১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই বিপ্লব-উনবিংশ শতকের ইউরোপ নবম শ্রেণীর ইতিহাস

 ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই বিপ্লব-উনবিংশ শতকের ইউরোপ নবম শ্রেণীর ইতিহাস


ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ: রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত। ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই বিপ্লব এই অধ্যায়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে।

১৮৩০-খ্রিস্টাব্দের-জুলাই-বিপ্লব-উনবিংশ-শতকের-ইউরোপ-নবম-শ্রেণীর-ইতিহাস


প্রশ্নঃ।। জুলাই রাজতন্ত্র বলতে কী বােঝ ? এই রাজতন্ত্রের পতনের কারণ কী ছিল? 


উত্তর


জুলাই রাজতন্ত্র


১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জুলাই বিপ্লবের পর অর্লিয়েন্স বংশীয় লুই ফিলিপ ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেন। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে লুই ফিলিপ কর্তৃক এই রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় বলে এটি জুলাই রাজতন্ত্র’ নামে পরিচিত। 


জুলাই রাজতন্ত্রের পতনের কারণ


১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে লুই ফিলিপ তথা জুলাই রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং ফ্রান্সে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। জুলাই রাজতন্ত্রের পতনের বিভিন্ন কারণ ছিল—


[1] বুর্জোয়া শ্রেণির আধিপত্য : জুলাই রাজতন্ত্রের শাসনকালে ফ্রান্সে বুর্জোয়া শ্রেণির আধিপত্য যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল। পার্লামেন্টেও ছিল বুর্জোয়াদের প্রাধান্য। নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তির অধিকারীদেরই একমাত্র ভােটাধিকার ছিল এবং দরিদ্র শ্রেণি ভােটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ফলে দেশের দরিদ্র সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ ছিল।


[2] জনসমর্থনের অভাব : এই সময় ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ কোনাে রাজনৈতিক দলের সমর্থন লুই ফিলিপের সরকারের প্রতি ছিল না। আবার রাজতন্ত্রের সমর্থকরা মনে করতেন যে, সিংহাসনের ওপর লুই ফিলিপের কোনাে বৈধ অধিকার নেই। এ ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক গােষ্ঠীগুলি নিজ নিজ অনুগামীদের সিংহাসনে বসাতে চাইত।


[3] শ্রমিকদের ক্ষোভ : ফ্রান্সে শিল্পবিপ্লব শুরু হলে শ্রমিকশ্রেণির আবির্ভাব ঘটে। এদিকে জুলাই রাজতন্ত্রের আমলে ফরাসি শ্রমিকদের দুর্দশার সীমা ছিল না। তারা প্রচুর সময় ধরে কাজ করা, সামান্য মজুরি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস প্রভৃতি অন্যায়ের শিকার হয়। অথচ লুই ফিলিপের সরকার শ্রমিকদের কল্যাণে কোনাে পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।


[4] ভােটাধিকারে বঞ্চনা : জুলাই রাজতন্ত্র সম্পত্তির ভিত্তিতে ভােটাধিকার দান করলে দেশের সিংহভাগ মানুষ ভােটাধিকার থেকে বঞ্চিত হন। এ ছাড়া ভােট গ্রহণেও সীমাহীন দুর্নীতি চলায় সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্ধ হয়।


[5] বিদেশনীতিতে ব্যর্থতা: লুই ফিলিপের বিদেশনীতি ছিল দুর্বল, নিষ্ক্রিয় ও ব্যর্থ। ফ্রান্সের বাইরে বিভিন্ন দেশে ভৌগােলিক সম্প্রসারণের সুযোেগ থাকলেও ফিলিপ শান্তিবাদী নীতি নিয়ে ইউরােপীয় যুদ্ধ, পােল্যান্ড ও ইটালির জাতীয়বাদী আন্দোলন, বেলজিয়ামের স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রভৃতি থেকে দূরে থাকেন। ফলে দেশবাসী হতাশ হন।


[6] আর্থিক সংকট : ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ফ্রান্স তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের শিকার হয়। দেশে বেকারত্ব বাড়ে। খরা ও শস্যহানির ফলে দেশে খাদ্যাভাব তীব্র হয় এবং খাদ্যের মূল্য আকাশ ছোঁয়া হয়ে যায়।


[7] প্রত্যক্ষ কারণ : দেশের এই জটিল পরিস্থিতিতে লুই ফিলিপ ও তার প্রধানমন্ত্রী গিজো বিভিন্ন প্রগতিশীল দাবিদাওয়া অগ্রাহ্য করেন। ফলে জনগণের আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। ২৩ ফেব্রুয়ার (১৮৪৮ খ্রি.) গিজোর বাসভবনের সামনে রক্ষীদের গুলিতে ২। জন বিক্ষোভকারী নিহত হলে সারা দেশে তীব্র আন্দোলন ছড়িঃ পড়ে। আন্দোলনের চাপে লুই ফিলিপ সিংহাসন ত্যাগ করলে জুলাই রাজতন্ত্রের পতন ঘটে।


উপসংহার: জুলাই রাজতন্ত্রের স্বরূপ মােটেই স্পষ্ট ছিল না। ঐতিহাসিক ফিশার বলেছেন যে, লুই ফিলিপের সরকার না ছিল প্রকৃত রাজতন্ত্র, ছিল প্রজাতন্ত্র, না ছিল প্রকৃত সাম্রাজ্য।


প্রশ্নঃ।।  ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লবের পটভূমি ও প্রভাব আলােচনা করাে।  


উত্তর


ফরাসি সম্রাট অষ্টাদশ লুইয়ের মৃত্যুর (১৮২৪ খ্রি.) পর তার ভাই সম্রাট দশম চার্লস (১৮২৪-৩০ খ্রি.) ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেন। জুলাই বিপ্লবের কারণ/পটভূমি


তীব্র প্রতিক্রিয়াশীল দশম চার্লসের বিরুদ্ধে ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জুলাই বিপ্লব ঘটে। এই বিপ্লবের বিভিন্ন কারণ ছিল—


[1] মধপত্য নীতি বাতিল পূর্ববর্তী সম্রাট অষ্টাদশ লুই-এর মধ্যপন্থা নীতি বাতিল করে দশম চার্লস ফ্রান্সে নিরঙ্কুশ স্বৈরতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র ও ক্যাথলিক গির্জার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করেন। বহু সাংবাদিককে কারারুদ্ধ করা হয়।


[2] ধর্মীয় উদ্যোগ দশম চার্লস ‘ধর্মবিরােধী আইন’ (১৮২৭ খ্রি.) পাস করে—(1) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর গির্জার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেন। [u] গির্জার বিরুদ্ধে সমালােচনার অধিকার কেড়ে নেন। [ii] জেসুইট নামক নির্বাসিত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লােকেদের দেশে ফিরিয়ে এনে উচ্চ রাজপদে নিয়ােগ করেন।


[3] কতিপূরণ বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের দেশত্যাগী অভিজাতদের জমি বাজেয়াপ্ত করে তা কৃষকদের বিতরণ করা হয়েছিল। দশম চার্লস অ্যাক্ট অব জাস্টিস' নামে এক আইন পাশ করে সেই বাজেয়াপ্ত জমির জন্য অভিজাতদের ক্ষতিপূরণ দিতে গিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন।


[4] জুলঅনিয়ন্সি দশম চার্লস জুলাই অর্ডিন্যান্স (২৫ জুলাই, ১৮৩০ খ্রি.) জারি করে— নির্বাচিত আইনসভা ভেঙে দেন, {i}} সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেন, বুর্জোয়া শ্রেণির ভােটাধিকার কেড়ে নেন, it. অষ্টাদশ লুইএর আমলের সনদ বাতিল করেন। এই অর্ডিন্যান্স ঘােষণাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লবের সূত্রপাত হয়। বিপ্লবের ব্যাপকতায় সম্রাট দশম চার্লসের পতন ঘটে এবং অর্লিয়েন্স বংশীয় লুই ফিলিপ ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেন।


ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লবের প্রভাব


ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লবের ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছিল। যেমন— [1] স্বৈরতন্ত্র ধ্বংস : ঐতিহাসিক গর্ডন ক্রেইগ বলেছেন যে, দশম চার্লসের আমলে দেশে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা চালানাে হয়েছিল তা জুলাই বিপ্লব ধ্বংস করে দেয়।


[2] ফরাসি বিপ্লবের পরিপূরক:জুলাই বিপ্লব অভিজাততন্ত্র, যাজকতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্র ধ্বংস করে ফ্রান্সে সাম্য, ধর্মনিরপেক্ষতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রভৃতি গণতান্ত্রিক নীতিগুলি স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করে। 


[3] বুর্জোয়াদের আধিপত্য : জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্রান্সে যাজক ও অভিজাতদের আধিপত্য ধ্বংস হলে বুর্জোয়াদের রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের আমলে ফ্রান্সে শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয়।


[4] বুরবো বংশের পতন : ফ্রান্সে স্বৈরাচারী বুরবো বংশের শাসনের অবসান ঘটে এবং অর্লিয়েন্স বংশীয় লুই ফিলিপ ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেন। এই বংশের অধীনে ফ্রান্সে নিয়মতান্ত্রিক রাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।


[5] ন্যায্য অধিকার নীতির অসারতা ; জুলাই বিপ্লব প্রমাণ ক যে, ন্যায্য অধিকারের ভিত্তিতে নয়, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে রাজা সিংহাসন লাভের অধিকারী।


[6] জাগরণ : জুলাই বিপ্লব একদিকে যেমন ফ্রান্সের শ্রমিক শ্রেণি চিন্তার জাগরণ ঘটায়, অন্যদিকে তেমনি ভিক্টর হুগাে, জর্জ সায় সাঁ সিমো প্রমুখ তাদের রচনায় দেশের বতি, নিপীড়িত মানুষে দুর্দশার কাহিনি ফুটিয়ে তােলেন। 


উপসংহারঃ ঐতিহাসিক লিপসনের মতে, “জুলাই বিপ্লব ফ্রানে ইতিহাসে খুব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করে। এই বিপ্লবের মধ্যে দি ফ্রান্সের রাজবংশের পরিবর্তন ঘটে, জনসাধারণের লুপ্ত অধিকার ফি আসে। জুলাই বিপ্লব ফ্রান্সের এক নতুন ঊষার সূচনা করে।


জুলাই বিপ্লবের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর


প্রশ্নঃ।। জুলাই বিপ্লবের দুটি কারণ উল্লেখ করাে।


জুলাই বিপ্লবের দুটি প্রধান কারণ ছিল—[1] রাজা দশম চার্ল কর্তৃক ফ্রান্সে স্বৈরতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র ও ক্যাথােলিক গির্জার প্রাধান স্থাপনের চেষ্টা এবং [2] চারটি স্বৈরাচারী অর্ডিন্যান্স জারি (২৫ জুলাই, ১৮৩০ খ্রি.) করে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার উদ্যোগ।


প্রশ্নঃ।। জুলাই বিপ্লবের প্রতি কোন্ ভারতীয় মনীষী কীরূপ ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন?


  জুলাই বিপ্লবের (১৮৩০ খ্রি.) প্রতি ভারতীয় মনীষীরাজা রামমােহন রায় আন্তরিক সমর্থন জানান। বিপ্লবের ফলে বুরবোঁ রাজবংশের পতনে তিনি উৎসাহিত হন এবং ফ্রান্সের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকাকে অভিবাদন জানান।


প্রশ্ন। জুলাই অর্ডিন্যান্স-এর বিষয়বস্তু কী ছিল?


 ফরাসি সম্রাট দশম চার্লস (১৮২৪-১৮৩০ খ্রি.) অর্ডিন্যান্স অব সেন্ট ক্লড’ নামে এক অর্ডিন্যান্স জারি (২৫ জুলাই, ১৮৩০ খ্রি.) করেন যা জুলাই অর্ডিন্যান্স নামে পরিচিত। এর দ্বারা—1] আইনসভা ভেঙে দেওয়া হয়। [2] সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়। [3] বুর্জোয়া শ্রেণির ভােটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। [4] ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দের সনদ বাতিল করা হয়।


প্রশ্ন।। কত সালে কার আমলে জুলাই বিপ্লব ঘটে?


 ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে বুরবো বংশীয় ফরাসি সম্রাট দশম চার্লসের রাজত্বকালে ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়।


প্রশ্নঃ।। ফ্রান্সের অভ্যন্তরে জুলাই বিপ্লবের দুটি প্রভাব উল্লেখ


 ফ্রান্সের অভ্যন্তরে জুলাই বিপ্লবের দুটি উল্লেখযােগ্য প্রভাব হল— [1] জুলাই বিপ্লব দশম চার্লসের স্বৈরাচারী শাসন ধ্বংস করে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। [2] বিপ্লবীরা অর্লিয়েন্স বংশীয় ল ফিলিপকে সিংহাসনে বসালে ভিয়েনা সম্মেলনের ন্যায্য অধিকার নীতি অসারতা প্রমাণিত হয়।


জুলাই বিপ্লবের ছোট প্রশ্ন উত্তর


প্রশ্নঃ।। কে, কার প্ররােচনায় জুলাই অর্ডিন্যান্স জারি করেন? 


 ফরাসি সম্রাট দশম চার্লস, প্রধানমন্ত্রী পলিগন্যাকের প্ররােচনায় জুলাই অর্ডিন্যান্স জারি করেন। 


প্রশ্নঃ।। জুলাই বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা কে ছিলেন?


জুলাই বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন দশম চার্লস।


প্রশ্নঃ. ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জুলাই বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে কোন্ রাজবংশের শাসক সিংহাসনে বসেন? 


১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জুলাই বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে অর্লিয়েন্স বংশের শাসক লুই ফিলিপ সিংহাসনে বসেন।


 প্রশ্নঃ. ফ্রান্সে দশম চার্লসের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?


 ফ্রান্সের সম্রাট দশম চার্লসের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন পলিগন্যাক। 


প্রশ্নঃ ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লব কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয় ?


 ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে (২৮-২৯শে জুলাই) ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লব অনুষ্ঠিত হয়।


প্রশ্নঃ।।, ভিলিল কে ছিলেন।


০ ফরাসি সম্রাট অষ্টাদশ লুইয়ের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ভিলিল।


প্রশ্নঃ, দশম চার্লসের আমলের কয়েকজন উল্লেখযােগ্য মন্ত্রীর নাম লেখাে।


  দশম চার্লসের আমলের কয়েকজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন— ভিলিল, মার্টিগন্যাক, পলিগন্যাক।


প্রশ্নঃ।।. কোন্ ঘটনায় দশম চার্লস পদত্যাগ করেন?


 জুলাই বিপ্লবের (১৮৩০ খ্রি.) ঘটনায় দশম চার্লস পদত্যাগ করেন।


প্রশ্নঃ. জুলাই বিপ্লবের কয়েকজন নেতার নাম লেখাে।


 জুলাই বিপ্লবের কয়েকজন নেতা ছিলেন থিয়ার্স, লাফিত, লাফায়েৎ, তালির প্রমুখ।


প্রশ্নঃ. অষ্টাদশ লুইয়ের পর কে ফ্রান্সের সম্রাট হন?


  অষ্টাদশ লুইয়ের পর ফ্রান্সের সম্রাট হন দশম চার্লস।


 প্রশ্নঃ।। জুলাই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে কে ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেন?


 জুলাই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেন অর্লিয়েন্স বংশের শাসক লুই ফিলিপ।


প্রশ্নঃ।।. কোন্ বিপ্লব ফ্রান্সে বুরবো রাজতন্ত্রের পতন ঘটায়? অথবা, কোন বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে বুরবো রাজবংশের চিরতরে পতন ঘটে ? 


জুলাই বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে বুরবো রাজবংশের পতন ঘটে। 


প্রশ্নঃ।।. ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জুলাই বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে কোন্ রাজবংশের পতন ঘটে ? 


 ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জুলাই বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে বুরবো রাজবংশের পতন ঘটে।


প্রশ্নঃ।।. ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের সিংহাসনে আসীন সম্রাট লুই ফিলিপ কোন্ বংশের রাজা ছিলেন? 


১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের সিংহাসনে আসীন সম্রাট লুই ফিলিপ অর্লিয়েন্স বংশের রাজা ছিলেন।


প্রশ্নঃ. দ্বিতীয় ফরাসি সাম্রাজ্য’-এর সময়কাল উল্লেখ করাে।


‘ দ্বিতীয় ফরাসি সাম্রাজ্য’-এর সময়কাল হল ১৮৫২ থেকে ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।


প্রশ্নঃ।।. কত খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে দ্বিতীয় ফরাসি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল? 


১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে দ্বিতীয় ফরাসি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।


প্রশ্নঃ।।. কে, কবে জুলাই অর্ডিন্যান্স জারি করেন?


  ফরাসি সম্রাট দশম চার্লস ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জুলাই জুলাই অর্ডিন্যান্স’ জারি করেন।


. নেপােলিয়নের মৃত্যুর পর কে ফরাসি সিংহাসনে বসেন?


 নেপােলিয়নের মৃত্যুর পর ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেন বুরবো বংশীয় শাসক তথা ষােড়শ লুইয়ের ভ্রাতা অষ্টাদশ লুই।


প্রশ্নঃ।।. কে, কী উদ্দেশ্যে অ্যাক্ট অব জাস্টিস' আইন পাস করেন?


  ফরাসি সম্রাট দশম চার্লস, দেশে ফিরে আসা অভিজাতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য অ্যাক্ট অব জাস্টিস’আইন পাস করেন।


প্রশ্নঃ।। কে, কী উদ্দেশ্যে ধর্মবিরােধী আইন’ (১৮২৭ খ্রি.) পাস করেন। 


 ফরাসি সম্রাট দশম চার্লস,ফরাসি গির্জার বিরুদ্ধে সমালােচনা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে ধর্মবিরােধী আইন’ (১৮২৭ খ্রি.) পাস করেন।


প্রশ্নঃ।।. দশম চার্লসের আমলে প্রবর্তিত দুটি দমনমূলক আইনের নাম লেখো।


 দশম চার্লসের আমলে প্রবর্তিত দুটি দমনমূলক আইন হল[1] অ্যাক্ট অব জাস্টিস, [2] ধর্মবিরােধী আইন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ