বার্লিন কংগ্রেস ও বার্লিন সন্ধি, ১৮৭৮ খ্রীঃ Teacj Sanjib

বার্লিন কংগ্রেস ও বার্লিন সন্ধি, ১৮৭৮ খ্রীঃ Teacj Sanjib

বার্লিন কংগ্রেস ও বার্লিন সন্ধি

বার্লিন কংগ্রেস:

বার্লিন কংগ্রেস: স্যান স্টিফানোর সন্ধির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া

বার্লিন কংগ্রেস: বল্কান অঞ্চল ও কৃষ্ণসাগরের ওপর রুশ প্রাধান্য স্থাপনের প্রয়াস নিকট প্রাচ্য সমস্যাকে জটিল করে তুলেছিল। ইউরোপে শক্তিসাম্য রক্ষায় উৎকণ্ঠিত বৃহৎ রাষ্ট্রগোষ্ঠী প্যারিসের সন্ধি (১৮৫৬ খ্রীঃ ) দ্বারা রাশিয়ার ঐ প্রয়াসকে প্রতিহত করেছিল। কিন্তু ১৮৭৭ খ্রীষ্টাব্দে রাশিয়া তুরস্ককে পরাজিত করে স্যান স্টিফানোর সন্ধি স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে ক্ষতি পরণ করে নেয় ।
প্যারিসের সন্ধি ব্যবস্হা বিপর্যস্ত হয়ে যায় । ইংল্যান্ড ও পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগলিতে এই রুশ অগ্রগতির বিরুদ্ধে প্রচন্ড প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় । এমন কি বলগেরিয়া ব্যতীত বলকান দেশগলির কাছেও স্যান স্টিফানোর সন্ধি সম্পৰ্ণভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না।

স্যান স্টিফানোর সন্ধি দ্বারা রাশিয়া তুরস্ক সাম্রাজ্যের আংশিক ব্যবচ্ছেদ ঘটিরেছিল। অর্থাৎ ইংল্যান্ডের তুরস্কের অখন্ডতা রক্ষার চিরাচরিত নীতির ওপর আঘাত হেনেছিল । এছাড়া, ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডিসরেলি বল্কান অঞ্চলে রশ প্রাধান্যের প্রসার প্রতিহত করতে দৃঢ় সংকল্প নিয়েছিলেন। কেননা তাঁর স্থিরপ্রত্যয় ছিল যে, ভূমধ্যসাগর দিয়ে ভারতবর্ষ যাতায়াতের জলপথটির নিরাপত্তার জন্য তুরস্ককে শক্তিশালী রাখা প্রয়োজন।

বার্লিন-কংগ্রেস-ও-বার্লিন-সন্ধি-১৮৭৮-খ্রীঃ-Teacj-Sanjib

তুরস্কে রুশ অগ্রগতিতে অস্ট্রিয়াও শঙ্কিত হয়ে ওঠে। রুশ-আশ্রিত ‘বৃহৎ বলগেরিয়া’ রাজ্য গঠিত হলে অস্ট্রিয়ার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় । বহজাতি অধ্যুষিত অস্ট্রিয়ার আশঙ্কা ছিল তার শ্লাভ জনসমষ্টি বুলগেরিয়ার দৃষ্টান্তে স্বাধীন রাজ্য গঠনের জন্য সচেষ্ট হতে পারে ৷ এছাড়া, অস্ট্রিয়ার ক্ষোভের আর একটি কারণ রাশিয়া তাকে বসনিয়া ও হার্জিগোভিনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও স্যান স্টিফানোর সন্ধিতে তা পালন করে নি

বার্লিন কংগ্রেস: ইংল্যান্ডের যুদ্ধবাদী নীতি

এই পরিস্হিতিতে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রিয়া একযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধাচরণে অগ্রসর হল। ইউরোপীয় শক্তিগুলির এক বৈঠক আহ্বান করে স্যান স্টিফানোর সন্ধি পনবিচারের দাবি রাশিয়ার কাছে উত্থাপন করলেন ডিসরেলি। রাশিয়া এই দাবিতে কর্ণপাত না করলে ডিসরেলি ভারতীয় নীতি সৈন্যবাহিনীকে মাল্টার দিকে অগ্রসর হতে আদেশ দেন।
ব্রিটিশ নৌবহরকেও প্রস্তুত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, স্যান স্টিফানোর সন্ধি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বেই ব্রিটিশ জনমত বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছিল এবং ব্রিটিশ সরকার দার্দানেলিস প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিল । এইভাবে যুদ্ধে আসন্ন হয়ে ওঠে।

যুদ্ধের আশু সম্ভাবনায় চিন্তান্বিত হলেন জার্মানীর প্রধানমন্ত্রী বিসমার্ক। ড্রাইকাইজারবণ্ড বা ত্রিসম্রাট মৈত্রার দুই সহযোগী রাষ্ট্র অস্ট্রিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে
যুদ্ধ বাঁধলে ঐ মৈত্র ভেঙে যাবে। সেক্ষেত্রে ফ্রান্সকে নির্বান্ধব করার নীতিও বিশষস্ত হবে।
এজন্য তিনি একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকের মাধ্যমে নিকট-প্রাচ্য সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার কাছে প্রস্তাব করেন। তিনি জার্মানীর রাজধানী বার্লিনে এই বৈঠক আহ্বানের পরামর্শ দেন এবং প্রতিবাদী রাষ্ট্রগলির মধ্যে নিরপেক্ষভাবে মহাস্থতা করার আশ্বাস দেন।

ইউরোপের সম্মিলিত চাপের কাছে রাশিয়া শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করে। সুতরাং বিসমাকে’র সভাপতিত্বে ১৮৭৮ খ্রীষ্টাব্দের জুন মাসে বার্লিনে এক আস্তজাতিক বৈঠক আহৃত হয়। স্যান স্টিফানোর সম্বি পরিবর্তিত করে বার্লিনের সখি স্বাক্ষরিত হল। ১৩ই জুলাই, ১৮৭৮ খ্র:)।

বার্লিন কংগ্রেস: বার্লিন সন্ধির শর্তাবলী :

ৰালি’ন সন্ধির শর্তাবলী : বার্লিনে সন্ধির শর্ত—দ্বারা (১) সার্বিয়া, রুমানিয়া ও মন্টিনেগ্লোর গর্শে স্বাধীনতা পুনরায় স্বীকৃত হল।

(২) ষাটম, কারস, বেসারাবিয়া এবং আমে নিয়ার একাংশের ওপর রাশিয়ার অধিকার স্বীকৃত হল ।

(৩) রুমানিয়াকে বেসারাবিয়। হারাতে হল বলে তাকে দৱজা দেওয়া হল ।

(৪) স্যান স্টিফানো সন্ধি দ্বারা সৃষ্ট ‘বৃহৎ বলগেরিয়া’কে তিনটি অংশে বিভক্ত করা হল। প্রকৃত বলগেরিয়া নামেমাত্র তুর্কী স‚লতানের অধীনে থাকলেও স্বায়ত্তশাসন লাভ করল । সুলতান ও ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের অনুমতিসাপেক্ষে নিজেদের শাসনকর্তা নির্বাচনের অধিকার বলগেরিয়া লাভ করে । ম্যাসিডোনিয়াকে তুর্কী শাসনাধীন রাখা হয় । আর পূর্বে রূমেলিয়াকে স্বায়ত্তশাসন দিয়ে সুলতানের অতিভাবকত্বে স্থাপন করা হয় । এখানে সুলতান কেবলমাত্র খ্রীষ্টান গভর্নর নিষক্ত করবেন।

(৫) বার্লিন সন্ধির একেবারে নতুন বৈশিষ্ট্য দাটি হল— বসনিয়া ও হার্জিগোভিনার শাসনভার অস্ট্রিয়ার ওপর স্থাপন এবং এই দই দেশের মধ্যবর্তী নবিবাজারে অস্ট্রিয়া কর্তৃক সৈন্য মোতায়েন রাখার অধিকার লাভ। আর ইংল্যান্ড ও মূলতানের মধ্যে সম্পাদিত একটি চুক্তির দ্বারা তুর্কী সাম্রাজ্যের অবশিষ্টাংশ রক্ষাশর্তে´ ইংল্যান্ড সাইপ্রাস লাভ করে ।

৬) বার্লিন সন্ধিতে গ্রীসের ক্ষতিপূরণের কোন ব্যবস্থা করা হয় নি। অবশ্য থেসাল, ও এপিরাসের একাংশ গ্লাসকে অর্পণের জন্য স,লতানকে অননুরোধ করা হয় । বার্লিন সনির সমালোচনা : ভিয়েনার শান্তি সম্মেলন (১৮১৪-১৫ খ্রীঃ) ও প্যারিসের শান্তি সম্মেলনের ( ১৯১৯ খ্রীঃ) মধ্যে বার্লি´ন সম্মেলনের মত বৃহৎ ইউরোপীয় কটনৈতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় নি।
এই সম্মেলনে সমকালীন ইউরোপীয় বড় বড় রাজনীতিবিদদের সমাবেশ ঘটেছিল, এতে এটি বিশিষ্টতা লাভ করেছিল। জার্মানীর রাজধানী বার্লিনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জার্মানীর প্রাধান্য ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে বিসমার্কে’র শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়ক
ছিল সম্মেলনটি। সম্মেলনের সভাপতি বিসমার্ক— “সৎ দালাল” হিসেবে গর্ববোধ করেছিলেন।
তেমনি ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডিসরেলি ও স্যালিসবেরি স্বদেশে বিপুল সংবর্ধনা পেয়েছিলেন। ডিসরেলিকে মহারানী ভিক্টোরিয়া ডিউকপদে ভূষিত করেন। ডিসরেলি বার্লিন সম্মেলন থেকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে বলেছিলেন যে, তিনি “সম্মানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন এবং তুর্কী সাম্রাজ্যকে পনেরজ্জীবিত করতে পেরেছেন।”

জার্মানির ভূমিকা

কিন্তু পরবর্তী ঘটনাবলীতে বিসমার্ক— ও ডিসরেলির আত্মপ্রসাদের অসারত্ব ধরা পড়ে৷ বিসমার্ক— নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি দিলেও বা নিজেকে “সৎ দালাল” হিসেবে অভিহিত করলেও অস্ট্রিয়ার প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছিলেন। জার্মানীর ভূমিকা ফলে রশ-জার্মান সম্পর্ক ক্রমশঃ তিক্ত হতে থাকে এবং রুশ-ফ্রান্স সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। এর চূড়ান্ত পরিণাম হল রুশ-ফ্রান্স গোপন মৈত্রী ( ১৮৯৩ খ্রীঃ ) ।

ইংল্যান্ডের ভূমিকা

ডিসরেলির “সম্মানের সঙ্গে শান্তি” প্রতিষ্ঠার দাবির প্রত্যুত্তরে বলা হয় যে তিনি ইউরোপে শান্তি স্থাপন বা গ্রেট ব্রিটেনের জন্য সম্মান অর্জন কোনোটাই করতে পারেন নি। বস্তুতঃ, সামরিক দিক থেকে ইংল্যান্ডের কাছে সাইপ্রাস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেনি, সেজন্য স্থানটির ঐ দিক থেকে কোন উন্নয়ন ঘটেনি । আর বার্লিন সন্ধি বল্কান অঞ্চলে কোন শাস্তি আনতে পারে নি। বরঞ্চ সেটি পরিণত হয়েছিল অশান্তির পঙ্ককুণ্ডে। ব্লগেরিয়া, গ্লসি, সার্বিয়া, আমে নিয়া ও ম্যাসিডোনিয়াতে সঙ্কট প্রকট হয়ে পড়ে।
ডিসরেলির অন্য উক্তি, “ইউরোপে তুরস্ক তার অস্তিত্ব বজায় রেখেছে” (“There is again a Turkey in Europe”) ছিল ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে তিনি তুরস্কের অখন্ডতা রক্ষার চিরাচরিত ইংল্যান্ডের নীতি থেকেই বিচ্যুতি ঘটান নি, তুরস্ককে দুর্বল করে ফেলেছিলেন। স্যান স্টিফানোর সন্ধির শর্তান,সারে হৃত কিছু, ভখেন্ড তুরস্ক ফিরে পেয়েছিল।

তুরস্কের অসন্তোষের কারণ

কিন্তু বার্লিন সন্ধিতে তুরস্ক তার ইউরোপীয় ভূখণ্ড ও প্রজাশক্তির অর্ধাংশ হারিয়েছিল। তার শক্তি ও সঙ্গতি নিঃশেষিত হয়ে গিয়েছিল। ডিসরেলি তাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন নি, তার ধ্বংস বিলম্বিত করে তার যন্ত্রণাকে বর্ধিত করেছিলেন মাত্র । All that Disraeli had done was to prolong the process and multiply the pains of extinction”–Ketclbey )। তাঁর অন,স্ত নীতির থেকেই ১৯১২ ও ১৯১৩ খ্রীষ্টাব্দে দদুটি বষ্কান যুদ্ধ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অধিকাংশ কারণগগুলির উৎপত্তি ঘটে ।

নিকট-প্রাচ্য সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান নয়

প্রকৃতপক্ষে, যে তিনটি উপাদানের ( তুরস্কের পতনোন্মুখতা, তুরস্ককে ঘিরে বৃহং শক্তিবর্গের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বঙ্কান অঞ্চলে জনগণের জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষা ) একত্র সমাবেশে নিকট-প্রাচ্য সমস্যার উৎপত্তি ও জটিলতা সৃষ্টি—সেগলি দূরীকরণের আন্তরিক প্রয়াস বার্লিনের সন্ধি ব্যবস্থায় ছিল না। বস্তুতঃ শান্তি স্থাপন বা বন্ধান জাতিগলির স্বার্থে— বার্লি’ন সন্ধি রচিত হয়নি। রচিত হয়েছিল ইউরোপের বৃহৎ শক্তিৰগে’র স্বার্থরক্ষার্থে। তাই বার্লিন সন্ধি নিকট-প্রাচ্য সমস্যার আদৌ কোন সন্তোষজনক সমাধান নয় ।

রুশ অসন্তোষ এর কারণ

বার্লি’ন সন্ধিতে রাশিয়ার অতৃপ্তি সহজেই বোধগম্য হয়। স্যান স্টিফানোর সন্ধিতে প্রাপ্ত বহু স্থান তাকে হারাতে হয়। বুশ অসন্তোষের কারণ তার সম্মানহানিও ঘটে। যুদ্ধে বিজয়ের ফললাভে রাশিয়া বঞ্চিত হয়। কিন্তু অস্ট্রিয়া কোন যুদ্ধে লিপ্ত না হয়েও শাসনভার লাভ করে ।

বার্লিন কংগ্রেস: জাতীয়তার অবমাননা

নিকট-প্রাচ্য সমস্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বঙ্কান জাতিগলির স্বাধীনতা স্পৃহাকে পদদলিত করা হয় । বল্কান অঞ্চলের অতৃপ্ত জাতীয়তাবাদের প্রশ্নটি স্বার্থ—সন্ধ বৃহৎ রাষ্ট্রগ‚লির কাছে যথোচিত গর্তূলাভ করে নি। বুলগেরিয়ার ক্ষেত্রে এর নগ্ন প্রকাশ ঘটেছিল। বৃহৎ বহুলগেরিয়াকে ত্রিধা-বিভক্ত করা হয়েছিল। এটি করা হয়েছিল সেখানে রুশ প্রভাব খর্ব করা ও অস্ট্রিয়ার সন্তুষ্টির জন্য ।
কেননা রশ মৈত্রীভাবাপন্ন ‘বৃহৎ বলগেরিয়া’ ইজিয়ান সাগরের দিকে অস্ট্রিয়ার আগ্রাসনের প্রতিবন্ধক হতে পারত । বল্কান অঞ্চলের ঝটিকা কেন্দ্র ম্যাসিডোনিয়াকে তুরস্কের শাসনাধীনে রাখা হয়, অর্থাৎ সেখানকার খ্রীষ্টানদের ধর্মান্ধ তুর্কী সুলতানের নির্যাতনের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। বার্লিন সন্ধি রচয়িতারা এ বিষয়ে বহুলগেরিয়ার হত্যাকাণ্ড থেকে কোন শিক্ষা নেন নি। এছাড়া ব্লগার জাতীয়তাবাদীরা পূর্বে রুমেলিয়ার বিচ্ছিন্নতাকে স্বীকার করে নেয়নি।
বৃহৎ শক্তিবর্গের তাঁর প্রতিবাদ অগ্রাহ্য করে তারা বলগেরিয়ার সঙ্গে পূর্ব রূমেলিয়াকে সংযুক্ত করে নেয় । এছাড়াও, বুলগেরিয়াকে ইজিয়ান সাগরের নির্গমন-পথ থেকে বঞ্চিত করলে বহুলগেরিয়ার জাতীয়তাবাদীরা বুঝতে পারে যে বৃহৎ রাষ্ট্রগলির কাছে ন্যায়বিচার পাওয়া দুরাশা মাত্র । শ্লাভ রাষ্ট্র সার্বিয়ার প্রতিও ঘোর অবিচার করা হয় ।
শ্লাভ-প্রধান বসনিয়া ও হার্জিগোভিনাকে সার্বিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে তার ইচ্ছাপ রণ না করে যাক্ত করা হয়েছিল অস্ট্রিয়ার সঙ্গে। আবার রমানীয়-অধ্যুষিত বেসারাবিয়া রাশিয়াকে দিতে বাধ্য
হওয়ায় রুমানিয়া প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয় ।

বার্লিন কংগ্রেস: বর্লিন সন্ধির রচরিতাদের অদূরদর্শিতা

প্রকৃতপক্ষে বার্লি’ন সন্ধি রচয়িতারা তুরস্ক অথবা তার জনগণের সংখস,বিধার কথা চিন্তা করেন নি। নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি, বিশেষতঃ তুরস্কে রুশ অগ্রগতি রোধের চিন্তাই তাঁদের মানসলোক আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। অথচ এ ক্ষেত্রে তাঁরা দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারেন নি। অল্প কিছ কালের মধ্যেই বার্লিন সন্ধি ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে থাকে—বঙ্কান রাষ্ট্রগালি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণতি লাভ করতে থাকে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে, বার্লিন সম্মেলনের কুড়ি বৎসর আগে ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ গ্ল্যাডস্টোন এই অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন যে, তুরস্কে রশে আগ্রাসন প্রতিহত করার একমাত্র উপায় হল বন্ধান রাজ্যগ,লিকে স্বাধীনতা দান—“স্বাধীন মানুষের বক্ষদেশের মত বাধা আর কিছু, হতে পারে না”। এই উক্তির সত্যতা বোঝার মত দূরদৃষ্টি বার্লিনে সন্ধি-রচয়িতাদের ছিল না।

বার্লিন কংগ্রেস: আন্তর্জাতিক প্রতিবন্দিতার সৃষ্টি বা জটিলতা বৃদ্ধি

বার্লিন সন্ধি শাস্তির জন্যে একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে নি। উপরন্তু বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করেছিল বা তা জটিল করে। অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অস্ট্রিয়া-রাশিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা জটিলতর হয়ে ওঠে। বার্লিন সম্মেলনে সভাপতি বিসমার্ক— অস্ট্রিয়ার প্রতি পক্ষপাতিত্ব করলে রাশিয়া ক্ষুব্ধ হয়। ফলে ড্রাইকাইজার বন্ড ( ত্রি-সম্রাট মৈত্রী) প্রচণ্ড আঘাত পায়। অস্ট্রিয়া-রাশিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৰ্দ্ধিত হয়।
ফ্রান্স বঝতে পারে যে, রাশিয়া তার সম্ভাব্য মিত্র হতে পারে। ( অবশেষে ১৮৯৪ খ্রীষ্টাব্দে রুশ-ফরাসী মৈত্রী গড়ে ওঠে )। শেষ পর্যন্ত এই অস্ট্রিয়া-রাশিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে পর্যবসিত হয়। (২) শ্লাভ জাতি অধ্যুষিত বসনিয়া ও হার্জিগোভিনা অস্ট্রিয়া লাভ করলে সার্বিয়া ক্ষুব্ধ হয়। এই অস্ট্রিয়া-সার্বিয়া বিরোধ প্রথম বিশ্বষদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সেরাজেভো হত্যাকান্ড ( প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ দ্রষ্টব্য । জনৈক বসনীয় ছাত্র অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফার্ডিন্যান্ডকে হত্যা করে ) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল। (৩) অস্ট্রিয়ার স্বার্থে বৃহৎ ব্লগেরিয়াকে ত্রিধা-বিভক্ত করায় অস্ট্রিয়া-ব-লগেরিয়া বিরোধ দেখা দেয় । সংক্ষেপে, এই সমস্ত বিরোধের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফলে ইউরোপ অশান্ত ও অস্থির হয়ে ওঠে। বন্কান অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই প্রথম বিশ্বষ দ্ধের সমরানল প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *