কারণ সম্পর্কে আলোচনা কর-teacj sanjib

 কারণ সম্পর্কে আলোচনা কর-teacj sanjib

কারণ

 কারণের সংজ্ঞা দাও।

 

(Give the definition of cause.)

কারণ-সম্পর্কে-আলোচনা-কর-teacj-sanjib

 

● উত্তর : যুক্তিবিদ মিল বলেন, কারণ হল কার্যের নিয়ত পূর্বগামী শর্তান্তরহীন অপরিবর্তনীয় ঘটনা। যদি কোনো ঘটনা শর্তহীনভাবে এবং অপরিবর্তনীয়ভাবে কোনো ঘটনা বা ঘটনাসংমিশ্রণের নিয়ত পূর্বগামী হয়, তবে ওই পূর্বগামী ঘটনাকে অনুগামী ঘটনার কারণ বলা যায়। কার্য ঘটলে তার কারণ অবশ্যই থাকবে। কারণ কার্যের পূর্বগামী ঘটনা।

 

কার্ভেদ রিড (Carveth Read) বলেন গুণের দিক থেকে কারণ কার্যের অব্যবহিত (immediate), শর্তহীন (unconditional), অপরিবর্তনীয় (invariable), পূর্বগামী (antecedent) ঘটনা এবং পরিমাণের দিক থেকে কারণ হল কার্যের সমান। মিল-প্রদত্ত সংজ্ঞাটিকে অনুসরণ করে কার্ভেদ রিড সংজ্ঞাটি দিয়েছেন। সংজ্ঞাটিতে কারণের দুটি দিকের উল্লেখ করা হয়েছে : একটি গুণগত দিক, অন্যটি পরিমাণগত দিক।

 

 কারণ ও শর্তের সম্বন্ধ আলোচনা কর।

 

(Discuss the relation between cause and condition.) * 

 

 

উত্তর : কারণ কার্যের নিয়ত অব্যভিচারী পূর্বগামী ঘটনা। প্রতিটি ঘটনার অবশ্যই কোনো কারণ থাকে। সাধারণ লোক যাকে কারণ বলে তা প্রকৃতপক্ষে কারণাংশ। কারণাংশের সমগ্রতা (totality of conditions) হল কারণ। কারণাংশই হল শর্ত। কার্ভেদ রিড বলেন, কার্যকে উৎপন্ন করার জন্য যা অনিবার্য বা একান্ত প্রয়োজনীয় তা-ই কারণাংশ বা শর্ত। বেইন বলেন, কারণ হল কার্য উৎপন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত বা অবস্থাগুলির সমবায়। যেমন, বিষপানে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে বিষের প্রকৃতি, পরিমাণ, শরীরের প্রকৃতি সবই কারণাংশ বা শর্ত। কার্য উৎপন্ন করার জন্য প্রত্যেকটি আবশ্যিক। মিলের মতে কারণ হল, সদর্থক ও নঞর্থক শর্তের সমষ্টি (The cause is the sum-total of conditions, positive and negative, taken together)। সুতরাং, কারণাংশ দু-প্রকার ঃ সদর্থক ও নঞর্থক কারণাংশ। যে শর্ত উপস্থিত না থাকলে কার্য উৎপন্ন হয় না, সেই শর্তকে সদর্থক শর্ত বলে এবং যে শর্ত উপস্থিত থাকলে কার্যের উৎপত্তি হয় না, সেই শর্তকে নঞর্থক কারণাংশ বা শর্ত বলে। সদর্থক শর্ত হল কার্য উৎপাদনের জন্য অনুকূল অবস্থা ; নঞর্থক শর্ত হল কার্য উৎপাদনের পক্ষে প্রতিকূল অবস্থা। কার্য ঘটার জন্য অনুকূল অবস্থার উপস্থিতি ও প্রতিকূল অবস্থার অনুপস্থিতি আবশ্যিক। বিষপানে মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিষপান, বিষের নির্দিষ্ট পরিমাণ, দেহের প্রকৃতি প্রভৃতি সদর্থক শর্ত। এদের কোনোটি অনুপস্থিত থাকলে মৃত্যু ঘটবে না এবং উপযুক্ত চিকিৎসা, দেহে বিষ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা প্রভৃতি নঞর্থক শর্ত। এগুলির কোনোটি অনুপস্থিত না থাকলে কার্যের উৎপত্তি অর্থাৎ মৃত্যু ঘটে না। নঞর্থক শর্ত উপস্থিত থাকলে কার্য ঘটে না। সুতরাং, কার্য ঘটার জন্য নঞর্থক শর্তের অভাব বা অনুপস্থিতি প্রয়োজন। বিষপানে মৃত্যুর ক্ষেত্রে দেহে বিষ প্রতিরোধ করার ক্ষমতার অভাব, চিকিৎসার অভাব প্রভৃতি থাকা চাই। সুতরাং, কারণ হল সদর্থক ও নঞর্থক শর্তসমষ্টি। উভয় শর্ত মিলিত হয়ে কোনো ঘটনাকে ঘটায়। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতেও কারণ হল সদর্থক ও নঞর্থক শর্তের সমগ্রতা।

 

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, শর্ত নঞর্থক বা সদর্থক যা-ই হোক, সংখ্যায় অসংখ্য। কারণের উল্লেখ করতে গিয়ে সব শর্তের উল্লেখ করা সম্ভব নয়। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ সদর্থক শর্তগুলি উল্লেখ করাই যুক্তিযুক্ত।

 

 আবশ্যিক শর্তরূপে কারণ বলতে কী বোঝায় ?

 

(What is meant by the cause as necessary condition ?)

 

 * উত্তর ঃ কারণ হল শর্তসমষ্টি। শর্ত নানা ধরনের হতে পারে। যেমন— আবশ্যিক শর্তরূপে , পর্যাপ্ত শর্তরূপে  এবং পর্যাপ্ত-আবশ্যিক শর্তরূপে কারণ।

 

> আবশ্যিক শর্ত ঃ কোনো ঘটনার আবশ্যিক শর্ত হল, এমন একটি অবস্থা যার অনুপস্থিতিতে ওই ঘটনাটি ঘটতে পারে না।

 

■ আক্ষরিক দৃষ্টান্ত ঃ ক যদি খ-এর কারণ হয় এবং কারণ বলতে যদি আবশ্যিক শর্ত ধরা হয় তবে ঃ

 

ক না ঘটলে খ ঘটে না

 কিন্তু

ক ঘটলে খ না-ও ঘটতে পারে।

 

* মূর্ত দৃষ্টান্ত ঃ বহ্নিসংযোগ ধূমের কারণ। এখন কারণ বলতে যদি আবশ্যিক শর্ত ধরা হয় এবং এই অর্থে যদি বহ্নিসংযোগ ধূমের কারণ হয়, তবে কারণের অভাব থেকে কার্যের অভাব অনুমান করা যায়। অর্থাৎ বলা যায় যে :

 

বহ্নিসংযোগ না ঘটলে ধূম উৎপন্ন হবে না

 কিন্তু

বহ্নিসংযোগ হলেও ধূম উৎপন্ন না-ও হতে পারে।

 

যেমন বৈদ্যুতিক চুল্লি। বৈদ্যুতিক চুল্লিতে বহ্নি থাকে কিন্তু ধূম থাকে না। দহনের ক্ষেত্রে বলা যায় Oxygen-এর অভাবে দহন হতে পারে না, কিন্তু বিপরীত কথা সত্য নয়। অর্থাৎ Oxygen থাকলেই যে দহন হবে, এমন বলা যায় না। ট্রেন চলার একটি আবশ্যিক শর্ত হল বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎ থাকা। কিন্তু তারে বিদ্যুৎ থাকলেই ট্রেন চলবে না। ড্রাইভারের উপস্থিতি ও ট্রেনের যন্ত্রাংশ সঠিকভাবে সচল থাকা ইত্যাদি অন্যান্য আবশ্যিক শর্ত প্রয়োজন। তবে একথা ঠিক যে, বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎ না থাকলে ট্রেন চলবে না। সুতরাং, আবশ্যিক শর্ত একটি কারণাংশ মাত্র। কিন্তু, এটি সম্পূর্ণ কারণ নয়। শর্তের সমগ্রতাই কারণ।

 

 পর্যাপ্ত শর্তরূপে কারণ বলতে কী বোঝায় ?

 

(What is meant by the Cause as Sufficient Condition?) 

 

* উত্তর : > পর্যাপ্ত শর্ত ঃ কারণ শব্দটি কখনও কখনও পর্যাপ্ত শর্তরূপে ব্যবহৃত হয়। কোনো ঘটনার পর্যাপ্ত শর্ত হল এমন এক অবস্থার সমাবেশ, যার উপস্থিতিতে ঘটনাটি অবশ্যই ঘটবে। কোনো ঘটনার একাধিক পর্যাপ্ত শর্ত থাকতে পারে। এদের কোনো একটি ঘটলে ঘটনাটি ঘটতে পারে। কোনো ঘটনার আবশ্যিক শর্ত নির্বাচন করা সহজ, কিন্তু পর্যাপ্ত শর্ত অসংখ্য বলে এদের নির্বাচন করা সহজ নয়। যেমন মৃত্যু এই ঘটনাটির একাধিক পর্যাপ্ত শর্ত আছে। মৃত্যু বিষ পানে, জলে ডুবে, আগুনে পুড়ে, গুলিবিদ্ধ হয়ে, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ঘটতে পারে। এদের প্রত্যেকটি এক-একটি পর্যাপ্ত শর্ত। তবে কোনো কার্য ঘটার পর্যাপ্ত শর্ত হিসাবে ব্যাবহারিক ক্ষেত্রে এদের কোনো একটিকে আমরা উল্লেখ করে থাকি এবং যেটি কার্যের অব্যবহিত পূর্বে ঘটেছে তাকেই পর্যাপ্ত শর্তরূপে নির্বাচন করি। । আক্ষরিক দৃষ্টান্ত : যদি কারণ বলতে পর্যাপ্ত শর্ত ধরা হয়, এবং এই অর্থে যদি ক, খ-এর কারণ হয় তবে বলা যায় যে ঃ

 

ক ঘটলে খ ঘটে

কিন্তু

ক না ঘটলেও খ ঘটতে পারে।

 

। মূর্ত দৃষ্টান্ত : বিষপান মৃত্যুর পর্যাপ্ত শর্ত, এজন্য যে বিষপান করলে মৃত্যু হবে, কিন্তু বিষপান না করলেও অন্যভাবে মৃত্যু হতে পারে। বিষপান মৃত্যুর পূর্ববর্তী হলেও নিয়ত পূর্ববর্তী নয়। অন্যান্য কারণেও মৃত্যু ঘটতে পারে।

 

 কারণের লক্ষণগুলি কী কী?

 

মিল-প্রদত্ত * উত্তর : ‘কারণ হল কার্যের নিয়ত পূর্বগামী শর্তান্তরহীন অপরিবর্তনীয় ঘটনা’ এই সংজ্ঞাটিকে বিশ্লেষণ করে কার্ভেদ রিড কারণের দুটি লক্ষণ উল্লেখ করেছেন। একটি গুণগত? লক্ষণ, অন্যটি পরিমাণগত লক্ষণ। –

 

 আবশ্যিক শর্ত কী?

 

* উত্তর ঃ যখন দুটি ঘটনা এমনভাবে সম্পর্কযুক্ত হয় যে, প্রথমটি না ঘটলে দ্বিতীয়টি ঘটে না, কিন্তু প্রথমটি থাকলে দ্বিতীয়টি নাও থাকতে পারে, তখন প্রথম ঘটনাটিকে দ্বিতীয় ঘটনার আবশ্যিক শর্ত বলে।

 

 পর্যাপ্ত শর্ত কী?

 

* উত্তর : যখন দুটি ঘটনা এমনভাবে সম্পর্কযুক্ত হয় যে, যখন প্রথমটি ঘটলে দ্বিতীয়টি ঘটে, কিন্তু প্রথমটি না ঘটলেও দ্বিতীয়টি ঘটতে পারে তখন প্রথম ঘটনাকে দ্বিতীয় ঘটনার পর্যাপ্ত শর্ত বলা হয়।

 

 আবশ্যিক-পর্যাপ্ত শর্ত কী?

 

+ উত্তর : যখন দুটি ঘটনা এমনভাবে যুক্ত থাকে যে, প্রথমটি না ঘটলে দ্বিতীয়টি ঘটে না। কিন্তু প্রথমটি ঘটলে দ্বিতীয়টি ঘটতে পারে তখন প্রথমটিকে দ্বিতীয়টির আবশ্যিক-পর্যাপ্ত শর্ত বলা হয়। ক, খ-এর আবশ্যি পর্যাপ্ত শর্ত হবে যদি ক ঘটলে খ ঘটে এবং ক না ঘটলে খ ঘটে না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *