পথের দাবী প্ৰশ্ন উত্তর দশম শ্রেণী বাংলা Teacj Sanjib

 পথের দাবী প্ৰশ্ন উত্তর দশম শ্রেণী বাংলা Teacj Sanjib

পথের দাবী প্ৰশ্ন উত্তর

পথের দাবী 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পথের-দাবী-প্ৰশ্ন-উত্তর-দশম-শ্রেণী-বাংলা-Teacj-Sanjib

 

 পথের দাবী উপন্যাসের সারাংশ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে।

 

পথের দাবী উৎস

পথের দাবী প্ৰশ্ন উত্তর:

আলােচ্য রচনাটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদের শেষ অংশ থেকে সপ্তম পরিচ্ছেদের শেষ দুই অনুচ্ছেদ বাদ দিয়ে বাকি অংশ পাঠ্য হিসেবে গৃহীত।

 

পথের দাবী সারাংশ

 

বিষয়-সংক্ষেপ

 

  পুলিশ-স্টেশনে ঢুকে অপূর্ব দেখল সামনের ঘরে মােট-ঘাট নিয়ে কয়েকজন বাঙালি বসে আছে। জগদীশবাবু তাদের তােরঙ্গ ও পােটলা-পুটলি খুলে দেখতে শুরু করেছেন। সন্দেহভাজন লােকটিকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। এরা সকলে উত্তর ব্রষ্মে বর্মা-অয়েল কোম্পানিতে তেলের কারখানায় 

 

মিস্ত্রির কাজ করছিল। জল-হাওয়া সহ্য না হওয়ায় রেঙ্গুনে এসেছে। এদের জিনিসপত্র পরীক্ষা করার কাজ শেষ হতে ছেড়ে দেওয়া হলাে। পুলিশের বড়ােবাবু নিমাইবাবুর সামনে আটকে রাখা  রাজনৈতিক সন্দেহভাজন লােকটিকে হাজির করা হলাে। ফরসা রং-এর রােদে-পােড়া তামাটে হওয়া লােকটি কাশতে কাশতে এল। বেশ রােগা। ত্রিশ-বত্রিশ বছর বয়স হবে। কাশির তােড়ে হাঁপাচ্ছে। যেন কী এক দুরারােগ্য রােগে আক্রান্ত। কিন্তু দু-চোখের দৃষ্টি অদ্ভুত।  তার ক্ষীণ প্রাণশক্তি টুকু দৃষ্টির অতল-তলে এমনভাবে লুক্কায়িত যে মৃত্যু প্রবেশ করতে সাহস পায় না। তার বেশভুষার বাহার ও পারিপাট্য দেখে নিমাইবাবুর বক্তব্য হলাে বাবুর স্বাস্থ্য গেলেও শখ ষােলাে আনা বজায় আছে। মাথার চুল বিচিত্র ভঙ্গিতে কাটা। মাথার চেরা সিথির চুল নেবুতেলে নিষিক্ত। গায়ে জাপানি সিল্কের রামধনুরং-এর চুড়িদার পাঞ্জাবি। বুক পকেটে বাঘ-আঁকা রুমাল। পরনে বিলাতি মখমল শাড়ি। পায়ে সবুজ রং-এর মােজা ও লােহার নাল লাগানাে বার্নিশ করা পাম্পশু। 

 অপূর্বর কথা হলাে এই রুচি ও কালচারের লােক য়ের সন্দেহভাজন সব্যসাচী মল্লিক হতে পারেন। লােকটির নাম গিরীশ মহাপাত্র। লােকটির ট্র্যাক ও পকেট তল্লাশি করতে গিয়ে পাওয়া যায় একটি টাকা, গণ্ডা ছয়েক পয়সা, একটি লােহার কম্পাস, একটা  ফুটরুল,বিড়ি, দেশলাইও একটি গাঁজারকলকে।কলকেটি নাকি রাস্তা  থেকে কুড়িয়ে পকেটে রেখেছে, যদি কারাে কাজে লাগে। তবে সে পূর্ব নিজে গাঁজা খায় না। খানা-তল্লাশির পাট চুকলে গিরীশ মহাপাত্রকে । ছেড়ে দেওয়া হয়। সে টিনের তােরঙ্গ ও চাটাই- জড়ানাে বিছানার বান্ডিল বগলে প্রস্থান করে। 

 

পথের দাবী উপন্যাসের সারাংশ

 

 বাসায় ফিরে অপূর্বতার দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত হলেও তার মন কিন্তু এক অদৃষ্ট অপরিজ্ঞাত রাজবিদ্রোহীর চিন্তাতে ধ্যানস্থ থাকল। তার অন্যমনস্কতা দেখে রামদাস তলওয়ারকর তার বাড়ির খবরাখবর জানতে চাইল। অপূর্ব কুশল সমাচার দেওয়ায় রামদাস আর প্রশ্নকরলনা। জলযােগকরারসময় অপূর্বজানাল যে, তার বাসায় তালা ভেঙে চোর যখন চুরি করছিল,ওপরের ক্রিশ্চান মেয়েটি দেখতে পেয়ে চঁচামেচি করায় চোর পালায়। চোর পালালে মেয়েটি নিজের ঘরের তালা এনে লাগিয়ে যান। অপূর্ব বাসায় ফিরলে মেয়েটি চাবি  খুলে দিয়ে কী চুরি গেছে, কী যায়নি তাঁর নিখুঁত তালিকা তৈরি করে দিয়েছেন, যা পাশ-করা হিসাবরক্ষকের পক্ষেও বিস্ময়কর। তেওয়ারী ঘরে না থাকায় এই বিপর্যয়। 

 

 ওই চুরির ব্যাপারে পুলিশকে খবর দিতে গিয়ে অপূর্ব পুলিশের নির্বুদ্ধিতাজনিত এমন তামাশা দেখে চুরির কথা বলতেই ভুলে যায়। আর বলেই বা কী হতাে তারা তে চোর ধরে না বিদ্রোহী ধরার জন্য ব্যস্ত। এই প্রসঙ্গে গিরীশ মহাপাত্রের চেহারা ও পােশাক ইত্যাদি কথা মনে পড়ায় অপূর্ব। হেসে ওঠে।হাসি থামলে গিরিশ মহাপত্রের আনুপূর্বিক বর্ণনা দেয় রামদাসকে। বিদ্রোহী ধরতে গিয়ে পুলিশকে এভাবে নির্বোধ ও আহম্মক হতে অপূর্ব কখনও দেখেনি। পুলিশ বুনাে হাঁসের পিছনে ছুটোছুটি করে সরকারের পয়সা অপব্যয় করছে। পুলিশের বড়াে কর্তা অপূর্বের আত্মীয়তুল্য হলেও অপূর্ব মনে করে দেশের চেয়ে সে আপনার নয়। বরং বেশি আপনার দেশের স্বাধীনতাকামী বিপ্লবীরা। কথা প্রসঙ্গে অপূর্ব ফিরিঙ্গি ছোঁড়াদের কথায় আসে। তারা লাথি মেয়ে অপূর্বকে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে বার করে দিয়েছিল। তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে শ্বেতাঙ্গ স্টেশনমাস্টারের কাছ থেকে পেয়েছিল দুর্ব্যবহার। নিজের দেশের স্টেশন থেকে কুকরের মতাে দূর করে দিয়েছিল স্টেশনমাস্টার।

 

পথের দাবী সারমর্ম

 

  অফিস ছুটির আগে বড়াে সাহেবের একখানা লম্বা টেলিগ্রাম অপূর্বের হাতে আসে। তাতে বলা হয় ভামােসহ বার্মার বিভিন্ন জায়গার অফিসে যে বিশৃঙ্খলা চলছে অপূর্ব তা যেন দেখে আসে। এ নির্দেশে অপূর্ব খুশি হয়। তাতে অপূর্বর দুটো উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে। এক ] রেঙ্গুনে বিরক্তিকর অবস্থান থেকে কিছুটা সময় মুক্তি মিলবে। দুই ] ওই সূত্রে ব্ৰত্মদেশটা দেখা হবে। রাত্রের গাড়িতে অপূর্ব রওনা হয়। প্রথম শ্রেণির যাত্রী। নির্জন কামরায় শান্তিতে ঘুমিয়ে নিশিযাপন হবে অপূর্বভেবেছিল।কিন্তু পুলিশের লােকতিনবারতার ঘুম ভাঙিয়েতার নাম, ধাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করে। প্রতিবাদ করায় সাব-ইনস্পেক্টরের জবাব অপূর্ব তাে ইউরােপিয়ান নয়, রেলের কর্মচারীও নয়। ইচ্ছে করলে অফিসার তাকে টেনে নীচে নামিয়ে দিতে পারেন।

পথের দাবী প্ৰশ্ন উত্তর:

পথের দাবী বড় প্ৰশ্ন উত্তর

 

প্রশ্ন ) বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষােলাে আনাই বজায় আছে’-বাবুটি কে? তাঁর সাজসজ্জার পরিচয় দাও। –

 

উত্তর: অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের দাবী’ রচনাংশ থেকে উদ্ধৃত এই অংশে উল্লিখিত বাবুটি গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশধারী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক।

 

বর্মা-ওয়েল-কোম্পানির তেলের খনির কারখানার মিস্ত্রি গিরীশ মহাপাত্র চেহারার দিক থেকে যেমন রােগা তেমনি দুর্বল। তবে তার সাজ-পােশাকের সৌখিনতা বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতাে। তার মাথার সামনের দিকে বড়াে বড়াে চুল, কিন্তু ঘাড় ও কানের দিকে একেবারে নেই বললেই চলে। মাথায় চেরা সিঁথি। কঠিন ও রুগণ চুলে লেবুর তেল ঢেলেছেন অপর্যাপ্ত পরিমাণে। তার নিদারুণ গন্ধে ঘর ভরে উঠেছে। গায়ের জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবিটির বুক পকেটে বাঘ-আঁকা রুমালের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। উত্তরীয় নেই। পরনে বিলেতি মিলের কালাে মকমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়ি। পায়ে সবুজ রং-এর ফুলমােজা। হাঁটুর ওপরে লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা। বার্নিস করা পাম্প শু। এর তলাটা মজবুত ও টেকসই করার জন্য আগাগােড়া লােহার নাল দিয়ে বাঁধানাে। হাতে একগাছি হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি। দিন কয়েকের জাহাজের ধকলে সবকিছুই নােংরা হয়ে উঠেছে।

 

প্রশ্ন ) পােলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে ‘ নিমাইবাবুর সম্মুখে হাজির করা হইল।”—‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশে সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে কী জানা যায়? তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়? 

 

উত্তর :অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রের পথের দাবী’পাঠ্যাংশে সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে জানা যায় যে গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশে তিনি রেঙ্গুনে উপস্থিত হয়েছেন সাধারণ শ্রমজীবী হিসেবে। পুলিশস্টেশনে বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে গিরীশ মহাপাত্রকে পুলিশের বড়ােকর্তা নিমাইবাবুর সামনে উপস্থিত করা হয়। শীর্ণ ও অত্যন্ত দুর্বল মানুষটির বিচিত্র পােশাক ও উপস্থিতি এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করে। গিরীশ মহাপাত্রের মাথার সামনের দিকে রয়েছে বড়াে চুল, ঘাড় ও কানের দিকের চুল ছােটো করে ছাঁটা। মাথায় চেরা সিথি ও সেখান থেকে লেবুর তেলের উৎকট গন্ধ অভূতপূর্ব এক পরিবেশ তৈরি করে। পরিধানে রয়েছে জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি। এ ছাড়া বিলাতি মিলের কালাে মখমলের সূক্ষ্ম শাড়ি, সবুজ মােজা, বার্নিশ করা পাম্প-শু চরিত্রটিকে বিচিত্র করে। নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রের হাতে গঞ্জিকা সেবনের নিদর্শন দেখলেও সে অবলীলায় গাঁজা খাওয়ার কথা অস্বীকার করে। বুদ্ধিদীপ্ত উজ্জ্বল চোখের অধিকারী বছর তিরিশ-বত্রিশের শীর্ণ গিরীশ মহাপাত্রের মাথা থেকে নির্গত লেবুর তেলের উৎকট গন্ধে পুলিশ কর্মীদের মাথা ধরে যায়।

 

ফিরিঙ্গিদের বর্ণবিদ্বেষী মনােভাবের শিকার হয়ে বড়ো লাতি, অপমানিত হয়েছিলেন। কতকগুলি ফিরিঙ্গি ছেলে বিনা দোষে তাকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল অপুর্ব এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে ছুটে গিয়েছিলেন স্টেশন মাস্টারের কাছে। স্টেশন মাস্টার তার প্রতি ঘটা অপরাধের গুরুত্ব বিচার না করে বর্ণবিদ্বেষী মনােভাবের পরিচয় দেন। দেশি লােক হয়েও অপূর্ব ফিরিঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন, এটাকে সহ্য করতে না পেরে তিনি তাকে কুকুরের মতাে দূর করে দেন স্টেশন থেকে। এই ঘটনার কথাই বলা হয়েছে।

 

ঘটনাটি অপূর্ব রামদাসকে আগে বলেননি। বলা সহজও নয়। এ ঘটনা যেমন দুঃখজনক তেমনি অপমানকর ও লজ্জাকর। অপূর্বের লজ্জা আরও বেড়ে গেছে স্টেশনে উপস্থিত অন্যান্য হিন্দুস্থানিদের মনােভাব জেনে। এই অপমানটা কারও গায়ে লাগেনি। অপমান সহ্য করা তাদের অভ্যাস হয়ে গেছে। ফিরিঙ্গি ছেলেদের লাথির চোটে অপূর্বের হাড়-পাঁজরা ভেঙে যায় নিশুনেই তারা খুশি হয়েছিল। ঘটনা মনে হলে অপূর্ব নিজেই মাটির সঙ্গে মিশে যান। তাই রামদাসকে বলেননি।

পথের দাবী প্ৰশ্ন উত্তর:

পথের দাবী উপন্যাস প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন ) এই জানােয়ারটিকেওয়াচ করবার দরকার নেই বড়ােবাবু।—কার উক্তি? এই উক্তির কারণ কী? 

 

উত্তর : অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত। “পথের দাবী’গদ্যাংশ থেকে সংগৃহীত আলােচ্য উক্তিটির বক্তা পুলিশ কর্মচারী জগদীশবাবু।

 

পুলিশ ইনস্পেকটর নিমাইবাবু, জগদীশবাবু তথা গােটা পুলিশ বাহিনী বিপ্লবী, ‘পােলিটিক্যাল সাসপেক্ট’ সব্যসাচী মল্লিকের গতিবিধি নজর রাখতে ও গ্রেফতার করতে রেগুনে এসেছেন। সে ক্ষেত্রে চেহারা, চরিত্র বৈশিষ্ট্য এবং রুচি-মর্জিগত দিক থেকে সব্যসাচীর সঙ্গে সামান্য হলেও সাদৃশ্যযুক্ত বক্তিকে ‘ওয়াচ’ করা তাদের কর্তব্য। অন্যথায় পণ্ডশ্রম করে লাভ নেই। বর্মা অয়েল কোম্পানির তেলের খনির কারখানার মিস্ত্রি গিরীশ মহাপাত্রকে সবচেয়ে সন্দিগ্ধ ব্যক্তি মনে করা হলেও তাঁর সাজ-পােশাক, রুচি-মর্জি, মূখতাসুলভ মিথ্যে বলার প্রবণতা যেমন হাস্যকর তেমনি বিরক্তিকর। সাজপােশাকে সৌখিনতার পরিচয় দিতে গিয়ে গিরীশ মহাপাত্র বিচিত্র বুদ্ধিসম্পন্ন, অদ্ভুত ধরনের এক হাস্যকর চরিত্র হয়ে উঠেছেন। তার মাথার সামনের দিকে বড়াে বড়াে চুল, ঘাড় ও কানের দিকে নেই বললেই চলে। চেরা সিথি, রুণ কঠিন চুলে প্রচুর লেবুর সুগন্ধযুক্ত তেল ঢেলেছেন। গায়ে তাঁর জাপানি সিল্কের রামধনু রং-এর চুড়িদার পাঞ্জাবি, যার বুকপকেটে একটি বাঘ-আঁকা রুনাল। পায়ে সবুজ রং-এর ফুলমােজা, হাঁটুর ওপর লাল ফিতে দিয়ে বাধা। আগাগােড়া লােহার নাল বাঁধানাে বার্নিশ করা পাম্প শু।

অদ্ভুতদর্শন এই মানুষটির পকেটে গাঁজার কলকে, হাতে গাঁজা বানানাের চিহ্ন, শরীরটাও গাজাখােরদের মতাে। অথচ বারবার ।

 

জিজ্ঞাসার উত্তরে সে গাঁজা খাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। অন্যকে সেজে দেওয়ার জন্যই গাঁজার কলকেটা সে সঙ্গে রেখেছে। গিরীশ মহাপাত্রের এ হেন বিচিত্র সৌখিনতার, অদ্ভুত মিথ্যে বলার প্রবণতায় এবং মাথায় লেবুর গন্ধযুক্ত তেলের উগ্রতায় পুলিশ কর্মচারী জগদীশবাবু প্রশ্নোপ্ত মন্তব্যটি করেন।

 

পথের দাবী উপন্যাসের অপূর্ব চরিত্র

পথের দাবী প্ৰশ্ন উত্তর:

প্রশ্ন ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের দাবী’ গদ্যাংশে অবলম্বনে অপূর্ব চরিত্র বিশ্লেষণ করাে।

 

উত্তর : বাংলা কথাসাহিত্যের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অসা চরিত্র-চিত্ৰন দক্ষতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অপূর্ব। তিনিই আলােচ্য রচনাংশের মুখ্য তথা কেন্দ্রীয় চরিত্র। গদ্যাংশে বর্ণিত কর্মোপলক্ষে রেঙ্গুনে আগত শিক্ষিত বাঙালি যুবক অপূর্বের মধ্যে কতকগুলি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।

 

পরাধীন ভারতবর্ষের স্বদেশপ্রাণ বাঙালি যুবকদের মধ্যে অপূর্বও অন্যতম। পরাধীনতার যন্ত্রণা তাকেও কুরে কুরে খায়। একসময় তিনি স্বদেশি আন্দোলনেও যােগ দিয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি তার আন্তরিক শ্রদ্ধা-ভক্তি স্বদেশপ্রাণ হৃদয়টিকে উজ্জ্বল করে তােলে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর পূর্ব পরিচিত আত্মীয় ও পিতার বন্ধু পুলিশ ইন্সপেক্টর নিমাইবাবুর চেয়ে নিতান্ত অপরিচিত, অনাত্মীয় বিপ্লবী সব্যসাচীকে তিনি অনেক বেশি আপন বলে মনে করেন।

 

 অপূর্ব বর্ণবিদ্বেষী মনােভাবকে ঘৃণা করেন। শ্বেতাঙ্গ শাসক তিনি ভুলতে পারেন না বিনা কারণে ফিরিঙ্গি ছেলেদের লাঞ্ছিত হওয়ার কথা, স্টেশন-মাস্টারের বর্ণবিদ্বেষী মনােভাবের কথা। নিজেকে ভীরু বলে মেনে নিয়েও তিনি হিন্দুস্থানী লােকের অপমান সহ্য করার মনােবৃত্তিকে সহ্য করতে পারেন না। ব্রিটিশ বিরােধীতার ক্ষেত্রে তিনি কখনাে-কখনাে স্থান-কাল ভুলে যান।

 

প্রতিবাদী মানসিকতার জন্যই অপূর্ব শ্বেতাঙ্গদের ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, ফিরিঙ্গি ছেলেদের অন্যায়-আচরণের বিরুদ্ধে তিনি সােচ্চার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ভামাে নগরে ট্রেন যােগে যাত্রার সময় ট্রেনে পুলিশ অন্যায়ভাবে বারবার তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটালে তিনি তারও প্রতিবাদ করেছিলেন।

 

অপূর্বের চরিত্রের আর যে এক বৈশিষ্ট্য সমুজ্জ্বল হয়ে ওঠে—তা হলাে তার সৌজন্য ও কৃতজ্ঞতাবােধ। অপূর্ব ব্রিটিশ বিদ্বেষী, ব্রিটিশ স্বার্থরক্ষায় নিয়ােজিত এ দেশের প্রশাসনিক পদে আসীন মানুষের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট নন। কিন্তু তার জন্য সৌজন্যবােধটা বিসর্জন তিনি দেন। বাঙালি পুলিশ কর্মচারী নিমাইবাবুকে তিনি সম্মান দিয়েই কথা বলেছেন। আবার এক ক্রিশ্চান মেয়ে চোরের হাত থেকে তার ঘরের  জিনিসপত্র রক্ষা করায় তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করতে ভােলেননি।

 

আসলে পরাধীন ভারতবর্ষের শিক্ষিত, মার্জিত জাতীয়তাবােধসম্পন্ন বাঙালি যুবক শ্রেণির প্রতিনিধি বলা যায় অপূর্বকে। তার বুদ্ধিদীপ্তি, রসবােধ, নিয়মনিষ্ঠা প্রশংসনীয়।

 

পথের দাবী উপন্যাসের গিরীশ মহাপাত্র চরিত্র

পথের দাবী প্ৰশ্ন উত্তর:

প্রশ্ন ।।  গিরীশ মহাপাত্র চরিত্রটি এই রচনাংশে কতটা বাস্তবসম্মত হয়েছে আলােচনা করো।

 

উওর: অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের দাবী’ উপন্যাসের অন্তর্গত ‘পথের দাবী’ রচনাংশে বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিকের কথা পাই। অত্যন্ত সাধারণ চেহারার অধিকারী সব্যসাচী বিদেশি শিক্ষার পাশাপাশি একাধিক ভাষায় সমান পারদর্শী। এদেশে থেকে ব্রিটিশ রাজশক্তিকে উৎখাত করতে চাওয়া বিপ্লবী সব্যসাচী রেগুন এসেছেন শুনে দারােগা নিমাইবাবু অতি সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

 

 রেঙ্গুন পুলিশ-স্টেশনে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সন্দেহ করা সব্যসাচীকে তিনি নানা জিজ্ঞাসাবাদ করেও তাকে ধরতে পারেন । সব্যসাচী তাঁর অতি সাধারণ চেহারা ও পােশাক নিয়ে নিজেকে গিরীশ মহাপাত্র বলে অভিহিত করে সহজেই পুলিশের সতর্ক দৃষ্টিকে ফাকি দেন।

 

রুগ্ণ শরীরে বিপুল কাশির আমদানি করে প্রথমেই এক প্রচ্ছন্ন সহানুভূতি তিনি পুলিশের কাছ থেকে পেতে সক্রিয় হন। তেলের খনির সাধারণ শ্রমিকের আড়ালে বহু বিদেশি উপাধির অধিকারী মানুষটির দীন বেশও তাকে সহজেই সন্দেহমুক্ত হতে সাহায্য করে। তাঁর অতি বিচিত্র বেশবাস কৌতুক ও বিরক্তিও আনে পুলিশকর্মীদের মনে। মাথায় ব্যবহার করা উৎকট নেবুর তেলের গন্ধে অতিষ্ট হয়ে পুলিশকর্মীদের জগদীশবাবু তাই বলেছিলেন, “নেবুর তেলের গন্ধে গােটা থানাশুদ্ধ লােকের মাথা ধরিয়ে দিলে!”

 

দেহ তল্লাশির পর একটি টাকা, ছ-গন্ডা পয়সা, লােহার কম্পাস, ফুটরুলের পাশাপাশি কয়েকটি বিড়ি, একটা দেশলাইও একটা গাঁজার কলকে পাওয়া যায়। বস্তুত এ ধরনের জিনিস কখনােই উচ্চশিক্ষিত বিপ্লবী সব্যসাচীর সঙ্গে মেলে না। থানাতে বিসদৃশ পােশাক পরা গিরীশ মহাপাত্রকে দেখে অপূর্ব উদ্দেশ্যপ্রণােদিত হয়ে তার সব্যসাচী হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে নিমাইবাবুকে বলেছিলেন, “যাঁকে খুঁজছেন তার কালচরের কথাটা একবার ভেবে দেখুন।

 

গিরীশ মহাপাত্রের ভূমিকায় সব্যসাচীর নিখুঁত অভিনয়  পুলিশকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তাই গিরীশকে ঘটনাসূত্রে গঞ্জিকাসেবী মনে করে প্রবীণ দারােগার উপদেশে স্নেহের ছোঁয়া পাওয়া যায়, কিন্তু কদিনই বা বাঁচবে—এই তাে তােমার দেহ,- আর খেয়াে না।”

 

অসাধারণ বুদ্ধিমান সব্যসাচী তাই গিরীশ মহাপাত্রের আড়ালে সহজেই সন্দেহাতীত হন। দারােগা নিমাইবাবু যখন গিরীশকে যেতে বলেন তখন পুলিশকর্মী জগদীশবাবুর কথায় সব্যসাচীর নিখুঁত অভিনয়ই যথার্থ রূপ পায়— এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই বড়বাবু।

 

গিরিশ মহাপত্রের মধ্য দিয়ে রচনাটিতে সব্যসাচীর অসাধারণ উপস্থিতি তাই একেবারে বাস্তবসম্মত।

 

পথের দাবী সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

 

প্রশ্ন ।। ‘তুমি তাে ইউরােপিয়ান নও-বক্তা কে? তার এই উক্তির কারণ কী?

 

উত্তর : ‘পথের দাবী’ রচনাংশ থেকে উদ্ধৃত এই অংশটির বা হলেন বর্মা সাব-ইনস্পেকটর সাহেব।

 

প্রথম শ্রেণির যাত্রী হিসেবে ভামাে নগরে যাত্রাকালে অপূর্ব আশা করেছিলেন যে, প্রভাতকাল পর্যন্ত তার আর নিদ্রার ব্যাঘাত ঘটবে না। কিন্তু কয়েকটা স্টেশন পরেই সেই রাতের মধ্যে বার তিনেক তার ঘুম ভাঙিয়ে পুলিশের লােক তার নাম-ধাম ও ঠিকানা লিখে নিয়েছেন। প্রথম শ্রেণির যাত্রী হিসেবে প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় অপূর্ব বিরক্ত হয়েছিলেন। পুলিশের এই ধরনের আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। কালাে চামড়ার দেশি লােকের এই ন্যায্য দাবিটিও সহ্য হয়নি শ্বেতাঙ্গ পুলিশ ইনস্পেকটরের তাই তিনি এই উক্তি করেন।

পথের দাবী প্ৰশ্ন উত্তর:

প্রশ্ন ।।  “বাবাই একদিন এঁর চাকরি করে দিয়েছিলেন। —বক্তা কে? তার বাবা কাকে কী চাকরি করে দিয়েছিলেন? 

 

উত্তর : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী’ গদ্যাংশ থেকে নেওয়া প্রশ্নোধৃতিটির বক্তা অপূর্ব হালদার।

 

বাঙালি পুলিশ অফিসার নিমাইবাবু বক্তা অপূর্বর বাবার বন্ধু। তাঁর বাবাই তাকে পুলিশের চাকরি দিয়েছিলেন। রেঙ্গুন পুলিশ পােলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে ধরতে গিয়ে ইরাবতির জাহাজঘাট থেকে যাদের ধরে আনে, তাদের মধ্যে একজনকে সন্দেহ হলেও বাঙালি পুলিশ অফিসার নিমাইবাবুর মতাে ব্যক্তিদের মনে হয়, যাকে তারা খুঁজছেন উক্ত ব্যক্তি তিনি নন, তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরূপ ঘটনায় অপূর্বমনে করে যে, সরকার নিমাইবাবুর মতাে পুলিশের বড়াে কর্তাদের জন্য কতটাই না ব্যয় করছে, অথচ সঠিক কাজ তারা করতে পারছে না। এই প্রসঙ্গেই অপূর্ব জানান । যে, তার বাবাই নিমাইবাবুকে পুলিশের চাকরি করে দিয়েছিলেন। আসলে নিমাইবাবুর মতাে পুলিশকর্তাদের এই ব্যর্থতার জন্য।  অপূর্ব লজ্জিত বলে জানান।

 

প্রশ্নঃ।। “পােলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে নিমাইবাবুর সম্মুখে হাজির করা হইল।’ –কেন হাজির করা হলাে?

 

উত্তর : বাঙালি পুলিশ ইনস্পেকটর নিমাইবাবু বার্মায় ছুটে এসেছেন বাঙালি বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে গ্রেফতার করতে। এই উদ্দেশ্যেই কয়েকজন সন্দেহভাজন বাঙালিকে জাহাজঘাট থেকে ধরে এনেছেন। এরা সবাই বার্মা অয়েল কোম্পানির তেলের খনির কারখানায় মিস্ত্রির কাজ করত। এদের মধ্যে সবচেয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিটিকে একটি আলাদা ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। ইনিই পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক। নাম গিরীশ মহাপাত্র। নিমাইবাবু তাকে নানান জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার চরিত্র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে চান ইনি ছদ্মবেশী বিপ্লবী সব্যসাচী কি না, তাকে তার সামনে হাজির করা হয়।

 

প্রশ্নঃ।। ‘সহসা আশঙ্কা হয় সংসারের মিয়াদ বােধকরি বেশি দিন নাই।’—কার সম্পর্কে, কেন এই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে? 

 

উত্তর : ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশ থেকে উদ্ধৃত গিরীশ মহাপাত্র সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে।

 

বয়স ত্রিশ-বত্রিশের গিরীশ মহাপাত্র ছিলেন যেমন রােগা তেমনি দুর্বল। তার ফরসা শরীর রােদে পুড়ে তামাটে হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়ােজনে নিমাইবাবুর সামনে দাঁড়ানাের সময় তিনি কাশতে কাশতে আসেন। সামান্য কাশির পরিশ্রমেই তিনি হাঁপাতে শুরু করেন। তাঁর হাঁপ-ধরা, ব্যাধিগ্রস্ত দুর্বল শরীরের দিকে তাকিয়ে সহজেই বােঝা যায় দুরারােগ্য কোনাে রােগে শরীরটা তার দ্রুত ক্ষয়ের দিকে ছুটে যাচ্ছে। তার মৃত্যু আসন্ন। তাই এই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে।

 

প্রশ্ন ।। ‘কেবল এই জন্যেই যেন সে আজও বাঁচিয়া আছে’-কে, কীসের জন্য বেঁচে আছে? 

 

উত্তর : গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশধারী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে এই মন্তব্য করা হয়েছে।

 

গিরীশ মহাপাত্রের রােগা মুখের অদ্ভুত চোখ দুটির দৃষ্টি আশ্চর্যজনক। চোখ দুটি টানা কি গােল, দীপ্ত কি প্রভাহীন সেটা তাে কথা নয়। চোখ দুটিতে আছে গভীর জলাশয়ের গাম্ভীর্য এবং নেতা। একবার তাকালেই মনে হয় এখানে খেলা চলবে না। বধানে দূরে সঁড়ানােই ভালাে। এই গভীর দৃষ্টির অতলতলে তার ক্ষীণ প্রাণশক্তিটুকু লুকিয়ে আছে। সেখানে মৃত্যুও প্রবেশ করতে বহন পায় না। তাই তিনি বেঁচে আছেন।

 

প্রশ্ন ।। ‘বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষােলাে আনাই বজায় আছে’-বাবুটির সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্যের কারণ কী?

 

উত্তর : বাবুটি বলতে এখানে ‘পথের দাবী’ রচনাংশের গিরীশ মহাপাত্রের কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যের দিক থেকে গিরীশ মহাপাত্র যেমন রােগা তেমনি দুর্বল। কিন্তু গায়ে তার জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি। পরনে বিলেতি মিলের কালাে মখমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়ি। পকেটে বাঘ-আঁকা রুমাল। পায়ে সবুজ রঙের ফুল মােজা—হাঁটুর ওপর লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা। বার্নিশ করা পাম্প শু। হাতে হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া একগাছি বেতের ছড়ি। বিশেষভাবে ছাঁট দেওয়া মাথার চুলে অপর্যাপ্ত লেবুর তেল। সাজের এই বাহার দেখে এই মন্তব্য।

 

প্রশ্ন ।। ‘মনে হলে দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যাই’—কোন ঘটনা মনে হলে বক্তার এই প্রতিক্রিয়া হয়?

 

উত্তর : অপূর্ব একবার রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে নিদারুণভাবে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন। একেবারে বিনা দোষে কতকগুলি ফিরিঙ্গি ছেলে তাকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দেয়। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে স্টেশন মাস্টারের কাছে গেলে শুধুমাত্র দেশি হওয়ার অপরাধে তিনি অপূর্বকে কুকুরের মতাে তাড়িয়ে দেন। বিদেশি শ্বেতাঙ্গদের হাতে স্বদেশবাসীর এই অপমান স্টেশনে উপস্থিত হিন্দুস্থানিদের মনে কোনাে রেখাপাত করেনি। বরং লাথিতে অপূর্বের হাড়-পাঁজরা ভেঙে যায়নি শুনে তারা খুশি হয়েছিল। জাতীয়তাবােধ শূন্য, আত্মমর্যাদাহীন স্বদেশবাসীর এই নিবীর্য দাসত্বসুলভ মনােভাবের কথা মনে হলে অপূর্বের এই প্রতিক্রিয়া হয়।

 


পথের দাবী দশম শ্রেণী

 

প্রশ্ন ।।  “আমি ভীরু কিন্তু তাই বলে অবিচারের দণ্ডভােগ করার অপমান আমাকে কম বাজে না।”-বক্তা কাকে একথা বলেছিলেন? কোন্ অবিচারের দণ্ডভােগ তাকে ব্যথিত করেছিল? 

 

উত্তর : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের দাবী’ রচনাংশ থেকে গৃহীত এই অংশের বক্তা অপূর্ব রামদাস তলওয়ারকরকে এ কথা বলেছেন।

 

বিনা দোষে ফিরিঙ্গি ছেলেরা একবার অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে অপূর্ব স্টেশন মাস্টারের কাছে গিয়েছিলেন। স্টেশন মাস্টার তার অভিযােগের গুরুত্ব বিচার না করে শুধুমাত্র দেশি লােক হওয়ার অপরাধে স্টেশন থেকে তাঁকে কুকুরের মতাে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। উন্নাসিক শ্বেতাঙ্গ ইংরেজদের জাতি-বিদ্বেষজনিত এই অবিচারের দণ্ডভােগ ব্যথিত করেছিল অপূর্বকে।

 

প্রশ্ন।।  “হঠাৎ হাসির ছটায় যেন দম আটকাইবার উপক্রম হইল।”-কার এরকম হয়েছিল? কে হয়েছিল? 

 

উত্তর : শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী’ রচনাংশে এরকম অবস্থা হয়েছিল অপূর্বের।

 

ভাড়াবাড়িতে চুরি হলে সে কথা পুলিশস্টেশনে জানাতে গিয়ে অপূর্ব যে বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখােমুখি হয়েছিল সে কথা মনে পড়ায় তার হাসি আর বাঁধ মানে না। পুলিশের লােকেরা যে গিরীশ মহাপাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল তার অদ্ভুত পােশাক, গাঁজার কলকে রাখার কারণ জেনে অপূর্বের হাসি সীমাহীন হয়। সব্যসাচী ওরফে গিরীশ মহাপাত্র কেমন করে পুলিশকে নির্বোধ করে তার বিপ্লবী সত্তাকে গুপ্ত রেখে নিষ্কৃতি পায় সে কথা ভেবেই অপূর্বের প্রবল হাসি পায়।

 

প্রশ্ন।।) বুনাে হাঁসের পিছনে ছুটোছুটি করে টাকা অপব্যয় করলে এরা–এরা’ বলতে কারা? প্রসঙ্গটি ব্যাখ্যা করাে। 

 

উত্তর : এরা’ বলতে ইংরেজ শাসকদের বিশ্বস্ত পুলিশবাহিনীর কথা বলা হয়েছে।

 

বিপ্লবী সত্তাকে সঙ্গী করা তরুণ সব্যসাচী ক্রমশই ব্রিটিশ রাজশক্তির কাছে ভীতিপ্রদ হয়ে উঠেছিলেন। রেঙগুন পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অক্লেশে নিজেকে গিরীশ মহাপাত্র বলে অভিহিত করেন। সাধারণ চেহারা ও পােশাকের সব্যসাচী কেমন শক্তিশালী ব্রিটিশ পুলিশকে নাস্তানুবাদ করেন সে কথা অপূর্ব রামদাসকে সকৌতুকে বিবৃত করেন। বুনাে হাঁস যেমন ইচ্ছেমতাে জায়গায় উড়ে যায়, তেমনই সব্যসাচীও সরকারি ২ টাকায় পুষ্ট পুলিশকে বােকা বানিয়ে নিজের ইচ্ছেমতাে জায়গায় যেতে পারেন।

 

পথের দাবী ছোট প্ৰশ্ন উত্তর

 

প্রশ্ন ) “প্রভেদের মধ্যে এখন কেবল”—প্রভেদটা কী?

 

উত্তর : পুরােনাে পরিচ্ছদ পরলেও গিরীশ মহাপাত্র বাঘ আঁকা রুমালকে বুক পকেটের বদলে এখন কণ্ঠে জড়িয়েছে।

 

প্রশ্ন ) গিরীশ মহাপাত্র নিজের সম্পর্কে অপূর্বের কাছে কী বলেছিল?

 

উত্তর : অপূর্বের কাছে নিজেকে ধর্মভীরু লােক বলে গিরীশ মহাপাত্র অভিহিত করেছিল।

 

প্রশ্ন ) অপূর্বের প্রতিবাদে পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর কী বলেছিল?

 

উত্তর : নৈশ ট্রেন যাত্রায় প্রথম শ্রেণির যাত্রী অপূর্ব পুলিশের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করলে সাব-ইনস্পেকটর জানান অপূর্ব ইউরােপীয় নয় বলে এ আচরণ স্বাভাবিক।

 

প্রশ্ন ) ‘মনে হলে দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যাই।’—কোন্ কথা মনে করে অপূর্বে এই মনােবেদনা?

 

উত্তর : রেগুন রেলস্টেশনে ফিরিঙ্গি যুবকদের দ্বারা অন্যায়ভাবে নিগৃহীত অপূর্বের হাড়-পাঁজরা ভাঙেনি বলে অন্য সাক্ষীরা খুশি হলে অপমানের তীব্রতায় অপূর্বের এই মনােবেদনা সৃষ্টি হয়।

 

প্রশ্ন ) “তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন?”-কোন্ বস্তুটি পকেটে ছিল? 

 

উত্তর : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী গদ্যাংশ থেকে নেওয়া আলােচ্য উদ্ধৃতিটিতে বস্তুটি’হলাে খানাতল্লাশি করতে গিয়ে গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে পাওয়া গাঁজার কলকেটি।

 

প্রশ্নঃ।। ট্রেনে কে কে সঙ্গী হয়েছিল অপূর্বের?

 

উত্তর : ভামাে যাত্রায় ট্রেনে অপূর্বের সঙ্গে আরদালি এক অপিসের একজন হিন্দুস্থানী ব্রাত্মণ পিয়াদা সঙ্গী হয়েছিল।

 

প্রশ্নঃ।। গিরীশ মহগাত্রের চোখের দৃষ্টি কেমন ছিল?

 

উমর: ত্রিশ-বত্রিশ বছর বয়সি অত্যন্ত কৃশ গিরীশ মহাপাত্রের চোখের দৃষ্টি ছিল গভীর জলাশয়ের মতাে।

 

প্রশ্নঃ।।  গিরীশ মহপাত্রের মাথার চুলের বর্ণনা দাও।

 

উত্তর : গিরীশ মহপাত্রের মাথার সামনের দিকে বড়াে চুল থাকলেও ছােটো করে কাটার কারণে কান ও ঘাড়ের দিকে বিরল কেশ ছিল।

 

প্রশ্নঃ) গিরীশ মহপাত্রের পােশাকের কীরকম বর্ণনা আছে?

 

উত্তর : গিরীশ মহাপাত্রের পরিধেয় জাপানি সিল্কের রামধনু রং-এর চুড়িদার পাঞ্জাবির বুক থেকে বাঘ-আঁকা একটি রুমালের কিছু অংশ দেখা যায়।

 

প্রশ্নঃ।। পুলিশ গিরীশ মহা পাত্রের কাছ থেকে কি পেয়েছিল?

 

উত্তর : গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাক থেকে একটা টাকা ও ছ-গন্ডা পয়সা, পকেট থেকে লােহার কম্পাস,কাঠের ফুটরুল, কয়েকটি বিড়ি, একটা দেশলাই ও একটা গাঁজার কলকে পুলিশ পেয়েছিল।

 

প্রশ্নঃ।।  পকেটে গাঁজার কলকে থাকার কারণ হিসেবে গিরীশ মহাপাত্র কী বলেছিল?

 

উত্তর : নিজে না খেলেও কুড়িয়ে পাওয়া কলকে অন্যের জন্য পকেটে রেখেছে বলে গিরীশ বলেছিল।

 

প্রশ্নঃ।। রামদাসের স্ত্রী অপূর্বকে কী অনুরােধ করেছিল?

 

উত্তর : রেঙ্গুনপ্রবাসী অপূর্বকে রামদাসের স্ত্রী অনুরােধ ছিল না কিংবা পরিজন না আসা পর্যন্ত তার কাছে আহার্য

 

প্রশ্নঃ।।  ক্রিশ্চান মেয়েটি সম্পর্কে অপূর্ব কী বলেছিল?

 

উঃ। : চোর তাড়িয়ে দরজায় তালা দেওয়া ক্রিশ্চান মেয়েটির নতা একজন অ্যাকাউন্ট্যান্টেরও বিস্ময় তৈরি করবে বলে অপূর্ব বলেছিল।

 

প্রশ্নঃ ।। ‘পুলিশকে ‘নির্বোধ আহম্মক’ কে বানিয়েছিল বলে অপূর্ব মনে করে?

 

 উত্তর : ব্রিটিশ পুলিশকে ‘নির্বোধ আহম্মক’ বানিয়েছিল বিপ্লবী সব্যসাচী ওরফে গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশ।

 

প্রশ্ন ) ‘আমার বড়াে লজ্জা’–‘লজ্জাটা কী?

 

উত্তর : আমার’ অর্থাৎ অপূর্বের লজ্জা হলাে একটি পুলিশস্টেশনের কর্তা ইংরেজ চাটুকার নিমাইবাবু তার আত্মীয় ও তার বাবাই এনার চাকরির ব্যবস্থা করেছিলেন বলে।

 

প্রশ্নঃ।। ‘আমার দেশের চেয়ে তাে আপনার নন।’- কে বক্তার আপনার নন? 

 

উত্তর : ব্রিটিশভক্ত পুলিশ অফিসার নিমাইবাবু পিতৃতুল্য হলেও অপূর্বের দেশের চেয়ে আপনজন নন।

 

প্রশ্নঃ) স্টেশনে অপূর্বের কী দুঃখজনক অভিজ্ঞতা হয়েছিল? 

 

উওর : প্ল্যাটফর্মে ফিরিঙ্গি যুবকদের লাথি খাওয়ার দুঃখজনক অভিজ্ঞতা নিরপরাধ অপূর্বের হয়েছিল।

 

প্রশ্ন) “এমন তাে নিত্য-নিয়তই ঘটচে।”—কী ঘটছে?

 

উত্তর : পরাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য শ্বেতাঙ্গদের অত্যাচার সবসময় ঘটছে বলে অপূর্ব মনে করে।

 

প্রশ্ন ।। “তাহার দুই চোখ ছলছল করিয়া আসিল।” —কেন ‘তাহার’ এরকম হয়েছিল?

 

উত্তর : বিনা দোষে ফিরিঙ্গি যুবকদের কাছে অপূর্বের প্রহৃত হওয়ার কথা শুনে তাহার’অর্থাৎ, রামদাসের চোখ ছলছল করেছিল।

 

প্রশ্ন ) বড়াে সাহেব কোন্ কোন্ অফিসে গন্ডগােলের কথা অপূর্বকে বলেন?

 

উওর : ভামাের অফিসের পাশাপাশি ম্যান্ডালে, শােবাে, মিথিলা, প্রেম ইত্যাদি অফিসে গন্ডগােলের কথা বড়াে সাহেব অপূর্বকে বলেন।

 

প্রশ্নঃ।। অতএব যাওয়াই স্থির হইল।” -কী স্থির  হয়েছিল?

 

উত্তর : বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকা ভামাের অফিসে যাওয়া স্থির করেছিল অপূর্ব।

 

প্রশ্ন ) ‘কেবল এই জন্যই যেন সে আজও বাঁচিয়া আছে।’-কীসের জন্য?

 

উত্তর : গিরীশ মহাপাত্রের অত্যন্ত গভীর জলাশয়ের মতাে চোখ দুটির অতল তলে তার প্রাণশক্তি লুকিয়ে থাকায় মৃত্যু সেখানে প্রবেশ করতে পারে না, তাই সে আজও বেঁচে আছে।

 

প্রশ্ন ।।  নিমাইবাবু রাতের মেল ট্রেনটার প্রতি নজর রাখতে বলেছেন কেন?

 

উত্তর : পুলিশ ইন্সপেক্টর নিমাইবাবু খবর পেয়েছেন বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক বর্মায় এসেছেন, তাঁকে গ্রেফতার করতেই তার বর্মায় আসা। গিরীশ মহাপাত্রকে ছেড়ে দেওয়ার পর তাই রাতের মেল ট্রেনটার দিকে নজর রাখতে বলেছেন।

 

প্রশ্ন ) ‘এ লােকটিকে আপনি কোনাে কথা জিজ্ঞেস না করেই ছেড়ে দিন,’—কেন এমন উক্তি?

 

উত্তর : উল্লিখিত লােকটির চেহারা, বেশভূষার বাহার, পরিপাট্য ছিল হাস্যকর। উচ্চশিক্ষিত বীর বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক রূপে তাকে মােটেই সন্দেহ করা যায় না, তাই এমন উক্তি।

 

প্রশ্ন )‘দেখি তােমার ট্র্যাকে এবং পকেটে কী আছে? ট্র্যাকে ও পকেটে কী পাওয়া গেছে?

 

উত্তর : গিরীশ মহাপাত্রের টাক থেকে বেরিয়েছে একটি টাকা ও গন্ডা-ছয়েক পয়সা, পকেট থেকে বেরিয়েছে একটি লােহার কম্পাস, একটি কাঠের ফুটরুল, কয়েকটা বিড়ি, একটি দেশলাই এবং একটি গাঁজার কলকে।

 

প্রশ্নঃ।।‘একবার ভেবে দেখুন’-কী ভাবতে বলা হয়েছে?

 

উত্তর : পুলিশ ইন্সপেক্টর নিমাইবাবু যাকে খুঁজছেন সেই বিপ্লবী সব্যসাচীমল্লিকের সঙেগগিরীশমহাপাত্রের কালচারের অনেক প্রভেদ, এই কথাটা ভাবতে বলা হয়েছে।

 

প্রশ্নঃ ‘ক’দনই বা বাঁচবে!’—কেন এমন কথা বলা হয়েছে?

 

উত্তর : রােগা এবং দুর্বল গাঁজাখাের গিরীশ মহাপাত্র একটু কাশির এনেই হাপাতে থাকে, তার প্রতি করুণাবশত নিমাইবাবু তাঁর  নেশা ছাড়ানাের জন্য এ কথা বলেন।

 

প্রশ্নঃ । বড়াে মানুষের কথাটা শুনাে।’ –কোন্ কথা শুনতে বলা হয়েছে?

 

 রােগ ও দুর্বল, গাজাখাের গিরীশ মহাপাত্রের শরীরের কথা ভেবে, তাকে গাজা খেতে বারণ করে নিমাইবাবু বলেছেন আর খে তাে ‘ তার এই কথাটাই শুনতে বলেছেন।

 

পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর mcq

 

প্রশ্নঃ। ‘মিথ্যেবাদী কোথাকার!’—মিথ্যেবাদী বলার

 

উঃ।  গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে গাজার কলকে বেরিয়েছে, হতে তিল গাজা বানানোর চিহ্ন; তবুও সে গাজার নেশার কথা হাকার করেছে, তাই জগদীশবাবু তাকে মিথ্যেবাদী বলেছেন।

 

প্রশ্ন ) থানাসুদ্ধ লােকের মাথা ধরিয়ে দিলে!’ কীভাবে থানাসুদ্ধ লােকের মাথা ধরিয়ে দিয়েছিল?

 

উত্তর : পুলিশের চোখে ধুলাে দিতে বিপ্লবী সব্যসাচী তেলের খনির শ্রমিক গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশে মাথায় দিয়েছেন লেবুর তেল , সেই তেলের গন্ধে থানাসুদ্ধ লােকের মাথা ধরে গিয়েছিল।

 

প্রশ্ন ) ‘কীরূপ সদাশয় ব্যক্তি ইনি।’—এমন বলা হয়েছে কেন?

 

উত্তর : গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে একটি গাঁজার ককে পাওয়া গেলেও সে গাঁজা খায় না বলে জানিয়েছে, তবে ককে পকেটে রেখেছে অপরের প্রয়ােজনের কথা ভেবে। তার এই মিথ্যা কথাকে কটাক্ষ করে এমন কথা বলা হয়েছে।

 

প্রশ্ন ) এসব কথা বলার দুঃখ আছে।’—কোন্ কথা?

 

উত্তর : অপূর্ব বলেছেন, পুলিশ ইন্সপেক্টর নিমাইবাবু তাঁর আত্মীয় ও শুভাকাঙ্ক্ষী হলেও দেশমাতার চেয়ে আপন নন; তাই তাঁর কাছে নিমাইবাবুর চেয়ে বিপ্লবীরাই বেশি আপন—এসব কথা বলার দুঃখ আছে।

 

প্রশ্ন ) ‘আজ থেকে মাথায় তুলে নিলাম।-বক্তা কী মাথায় তুলে নিলেন?

 

– উত্তর : দেশবাসী মা-ভাই-বােনদের ব্রিটিশের সহস্র কোটি অত্যাচার থেকে যারা উদ্ধার করতে চায় তাদের আপন বলার মধ্যে যে দুঃখই থাক, বক্তা তা মাথায় তুলে নেন।

 

প্রশ্ন) ‘কৈ এ ঘটনা তাে আমাকে বলেন নি?’—কোন ঘটনা?

 

উত্তর : বিনা দোযে কতকগুলি ফিরিঙ্গি ছেলে একদিন অপূর্বকে প্ল্যাটফর্ম থেকে লাথি মেরে ফেলে দিলে স্টেশন মাস্টারের কাছে প্রতিবাদ জানিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন তিনি—এই ঘটনার কথা বলা হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *