চিঠি গল্পের প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণী বাংলা

 চিঠি গল্পের প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণী বাংলা

চিঠি

স্বামী বিবেকানন্দ

চিঠি গল্পের বিষয়বস্তু এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে বড় প্রশ্ন উত্তর ছোট প্রশ্ন উত্তর

চিঠি গল্পের বিষয়বস্তু

  কল্যাণীয়া ‘মিস নােবল সম্বােধন করে স্বামীজি চিঠিটি শুরু করেছেন। মি. ই টি স্টার্ডির একখানি চিঠিতে স্বামীজি জানতে পেরেছেন যে, মিস নােবল ভারতে এসে স্বচক্ষে সবকিছু দেখতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। গতকাল স্টার্ডির চিঠির উত্তর লিখলেও সরাসরি মিস নােকে জানানাের জন্য চিঠি লিখছেন। কারণ মিস মুলারের কাছ থেকে মিস নােবলের কার্যাবলি সম্বন্ধে যা জানতে পেরেছেন, তাতে এ চিঠি লেখা আবশ্যক।

চিঠি-গল্পের-প্রশ্ন-উত্তর-নবম-শ্রেণী-বাংলা

 

  ভারতের জন্য মিস নােবলের মতাে মহীয়সী নারীর খুব দরকার, বিশেষ করে ভারতীয় নারীসমাজের জন্য। তিনি প্রকৃত সিংহী। ভারত মহীয়সী নারীর জন্ম দিতে না পারায় তাঁকে অন্য জাতির কাছ থেকে ধার করতে হচ্ছে। তাঁর শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা, অসীম ভালােবাসা, দৃঢ়তা, তাঁর শরীরে প্রবাহিত কেল্টিক রক্তের যে নারীশক্তি বিদ্যমান ভারতের পক্ষে তা একান্ত দরকার।

  এদেশে তাঁর থাকা নিয়ে অনেক বিঘ্ন আছে। এদেশীয় মানুষের দুঃখ, কুসংস্কার, দাসত্ব তাঁর ধারণার অতীত। নরনারী অর্ধ-উলঙ্গ, জাতিবৈষম্য, ছুতমার্গ, শ্বেতাঙ্গদের প্রতি ঘৃণা তাঁকে মর্মাহত করবে। শ্বেতাঙ্গরাও তাঁকে খামখেয়ালি ভাববে, তার গতিবিধি সন্দেহের চোখে দেখবে। গ্রীষ্মপ্রধান জলবায়ু তাঁর কষ্টের কারণ হবে। শহরের বাইরে কিছুমাত্র ইউরােপীয় সুখস্বাচ্ছন্দ্য মিলবে না। এসব জেনে ভারতে আসায় সাহসিনী হলে তাঁর আগমনকে স্বামীজি স্বাগত জানাবেন। স্বামীজির যেটুকু প্রভাব আছে তা দিয়ে অবশ্যই সাহায্য করবেন।

  কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে মিস নােবল যেন চিন্তা করেন। কাজে বিরক্তি এলে, হতাশ হলে স্বামীজিকে পাশে পাবেন। খাটি লােকের কথার নড়চড় নেই। মিস নােকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। মিস মুলার বা অন্য কারও সাহায্য পাবেন । নিজের ভাবে মিস মুলার চমৎকার মেয়ে হলেও তিনি নিজেকে আজন্ম নেত্রী বলে মনে করেন। ভাবেন দুনিয়াকে ওলট-পালট করে দিতে টাকার প্রয়ােজনীয়তাই আসল। তাঁর সঙ্গে মানিয়ে চলা অসম্ভব। কলকাতায় বড়াে বাড়ি ভাড়া নেওয়ার তার ইচ্ছা বিদেশাগত বন্ধুদের জন্য, তা তাঁর সহৃদয়তা ও অমায়িকতার পরিচায়ক। কিন্তু তাঁর মঠাধ্যক্ষসুলভ সংকল্প সফল হবে না তাঁর রুক্ষ মেজাজ ও অদ্ভুত অস্থিরতার জন্য। বন্ধুনির্ভরতা সত্ত্বেও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলে তবে সবই সুসম্পন্ন হয়।

  সেভিয়ার দম্পতি ও মি. স্টার্ডিও ভালাে মানুষ। তাঁরা সন্ন্যাসীদের ওপর মুরুব্বিয়ানা করতে এদেশে আসেননি। তাঁদের কর্মপ্রণালী এখনও নির্দিষ্ট নেই। যাই হােক, মিস নােকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।

  আমেরিকা থেকে মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুল শরৎকালে ভারত পরিভ্রমণে আসছেন। তাঁদের মধ্যে মিস ম্যাকলাউডকে মিস নােল লন্ডনে দেখেছেন। তাঁরা ইউরােপ হয়ে আসছেন। তাঁদের সঙ্গে মিস নাে আসতে পারেন। মি. স্টাডির কাছ থেকে যে চিঠি স্বামীজি পেয়েছেন তা শুষ্ক ও প্রাণহীন। হয়তাে লন্ডনের কাজ পণ্ড হওয়ায় ওই হতাশা। অনন্ত ভালােবাসা জানিয়ে স্বামীজি চিঠি শেষ করেছেন।

চিঠি গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন ) মিস নােবেলকে লেখা স্বামীজির চিঠিতে পাঁচটি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে-কী কী? 

উত্তর : মিস নােবলকে লেখা স্বামী বিবেকানন্দের চিঠিতে পাঁচটি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।

এক ] ভারতের নারীসমাজের উন্নয়নের জন্য তাঁর মতাে সিংহী বা তেজস্বিনী নারীর প্রয়ােজন। যার মধ্যে শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা, অসীম ভালােবাসা, দৃঢ়তা প্রভৃতি গুণের সমন্বয় ঘটেছে।

দুই ] তিনি ভারতে অবস্থান করলে নানা বিঘ্নের সম্মুখীন হবেন। দেখবেন এদেশীয় সমাজের দুঃখ-দারিদ্র্য, কুসংস্কার, দাসত্ব প্রভৃতি। দেখবেন তাঁকে ঘিরে আছে অর্ধ-উলঙ্গ নারী-পুরুষ।

তারা ভয়ে হােক বা ঘৃণাবশত তাঁকে এড়িয়ে চলছে। তাঁর দেশওয়ালি শ্বেতাঙ্গরা তাঁকে খামখেয়ালি ভাবতে পারেন। কিংবা তাঁর গতিবিধিকে দেখবেন সন্দেহের চোখে। গ্রীষ্মপ্রধান দেশের জলবায়ু তাঁর প্রতিকূল হবে। শহরের বাইরে কোথাও ইউরােপীয় সুখস্বাচ্ছন্দ্য নেই।

তিন ) তা সত্ত্বেও ভারতে মিস নােবলের আগমন, উপস্থিতি ও তাঁর কার্যপ্রণালী রূপায়ণকে স্বামীজি স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর পাশে থাকা ও প্রয়ােজনীয় সাহায্যের প্রতিজ্ঞাও করেছেন স্বামীজি। 

চার ) অবশ্য কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে ভাবতে বলেছেন। সাবধান হওয়া, মিস মুলার বা অন্য কারওর পক্ষপুটে আশ্রিতা না হয়ে স্বনির্ভর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মিস মুলারের চারিত্রিক গঠন, তুলনায় মিসেস সেভিয়ারের চরিত্রের উল্লেখযােগ্য গুণাবলির কথা জানিয়েছেন। 

পাঁচ ] ইউরােপ থেকে ভারতে আসার পথের একঘেয়েমি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সঙ্গী আমেরিকা থেকে ভারত পরিভ্রমণে আসা মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুলের কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন ) স্বামী বিবেকানন্দের লেখা চিঠি’তে কী কী প্রসঙ্গে মি, স্টার্ডি, মিস মুলার, মিসেস সেভিয়াৱ, মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুলের কথা এসেছেআলােচনা করাে।

উত্তর : : মি, স্টার্ডিৱ প্রসঙ্গ : মি. স্টার্ডির চিঠি পাওয়া এবং সেই চিঠির খবরের ভিত্তিতে স্বামীজি মি. স্টার্ডিকে চিঠি লেখেন। সেই প্রসঙ্গে চিঠির শুরুতেই স্টাডির কথা এসেছে।

মিস নােবলের প্রসঙ্গ : মি. স্টার্ডির চিঠিতে স্বামীজি জানতে পারেন যে, মিস নাে ভারতে আসতে ও ভারতকে চাক্ষুষ দেখতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। স্টার্ডির চিঠির উত্তর দেওয়ার পরে মিস মুলারের কাছে স্বামীজি জানতে পারেন ভারতে মিস নােবলের কার্যপ্রণালীর কথা। তাতে স্বামীজির মনে হয় মিস নােকে সরাসরি চিঠি লেখা দরকার। সেই প্রসঙ্গে মিস নােলের প্রসঙ্গ এসেছে। কল্যাণীয়া মিস নাে সম্বােধন করে স্বামীজি চিঠি লিখেছেন।

মিস মুলাৱেৱ প্রসঙ্গ : ভারতে মিস নােবলের কার্যপ্রণালী শুরুর আগে তাঁকে একটু সাবধান করা দরকার বলে মনে করেছেন স্বামীজি। সেজন্য মিস নােকে সাবধান করেছেন ও সাবলম্বী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গে মিস মুলারের কথা এসেছে। প্রসঙ্গত তাঁর চরিত্রের মূল্যায়ন করেছেন স্বামীজি।

মিসেস সেভিয়াৱেৱ প্রসঙ্গ : চিঠিতে মিস মুলারের সঙ্গে তুলনীয়ভাবে এসেছে মিসেস সেভিয়ারের প্রসঙ্গ। স্বামীজি অকপটে বলেছেন ‘মিস সেভিয়ার নারীকুলের রত্নবিশেষ। তিনি খুব ভালাে ও স্নেহময়ী ।

মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুলেৱ প্রসঙ্গ : মিস নােল ভারতে আসার সঙ্গী হিসেবে স্বামীজির বর্ণিত দুই শ্বেতাঙ্গিনী মহিলা মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুলকে পেতে পারেন। চিঠিতে তাঁদের উল্লেখ হয়েছে এই প্রসঙ্গে।

প্রশ্ন)  ‘কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু।–বিঘ্নগুলি লেখাে। বিঘ্ন সত্ত্বেও মিস নাে স্বামীজির সাহায্য কীভাবে কতটুকু পাবেন লেখো।

। উত্তর : নানা বিঘ্ন : স্বামী বিবেকানন্দ মিস নােকে চিঠিতে তাঁর ভারতে থাকার নানা বিঘ্নের কথা লেখেন। এদেশের মানুষের দুঃখ, কুসংস্কার, দাসত্ব প্রভৃতি কী ধরনের তিনি তা ধারণা করতে পারবেন না। তিনি এদেশে এলে নিজেকে দেখবেন অর্ধউলঙ্গ মানুষের দ্বারা তিনি পরিবেষ্টিত। জাতি ও ঘেঁয়াছুঁয়ির ব্যাপারে তাদের বিকট ধারণা। ভয়ে কিংবা ঘৃণায় তারা শ্বেতাঙ্গদের এড়িয়ে চলে। আর শ্বেতাঙ্গরাও তাদের ঘৃণা করে। অপরদিকে দেখবেন, শ্বেতাঙ্গরা মিস নােকে খামখেয়ালি মনে করবে। তাঁর প্রতিটি গতিবিধি সন্দেহের চোখে দেখবে। ভারতের জলবায়ু গ্রীষ্মপ্রধান। এদেশের শীত ওদেশের গ্রীষ্মের সমান। দক্ষিণাঞ্চলে সবসময় আগুনের হলকা বইতে থাকে। শহরের বাইরে গ্রামাঞ্চলে কোথাও ইউরােপীয় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নেই।

স্বামীজিৱ সম্ভাব্য সাহায্য : ওই বিঘ্ন সত্ত্বেও মিস নাে স্বামী বিবেকানন্দের সাহায্য কীভাবে কতটুকু পেতে পারেন তিনি সে আশ্বাস দেন। স্বামীজি সর্বত্র যেমন, তাঁর ক্ষেত্রেও স্বামীজিকে মিস নাে তেমনি দেখবেন। তিনি কেউ নন। তবু স্বামীজির যেটুকু প্রভাব আছে, সেটুকু দিয়ে তিনি মিস নােকে সাহায্য করবেন। মিস ননা কাজে বিফল ও বিরক্ত হলেও তাঁর পাশে স্বামীজিকে পাবেন। তাঁর কথার নড়চড় হবে না।

প্রশ্ন ) ‘তােমাকে একটু সাবধান কৱা দৱকাৱতােমাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে,’—এভাবে মিস নােবেলকে সাবধান করা দৱকাৱ বলে স্বামীজি মনে করেছেন কেন?

উত্তর: সাবধান করার কারণ : স্বামীজি চিঠিতে মিস নােবেলকে সাবধান করেছেন। এদেশে এসে তিনি যেন নিজের পায়ে দাঁড়ানাের চেষ্টা করেন। অর্থাৎ, স্বনির্ভর ও স্বাবলম্বী হন। মিস মুলার বা অন্য কারও পক্ষপুটে আশ্রিতা হয়ে না পড়েন। মিস মুলার তাঁর নিজের ভাবে চমৎকার মহিলা। কিন্তু ছেলেবেলা থেকে তাঁর একটা বদ অভ্যাস আছে, তিনি নিজেকে আজন্ম নেত্রী ভাবেন। তাঁর ধারণা, টাকা দিয়েই দুনিয়াকে ওলটপালট করে দেওয়া সম্ভঘ। ওই মনােভাব তাঁর মধ্যে তাঁর অজ্ঞাতসারে মাঝে মাঝে মাথা চাড়া দেয়।

 মিস নােবেল কয়েক দিনে এসব বুঝতে পারবেন। তাঁর সঙ্গে মানিয়ে চলা অসম্ভব। তাঁর বর্তমান সংকল্প হলাে কলকাতায় একটা বাড়ি ভাড়া নেওয়া, ইউরােপ ও আমেরিকা থেকে যেসব বন্ধুরা আসবেন তাঁদের জন্য। এই সদিচ্ছা তাঁর সহৃদয়তা ও অমায়িকতার পরিচায়ক কিন্তু মঠাধ্যক্ষাসুলভ যে সংকল্প তা কখনও সফল হবে না, কারণ তাঁর রুক্ষ মেজাজ ও অদ্ভুত অস্থিরচিত্ততা। দূর থেকে কারওর সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকা অবশ্যই ভালাে। তবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলে সবই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

চিঠি গল্পের বড় প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ) মিস নােকে স্বামীজি সরাসরি চিঠি লিখতে চেয়েছেন কেন? “তুমি ঠিক সেইরূপ নারী, যাকে আজ প্রয়ােজন।”—এই প্রয়ােজনীয়তাৱ কাৱণ লেখাে।

(উত্তর

: মিস নােবলকে চিঠি লেখার কারণ : মি. স্টার্ডির কাছ থেকে স্বামী বিবেকানন্দ একখানা চিঠি পান। তিনি তাতে জানতে পারেন মিস নােবল ভারতে আসতে এবং ভারতের সবকিছু নিজের চোখে দেখতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। স্বামীজি সেই চিঠির উত্তর গতকাল দিয়েছেন। তা ছাড়া মিস মুলারের কাছ থেকে মিস নােবলের কার্যপ্রণালী জানতে পেরেছেন। স্বামীজির তাতে মনে হয়েছে, মিস নােবলের সঙ্গে সরাসরি চিঠির মাধ্যমে যােগাযােগ করা দরকার। সেই কারণে স্বামীজি মিস নােলকে এই চিঠি লিখছেন।

প্রয়ােজনীয়তার কারণ : স্বামীজি চিঠিতে মিস নােবলকে খােলাখুলি ভারত সম্বন্ধে বলতে চেয়েছেন। স্বামীজির দৃঢ় বিশ্বাস যে, ভারতের কাজে মিস নােবলের এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে। ভারতের জন্য তাে বটেই, বিশেষ করে ভারতের নারীসমাজের জন্য পুরুষ মানুষের চেয়ে নারী, এমন এক নারী, যাঁর সংকল্প, শক্তি, পরাক্রম সিংহীতুল্য। মিস নােবলের স্বভাবচরিত্রের কথা তাে স্বামীজি জানেন। তাঁর আছে শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা, অসীম ভালােবাসা ও দৃঢ়তা, সর্বোপরি তাঁর ধমনিতে প্রবাহিত কেল্টিক রক্তের ধারা। ওইরকম গুণ ও শক্তির অধিকারিণী নারীই তাে সেই সময়ের ভারতীয় নারী সমাজের জন্য যথার্থ প্রয়োজনীয়।

প্রশ্ন) ‘চিঠি’ রচনাটিতে মিস মুলাৱেৱ দোষে-গুণে ভৱা যে ছবি ফুটে উঠেছে তা বর্ণনা করাে।

উত্তর :  দোষে-গুণে ভরা মিস মুলাৱেৱ ছবি : ‘চিঠি ’ রচনাটিতে স্বামী বিবেকানন্দ ভারতে আসতে একান্ত ইচ্ছুক মিস নােবলকে ভারতে এসে কাজ শুরু করার আগে বিশেষভাবে ভাবতে বলেছেন। সেইসঙ্গে তাঁকে একটু সাবধানও করেছেন। সেই প্রসঙ্গে মিস মুলারের কথা এসেছে। মিস নােবল যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন। মিস মুলার বা অন্য কোনাে শ্বেতাঙ্গ রমণীর পক্ষপুটে যেন আশ্রিতা না হন।

স্বামীজি এই প্রসঙ্গে মিস মুলারের দোষ-গুণের ওপর আলােকপাত করেছেন। মিস মুলার নিজের ভাবে চমৎকার মহিলা। কিন্তু ছেলেবেলা থেকে তাঁর মাথায় ও ভাবনায় লালিত হয়েছে তিনি জন্মাবধি নেত্রী। তিনি মনে করেন দুনিয়াকে ওলটপালট করে দিতে টাকার প্রয়ােজনীয়তাই আসল। এই মনােভাব তাঁর মধ্যে এত প্রবল যে, কয়েক দিনেই মিস নাে বুঝতে পারবেন তাঁর সঙ্গে মানিয়ে চলা সম্ভব নয়। কলকাতায় একটা বড়ােসড়াে বাড়ি ভাড়া নেওয়া তাঁর বর্তমান সংকল্প।

উদ্দেশ্য ইউরােপ ও আমেরিকা থেকে আগত বন্ধুদের থাকার জন্য। এটা অবশ্যই তাঁর সহৃদয়তা ও অমায়িকতার পরিচয়। কিন্তু দুটি কারণে তাঁর মঠাধ্যক্ষাসুলভ মনােভাব সফল হবে না। একটি তাঁর রুক্ষ মেজাজ, অপরটি তাঁর অদ্ভুত অস্থিরচিত্ততা। এইভাবে দোষে-গুণে ভরা মিস মুলারের স্বভাব-চরিত্রের ছবিটি স্বামীজির কলমের আঁচড়ে আঁকা হয়ে অপূর্ব প্রাণবন্ত হয়েছে।

চিঠি গল্পের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন ) নিজের পায়ে অবশ্যই দাঁড়াতে হবে। এই উদ্ধৃতিৱ সংক্ষিপ্ত অর্থ কী? এই সাবধানতার ? কথ্য প্রসঙ্গে স্বামীজি কাদেৱ কথা বলেছেন ও কী কথ্য?

উত্তর : উদ্ধৃত উক্তির অর্থ হলাে ‘অবশ্যই স্বাবলম্বী হবে’।

সাবধানতার কথা প্রসঙ্গে স্বামীজি সেভিয়ার দম্পতির কথা বলেছেন। তাঁরা ইংরেজ হয়েও এদেশবাসীকে ঘৃণা করেন না। এদেশবাসীর ওপর মুরুব্বিয়ানা করেন না। তবে এ দেশে তখনও তাঁদের নির্দিষ্ট কার্যাবলি নেই। মিস মার্গারেট এলে তিনি সেভিয়ার দম্পতিকে তাঁর সহকর্মীরূপে পেতে পারেন। তাতে তাঁদের ও মিস মার্গারেটের সুবিধা হতে পারে। |

‘ প্রশ্ন) আমেৱিকার সংবাদে জানলাম- আমেরিকার সংবাদে স্বামীজি কী জানলেন?

উত্তর : আমেরিকার সংবাদে স্বামীজি জেনেছেন যে, ভারতে | বেড়াতে আসছেন তাঁর দুই বন্ধু মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুল। মিস মার্গারেট নাে লন্ডনে মিস ম্যাকলাউডকে দেখেছেন। মিস ম্যাকলাউড প্যারি-ফ্যাশনের পােশাক পরেছিলেন। পঞ্চাশ বছর বয়সের মহিলা হলেন মিসেস বুল। তিনি তাঁর দেশে স্বামীজির উপকারী বন্ধু ছিলেন। তাঁরা ইউরােপ হয়ে ভারতে আসছেন। স্বামীজির পরামর্শ হলাে তাঁদের সঙ্গী হয়ে মিস মার্গারেট নােবল । ভারতে এলে পথের একঘেয়েমি অনেকটা দূর হতে পারে।

প্রশ্ন ) চিঠির শেষে মি, স্টার্ডি সম্পর্কে স্বামীজি কী  লিখেছেন? 

উত্তর : চিঠির শেযে স্বামীজি মি, স্টার্ডি সম্পর্কে লিখেছেন যে, মি. স্টার্ডির কাছ থেকে শেষ পর্যন্ত একখানা চিঠি পেয়েছেন। চিঠিখানা পেয়ে স্বামীজি সুখী হয়েছেন। কিন্তু স্বামীজির মনে হয়েছে। চিঠিখানা রসকষহীন বড়াে শুকনাে। যেন প্রাণহীন। স্বামীজির মনে হয়েছে লন্ডনের কাজ পণ্ড হওয়ায় তাঁর এই হতাশা এবং চিঠিতে তার প্রকাশ।

প্রশ্নঃ ‘ভারতের কাজে তােমার এক বিরাট ভবষ্যৎ আছে।’-তোমার’ বলত কার? ডাৱতের কাজে তার বিরাট ডাবষ্যৎ কী ?

উত্তর : ‘তােমার’ বলতে মিস মার্গারেট নোবেল-এর।

ভারতের কাজে তাঁর এক বিরাট ভবিষ্যৎ হলাে ভারতের জন্য, বিশেষ করে ভারতের নারীসমাজের জন্য এক যথার্থ সিংহীর মতাে । তেজস্বিনী নারী দরকার। মিস মার্গারেট হলেন সেই সব গুণের আধার। শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা, অসীম ভালােবাসা, দৃঢ়তা এইসব গুণ তাঁর মধ্যে আছে। তাঁর ধমনিতে প্রবহমান কেল্টিক রক্ত। সেজন্য তিনিই হলেন ভারতের জন্য স্বামীজির যথার্থ । কাক্ষিত ও প্রয়ােজনীয় নারী।

প্রশ্নঃ ‘ বিঘ্ন আছে বহু।—স্বামী বিবেকানন্দ পত্রে ভারতীয়দের ও শ্বেতাঙ্গদের কাছ থেকে কী কী বিঘ্নের কথা বলেছেন?

স্বামী বিবেকানন্দ পত্রে মিস মার্গারেট নােবলকে লিখেছিলেন এ দেশে থাকার নানা বিঘ্নর কথা। এ দেশীয় মানুষের দুঃখ, কুসংস্কার, দাসত্ব যে কী ধরনের তিনি তা ধারণা করতে পারবেন না। তিনি দেখতে পাবেন তাকে ঘিরে আছে যে নারী-পুরুষ তারা অর্ধ-উলঙ্গ। তাদের বিকট ধারণা জাত ও ছোঁয়াছুঁয়ির ব্যাপারে। তারা শ্বেতাঙ্গদের এড়িয়ে চলে কিংবা ঘৃণা করে ভয়ে কিংবা ঘৃণাতে। বিপরীতপক্ষে শ্বেতাঙ্গরা তাঁকে খামখেয়ালি মনে করতে পারে। তা ছাড়া তাঁর প্রতিটি গতিবিধিকে সন্দেহের চোখে দেখতে পারে।

চিঠি গল্পের তিন নম্বরের প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্নঃ স্বামী বিবেকানন্দ পত্রে মিস মার্গারেট নােকে ভারতের জলবায়ু ও শহৱেৱ বাইৱেৱ বিঘু সম্পর্কে কী লিখেছেন? 

তর : স্বামী বিবেকানন্দ পত্রে মিস মার্গারেট নােবলকে জলবায়ুর বিঘ্ন সম্পর্কে লিখেছেন যে, ভারতের জলবায়ু অতিশয় গ্রীষ্মপ্রধান। এদেশীয় শীত তাঁদের দেশের গরমের দিনগুলির মতাে। দক্ষিণ ভারতে সব দিনই আগুনের হলকা চলে। এ দেশে শহরের বাইরে বিস্তীর্ণ গ্রামাঞল। সেখানে ওদেশীয় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কিছুমাত্র পাওয়ার কোনাে উপায় নেই।

প্রশ্নঃ ‘আমাকে আমৱণ তােমার পাশেই পাবে-বক্তা ও উদ্দিষ্ট জন কে? কী প্রসঙ্গে এই উক্তি? 

বর; উদ্ধৃত উক্তির বক্তা স্বামী বিবেকানন্দ। উদ্দিষ্ট জন হলেন | মিস মার্গারেট নােবল।

মিস মার্গারেট নােবল এ দেশীয় কাজে যােগ দেওয়ার আগে যেন বিশেষভাবে চিন্তাভাবনা করেন। কাজের পরে সফলতা না এলে বা বিরক্তি এলেও তিনি নিশ্চিত জানবেন তাঁর পাশে বিবেকানন্দ আমরণ আছেন। তা ছাড়া তিনি ভারতবর্যে কাজ করেন বা না করেন বা বেদান্ত ধর্ম ত্যাগ করেন বা ধরে রাখেন—এইসব ব্যাপারে তাঁর পাশে স্বামীজি আমৃত্যু থাকবেন।

প্রশ্নঃ  এই আমার প্রতিজ্ঞা।-আমাৱ’ বলতে কার এবং প্রতি জ্ঞাটি কী? কী প্রসঙ্গে এই প্রতিজ্ঞা ?

: উত্তর : ‘আমার’ বলতে স্বামী বিবেকানন্দের। প্রতিজ্ঞাটি হলাে ‘মরদ কি বাত হাতি কা দাত’।

স্বামীজি তাঁর চিঠিতে মিস মার্গারেট নােলকে জানিয়েছেন যে, বিশেষভাবে ভেবে-চিন্তে তিনি যেন এ দেশের কাজে ঝাপিয়ে পড়েন। তাতে সাফল্য না এলে, কাজে বিরক্তি এলেও স্বামীজির দিক থেকে তিনি যেন জেনে রাখেন স্বামীজি আমরণ তাঁর পাশে থাকবেন। তা ছাড়া তিনি ভারতের জন্য কাজ করেন বা না করেন, বেদান্ত ধর্ম ত্যাগ করেন কী ধরে রাখেন, সব ব্যাপারে স্বামীজি তাঁর প্রতিজ্ঞায় থাকবেন অনড়। এই প্রসঙ্গে আলােচ্য উদ্ধৃতি।

প্রশ্ন ) ‘তােমাকে একটু সাবধান করা দরকার। -বক্তা কাকে কীভাবে সাবধান করলেন?

স্বামী বিবেকানন্দ মিস মার্গারেট নােকে ভারতে থাকার ব্যাপারে একটু সাবধান করেন। তাঁকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। মিস মুলার বা অন্য কারওর ওপর একান্ত নির্ভর হলে চলবে না। মিস মুলার নিজের ভাবে চমৎকার মহিলা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের কথা হলাে ছেলেবেলা থেকে দুটি ধারণা তাঁর মাথায় পােষা আছে। এক, তিনি আজন্ম নেত্রী। দুই, তিনি মনে করেন অর্থ দিয়ে দুনিয়াকে ওলটপালট করা যায়, আর কিছুর দরকার হয় না।

এই মনােভাব এতই উগ্র যে, তাঁর সঙ্গে মানিয়ে চলা সম্ভব নয়। তিনি অচিরে বন্ধুদের জন্য ঘর ভাড়া নিচ্ছেন। তা তাঁর সহৃদয়তা ও অমায়িকতার পরিচায়ক হলেও তাঁর রুক্ষ মেজাজ ও অদ্ভুত অস্থিরচিত্ততার জন্য কোনাে কিছু সফল হতে পারে না। কারওর সঙ্গে বন্ধুত্ব থাক, কিন্ত নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলে তবেই সব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

প্রশ্ন ) ‘মিসেস সেভিয়াৱ নাৱীকুলেৱ ৱত্নবিশেষ ; , -বলার কারণ কী?

উত্তর : মিসেস সেভিয়ার নারীকুলের রত্নবিশেষ ; বলার কারণ হলাে তিনি অনেক গুণের অধিকারিণী। তিনি খুবই ভালাে, খুবই স্নেহময়ী। ভারতে আসা ইংরেজদের মধ্যে তাঁরা স্বামী স্ত্রী একমাত্র ব্যতিক্রম। এই কারণে যে, তাঁরা ভারতীয়দের ঘৃণা করেন না। আর-এক দিক থেকেও তাঁরা ব্যতিক্রমী। তা হলাে ভারতীয়দের ওপর মুরুব্বিয়ানা করার জন্য তাঁরা এ দেশে আসেননি।

চিঠি গল্পের ছোট প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্নঃ  স্বামীজির অভিমত অনুযায়ী মিস মুলাৱ কেমন মহিলার

উঃ : স্বামীজির অভিমত অনুযায়ী মিস মুলার নিজের ভাবে ছিলেন চমৎকার মহিলা।

প্রশ্ন ) তাঁর সঙ্গে নিয়ে চলা অসম্ভব। কাৱ সঙ্গে কী কারণে নিয়ে চলা অসম্ভব?

উত্তর : মিস মুলার আজন্ম নেত্রী, আর অর্থ তাঁর কাছে অপরিহার্য প্রয়ােজনীয় সামগ্রী—এই মনােভাব তাঁর মধ্যে ক্রিয়াশীল থাকায় তাঁর সঙ্গে বনিয়ে চলা অসম্ভব।

প্রশ্ন ) মিস মুলাৱেৱ বর্তমান সংকল্প কী?

উত্তর উত্তর : বর্তমান সংকল্প হলাে মিস নাে, ইউরােপ ও আমেরিকা থেকে আগত বন্ধু ও নিজের জন্য কলকাতায় একটি বাড়ি ভাড়া নেওয়া।

প্রশ্ন ) মিস মুলাৱেৱ সংকল্প কীজন্য সফল হবে না?

উত্তর : মিস মুলারের সংকল্প সফল হবে না কারণ, তাঁর রুক্ষ মেজাজ ও অদ্ভুত অস্থিরতার জন্য।

প্রশ্ন ) মিসেস সেভিয়াৱ কেমন চৱিত্ৰৱ মহিলা?

উত্তর : মিসেস সেভিয়ার নারীকুলের রত্ন, অতি ভালাে এবং অত্যন্ত স্নেহময়ী।

প্রশ্ন )আমেরিকার সংবাদে স্বামীজি কি জানতে পারলেন?

উত্তর : জানতে পারলেন যে, তাঁর দুজন বন্ধু মিস ম্যাক- লাউ। ও মিসেস বুল শরৎকালে ভারত পরিভ্রমণে আসছেন।

প্রশ্ন ) মিস ম্যাকলাউড কী পৱিহিতা মহিলা

তর: আমেরিকা নিবাসী মিস ম্যাকলাউড পারি-ফ্যাশনের পােশাক পরিহিতা মহিলা।

প্রশ্ন )মিসেস বুলেৱ পরিচয় কী? ?

তর: মিসেস বুলের বয়স প্রায় পঞ্চাশ এবং তিনি আমেরিকায় স্বামীজির বিশেষ উপকারী বন্ধু ছিলেন।

প্রশ্ন ) মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুল ইউরােপ হয়ে ভারতে আসবেন, সেই কাৱণে মিস নােবলের উদ্দেশে স্বামীজির পরামর্শ কী?

উত্তর : স্বামীজির পরামর্শ মিস নাে মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুলকে সঙ্গে পেলে তাঁর আসার পথের একঘেয়েমি দূর হবে।

প্রশ্ন ) স্বামীজিকে লেখা মি. স্টাডিৱ চিঠিটি কেমন?

উত্তর; স্বামীজিকে লেখা স্বামীজির ইংরেজ ভক্ত মি. স্টাডির চিঠিটি বড়াে শুষ্ক ও প্রাণহীন।

প্রশ্নঃ সোভিয়েত দম্পতিকে মিস নোবেল কি ভাবে পেতে পারেন?

উত্তর : মিস নাে সেভিয়ার দম্পতিকে সহকর্মীরূপে পেতে পারেন, তাতে উভয়েরই সুবিধে হবে।

প্রশ্ন ) মি. স্টার্ডিৱ চিঠিটি শুষ্ক ও প্রাণহীন হওয়ার কারণ কী বলে স্বামীজি মনে কৱেন? .

উত্তর : স্বামীজি মনে করেন, মি. স্টার্ডির লন্ডনের কাজ পণ্ড হওয়ার কারণে হতাশ হওয়ায় চিঠিটি শুষ্ক ও প্রাণহীন।

প্রশ্নঃ স্বামীজি কী সম্বােধন কৱে চিঠিৱ সূচনা করেন?

উত্তর : স্বামী বিবেকানন্দ মিস মার্গারেট এলিজাবেথ নােকে কল্যাণীয়া মিস নাে সম্বােধন করে চিঠির সূচনা করেন।

প্রশ্ন ) স্বামীজি কাৱ চিঠিতে মিস নেবল সম্পর্কে কী জানতে পারেন? 

উত্তর : স্বামীজি মি. স্টাডির চিঠিতে জানতে পারেন যে, মিস নােবল ভারতে এসে স্বচক্ষে সবকিছু দেখার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ।

প্রশ্ন ) স্বামীজি সরাসরি মিস নােবলকে চিঠি লেখা আবশ্যক বলে মনে করেছেন কেন?

উত্তর : স্বামীজি মিস মুলারের কাছ থেকে মিস নােলের কার্যপ্রণালীর কথা জানতে পেরে চিঠি লেখা আবশ্যক বলে মনে করেছেন।

প্রশ্ন ) স্বামীজিৱ এখন কীজন্য মিস নােবলের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে?

উত্তর : স্বামীজির এখন এইজন্য দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে যে, ভারতের কাজে মিস নােবলের এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে।

প্রশ্ন ) ভাৱতেৱ নরিসমাজের জন্য কী প্রয়ােজন বলে স্বামীজি মনে করেন?

উত্তর : ভারতের নারীসমাজের জন্য পুরুষ নয়, এক প্রকৃত সিংহীর প্রয়ােজন বলে স্বামীজি মনে করেন।

প্রশ্ন ) মিস নােবলের কী কী গুণেৱ কথ্য স্বামীজি উল্লেখ করেছেন?

উত্তর : স্বামীজি মিস নােবলের শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা, অসীম ভালােবাসা, দৃঢ়তা প্রভৃতি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। 

প্রশ্ন ) এদেশে এসে মিস মার্গারেট নিজেকে কাদেৱ পরিবেষ্টিত দেখতে পাবেন?

উত্তর: মিস মার্গারেট এ দেশে এসে নিজেকে অর্ধ-উলঙ্গ অসংখ্য নরনারী পরিবেষ্টিত দেখতে পাবেন।

প্রশ্নঃ  শ্বেতাঙাৱা মিস মাচাৱেটকে কী মনে করবে এবং কী চোখেই বা দেখবে? 

উত্তর : শ্বেতাঙ্গরা মিস মার্গারেটকে খামখেয়ালি মনে করবে এবং প্রতিটি গতিবিধি সন্দেহের চোখে দেখবে।

প্রশ্ন ) এদেশবাসী শ্বেতাঙ্গাদের প্রতি কীৱকম আচরণ করে?

উত্তর : এদেশবাসী শ্বেতাঙ্গদের ভয়ে হােক বা ঘৃণাতে হােক এড়িয়ে চলে, মেলামেশা করে না।

প্রশ্নঃ স্বামীজি মিস নোবলকে চিঠিতে এদেশে থাকার ব্যাপাৱে জলবায়ুৱ বিঘু সম্পর্কে কী বলেছেন?

উত্তর : স্বামীজি বলেছেন, এদেশের জলবায়ু গ্রীষ্মপ্রধান, এখানকার শীত ওখানকার গ্রীষ্মের সমান, দক্ষিণাঞলে সবসময় আগুনের হলকা চলছে।

চিঠি গল্পের ছোট প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণী

প্রশ্নঃ স্বামীজি চিঠিতে এদেশে শহরের বাইরে কী পাওয়ার উপায় নেই বলে লিখেছেন? 

 

উত্তর : স্বামীজি চিঠিতে লিখেছেন এদেশে শহরের বাইরে ইউরােপীয় সুখস্বাচ্ছন্দ্য কিছুমাত্র পাওয়ার উপায় নেই।

 

চিঠি গল্পের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

 

প্রশ্ন ) ‘সর্বত্র যেমন, এখানেও তেমনি আমি কেউ নই ; তবু…..তবু’ বলে স্বামীজি কী কথা বলেছেন?

 

উত্তর : ‘তবু বলে স্বামীজি বলেছেন যে, তাঁর যেটুকু প্রভাব আছে, সেটুকু দিয়ে মার্গারেটকে অবশ্যই সাহায্য করবেন।

 

প্রশ্নঃ কাজে ঝাপ দেওয়ার ব্যাপারে স্বামীজি মিস নােকে কী পরামর্শ দিয়েছেন? 

 

উত্তর : কাজে ঝাঁপ দেওয়ার আগে মিস নােলকে আগাম সতর্কতার জন্য স্বামীজি বিশেষভাবে ভাবতে বলেছেন।

 

প্রশ্ন ) কী পৱিস্থিতিতেও স্বামীজি মিস নােবলের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন?

 

উত্তর ; কাজে বিফল হলেও কিংবা কখনও কাজে বিরক্তি এলেও মিস নােবলের পাশে স্বামীজি আমরণ থাকবেন।

 

প্রশ্নঃ ‘মৱদ কি ব্যত হাতি কা দাঁত’ প্রবাদের অর্থ কী?

 

উত্তর : হাতির দাঁত বেরােলে তা মুখের ভিতর যেমন যায় না , খাটি পুরুষের কথাও থাকে তেমনি অনড়।

 

প্রশ্নঃ স্বামীজি মিস নােবলকে কী বলে সাবধান করেছিলেন? 

 

উত্তর : এই বলে যে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, মিস মুলার কিংবা অন্য কারও পক্ষপুটে আশ্রিত হয়ে না ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *