বিশেষণ পদ বাংলা ব্যাকরণ Teacj Sanjib

 

 বিশেষণ পদ বাংলা ব্যাকরণ Teacj Sanjib

 

 বিশেষণ পদ কাকে বলে এবং বিশেষণ পদের প্রকারভেদ  সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

বিশেষণ পদ চেনার উপায়

সােমা ভালাে গান গায়। বিনয়ী ছাত্রকে সব শিক্ষকই ভালােবাসেন। মনােরম দৃশ্যটি দেখে সকলেই মােহিত হয়েছে। সে খুব দ্রুত দৌড়ায়। বাগানবাড়িটি খুব সুন্দর। ব্যক্তি হিসেবে সে ভালাে।

বিশেষণ-পদ-বাংলা-ব্যাকরণ-Teacj-Sanjib

 

> উপরের বাক্যগুলিতে যথাক্রমে ‘ভালাে’, ‘বিনয়ী, মনােরম’, ‘দ্রুত’, ‘খুব’, ভালাে’ পদগুলি দিয়ে কখনাে বিশেষ্য, কখনও বিশেষণ কখনও বা সর্বনাম অথবা ক্রিয়াপদকে বিশেষিত রেছে।

 

বিশেষণ পদ কাকে বলে

 

বিশেষণ : যে-পদের দ্বারা বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদকে বিশেষিত করা বােঝায় অর্থাৎ দোষ, গুণ, অবস্থা সংখ্যা, পরিমাণকে বােঝায় তাকে বলা হয় বিশেষণ।

 

বিশেষণ ও তার শ্রেণিবিভাগ :

 

বিশেষ্যের বিশেষণ 

সর্বনাম এর বিশেষণ

 বিশেষণের বিশেষণ 

সংখ্যাবাচক বিশেষণ 

পূরণবাচক বিশেষণ 

সম্বন্ধ বাচক বিশেষণ

ক্রিয়া বিশেষণ

 

 

বিশেষণকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করা যায়—(১) নাম-বিশেষণ (২) ক্রিয়াবিশেষণ। প্রকৃতপক্ষে নামপদ বলতে বােঝায়—বিশেষ্য, বিশেষণ ও সর্বনাম পদকে। সেদিক থেকে বিচার করে নাম-বিশেষণের জটিল উপবিভাগে না গিয়ে মােটামুটিভাবে ছয় ভাগে ভাগ করা যায়—(১) বিশেষ্যের বিশেষণ, (২) সর্বনামের বিশেষণ, (৩) বিশেষণের বিশেৰণ, (৪) সংখ্যাবাচক বিশেষণ, (৫) পূরণবাচক বিশেষণ, (৬) সম্বন্ধবাচক বিশেষণ। 

 

আবার বাংলায় ক্রিয়াবিশেষণের প্রয়ােগ লক্ষ করলে দেখা যায় বিশিষ্ট কয়েকটি নিয়মে ক্রিয়া-বিশেষণও ব্যবহৃত হয়।

 

নাম-বিশেষণ :

 

(১) বিশেষ্যের বিশেষণ : যে-বিশেষণ পদ বিশেষ্যকে বিশেষিত করে অর্থাৎ তার দোষ, গুণ, অবস্থা প্রভৃতিকে প্রকাশ করে তাকে বলা হয় বিশেষ্যের বিশেষণ। যেমন— অন্ধকার আকাশে তারা ভরে আছে। এখন পােড়াে বাড়িতে বাস করছি। নির্জন দেবালয়ে কে ওখানে! ঠাণ্ডা হাওয়া, এখানে বসে থেকো না। সুন্দর দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হলাম। মেয়েটি সুন্দর। মধুর সংগীত সকলেই ভালােবাসে।

 

উপরের বাক্যগুলিতে যথাক্রমে ‘অন্ধকার’, ‘পােড়াে’, ‘নির্জন’, ‘ঠান্ডা’, সুন্দর’, মধুর পদগুলি কোনাে না কোনাে বিশেষ্যকে বিশেষিত করছে।

 

(২) সর্বনামের বিশেষণ :  যে-বিশেষণপদ সর্বনামকে বিশেষিত করে তাকে বলা হয় সর্বনামের বিশেষণ। যেমন— তুমি পণ্ডিত, মূখ আমি কী করে শাস্ত্রের কথা বুঝব বল! ধনী সে, গরিবের কথা বুঝবে কী? বােকা আমরা না হলে তােমার সঙ্গে যাই। ও লম্বা, আমি বেঁটে। তােমরা যথেষ্ট বােকা নইলে ওর চালে পা দাও।

 

উপরের বাক্যগুলিতে যথাক্রমে ‘পণ্ডিত’, ‘মূখ’, ‘ধনী’, ‘বােকা’, লম্বা’, ‘বেঁটে’, ‘বােকা পদগুলি—সর্বনামপদগুলিকে বিশেষিত করছে।

 

বিশেষ্যের বিশেষণ কাকে বলে

 

(৩) বিশেষণের বিশেষণ : যে-বিশেষণ পদ অন্য কোনাে বিশেষণ পদকে বিশেষিত করে তাকে বলা হয় বিশেষণের বিশেষণ।

 

যেমন—খুব ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে। অতি মনােরম দৃশ্যে কে না মােহিত হয়? অত্যন্ত সুস্বাদু খাদ্য, সকলেরই ভালাে লাগে। বেশ বড়াে মাছ ধরেছ দেখছি। খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এসাে। আমার মা ভীষণ রাগী। আজকে ইলিশ মাছ মােটামুটি সস্তা দামে কিনেছি।

 

উপরের বাক্যগুলিতে যথাক্রমে খুব’, অতি’, অত্যন্ত’, ‘বেশ’, ‘খুব’, ভীষণ’, ‘মােটামুটি পদগুলি বিশেষণ পদকে বিশেষিত করে অবস্থা ও মাত্রা বুঝিয়ে দিয়েছে।

 

(৪) সংখ্যাবাচক বিশেষণ : সংখ্যাবাচক পদগুলি যখন বিশেষ্যের সংখ্যা বা পরিমাণ নির্দেশ করে বিশেষিত করে তখন তাকে বলা হয় সংখ্যাবাচক বিশেষণ।

 

যেমন—দশ জন এখান ঢুকেছাে কেন? সাত সমুদ্র তেরাে নদী পার হয়ে এলাম। দু-কিলাে মাছ কিনেছ? পনের বছর পর দেশে ফিরলাম। মাত্র তিরিশ টাকায় একলম কিনেছি। আজকের আসরে বহু আসন খালি আছে। ছয় বছর ধরে বিশ্বযুদ্ধে কম ক্ষতি হয়নি।

 

উপরের উদাহরণগুলিতে যথাক্রমে ‘দশ’, সাত’, ‘তেরাে’, ‘দু-কিলাে’, ‘পনের’, ‘তিরিশ, বহু’, ‘ছয়’—পদগুলি সংখ্যাবাচক পদ এবং বিশেয্যের আগে বসে কখনও সংখ্যাকে কখনও পরিমাণকে নির্দেশ করছে।

 

(৫) পূরণবাচক বিশেষণ : যে-বিশেষণ পদ নামিপদের ক্রমবাচক রূপকে নির্দেশ করে। তাকে বলা হয় পূরণবাচক বা ক্রমবাচক বিশেষণ পদ।

 

যেমন—মাসের প্রথম দিন এসাে। দ্বিতীয় লোকটি যথেষ্ট সৎ। দোসরা শ্রাবণ ও বাড়ির বৌ এসেছে বাড়িতে। একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার ইতিহাসে স্মরণীয় দিন। পচিশে বৈশাখ রবীন্দ্র জয়ন্তী। সবাই বাইশে শ্রাবণ পালন করে। আমার ভাই সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে, আমি দশম শ্রেণিতে পড়ি। বিংশতিতম বৎসর অতিক্রান্ত হইয়াছে পিতৃদেব বাড়ি ফিরিলেন না। পয়লা ফায়নে রবির বিয়ে। চৌঠা আশ্বিনে আমি কলকাতা থেকে রওনা হলাম।

 

উপরের বাক্যগুলিতে যথাক্রমে ‘প্রথম’, ‘ দ্বিতীয়’, ‘দোসরা’, ‘একুশে’, ‘পচিশে’, ‘বাইশে, সপ্তম’, ‘দশম’, ‘বিংশতি’, ‘পয়লা’, চৌঠা—‘পদগুলি’ দিয়ে নানপদের ক্রমকে নির্দেশ করছে। যেমন—প্রথম বাক্যে দিনের ক্রম’, দ্বিতীয় বাক্যে লােকের ক্রম’, তৃতীয় বাক্যে শ্রাবণ মাসের ক্রম’ বােজাচ্ছে।

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, পূরণবাচক বিশেষণের যেমন সংস্কৃতজাত রূপ আছে, তেমনি বাংলার নিজস্বরূপও আছে। সংস্কৃত-অনুযায়ী সাধুভাষায় একদা সংস্কৃতজাত রূপ বহুল ব্যবহৃত হত। কিন্তু বর্তমানে চলিতভাষায় বাংলার নিজস্ব রূপ তথা তদ্ভব রূপের অনেক বেশি ব্যবহার-স্বাচ্ছন্দ বেড়েছে। তাছাড়া দেখা যাচ্ছে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে তম যােগ করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। যেমন—চল্লিশতম, একুশতম, তিরিশতম, একশ পঁচিশতম, ইত্যাদি।

 

কিছু তৎসম ও তদ্ভব রূপ লক্ষ কর :

 

তৎসম রূপঃ ‘প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ, ত্রয়ােদশ, ত্রিংশ, একত্রিংশ ইত্যাদি।

 

তদ্ভব রূপ : পয়লা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, বিশে, একুশে, বাইশে, পঁচিশে, ছাব্বিশে, সত্তরতম, যাটতন, কুড়িতন, পঁচিশতম, তিরিশতম, তিরিশে, এগারােই ইত্যাদি।

 

 ৬. সম্বন্ধবিশেষণ : সম্বন্ধ-বিভক্তিযুক্ত পদ যখন বিশেয্যের পূর্বে বসে বিশেষণের কাজ করে তখন তাকে বলা হয় সম্বন্ধ-বিশেষণ।

 

যেমন—গােরুর দুধ বেশ পুষ্টিকর। বৌ বাপের বাড়ি যাচ্ছে। পুজোর জানা কেনা হয়েছে? দুর্গার মূর্তিটি বেশ ভালো। গরমের ছুটি কবে পড়বে? পুজোর ছুটি পড়ে গেছে। দুপুরের ঘুম ভেঙে গেল। ননীর পুতুল হয়েছে। দেখছি। টাকার নায়। কে না করে ? ভিক্ষার ধন নিও না।

 

উপরের বাক্যগুলিতে যথাক্রমে ‘গােরুর’, বাপের’, ‘পুজোর’, ‘দুপুরের’, ননীর’, ‘টাকার’, ভিলার’ পদগুলি সদৰ-বিভক্তিযুক্ত এবং প্রত্যেকটি পরবর্তী নামপদের বিশেষণরূপে কাজ করছে।

 

ক্রিয়া বিশেষণ কাকে বলে

 

ক্রিয়াবিশেষণ

 

সে নিঃশব্দে হেঁটে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি হেঁটে চলাে। কাজটা শীঘ্র কর। অল্প খেলে শরীর সুস্থ থাকে। তােমার সব অত্যাচার নীরবে সহ্য করেছি। ভাই ছােটো, তাকে বেশি বকোনা। সে বেসুরে গাইছে।

 

উপরের বাক্যগুলিতে যথাক্রমে নিঃশব্দে’, ‘তাড়াতাড়ি’, শীঘ্র’, ‘তাল্প’, নীরবে’, ‘বেশি’, ‘বেসুরে’—পদগুলি ক্রিয়াকে বিশেষিত করছে।

 

ক্রিয়াবিশেষণ :

  যে-বিশেষণপদ ক্রিয়াপদকে বিশেষিত করে অর্থাৎ তার ভাব-ভঙ্গিপ্রকৃতিকে বুঝিয়ে দেয় তাকে বলা হয় ক্রিয়া-বিশেষণ।

 

ক্রিয়াবিশেষণের শ্রেণিবিভাগ :

 

ক্রিয়া-বিশেষণকে প্রধান ও সহজ সরলভাবে তিনভাগে ভাগ করা যায়—(১) থানবাচক, (২) কালবাচক বা সময়বাচক (৩) ভাব বা অবস্থাবাচক।

 

(১) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: যে-ক্রিয়াবিশেষণের দ্বারা ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার স্থানকে নির্দেশ করে তাকে বলা হয় থানবাচক ক্রিয়া-বিশেষণ।

 

যেমন—রতন মাঠে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে দাঁড়িয়ে আছ কেন? অবশেষে দণ্ডকারণ্যে নির্বাসিত হল। পশ্চাতে রেখেছে যারে সে তােমারে পশ্চাতে টানিছে। ও সাগরতীরে একা বসে আছে। যেখানে সেখানে চাল ছড়িয়ে আছে।

 

উপরের বাক্যগুলিতে যথাক্রমে ‘মাঠে’, ‘এখনে’, ‘দণ্ড কারণ্যে’, ‘পশ্চাতে’, ‘পশ্চাতে, ‘সাগরতীরে’, ‘যেখানে সেখানে’, পদগুলিতে ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার স্থানকে নির্দেশ করছে। ফলে এগুলি থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

 

(২) কাল বা সময়বাচক ক্রিয়াবিশেষণ : যে-ক্রিয়াবিশেষণ সম্পন্ন হওয়ার সময় বা কালকে নির্দেশ করে দেয় তাকে বলা হয় কাল সময়বাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

 

যেমন—দিনরাত পড়ছ কেন? কিছুক্ষণ চুপ করে থেকো, মাঝেমাঝে এসো। দুপুরে মাঠে মাঠে ঘুরছ, সন্ধ্যায় ঘুম আসবে। সবসময় মিথ্যা কথা বলে চলেছ। আজকাল মানুষ অমানুষ হয়ে গেছে। সকাল-সন্ধ্যায় ঘন্টা বাজে মন্দিরে।

 

উপরের বাক্যগুলিতে যথাক্রনে দিনরাত’, ‘কিছুক্ষণ’, ‘মাঝেমাঝে’, ‘দুপুরে, সন্ধ্যায়, সবসময়’, ‘আজকাল’, সকাল-সন্ধ্যায়’ পদগুলি ক্রিয়াসম্পন্ন হওয়ার কাল বা সময়কে নির্দেশ করছে। ফলে এগুলি কাল বা সময়বাচক ক্রিয়াবিশেষণ। 

 

(৩) ভাব বা অবস্থাবাচক ক্রিয়াবিশেষণ ঃ যে-ক্রিয়া বিশেষণ ক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার ভাব অর্থাৎ কীভাবে, কী তাবস্থায় সম্পন্ন হচ্ছে তাকে নির্দেশ করে তাকে বলা হয় ভাব বা অবস্থাবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

 

যেমন—ছেলেবেলা থেকে ওকে দেখছি। নীরা মধুর ছন্দে গান গাইছে। সে দুঃখে কাতর হয়ে পড়েছে। তিনি অকাতরে দান করছেন। সহজেই একাজ করা যায় না। সাবধানে চলা উচিত। উত্তন নিশ্চিন্তে চলে অধনের সাথে। সচকিতে বীরবর দেখিলা সম্মুখে।

 

উপরের বাক্যগুলিতে যথাক্রমে ছেলেবেলা’, ‘মধুছন্দ’, দুঃখে, অকাতরে’, সহজেই’ সাবধানে নিশ্চিন্তে’, সচকিতে’—পদগুলি দিয়ে ক্রিয়া কীভাবে বা কোন্ অবস্থায় ঘটছে তা নির্দেশ করে ক্রিয়াপদগুলিকে বিশেষিত করছে। ফলে এগুলি ভাব বা অবস্থাবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

 

ক্রিয়াবিশেষণের গঠন-বৈচিত্র্য

 

প্রধানত বাক্যে ক্রিয়া-বিশেষণ-বিভক্তিচিহ্নহীন তাবস্থায়, বিভক্তিযুক্ত অবস্থায়, অসমাপিকা ক্রিয়াযুক্ত হয়ে ও শব্দদ্বৈত প্রয়োগে ব্যবহৃত হয়।

 

বিভক্তি-চিহ্নহীনযােগে ঃ এখন দ্রুত চলাে। লােকটি তাড়াতাড়ি হাঁটছে। সত্বর চিঠির উত্তর দিও। আজ অবশ্যই যেতে হবে। পরশু বাবা আসছে। বৃষ্টিতেও অজি যাব। বাচ্চাটা টপাটপ খেয়ে ফেলছে।

 

বিভক্তি-চিহ্নযুক্ত হয়ে: তিনি পদব্রজে যাত্রা করিলেন। দুর্গা-না নৌকায় আসছেন। একমনে জপিতেছে হরেকৃষ্ণ রান। সে অকটি অনায়াসে সমাধান করল। একাজ সহজে হবে না। সচকিতে বীরবর দেখিলা সম্মুখে। মাছি উড়ছে ভনভনিয়ে। সে কোনােরকমে পাড়ে পৌঁছেছে।

 

অসমাপিকা ক্রিয়াযুক্ত হয়ে : কথাটা শুনে হাে-হাে করে হেসে উঠল। কথাটা চেঁচিয়ে বলছ কেন? মন দিয়ে পড়াশুনা করিও। হনহনিয়ে যাচ্ছে চলে। গনগনিয়ে জ্বলছে আগুন। 

 

শব্দদ্বৈত প্রয়ােগে : তার শরীরে বিন্দুবিন্দু ঝরছে ঘাম। চুপিচুপি কেন ঘরে ঢুকছাে? জোরে জোরে দরজায় ধাক্কা দিও না। সরােজবাবু ধীরে ধীরে সভামঞ্চে উঠলেন। কেঁদে কেঁদে ঘুরছ কেন? হেসে হেসে দিন কেটে যায়। থেকে থেকে কাঁপিয়ে ওঠে। ভালােয় ভালােয় দিন চলে যায়। থেমে থেমে ডাকছে পাখি।

 

বিশেষণের প্রয়ােগ-বৈচিত্র্য

 

একপদী : ধীরে চলাে। আস্তে কথা বলে। দ্রুত হাঁটো। জোরে টান দাও। নির্জনে বসেছ কেন? দুপুরে ঘুমিও না। ভােরে ওঠ। শান্ত হতে হবে। অশান্ত ঘূর্ণিঝড়। বীভৎস ঘটনা দেখে স্থির থাকা যায় না। নদী উত্তাল, ক্ষুরধার স্রোতে বাড়ি ভেসে যায়।

 

বহুপদী : সে খুব দ্রুত হাঁটছে। পাখিটি অত্যন্ত সুন্দর। ভারী সুন্দর ও মনােরম দৃশ্য। ভাৰণ ঘন অন্ধকার অরণ্য। বিস্তৃত আয়তকার মাঠ। ঘনঘাের বরষা, ভীরু কাপুরুষ মানুষ। অত্যন্ত দুত ও ক্ষিপ্র গতিতে কে ঢুকছে ঘরে? মেয়েটি ধপধপে সাদা আটপৌরে শাড়ি পরে কাছে দারুণ, বীভৎস, হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে মা মূৰ্ছা গেলেন। পিতৃভক্ত, কর্তব্যপরায়ণ পুত্রকে দেখে  পিতা মুগ্ধ।

 

ধ্বন্যাত্মক: গনগনে তাঁচে নংস হয় না। কনকনে শীতে এখন কাপছ দেখি। গরমে এ ছুরে তাস বেশ আরামদায়ক। তোমার তো দেখি বেশ ঝরঝরে লেখা। ঘন তার রনি নামে ভাব, বেরিও না। ওর গায়ে দগদগে ঘা দেখে কার না ঘেন্না নে বসনে ও পড় উড়ছে। সারাদিন ঝিরঝিরে বৃষ্টি, কমার লক্ষণ নেই। গুনগুন ধ্বনি শুনতে পাচ্ছি।

 

শব্দদ্বৈতাশ্রয়ী : আজ তােমার উড়ুউড়ু মন কেন? ডুবুড়বু জাহাজ, মারাত্মক বিপদ ঘনিয়ে আসছে। কাদো কাদো মুখে ছেলেটা চলে যাচ্ছে। কখন ডেকেছি এখন হেলেদুলে আসছ? পথের ধারে ধারে সৈন্য দাঁড়িয়ে আছে। পথের মােড়ে এসে জনে জনে ভাগ হয়ে গেল। ঘরের মধ্যে কে যেন ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে। গায়ের মাংসটা ফুলেফুলে উঠছে। ঘরে জায়গা নেই, ঠেসেঠেসে বসো। দুপুরে বাড়িবাড়ি ঘুরতে যেও না। পথে পথে ঘুরছ কেন? ডগডগে টাটা খেতে ভালো। জুলজলে জীবনটা চলে গেল।

 

পদান্তরিত ঃ সজ্জিত বিছানায় শুতে আরাম লাগে। পুপিত কানন চোখ মায়াচ্ছন্ন করে তােলে। জলন্ত আগুন দেখে ভয় লাগে। জলময় দিগতে কে ঐ ডিঙি বেয়ে যায়। তােমার ঐচ্ছিক বিষয় কী? গ্রাম্য আচরণে বিরক্ত হয়ো না। ভােরের উদিত সূর্য অতি মনােরম। প্রাকৃতিক বিপর্যয় এসেছে দ্বারে। এয়ে দেখি বধ্য ভূমি। মার্জিত রুচি সবাই প্রত্যাশা করে। কুনো ব্যাঙ হয়ে থেকো না। চোরাই মাল পাচার করছে। সামুদ্রিক মাছ অনেকেই খায় না।

 

বাক্যাশ্রয়ী : গায়ে তার রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি। কুড়িয়ে-পাওয়া ছেলেকে হরেণবাবু প্রাণ দিয়ে মানুষ করেছেন। শেষ রাত্রে ভাঙা-ভাঙা মেঘে-ঢাকা আকাশে তারার চিহ্ন নেই। আপন কাজে আপনি ব্যস্ত মানুষ রথিন বাবু তাজ এ-সভায় উপস্থিত। পাঁচপাঁচ মাইল পথ অতিক্রম করে এখন এসে পৌঁচেছি। সাত রাজার ধন মাণিক পেয়ে কী করছ? যার-পর-নেই-পাজী লােকটাকে দেখেও চিনলে না। লাল নীল সাদা হলুদ রং মেশানাে পতাকা উড়ছে। পড়ে যাওয়া, ধসে-যাওয়া জীবনটাকে বয়ে নিয়ে চলেছি। পেশাদারী বদমহিসিতে ওস্তাদ কালাে-ছিপছিপে মানুষটিকে পাড়ায় সবাই চেনে, তুমি চিনলে না?”

 

প্রশ্নসূচক : কে কে একাজ করেছে? কোন্ কোন্ দিক থেকে বিপদ আসতে পারে ভেবেছ? কীসে তােমার ভাল বল তাে? লােকটা কী কথা কথা বলে গেল? কার বই। নিয়েছ? বাজার থেকে কী কী জিনিস কিনলে? যিনি টাকা পাঠিয়েছে তিনি কে? যে এসেছিল সে কী খেলােয়াড়?

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *