রাজ্য আইনসভার গঠন ও কার্যাবলী বিধান পরিষদের গঠন বিধানসভার গঠন বিধানসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলী

 

রাজ্য আইনসভার গঠন ও কার্যাবলী বিধান পরিষদের গঠন বিধানসভার গঠন বিধানসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলী 

 

অঙ্গরাজ্যের আইন বিভাগ

 

প্রশ্ন ।  রাজ্য আইনসভার গঠন ও কার্যাবলী আলােচনা কর। 

 

 উত্তর : গঠন : ভারতবর্ষের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে একটি করে আইনসভা বা বিধানমণ্ডল আছে। ভারতের ২৫টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৬টিতে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা রয়েছে। রাজ্যগুলি হল বিহার, মহারাষ্ট্র, জম্মু ও কাশ্মীর, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু ও উত্তরপ্রদেশ। বাকি ১৯টিতে এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা রয়েছে। দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট রাজ্য আইনসভার উচ্চকক্ষের নাম বিধান পরিষদ এবং নিম্ন কক্ষের নাম বিধানসভা। রাজ্যপাল হলেন রাজ্য আইনসভার অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযােগ্য, ১৯৬৯ সালে পার্লামেন্টে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের আইনসভার উচ্চ কক্ষ অর্থাৎ বিধান পরিষদের বিলােপসাধন করা হয়। তখন থেকেই পশ্চিমবঙ্গের আইনসভা এককক্ষ বিশিষ্ট।

রাজ্য-আইনসভার-গঠন-ও-কার্যাবলী-বিধান-পরিষদের-গঠন-বিধানসভার-গঠন-বিধানসভার-ক্ষমতা-ও-কার্যাবলী

 

বিধান পরিষদের গঠন :

  সংবিধান অনুসারে বিধান পরিষদের সদস্য সংখ্যা ৪০-এর কম এবং বিধানসভার সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি হতে পারে না। বিধান পরিষদের মােট সদস্য সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য মিউনিসিপ্যালিটি, জেলা বাের্ড বা জেলা পরিষদ এবং অন্যান্য স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে নির্বাচিত হন, অপর একতৃতীয়াংশ নির্বাচিত হন বিধানসভার সদস্যগণ কর্তৃক একক হস্তান্তরযােগ্য সমানুপাতিক ভােটের ভিত্তিতে, এক-দ্বাদশাংশ শিক্ষকদের দ্বারা এবং অপর এক-দ্বাদশাংশ স্নাতকগণের দ্বারা নির্বাচিত হন। অবশিষ্ট সদস্যগণ রাজ্যপাল কর্তৃক মনােনীত হন। মনােনীত ব্যক্তিগণকে বিজ্ঞান, চারুকলা, সাহিত্য, সমাজসেবা ও সমবায় আন্দোলনে বিশেষজ্ঞ হতে হয়। 

 

বিধান পরিষদের সদস্যগণকে (ক) ভারতীয় নাগরিক হতে হবে, (খ) কমপক্ষে ৩০ বছর বয়স্ক হতে হবে, (গ) রাজ্যের বিধানসভার ভােটার তালিকাভুক্ত হতে হয়। এ ছাড়া, আদালত কর্তৃক বিকৃত-মস্তিষ্ক ও দেউলিয়া বলে ঘােষিত কোন ব্যক্তি কিংবা সরকারের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন এমন কেউ বিধান পরিষদের সদস্য হতে পারেন না।

 

বিধান পরিষদ একটি স্থায়ী কক্ষ। প্রতি দু’বছর অন্তর এর এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসর গ্রহণ করেন এবং সম সংখ্যক সদস্য তাদের স্থলাভিষিক্ত হন।

 

বিধান পরিষদের সদস্যগণ নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি এবং অপর একজনকে সহসভাপতি পদে নির্বাচিত করে থাকেন।

 

বিধানসভার গঠন : 

সংবিধান অনুসারে বিধানসভার সদস্যসংখ্যা ৬০ জনের কম অথবা ৫০০ জনের বেশি হতে পারে না। বিধানসভার সদস্য হতে হলে প্রার্থীকে কমপক্ষে ২৫ বছর বয়ষ্ক হতে হবে, ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং যে রাজ্যের বিধানসভার প্রার্থী হতে চান সেই রাজ্যের অধিবাসী হতে হবে। বিধানসভার সদস্যগণ সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভােটাধিকারের ভিত্তিতে জনগণ কর্তৃক প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত হন। সংবিধানের ৩৩৩ নং ধারা অনুযায়ী রাজ্যপাল যদি মনে করেন যে, ইঙ্গ-ভারতীয় সম্প্রদায়ের যথেষ্ট সংখ্যক প্রতিনিধি বিধানসভায় নেই, তা হলে ঐ সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে ১ জনকে তিনি বিধানসভায় মনােনয়ন করতে পারেন।

 

বিধানসভার কার্যকালের মেয়াদ ৫ বছর। তবে রাজ্যপাল প্রয়ােজন মনে করলে ৫ বছরের আগেই বিধানসভা ভেঙে দিতে পারেন। আবার জরুরী অবস্থার সময় পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করে রাজ্য বিধানসভাগুলির কার্যকালের মেয়াদ এক বছর করে বৃদ্ধি করতে পারে।

 

বিধানসভার সদস্যগণ নিজেদের মধ্য থেকে একজন অধ্যক্ষ (Speaker) এবং অপর একজনকে উপাধ্যক্ষ (Deputy speaker) পদে নির্বাচিত করেন।

 

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বর্তমানে ২৯৪ জন নির্বাচিত সদস্য আছেন। বছরে কমপক্ষে দু’বার বিধানসভার অধিবেশন আহ্বান করতে হয়।

 

বিধানসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলী :

 কেন্দ্রীয় আইনসভার ন্যায় রাজ্য আইনসভাকে আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ ছাড়াও অন্যান্য অনেক কাজ সম্পাদন করতে হয়। রাজ্য আইনসভার কাজগুলিকে নিম্নোক্ত কয়েকটি ভাগে ভাগ করে আলােচনা করা হল : :

 

(১) আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ : সংবিধানের সপ্তম তপশীলে বর্ণিত রাজ্য তালিকা ও যুগ্ম তালিকাভুক্ত বিষয়গুলিতে আইন প্রণয়ন করার অধিকার রয়েছে রাজ্য আইনসভাগুলির। তবে যুগ্ম তালিকাভুক্ত কোন বিষয়ে পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের সঙ্গে রাজ্য আইনসভা প্রণীত আইনের অসঙ্গতি দেখা দিলে, রাজ্য আইনের যে অংশটুকু কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সেই অংশটুকু বাতিল হয়ে যায়।

 

সংবিধান অনুসারে রাজ্য তালিকাভুক্ত বিষয়গুলিতে রাজ্য আইনসভা আইন প্রণয়ন করার অনন্য ক্ষমতা ভােগ করলেও, কয়েকটি ক্ষেত্রে পার্লামেন্ট রাজ্য তালিকাভুক্ত বিষয়ে আইন কায়ন করতে পারে। যেমন, (i) দেশে জরুরী অবস্থা বলবৎ থাকলে; (ii) কোন রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হলে; (iii) আন্তর্জাতিক সন্ধি বা চুক্তির শর্তাদি পালনের জন্য; (iv) দুই বা ততােধিক রাজ্যের অনুরােধক্রমে; (v) রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে হত প্রবক্রমে—পার্লামেন্ট রাজ্য তালিকাভুক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করার অধিকার পায়। এ ছাড়া হাইকোর্টের এক্তিয়ার ক্ষুন্ন হয় এমন বিষয়ে আইন করতে হলে রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি প্রয়োজন।

 

রাজ্য আইনসভায় গৃহীত বিলে রাজ্যপালের সম্মতি প্রয়ােজন। অর্থবিল ছাড়া যে কোন বিলকে রাজ্যপাল গ্রহণ নাও করতে পারেন, পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য আইনসভায় যে পাঠাতে পারেন অথবা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠাতে পারেন। পুনর্বিবেচনার জন্য প্রেরি বিলটি দ্বিতীয়বার পাশ হলে রাজ্যপাল তাতে সম্মতি দিতে বাধ্য।

 

(২) শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কাজ : সংবিধান অনুসারে মন্ত্রিপরিষদ যৌথভাবে বিধানসভার নিকট দায়িত্বশীল থাকতে হয়। বিধানসভায় মন্ত্রিপরিষদের বিরুত অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হলে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারী বিল অথবা বাজেট প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হ মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। এ ছাড়া প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, বাজেটের ওপর আলােচনা, F আকর্ষণী প্রস্তাব উত্থাপন, অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন, নিন্দাসূচক প্রস্তাব গ্রহণ ইত্যাদির মাধ্যমে বিধানসভা মন্ত্রিসভাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হয়। রাখতে হবে, অনাস্থা মাধ্যমে মন্ত্রিসভাকে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যতখানি তাত্ত্বিক ততখানি বাস্তব নয়। কা বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠিত হয় বলে, সাধারণ অব= বিধানসভায় অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও তা পাশ হয় না।

 

(3) অর্থ সংক্রান্ত কাজ : সংবিধানে বিধানসভার হস্তে সরকারের আয়-ব্যয় নিয়ন্ত্রত যথেষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিধানসভার অনুমােদন ব্যতীত সরকার কোন কর ধার্য, সংগ্রহ, সরকারী কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয় করতে পারে না। রাজ্য আইনসভা কঅনুমােদিত অর্থবিলে রাজ্যপাল সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন। এখানে মনে রাখতে হবে, সংক্রান্ত বিষয়ে বিধান-পরিষদের কোন ক্ষমতা নেই বললেই চলে। অর্থবিল প্রথম বিধানসভা উত্থাপিত হয়। বিধানসভা কর্তৃক গৃহীত অর্থবিল বিধান পরিষদে প্রেরিত হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে উক্ত বিলকে বিধানসভায় ফেরৎ পাঠাতে হয়। ঐ সময়ের মধে ফেরৎ না পাঠান অথবা বিরােধিতা করলেও বিলটি রাজ্যপালের সম্মতিতে আইনে পরিণত হয়। :

 

বিধানসভার অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা নানাভাবে সীমাবদ্ধ। প্রথমত, রাজ্যপালের সুপারি ছাড়া কোন ব্যয়বরাদ্দের দাবি বিধানসভায় উত্থাপন করা যায় না। দ্বিতীয়ত, এমন কতকগুভি ব্যয় আছে যেগুলি রাজ্যের সঞ্চিত তহবিলের ওপর ধার্য করা হয় এবং এগুলি বিধানসভা অনুমােদন সাপেক্ষ নয়। যেমন রাজ্যপাল, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, হাইকোর্টে বিচারপতিদের বেতন, ভাতা, পেনসন ইত্যাদি বাবদ ব্যয় বিধানসভার অনুমােদন সাপেক্ষ নয়।

 

: (৪) সংবিধান সংশােধন সংক্রান্ত কাজ :সংবিধান সংশােধনের ক্ষেত্রে বিধানসভার ভূমিকা খুব কম হলেও, সংবিধানের ৩৬৮ নং ধারায় এমন কয়েকটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে।

 

যেসব ক্ষেত্রে পার্লামেন্টের সম্মতি ছাড়াও রাজ্য বিধানসভাগুলির অন্তত অর্ধেকের সম্মতি অবশ্যই প্রয়ােজন। এ ছাড়া রাজ্যের নাম, সীমানা ইত্যাদির পরিবর্তন সংক্রান্ত বিলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মতামত গ্রহণ করা হয়।

 

(৫) অন্যান্য ক্ষমতা ও কার্যাবলী : (ক) রাজ্য আইনসভার অভ্যন্তরে যেসব বিতর্ক, আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রশ্নোত্তরকালে মন্ত্রীরা যেসব তথ্য ও সংবাদ সরবরাহ করে থাকেন সেগুলি বেতার, সংবাদপত্র, দূরদর্শন প্রভৃতি গণমাধ্যমগুলির সাহায্যে জনগণের কাছে পৌঁছে যায় এবং এইভাবে জনগণের রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটে।

 

(খ) রাজ্য আইনসভা রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার, যথা-রাজ্য রাষ্ট্রকৃত্যক কমিশন, মহাহিসাব পরীক্ষক, রাজ্য শিল্প সংগঠন সমূহের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালােচনা করে।

 

(গ) রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচনের ব্যাপারে যে নির্বাচক-সংস্থা গঠিত হয় রাজ্য বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যগণ তাতে অংশগ্রহণ করেন।

 

স্থান বা পদমর্যাদা : 

আপাতদৃষ্টিতে ভারতের রাজ্য আইনসভাগুলি প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী হলেও একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় দেশের রাজ্য আইনসভার যে ক্ষমতা ও মর্যাদা থাকা দরকার, ভারতের রাজ্য আইনসভাগুলির তা নেই। বাস্তবিকপক্ষে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে এদিকে কাজ করতে হয়। প্রথমত, আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাজ্যগুলির জন্য নির্দিষ্ট রাজ্য তালিকাভুক্ত বিষয়গুলির ওপরও রাজ্য আইনসভা অনন্য ক্ষমতা ভােগ করে না; পার্লামেন্ট নানাভাবে এ বিষয়গুলির ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারে। 

 দ্বিতীয়ত, অর্থ সংক্রান্ত বিষয়েও রাজ্যপালের মাধ্যমে রাজ্য আইনসভার ক্ষমতাকে সীমিত করা হয়েছে, কারণ রাজ্যপালের সুপারিশ ছাড়া বিধানসভায় কোন ব্যয়বরাদ্দের প্রস্তাব উত্থাপন করা যায় না। তৃতীয়ত, তত্ত্বগতভাবে রাজ্য আইনসভা রাজ্যের শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হলেও, বাস্তবে শাসন বিভাগই রাজ্য আইনসভাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। বাস্তবিকই কি আইন প্রণয়ন, কি সরকারী নীতি নির্ধারণ প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইনসভার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদের প্রাধান্য সুপ্রতিষ্ঠিত। 

 

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযােগ্য, যেসব রাজ্যে আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সেখানে নিম্নকক্ষ অর্থাৎ বিধানসভা যদি বা কিছু ক্ষমতা ভােগ করে, উচ্চকক্ষ বা বিধানপরিষদ সেটুকুও ভােগ করে । প্রথমত, সম্পাদিত কার্যাবলীর জন্য মন্ত্রিসভা শুধুমাত্র বিধানসভার নিকট দায়ী থাকে, বিধানপরিষদের নিকট নয়। দ্বিতীয়ত, অর্থসংক্রান্ত বিষয়ে বিধানপরিষদের কোন ক্ষমতা নেই 

 

বললেই চলে। তৃতীয়ত, অর্থবিল ছাড়া অন্য বিলের ক্ষেত্রেও বিধান পরিষদের ক্ষমতা খুব কম। বিধানসভা কর্তৃক গৃহীত বিল বিধান পরিষদ ৩ মাসের মধ্যে ফেরৎ না পাঠালে, বা প্রত্যাখ্যান করলে বিলটিকে দ্বিতীয়বার বিধানসভায় পাশ করে বিধানপরিষদে পাঠান হয়। অতঃপর বিধানপরিষদ উক্ত বিলে সম্মতি দিক আর নাই দিক, ১ মাস পর বিলটি উভয় কক্ষের দ্বারা গৃহীত হয়েছে বলে ধরা হবে। পার্লামেন্টের ন্যায় অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় যৌথ অধিবেশনের কোন ব্যবস্থা নেই। 

 

সবশেষে, অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিলই বিধানসভায় প্রথম উত্থাপিত হয়। বিধানসভায় বিভিন্ন বিলের ওপর যে আলােচনা হয় বিধান পরিষদে তার পুনৰ্চর্বন হয় মাত্র। একটি মাত্র ঘটনা ছাড়া আজ পর্যন্ত সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীকেই বিধানসভা থেকে নিযুক্ত হতে দেখা যায়। এই সমস্ত কারণে বর্তমানে মাত্র ৬টি রাজ্য ছাড়া অন্যসব রাজ্যে বিধানপরিষদের অস্তিত্ব নেই।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *