উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা বলতে কী বােঝায় ? এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলােচনা কর।

 উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা বলতে কী বােঝায়

উন্নয়নশীল-রাজনৈতিক-ব্যবস্থা-বলতে-কী-বােঝায়-এ-ধরনের-রাজনৈতিক-ব্যবস্থার-প্রধান-প্রধান-বৈশিষ্ট্যগুলি-আলােচনা-কর।

 

What is meant by developing political system

উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা বলতে কী বােঝায় ? এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলােচনা কর। 

উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা:

 

 উত্তর : 

 উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার কোন সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা নির্দেশ করা সহজ নয়। উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং অনুন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা। এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সুদীর্ঘকালের সাবেকী উপাদানকে যেমন জিইয়ে রাখা হয়, তেমনি আবার আধুনিকতার অনেক উপাদানও বর্তমান থাকে। অর্থাৎ এখানে ঐতিহ্যকে বর্জন না করে আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়া কার্যকর থাকে। সংক্ষেপে বলা যায়, উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা বলতে সেই রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বােঝায় যেখানে আধুনিক আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামাে গড়ে তােলার উদ্যোগ, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রসার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি সত্ত্বেও পরিণত রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে স্থায়িত্বের অভাব দেখা যায়। উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ এবং সামাজিক সলতার হার অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের সম্মতিসূচক মনােভাব ও ঐকমত্যের অভাব পরিলক্ষিত হয়। স্যামুয়েল হান্টিংটন (Samuel Huntington) বলেছেন, উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল রেখে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি কিশিত হতে পারে না। ভারতসহ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলিকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আখ্যা দেওয়া যেতে পারে।

 

 প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযােগ্য, উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে অসামঞ্জস্য ও বৈপরীত্য থাকার ফলে এইসব দেশে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠতে দেখা যায়। হেলিও জাগুয়ারিব (Helio Jaguarib) উন্নয়নশীল দেশগুলিকে মূলত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন— (ক) ঔপনিবেশিক ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র। এইসব দেশে দেশী-বিদেশী পুঁজিপতি, জমিদার, সামরিক নেতৃত্ব ও আমলাদের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। ব্রাজিল, চিলি, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিনস প্রভৃতি দেশগুলি এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থার উদাহরণ। (খ) জাতীয় সংস্কারবাদী রাষ্ট্র এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সার্বভৌম ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে দেশের বুর্জোয়া, মধ্যজীবী, সামরিক অফিসার ও আমলাদের হাতে। জাতীয় সংস্কারবাদী রাষ্ট্র হিসাবে ভারত, শ্রীলঙ্কা, মেক্সিকো, পেরু, বলিভিয়া প্রভৃতি দেশগুলিকে উল্লেখ করা যেতে পারে। (গ) সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা এ ধরনের রাষ্ট্রগুলিতে পুঁজিবাদী আর্থ-সামাজিক সম্পর্কের অবসান ঘটেছে এবং পরিকল্পিত অর্থনীতির মাধ্যমে কৃষি ও শিল্পের ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধন করা হয়েছে। গণসাধারণতন্ত্রী চীন, কিউবা, লাওস, কাম্পুচিয়া, ভিয়েতনাম, উত্তর কোরিয়া প্রভৃতি দেশগুলিতে সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা বর্তমান। 

 

||উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য হল||

 

: উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ :

 

 (১) অপরিণত রাজনৈতিক সংস্কৃতি : উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল পবিণত রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাব। এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক সংস্কৃতি অসমজাতীয় হয় এবং তার ফলে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক উপসংস্কৃতির প্রাধান্য ঘটে। বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দেশবাসীর মধ্যে ঐকমত্য থাকে না; তার পরিবর্তে বিভিন্ন দল, গােষ্ঠী, জাতি, ধর্ম, বর্ণ ভিত্তিক আনুগত্য প্রাধান্য পায়। উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত রাজনৈতিক সংস্কৃত্রি অভাবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা, জাতীয় ঐক্য ও সংহতির অভাব, আঞ্চলিকতাবাদ, সাম্প্রদায়িকতাবাদ, উপজাতীয় সংঘর্ষ প্রভৃতির অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয়। ভারতীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এইসব লক্ষণ দেখা যায়। এছাড়া ভারতবর্ষে সাবেকী এবং আধুনিক সংস্কৃতির সংমিশ্রণে উদ্ভূত একটি মিশ্র সংস্কৃতি (Mixed Culture) লক্ষ্য করা যায়।

 (২) ব্যাপক রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অভাব:

 উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার অপর একটি বৈশিষ্ট্য হল এই যে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে জনগণের মধ্যে তেমন একটা উৎসাহ দেখা যায় না। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়টি বহুলাংশে। নির্ভর করে শিক্ষা ও চেতনার বিকাশের ওপর। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে শিক্ষা বিস্তারের প্রয়াস সত্ত্বেও জনগণের ব্যাপক অংশকে এখনও পর্যন্ত অজ্ঞতার অন্ধকারে ডুবে থাকতে দেখা যায়। ফলে উপযুক্ত রাজনৈতিক চেতনার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার, ব্যক্তিগত সংকীর্ণতা, স্বার্থপরতা প্রভৃতি প্রশ্রয় পায় এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে জনগণ নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে। নির্বাচনের সময় জনগণের ব্যাপক অংশ জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিগত লাভালাভের ভিত্তিতে ভােটদান করে অথবা ভােটদান থেকে বিরত থাকে।

 

(৩) উপযুক্ত রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের অভাব: 

 উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থার ন্যায় উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পেশাগত সংগঠন, বিভিন্ন গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল, স্বার্থগােষ্ঠী প্রভৃতি সামাজিকীকরণের মাধ্যম হিসাবে কাজ করে। কিন্তু দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অশিক্ষা প্রভৃতি কারণে সামাজিকীকরণের প্রক্রিয়া পুরােপুরি সাফল্যলাভ করে না। জনগণের অশিক্ষা, অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের সুযােগ নিয়ে রাজনৈতিক দল ও স্বার্থ গােষ্ঠীগুলি নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থসিদ্ধির কাজে নিযুক্ত থাকে এবং বহু ধরনের উপসংস্কৃতির সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি প্রায়শই রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংকট ডেকে আনে। > >

 

(৪). অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ : 

 উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা। এই ধরনের দেশগুলির অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার, মাথা পিছু জাতীয় আয় ও জাতীয় উৎপাদন উন্নত দেশগুলির তুলনায় অনেক কম। শিল্প অপেক্ষা কৃষির ওপর নির্ভরতা, মূলধনের স্বল্পতা, উন্নত প্রযুক্তির অভাব, দেশের সম্পদের পূর্ণ সদ্ব্যবহারের অভাব, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দক্ষ শ্রমিকের অভাব, জনসংখ্যা ও উৎপাদন বৃদ্ধির হারে অসামঞ্জস্যতা, বৈদেশিক ঋণের আধিক্য প্রভৃতি বিষয়গুলি অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতার পিছনে কাজ করে। অবশ্য এইসব দেশে অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা কাটিয়ে ওঠার জন্য ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার, জনবিস্ফোরণ রােধ, মূলধন সৃষ্টি, শিক্ষার বিস্তার, দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রভৃতি বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচী গ্রহণের উদ্যোগ এইসব দেশে লক্ষ্য করা যায়। 

(৫) সামরিক বাহিনীর ভূমিকা :  

 উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক কর্তৃত্ব অপেক্ষা সামরিক বাহিনীর কর্তৃত্বকে প্রাধান্য পেতে দেখা যায়। কখনও কখনও সামরিক অভ্যুত্থান

 

ঘটিয়ে অসামরিক সরকারের পক্স ঘটিয়ে দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষ সরকারী ক্ষমতা দখল করে নেয়। ১৯৬৫ সালে আলজিরিয়াতে এবং ১৯৭৩ সালে চিলিতে সামরিক বাহিনী কর্তৃক রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের ঘটনা এ ব্যাপারে উল্লেখ করা যেতে পারে। এছাড়া আর্জেন্টিনা, ইবাক, সিরিয়া, পাকিস্তান প্রভৃতি উন্নয়নশীল দেশগুলিতে সামরিক বাহিনীর সমর্থন ব্যতিরেকে কোন সরকারের পক্ষে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা সম্ভব হয় না।

 

(৬) আমলাতন্ত্রের প্রাধান্য : 

 উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। দেশের জন্য উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা রচনা ও তার রূপায়ণের জন্য আমলাদের অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করতে হয়। বাস্তবিকপক্ষে জাতি গঠনের কাজে রাজনৈতিক প্রশাসক অপেক্ষা অরাজনৈতিক প্রশাসক বা আমলারাই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রশাসন পরিচালনার ব্যাপারে দেশের রাজনৈতিক প্রশাসকদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের অভাবই আমলাতন্ত্রের প্রাধান্য বৃদ্ধির মূল কারণ।

 

 (৭) রাজনৈতিক সংযােগ সাধনের দুর্বলতা:

  অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে পশ্চাৎপদতা প্রভৃতি কারণে উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আধুনিক সংযােগ ব্যবস্থার উপযুক্ত বিকাশ ঘটেনা, গণসংযােগের মাধ্যমগুলির সমৃদ্ধি ঘটে না। ফলে সংবাদ ও তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্যের বিচার-বিশ্লেষণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে যথেষ্ট দুর্বলতা দেখা যায়। আর এই দুর্বলতার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ ব্যাহত হয়।

 

(৮) বংশানুক্রমিক শাসন ও সম্মােহনী ব্যক্তিত্বের অস্তি: 

 এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে কোথাও কোথাও বংশানুক্রমিক শাসন প্রচলিত আছে। উদাহরণস্বরূপ ইরাক, ইরান, কোয়েত, মিশর প্রভৃতি দেশগুলির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটিতে রাজনৈকি ক্ষেত্রে সম্মােহনী ব্যক্তিত্ব’ (charismatic personality)-এর প্রতি সাধারণ মানুষের দুর্নিবার আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়। উদাহরণ হিসাবে ভারতের জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী, পাকিস্তানের জিন্না, কিউবার ফিডেল কাস্ত্রো, মিশরের নাসের, ইরাকের সাদ্দাম হােসেন প্রভৃতির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। 

 

(৯) ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাব :

 স্বাধীনতা লাভের আগে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলি কোন না কোন সময়ে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। ঔপনিবেশিক বিদেশী শাসকেরা উপনিবেশগুলির চিরাচরিত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধ্বংস করে বিজাতীয় সংস্কৃতি চাপিয়ে দিয়ে গেছে। সুচতুর বিদেশী শাসকেরা ধর্ম, ভাষা, জাতপাত প্রভৃতির ভিত্তিতে শাসিত জনগণের মধ্যে যে বিভেদ ও অনৈক্যের সৃষ্টি করে গেছে, স্বাধীনােত্তর কালেও তার অবসান ঘটেনি। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ঘানা, শ্রীলঙ্কা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে ধর্ম, ভাষা, জাতপাত প্রভৃতির ভিত্তিতে সংঘর্ষ বা দাঙ্গা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

 

উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা উপসংহার: 

 ওপরে উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার যে বৈশিষ্ট্যগুলির উল্লেখ করা হল, সেগুলি সব উন্নয়নশীল দেশে সমানভাবে প্রযােজ্য নয়। উদাহরণস্বরূপ ভারত অর্থনৈতিক দিক থেকে অনগ্রসর হলেও রাজনৈতিক দিক থেকে এটি যে-কোন উন্নত দেশের কাছাকাছি। আবার আর্জেন্টিনা অর্থনৈতিক দিক থেকে উন্নত হয়েও রাজনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট পশ্চাদপদ হয়ে আছে। তবে একটা ব্যাপারে উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে মিল আছে, সেটি হল বর্তমানে প্রতিটি উন্নয়নশীল দেশই কমবেশি নয়-উপনিবেশবাদের শিকার।

উন্নত এবং উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ কর। 

– উত্তর : 

 আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির স্তর, রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকৃতি, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মাত্রা, রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের হার প্রভৃতির মানদণ্ডে বিশ্লেষণ করে আধুনিক কালের রাজনৈতিক ব্যবস্থাগুলিকে উন্নত এবং উন্নয়নশীল এই দুভাগে ভাগ করা হয়। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার উল্লেখযােগ্য উন্নতির ফলে জনসাধারণের অর্থনৈতিক জীবন যখন সমৃদ্ধ হয়, যখন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসার ঘটে এবং যখন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সর্বস্তরে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, তখন তাকে উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থা বলা হয়। ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান প্রভৃতি দেশগুলিকে উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থার উদাহরণ হিসাবে চিহ্নিত করা যায়। অপরপক্ষে উন্নয়শীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা বলতে সেই রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বােঝায় যেখানে আধুনিক আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামাে গড়ে তােলার উদ্যোগ, শিল্পায়ন, শিক্ষা। ও সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি সত্ত্বেও পরিণত রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে স্থায়িত্বের অভাব দেখা যায়। উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ ও সামাজিক সচলতার হার অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের সম্মতিসূচক মনােভাব ও ঐকমত্যের অভাব পরলক্ষিত হয়। স্যামুয়েল হান্টিংটন (Samuel Huntington)-এর মতে উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল রেখে বিকশিত হতে পারে না। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলিকে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে আখ্যা দেওয়া হয়।

 

উন্নত এবং উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্যগুলি নিম্নলিখিতভাবে উল্লেখ করা হল :

 

(১) অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্তর : উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি। উন্নত দেশগুলির মাথাপিছু আয়, মাথাপিছু জাতীয় উৎপাদন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নশীল দেশগুলির তুলনায় অনেক বেশি। উন্নত দেশগুলির অর্থনীতির অন্যান্য বৈশিষ্ট্য হল কৃষি অপেক্ষা শিল্পে অধিকতর বিনিয়ােগ, প্রাকৃতিক সম্পদের পূর্ণ সদ্ব্যবহার যােগযােগ ও পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নত মান, বৈদেশিক বাণিজ্যে অনুকূল অবস্থা, পরিষেবামূলক কাজকর্মে বিপুল বিনিযােগ, জনসাধারণের গড় আয়ু বৃদ্ধি ইত্যাদি। অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনগ্রসরতা। এইসব দেশে মাথাপিছু জাতীয় আয় ও জাতীয় উৎপাদন অনেক কম। এছাড়া উন্নত প্রযুক্তির অভাব, কৃষি-নির্ভর অর্থনীতি, জীবনযাত্রার নিম্নমান, মূলধনের স্বল্পতা, জনসংখ্যা ও উৎপাদন বৃদ্ধির হারে সামঞ্জস্যহীনতা, বৈদেশিক ঋণের আধিক্য, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যগুলি উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় লক্ষ্য করা যায়। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করে এবং শিল্পায়ন, নগরায়ণ, আধুনিকীকরণ ইত্যাদির মাধ্যমে অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হয়।

 

(২) রাজনৈতিক সংস্কৃতি : রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিক থেকেও উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থার রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিণত বা উন্নত মানের হয়। এইসব দেশে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার লক্ষ্য ও পদ্ধতি সম্পর্কে জনগণের মধ্যে ব্যাপক মতৈক্য গড়ে ওঠে। ফলে রাজনৈতিক ব্যবস্থা স্থায়িত্বলাভ করে। অপরদিকে উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাব পরিলক্ষিত হয়। বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দেশবাসীর মধ্যে ঐকমত্য থাকে না; তার পরিবর্তে বিভিন্ন দল, গােষ্ঠী, জাতি, ধর্ম, বর্ণ ভিত্তিক আনুগত্য প্রাধান্য পায়। এইভাবে জনসাধারণের মধ্যে মূল্যবােধ ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার দরুন উন্নয়নশীল দেশে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় এবং আঞ্চলিকতাবাদ, সাম্প্রদায়িকতাবাদ, উপজাতীয় সংঘর্ষ প্রভৃতি মাথাচাড়া দেয়।

 

(৩) রাজনৈতিক অংশগ্রহণ : রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতেও উন্নত এবং উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জনসাধারণ দেশের যেকোন ধরনের রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে গভীবভাবে যুক্ত থাকে। ফলে সরকারী নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে জনগণ নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়। অপরপক্ষে উন্নয়শীল দেশগুলিতে শিক্ষা বিস্তারের প্রয়াস সত্ত্বেও জনগণের ব্যাপক অংশকে অজ্ঞতার অন্ধকার ডুবে থাকতে দেখা যায়। ফলে উপযুক্ত রাজনৈতিক চেতনার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার, ব্যক্তিগত সংকীর্ণতা, স্বার্থপরতা প্রশ্রয় পায় এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে জনগণ নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে। নির্বাচনের সময় জনগণের ব্যাপক অংশ জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিগত লাভালাভের ভিত্তিতে ভােটদান করে অথবা ভােটদান থেকে বিরত থাকে।

 (৪) রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ : রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের মাত্রগত ভিন্নতার ভিত্তিতেও উন্নত এবং উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করা যায়। উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল সমজাতীয় রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের (homogeneous political socialisation)। এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবার, বিদ্যায়তন, রাজনৈতিক দল, স্বার্থন্বেষী গােষ্ঠী, গণসংযােগের মাধ্যম সমূহ, বৃত্তিমূলক সংগঠন প্রভৃতি রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের মাধ্যমে হিসাবে কাজ করে। রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের উপরােক্ত মাধ্যমগুলি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য, অশিক্ষা প্রভৃতি কারণে উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া পুরােপুরি সাফল্য লাভ করে না। জনগণের অশিক্ষা, অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের সুযােগ নিয়ে রাজনৈতিক দল ও স্বার্থ গােষ্ঠীগুলি নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ সিদ্ধির কাজে নিযুক্ত থাকে এবং বহু ধরনের উপসংস্কৃতির সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি প্রায়শই রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংকট ডেকে আনে।

 

(৫) সামরিক বাহিনীর ভূমিকা : উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক চেতনা ও ধ্যানধারণা অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত থাকায় জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী গণতান্ত্রিক সরকার সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী হয়। রাজনৈতিক বিষয়ে সামরিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের কোন সুযােগ থাকে না। অপরপক্ষে উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সামরিক কর্তৃপক্ষ প্রায়শই রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে উদ্যত হয় বা সক্ষম হয়। কখনও কখনও সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে অসামরিক সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষ সরকারী ক্ষমতা দখল করে মেয়। এব্যাপারে ১৯৬৫ সালে আলজিরিয়াতে এবং ১৯৭৩ সালে চিলিতে সামরিক বাহিনী কর্তৃক রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। এছাড়া আর্জেন্টিনা, ইরাক, সিরিয়া, পাকিস্তান প্রভৃতি উন্নয়নশীল দেশগুলিতে সামরিক বাহিনীর সমর্থন ব্যতিরেকে কোন সরকারের পক্ষে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা সম্ভব হয় না।

 

(৬) আমলাতন্ত্রের প্রাধান্য : উন্নত এবং উন্নয়নশীল উভয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। তবে তুলনামূলক বিচারে উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থা অপেক্ষা উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলারা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নানাবিধ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বা কর্মসূচী গ্রহণ ও রূপায়ণের ব্যাপারে যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও বিচক্ষণতার পরিক্স দিতে হয়, এসব দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক প্রশাসকদের তা থাকে না। স্বাভাবতই তাঁদের এ ব্যাপারে আমলাদের ওপর নির্ভর করতে হয়। এইভাবে উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রের প্রাধান্য বাড়ে।

 

(৭) রাজনৈতিক আনুগত্য : রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রশ্নে উন্নত এবং উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করা যায়। উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের প্রতি অবিচল আনুগত্য বর্তমান থাকে। অপরপক্ষে উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ অপেক্ষা সংকীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থ বা গােষ্ঠী স্বার্থই প্রাধান্য পায়। এইসব দেশে জনসাধারণের আনুগত্য ধর্ম, ভাষা, বর্ণ, জাতি প্রভৃতির ভিত্তিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিভক্ত আনুগত্য জাতীয় ঐক্য ও সংহতিকে বিপন্ন করে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। 

 

(৮) রাজনৈতিক সংযােগ সাধন: উন্নত রাজনৈতিক সংযােগ ব্যবস্থার অস্তিত্ব উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য। জনগণের রাজনৈতিক চেতনার বিকাশে ও বিভিন্ন বিষয়ে সরকারী নীতি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করার ব্যাপারে উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অপর পক্ষে অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে পশ্চাদপদতা প্রভৃতি কারণে উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আধুনিক সংযােগ ব্যবস্থার উপযুক্ত বিকাশ ঘটে না এবং গণমাধ্যমগুলিরও তেমন একটা সক্রিয় ভূমিকা থাকে না।

 

(৯) রাজনৈতিক কাঠামাে ও চিন্তাচেতনা: রাজনৈতিক কাঠামাে ও চিন্তাচেতনার ক্ষেত্রে উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থা যতখানি আধুনিক, উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা ততখানি নয়। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে আধুনিক ধ্যান-ধারণার প্রসার ঘটলেও অনেকক্ষেত্রেই সাবেকী ধ্যান-ধারণাকে আঁকড়ে ধরে থাকতে দেখা যায়। অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশগুলিতে একাধারে আধুনিক ও সাবেকী ধ্যান-ধারণা প্রচলিত থাকে। –

 

উন্নত এবং উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপসংহার :

 যেসব বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উন্নত এবং উন্নতশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করা হল সেগুলি সব ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযােজ্য হয় না। বস্তুতপক্ষে এমন অনেক দেশ আছে যেগুলিকে এক কথায় উন্নত বা উন্নয়শীল বলা যাবে না। এমন কিছু উন্নয়নশীল দেশ আছে যেখানে উন্নত দেশের কিছু কিছু বৈশিষ্ট্যও বর্তমান থাকে। উদাহরণস্বরূপ ভারতবর্ষের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। ভারতবর্ষে উন্নয়নশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধিকাংশ বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানীকরণের’ (Political Institutionalisation) দিক থেকে ভারতবর্ষকে খুব সঙ্গতভাৱেই যে-কোন উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। স্যামুয়েল হানসিটংটরে (Samuel P. Huntington) ভাষায়, in terms of Political institutionalisation, India was tar from backward. Indeed it ranked high not only comparison with other modernizing countries…. but also in comparison with many modern European countries.” অপরদিকে আর্জেন্টিনার ন্যায় এমন কতকগুলি উন্নয়নশীল দেশ আছে যাদের মাথাপিছু জাতীয় আয়, জাতীয় উৎপাদন, শিল্পায়ন, নগরায়ন প্রভৃতির দিক থেকে উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। অথচ রাজনৈতিক সংস্কৃতি, রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ প্রভৃতির দিক থেকে এইসব দেশ উন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থার তুলনায় যথেষ্ট পশ্চাদপদ। সবশেষে আর একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে এমন কতকগুলি দেশ রয়েছে (যেমন চীন, উত্তর কোরিয়া, ভিয়েতনাম, কিউবা) যেখানে সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা বর্তমান। এইসব দেশের সঙ্গে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মৌলিক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *