অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর দশম শ্রেণি বাংলা

 অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর দশম শ্রেণি বাংলা

 

 

অসুখী একজন’কবিতা

 

          অসুখী একজন’

 

                 -পাবলাে নেরুদা

 

অসুখী একজন কবিতার উৎস

 

উৎস

 

‘অসুখী একজন’কবিতাটি ভাষান্তরিত করেন ঔপন্যাসিক নবারুণ ভট্টাচার্য। তাঁর অনূদিত ও সংকলিত ‘বিদেশি ফুলে রক্তের ছিটে’ নামক বই থেকে পাঠ্য কবিতাটি গৃহীত হয়েছে। 

অসুখী-একজন-কবিতার-প্রশ্ন-উত্তর-দশম-শ্রেণি-বাংলা

 

অসুখী একজন কবিতার বিষয়বস্তু

 

বিষয়-সংক্ষেপ

 

  সৈনিককে যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে হবে। প্রেমিকার কাছ থেকে সে বিদায় নিল। দরজায় প্রেমিকাকে দাঁড় করিয়ে রেখে সৈনিক চলে গেল অনেক দূরে। সৈনিক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আর ফিরবে না, প্রেমিকা জানে না। একটা কুকুর চলে গেল। গির্জার এক সন্ন্যাসিনী হেঁটে গেলেন। শুধু একটা সপ্তাহ নয়, একটা বছর অতিবাহিত হলাে। সৈনিকের পায়ের চিহ্নবৃষ্টিতে ধুয়ে গেল।রাস্তার ঘাস জন্মাল।প্রতীক্ষায় থাকতে থাকতে বছরের পর বছর পাথরের মতাে গুরুভার হয়ে প্রেমিকার মাথার ওপর চেপে বসল।

 

  তার পর রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে যুদ্ধ এল। শিশু আর বুড়িরা খুন হলাে। কিন্তু অপেক্ষারত প্রেমিকাটি বেঁচে রইল। সমস্ত সমতল জুড়ে শুরু হলাে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড। হাজার বছর ধরে দেবতারা ধ্যানমগ্ন ছিল। তারা টুকরাে টুকরাে হয়ে মন্দিরে উলটে পড়ল। ভক্তদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন দেখানাের ক্ষমতা লােপ পেল। সৈনিকের প্রিয় বাড়ি, বারান্দায় ঘুমানাের ঝুলন্ত বিছানা, গােলাপ ফুল গাছ, প্রাচীন জলতরঙ্গ বাদ্যযন্ত্র সবই আগুনে জ্বলে ধ্বংস হলাে। যুদ্ধে আগুনে পােড়া কাঠকয়লা, দোমড়ানাে লােহা, পাথরের মূর্তির ভেঙেযাওয়া বীভৎস মাথা, রক্তের কালাে দাগ ক্ষতচিহ্নের মতাে ইতস্তত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রইল। মেয়েটি যুদ্ধফেরত সৈনিকের প্রতীক্ষায় থাকল।

 

অসুখী একজন কবিতার বড় প্রশ্ন উত্তর

 

 

প্রশ্ন ) যেখানে ছিল শহর/সেখানে ছড়িয়ে রইল ‘

 

কাঠকয়লা’—‘অসুখী একজন’ কবিতা অবলম্বনে শহরের এই পরিণতি কীভাবে হলাে লেখাে। –

 

উত্তর : চিলিয়ান কবি পাবলাে নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত এইঅংশেরক্তক্ষয়ীযুদ্ধের ধ্বংসাত্মক পরিণামেরবীভৎস চিত্র ফুটে উঠেছে। যুদ্ধ সর্বাত্মক ধ্বংসের আর-এক নাম।

 

কবি বাস করতেন শহরে। মিষ্টি বাড়িটিতে আনন্দ বিনােদনে কাটত তাঁর দিন। বারান্দার ঝুলন্ত বিছানায় ঘুমােতেন তিনি। ছিল গােলাপি গাছ, ছড়ানাে করতলের মতাে পাতা, চিমনি, প্রাচীন জলতরঙ্গ।এক সাজানােশহরে সুখে সৌখিনতায় সমৃদ্ধ জীবন ছিল তার। কিন্তু একদিন যুদ্ধ এল রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে।

 

নির্বিচারে খুন হলাে মানুষ। খুন হলাে শিশুরাও। ধ্বংস হয়ে গেল বাড়িগুলি, সমতলে আগুন ধরে গেল। যুদ্ধের বীভৎস আগ্রাসন থেকে দেবতারাও রেহাই পেল না। আক্রান্ত হলাে মন্দির। উলটে ফেলে দেওয়া হলাে শান্ত হলুদ দেবতাদের। মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ বদলে গিয়ে নরকের পরিবেশ রচিত হলাে।

 

শহর হয়ে উঠল শ্মশানভূমি। কবির মধুর স্মৃতিভরা মিষ্টি  বাড়িটি ধ্বংস হলাে। তাঁর বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা, গােলাপি গাছ ইত্যাদি সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেল, চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। জ্বলে গেল যুদ্ধের আগুনে। শহরটির চিত্র মর্মান্তিকভাবে বদলে গেল। তার যাবতীয় সৌন্দর্য গেল ঘুচে। দূর হয়ে গেল প্রাণময়তা। শহরে ছড়িয়ে থাকল কাঠকয়লা, দোমড়ানাে লােহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের কালাে দাগ। কবি খুব সুসংহতভাবে, সীমিত শব্দে যুদ্ধের বীভৎসতার মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরেছেন

কবিতাটিতে।

 

প্রশ্ন ) ‘রক্তের একটা কালাে দাগ।’—কবির যুদ্ধবিরোধী মানসিকতার বিচারে উধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করাে।

 

উত্তর : চিলিয়ান কবি পাবলাে নেরুদা রচিত এবং প্রখ্যাত কবি ও অনুবাদক নবারুণ ভট্টাচার্য কর্তৃক ভাষান্তরিত ‘অসুখী একজন’ কবিতাটি রক্তাক্ত ও বিধ্বংসী যুদ্ধের কবিতা। যন্ত্রণা ও শােকাবহ যুদ্ধের কবিতা। যুদ্ধের ভয়ংকর পরিণতি তথা পরিস্থিতির এক অনবদ্য রূপ আলােচ্য কবিতায় ফুটে উঠেছে। যুদ্ধ কোনাে সুস্থ, সুস্থির মানুষের কাছে কাম্য নয়। যুদ্ধের কারণগুলি বন্ধ হওয়া জরুরি—এ কথাও কবিতায় পরােক্ষে বােঝানাে হয়েছে।

 

কবিতার শেষাংশে কবিতা-কথকের বর্ণনা-যুদ্ধ শেষে দেখা গেছে ‘রক্তের একটা কালােদাগ। রক্তের রংলাল। কিন্তু ঝরে যাওয়া সে লাল রক্ত একদিন শুকিয়ে গেলে হয়ে যায় কালাে। অর্থাৎ এ কথাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, যুদ্ধের মধ্য দিয়ে লেখা হয় একটি কালাে বা কলঙ্কিত অধ্যায়।

 

শুদ্ধ শুরুর বর্ণনায় দেখা যায় কবিতা-কথক লিখছেন, তারপর যুদ্ধ এল/রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে। আগ্নেয়গিরির কালাে ধোঁয়া, কালাে লাভাপ্রবাহ, আর উত্তপ্ততা—সে হলাে রক্তের আগ্নেয়পাহাড়। সেখানে বয়ে যায় শুধু রক্তস্রোত। যুদ্ধের পরিণামেই ঘটল এই অবিরাম রক্ত-পতন তথা রক্তপ্রবাহ।

 

যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে কবিতা-কথক লিখলেন, ‘শিশু আর বাড়িরা খুন হলাে। অর্থাৎ প্রাণঘাতী যুদ্ধ নিস্পাপ শিসুসহ সমগ্র বাড়ির মানুষজনকেও হত্যা করল। স্বহস্তে রচিত কবিতা-কথক তথা সৈনিকের মিষ্টি-মায়া-মমতা মাখনাে প্রিয় বাড়ি, সাধের ঝুলন্ত বিছানা, গােলাপি গাছ, চিমনি, বাদ্যযন্ত্র—জলতরঙ্গ সব চূর্ণ হলাে, জ্বলল আগুনে। রক্তাক্ত ধ্বংসের সামগ্রিক ছবি এখানেও। শহরের সব প্রান্ত যুদ্ধের আগুনে ভস্মীভূতপ্রায়। কাঠকয়লা, দোমড়ানাে লােহা, উলটানাে পাথরের মূর্তি সমস্ত কিছুর মধ্যে যেন রক্তের প্রলেপন। >

 

সুতরাং কবিতায় বর্ণিত হয়েছে রক্তাক্ত পরিস্থিতির কথা। মৃত্যুকে অতিক্রম করে কবিতা-কথক তথা সৈনিকের হৃদয়ও তাে রক্তাক্ত। তাই আদ্যন্ত ‘রক্তের একটা কালাে দাগ’ যেন ছড়িয়ে পড়ল সর্বত্র।

 

 

প্রশ্ন ) ‘আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় মেয়েটির  ‘ মধ্য দিয়ে কবি শাশ্বত প্রেমের যে চিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন তার পরিচয় দাও।

 

উত্তর : চিলিয়ান কবি পাবলাে নেরুদা তার ‘অসুখী একজন কবিতায় এক রক্তক্ষয়ী বীভৎস যুদ্ধের পটভূমিতে শাশ্বত প্রেমের গােলাপ ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রমাণ করেছেন, যাবতীয় যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের শেষে জয়লাভ করে প্রেম।

 

কথক কবি মুক্তির আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁর প্রিয়তমাকে দরজায় দাঁড় করিয়ে চলে যান। যাওয়ার আগে বলে যাননি, যে এই যাওয়াই তার শেষ যাওয়া, তিনি আর কোনােদিন ফিরে আসবেন না। ফলে নারীটি তার ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকলেন। সময় তার নিজস্ব ছন্দে বয়ে চলল। বয়ে চলল জীবনধারা। এইভাবে 1 সপ্তাহ গড়িয়ে গেল বছরের অঙ্কে। পথ থেকে নিশ্চিহ্ন হলাে কবির পায়ের চিহ্ন। ঘাস জন্মালাে রাস্তায়। প্রতীক্ষার প্রহরগুলি দুর্বহ হয়ে উঠল।

 

তারপর যুদ্ধ এল। বীভৎস যুদ্ধে বিরাট ধ্বংসলীলা চলল। খুন হয়ে গেল শিশুরাও। ধ্বংস হয়ে গেল বাড়িগুলি। আগুন ধরে গেল সমতলে। শুধু মানুষ নয়, দেবতার অস্তিত্বও বিপন্ন হয়ে গেল। উলটে পড়লেন তারা মন্দির থেকে টুকরাে টুকরাে হয়ে। জীবন থেকে দূর হয়ে গেল আধ্যাত্মবাদের আবহাওয়া। কবির মিষ্টি বাড়ি, সুখের বিছানা, বিনােদনের বাদ্য ধ্বংস হয়ে গেল। শহরগুলি শ্মশানভূমির রূপ লাভ করল। ছড়িয়ে থাকল কাঠকয়লা, দোমড়ানাে লােহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা, আর রক্তের কালাে দাগ। 

 

তবে এই নৃশংসতা, বীভৎসতাই জীবনের শেষ কথা নয়। এত মৃত্যু, এত ধ্বংসের শেষেও মেয়েটি বেঁচে থাকল। থেকে গেল তার প্রিয়তমের অপেক্ষায়। প্রেমের মৃত্যু নেই। প্রেম শাশ্বত। প্রিয়তমের জন্য প্রিয়তমার প্রতীক্ষার অবসান ঘটে না কোনােদিন।

 

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর 2022

 

প্রশ্ন) ‘শিশু আর বাড়িরা খুন হলাে।’—শিশু আর বাড়িরা কীভাবে খুন হলাে? পঙক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি কী বার্তা দিয়েছেন? 

 

উত্তর : প্রখ্যাত চিলিয়ান কবি পাবলাে নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ শীর্ষক কবিতা থেকে আলােচ্য প্রশ্নোপ্ত পঙক্তিটি নেওয়া হয়েছে। ভয়ংকর এক যুদ্ধে কথক তথা যুদ্ধগামী সৈনিকের শহরের শিশু আর গৃহস্থ মানুষেরা খুন হলাে। প্রশ্নোধৃতিটিতে ‘বাড়িরা’ বলতে বাড়ির সকল মানুষেরই কথা বােঝানাে হয়েছে।

 

কবিতার কথক তথা সৈনিকটি তার প্রেয়সীকে অপেক্ষায় রেখে যুদ্ধগামী হয়েছেন। ক্রমে শুরু হয়েছে ভয়ানক যুদ্ধ। যুদ্ধের ভয়ংকর আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গেল সৈনিকের প্রিয় শহর। মন্দির ভাঙল, মন্দিরের ভিতরের দেবতার মূর্তিও উলটে পড়ল। যুদ্ধের নারকীয় গ্রাসে রক্ষা পেল না নিরপরাধ শিশুসহ কোনাে মানুষই। ধ্বংস হলাে শহরের বাড়িঘর। শিশুদের মতাে বাড়িও যে মানুষের পরম আদরের, মমতার সেটা ব্যঞ্জিত করতেই ব্যহতৃত হলাে ‘বাড়িরা’ শব্দবন্ধটি। যুদ্ধের কারণে মৃত্যুকে ‘খুন’ হিসেবেই 1 ব্যবহার করা হয়েছে। যুদ্ধবাজ মানুষ তাদের স্বার্থসিদ্ধি চরিতার্থ করতেই দেশে দেশে যুদ্ধ বাধায়। এর পরিণাম ভােগ করতে হয় নিরীহ, নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে। ভয়ংকর ধ্বংসলীলায় সর্বস্বান্ত হয় মানুষ। মানুষ নিরাশ্রয় হয়। তাই যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথক। যুদ্ধ-রক্তপাত শুধু ধ্বংস আনে। সমাজ তথা এ বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দরকার শান্তির বাতাবরণ।

 

প্রশ্নঃ  কবিতায় অসুখী একজন কে?-বিশ্লেষণ করে দেখাও।

 

উত্তর : প্রখ্যাত চিলিয়ান কবি পাবলাে নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতায় অসুখী একজন কে তাই বিচার্য বিষয় আলােচ্য প্রশ্নে। সমগ্র কবিতায় অসুখী কোনাে একজন বিশেষ ব্যক্তি নয় বলা যায়। কবিতার ছত্রে ছত্রে সে কথাই ফুটে উঠেছে।

 

> প্রথমত, কবিতায় বর্ণিত মেয়েটি অসুখী। তার যে প্রেমিক সৈনিক হয়ে ভয়ংকর যুদ্ধে চলে গেছে, যার জন্য সে বছরের পর বছর অপেক্ষারতা। সর্বনাশা যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তনের কথা সে বলে গেলেও তা যে অনিশ্চিত, সেই অন্তগূঢ় মর্মবেদনা তাকে যেন পাথর করে দিয়েছে। কাজেই সে একজন অসুখী।

 

দ্বিতীয়ত, মেয়েটি যদি দেশমাতার প্রতীক হন, তাহলে তার যে সন্তান যুদ্ধে নিয়ােজিত আছে, তার জীবনও মৃত্যুর কবলে। তার জন্য অর্থাৎ, দেশের সন্তানের জন্য তার দেশমাতা তাে অসুখী হবেনই। দেশ রক্ষার জন্য সৈনিক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন বাধ্য হয়েই। ফলে সামগ্রিকভাবে যুদ্ধের আতঙ্কে দেশবাসীও অসুখী।

 

একজন সৈনিক, যিনি দেশমাতাকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন—তিনি অসুখী। প্রিয়জন, প্রিয় দেশবাসীর কাছ থেকে চিরবিদায় নেওয়ার যন্ত্রণা হৃদয়ে অসুখী ভাব তাে জাগিয়ে তুলবেই। ফলে তিনিও অসুখী। = |

 

ভয়ংকর যুদ্ধে যেসব শিশু খুন হয়ে গেল, অর্থাৎ যারা নিহত, যেসব বাড়িঘর ধ্বংস হলো, সেই বাড়ির মালিক এবং নিহত শিশুদের মা-বাবারাও অসুখী। সাজানাে যে শহর বা শহরগুলি যুদ্ধের বা কারণে ধ্বংস হয়ে গেল, সেই শহরের বাসিন্দাদের মনে শান্তি নেই, তারাও অসুখী।

 

সুতরাং সমগ্র কবিতা জুড়েই আছে দুঃখ, যন্ত্রণা, হতাশা। আর তার ফলে সকলেই অসুখী। একজন অন্যজনের পরিপূরক বলেই কবিতায় অসুখী একজন বলে কবি বিবৃত করেছেন।

 

প্রশ্ন )‘আমি চলে গেলাম দূর…. দূরে।’-এ প্রসঙ্গে সৈনিকের মানসিক অবস্থাটি ব্যক্ত করাে।

 

| উত্তর : বাংলা আধুনিক কাব্যসাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত কবি ও অনুবাদক নবারুণ ভট্টাচার্য কর্তৃক ভাষান্তরিত, চিলিয়ান কবি পাবলাে নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে আলােচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। কবিতায় যুদ্ধের এক ভয়াবহতা ও তার পরিণতির কথা ফুটে উঠেছে। সমগ্র কবিতা জুড়ে গভীর এক শােকচ্ছায়া পাঠককে কোনাে এক গাঢ় ট্র্যাজিক বাতাবরণের মুখােমুখি নিয়ে যায়।

 

প্রশ্নোদৃত উক্তিটি যুদ্ধগামী একজন সৈনিকের। যুদ্ধে যাওয়াটা তার কাছে অনেকটাই বাধ্যতামূলক। আর তাই তাকে অনেক কিছু স্মৃতিমেদুরতাকে ত্যাগ করে যেতে হয়। ত্যাগ করতে হয় প্রাণপ্রিয় প্রিয়তমাকে, প্রিয় স্বদেশভূমিকে, প্রিয় গৃহ পরিবেশকে। বিদায়লগ্নে প্রিয়তমাকে দরজার কাছে অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে তিনি চলে যান। সৈনিকের প্রেমিক মন বলে, ‘আমি চলে গেলাম দূর….. দূরে। কর্তব্যের জন্য বাধ্য হয়েই তাঁকে ছেড়ে চলে যেতে হয় দূর >

 

—বহু দূরে যুদ্ধক্ষেত্রে অপেক্ষারতা থাকল তাঁর প্রেয়সী তাঁর ফেরার প্রতীক্ষায়। কিন্তু সৈনিক জানে ফেরা তাঁর অনিশ্চিত। নাও ফিরতে পারেন। কারণ ভয়ংকর সংঘর্ষে মৃত্যু তাে অনিবার্য। তিনি প্রেয়সীর চোখের অন্তরালে চলে গেছেন। তাঁর স্মৃতিগুলি ক্রমে মুছে গেছে, বৃষ্টির জলে ধুয়ে গেছে তাঁর পায়ের ছাপ। প্রেয়সীর বিরহী হৃদয় অপেক্ষার প্রহর গােনে। বুকের ওপর শূন্যতার পাথর-ভার জাগে। যুদ্ধের ভয়ংকর পরিণতিস্বরূপ দেখা যায় সুন্দর বাড়িঘরের ধ্বংস হয়ে যাওয়া, শিশুদের খুন হওয়া। কিন্তু এই ধ্বংসের মাঝে শুধু বেঁচে থাকে সৈনিকের প্রিয়তমা মেয়েটি। সমতল আর মন্দিরের দেবমূর্তিগুলিও এই ধ্বংসের হাত থেকে মুক্ত হতে পারল না। সমগ্র শহর পুড়ে খাক হয়ে গেল। শুধু পড়ে রইল রক্তের কালাে দাগ, আর অপেক্ষারত বিষাদিনী মেয়েটি।

 

অসুখী একজন কবিতার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

 

প্রশ্ন) “সব চূর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা কেন বলা হয়েছে?

 

উওর : প্রখ্যাত চিলিয়ান কবি পাবলাে নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন শীর্ষক কবিতা থেকে নেওয়া আলােচ্য উদ্ধৃতিটিতে অনেক কিছুই চূর্ণ হয়ে যেতে দেখা যায়। যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে কবির মিষ্টি

 

বাড়ি, বারান্দা, গােলাপি গাছ, ছড়াননা করতলের মতাে পাতা, প্রাচীন জলতরঙ্গ, চিমনি সবই চুর্ণ হয়ে যায়।

 

যুদ্ধ যখন বাধে, তখন সেই ধ্বংসযজ্ঞে সবকিছু চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। আসলে যুদ্ধ বিনাশকেই আহ্বান জানায়। মানবিকতা, বিবেকবােধ বিসর্জন দিয়ে মানুষ যখন ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠে, তখন তার আগ্রাসন থেকে কেউ রক্ষা পায় না।

 

 

প্রশ্ন) ‘সেই মিষ্টিবাড়ি,বাড়ির বিশেষণ মিষ্টি কেন আলােচনা করাে।

 

: উত্তর : যুদ্ধ তার ভীম প্রহারে সবই খুঁড়িয়ে দিয়ে যায়। তাতে ভালােমন্দের বাছবিচার নেই। ভালাে কিছুর ধ্বংস ঘটলে সকলের প্রাণেই ব্যথা লাগে। যেমন, বাড়ি। যে বাড়িতে মানুষ বসবাস করে, সেই বাড়ির প্রতি মানুষের সন্তানসম আদর বর্ষিত হয়। বলা হয়েছে- Home home Sweet home.’ সেই বাড়ি চূর্ণ করে গেল যুদ্ধ।কারাের একারবাড়িনয়,অজস্র মানুষের অজস্র বাড়ি। প্রিয়তার কারণে বাড়ির মিষ্টি’বিশেষণ দিয়েছেন কবি।

 

প্রশ্ন) সব চূর্ণ হয়ে গেল,-কী কী চূর্ণ হয়ে গেল?

 

উত্তর : যুদ্ধে কত দেশের কত শহর, পল্লির কত কী চূর্ণ হয়। এখানে যুদ্ধে যাওয়া সৈনিক তার নিজের বাড়ির ধ্বংসচিত্রটি কল্পনায় এঁকে ফেলেছে। এই চিত্র কাল্পনিক হলেও আদৌ অবিশ্বাস্য নয়। সৈনিকের ‘মিষ্টি বাড়ি’, ঝুলন্ত বিছানায় ঘুমানাের বারান্দা, গােলাপি গাছ, ছড়ানাে করতলের মতাে তার পাতা, চিমনি, জলতরঙ্গ ইত্যাদি সবচূর্ণহয়ে গেল, আগুনেজ্বলে গেল।একটিবাড়িরকয়েকটি খণ্ডচিত্র যুদ্ধের বিধ্বংসী স্বভাবের চমৎকার পরিচয় দিয়ে গেছে। 

 

 

প্রঃ) ‘যেখানে ছিল শহর’—সেখানে কী ঘটে গেল? তাৎপর্য লেখাে।

 

উত্তর : কবি এখানে যুদ্ধপ্রভাবে বিধ্বস্ত শহরের চিত্রটি এভাবে বর্ণনা করেছেন শহর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অজস্র আগ্নেয় গােলায় সব ভস্মসাৎ। শহরে পড়ে থাকা ভস্মাবশেষ হলাে কাঠকয়লা। কাঠের তৈরি যা কিছু, পুড়ে কাঠকয়লা হয়ে গেছে। ব্যবহৃত লােহাগুলি তাপে তাপে দোমড়ানাে পিণ্ডে পরিণত হয়ে গেছে। আর পাথরের যত মূর্তি, সেগুলির সৌকর্য আর নেই, এখন পুরােটাই মৃত। তার মাথাগুলি পুড়ে বীভৎস মূর্তিধরেছে। যুদ্ধের নারকীয় বীভৎসতা এখানে চিত্রিত হয়েছে। 

 

প্রশ্ন ) ‘মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস/মাথা’—এখানে আঁকা ছবিটি বুঝিয়ে দাও।

 

মূর্তি, সেতু, মিনার, গির্জা, অট্টালিকা সবই পুড়ে খাক। মন্দিরে বা অন্যত্র, গড়া যেসব মূর্তি রাখা ছিল, সেগুলিও সমস্ত পুড়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। শিল্পীর অনন্য প্রতিভায় গড়া শােভনসুন্দর মূর্তিগুলি বােমার আগুনে ঝলসে গেছে, পুড়ে গেছে। তাই দগ্ধবশিষ্ট সেই মূর্তিগুলি বীভৎস আকার ধারণ করেছে। পাথরের জীবন্ত মূর্তিগুলি এখন মৃত। তাদের মাথাগুলি কদাকার হয়ে গেছে। চেনার উপায় নেই।

 

প্রশ্ন)  শিশু আর বাড়িরা খুন হলাে।’—নারকীয়তাটি বুঝিয়ে দাও।/ উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য লেখাে।

 

– উত্তর : যুদ্ধ। শুধু হত্যা, মারণ-হিংসা। শুধু বিনাশ, শুধু ক্ষয়। মানুষের সবচেয়ে বেশি স্নেহের ধন যে শিশু, তারও রেহাই নেই। আগুনঝরা বােমা আর বােমায়, বিষাক্ত গ্যাসে শিশুদের মৃত্যু হলাে। মৃত্যু নয় খুন। আর মানুষের বসতির আশ্রয় যে বাড়ি, সে বাড়িগুলিও ধ্বংস হয়ে গেল। কবি জীবন্ত শিশুর সঙ্গে বাড়িকেও জীবন্ত করে একাসনে বসালেন। হাহাকার আরও মর্মান্তিকহলাে।

 

 

, ‘মেয়েটার মৃত্যু হলাে না।’—মেয়েটি কে? তার মৃত্যু হলাে না কেন ?

 

উত্তর : * উদ্ধৃতাংশে বােঝানাে হয়েছে কবির প্রিয়তমাকে। যুদ্ধের ডাকে সাড় জায় প্রতীক্ষায় রেখে কবি চলে যান।

 

কবি সেই মেয়েটিকে ছেড়ে চলে গেলে প্রহরগুলি কাটতে লাগল। জীবনধারা নিজের ছলে গেল সপ্তাহ-মাস-বছর। তারপর যুদ্ধ এল। যুদ্ধ ধন, সবকিছুকে গ্রাস করল। শুধু মানুষ নয়, দেবতারাও রেহাই পে কিন্তু মৃত্যু হলাে না মেয়েটার। অবসান হলাে না তার প্রতীক্ষার। এই প্রতীক্ষাই হলাে প্রেম। প্রেম চিরকাল অমর। মেয়েটি শাশ্বত প্রেমের প্রতীক। 

 

 

ভালােবাসেন যে, তিনি জানাতে পারছেন না তার চির বিদায়ের কথা। এ আঘাত যে দুঃসহ আঘাত। সরল বিশ্বাসে তার ফিরে আসার পথ চেয়ে নারীটি যে দুঃসহ কষ্ট পাবে তার বেদনাও কবিকে ভারাক্রান্ত করে। জীবনের এক অনতিক্রম্য বিবাদ ‘জানত না’ কথাটিতে ধরা পড়েছে।

 

 

“একটা কুকুর চলে গেল,’—উদ্ধৃতাংশটুকুর তাৎপর্য লেখাে।

 

(উওর : চিলিয়ান কবি পাবলাে নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে গৃহীত এই অংশে বিশ্বপ্রকৃতির এক শাশ্বত সত্যকে তুলে এ ধরা হয়েছে।

 

পৃথিবীতে জন্ম-মৃত্যু, প্রেম-বিচ্ছেদ বড়াে সাধারণ ঘটনা। মানুষ মানুষের কাছে আসবে, দূরে যাবে। দুঃসহ বেদনায় পাথর হয়ে যাবে হৃদয়। যেমন কবিকে চিরতরে চলে যেতে হচ্ছে তার প্রিয়তমা নারীটিকে ত্যাগ করে। এসব নিয়ে বিশ্বপ্রকৃতির ভাবার অবকাশ নেই। কবি চলে গেলেও একই ছন্দে চলবে জীবনধারা। এখানে কুকুরটির চলে যাওয়া জীবনধারারই একটা খণ্ডচিত্র। কুকুরেরা এভাবে পথ দিয়ে চলে গেছে বহুদিন, আজ গেল, যাবে আগামী দিনেও।

 

প্রশ্ন  । ‘হেঁটে গেল গির্জার এক নান’–এর প্রতীকী ব্যাখ্যা করাে। উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করাে।

 

উত্তর : গির্জার নান,সন্ন্যাসিনী তিনি। সন্ন্যাসিনী বলেই তাঁকে দুঃখ বিষাদ স্পর্শ করে না। তিনি বৈদান্তিক সন্ন্যাসীর মতাে ‘দুঃখেম্বনুদ্বিগ্নমনাঃ সুখে বিগতস্পৃহঃ। তিনি একটা প্রতীক। অর্থাৎ এই যে দুটি প্রাণের মধ্যে জানা-অজানা বিষাদ, এগুলিতে তার কোনাে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নেই। পৃথিবী ওদের ঘটনায় যেন ঘুমিয়ে থাকে। নানের হেঁটে যাওয়া, ওই দুই প্রেমিক-প্রেমিকার কাছে একটা বাধ্যতামূলক বিচ্ছেদবার্তাই যেন বহন করে।

 

অসুখী একজন কবিতার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর 2022

 

 

প্রশ্ন। ‘একটা সপ্তাহ আর একটা বছর কেটে গেল। এখানে কী বোঝানাে হয়েছে?

 

উত্তর : একদিকে যুদ্ধে চলে যাওয়া যুদ্ধগামী প্রেমিক সৈনিক অন্যদিকে বিরহখিন্ন প্রেমিকা। মাঝখানে না-দেখাশােনার বিস্তর ব্যবধান। একজন অপেক্ষায় নেই, কারণ, যুদ্ধ তাকে ক্রীতদাস করে দিয়েছে। আর-একজন মিথ্যে অপেক্ষায় একটি একটি দিন গােনে। একটি দিন যায়, একটি রাত যায়। যায় সপ্তাহ। যায় একটি বছর। দুঃসহ সময়। একজন কোনাে দিনই আর ফিরবে না, অন্যজন তার ফেরার পথ চেয়ে বসে থাকে। হায় রে নিয়তি! প্রগাঢ় বিষাদ গ্রাস করে পাঠককেও।

 

এয় ‘পর পর পাথরের মতাে, বছরগুলাে / নেমে এল। তার মাথার ওপর।’—প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাৎপর্য বিশ্লেষণ করাে।/বছরগুলিকে পাথরের মতাে বলা হয়েছে কেন?

 

(উত্তর : কবি পাবলাে নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত এই অংশে কবির প্রিয়তমার সতৃয়দীর্ঘ প্রতীক্ষার নিদারুণ যন্ত্রণার চিত্রটি ফুটিয়ে তােলা হয়েছে।

 

প্রিয়তমাকে রেখে কবির যুদ্ধক্ষেত্রে চলে যাওয়ার পর অতিক্রান্ত হয়ে চলে দীর্ঘ সময়। জীবনধারা নিজের ছন্দে বয়ে চলে। সময় বয়ে যায় সপ্তাহ-মাস-বছরের অঙ্কে। প্রতীক্ষিতা মেয়েটি স্মৃতিভারাক্রান্ত দুঃসহ প্রহর যাপন করে বড় কষ্টে, যেন একের পর একটি ভারি পাথর তার মাথায় চেপে বসে যায়। নিরন্তর চেপে বসতে থাকে। দীর্ঘ দুঃসহ বিরহবেদনার অতলে সে ডুবে যেতে থাকে।

 

প্রশ্ন।  ‘বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ’ উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য লেখাে।

 

উত্তর : সাম্যবাদী কবি পাবলাে নেরুদার ‘অসুখী একজন’কবিতা থেকে উদ্ধৃতাংশটুকুউৎকলিত হয়েছে।

 

‘ কর্তব্যের আহ্বানে কবি তাঁর প্রিয়তমাকে অনন্ত প্রতীক্ষায় রেখে যুদ্ধে চলে যান। তিনি জানেন যে, তাঁর আর ফেরা হবে না। কিন্তু এ কথা প্রিয়তমাকে জানাননি। এক অন্তহীন বিরহ যন্ত্রণায় তাকে রেখে তিনি চলে যান। জীবনধারা বয়ে চলে তার চিরকালের ছন্দে। সপ্তাহ-বছর অতিক্রান্ত হয়ে চলে। প্রকৃতির পালাবদলের মধ্য দিয়ে কবির চলার পথ থেকে মুছে যায় তার শেষ পদচিহ্নটি। পথে ঘাস গজিয়ে কবিকে ঠেলে দেয় বিস্তৃত অতীতের গর্ভে।

 

প্রশ্নঃ ‘তার পর যুদ্ধ এল’—যুদ্ধ আসার পর কী  হলাে?

 

উত্তর: যুদ্ধ এল রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে বীভৎস রূপ ধারণ করে। আগুন ধরে গেল সমতলে। ধ্বংস হলাে মন্দির, জনপদ। দেবতারা উলটে পড়লেন মন্দির থেকে, টুকরাে টুকরাে হয়ে গেলেন। ক্ষুন্ন হলাে যাবতীয় দৈব-মহিমা। কবির একটি মিষ্টি বাড়ি ছিল যেখানে বারান্দায় ঝুলন্ত বিছানায় তিনি ঘুমােতেন। সেটি ধ্বংস হয়ে গেল, ধ্বংস হলাে প্রয়ােজনীয় ও সৌখিন সমস্ত জিনিস। শহর ধ্বংস হয়ে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ল কাঠকয়লা, দোমড়ানাে লােহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের কালাে দাগ।

 

অসুখী একজন কবিতার ছোট প্রশ্ন উত্তর

 

প্রশ্ন) যেখানে ছিল শহর’—শহরটির অবস্থা কেমন ছিল?

 

উত্তর: যুদ্ধে শহরটি ধ্বংস হয়ে গেলে সেখানে ছড়িয়ে থাকল কাঠকয়লা, দোমড়ানাে লােহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা, রকের একটা কালাে দাগ।

 

প্রশ্ন ) উল্টে পড়ল মন্দির থেকে—কেল উলটে পড়ল?

 

উত্তর : ভয়ংকর যুদ্ধের অন্তরে ধ্বংস হয়ে গেল মন্দির, টুকরাে টুকরাে হয়ে উলটে পড়ল দেবতারা।

 

প্রশ্ন ) ‘তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।’—কাদের কথা বলা হয়েছে?

 

উত্তর : কবি পাবলাে নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে গৃহীত এই অংশে দেবতাদের কথা বলা হয়েছে। তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।

 

প্রশ্ন ) ‘তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।’—কেন স্বপ্ন দেখতে পারল না?

 

উত্তর : রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে বীভৎস রূপে যুদ্ধ এল, ধ্বংস যজ্ঞ চলল, দেবতারা মন্দির থেকে উলটে পড়ল টুকরাে টুকরাে হয়ে। তাই তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।

 

প্রশ্ন ) রক্তের একটা কালাে দাগ।’—কথাটির মধ্যে কোন্ ইঙ্গিত ফুটে উঠেছে?

 

উত্তর : রক্ত লাল হলেও শুকিয়ে গেলে কালচে বর্ণ লাভ করে। যুদ্ধের ঝড়ে শুকিয়ে কালচে বর্ণলাভ করে হিংস্রতার চিহ্ন হিসেবে দাগ রেখে যায় ভূমিতে এবং মানুষের মনেও।

 

প্রশ্ন)  ‘নেমে এল তার মাথার ওপর’—কার কথা বলা। হয়েছে?

 

উত্তর : চিলিয়ান কবি পাবলাে নেরুদার ‘অসুখী একজন’কবিতায় কবি যে মেয়েটিকে দরজায় দাঁড় করিয়ে রেখে চলে এসেছিলেন এখানে তার কথা বলা হয়েছে।

 

প্রঃ) নেমে এল তার মাথার ওপর’—কী নেমে এল?

 

উত্তর : কবি যে মেয়েটিকে প্রতীক্ষায় রেখে চলে গিয়েছিলেন চিরতরে তার মাথার ওপর নেমে এল একটার পর একটা পাথরের মতাে দুঃসহ বছরগুলি।

 

প্রশ্ন ) ‘ডুবে ছিল ধ্যানে’-কারা ধ্যানে ডুবেছিল?

 

উত্তর : কবি পাবলাে নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে গৃহীত এই অংশে শান্ত হলুদ দেবতাদের কথা বলা হয়েছে। তারা ধ্যানে ডুবেছিল।

 

প্রশ্ন ) ‘অর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।’—বলতে কবি কী বােঝাতে চেয়েছেন?

 

উত্তর : যুদ্ধে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও কবির প্রিয়তমা বেঁচে থাকলেন তাঁর অপেক্ষায় অর্থাৎ, যে-কোনাে অবস্থাতেই প্রেম চির অমর।

 

প্রশ্ন )  ‘শিশু আর বাড়িরা খুন হলাে।–“শিশু আর বাড়িরা’ খুন হয়েছিল কেন? 

 

উত্তর : রক্তের আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে বীভৎস ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়ে যুদ্ধ আত্মপ্রকাশ করেছিল। তাই খুন হয়ে গিয়েছিল ভবিষ্যতের ধারক শিশুরা এবং মানবের আশ্রয় বাড়িরাও।

 

প্রশ্ন ) ‘আমি চলে গেলাম দূর-দূরে।’—দুরে কেন?

 

উত্তর: যুদ্ধ ছিল বিশ্বব্যাপী। স্বদেশ ছেড়ে সেজন্য দুরে তাে যেতেই হবে।

 

প্রশ্ন ) সে জানত না’—সে কে ?

 

উত্তর : ‘সে’ বলতে এখানে যুদ্ধগামী সৈনিক কবির প্রেমিকাকে বােঝানাে হয়েছে। কবির যাত্রাকালে যে দরজায় দাঁড়িয়েছিল।

 

প্রশ্ন ) সে জানত না’ –সে কী জানত না?

 

উওর : সে জানত না, যুদ্ধে যাওয়া মানুষটি কখনও ফিরে আসবে না।

 

প্রশ্ন ) ‘আর কখনাে ফিরে আসব না।’-বক্তা কেন ফিরে আসবে না?

 

উত্তর : বক্তা যুদ্ধে যাচ্ছে এবং যুদ্ধে যাওয়া ব্যক্তি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রায়শ ফিরে আসে না।

 

 প্রশ্ন ) তার মাথার ওপর।-কার মাথার ওপর কী নেমে এল?

 

উত্তর : অপেক্ষারত মেয়েটির মাথার ওপর একটার পর একটা পাথরের মতাে পরপর বছরগুলি নেমে এল।

 

প্রশ্ন ) বছরগুলাে পর পর পাথরের মতাে নেমে এল কেন?

 

উত্তর : পাথর হলােনিপ্রাণশ কঠিন বস্তু। বছরগুলি একে একে গেল। যার জন্য অপেক্ষা, সে এল না। তার না-আসাটা নিশ্চিততর পাথর কঠিন হলাে।

 

প্রশ্ন )‘অসুখী একজন’ কবিতাটি কবির কোন্ কাব্যের অন্তর্গত? কাব্যটি কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল?

 

উত্তর : চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদার ‘Extravagaria’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে।

 

প্রশ্ন ) অসুখী একজন কবিতাটি অনুবাদকের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

 

উত্তর : কবি, অনুবাদক নবারুণ ভট্টাচার্যের ‘বিদেশী ফুলে রঙের ছিটে’ শীর্ষক কাব্যগ্রন্থ থেকে ‘অসুখী একজন’ কবিতাটি নেওয়া হয়েছে।

 

প্রশ্ন ) কবি পাবলাে নেরুদা কত খ্রিস্টাব্দে নােবেল পুরষ্কার পান?

 

উত্তর : চিলিয়ান কবি পাবলাে নেরুদা ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে নােবেল পুরস্কার লাভ করেন।

 

প্রশ্ন ) একটা কুকুর চলে গেল, হেঁটে গেল গির্জার এক নান’—এই অংশটিতে কবি কী বলতে চেয়েছেন? –

 

উত্তর: কবি পাবলাে নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে সংগৃহীত এই অংশে যে-কোনাে অবস্থাতেও জীবনধারার নিরন্তর প্রবহমানতা বােঝাতে চাওয়া হয়েছে।

 

প্রশ্ন) ‘তারপর যুদ্ধ এল’-যুদ্ধ কী রূপে এল?

 

উত্তর: ‘অসুখী একজন’ কবিতার বর্ণনায় যুদ্ধ এল রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে অর্থাৎ, বীভৎস রক্তক্ষয়ী রূপে।

 

 প্রশ্ন ) শিশু আর বাড়িরা খুন হলাে।’—বলতে কবি কী বােঝাতে চেয়েছেন?

 

উত্তর : ‘শিশু আর বাড়িরা খুন হলাে’ কথাটির মাধ্যমে কবি বােঝাতে চেয়েছেন যে যুদ্ধেভবিষ্যতের ধারকসরল নিস্পাপ শিশুদের মৃত্যু হলাে। ধ্বংস হয়ে গেল মানুষের আশ্রয়টুকুও।

 

প্রশ্নঃ ‘মেয়েটির মৃত্যু হলাে না।’—মৃত্যু না হওয়ার তাৎপর্য কী? 

 

উত্তর : উদ্ধৃতাংশে মেয়েটি হলাে শাশ্বত প্রেমের প্রতীক। যুদ্ধ সবকিছুকে ধ্বংস করতে পারলেও প্রেমকে ধ্বংস করতে পারে না।

 

প্রশ্ন ) অসুখী একজন’ কবিতায় দেবতাদের শান্ত হলুদ’ বলা হয়েছে কেন?

 

: উত্তর : যুদ্ধ, মন্বন্তর, মহাপ্রলয় ইত্যাদি যে-কোনাে পরিস্থিতিতেই দেবতারা নির্বিকার। তাই তাঁরা শান্ত। অতিপ্রাচীন দৈব মহিমায়  বিশ্বাস সময়ের ধারায় অর্থহীন হয়ে ওঠে, তাই শান্ত হলুদ।

 

প্রশ্ন ) সব চূর্ণ হয়ে গেল’-কী কী চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল?

 

উওর : ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেছে কবির মিষ্টি বাড়ি, বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা, গােলাপি গাছ, ছড়ানাে করতলের মতাে পাতা, চিমনি, প্রাচীন জলতরঙ্গ ইত্যাদি। সমস্ত কিছুই চূর্ণ হয়ে গেল,  আগুনে জ্বলে গেল।

 

প্রশ্ন ) ‘বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল’-বৃষ্টি কী ধুয়ে দিল?

 

উত্তর : কবি পাবলাে নেরুদা গৃহান্তরিত হলে তাঁর চলাচলের পথে যে পায়ের দাগটুকু ছিল বৃষ্টি এসে সে দাগ ধুয়ে দিয়ে গেল অর্থাৎ, চলমান জীবনধারাকবিকেনিশ্চিহ্ন করে দিল।

 

প্রশ্ন )  ‘ঘাস জন্মালাে রাস্তায়’—বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?

 

উত্তর : রাস্তায় ঘাস জন্মানাের উল্লেখের মধ্য দিয়ে কবি বলতে চেয়েছেন এ পথে যে মানুষটির চলাচল ছিল তিনি আর নেই অর্থাৎ, পথিকটি চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

 

প্রশ্ন  ‘প্রাচীন জলতরঙ্গ’—জলতরঙ্গ কী?

 

(উত্তর : জলতরঙ্গ হলাে সুর বাদ্যযন্ত্রবিশেষ। এই যষ্ট্রে তিটা বাটিতে এমনভাবে জল ভরে রাখা হয় যে শলাকা দিয়ে পরপর ছুঁয়ে গেলে সরগমের সা-রে-গা-মা-পা-ধা-নি একসঙ্গে বেজে ওঠে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *