সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মহাসচিবের নির্বাচন, কার্যাবলী ও ভূমিকা আলােচনা কর।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মহাসচিবের নির্বাচন, কার্যাবলী ও ভূমিকা আলােচনা কর। 

সম্মিলিত-জাতিপুঞ্জের-মহাসচিবের-নির্বাচন-কার্যাবলী-ও-ভূমিকা-আলােচনা কর।

 

উত্তর। মহাসচিব হলেন সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মুখ্য প্রশাসনিক অধিকর্তা (Chief Administrative Officer)। তিনিই জাতিপুঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। জাতিপুঞ্জের প্রস্তুতি কমিশন মহাসচিবের মধ্যে বিশ্ব বিবেককে খুঁজে পেয়েছেন। তিনি সামগ্রিকভাবে জাতিপুঞ্জের প্রতিনিধিস্বরূপ। শুধু তার কর্মচারীদের নয়, সমগ্র বিশ্বের চোখে তিনি সনদের নীতি ও আদর্শের বাস্তব প্রতিমূর্তি 

 

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মহাসচিব এর নির্বাচন : 

সনদের ৯৭নং ধারা অনুসারে মহাসচিব নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশক্রমে সাধারণ সভা কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। বাস্তবে মহাসচিবের নির্বাচন তিনটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্যায়ে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরা গােপনে নিজেদের মধ্যে আলােচনা করে একজনের নাম স্থির করে। দ্বিতীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা পরিষেদের বৈঠকে স্থায়ী সদস্যরা সরকারীভাবে একজনের নাম (ইতিপুর্বেই যে নাম স্থির হয়েছে) সুপারিশ করে সাধারণ সভার কাছে পাঠায়। নিরপত্তা পরিষদের বৈঠকে সর্বসম্মত নাম স্থিরীকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ পূর্বে গােপন বৈঠকে যদি নাম স্থির না হয়, তাহলে প্রকাশ্য বৈঠকে মতভেদ দেখা দিতে পারে। মহাসচিবের নির্বাচন যেহেতু অ-পদ্ধতিগত বিষয় (non-procedural Imatter), সেহেতু সনদের ২৭ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ ব্যাপারে ৫ জন স্থায়ী সদস্যের সর্বসম্মত সমর্থন প্রয়ােজন। কোন স্থায়ী সদস্য ভেটো প্রয়ােগ করলে সুপারিশ গৃহীত হবে না। বর্তমানে মহাসচিবের পদটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে এই পদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রায়ই মতভেদ দেখা যায়। যাই হােক, নিরাপত্তা পরিষদের দরজা অতিক্রম করার পর মহাসচিব নির্বাচনের প্রস্তাব সাধারণ সভার নিকট যায়—এটাই হল তৃতীয় পর্যায়। নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশটি সাধারণ সভার উপস্থিত ও ভােটদানকারী সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গৃহীত হওয়া প্রয়ােজন। তবে সাধারণ সভা যদি প্রস্তাব নেয় যে, উক্ত বিষয়ে দুইতৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি প্রয়ােজন, তবে সেক্ষেত্রে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে না। সনদে মহাসচিবের কার্যকাল সম্বন্ধে কিছু বলা হয় নি। তবে ১৯৪৬ সালে সাধারণ সভা স্থির করে যে মহাসচিব ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। মহাসচিব পরবর্তী ৫ বছরের জন্য পুনর্নির্বাচিত হতে পারেন। জাতিপুঞ্জের প্রথম মহাসচিব ট্রিগভি লী-কে পুনর্নির্বাচিত করা হয়, কিন্তু সােভিয়েত রাশিয়ার বিরােধিতার জন্য তাকে ১৯৫৩ সালে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীকালে দ্বিতীয়বারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন এন মহাসচিবরা হলেন দ্যাগ হ্যামারশীল্ড (১৯৫৩-৬১), উ থান্ট (১৯৬২৭১), কৃর্ট ওয়ালডহেম (১৯৭২-৮১), জেভিয়ার কুয়েলার (১৯৮২-৯১)।

 

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মহাসচিব এর কার্যাবলী ও ভূমিকা :

জাতিপুঞ্জের সর্বোচ্চ পদাধিকারী হলেও মহাসচিবের ক্ষমতা ও কার্যাবলীকে সনদের কোন অংশে সুবিন্যস্তভাবে বলা হয় নি। সনদের ১২(২), ৯৮, ৯৯, ১০০, ১০১ প্রভৃতি ধারায় মহাসচিবের যেসব দায়িত্বের কথা উল্লেখ আছে বাস্তবে তাঁকে তার অনেক বেশি দায়িত্ব পালন করতে হয়। 

 

মহাসচিবের দায়িত্ব ও কার্যাবলীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে আলােচনা করা হল :

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মহাসচিবের কার্যাবলী

 

(১) প্রশাসনিক কার্য : জাতিপুঞ্জের মুখ্য প্রশাসনিক অধিকর্তা হিসাবে মহাসচিবের কাজ হল জাতিপুঞ্জের প্রধান সংস্থা, উপসংস্থা, কমিশন, কমিটির সভা আহ্বান করা এবং সুষ্ঠু পরিচালনার বন্দোবস্ত করা। জাতিপুঞ্জের কার্যকলাপ সম্বন্ধে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা এবং তা সাধারণ সভা এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পেশ করা তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত সচিবালয়ের শাখাসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের কাজ তিনিই সম্পাদন করেন।

 

(২) নিয়ােগ সংক্রান্ত কাজ ও মহাসচিব সচিবালয়ের কর্মচারীদের ও অধিকর্তাদের নিয়োগ করেন, তাদের মধ্যে কার্যভার বন্টন করেন এবং তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করেন। চাকরিব শর্তাদি ও নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। 

 

(3) তথ্য সরবরাহ ও জাতিপুঞ্জের যে-কোন সংস্থা, কমিশন ও কমিটিগুলির সাহায্যার্থে প্রয়ােজনীয় দলিলপত্র, পরিসংখ্যান ও তথ্যাদি সরবরাহ করা তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। প্রতিটি সংস্থার বিভিন্ন বিষয়ে আলােচনা নথিভুক্ত করা, সংরক্ষণ করা, বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা প্রভৃতি বিষয়ে প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা অবলম্বন করা তাঁরই দায়িত্ব।

 

(৪) অর্থনৈতিক কাজ : মহাসচিবের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল বার্ষিক আয়ব্যয়ের হিসাব বা বাজেট প্রস্তুত করা এবং তা সাধারণ সভায় পেশ করা। জাতিপুঞ্জের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলির দেয় অর্থ আদায় করেন এবং কোন সদস্যরাষ্ট্র দেয় অর্থ না প্রদান করলে তিনি সে বিষয়টি সাধারণ সভার দৃষ্টি গােচর করেন। তাছাড়া কোন দেশকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্রশ্নটিও তিনি বিচার বিবেচনা করেন।

 

(৫) প্রতিনিধিত্বমূলক কাজ ও মহাসচিবের প্রতিনিধিত্বমূলক কাজও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি জাতিপুঞ্জের প্রতিনিধি হিসাবে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে আলোচনা চালান এবং তার বক্তব্যই জাতিপুঞ্জের বক্তব্য হিসাবে গণ্য হয়। সম্প্রতি (১৯৯০-৯১) মার্কিনইরাক যুদ্ধে মহাসচিব পেরেজ দ্য কুয়েলারকে জাতিপুঞ্জের পক্ষ থেকে কথা বলতে দেখা যায়।

 

(৬) রাজনৈতিক কাজ ও মহাসচিবের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল রাজনৈতিক কাজ। সনদের ১১নং ধারায় বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবার মত কোন বারে উদ্ভব ঘটলে তিনি সেই বিষয়টি সম্পর্কে নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তানেক সময় তিনি নিজেই শান্তিরক্ষার ব্যাপারে উদ্যোগী হন। শান্তিপূর্ণ পথে বরের নিপতির ব্যাপারে ব্যর্থ হলে মহাসচিব নিরাপত্তা পরিষদের কাছে প্রয়ােজনীয় বা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করতে পারেন। বস্তুত নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ সভার এত তাসচিব শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে পারেন। এজন্যই নেব? (Chelberger) মহাসচিবকে শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে জাতিপূঞ্জের তৃতীয় পাননি বলে উল্লেখ করেছেন। কঙ্গো, কোরিয়া, সুয়েজ, ভিয়েতনাম, উপসাগরীয় যুদ্ধ : সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে মহাসচিবদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। জাতির প্রতি কমিশনের মতে ইতিপূর্বে কোন আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রধানকে এক বিশের ক্ষমতা প্রদান করা হয় নি ।

 

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মহাসচিব এর অন্যান্য কাজ :

 

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের শান্তিরক্ষা বাহিনী পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে ভার বেশিরভাগ সময় মহাসচিবের ওপর ন্যস্ত করা হয়। অনেক সময় মহাসচিবগ= শান্তিরক্ষা বাহিনী পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গে ত্রাণমূলক ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কার্যাবল পরিচালনা করেন। প্যালেস্টাইনে মহাসচিব ব্যাপক ত্রাণমূলক কার্য পরিচালনা করেছিলেন কোরিয়া সমস্যার ক্ষেত্রে মহাসচিব ব্যাপক পুনর্বাসন সংক্রান্ত কর্মসূচী গ্রহণ করেন। এছাড় মহাসচিব নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও জাতিপুঞ্জের প্রভাবশালী সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যা ও কর্মসূচী সম্পর্কে নিরন্তর আলাপ-আলােচনা চালিয়ে যান এবং তার মূল্যবান কার্য সম্পাদন করেন। অধ্যাপক Goodspeed মহাসচিবের এই কাজকে নীরব কুটনীতি’ (Quiet diplomacy) বলে বর্ণনা করেছেন।

 

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মহাসচিব এর ভূমিকার মূল্যায়ন :

 

ওপরের আলােচনা থেকে একথা স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে মহাসচিব হলেন সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর বিচক্ষণতা ও দক্ষতা ওপর জাতিপুঞ্জের সাফল্য অনেকখানি নির্ভরশীল। এটা মােটামুটিভাবে বলা যায় যে, প্রধানত প্রাক্তন মহাসচিবদের দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা ও নেতৃত্বের গুণেই সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ কঙ্গো সমস্যা, কোরিয়া সমস্যা, লেবানন ও জর্ডন সমস্যা, কিউবা সমস্যা, ভিয়েতনাম সমস্যা প্রভৃতি বহু জটিল সমস্যাকে সাফল্যের সঙ্গে মােকাবিলা করতে পেরেছে এব= পৃথিবীকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা থেকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছে। জাতিপুঞ্জে প্রথম মহাসচিব ট্রিগভি লী ১৯৪৭ সালে প্যালেস্টাইন বিভাগের প্রশ্নে, ১৯৪৮ সালে প্যালেস্টাইনে আরবদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করার প্রশ্নে এবং ১৯৫০ সালে জাতীয়তাবাদ চীনের পরিবর্তে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনকে জাতিপুঞ্জের সদস্যপদ দেবার প্রশ্নে যে ভূমিকা পালন করেন তা জাতিপুঞ্জের শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার আদর্শকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁত করায়। তবে কোরিয়া সমস্যা সমাধানের প্রশ্নে তার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম শক্তিজোটের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযােগ ওঠে এবং সেই কারণে কার্যকালের মেয়াদ শেষ হবার পূর্বেই সােভিয়েত চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। দ্বিতীয় মহাসচিব দ্যাগ হ্যামারশীল্ড সুয়েজ সংকট মােকাবিলায়, কঙ্গোয় গৃহযুদ্ধ বন্ধে, গণপ্রজাতন্ত্রী চীনে বন্দী ১১ জন মার্কিন বৈমানিকের মুক্তির ক্ষেত্রে অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দেন। তৃতীয় মহাসচিব উ-থান্ট কাঙ্গো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আগে মহাসচিবের আরব্ধ কাজ কৃতিত্বের সঙ্গে সমাপন করেন। ১৯৬১-৬২ সালে কিউবা সমস সমাধানের ক্ষেত্রেও উ-থান্ট উল্লেখযােগ্য সাফল্যের নজীর রেখে যান। চতুর্থ মহাসচি কুর্ট ভাল্ডহাইম প্যারিস চুক্তির মধ্যদিয়ে ভিয়েতনাম সমস্যা সমাধানে সফল হন। এছাল নিরস্ত্রীকরণ, আণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ প্রভৃতি প্রশ্নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষে গ্রহণ করেন। পঞ্চম মহাসচিব পেরেজ দ্য কুয়েলার বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে উল্লেখযােসাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। উদাহরণস্বরূপ ইরাক-ইরাণের মধ্যে এক দশক ব্যাপী যুদে অবসান, নামিবিয়ার স্বাধীনতা অর্জন, আফগানিস্থানে শান্তি স্থাপন, অ্যাঙ্গোলার গৃহবি বন্ধ, গ্রেনেড়ায় মার্কিন আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ইত্যাদি তার সাফল্যের কয়েকটি নড হিসাবে তুলে ধরা যেতে পারে। ষষ্ঠ মহাসচিব বুত্রোস ঘালি কাম্পুচিয়ায় শান্তি স্থাপনে, আফগানিস্থানে গৃহযুদ্ধ রদে, যুগােশ্লাভিয়ার সংকট সমাধানে সাফল্যের উজ্জ্বল নিদর্শন রাখেন।

 

তবে মহাসচিবগণ যে সবক্ষেত্রেই সফল হয়েছেন তা বলা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ 

মহাসচিব উ-মাস্ট মধ্যপ্রাচ্য ও ভিয়েতনাম সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হন। কুর্ট ভাল্ডহাইম হল না। ভিয়েতনামে মার্কিন আক্রমণ রােধ করতে ব্যর্থ হন। পেরেজ দ্য কুয়েলার ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকের ওপর বহুজাতিক বাহিনীর অন্যায় আক্রমণ রােধে ব্যর্থ হন। এছাড়া মহাসচিবদের কোন কোন ভূমিকা নিরপেক্ষতার বিচারে উত্তীর্ণ হতে পারে নি। উদাহরণস্বরূপ কোরিয়া যুদ্ধে, ভিয়েতনাম যুদ্ধে, উপসাগরীয় যুদ্ধে মহাসচিবদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করতে দেখা গেছে। তবে ব্যর্থতার জন্য মহাসচিবদের দায়ী না করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করাই শ্রেয়। সােভিয়েত ইউনিয়নের বিপর্যয়ের আগে পর্যন্ত বিশ্ব রাজনীতিতে যে ঠাণ্ডা যুদ্ধ চলতে থাকে মহাসচিবগণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই ঠাণ্ডাযুদ্ধের করুণ শিকারে পরিণত হন। বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে তাে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় কোন মহাসচিবের পক্ষে মার্কিন চাপকে অগ্রাহ্য করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন সম্ভব নয়। বুত্রোস ঘালি সােমালিয়া, বসনিয়া, হারবন প্রভৃতি সংকটে যে ভূমিকা পালন করেন, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনঃপুত হয় নি। সেই অপরাধে তাকে ১৯৯৬ সালের পর পুনর্নির্বাচিত করা হল না।

 

জাতিপুঞ্জের বর্তমান মহাসচিব  স্বাভাবিকভাবেই তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির তাঁর কাছে প্রত্যাশা অনেক। তিনি নিজেও সেটা জানেন। তাই তিনি বলেন, মহাসচিব তার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে নৈতিকতা বিসর্জন দেবে না।

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *