক শব্দের মিলনে ‘ইত্যাদি অর্থবোধক’ দ্বন্দ্ব হয়।


● প্রশ্ন ২.১৩। একশেষ দ্বন্দ্ব কাকে বলে? উদাহরণ দাও।


উত্তর : যে দ্বন্দ্ব সমাসের সমস্যমান পদগুলির মধ্যে সমাসনিষ্পন্ন হওয়ার পরে একটিমাত্র পদ থাকে ও অন্য পদগুলি নিবৃত্ত হয়, তা একশেষ দ্বন্দ্ব। যেমন— সে ও তুমি = তোমরা।


• প্রশ্ন ২.১৪। কর্মধারয় সমাস বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।


উত্তর : বিশেষণ ও বিশেষ্য বা বিশেষ্য ও বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ ও বিশেষণ পদে সমাস হলে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হলে, তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস। যেমন— —পূর্ণ যে চন্দ্ৰ = পূর্ণচন্দ্ৰ।


• প্রশ্ন ২.১৫। উদাহরণসহ উপমান কর্মধারয় লেখো।


উত্তর : বরফের মতো সাদা = বরফসাদা।‘বরফ’ উপমান, ‘সাদা’ সাধারণ ধর্ম। উপমানবাচক পূর্বপদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পরপদের সমাস হয়েছে। এ ধরনের সমাস উপমান কর্মধারয়।


• প্রশ্ন ২.১৬। নর সিংহের ন্যায় = নরসিংহ। এই দৃষ্টান্তকে উপমিত কর্মধারয় বলা হয়েছে কেন?


উত্তর : ‘নর’ পূর্বপদ উপমেয়বাচক, ‘সিংহ’ পরপদ উপমানবাচক। উভয়ের মধ্যে সমাসনিষ্পন্ন হয়েছে এবং উত্তর পদের অর্থ প্রাধান্য পেয়েছে। সেজন্য উপমিত কর্মধারয়।


• প্রশ্ন ২.১৭। রূপক কর্মধারয় কাকে বলে? উদাহরণ দাও।


উত্তর : উপমেয়বাচক পূর্বপদ ও উপমানবাচক পরপদের মধ্যে


অভেদ কল্পনা করা হলে এবং উত্তরপদের অর্থ প্রাধান্য পেলে, তাকে বলা হয় রূপক কর্মধারয়। যেমন—শোকরূপ সিন্ধু = শোকসিন্ধু।


● প্রশ্ন ২.১০। 'দ্বন্দু' সমাস বলতে কী বোঝো উদাহরণ দাও।


উত্তর : ব্যাসবাক্যের পূর্ব ও পরপদ সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হলে এবং সমাসনিষ্পন্ন হওয়ার পর পূর্ব ও পরপদের অর্থ প্রধান হলে, দ্বন্দ্ব সমাস হয়। যেমন— মা ও মেয়ে - মা-মেয়ে। = • প্রশ্ন ২.১১। উদাহরণসহ সমার্থক দ্বন্দ্ব আলোচনা করো।

প্রশ্ন ২.১৮। 'কুটিরশিল্প' পদটিকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় বলা হয় কেন?


উত্তর : যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়, তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপ কর্মধারয়। ‘কুটিরশিল্প’ পদটির ব্যাসবাক্য হলো ‘কুটির জাত শিল্প’ সমাসনিষ্পন্ন হওয়ার সময় মধ্যপদ ‘জাত’ লোপ পেয়েছে।


● প্রশ্ন ২.১৯। তৎপুরুষ সমাস বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।


উত্তর : যে সমাসে পূর্বপদের কর্ম, করণ, অপাদান প্রভৃতি বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যথা—বীজকে বোনা = বীজবোনা।


● প্রশ্ন ২.২০। উদাহরণ দিয়ে কর্ম তৎপুরুষ বুঝিয়ে দাও।


উত্তর : রথকে দেখা = রথ-দেখা। পূর্বপদ ‘রথকে’ কর্মের ‘কে’ বিভক্তি সমাসনিষ্পন্ন হওয়ার সময় লোপ পেয়েছে এবং ‘দেখা’র অর্থ প্রধান হয়েছে। সেজন্য ‘রথ-দেখা’ কর্মতৎপুরুষ।


• প্রশ্ন ২.২১। করণ তৎপুরুষ উদাহরণসহ আলোচনা করো।


উত্তর : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে করণের জন্য বিভক্তি-রূপে ব্যবহৃত ‘দিয়া’, ‘দ্বারা’ইত্যাদি লোপ পায়, তাকে বলা হয় করণ তৎপুরুষ। যেমন—যন্ত্র দ্বারা চালিত = যন্ত্রচালিত। ‘দ্বারা’ লোপ পেয়েছে।


প্রশ্ন ২.২২। সম্বন্ধ তৎপুরুষ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।


উত্তর : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের সম্বন্ধ বিভক্তি ‘র’, ‘এর’ লোপ পায়, তাকে বলা হয় সম্বন্ধ তৎপুরুষ। যেমন— পথের রাজা = রাজপথ।


। প্রশ্ন ২.২৩। ‘হইতে’, ‘থেকে’ বিভক্তি কোন্ সমাসে লোপ পায়?


উত্তর : অপাদান তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে বিভক্তিস্বরূপ ‘হইতে’, ‘থেকে’ অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। সমাস হওয়ার সময় বিভক্তিস্বরূপ ‘হইতে’, ‘থেকে’ অনুসর্গ লোপ পায়।


। প্রশ্ন ২.২৪। অধিকরণ তৎপুরুষের পূর্বপদের বিভক্তি কী কী? সমাসনিষ্পন্ন হওয়ায় এগুলির কী হয় লেখো ও উদাহরণ দাও।


উত্তর : অধিকরণ তৎপুরুষে বিভক্তি ‘এ’, ‘য়’। সমাসনিষ্পন্ন হওয়ার সময় ‘এ’ কিংবা ‘য়’ বিভক্তি লোপ পায়। যেমন—মনে মরা = মনমরা।


প্রশ্ন ২.২৫। না-তৎপুরুষের পূর্বপদ কী হয়? সমাস হওয়ার সময় না, নয়, 'নেই' স্থানে কী হয়?


উত্তর : না-তৎপুরুষের পূর্বপদ হয় ‘না’, ‘নয়’, ‘নেই’ ইত্যাদি নঞর্থক বা নিষেধার্থক অব্যয়। সমাসনিষ্পন্ন হওয়ার সময় না, নয়, নেই স্থানে হয় অ, অনা, না, আ, গর, বি, বে, নি, নির্ ইত্যাদি।


• প্রশ্ন ২.২৬। কৃদন্ত পদ কী? উপপদই বা কী?


উত্তর : কৃৎ-প্রত্যয়ান্ত পদ হলো কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্ববর্তী পদ হলো উপপদ। যেমন—ইন্দ্ৰজিৎ = ইন্দ্ৰ-জিৎ। ‘জিৎ’ কৃদন্ত পদ, তার পূর্ববর্তী পদ ‘ইন্দ্র’ উপপদ।


• প্রশ্ন ২.২৭। উপপদ তৎপুরুষ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।


উত্তর : উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের মিলনে যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন—ইন্দ্রকে জয় করেছেন যিনি = ইন্দ্ৰজিৎ।


। প্রশ্ন ২.২৮। ব্যাপ্তি তৎপুরুষ সমাস বলতে কী বোঝো?


উত্তর : যে তৎপুরুষ সমাসে ব্যাপ্তি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় ব্যাপ্তি তৎপুরুষ সমাস। যেমন—চিরকাল ব্যাপী স্মরণীয় চিরস্মরণীয়।


। প্রশ্ন ২.২৯। ব্রিয়াবিশেষণ তৎপুরুষ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।


উত্তর : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদ ক্রিয়াবিশেষণ হয়, তাকে বলা হয় ক্রিয়াবিশেষণ তৎপুরুষ।


॥ প্রশ্ন ২.৩০। কোন্ সমাসের বৈশিষ্ট্য হলো পূর্বপদ উপসর্গ। তার সঙ্গে পর পর বিশেষ্যের সমাস বলে কী সমাস হয়?


উত্তর : উপসর্গ তৎপুরুষের পূর্বপদের বৈশিষ্ট্য হলো উপসর্গ। তার সঙ্গে পরপদ বিশেষ্যের সমাস হলে উপসর্গ তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন—বি (বিরুদ্ধা) মাতা = বিমাতা।


প্রশ্ন ২.৩১। কোন্ সমাসে সমস্যমান পদের অর্থ প্রতীয়মান হয় না? অথচ ওই সমস্যমান পদের দ্বারা কী অর্থ প্রকাশিত হয়?


উত্তর : বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের অর্থ প্রকাশিত হয় না। অথচ ওই সমস্যমান পদের দ্বারা লক্ষিত অর্থ প্রকাশিত হয়, বহুব্রীহি সমাসের এটাই বৈশিষ্ট্য।


● প্রশ্ন ২.৩২। বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ কী হয়? উদাহরণ দিয়ে পূর্বপদ দেখিয়ে দাও।


উত্তর : বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ হয় বিশেষ্য, বিশেষণ কিংবা সংখ্যাবাচক বিশেষণ। যেমন—চন্দ্র (বিশেষ্য) শেখরে যাঁর, (বিশেষণ) অম্বর যাঁর, দশ (সংখ্যাবাচক বিশেষণ) আনন যাঁর। পীত


● প্রশ্ন ২.৩৩। ব্যতিহার বহুব্রীহি কাকে বলে? উদাহরণ দাও। 

.

উত্তর : যে বহুব্রীহি সমাসে একই পদের পুনরুক্তির দ্বারা পরপর একজাতীয় ক্রিয়া করা বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি যেমন—লাঠিতে লাঠিতে যুদ্ধ = লাঠালাঠি। সমাস বলে।


প্রশ্ন ২.৩৪। সহার্থক বহুব্রীহি বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।


উত্তর : যে বহুব্রীহি সমাসে সহার্থক পূর্বপদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের সমাস হয়, তাকে বলা হয় সহার্থক বহুব্রীহি সমাস। যেমন— পরিবারসহ বর্তমান = সপরিবার।


প্রশ্ন ২.৩৫। না-বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ কী হয়? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে উদাহরণ দাও।


উত্তর : না-বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ হয় নঞর্থক বা নিষেধার্থক অব্যয়। উদাহরণ—নেই খুঁত যার = নিখুঁত। =


প্রশ্ন ২.৩৬। ‘সহস্ৰলোচন'-কে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয় কেন?


উত্তর : সহস্র লোচন যার সহস্ৰলোচন। পূর্বপদ ‘সহস্ৰ’ সংখ্যাবাচক বিশেষণ। তার সঙ্গে পরপদ ‘লোচন’ বিশেষ্যের সমাস হয়েছে। এই জন্য বহুব্রীহি সমাস। =


। প্রশ্ন ২.৩৭। নীচের ব্যাসবাক্যটিকে সমাসবদ্ধ করে তার শ্রেণি নির্ণয় করো-শশ অঙ্কে যার-।


উত্তর : শশ অঙ্কে যার = শশাঙ্ক। ‘শশাঙ্ক’ বহুব্রীহি সমাস। ● 


প্রশ্ন ২.৩৮। দ্বিগু সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।


উত্তর : সংখ্যাবাচক বিশেষণ পদের সঙ্গে বিশেষ্যপদের সমাস হলে এবং সমাহার বা সমষ্টি অর্থ প্রকাশিত হলে, তাকে বলা হয় (দ্বিগু)। যেমন—পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী।


। প্রশ্ন ২.৩৯। অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদ কী হয়? কোন্ পদের অর্থ প্রধান হয়? সমাস- নিষ্পন্ন হলে পরপদের কী হয়?


উত্তর : অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদ হয় অব্যয়। পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়। সমাসনিষ্পন্ন হলে পরপদ হয় অব্যয়ভাবাপন্ন। যেমন—ভাতের অভাব = হা-ভাত।


প্রশ্ন ২.৪০। যোগ্যতা, সাদৃশ্য ও পশ্চাৎ অর্থ প্রকাশক তিনটি অব্যয়ীভাব সমাসের একটি করে উদাহরণ দাও উত্তর : যোগ্যতা—ভাবের যোগ্য = অনুভাব, সাদৃশ্য—দ্বীপের সদৃশ = উপদ্বীপ, পশ্চাৎ—গমনের পশ্চাৎ = অনুগমন।



প্রশ্ন ২.৪১। 'নিত্যসমাস' বলতে কী বোঝো?


উত্তর : যে সমাসে সমস্যমান পদগুলি নিত্য বা সবসময় সমাসবদ্ধ থাকে, অর্থাৎ যার ব্যাসবাক্য হয় না, ব্যাসবাক্য করতে হলে একই অর্থবিশিষ্ট অন্য পদ নিতে হয়, তাকে বলা হয় নিত্যসমাস। যেমন—কেবল নাম = নামমাত্র।


(মাধ্যমিক, ২০১৯)


প্রশ্ন ২.৪৩। ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো : অনুগমন।


উত্তর: গমনের পশ্চাৎ = অনুগমন (অব্যয়ীভাব সমাস)।


● প্রশ্ন ২.৪৪। বাক্যাশ্রয়ী সমাস কী? উদাহরণ দাও।


উত্তর : যে সমাসবদ্ধ পদকে আশ্রয় করে এক-একটি বাক্যের অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলে। যেমন—বসেআঁকো-প্রতিযোগিতা।



প্রশ্ন ২.৪২। অলোপ সমাস কী?


উত্তর : অলোপ সমাস হলো, যে সমাস নিষ্পন্ন হওয়ার পরেও পূর্বপদের বিভক্তি থেকে যায় বা পূর্বপদ লোপ পায় না, তা অলোপ সমাস। যেমন—জলে ও কাদায় = জলে-কাদায় (অলোপ দ্বন্দ্ব)। =


প্রশ্ন ২.৪৫। গৌর অঙ্গ যাহার—ব্যাসবাক্যটি সমাসবদ্ধ করে সমাসের নাম লেখো। (মাধ্যমিক, ২০১৮


উত্তর : গৌরাঙ্গ—বহুব্রীহি সমাস।


প্রশ্ন ২.৪৬। ব্যাসবাক্যসহ একটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ (মাধ্যমিক, ২০১৯) দাও।


উত্তর : পাহাড়পর্বত = পাহাড় ও পর্বত।


প্রশ্ন ২.৪৭। ‘মেঘে ঢাকা’ শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম উল্লেখ করো। (মাধ্যমিক, ২০১৯)


উত্তর : মেঘ (মেঘ দ্বারা) ঢাকা - করণ তৎপুরুষ।


ব্যাসবাক্য সহ সমাস নির্ণয়ের জন্য প্রথমে প্রদত্ত শব্দটির (সমস্তপদ) অর্থ বুঝতে হবে এবং সেটিকে অর্থবহভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। এরপর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

সমাস নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি

১. বিভক্তি খেয়াল করুন: যদি ব্যাসবাক্যে 'কে', 'র', 'তে' এর মতো বিভক্তি লোপ পায়, তবে তা তৎপুরুষ সমাস।

২. তুলনা বুঝলে: তুলনা বোঝালে কর্মধারয় সমাস হয় (যেমন: উপমান বা উপমিত)।

৩. সংখ্যা থাকলে: প্রথম পদ সংখ্যাবাচক হলে এবং সমষ্টি বোঝালে সেটি দ্বিগু সমাস।

৪. উভয় পদের প্রাধান্য: 'ও', 'এবং' দিয়ে যুক্ত হলে এবং দুই পদের অর্থই প্রধান হলে তা দ্বন্দ্ব সমাস।

৫. নতুন অর্থ: যদি পদের অর্থের বাইরে সম্পূর্ণ নতুন কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তবে তা বহুব্রীহি সমাস।

৬. অব্যয়ের প্রাধান্য: শুরুতে অব্যয় থাকলে এবং তার অর্থ প্রধান হলে সেটি অব্যয়ীভাব সমাস।

সমস্তপদ

ব্যাসবাক্য

সমাসের নাম

পকেটমার

পকেট মারে যে

উপপদ তৎপুরুষ

সিংহাসন

সিংহ চিহ্নিত আসন

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়

হাতাহাতি

হাতে হাতে যে লড়াই

ব্যতিহার বহুব্রীহি


সমাস নির্ণয় করাটা অনেকটা গোয়েন্দাগিরির মতো—শব্দটি কীভাবে তৈরি হয়েছে তার 'ক্লু' বা সূত্র খুঁজে বের করতে হয়। নিচে প্রধান ৬টি সমাসের সহজ ব্যাখ্যা ও উদাহরণ দেওয়া হলো:

১. দ্বন্দ্ব সমাস (উভয় পদের প্রাধান্য)

এখানে ব্যাসবাক্যে 'ও' বা 'এবং' থাকে। মনে রাখবেন, এখানে দুই পাশের শব্দই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 * মা-বাবা: মা ও বাবা।

 * দুধে-ভাতে: দুধে ও ভাতে (অলুক দ্বন্দ্ব)।

২. কর্মধারয় সমাস (বিশেষণ + বিশেষ্য)

যখন একটি পদ অন্যটির গুণ বা অবস্থা বোঝায় অথবা তুলনা করে।

 * নীলপদ্ম: নীল যে পদ্ম (সাধারণ কর্মধারয়)।

 * কাজলকালো: কাজলের ন্যায় কালো (উপমান)।

 * মনমাঝি: মন রূপ মাঝি (রূপক)।

৩. তৎপুরুষ সমাস (বিভক্তি লোপ পায়)

শব্দটি ভাঙলে মাঝখানে বিভক্তি (কে, রে, দ্বারা, হতে, র, তে) পাওয়া যায় এবং সমস্তপদে সেটি মুছে যায়।

 * বিপদাপন্ন: বিপদকে আপন্ন (২য়া তৎপুরুষ)।

 * মধুমাখা: মধু দিয়ে মাখা (৩য়া তৎপুরুষ)।

 * খেয়াঘাট: খেয়া পারাপারের ঘাট (৬ষ্ঠী তৎপুরুষ)।

৪. বহুব্রীহি সমাস (তৃতীয় কোনো অর্থ)

এখানে ব্যাসবাক্যের কোনো পদের অর্থ না বুঝিয়ে সম্পূর্ণ নতুন কিছু বোঝায়। এর শেষে সাধারণত 'যার' থাকে।

 * দশানন: দশ আনন (মুখ) যার (অর্থাৎ রাবণ)।

 * বিনা-পাণি: বিনা (বাদ্যযন্ত্র) পাণিতে (হাতে) যার (অর্থাৎ দেবী সরস্বতী)।

৫. দ্বিগু সমাস (সংখ্যা + সমষ্টি)

শুরুতে একটি সংখ্যা থাকবে এবং শেষে 'সমাহার' শব্দটি বসবে।

 * চৌরাস্তা: চার রাস্তার সমাহার।

 * ত্রিলোক: তিন লোকের সমাহার।

৬. অব্যয়ীভাব সমাস (অব্যয়ের প্রাধান্য)

শব্দের শুরুতে উপ, যথা, অনু, নি—এরকম অব্যয় থাকে।

 * উপকূল: কূলের সমীপে।

 * যথাসময়: সময়কে অতিক্রম না করে।

সমাস চেনার চটজলদি টিপস:

>  * মাঝখানে 'ও' থাকলে = দ্বন্দ্ব।

>  * মাঝখানে 'ন্যায়' বা 'রূপ' থাকলে = কর্মধারয়।

>  * শুরুতে সংখ্যা থাকলে = দ্বিগু।

>  * শেষে 'যার' থাকলে = বহুব্রীহি।

>  * বিভক্তি (র, এর, কে) হারিয়ে গেলে = তৎপুরুষ।

আপনার কাছে কি এমন কোনো শব্দের তালিকা আছে যার সমাস নির্ণয় করতে আপনার সমস্যা হচ্ছে? আমি সেগুলো সমাধান করে দিতে পারি।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ