ভারতের নির্বাচন কমিশনের গঠন, কার্যাবলী ও পদমযাদা teacj sanjib

ভারতের নির্বাচন কমিশনের গঠন, কার্যাবলী ও পদমযাদা teacj sanjib

ভারতের নির্বাচন কমিশনের গঠন, কার্যাবলী ও পদমযাদা

ভারতের নির্বাচন কমিশনের গঠন

নির্বাচন কমিশনের গঠন,

প্রশ্ন : সমালোচনা সহকারে ভারতের নির্বাচন কমিশনের গঠন, কার্যাবলী ও পদমযাদা আলোচনা কর। [Discuss critically the composition, functions and position of the Election Commission in India.]

ভারতের নির্বাচন কমিশনের গঠন : উত্তর

উত্তর : ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে ভারতীয় সংবিধানের পঞ্চদশ অংশে (Part XV) একটি নির্বাচন কমিশন গঠন এবং নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের-নির্বাচন-কমিশনের-গঠন-কার্যাবলী-ও-পদমযাদা-teacj-sanjib

(সংবিধানের ৩২৪(২) নং ধারায় বলা হয়েছে, কেবলমাত্র একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে অথবা একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য কয়েকজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।) অন্যান্য কমিশনারের সংখ্যা কত হবে তা স্থির করেন রাষ্ট্রপতি। নির্বাচন কমিশনের সদস্যগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন। ৩২৪(৩) নং ধারা অনুসারে একাধিক সদস্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযোগ্য, ১৯৯৩ সালের

১লা অক্টোবর রাষ্ট্রপতি একটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে সমমর্যাদা ও সমক্ষমতা সম্পন্ন তিন সদস্যবিশিষ্ট সংস্থায় পরিণত করেন।

সংবিধানের ৩২৪(৪) নং ধারা অনুসারে, প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে যতগুলি প্রয়োজন আঞ্চলিক কমিশনার (Regional Commissioner) নিযুক্ত করবেন। এঁদের কাজ হবে নির্বাচন কমিশনকে তার কার্য সম্পাদনে সাহায্য করা। নির্বাচনের তিন মাস আগে এই আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করা হয় এবং নির্বাচনের পর ৩ মাস পর্যন্ত তাঁরা নিযুক্ত থাকেন; অর্থাৎ মোট ৬ মাস এঁরা স্বপদে বহাল থাকেন।

বর্তমানে প্রত্যেক অঙ্গরাজ্যে একজন মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (Chief Electoral Officer) এবং প্রত্যেক জেলায় একজন জেলা নির্বাচনী অফিসার (District Election Officer) নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের চাকরির শর্তাবলী ও কার্যকাল পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রণীত আইনের মাধ্যমে স্থির হয়। বর্তমানে ৬ বছরের জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিযুক্ত করা হয়। তবে কার্যকাল সমাপ্তির পূর্বেই প্রমাণিত অসামর্থ্য ও অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতি তাঁকে পদচ্যুত করতে পারেন। সংবিধানের ৩২৪(৫) নং ধারা অনুসারে, পার্লামেন্টের প্রতিটি কক্ষের মোট সদস্য সংখ্যার অধিকাংশের এবং উপস্থিত ও ভোট দানকারী সদস্যের দুইতৃতীয়াংশের সমর্থনে যদি অভিযোগের প্রস্তাব গৃহীত হয়, তাহলে সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি তাঁকে অপসারণ করতে পারেন। অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনারদের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি পদচ্যুত করতে পারেন।

কার্যাবলী :

সংবিধানের ৩২৪(১) নং ধারা অনুসারে ভোটার তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধান, নির্দেশ দান ও নিয়ন্ত্রণের কাজসহ পার্লামেন্ট, রাজ্য আইনসভা, রাষ্ট্রপতি এবং উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।

উপরোক্ত মূল দায়িত্বটি পালন করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনকে যে যে কাজগুলি সম্পাদন করতে হয় সেগুলি নিম্নে আলোচনা করা হল :

(১) পার্লামেন্ট, রাজ্য আইনসভা ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনমূলক সংস্থাসমূহের নির্বাচনের জন্য আইন অনুসারে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা এবং প্রয়োজনমত সংশোধন করা।

(২) সংবিধান ও দেশের সাধারণ আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পার্লামেন্ট, রাজ্য আইনসভা, রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করা।

যে-ফোন নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে নির্বাচনের তারিখ, মনোনয়নপত্র পেশ ও প্রত্যাহার করার তারিখ, মনোনয়ন পত্রের বৈধতা বিচার করার তারিখ ইত্যাদি ঘোষণা করা।

(৪) নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব সম্পাদনে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালদের অনুরোধ করা।

(৫) নির্বাচন-সংক্রান্ত ব্যবস্থাদি সম্পর্কে কোন বিরোধ উপস্থিত হলে সে সম্পর্কে অনুসন্ধানের জন্য অফিসার নিয়োগ করা।

(৬) আইনসভার কোন সদস্যের অযোগ্যতার ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালদের পরামর্শ দেওয়া।

(৭) প্রয়োজন মনে করলে যথেষ্ট সংখ্যক আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেওয়া।

(৮) নির্বাচনের সময় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে বিরোধ বাধলে তা নিষ্পত্তি করা।

(৯) নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নির্বাচন প্রার্থী, সরকারী কর্মচারী, জনসাধারণ কী ধরনের আচরণবিধি মেনে চলবেন সে ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া।

(১০) নির্বাচনের প্রাক্কালে কোন্ দলকে কখন বেতার বা দূরদর্শন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করা।

(১১) সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যে-কোন নির্বাচন কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত রাখা বা বাতিল করা বা পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। এ ব্যাপারে ১৯৮১ সালে উত্তরপ্রদেশের গাড়োয়াল লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে দেওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করা যেতে পারে।

(১২) নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে কোন নির্বাচন কেন্দ্রের ভোটগণনা বন্ধ রাখতে বা ভোটের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখতে পারে।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৬৬ সালে ১৯তম সংবিধান সংশোধনের আগে পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারত।

মূল্যায়ন : (

গণতন্ত্রের সাফল্যের ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য শর্ত হল অবাধ ও স্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা। কিন্তু সমালোচকদের মতে ভারতবর্ষে অবাধ ও স্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ব্যাপারে উপযুক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়নি। কারণ যে নির্বাচন কমিশনের ওপর ভারতের

নির্বাচন ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সংবিধানের নানা ত্রুটি বিচ্যুতি সেই নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে বাধাস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।) উদাহরণস্বরূপ কমিশনের গঠন, সদস্যদের যোগ্যতা, কার্যকালের মেয়াদ, ক্ষমতা ও কার্যাবলী প্রভৃতি ব্যাপারে সংবিধানে বিস্তারিতভাবে কিছু বলা হয়নি। তৎপরিবর্তে এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা মূলত রাষ্ট্রপতির হাতে, কার্যত প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। ফলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনের অন্যান্য সদস্য হিসাবে কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের আস্থাভাজন ব্যক্তিরাই নিযুক্ত হবার সুযোগ পান।

দ্বিতীয়ত, (মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কার্যকালের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকায় অনেক সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকেই নিজের স্বাধীন ভূমিকা পালনের পরিবর্তে কেন্দ্রের অনুগ্রহ লাভে বেশি সচেষ্ট হতে দেখা যায়।)

অনুরূপভাবে অবসর গ্রহণের পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অন্য কোন চাকরি বা পদে নিযুক্ত হতে বাধা না থাকায় অনেক সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরকারী অনুগ্রহ লাভে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এইভাবে সরকারের অনুগত হয়ে থাকার পুরস্কারস্বরূপ অবসর গ্রহণের পর কে. ডি. কে. সুন্দরকে আইন কমিশনের সভাপতি এবং সুকুমার সেনকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।

অন্যদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস. এল, শাকধেরের কিছু কিছু সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় মনঃপুত না হওয়ার ফলে তিনি সমস্তরকম সরকারী অনুগ্রহ লাভ থেকে বঞ্চিত হন।

তৃতীয়ত, (নির্বাচনের দিন ঘোষণা, নির্বাচন স্থগিত রাখা সম্পর্কিত নির্বাচন কমিশনের বহু সিদ্ধান্তই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রহণ করা হয় বলে সমালোচনা করা হয়। ১৯৯২ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গের বালিগঞ্জ এবং বিহারের একাধিক লোকসভার উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশন বেশ কয়েকটি বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিলেও নয়াদিল্লীর উপনির্বাচনে ব্যাপক নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয় নি। সমালোচকদের মতে, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করার ফলে কমিশন কার্যত কেন্দ্রীয় শাসক দলের রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

চতুর্থত, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মচারীমণ্ডলী না থাকায় নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনকে হয় কেন্দ্রীয় সরকার অথবা রাজ্য সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয়। বলাবাহুল্য এই নির্ভরশীলতা কমিশনের নিরপেক্ষ ও স্বাধীন ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

পঞ্চমত, ভোটার তালিকায় কারচুপি, জাল ভোট, ছাপ্পা ভোট, বুথ দখল, দুর্নীতি এবং আরও নানান অনিয়ম ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে একটা প্রহসনে পরিণত করেছে। অনেকে এসবের জন্য কমিশনের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন।

নির্বাচন কমিশনের এইসব সাংগঠনিক দুর্বলতা ও বাস্তব ভূমিকা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে অধ্যাপক এস. আর. মহেশ্বরী নির্বাচন কমিশনকে ভারতীয় গণতন্ত্রের দুর্বলতম স্তম্ভ (weakest pillar of our democracy) বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে ভারতের ভূতপূর্ব নির্বাচন কমিশনার টি. এন. শেষনের ক্ষেত্রে অধ্যাপক মহেশ্বরীর জন্য কমিশন কংগ্রেস (ই) দলকে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ দেন। এছাড়া আরও কয়েকটি

উপরোক্ত মন্তব্য মোটেই খাপ খায় না। তিনি তাঁর কার্যাবলীর মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন যে, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের বা কোন রাজনৈতিক দলের কেনা গোলাম নয় এবং তা করতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরাগভাজন হয়ে পড়েন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, সংবিধান নির্বাচন কমিশনের ওপর যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হলে কমিশনকে কোন বিশেষ ব্যক্তি বা দল বা গোষ্ঠীর বংশবদ হয়ে না থেকে নির্ভীক ও নিঃশঙ্কচিত্তে কাজ করে যেতে হবে। তিনি চেয়েছিলেন নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে ; তিনি চেয়েছিলেন প্রতিটি রাজনৈতিক দলই উপযুক্ত আচরণবিধি মেনে চলুক, ভোটার তালিকা ও ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে কারচুপি বন্ধ হোক, প্রত্যেক বৈধ ভোটারের সচিত্র পরিচয়পত্র থাকুক। যে দক্ষতার সঙ্গে শেষন বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মত রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করেছেন এবং দুটি সাধারণ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করিয়েছেন, ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে তা নজিরবিহীন। ভারতের বর্তমান নির্বাচন কমিশন এম. এস. গিলও ইতিমধ্যেই তাঁর কাজে যথেষ্ট কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৭ সালের ৩১শে মে-র মধ্যে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে তার সাংগঠনিক নির্বাচন শেষ করার জন্য কমিশন যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা অমান্য করার ,

বলিষ্ঠ পদক্ষেপ শ্রী গিল গ্রহণ করেন। (অতঃপর নির্বাচন কমিশনকে ভারতীয় গণতন্ত্রের ‘দুর্বলতম 1) স্তম্ভ’ বলা সমীচীন হবে বলে মনে হয় না।

 

ভারতের নির্বাচন কমিশনের গঠন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *