ওয়েলেস্লীর অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি ব্যাখ্যা কর Teacj Sanjib

ওয়েলেস্লীর অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি ব্যাখ্যা কর Teacj Sanjib

ওয়েলেস্লীর অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি

প্রশ্ন । ওয়েলেস্লীর অধীনতামূলক-মিত্রতা নীতি ব্যাখ্যা কর। ইহা কিভাবে ও কতখানি সাফল্যের সহিত প্রযুক্ত হইয়াছিল?

অথবা,

লর্ড ওয়েলেস্লীর কূট-রাজনীতি ও যুদ্ধবিগ্রহের ফল সম্বন্ধে লিখ।

অথবা,

ভারতে ব্রিটিশসার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় ওয়েলেস্নীর ভূমিকা আলোচনা কর। অথবা,

ওয়েলেস্লীর অধীনতামূলক-মিত্রতার নীতি পরীক্ষা কর। ইহা ভারতের রাজনীতিকে কিভাবে প্রভাবিত করিয়াছিল?

উত্তর।

ওয়েলেস্লীর অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি: ভারতে ব্রিটিশ-সাম্রাজ্যের ইতিহাস লর্ড ওয়েলেস্লীর শাসনকাল (১৭৯৮-১৮০৫ খ্রীঃ) বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ লর্ড ক্লাইভ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, ওয়ারেণ হেষ্টিংস কর্তৃক সংগঠিত ব্রিটিশশক্তি ওয়েলেস্লীর বিস্তার নীতির মাধ্যমে সর্বভারতীয় প্রভুত্ব স্থাপনে সফল হয়। লর্ড ওয়েলেস্লী ছিলেন ইংল্যান্ডের অভিজাত সম্প্রদায়ভুক্ত প্রতিভাবান, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ঘোর সাম্রাজ্যবাদী।

ওয়েলেস্লীর-অধীনতামূলক-মিত্রতা-নীতি-ব্যাখ্যা-কর-Teacj-Sanjib

ইংল্যাণ্ডে বোর্ড-অফ-কন্ট্রোল (Board of Control) -এর সদস্যরূপে তিনি ভারতের অবস্থা সম্বন্ধে যথেষ্ট জ্ঞানলাভ করিয়াছিলেন। সুতরাং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের বিস্তার লাভের একটি বাস্তব ঘোর সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনা লইয়াই তিনি ভারতে পদার্পণ করিতে পারিয়াছিলেন।

ওয়েলেস্লীর অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি: ওয়েলেস্লীর সমস্যা, উদ্দেশ্য ও নীতি :

সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থবিস্তারের পরিকল্পনা লইয়া ওয়েলেস্লী যখন এদেশে পদার্পণ করেন তখন ইংরাজ সাম্রাজ্যবাদ ইওরোপে এবং ভারতে এক জটিল সমস্যার সম্মুখীন ছিল। ইংল্যাণ্ড তখন বিপ্লবোত্তর ফ্রান্সের সহিত মরণ-পণ যুদ্ধে লিপ্ত, এবং ইওরোপে তার ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত।

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, তখন ভারতের পথে মিশর আক্রমণের জন্য প্রস্তুত। শুধু টিপু সুলতান নয়, অন্যান্য ভারতীয় রাজন্যবর্গের সহিত হাত মিলাইয়া ফরাসীশক্তি আবার সক্রিয় হইয়া উঠিতেছিল। পূর্ববর্তী গভর্নর-জেনারেল স্যার জন শোরের নিরপেক্ষতা নীতির সুযোগ গ্রহণ করিয়া দেশীয় রাজগণ তাহাদের শক্তি বৃদ্ধি করিবার জন্য তৎপর হইয়াছিল, ফরাসী সামরিক কর্মচারীদের সাহায্যে নিজ নিজ সৈন্যবাহিনীকে গড়িয়া তুলিতেছিল।

কাবুলের অধিপতি জামান শাহ্ ভারত আক্রমণের জন্য অগ্রসর হইতে পারে এই আশঙ্কাও সমস্যাকে আরও জটিল করিয়া তুলিয়াছিল। কোম্পানীর রাজ্যে এইরূপ সঙ্কটজনক অবস্থায় ওয়েলেসলী তাঁহার সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনা কার্যকরী করিবার জন্য ভারতে আগমন করিলেন।

উদ্দেশ্য :

ওয়েলেস্নীর উদ্দেশ্য ছিল খুব স্পষ্ট। প্রথমত, ভারতবর্ষ হইতে ফরাসী প্রভাব দূর করিয়া ভারতে ফরাসী-সাম্রাজ্য গঠনের পরিকল্পনা ব্যর্থ করা, দ্বিতীয়ত, সমগ্র আর্যাবর্ত ও দাক্ষিণাত্যে ব্রিটিশশক্তিকে সার্বভৌম শক্তিতে পরিণত করা, এবং সমগ্র দেশকে ব্রিটিশ-সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা।

অধীনতামূলক-মিত্রতা পদ্ধতি :

এই উদ্দেশ্য সফল করিবার জন্য তিনি সুস্পষ্ট নীতিও গ্রহণ করিলেন। তিনি লক্ষ্য করিয়াছিলেন যে তদানীন্তন ভারতীয় রাজনৈতিক অবস্থায় পরস্পর বিবদমান ভারতীয় নৃপতিবর্গ ইওরোপীয় সামরিক সাহায্য গ্রহণে অতিমাত্রায় উদ্গ্রীব। তিনি এই অবস্থার সুযোগ গ্রহণ করিয়া তাঁহাদিগকে ব্রিটিশ সামরিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল করিয়া তুলিবার কৌশল অবলম্বন করিলেন।

তিনি তাঁহার প্রধান নীতির নামকরণ করিলেন অধীনতামূলক-মিত্ৰতা’ (Subsidiary Alliance) নীতি। সামরিক অধীনতার ভিত্তিতে এই নীতি গঠিত। ইহার প্রধান শর্তগুলি ছিল নিম্নরূপ —

(১) যে রাষ্ট্র ইংরাজশক্তির সহিত অধীনতামূলক-মিত্রতায় আবদ্ধ হইবে সেই রাষ্ট্র ইংরাজদের বিনা অনুমতিতে অন্য কোন রাষ্ট্রের সহিত আলাপ-আলোচনা বা কাহারও বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করিতে পারিবে না।

(২) মিত্রতায় আবদ্ধ শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলি নিজস্ব সৈন্যবাহিনী রাখিতে পারিবে, কিন্তু তাহাতে একজন ইংরাজ সেনাপতি নিয়োগ করিতে হইবে।

(৩) রাজ্যগুলির নিরাপত্তার দায়িত্ব কোম্পানী গ্রহণ করিবে; সেইজন্য দেশের অভ্যন্তরে একটি ইংরাজবাহিনী মোতায়েন থাকিবে এবং তাহার ব্যয়বহনের জন্য হয় নীতিতে আবদ্ধ সংশ্লিষ্ট অধিপতিকে রাজ্যের এক অংশ ছাড়িয়া দিতে হইবে, নয়তো নির্দিষ্ট হারে একটি বাৎসরিক কর দিতে হইবে।

(৪) মিত্রতায় আবদ্ধ রাজ্যগুলিকে নিজ নিজ দেশ হইতে একমাত্র ইংরাজ ছাড়া অন্যান্য সমস্ত ইওরোপীয় কর্মচারীদের বিদায় দিতে হইবে। মিত্রতায় আবদ্ধ হইবার শর্তগুলি পর্যালোচনা করিলে বেশ স্পষ্ট বুঝা যাইবে যে ভারতবর্ষ হইতে ফরাসী প্রভাব সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করিবার জন্য এবং দেশীয় রাজ্যগুলির উপর ব্রিটিশ প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত করিবার জন্যই শর্তগুলি সুকৌশলে রচিত হইয়াছিল।

একথা মনে রাখা দরকার যে, ওয়েলেস্লীর পূর্বে ক্লাইভ ও ওয়ারেণ হেষ্টিংস কর্তৃকও এই নীতি মূলত অনুসৃত হইয়াছিল। তবে তাঁহারা সরকারীভাবে এই নীতি ঘোষণা করেন নাই। বস্তুত কর্ণাট ও অযোধ্যা সম্পর্কেই এই ধরনের নীতি প্রয়োগ করা হইয়াছিল।

সুতরাং এই পুরানো নীতিকেই ওয়েলেস্লী প্রকাশ্যে ঘোষণা করিয়া অত্যন্ত ব্যাপকভাবে ও চরম নিপুণতার সহিত প্রয়োগ করিয়াছিলেন। তাহা ছাড়া, ওয়েলেস্লী সোজাসুজি ‘সংযুক্তি’র (Annexation) নীতিও ‘ ‘সংযুক্তি নীতি’ বা অগ্রসর নীতি অনুসরণ করিতে দ্বিধাবোধ করেন নাই। অনেক ঐতিহাসিক ইহাকে ‘অগ্রসর-নীতি’ (Forward policy) বলিয়া অভিহিত করিয়াছেন।

ওয়েলেস্লীর নীতি সমূহের প্রয়োগ:

মহীশূর : ঘোর সাম্রাজ্যবাদী ওয়েলেসলী ব্রিটিশশক্তিকে অপ্রতিহত শক্তিতে পরিণত করার পরিকল্পনা লইয়াই ভারতে আগমন করিয়াছিলেন। ১৭৯৮ খ্রীষ্টাব্দে ভারতে পদার্পণ করিয়াই তিনি মহীশূরের টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা প্রস্তুত করিলেন। তৃতীয় মহীশূর যুদ্ধে পরাজিত হইবার পর স্বাধীনচেতা টিপু পুনরায় শক্তিসংগ্রহে ব্যস্ত ছিলেন।

ফ্রান্স, মরিশাস, কাবুল, আরব, তুরস্ক প্রভৃতি দেশ হইতে তিনি সামরিক সাহায্য সংগ্রহের চেষ্টায় রত ছিলেন, এবং বিধ্বস্ত দুর্গগুলিরও সংস্কার-সাধন করিতেছিলেন। ওয়েলেস্লী টিপু সুলতানের শক্তিবৃদ্ধিতে বাধা দান করিবার জন্য তাঁহাকে ইংরাজদের সহিত মিত্রতাসূত্রে আবদ্ধ হইবার জন্য আহ্বান জানাইলেন।

চরমপত্রাকারে প্রেরিত এই আহ্বান উপেক্ষিত হইলে ওয়েলেস্লী নিজামের সহিত মৈত্রী স্থাপন করিলেন এবং মারাঠাগণকে টিপুর রাজ্যের কিয়দংশ অর্পণ চরমপত্র প্রেরণ ও যুদ্ধ ঘোষণা করিবার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করিলেন। অতঃপর ১৭৯৯ খ্রীষ্টাব্দে যুদ্ধ আরম্ভ করিয়া ইংরাজ সেনাপতিগণ বিভিন্ন দিক হইতে টিপুর রাজ্য আক্রমণ করিলেন।

কয়েকটি যুদ্ধে পরাজয় বরণ করিবার পর টিপু শ্রীরঙ্গপত্তম দুর্গে অবরুদ্ধ হইলেন এবং শেষ পর্যন্ত বীরের মত যুদ্ধ করিয়া প্রাণত্যাগ করিলেন। অতঃপর টিপুর রাজ্য তিনভাগে বিভক্ত হইল—পশ্চিমে কানাডা, দক্ষিণে কোয়েম্বাটুর এবং শ্রীরঙ্গপত্তম দুর্গসহ পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হইল। হায়দ্রাবাদের সন্নিকটস্থ কয়েকটি জেলা নিজামকে দেওয়া হইল।

রাজ্যের অবশিষ্টাংশে মহীশূরের প্রাক্তন হিন্দু রাজবংশের জনৈক উত্তরাধিকারীকে প্রতিষ্ঠিত করা হইল। বলা বাহুল্য এই রাজ্যকে ইংরাজদের সহিত ‘মিত্ৰতায়’ আবদ্ধ হইতে হইল। মহীশূর রাজ্যের পতনে ভারতে সর্বশ্রেষ্ঠ ইংরাজশক্তির বিরোধী রাষ্ট্রগুলির বিলোপ ঘটিয়াছিল; ফরাসীগণও ভারতে তাহাদের শেষ ও নির্ভরযোগ্য মিত্রকে হারাইল। ভারতে ইংরাজ প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার পথ অনেকখানি সুগম হইল।

অন্যান্য রাজ্য :

মহীশূর করিতে দ্বিধা করেন নাই। মহীশূরের পতনের পর তিনি অনায়াসে নিজের স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়া ১৮০০ খ্রীষ্টাব্দে ইংরাজদের সহিত অধীনতামূলক-মিত্রতায় হায়দ্রাবাদের নিজাম আবদ্ধ হইলেন এবং ইংরাজসৈন্যের ব্যয়নির্বাহের জন্য তুঙ্গভদ্রা ও কৃষ্ণা নদীর দক্ষিণস্থ রাজ্যাংশ কোম্পানীকে ছাড়িয়া দিলেন।

ওয়ারেন হেষ্টিংস-এর আমল হইতেই অযোধ্যা তাহার সামরিক নিরাপত্তার জন্য কোম্পানীর উপরই নির্ভরশীল ছিল, এবং সেজন্য তাহাকে বাৎসরিক বিরাট অর্থ কোম্পানীকে দিতে হইত। কিন্তু তবুও সে ওয়েলেস্লীর সাম্রাজ্যবাদী নীতির স্পর্শ হইতে রক্ষা পাইল না।

কাবুলের অধিপতি জামান শাহের সম্ভাব্য আক্রমণের অজুহাত দেখাইয়া তিনি অযোধ্যার নবারকে একটি নূতন চুক্তি স্বাক্ষর করিতে বাধ্য করিলেন এবং ইংরাজসৈন্যের ব্যয়নির্বাহের জন্য গঙ্গা-যমুনার অন্তর্বর্তী দোয়াব, নিম্ন-দোয়াব, গোরক্ষপুর ও রোহিলখণ্ড প্রভৃতি দখল করিলেন। অযোধ্যা ব্রিটিশ অধিকৃত অঞ্চল দ্বারা পরিবেষ্টিত একটি ‘অধীনতামূলক-মিত্র’ রাজ্যে পরিণত হইল।

মারাঠা রাষ্ট্রসংঘ :

ওয়েলেসলী মারাঠাশক্তিবর্গকেও ইংরাজদের সহিত পারস্পরিক আত্মরক্ষামূলক চুক্তিতে আবদ্ধ হইবার চাপ দিয়াছিলেন। কিন্তু যতদিন পেশোয়ার প্রধানমন্ত্রী দূরদর্শী নানাফড়নবিশ জীবিত ছিলেন ততদিন পর্যন্ত কোম্পানীর সমস্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। কিন্তু তাঁহার মৃত্যুর পর হইতে ধরে মারাঠা রাষ্ট্রসংঘের মধ্যে ভাঙ্গন এবং মারাঠাশক্তিগুলি অন্তর্দ্বন্দ্বে লিপ্ত হইয়া পড়ে।

যশোবন্ত রাও হোলকারের আক্রমণে পরাজিত হইয়া পেশোয়া ইংরাজদের শরণাপন্ন হইলে ওয়েলেস্লীর সুযোগ উপস্থিত হইল। ১৮০২ খ্রীষ্টাব্দে পেশোয়া ইংরাজদের সহিত বেসিনের সন্ধি (Treaty of Bassein) স্বাক্ষর করিয়া তাহাদের অধীন-মিত্রে পরিণত হইলেন; ইংরাজসৈন্যের ব্যয়নির্বাহের জন্য তিনি রাজ্যের একাংশ ছাড়িয়া দিলেন। অতঃপর ইংরাজসৈন্যের সাহায্যে পেশোয়া পুনা দখল করিলেন।

পেশোয়ার এই আত্মসমর্পণ অন্যান্য মারাঠাশক্তিগুলির মনঃপূত হইল না। পেশোয়া নিজেও তাঁহার অবিমৃষ্যকারিতার জন্য অনুতপ্ত হইলেন। সুতরাং সিন্ধিয়া ও ভোঁসলে ইংরাজদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করিলে পেশোয়াও তাহাদের সহিত যোগ দিলেন। এইরূপভাবে ১৮০৩ খ্রীষ্টাব্দে দ্বিতীয় মারাঠা যুদ্ধের সূত্রপাত হইল। কিন্তু পারস্পরিক ঈর্ষা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব হেতু বরোদার গাইকোয়াড় ও যশোবন্ত রাও হোলকার এই যুদ্ধ হইতে নির্লিপ্ত রহিলেন।

যুদ্ধ আরম্ভ হইলে সিন্ধিয়া ও ভোঁসলের যুগ্মবাহিনী অসই-এর (Assaye) যুদ্ধে পরাজিত হইল। ইহার পর ভোঁসলে পুনরায় পরাজিত হইয়া ইংরাজদের সহিত দেওগাঁও-এর (Deogaon) সন্ধি স্বাক্ষর করিতে বাধ্য হইলেন। নিজরাজ্যের কিয়দংশ ছাড়িয়া দিয়া তিনি ইংরাজদের সহিত আবদ্ধ হইলেন। অতঃপর সিন্ধিয়াও কয়েকটি যুদ্ধে পরাজিত হইয়া সুরজী-অর্জুনগাঁও (Surji Arjungaon) -এর সন্ধি স্বাক্ষর করিতে বাধ্য হইলেন।

তাঁহাকে তাঁহার রাজ্যের বিরাট অংশ ছাড়িয়া দিয়া ইংরাজদের সহিত অধীনতামূলক-মিত্রতায় আবদ্ধ হইতে হইল। মোগল সম্রাটের উপর তাহার আর কোন প্রভাব রহিল না। কিন্তু মারাঠা যুদ্ধের তখনও অবসান হইল না।

হোলকার এতদিন নির্লিপ্ত থাকিয়া এখন যুদ্ধে অবতীর্ণ হইলেন। কয়েকটি যুদ্ধবিগ্রহের পর শেষ সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবার পূর্বে ওয়েলেস্লী স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের আদেশ পাইলেন। হোলকার আসন্ন বিপদ হইতে এবারের মত রক্ষা পাইলেন।

ওয়ারেন হেষ্টিংসের মতে মারাঠাগণ ছিল ইংরাজদের ‘একমাত্র শত্রু’। এই মারাঠা রাষ্ট্রসংঘকে দুর্বল করিয়া মারাঠাশক্তির ধ্বংসকে সুনিশ্চিত করা ওয়েলেস্লীর একটি উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব। দ্বিতীয় মারাঠা যুদ্ধের ফলে ইংরাজদের শক্তিবৃদ্ধি হইল এবং তাহাদের সাম্রাজ্যেরও প্রসার ঘটিল। এদেশে এক বিরাট সুবিস্তৃত এবং পরস্পর-সংলগ্ন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হইল।

সিন্ধিয়ার পতনের ফলে ইংরাজগণ রাজপুত রাজ্যগুলির সহিত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে আসিয়া মারাঠা যুদ্ধের ফলাফল রাজপুত রাজ্যগুলির বশ্যতা স্বীকার উপস্থিত হইল। সুতরাং একমাত্র ভরতপুর ছাড়া জয়পুর, যোধপুর, বুন্দী প্রভৃতি রাজ্যগুলি ইংরাজদের সহিত আনুগত্যমূলক মৈত্রীচুক্তিতে আবদ্ধ হইল। ইংরাজদের শক্তি অপ্রতিহত হইয়া উঠিল।

‘সংযুক্তি বা অগ্রসর’ নীতির প্রয়োগ :

অধীনতামূলক-মিত্রতায় আবদ্ধ রাজ্যগুলির উপর রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করিয়াই সাম্রাজ্যবাদী ওয়েলেস্লী ক্ষান্ত ছিলেন না। অন্যান্য রাজ্যগুলির উপর প্রত্যক্ষ ব্রিটিশ প্রভুত্ব স্থাপন করাও তাঁহার নীতির অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাঞ্জোরে এক উত্তরাধিকারদ্বন্দ্বের সুযোগ গ্রহণ করিয়া ওয়েলেসলী ঐ রাজ্যের শাসনভার ইংরাজদের হস্তে তুলিয়া লইলেন। তাঞ্জোরের রাজা বাৎসরিক নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতার প্রতিশ্রুতি পাইয়াই সন্তুষ্ট রহিলেন। অনুরূপ পরিস্থিতির

সুযোগ গ্রহণ করিয়া ওয়েলেস্লী সুরাট রাজ্যটিও ব্রিটিশ অধিকারভুক্ত করিয়া লইলেন।* কৰ্ণাটে এতদিন এক প্রকারের দ্বৈতশাসনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। ১৮০১ খ্রীষ্টাব্দে নবাব উমদাত-এর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঐ রাজ্যটি সম্পূর্ণভাবে ব্রিটিশ অধিকারভুক্ত করিয়া লইলেন। সুরাট ও কর্ণাট

ওয়েলেস্লীর নীতির সমালোচনা :

ওয়েলেস্লীর ‘অধীনতামূলক-মিত্রতার’ নীতি বা সংযুক্তির নীতি সমস্তই একই উদ্দেশ্যে উদ্ভাবিত হইয়াছিল। ভারতে ব্রিটিশশক্তির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত করা, কোম্পানীর রাজ্যের বিস্তারসাধন করা ইত্যাদি। অর্থাৎ স্যার জন শোরের নিরপেক্ষতার নীতি পরিত্যাগ করিয়া তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে অগ্রসর-নীতি অবলম্বন করিয়াছিলেন।

এস্থলে এদেশের স্বার্থের প্রশ্ন স্বভাবতই উঠে নাই। তথাপি ‘অধীনতামূলক-মিত্রতা’ নীতির কয়েকটি ত্রুটি অনেক ঐতিহাসিকই উল্লেখ করিয়াছেন। মিত্রতায় আবদ্ধ রাজন্যবর্গ বিদ্রোহ বা সিংহাসন চ্যুতির ভয় হইতে মুক্ত হইয়া রাজ্যের সুশাসন বা উন্নতির বিষয়ে উদাসীন হইয়া পড়িলেন এবং নানারূপ বিলাস-ব্যসনে মগ্ন হইয়া পড়িলেন; ইহারা শীঘ্রই আত্মসম্মানবিস্মৃত একদল দায়িত্বহীন পরগাছায় পরিণত হইলেন। রাজ্যগুলির অভ্যন্তরে কুশাসনের রাজত্ব চলিল।

ওয়েলেস্লীর কৃতিত্ব :

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য গঠনে ওয়েলেস্লীর অবদান প্রচুর। এ কথা নিঃসংশয়ে বলা যায় যে, এ ব্যাপারে যাঁহারা যথেষ্ট কৃতিত্বের পরিচয় দিয়াছিলেন ওয়েলেস্লী ছিলেন তাঁহাদের মধ্যে অন্যতম। ওয়েলেস্লী যখন গভর্নর-জেনারেল হিসাবে এদেশে প্রেরিত হন তখন ইংরাজগণ ফরাসীদের সহিত যুদ্ধে যথেষ্ট বিপদাপন্ন।

ভারতবর্ষেও তখন তাহারা সক্রিয় এবং দেশীয় নৃপতিবর্গের উপর প্রভাব বিস্তারে তৎপর। এদেশের রাজন্যবর্গও তখন ইংরাজদের উপর বিদ্বেষ-ভাবাপন্ন। কোম্পানীর ইতিহাসে এইরূপ এক সমস্যাসঙ্কুল সময়ে ওয়েলেস্লী গভর্নর-জেনারেল হইয়া আসেন। এই অবস্থার সম্মুখীন হইবার মত সাহস, দৃঢ়সংকল্প ও কূটকৌশলের পরিচয় তিনি দিয়াছিলেন।

ওয়েলেসলী (ক) এদেশে পদার্পণ করিয়াই ইংরাজদের দুর্দমনীয় শত্রু টিপু সুলতানকে ধ্বংস করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করিয়াছিলেন। সুকৌশলে অন্যান্য রাষ্ট্র হইতে তাঁহাকে বিচ্ছিন্ন করিয়া তিনি তাঁহার ধ্বংস সাধন করিলেন, এবং দাক্ষিণাত্যে মহীশূর রাজ্যের ধ্বংসসাধন ব্রিটিশশক্তিকে অপ্রতিহত করিয়া তুলিলেন।

(খ) ভারতবর্ষের রাষ্ট্রজীবনে যে পারস্পরিক বিদ্বেষ ও অনৈক্যের অবস্থা বিদ্যমান ছিল তাহার সুযোগ গ্রহণ করিতে ওয়েলেসলী একটুকু বিলম্ব করেন নাই। এই রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার সুযোগ গ্রহণ করিয়াই তিনি পেশোয়া, সিন্ধিয়া ও ভোঁসলেকে পরাজিত করিলেন এবং তাঁহাদিগকে ইংরাজশক্তির উপর নির্ভরশীল করিয়া তুলিলেন।

(গ) তিনি ‘অধীনতামূলক-মিত্রতার’ নীতি নিজাম ও অন্যান্য রাষ্ট্রের উপর প্রয়োগ করিয়া ঐ সমস্ত রাজ্য হইতে ফরাসীদের বিতাড়িত করিয়াছিলেন, এবং ভারতবর্ষে ফরাসী প্রভাব বিস্তারের পথ চিরতরে বুদ্ধ করিয়া দিয়াছিলেন।

(ঘ) উগ্র সাম্রাজ্যবাদী হিসাবে এদেশে ইংরাজদের প্রভাববৃদ্ধিই তাঁহার একমাত্র
লক্ষ্য ছিল। তাঞ্জোর, সুরাট, কর্ণাটক, অযোধ্যা প্রভৃতি রাজ্যকে ইংরাজ অধিকারের মধ্যে গ্রাস করিবার সময় তিনি দক্ষ সাম্রাজ্যবাদীর মত কোন যুক্তি বা নীতির ধার ধারেন নাই। এ দেশের স্বার্থের প্রশ্নে স্বভাবতঃই তিনি আমল দেন নাই। সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের দিকে লক্ষ্য রাখিয়াই তিনি এদেশে কতকগুলি বৃত্তিভোগী দায়িত্বহীন স্বেচ্ছাচারী ‘দেশীয় রাজার’ সৃষ্টি করিয়াছিলেন।

বৈদেশিক ক্ষেত্রে :

ফ্রান্সের প্রভাব ও
প্রতিপত্তি নষ্ট করিবার জন্য তিনি বদ্ধপরিকর ছিলেন; সে বিষয়ে তিনি যথেষ্ট উৎসাহ, সংকল্প ও সাহসের পরিচয় দিয়াছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি সুদূরপ্রসারী সামরিক পরিকল্পনাও গ্রহণ করিয়াছিলেন।

(১) ফরাসীদের বাণিজ্যঘাঁটি মরিশাস ফরাসী শক্তি ধ্বংসের পরিকল্পনা এবং ফরাসী মিত্র ডাচ্‌দের নিকট হইতে সিংহল ও বাটাভিয়া দখল করিয়া লইবার পরিকল্পনা তিনি রচনা করিয়াছিলেন। অবশ্য ইংল্যাণ্ডের কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাভ না করায় তাহা পরিত্যক্ত হইয়াছিল।

(২) নেপোলিয়নের নামে ভীত হওয়া দূরে থাকুক, তিনি তাঁহার অগ্রগতি প্রতিহত করিবার জন্য সুদূর মিশরে পর্যন্ত সৈন্যদল প্রেরণ করিয়াছিলেন; অবশ্য সেই সৈন্য পৌছিবার পূর্বেই নেপোলিয়ন মিশর ত্যাগ করিয়া ও আফগানিস্তানে ফ্রান্সের প্রভাব যাহাতে না বাড়ে, ঐ দিকে রাশিয়ার অগ্রগতি যাহাতে সম্ভব না হইতে পারে, সেইজন্য তিনি জন ম্যালকমের (John Malcolm) নেতৃত্বে ঐ সমস্ত দেশে মিশন প্রেরণ করেন। ইহাতে পারস্যদেশে ব্রিটেনের কিছু বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সুবিধাও লাভ হয়। মিশরে সৈন্য প্রেরণ গিয়াছিলেন।

, অভ্যন্তরীণ শাসনক্ষেত্রে :

সাম্রাজ্যবিস্তারের প্রচেষ্টাতেই ওয়েলেস্লী বেশী ব্যাপৃত ছিলেন। কিন্তু অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় তিনি যে অমনোযোগী ছিলেন তাহা নহে। ঐতিহাসিক ডক্টর স্মিথের মতে তিনি অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন ছিলেন।* কিন্তু স্মিথের এই অভিমত যুক্তিযুক্ত নয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি, সুষ্ঠু রাজস্বনীতি, সুগঠিত বিচার ব্যবস্থা প্রভৃতির উপরই যে শাসনব্যবস্থার দক্ষতা ও দৃঢ়তা নির্ভরশীল, একথা তিনি একাধিকবার উল্লেখ করিয়াছেন;

(ক) সপারিষদ গভর্নর-জেনারেলের পরিবর্তে তিনি সদর দেওয়ানী আদালত এবং ‘সদর নিজামৎ আদালতে’ তিনজন করিয়া বিচারক নিযুক্ত করিবার ব্যবস্থা করিয়াছিলেন। এই ব্যবস্থা ১৮৬২ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত বহাল ছিল।

(খ) ইংরাজ রাজকর্মচারীদের ভারতীয় শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে তিনি কলিকাতায় ‘ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপন করিয়াছিলেন। ডাইরেক্টরসভা অবশ্য উক্ত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কলেজকে ভারতীয় ভাষা শিক্ষার কলেজে পরিণত করিয়াছিলেন।
দায়িত্বপূর্ণ কাজের জন্য মরো (Munroe), ম্যালকম (Malcolm), মেটকাফ্ (Metcalfe) প্রমুখ শাসকবৃন্দকে ওয়েলেস্লীই গড়িয়া তুলিয়াছিলেন; ব্যক্তি-চরিত্র ভালভাবে বুঝিবার মত যথেষ্ট অন্তর্দৃষ্টি তাঁহার ছিল। ভারতবর্ষে ইংরাজ সাম্রাজ্যবিস্তারের যে বেপরোয়া নীতি ওয়েলেস্লী অনুসরণ

করিতেছিলেন তাহাতে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর কর্তৃপক্ষের অনেকে শঙ্কিত হইয়া উঠিয়াছিলেন। যুদ্ধনীতি অনুসরণ করার ফলে কোম্পানীর ঋণ বৃদ্ধি পাইয়া যাইতেছিল। ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর বিরোধীপক্ষের অনেকে ওয়ারেন হেষ্টিংসের মত ওয়েলেসলীকেও পার্লামেন্টের সামনে আনিয়া বিচারের কথা প্রকাশ্যে আলোচনা করিতেছিল। এই সময় হোলকারের সহিত যুদ্ধ করিতে যাইয়া ইংরাজবাহিনী পরাজিত হইলে ওয়েলেস্লীকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের আদেশ দেওয়া হয়।

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবিস্তারে সাধারণভাবে ইংরাজগণ গর্ববোধ করিত বলিয়াই শেষ পর্যন্ত ওয়েলেসলীকে পার্লামেন্টে নিন্দা করা হয় নাই। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবিস্তারে ওয়েলেস্লীর ডক্টর স্মিথের মতামত অবদান সত্যই প্রচুর; ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ওয়েলেস্লীর নিকট ঋণী।

ক্লাইভ এই সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করিয়াছিলেন এবং ওয়ারেন হেষ্টিংস ইহাকে ধ্বংসের হাত হইতে রক্ষা করিয়া ইহার ভিত্তি দৃঢ় করিয়াছিলেন। কিন্তু একটি সুবিশাল সাম্রাজ্য গড়িবার কৃতিত্ব নিশ্চয়ই ওয়েলেস্লীর ছিল।* তাই অনেক ঐতিহাসিক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্রষ্টাদের মধ্যে তাঁহাকেই প্রথম স্থান দিয়াছেন।

ডক্টর স্মিথের মতে সে সম্মান ‘ওয়ারেন হেষ্টিংসের প্রাপ্য। অবশ্য ক্লাইভ ও ওয়ারেন হেষ্টিংসের কৃতিত্ব এই ব্যাপারে কম নহে। পলাশীর প্রান্তরে জয়লাভ করিয়া ক্লাইভ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তি রচনা করিয়াছিলেন; কিন্তু তিনি সাম্রাজ্যের সম্ভাবনাকে সুনিশ্চিত করিয়া যাইতে পারেন নাই। ওয়ারেন হেষ্টিংস সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা ও সংহতি রক্ষার দায়িত্ব সার্থকভাবে বহন করিয়াছিলেন।

এজন্য তাঁহাকে মহীশূর ও মারাঠাদের মত দুর্ধর্ষ শত্রুদের সম্মুখীন হইতে হইয়াছিল। কিন্তু এই সাম্রাজ্যের সমস্ত, বাধাবিপত্তির অবসান তিনি ঘটাইতে পারেন নাই। মহীশূরের ধ্বংসসাধন ও মারাঠাদের উপর চরম আঘাত হানিয়া ওয়েলেস্লী সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাকে সুনিশ্চিত করিয়া দিয়াছিলেন। সাম্রাজ্যকে স্থায়ী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করার গৌরব তাঁহারই।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন : কর্ণওয়ালিস কোড’ বলিতে কি বুঝায়?

উত্তর। লর্ড কর্ণওয়ালিস ভারতে কোম্পানীর শাসন সুদৃঢ় করিবার জন্য বিভিন্নধর্মী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ অনুসরণ করিয়াছিলেন। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তিনি যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তাহার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কর্ণওয়ালিস কোড।
তিনি কর্মচারীদের নিয়মানুবর্তিতা ও নৈতিক চরিত্রের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এই প্রসঙ্গে তিনি যে সকল নিয়মকানুন প্রচলিত করেন সেগুলি কর্ণওয়ালিস কোড নামে পরিচিত। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কর্ণওয়ালিস ইওরোপীয় কর্মচারীদের শাসন দক্ষতায় অধিকতর বিশ্বাসী ছিলেন। এইজন্য শুধুমাত্র ইওরোপীয় কর্মচারীদের নিয়োগ করার নীতি গৃহীত হইল।

ওয়েলেস্লীর অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *