প্রশ্ন উত্তরে সমাস আলোচনা teacj sanjib

 প্রশ্ন উত্তরে সমাস আলোচনা teacj sanjib

প্রশ্ন উত্তরে সমাস 

সমাস

 

 সমাস সংক্রান্ত পরিভাষা ও তাদের ব্যাখ্যা:

প্রশ্ন-উত্তরে-সমাস-আলোচনা-teacj-sanjib

 

 

পরস্পর অর্থ সম্বন্ধযুক্ত দুই বা তার বেশি পদ মিলে একপদে পরিণত হলে, তাকে সমাস বলা হয়। যেমন— গঙ্গার জল = গঙ্গাজল। কাঠ, খড় ও কেরোসিন = কাঠ-খড়-কেরোসিন।

 

• ব্যাসবাক্য : সমাসবদ্ধ পদকে ভাঙলে বা ব্যাখ্যা করলে যে বাক্য বা বাক্যাংশটি পাওয়া যায়, তা ব্যাসবাক্য যেমন—জলজ (সমাসবদ্ধপদ) = জলে জন্মে যা (ব্যাসবাক্য)।

 

প্রশ্ন উত্তরে সমাস (খ) সমাসের শ্রেণিবিভাগ

 

সমাস নয় শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা—দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু, অব্যয়ীভাব, নিত্যসমাস, অলোপ, বাক্যাশ্রয়ী। দ্বন্দ্ব

 

ব্যাসবাক্যে সমস্যমান পূর্বপদ ও পরপদ সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হলে এবং সমাসনিষ্পন্ন হওয়ার পর উভয় পদের সমান অর্থ প্রাধান্য থাকলে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলা হয়। যেমন— জামা-কাপড় = জামা ও কাপড়। =

 

। উভয় পদ বিশেষ্য : দুধ-দই = দুধ ও দই, জন্ম-মৃত্যু = জন্ম ও মৃত্যু ইত্যাদি।

 

দীন-দুঃখী = । উভয় পদ বিশেষণ : লঘু ও গুরু ইত্যাদি। দীন ও দুঃখী, লঘু-গুরু =

 

। উভয় পদ ক্রিয়া : পড়ি-মরি = পড়ি ও মরি, উঠে-পড়ে =উঠে ও পড়ে ইত্যাদি।

 

। উভয় পদ সর্বনাম : এটা-ওটা = এটা ও ওটা, যাকে-তাকে = যাকে ও তাকে ইত্যাদি।

 

8 • সমার্থক দ্বন্দ্ব হাট-বাজার = হাট ও বাজার, পাহাড়পর্বত = পাহাড় ও পর্বত।

 

প্রশ্ন উত্তরে সমাস  কর্মধারয় সমাস

 

বিশেষণ ও বিশেষ্য বা বিশেষ্য ও বিশেষ্য কিংব৷ বিশেষণ ও বিশেষণ পদে সমাস হলে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হলে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলা হয়। যেমন – কালো যে পেঁচা = কালোপেঁচা।

সমস্যমান পদ : ব্যাসবাক্যের এক-একটি পদ সমস্যমান পদ। যেমন—হরগৌরী = হর ও গৌরী। হর, ও, গৌরী—প্রতিটি সমস্যমান পদ।

 

● বিশেষণ ও বিশেশ্য ছিন্ন (বিশেষণ) যে বস্তু (বিশেষ্য) = ছিন্নবস্তু।

 

• পূর্বপদ ও পরপদ : ব্যাসবাক্যে প্রথম অংশের পদ পূর্বপদ, ব্যাসবাক্যের পরের অংশের পদ পরপদ। ‘হরগৌরী-র ‘হর’ পূর্বপদ; ‘গৌরী’ পরপদ।

 

= বিশেষ্য ও বিশেষ্য : রাজা (বি) ও বাদশা (বি)= রাজাবাদশা। । বিশেষণ ও বিশেষণ : কাঁচা (বিণ)ও মিঠা (বিণ)= কাঁচামিঠা।

 

* উপমান, উপমিত ও রূপক কর্মধারয়: সমাস

 

উপমান কর্মধারয় : উপমানবাচক পূর্বপদের সঙ্গে সাধারণ কর্মবাচক পর পদের সমাস হলে, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলা হয়। যেমন—কাজলকালো = কাজলের ন্যায় কালো। এরকম—রক্তরাঙা, চিঁড়েচ্যাপটা, গোবেচারা ইত্যাদি।

 

। উপমিত কর্মধারয় : উপমেয়বাচক পূর্বপদের সঙ্গে উপমানবাচক পরপদের সমাস হলে, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলা হয়। যেমন—কথামৃত কথা অমৃতের ন্যায়। এরকম—নরসিংহ, মুখচন্দ্র, আঁখিপদ্ম ইত্যাদি। =

 

রূপক কর্মধারয় : উপমেয়বাচক পূর্বপদ ও উপমানবাচক পরপদের মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হলে, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলা হয়। যেমন—আশালতা = আশা রূপ লতা। এরকমজীবনতরি, মনমাঝি, ভবসিন্ধু ইত্যাদি।

 

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় : যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যস্থিত পদ সমাসবদ্ধ পদে লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলা হয়। যেমন—বটবৃক্ষ = বট নামক বৃক্ষ । এরকম—শোকসভা, শহিদমিনার, ঘরজামাই ইত্যাদি।

 

তৎপুরুষ সমাস

 

যে সমাসে পূর্বপদের কর্ম, করণ, অপাদান প্রভৃতি বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন—গাছে পাকা = গাছে পাকা।

 

তৎপুরুষ । যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদ কর্মের বিভক্তি

‘কে’ লোপ পায় তাকে কর্ম তৎপুরুষ সমাস বলে। যথা— গা-ঢাকা গাকে ঢাকা। এরকম—বীজ-বোনা, সাপ-খেলানো ইত্যাদি। =

 

। করণ তৎপুরুষ : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে করণের জন্য বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত ‘দিয়া’, ‘দ্বারা’ ইত্যাদি অনুসর্গ লোপ পায়, তাকে বলা হয় করণ তৎপুরুষ সমাস। যথা—বাদুড় দ্বারা চোষা = বাদুড়চোষা। এরকম—পদাঘাত, দাকাটা ইত্যাদি।

 

। নিমিত্ত তৎপুরুষ : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে বিভক্তিরূপে ‘নিমিত্ত’, ‘জন্য’, ‘উদ্দেশ্য’ ইত্যাদি নিমিত্তার্থক অনুসর্গ লোপ পায়, তাকে বলা হয় নিমিত্ত তৎপুরুষ সমাস। যেমন—রান্নার নিমিত্ত ঘর = রান্নাঘর। এরকম—স্মৃতি-মন্দির, মাপকাঠি ইত্যাদি।

 

। অপাদান তৎপুরুষ : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে অপাদানের জন্য বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত ‘হইতে’, ‘থেকে ইত্যাদি ঐ লোপ পায়, তাকে অপাদান তৎপুরুষ সমাস বলে। যথা— বিলাত থেকে ফেরত = বিলাত-ফেরত। এরকম—শাপমুক্ত, ঋণমুক্তি, গ্রামছাড়া ইত্যাদি।

 

। সম্বন্ধ তৎপুরুষ : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সম্বন্ধ বিভক্তি ‘র’, ‘এর’ ইত্যাদি লোপ পায়, তাকে সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। যথা—দেবের আলয় = দেবালয়। এরকম— দলপতি, বোধোদয় ইত্যাদি।

। অধিকরণ তৎপুরুষ : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে অধিকরণের বিভক্তি ‘এ’, ‘য়’ ইত্যাদি লোপ পায়, তাকে বলা হয় অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস। যথা—গৃহে আগত = গৃহাগত। এরকম— মনমরা, অকালবোধন ইত্যাদি।

 

। না-তৎপুরুষ : পূর্বপদের ‘না’, ‘নয়’, ‘নাই’ ইত্যাদি নঞর্থক বা নিষেধার্থক অব্যয় হলে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকলে, এরকম তৎপুরুষ সমাসকে না-তৎপুরুষ বা নঞ- তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন—নয় কাজ = অকাজ। এরকম— অনশন, আকাল।

 

উপপদ তৎপুরুষ : উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের সমাসকে বলা হয় উপপদ তৎপুরুষ সমাস। যথা—গ্রামে বাস করে যে = গ্রামবাসী। এরকম—বাস্তুহারা, মাছিমারা, জলধর ইত্যাদি।

 

: • ব্যাপ্তি তৎপুরুষ যে তৎপুরুষ সমাসে ব্যাপ্তি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় ব্যাপ্তি তৎপুরুষ সমাস। যথা— ক্ষণকালব্যাপী স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী। এরকম—চিরবসন্ত, জীবনানন্দ ইত্যাদি।

 

• ক্রিয়াবিশেষণ তৎপুরুষ : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদ ক্রিয়াবিশেষণ হয়, তাকে বলা হয় ক্রিয়াবিশেষণ তৎপুরুষ সমাস। যথা- নিম্ন (অর্ধ) ভাবে রাজি = নিমরাজি। এরকম— আধমরা, আধময়লা ইত্যাদি।

 

● উপসর্গ তৎপুরুষ যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদ উপসর্গের সঙ্গে পরপদ বিশেষ্য কিংবা বিশেষণের সমাস হয়, তাকে বলা হয় উপসর্গ তৎপুরুষ সমাস। যেমন—ভর (ভরা/পূর্ণ) যে সন্ধ্যা = ভরসন্ধ্যা। এরকম—বদনাম, রামদা ইত্যাদি।

বহুব্রীহি সমাস

যে সমাসে সমস্যমান পদের অর্থ প্রতীয়মান না হয়ে তাদের দ্বারা লক্ষিত অন্য কোনো অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় বহুব্রীহি সমাস। যেমন—ত্রি লোচন যাঁর = ত্রিলোচন। এরকম— বজ্রপাণি, পীতাম্বর ইত্যাদি।

 

মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি : যে বহুব্রীহি সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পায়, তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস। যেমন—চাঁদের মতো সুন্দর মুখ যার = চাঁদমুখ। এরকম— সোনামুখী, আগুনবরণ ইত্যাদি।

 

। ব্যতিহার বহুব্রীহি : যে বহুব্রীহি সমাসে একই পদের পুনরুক্তির দ্বারা পরস্পর একজাতীয় ক্রিয়া করা বোঝায় তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন— হাতে হাতে যে যুদ্ধ হাতাহাতি। এরকম—চুলোচুলি, খুনোখুনি ইত্যাদি। =

 

• সহার্থক বহুব্রীহি : যে বহুব্রীহি সমাসে সহার্থক পূর্বপদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের সমাস হয়, তাকে সহার্থক বহুব্রীহি সমাস বলে। যথা—বন্ধুসহ বর্তমান = সবান্ধব। এরকম—সস্ত্রীক, সশঙ্ক ইত্যাদি।

না-বহুব্রীহি : যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ নঞর্থক বা নিষেধাৰ্থক অব্যয় হয়, তাকে নাবহুব্রীহি বা নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস বলে। যথা— নেই আদি যার = অনাদি। নেই বোধ যার = নির্বোধ। এরকম—নিখুঁত, অপুত্রক ইত্যাদি।

সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি : যে বহুব্রীহি সমাসে সংখ্যাবাচক { পূর্বপদের সঙ্গে পরপদ বিশেষ্যের সমাস হয়, তাকে বলা হয় সংখ্যাবাচকবহুব্রীহি সমাস। যথা— সহস্ৰ লোচন যার=সহস্রলোচন। এরকম—পঞ্চানন, দশানন ইত্যাদি।

 

* দ্বিগু সমাস

 

সংখ্যাবাচক বিশেষণ পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের সমাস হলে এবং সমাহার বা সমষ্টি অর্থ প্রকাশিত হলে, তাকে দ্বিগু সমাস বলা হয়। যেমন—শত অব্দের সমাহার বা সমষ্টি = শতাব্দী। এরকম—নবগ্রহ, সপ্তাহ, সপ্তরথী ইত্যাদি।

 

অব্যয়ীভাব,

 

যে সমাসে পূর্বপদ অব্যয় এবং পূর্বপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস। দেখার বিষয় এই যে, অব্যয়ীভাব সমাসে অনব্যয় পরপদ সমাসনিষ্পন্ন হওয়ার পর অব্যয়ভাবাপন্ন হয়, সেজন্য অব্যয়ীভাব বলা হয়। যেমন— মিলের অভাব = গরমিল। এরকম—হা-ভাত, অনুক্ষণ, উপবন ইত্যাদি। সীমা, ব্যাপ্তি, যোগ্যতা, সামীপ্য, অভাব, সাদৃশ্য ইত্যাদি অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

 

নিত্যসমাস

 

যে সমাসে সমস্যমান পদগুলি নিত্য বা সবসময় সমাসবদ্ধ থাকে অর্থাৎ, যার ব্যাসবাক্য হয় না, ব্যাসবাক্য করতে হলে একেই অর্থবোধক অন্য কোনো পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্যসমাস বলে। যেমন—কেবল জ্ঞান = জ্ঞানমাত্র। এরকম— গ্রামান্তর, নামমাত্র, দর্শনমাত্র ইত্যাদি। =

 

অলোপ সমাস

 

যে সমাসে সমাসনিষ্পন্ন হওয়ার পরেও পূর্বপদের বিভক্তি আগের মতোই থেকে যায় অর্থাৎ, লোপ পায় না, তাকে বলা হয় অলোপ সমাস। যেমন—জলে ও কাদায় = জলে-কাদায়।

 

অলোপ দ্বন্দ্ব : দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে। এরকম—বনেজঙ্গলে, কোলে-পিঠে ইত্যাদি।

 

● অলোপ তৎপুরুষ : হাতে গড়া = হাতে-গড়া। এরকম— ভাতের-হাঁড়ি, মনের-মানুষ ইত্যাদি।

 

। অলোপ বহুব্রীহি : মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়-পাগড়ি। এরকম—হাতে-খড়ি, মুখে-ভাত ইত্যাদি।

 

বাক্যাশ্রয়ী সমাস

 

যে সমাসবদ্ধ পদকে আশ্রয় করে এক-একটি বাক্যের অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় বাক্যাশ্রয়ী সমাস। যেমন—চক্ষুর অপারেশন (সম্বন্ধ তৎপুরুষ), তার নিমিত্ত শিবির (নিমিত্ত তৎপুরুষ) = চক্ষু-অপারেশন-শিবির। এরকম—বসে-আঁকা-প্রতিযোগিতা, সব-পেয়েছির-আসর ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *