বিপ্লবী আদর্শ, নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ প্রশ্ন উত্তর ইতিহাস ix

 

বিপ্লবী আদর্শ, নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ প্রশ্ন উত্তর ইতিহাস ix

বিপ্লবী আদর্শ নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ

বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়ন সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ এই অধ্যায় এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর এবং ছোট প্রশ্ন

Table of Contents

বিপ্লবী আদর্শ, নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ বড় প্রশ্ন উত্তর

 

এখানে বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়ন সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ এই অধ্যায় এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর এবং ছোট প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে

 

 

 ● নেপােলিয়নের বিভিন্ন সংস্কারগুলি উল্লেখ করাে। 

বিপ্লবী-আদর্শ-নেপােলিয়নীয়-সাম্রাজ্য-ও-জাতীয়তাবাদ-প্রশ্ন-উত্তর-ইতিহাস-ix

 

উত্তরঃ

 

ফরাসি শাসক নেপােলিয়ন শুধু সমরকুশলী যােদ্ধা হিসেবেই নয়, সুদক্ষ সংস্কারক হিসেবেও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ঐতিহাসিক ফিশার যে, “নেপােলিয়নের সাম্রাজ্য ক্ষণস্থায়ী হলেও ফ্রান্সে তাঁর অসামরিক সংস্কারগুলি গ্রানাইট পাথরের শক্ত ভিতের ওপর নির্মিত হয়েছিল।”

 

নেপোলিয়নের সংস্কার 

 নেপােলিয়নের প্রধান সংস্কারগুলি হল—

 

[i] শাসনতাষিক সংস্কার: নেপােলিয়ন ফ্রান্সে আইনের শাসন প্রবর্তন করেন এবং জনগণের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা দেন। সময় শেকে ৮৩টি ডিপার্টমেন্ট বা প্রদেশে বিভক্ত করে সেখানে প্রিফেক্ট’ নামে শাসক নিয়ােগ করেন। তিনি প্রদেশগুলিকে বিভিন্ন জেলায় বিভক্ত করে সেখানে সাব-প্রিফেক্ট’ নামে শাসক নিয়ােগ করেন।

 

[2] অনৈতিক সংস্কার: দেশের অর্থনৈতিক সংকট দূর করার উদ্দেশ্যে নেপােলিয়ন বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। তিনি—[i] সরকারি ব্যয় হ্রাস ও অডিট প্রথা চালু করেন, [i] সবাইকে আয়কর প্রদানে বাধ্য করেন, [iii] নতুন কর না চাপিয়ে পুরােনাে কর আদায়ে জোর দেন, [iv] ব্যাংক অব ফ্রান্স প্রতিষ্ঠা (১৮০০ খ্রি.) করেন ও [v] বাণিজ্যের উন্নতির জন্য বণিক সংঘের পুনর্গঠন করেন।

 

[3) শিক্ষা সংস্থার : নেপােলিয়ন-[i] ফ্রান্সে বেশ কিছু মাধ্যমিক, ফলিত বিজ্ঞান, চিকিৎসা, কারিগরি, আইন, শিক্ষক-শিক্ষণ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, [i] ২৯টি ‘লাইসি’ বা আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন, [ii] ইউনিভার্সিটি অব ফ্রান্স প্রতিষ্ঠা করেন (১৮০৮ খ্রি.)।

 

4) ধর্মীয় সংস্কার নেপােলিয়ন পােপ সপ্তম পায়সি এর , কনকর্ডাট’ বা ‘ধর্ম মীমাংসা চুক্তি’ (১৮০১ খ্রি.) স্বাক্ষর ৪০, পােপের সঙ্গে বিরােধ মিটিয়ে নেন। এই চুক্তির দ্বারা || গে, ফরাসি গির্জা ও গির্জার সম্পত্তির জাতীয়করণ মেনে নে. [ii] ফ্রান্স রােমান ক্যাথলিক ধর্মমত ও গির্জাকে স্বীকৃতিতে এবং [i] স্থির হয় যে, সরকার যাজকদের নিয়ােগ করে এ পােপ তাদের স্বীকৃতি দেবে।

 

[5] আইনবিষয়ক সংস্কার: নেপােলিয়ন বিভিন্ন প্রদেশে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের আইনগুলির মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে ১৮০, খ্রিস্টাব্দে ২২৮৭টি (মতান্তরে ২২৮১টি) বিধি সম্বলিত ‘কো নেপােলিয়ন’ নামে এক আইনসংহিতা প্রবর্তন করেন। এর প্রধান দিকগুলি ছিল—[i] সামন্ততন্ত্রের বিলুপ্তি, [i] ব্যক্তিস্বাধীনতা। সম্পত্তির অধিকারের স্বীকৃতি, [ii] আইনের দৃষ্টিতে সাম [iv] ধর্মীয় সহনশীলতা, [v] সরকারি চাকরিতে যােগ্যতা ভিত্তিতে নিয়ােগ প্রভৃতি।

 

মূল্যায়ন: নেপােলিয়ন তার সংস্কার কার্যাবলির দ্বারা বিপ্লব-বিধ্ব ফ্রান্সে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনেন। ঐতিহাসিক ডেভিড টম। বলেছেন যে, নেপােলিয়নের শাসন শুধু প্রজাহিতৈষীই ছিল না— বর্তমানকালের একনায়কতন্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি মানবিক ছিল।

 

 

●  *কোড নেপােলিয়ন’ সম্পর্কে কী জান? অথবা, টীকা লেখাে: কোড নেপােলিয়ন। 

 উত্তর 

 

নেপােলিয়নের সর্বাপেক্ষা গৌরবময় কীর্তি হল ‘কোড নেপােলিয়ন। প্রবর্তন।

 

কোড নেপােলিয়ন

 

[1] আইনসমূহ রচনা : নেপােলিয়নের উদ্যোগে গঠিত কমিশন ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের জন্য নতুন আইনসমূহ রচনা করেন। এটি ‘কোড নেপােলিয়ন’ (Code Napoleon) বা ‘নেপােলিয়নের আইনসংহিতা’ নামে পরিচিত।

 

2] আইনসমূহের শ্রেণিবিভাগ : কোড নেপােলিয়নে মােট ২২৮৭টি (মতান্তরে ২২৮১টি) আইন ছিল। এর আইনগুলি মূলত তিনভাগে বিভক্ত ছিল, যথা—i] দেওয়ানি আইন, [i] ফৌজদারি আইন এবং [ii] বাণিজ্যিক আইন।

 

3] বৈশিষ্ট্য : কোড নেপােলিয়নের দ্বারা i] আইনের চোখে দেশের সকল নাগরিকের মধ্যে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা হয়, [ii] সামন্ততান্ত্রিক অসাম্যের বিলােপ ঘটানাে হয়, [ii] যােগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়ােগের ব্যবস্থা করা হয়, [iv] ব্যক্তিস্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়, [v] সম্পত্তির অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, i] ধর্মীয় সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করা হয় এবং [vii] অপরাধের শাস্তি হিসেবে জরিমানা, কারাদণ্ড, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, মৃত্যুদণ্ড প্রভৃতির ব্যবস্থা করা হয়। 

 

[4া তুটি : কোড নেপােলিয়নের বিভিন্ন ত্রুটি ছিল। যেমন—[i] এতে সমাজে নারীর মর্যাদা হ্রাস করা হয়, [i] স্ত্রীর ওপর স্বামীর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, [iii] পারিবারিক সম্পত্তির অধিকার থেকে নারীকে বঞ্ছিত করা হয় এবং [iv] শ্রমিকশ্রেণি তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

 

  কোড নেপােলিয়ন প্রবর্তনের মাধ্যমে নেপােলিয়ন ফ্রান্সের বিপ্লবপ্রসূত ভাবধারাগুলিকে আইনি স্বীকৃতি দেন। অবশ্য এই। আইনসংহিতার কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থেকেই গিয়েছিল।

 

 

● নেপােলিয়ন ফরাসি বিপ্লবের কোন্ কোন্ ভাবধারা ধ্বংস করেন? 

উত্তর

 

১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ফরাসি বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সের পচনশীল পুরাতনতন্ত্র ধ্বংস হয়ে নতুন ও আধুনিক ভাবধারা ও আদর্শের বিকাশ ঘটে। ফরাসি বিপ্লব-প্রসূত সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তিনটি আদর্শ ছিল সাম্য’, ‘মৈত্রী ও স্বাধীনতা।

 

বৈপ্লবিক ভাবধারা ধবংস

 

১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে নেপােলিয়ন ফ্রান্সের শাসনক্ষমতা দখল করে বিপ্লবের সাম্য ও মৈত্রীর আদর্শ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলেও তিনি স্বাধীনতার আদর্শসহ বিভিন্ন বৈপ্লবিক ভাবধারা ধ্বংস করেন। যেমন—

 

[1] রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা: বিপ্লবীরা ফ্রান্সের বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের উচ্ছেদ ঘটিয়ে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু নেপােলিয়ন ফ্রান্সের শাসনক্ষমতা দখল করে ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে ‘সম্রাট’ হিসেবে ঘােষণা করেন। এভাবে তিনি দেশে পুনরায় চূড়ান্ত স্বৈরাচারী বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে বিপ্লবের মূল লক্ষ্যটিই ব্যর্থ হয়ে যায়। .

 

[2] স্বাধীনতার আদর্শ ধবংস: নেপােলিয়ন ফ্রান্সের মানুষের স্বাধীনতা ধ্বংস করেন। তিনি—[i] প্রাদেশিক আইনসভাগুলির ক্ষমতা কেড়ে নেন। [i] মানুষের বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেন। [iii] বিনা বিচারে যে-কোনাে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের নিয়ম চালু করেন। [iv] নাটক ও নাট্যশালার ওপর পুলিশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। [v] সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভােটাধিকার ঘােষণা করলেও জনগণের প্রত্যক্ষ ভােটদানের অধিকার স্বীকার করেননি। [vi] বুর্জোয়া শ্রেণিকে বেশি অধিকার ভােগের সুযােগ করে দেন।

 

[3] শিক্ষাক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ: নেপােলিয়ন বিপ্লবী জ্যাকোবিনদের সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার আদর্শ বাতিল করেন এমন শিক্ষার প্রবর্তন করেন যাতে শিক্ষার্থীরা সম্রাট ও রাষ্ট্রের প্রতি একান্ত অনুগত হয়। ছাত্ররা যাতে সম্রাট ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করে সেই উদ্দেশ্যে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়।

 

[4] বিপ্লবের সন্তান: ফরাসি বিপ্লবের বিভিন্ন ভাবধারা ধ্বংস করায় ঐতিহাসিক জর্জ বুডে নেপােলিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলে স্বীকার করেননি। নেপােলিয়ন নিজেও তার আত্মজীবনীতে পৃথক প্রসঙ্গে নিজেকে বিপ্লবের সন্তান’ (‘Child of Revolution’) ও ‘বিপ্লবের ধ্বংসকারী’ (Destroyer of Revolution’) বলে স্বীকার করেছেন।

 

 নেপােলিয়ন যখন বিপ্লব-বিধ্বস্ত ফ্রান্সে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনেন তখন তিনি নিঃসন্দেহে ‘বিপ্লবের সন্তান ছিলেন। আবার তিনি যখন গণতান্ত্রিক জনপ্রতিনিধিমূলক প্রতিষ্ঠানগুলির বিলােপ ঘটান, দেশে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন এবং স্বাধীনতার আদর্শ ধ্বংস করেন তখন তিনি ছিলেন বিপ্লবের ধ্বংসকারী। ঐতিহাসিক ওলার মনে করেন যে, নেপােলিয়ন সামাজিক সাম্য অপেক্ষা বৈষম্যই সৃষ্টি করেন।

 

নবম শ্রেণীর ইতিহাস অধ্যায় বিপ্লবী আদর্শ, নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ প্রশ্ন উত্তর

 

 ●টীকা লেখাে: ট্রাফালগারের যুদ্ধ।

 

আমিয়েন্সের সন্ধির (১৮০২ খ্রি.) পর ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ (১৮০৫ খ্রি.) সংঘটিত হয়।

 

ট্রাফালগারের যুদ্ধের কারণ

 

ট্রাফালগারের যুদ্ধের বিভিন্ন কারণ ছিল। যেমন—

 

: [1] অ্যামিয়েন্সের সন্ধি ; অ্যামিয়েন্সের সন্ধি-এর (১৮০২ খ্রি.) শর্তে মাল্টা দ্বীপ ইংল্যান্ডের ছাড়ার কথা থাকলেও পরে ইংল্যান্ড তা ছাড়তে অস্বীকার করে।

 

[2] নজরদারি: ইংল্যান্ড মাল্টা দ্বীপ না ছাড়ায় নেপােলিয়নও জার্মানিতে ব্রিটিশ রাজ্যের সম্পত্তির ওপর সেনার নজরদারি শুরু করে। :

 

[3] ব্রাসি জাহাজ আক্রমণ : ইংল্যান্ডের নৌবাহিনী বারবার ফরাসি বাণিজ্য-জাহাজগুলি আক্রমণ করতে থাকে। এর প্রতিশােধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নেপােলিয়ন ফ্রান্সে ভ্রমণকারী ১০০০ ইংরেজকে বন্দি করেন।

 

[4] অপপ্রচার : ইংল্যান্ডের সংবাদপত্রগুলিতে নেপােলিয়নের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানাে হয়। ফলে নেপােলিয়ন ক্রুদ্ধ হন এবং উভয় শক্তির মধ্যে বিরােধ শুরু হয়।

 

[] ফ্রান্সের নৌশক্তি বৃদ্ধি; সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নৌযুদ্ধে ইংল্যান্ডের শ্রেষ্ঠত্ব ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ফ্রান্স নৌশক্তি বৃদ্ধিতে তৎপর হয়ে ওঠে। ফলে ইল্যোন্ড আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। :

 

ট্রাফালগারের যুদ্ধের বিবরণ

 

: [1] নেপােলিয়নের যুদ্ধ-প্রস্তুতি : ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে অ্যামিয়েন্সের সন্ধি (১৮০২ খ্রি.) ভেঙে যাওয়ার পর নেপােলিয়ন বিভিন্ন ঘটনায় ইংল্যান্ডের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি সরাসরি ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে ইংল্যান্ড আক্রমণের উদ্দেশ্যে ইংলিশ চ্যানেল ও উত্তর সাগরের তীরে  লক্ষাধিক সেনা সমাবেশ করেন।

 

 [2] তৃতীয় শক্তিজোট : এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে অস্ট্রিয়া, রাশিয়া ও সুইডেনকে নিয়ে ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সবিরােধী তৃতীয় শক্তিজোট গড়ে ওঠে। এই শক্তিজোট ভাঙার উদ্দেশ্যে নেপােলিয়ন দ্রুতগতিতে অস্ট্রিয়াকে আক্রমণ করে উমের যুদ্ধে (১৮০৫ খ্রি.) পরাজিত করেন।

 

[3] ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ : নেপােলিয়নের ইংল্যান্ড আক্রমণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই ইংরেজ নৌ-সেনাপতি নেলসন ফরাসি নৌ-সেনাপতি ভিলনেউভ-কে ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধে (২১ অক্টোবর, ১৮০৫ খ্রি.) শােচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। যুদ্ধে ফরাসি নৌবহর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়।

 

উপসংহার: অ্যামিয়েন্সের সন্ধি (১৮০২ খ্রি.) দ্বারা দুই শক্তিধর রাষ্ট্র পরস্পর যুদ্ধ এড়ানাের চেষ্টা করলেও নেপােলিয়নের প্রতিশােধ-স্পৃহায় ট্রাফালগারের যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই যুদ্ধে ফরাসি নৌশক্তি সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার ফলে নেপােলিয়নের ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে ইংল্যান্ড আক্রমণের স্বপ্ন চিরদিনের জন্য বিলীন হয়ে যায়।

 

● নেপােলিয়নের পতনে মহাদেশীয় অবরােধের কী ভূমিকা ছিল ?

 

উত্তরঃ

ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহাদেশীয় অবরােধ জারি করে ইংল্যান্ডের অর্থনীতি ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেন।

 

নেপােলিয়নের পতনে মহাদেশীয় অবরােধের ভূমিকা :

 

 নেপােলিয়ন মহাদেশীয় অবরােধ ব্যবস্থা বলপ্রয়ােগের দ্বারা কার্যকর করতে গিয়ে বিভিন্ন সংকটে জড়িয়ে পড়েন যা তার পতনকে অবশ্যম্ভাবী করে তােলে। যেমন—

 

: [1] ফ্রান্সের অর্থনৈতিক ক্ষতি: নেপােলিয়নের মহাদেশীয় অবরােধ ব্যবস্থা পরােক্ষে ফ্রান্সের অর্থনীতিরই যথেষ্ট ক্ষতি করে। ইংল্যান্ডের অর্ডার্স ইনকাউন্সিল’ নামে নৌ-প্রতিরােধের ফলে ফ্রান্সের সামুদ্রিক বাণিজ্য যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ফ্রান্সে শ্রমিক ছাঁটাই, বেকার সমস্যা প্রভৃতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তাই ঐতিহাসিক জর্জ রুডে বলেছেন যে, “মহাদেশীয় ব্যবস্থা ফ্রান্সের পক্ষে বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়।”

 

{2] উপকূল দখল: নেপােলিয়ন জোর করে মহাদেশীয় অবরােধ প্রথা কার্যকর করতে গিয়ে ইউরােপের উপকূল অঞ্চলের প্রায়। ২ হাজার মাইল অঞ্চল দখল করে নেন। এ ছাড়া বহু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ দেশ তিনি দখল করে নিলে বিভিন্ন দেশে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়।

 

(3) ব্যয়ভার: মহাদেশীয় ব্যবস্থা কার্যকর করতে গিয়ে নেপােলিয়ন যে বিস্তৃত ভূখণ্ড দখল করেন সেখানে প্রত্যক্ষ দখলদারি চালাতে গিয়ে তাকে সামরিক বাহিনীসহ সর্বত্র ছুটে বেড়াতে হয়। ফলে ফরাসি সেনাদল অত্যন্ত চাপে থাকে এবং বিপুল সম্পদ ব্যয় হয়।

 

: [4] রােম ও হল্যান্ডে অসন্তোষ: রােম ও হল্যান্ড মহাদেশীয় ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করায় নেপােলিয়ন সেখানে হস্তক্ষেপ করেন। [i] তিনি রােমের শাসক পােপকে সিংহাসনচ্যুত করে তাকে বন্দি করলে খ্রিস্টান ক্যাথােলিক জগত প্রচণ্ড ক্ষুদ্ধ হয়। [i] হল্যান্ডের শাসক লুই (নেপােলিয়নের ভাই)-কে সিংহাসনচ্যুত করে হল্যান্ড দখল করেন।

 

[5] উপদ্বীপের যুদ্ধে বিপর্যয়: [i] পাের্তুগাল মহাদেশীয় ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করায় নেপােলিয়ন স্পেনের অনুমতি না নিয়ে স্পেনের ওপর দিয়ে পাের্তুগালে সেনা পাঠিয়ে সেখানে মহাদেশীয় ব্যবস্থা কার্যকর করেন। [ii] পাের্তুগাল থেকে ফেরার পথে তিনি স্পেন দখল করে সেখানকার সিংহাসনে নিজের ভাই জোসেফকে বসান। এর ফলে স্পেন ও পাের্তুগাল নেপােলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যা উপদ্বীপের যুদ্ধ (১৮০৮-১৪ খ্রি.) নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে ইংল্যান্ডও স্পেনের পক্ষে যােগ দিলে ফ্রান্সের পরাজয় ঘটে।

 

[6] রাশিয়ায় বিপর্যয়: রাশিয়া মহাদেশীয় ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করায় নেপােলিয়ন রাশিয়া আক্রমণ (১৮১২ খ্রি.) করেন। কিন্তু রাশিয়ায় তাঁর গ্রাদ আর্মি চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয় এবং তার বেশিরভাগ সৈন্য মারা যায়। :

 

মূল্যায়ন: ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক শক্তি ধ্বংস করতে গিয়ে নেপােলিয়ন চতুর্দিকে অসংখ্য শত্রু তৈরি করে ফেলেন এবং শেষপর্যন্ত শত্রুদের কাটার জালে তিনি নিজেই আটকে পড়েন। তাই বলা যায় যে, নেপােলিয়নের পতনের অন্যতম কারণ ছিল মহাদেশীয় অবরােধ ব্যবস্থা। ঐতিহাসিক লজ বলেছেন যে, “মহাদেশীয় ব্যবস্থা ছিল একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে নেপােলিয়নের অযােগ্যতার সবচেয়ে বড়াে প্রমাণ।

 

●“নেপােলিয়নের মহাদেশীয় অবরােধ ব্যর্থ হওয়ার কারণগুলি কী ছিল?

 

• উত্তর —

 

ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অবরােধ ঘােষণা করে অর্থনৈতিক শক্তি ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও তার উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

 

মহাদেশীয় অবরােধ ব্যর্থ হওয়ার কারণ

 

নেপােলিয়নের মহাদেশীয় অবরােধ ব্যর্থ হওয়ার কারণগুলি

 

[1] ফরাসি নৌশক্তির অভাব: নেপােলিয়ন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরােধ ঘােষণা করলেও ইউরােপের সুবিস্তৃত উপকূল অঞ্চলে নজরদারি করে তা বাস্তবায়িত করার মতাে পর্যাপ্ত নৌশক্তি ফ্রান্সের ছিল না। ফলে ইউরােপে ব্রিটিশ পণ্যের প্রবেশ আটকাতে নেপােলিয়ন ব্যর্থ হন।

 

[2] ইংল্যান্ডের শক্তিশালী নৌবহর: ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড অর্ডার্স ইনকাউন্সিল’ নামে পালটা যে অবরােধ ঘােষণা করে তা ইংল্যান্ড তার শক্তিশালী নৌবহরের সাহায্যে বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হয়।

 

[3] ব্রিটিশ পণ্যের চাহিদা: ইউরােপের বাজারে উন্নতমানের বস্ত্র, চা, কফি, চিনি প্রভৃতি ব্রিটিশ শিল্পজাত সামগ্রীর খুবই চাহিদা ছিল। শিল্পে অনুন্নত ফ্রান্সের পক্ষে নিম্নমানের ও বেশি দামের পণ্য বিক্রি করে ব্রিটিশ পণ্যের চাহিদা ধ্বংস করা সম্ভব ছিল না।

 

[4] ফ্রান্সে ব্রিটিশ পণ্যের আমদানি: ফরাসি শিল্পজাত পণ্য নিম্নমানের হওয়ায় স্বয়ং ফ্রান্সকেই গােপনে ব্রিটিশ পণ্যের ওপর নির্ভর করতে হত। ফরাসি চোরাকারবারিরা গােপনে ব্রিটিশ পণ্য ফ্রান্সে আমদানি করত। নেপােলিয়নও ইংল্যান্ড থেকে ফরাসি সেনাদের জন্য জুতাে ও কোট আমদানি করেন।

 

উপসংহার: ইংল্যান্ডের তুলনায় ফ্রান্সের নৌশক্তি বৃদ্ধি, ব্রিটিশ পণ্যের ব্যাপক চাহিদার বিকল্প ব্যবস্থা প্রভৃতি নেপােলিয়ন করতে পারেননি। ফলে বিভিন্ন ঘােষণা সত্ত্বেও তিনি এই অবরােধ বাস্তবায়িত করতে ব্যর্থ। হন। ঐতিহাসিক লজ মনে করেন, মহাদেশীয় অবরােধ হল ‘নেপােলিয়নের ব্যর্থতার সর্বাপেক্ষা বড়াে প্রমাণ।

 

★নেপােলিয়নের পতনের কারণ সম্পর্কে আলােচনা করাে। উত্তর নেপােলিয়নের পতনের কারণ

 

১৭৯৯ থেকে ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নেপােলিয়ন ছিলেন ইউরােপের ভাগ্যনিয়ন্তা। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে একসময় তারও পতন ঘটে। ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে টিলসিটের সন্ধি স্বাক্ষরের পর থেকেই নেপােলিয়নের পতন ক্রমশ ঘনিয়ে আসে।

 

১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সেনাপতি আর্থার ওয়েলেসলির কাছে ওয়াটারলু-এর যুদ্ধে তার চূড়ান্ত পরাজয় ও পতন ঘটে। তাঁর পতনের বিভিন্ন কারণ ছিল

 

[1] সীমাহীন উচ্চাকাক্ষা: নেপােলিয়নের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল সীমাহীন। তিনি নিজেকে অপরাজেয় বলে মনে করতেন এবং তার সামরিক বাহিনীর কার্যকারিতা সম্পর্কে সীমাহীন উচ্চাকাঙ্ক্ষা পােষণ করতেন। তার ফলে তিনি ইউরােপের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে অন্ধ হয়ে একই সঙ্গে বিভিন্ন শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।

 

[2] সাম্রাজ্যের দুর্বল ভিত্তি : নেপােলিয়নের সাম্রাজ্যের ভিত্তি ছিল দুর্বল। সামরিক শক্তির জোরে প্রতিষ্ঠিত এই সাম্রাজ্যের প্রতি জনগণের আন্তরিক সমর্থন ছিল না। তিনি যুদ্ধের মাধ্যমে যেসব জাতিকে ফ্রান্সের অন্তর্ভুক্ত করেন সেসব জাতি নেপােলিয়ন ও রাসি শাসনকে অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখত।

 

[3] স্বৈরতন্ত্র: নেপােলিয়ন ইউরােপের জনগণকে বংশানুক্রমিক স্বৈরাচারী শাসকদের হাত থেকে মুক্তির আশ্বাস দিলেও পরবর্তীকালে তিনি নিজেই সেসব দেশে সীমাহীন স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাস্তবে ফ্রান্সকে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেন। ফলে তার বিরুদ্ধে তীব্র জনমত গড়ে ওঠে।

 

[4] সাম্রাজ্যের বিশালতা : নেপােলিয়নের সুবিশাল সাম্রাজ্যে নিজের কর্তৃত্ব স্থায়ী করার জন্য যে সংগঠন গড়ে তােলা দরকার ছিল সেদিকে নেপােলিয়ন বিশেষ নজর দেননি। ফলে বিশাল সাম্রাজ্যের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ ক্রমে শিথিল হয়ে যায় এবং সাম্রাজ্যের বিশালতা তার পতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

[5] স্পেনীয় ক্ষত : নেপােলিয়ন স্পেন দখল করে সেখানকার সিংহাসনে নিজের ভাই জোসেফকে বসিয়ে দেন। ফলে স্পেনের জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমিক সাধারণ মানুষ নেপােলিয়নের বিরুদ্ধে তীব্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে। এই যুদ্ধে নেপােলিয়নের ব্যাপক বিপর্যয় ঘটে।

 

[6] পােপের সঙ্গে বিরােধ: নেপােলিয়ন মহাদেশীয় অবরােধ কার্যকর করতে গিয়ে রােমের শাসক পােপকে বন্দি করে তার রাজ্য দখল করলে ইউরােপের ক্যাথােলিক ধর্মাবলম্বীরা নেপােলিয়নের ওপর প্রবল ক্ষুদ্ধ হয়।

 

[7] মস্কো অভিযান: রাশিয়া মহাদেশীয় অবরােধ প্রথা মানতে অস্বীকার করলে নেপােলিয়ন রাশিয়া আক্রমণ (১৮১২ খ্রি.) করেন। সেখানে তার মহান সেনাদলের বেশিরভাগ সৈন্য তীব্র শীত, খাদ্য ও পানীয় জলের অভাব, মহামারি ও রুশ গেরিলা সৈন্যের আক্রমণে মারা যায়।

 

[৪] ইংল্যান্ডের নৌশক্তি: ট্রাফালগার ও নীলনদের নৌযুদ্ধে ইংল্যান্ড ফরাসি নৌবহরের যে ক্ষতি করে ফ্রান্স আর [ তা পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। পরবর্তীকালে স্পেন ও পাের্তুগালের পক্ষে শক্তিশালী ইংল্যান্ড যােগ দিলে নেপােলিয়নের পতন অনিবার্য হয়ে পড়ে।

 

[9] মহাদেশীয় অবরােধে ব্যর্থতা: নেপােলিয়ন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহাদেশীয় অবরােধ জারি করলেও শক্তিশালী নৌবাহিনীর অভাবে তিনি তা কার্যকরী করতে পারেননি। বলপ্রয়ােগ করে অবরােধ কার্যকর করতে গিয়ে তিনি একসঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। অন্যদিকে, নেপােলিয়নের অবরােধের পালটা অস্ত্র হিসেবে ইংল্যান্ড অর্ডার্সইনকাউন্সিল’ নামে অবরােধ জারি কর=ে ফ্রান্সের যথেষ্ট ক্ষতি হয়।

 

: 10] শক্তিজোট গঠন: ইংল্যান্ড, রাশিয়া, অস্ট্রিয়া ও প্রাশিয়া। ইউরােপের এই চারটি বৃহৎ শক্তি নেপােলিয়নের বিরুখে শক্তিজোট গঠন করলে তার পতন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। চতু শক্তিজোট ওয়াটারলু-এর যুদ্ধে (১৮১৫ খ্রি.) নেপােলিয়নকে পরাজিত করলে তার পতন ঘটে।

 

মূল্যায়ন; ওয়াটারলু-এর যুদ্ধে পরাজয়ের পর নেপােলিয়নকে সিংহাসনচ্যুত করে ফ্রান্স থেকে প্রায় ৫ হাজার মাইল দূরে আটলান্টি মহাসাগরের গভীরে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানাে হয়। সেখানে ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে ১৫ মে মাত্র ৫২ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।

 

বিপ্লবী আদর্শ, নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ নবম শ্রেণীর ইতিহাস বড় প্রশ্ন উত্তর

 

 

★স্পেনের যুদ্ধে নেপােলিয়নের পরাজয়ের কারণ কী ছিল ? অথবা, স্পেনের যুদ্ধে ফ্রান্সের ব্যর্থতার কারণ কী ছিল ?

 

 উত্তর 

 

ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে স্পেন দখল করার পর বারবার স্পেনের কাছে পরাজিত হতে থাকে। শেষপর্যন্ত ১৮১৪ চূড়ান্ত পরাজয়ের পর নেপােলিয়নের বাহিনী স্পেন ত্যাগে বাধ্য হয়।

 

স্পেনের যুদ্ধে নেপােলিয়নের পরাজয় বা ফ্রান্সের ব্যর্থতার কারণ

 

[1] স্পেনের পরিবেশ: পাহাড়-পর্বত ও জলাভূমিতে পূর্ণ স্পেনের ভৌগােলিক পরিবেশের কারণে যুদ্ধে ফরাসি বাহিনী খুবই অসুবিধার সম্মুখীন হয়। দরিদ্র স্পেনে খাদ্যাভাব ও যােগাযােগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ফরাসি সেনাদের বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।

 

 [2] বিভিন্ন সংকট: নেপােলিয়ন ইউরােপের বিভিন্ন সংকটে ক্রমাগত যুক্ত হয়ে পড়ায় স্পেনের যুদ্ধে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হন। ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দের পর তিনি আর স্পেনে যেতে পারেননি।

 

[3] স্পেনবাসীর দেশপ্রেম: ফরাসি আক্রমণের বিরুদ্ধে স্পেনবাসীর জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেম ছিল অত্যন্ত গভীর ও আন্তরিক। স্পেনের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ে নামায় ফরাসি বাহিনী বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

 

[4] গেরিলা যুদ্ধ: স্পেনের গেরিলা যােদ্ধারা ফরাসি বাহিনীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে বিধ্বস্ত করে দিতে থাকে। গেরিলা যােদ্ধারা যােগাযােগ ব্যবস্থা এবং খাদ্য ও অস্ত্র সরবরাহে বাধার সৃষ্টি করে ফরাসি সেনাদের বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।

 

[5] ইংল্যান্ডের সহায়তা: ইংল্যান্ড অর্থ, অস্ত্র ও সৈন্য দিয়ে স্পেনকে সহায়তা করলে এবং ব্রিটিশ সেনাপতি আর্থার ওয়েলেসলি স্পেনের পক্ষে যুদ্ধে যােগ দিলে ফরাসি বাহিনীর সংকট তীব্র হয়ে ওঠে।

 

[6] জোসেফের অযােগ্যতা: নেপােলিয়ন তার ভাই জোসেফকে স্পেনের সিংহাসনে বসালেও স্পেনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কোনাে ক্ষমতা অযােগ্য ও অপদার্থ জোসেফের ছিল না। 

 

 উপসংহার: স্পেনীয় যুদ্ধে নেপােলিয়নের সমস্ত রণকৌশলই ব্যর্থ হয়। দীর্ঘ দিনের এই যুদ্ধে তাঁর চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক বিপর্যয় ঘটে। নেপােলিয়ন নিজেও স্বীকার করেছেন যে, “স্পেনীয় ক্ষতই আমাকে 7237 PGAGE” (“The Spanish ulcer ruined me.”)

 

● ওয়াটারলুর যুদ্ধ সম্পর্কে কী জান? 

 

উত্তর

 

নেপােলিয়ন এলবা দ্বীপের নির্বাসন থেকে গােপনে ফ্রান্সে ফিরে এসে শাসনক্ষমতা দখল (১৮১৫ খ্রি.) করলে ফ্রান্স বিরােধী বিজয়ী মিত্রশক্তিবর্গ তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

 

ওয়াটারলু-এর যুদ্ধ [1] আক্রমণের উদ্যোগ : নেপােলিয়ন-বিরােধী মিত্রশক্তি

নেপােলিয়নকে ‘আইনবহির্ভূত ব্যক্তি’ আখ্যা দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে

ফ্রান্স আক্রমণের উদ্যোগ নেয়। [2] আক্রমণ:ইংল্যান্ড, প্রাশিয়া, রাশিয়া ও অস্ট্রিয়ার সেনাদল বিভিন্ন দিক থেকে ফ্রান্স আক্রমণ করে। তীব্র আক্রমণ সত্ত্বেও নেপােলিয়নের বাহিনী প্রথম পর্যায়ে লিঞ্জি ও কোয়াটার ব্রাস-এর যুদ্ধে (১৮১৫ খ্রি.) জয় লাভ করে।

 

[3] ওয়াটারলু-এর যুদ্ধে পরাজয়: নেপােলিয়নের প্রাথমিক সাফল্যের পর ব্রিটিশ সেনাপতি আর্থার ওয়েলেসলি বা ডিউক অব ওয়েলিংটনের কাছে ওয়াটারলু-এর যুদ্ধে (১৮ জুন, ১৮১৫ খ্রি.) নেপােলিয়নের চুড়ান্ত পরাজয় ঘটে। ১৫ জুলাই তিনি ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

 

[4] নির্বাসন: ওয়াটারলু-এর যুদ্ধে নেপােলিয়ন পরাজিত হলে বিজয়ী শক্তিবর্গ তাকে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেয়। সেখানে অত্যন্ত অনাদরে ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে ৫ মে এই বীর যােদ্ধার মৃত্যু হয়।

 

উপসংহার: ওয়াটারলুর যুদ্ধ নেপােলিয়ন তথা আধুনিক ইউরােপের ইতিহাসে খুবই উল্লেখযােগ্য ঘটনা। বেলজিয়ামের ওয়াটারলুর যুদ্ধক্ষেত্রটি বর্তমানে আকর্ষণীয় করে তুলতে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের মাঝখানে একটি টিলার ওপর বসানাে হয়েছে সুবিশাল একটি ধাতব মূর্তি।

 

 

জাতীয়তাবাদ নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য বিপ্লবী আদর্শ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

 

প্রশ্ন।  নেপােলিয়নের জীবনে ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের তাৎপর্য কী ছিল? এই যুদ্ধের পরিণতি কী হয়েছিল ?

 

১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন এবং ইংল্যান্ড ও প্রাশিয়ার যৌথ বাহিনীর মধ্যে ওয়াটারলু-এর যুদ্ধ হয়।

 

 ওয়াটারলু-এর যুদ্ধে নেপােলিয়ন ইংরেজ সেনাপতি ডিউক অব ওয়েলিংটন ও প্রাশীয় সেনাপতি রুকারের কাছে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ (১৫ জুলাই, ১৮১৫ খ্রি.) করেন। তাঁকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানাে হয়।

 

প্রশ্ন।  প্যারিসের দ্বিতীয় সন্ধি সম্পর্কে কী জান?

 

 নেপােলিয়নের জীবনে ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের তাৎপর্য ছিল— [1] তিনি এলবা দ্বীপের নির্বাসন থেকে ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে ফিরে ফ্রান্সে এসে পুনরায় ১০০ দিন রাজত্ব করেন যা শতদিবসের রাজত্ব’ নামে পরিচিত। [2] ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুন তিনি চতুর্থ শক্তিজোটের কাছে ওয়াটারলুর যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। [3] এরপর তাকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে চির নির্বাসনে পাঠানাে হয়।

 

প্রশ্নঃ * ওয়াটারলু  যুদ্ধ কখন হয় ?

 

 নেপােলিয়নের চূড়ান্ত পতনের পর বিজয়ী মিত্রশক্তি ফ্রান্সের প্যারিসের দ্বিতীয় সন্ধি (নভেম্বর, ১৮১৫ খ্রি.) চাপিয়ে দেয় সন্ধিতে বলা হয়—[1] ফ্রান্সকে বিপ্লবের পূর্ববর্তী সীমানা কি দেওয়া হবে। [2] ফ্রান্সে মিত্রপক্ষের সেনাদল মােতায়েন থান [3] ফ্রান্সকে ৭০০ মিলিয়ন ফ্রাঙ্ক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

 

প্রশ্ন ) নেপােলিয়নের পতনের দুটি কারণ লেখাে।

 

০ নেপােলিয়নের পতনের প্রধান দুটি কারণ ছিল—[1] রা অভিযানে তাঁর ব্যর্থতা এবং তাঁর সেনাদলের ব্যাপক ক্ষতি = শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। [2] তিনি স্পেন দখল করে স্পেন, পাের্ট ও ইংল্যান্ডের মিলিত দীর্ঘ যুদ্ধে জড়িয়ে পরাজিত হন।

 

 

 ‘ডেভিড কপারফিল্ড’ ও ‘দ্য মাদার’ গ্রন্থের রচয়িতানে নাম লেখাে। 

 

‘ডেভিড কপারফিল্ড’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন চার্লস ডিকেন্স। মাদার’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন ম্যাক্সিম গাের্কি।

 

প্রশ্নঃ স্পেনে কীভাবে জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি হয়?

 

১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে নেপােলিয়ন স্পেন দখল করলে স্পেনবাসীরা নিজেদের মধ্যেকার বিবাদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে ফরাসি বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ সংগ্রাম শুরু করে। এভাবেই স্পেনে জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি হয়।

 

প্রশ্নঃ  নেপােলিয়নের বাহিনী স্পেনে প্রথম কোন্ যুদ্ধে পরাস্ত হয়? এর ফল কী হয়েছিল? 

 

[1] নেপােলিয়নের বাহিনী স্পেনে বেলেনের যুদ্ধে (১৮০৮ খ্রি.) প্রথম পরাস্ত হয়। [2] স্পেনে বেলেনের যুদ্ধে নেপােলিয়নের পরাজয়ের প্রধান ফলাফলগুলি ছিল—li] যুদ্ধজয়ী স্পেনীয়রা নতুন উদ্যমে জেগে উঠে নেপােলিয়নের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী প্রতিরােধ গড়ে তােলে। [i] নেপােলিয়নের অপরাজিত ভাবমূর্তি ধ্বংস হয় এবং ইউরােপে নেপােলিয়ন বিরােধী শক্তিগুলি সক্রিয় হতে শুরু করে।

 

প্রশ্নঃ  উপদ্বীপের যুদ্ধ বলতে কী বােঝায়?

 

 

স্পেনের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযােগে ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন দখল করে নিজ ভ্রাতা জোসেফকে স্পেনের সিংহাসনে বসান। ফলে ক্ষুদ্ধ স্পেনবাসী নেপােলিয়নের বিরুদ্ধে তীব্র মুক্তিসংগ্রাম শুরু করে। ইংল্যান্ড এবং পাের্তুগাল এই যুদ্ধে স্পেনের পক্ষে যােগ দেয়। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে স্পেন, পাের্তুগাল ও ইংল্যান্ডের এই যুদ্ধ উপদ্বীপীয় যুদ্ধ (১৮০৮-১৮১৪ খ্রি.) নামে পরিচিত। যুদ্ধে ফ্রান্সের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে এবং জোসেফ সিংহাসন ছাড়তে বাধ্য হন।

 

প্রশ্নঃ  উপদ্বীপের যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি যুদ্ধের নাম করাে।

 

) উপদ্বীপের যুদ্ধের (১৮০৮-১৪ খ্রি.) সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ ছিল—[1] ভিমেয়েরাে-এর যুদ্ধ (১৮০৮ খ্রি.), [2] করুন্নার যুদ্ধ = (১৮০৮ খ্রি.), [3]ট্যালাভেরার যুদ্ধ (১৮০৯ খ্রি.), [4] ওয়াগ্রামের যুদ্ধ | – (১৮০৯ খ্রি.), [5] টোরেস ভেড্রাস-এর যুদ্ধ (১৮০৯ খ্রি.), (6) স্যালামাস্কার যুদ্ধ (১৮১২ খ্রি.), [7] ভিত্তোরিয়ার যুদ্ধ (১৮১৩ খ্রি.) প্রভৃতি।

 

প্রশ্নঃ  নেপােলিয়ন উপদ্বীপের যুদ্ধকে ‘স্পেনীয় ক্ষত’ বলেছে  কেন?

 

নেপােলিয়ন স্পেন দখল করে স্পেন, পাের্তুগাল ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে উপদ্বীপীয় যুদ্ধে (১৮০৮-১৮১৪ খ্রি.) জড়িয়ে পড়েন। যুদ্ধে তার পরাজয় ঘটে এবং তার ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। পরাজিত ফ্রান্সের ব্যাপক আর্থিক ও সামরিক ক্ষতি হলে ফ্রান্সের দুর্বলতা প্রকাশে এসে পড়ে। ফলে নেপােলিয়নের বিরুদ্ধে আবার শক্তিজোট গড়ে ওঠে যার কাছে নেপােলিয়নের পরাজয় ও পতন ঘটে। এজন্য তিনি এই যুদ্ধকে ‘স্পেনীয় ক্ষত’ বলেছেন।

 

প্রশ্নঃ  বােররাডিনের যুদ্ধের গুরুত্ব কী?

 

১৮১২ খ্রিস্টাব্দের বােরােডিনের যুদ্ধে নেপােলিয়ন জয়লাভ করলেও তার প্রায় ৩০ হাজার সৈন্য মারা যায় এবং টাইফাস’ নামক জ্বরের প্রকোপে তিনি ফ্রান্সে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ফলে ইউরােপীয় শক্তিগুলি পুনরায় তাঁর বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয় এবং চতুর্থ শক্তিজোট গঠন করে নেপােলিয়নের পতন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালাবার সিদ্ধান্ত নেয়।

 

 

প্রশ্নঃ  ফ্রান্সে নেপােলিয়নের জনপ্রিয়তা নষ্ট হয়েছিল কেন?

 

ফ্রান্সে নেপােলিয়নের জনপ্রিয়তা নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ ছিল [1] ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহাদেশীয় অবরােধ প্রথা কার্যকর করতে গিয়ে নেপােলিয়ন ফ্রান্সের বণিক ও শিল্পপতিদের বিরােধিতার মুখে পড়েন। [2] ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড পালটা অবরােধ ঘােষণা করলে ফ্রান্সের ক্ষতি হয় এবং ফ্রান্সের সাধারণ মানুষ নেপােলিয়নের বিপক্ষে চলে যায়। [3] বিভিন্ন বৈদেশিক যুদ্ধে নেপােলিয়ন পরাজিত হতে থাকলে দেশবাসীর কাছে তিনি জনপ্রিয়তা হারান।

 

 

প্রশ্নঃ জাতিসমূহের যুদ্ধ কোন্ যুদ্ধকে এবং কেন বলা হয় ? 

 

| চতুর্থ শক্তিজোটের বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির লাইপজিগের যুদ্ধে নেপােলিয়নকে পরাজিত করে। এটি লাইপজিগের বা জাতিসমূহের যুদ্ধ নামে পরিচিত। ইউরােপের প্রায় ১৩টি রাষ্ট্র লাইপজিগের যুদ্ধে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অংশ নেয়। এজন্য এই যুদ্ধকে ‘জাতিসমূহের যুদ্ধ’ বলা হয়।

 

_- প্রশ্ন।  লাইপজিগ বা জাতিসমূহের যুদ্ধে কার পরাজয় ঘটে? এই পরাজয়ের ফল কী হয়েছিল?

 

লাইপজিগ বা জাতিসমূহের যুদ্ধে (১৮১৩ খ্রি.) নেপােলিয়নের পরাজয় ঘটে।

 

 এই পরাজয়ের ফলে—[1]ফরাসি সাম্রাজ্য ভেঙে যায়, [2]হল্যান্ড স্বাধীনতা পায় এবং [3] অস্ট্রিয়া তার হারানাে রাজ্য ফিরে পায়।

 

প্রশ্নঃ শত দিবসের রাজত্ব কী ?

 

 

১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের শুরুতে ফ্রান্সে গােলযােগের পরিস্থিতিতে নেপােলিয়ন এলবা দ্বীপের নির্বাসন থেকে পালিয়ে ফ্রান্সে ফিরে আসেন (মার্চ, ১৮১৫ খ্রি.)। সাধারণ মানুষ তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানালে রাজা অষ্টাদশ লুই সিংহাসন ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর তিনি ২০ মার্চ থেকে ২৯ জুন (১৮১৫ খ্রি.) পর্যন্ত মােট ১০০ দিন রাজত্ব করেন। এই ঘটনা শতদিবসের রাজত্ব’ নামে পরিচিত।

 

প্রশ্নঃ  রাশিয়া অভিযানে নেপােলিয়নের ব্যর্থতার দুটি তাৎপর উল্লেখ করাে।

 

 

‘স্পেনীয় ক্ষত’ বিভিন্নভাবে নেপােলিয়নকে ধ্বংস করেনেপােলিয়ন স্পেন দখল করলে প্রবল জাতীয়তাবাদে উ স্পেনবাসী তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামে লিপ্ত হয় (১৮০৮-১৪ খি [2] স্পেন, পাের্তুগাল ও ইংল্যান্ডের সম্মিলিত বাহিনীর কাছে ফ্রাণে চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে।[3] যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে নেপােলিয়নের ভাব নষ্ট হয়।[4] এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে নেপােলিয়নের অর্থনৈতিক ও সামা বিপর্যয় ঘটে। [5] ইউরােপে নেপােলিয়ন-বিরােধী শক্তি ঐক্যবদ্ধ হ. শুরু করে।

 

প্রশ্নঃ ফ্রান্স-বিরােধী প্রথম শক্তিজোট সম্পর্কে কী জান?

 

 ফ্রান্সের বিপ্লবী আইনসভা রাজা ষােড়শ লুই-এর প্রাণদণ্ড দিলে ইউরােপের রাজতন্ত্রগুলি এর বিরােধিতা করে। বিপ্লবী ফ্রান্সকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, প্রাশিয়া, স্পেন, পাের্তুগাল, সুইডেন প্রভৃতি দেশ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম শক্তিজোট গড়ে তােলে।

 

প্রশ্ন। ফ্রান্স বিরােধী দ্বিতীয় শক্তিজোট সম্পর্কে কী জান?

 

নেপােলিয়নের উগ্র সাম্রাজ্যবাদী নীতি ও বিভিন্ন সামরিক অভিযানের সফলতা ইউরােপীয় দেশগুলিকে আতঙ্কিত করে। এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, পাের্তুগাল, রাশিয়া প্রভৃতি দেশ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় শক্তিজোট গড়ে তােলে। ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে এই জোট ভেঙে যায়।

 

প্রশ্নঃ ফ্রান্স বিরােধী তৃতীয় শক্তিজোট সম্পর্কে কী জান? 

 

নেপােলিয়নের ধারাবাহিক সামরিক সাফল্য ও দ্রুত ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউরােপের বিভিন্ন দেশ আতঙ্কিত হয়। ফলে ইংল্যান্ড, সুইডেন ও রাশিয়া প্রভৃতি দেশ তার বিরুদ্ধে ১৮০৪-০৫ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় শক্তিজোট গড়ে তােলে।

 

প্রশ্নঃ ফ্রান্স-বিরােধী চতুর্থ শক্তিজোট সম্পর্কে কী জান?

 

 আগ্রাসী নেপােলিয়নের ক্ষমতা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে রুশ জার প্রথম আলেকজান্ডারের উদ্যোগে ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, প্রাশিয়া, রাশিয়া ও সুইডেন প্রভৃতি দেশ ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে চতুর্থ তথা শেষ শক্তিজোট গড়ে তােলে।

 

 

বিপ্লবী আদর্শ, নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ ইতিহাস নবম শ্রেণী

 

প্রশ্ন।  নেপােলিয়ন কর্তৃক রাশিয়া আক্রমণ সম্পর্কে কী জান?

 

রাশিয়া মহাদেশীয় অবরােধ ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করলে নেপােলিয়ন ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে (২৪ জুন) ৬ লক্ষ সৈন্যের বিশাল বাহিনী নিয়ে রাশিয়া অভিযান করেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত তিনি রাশিয়ার যুদ্ধে পরাজিত হন এবং তার বিখ্যাত সেনাদল ‘এঁদ আর্মি’ বিধ্বস্ত হয়।

 

প্রশ্ন।  ‘পােড়ামাটি নীতি’ কী ?

 

 

 ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া আক্রমণ করলে রাশিয়া সম্মুখ যুদ্ধ এড়িয়ে সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে ক্রমাগত পিছু হটতে থাকে। ফরাসি বাহিনী রাশিয়ায় যাতে সমস্যায় পড়ে সে উদ্দেশ্যে পিছু হটার সময় রুশ বাহিনী নিজেদের রাস্তাঘাট ও সেতু ধ্বংস করে, খাদ্যশস্য, শস্যক্ষেত্র, শহর, জনপদ প্রভৃতি আগুনে পুড়িয়ে, পানীয় জলে বিষ মিশিয়ে দিয়ে যায়। রুশ বাহিনীর এই পদক্ষেপ ‘পােড়ামাটি নীতি’ নামে পরিচিত।

 

প্রশ্ন রাশিয়া অভিযানে নেপোলিয়নের ব্যর্থতার দুটি প্রধান তাৎপর্য উল্লেখ করো।

 

রাশিয়া অভিযানে নেপােলিয়নের ব্যর্থতার দুটি প্রধান তাং ছিল—1] নেপােলিয়ন যে অপরাজেয় নন তা ইউরােপের দেশগুলি কাছে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। [2] রাশিয়া অভিযানে তার ব্যর্থ অনুপ্রাণিত হয়ে ফরাসি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন জাতি নেপােলিয়নের বি মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে।

 

প্রশ্নঃ কসাক গেরিলা বাহিনী কী ?

 

কসাক গেরিলা বাহিনী হল রাশিয়ার একপ্রকার বিশেষ সেনাবাহি এরা সাধারণত আড়ালে থেকে যুদ্ধ করে।

 

প্রশ্ন ) স্পেনীয় ক্ষত কী? 

 

ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন স্পেন দখল করে সেখানকার সিংহাস, নিজের ভাই জোসেফকে বসিয়ে দিলে স্পেনবাসী নেপােলিয়নে বিরুদ্ধে তীব্র মুক্তিসংগ্রাম শুরু করে। স্পেনের যুদ্ধে নেপােলিয়নে বাহিনীর শােচনীয় পরাজয় ঘটে এবং জোসেফ স্পেন থেকে ফি, আসতে বাধ্য হন। স্পেনে নেপােলিয়নের এই সামরিক ব্যর্থতা ‘স্পেন। ক্ষত’ নামে পরিচিত।

 

 

প্রশ্ন : ‘ম্পেনীয় ক্ষত’কীভাবে নেপােলিয়নকে ধ্বংস করেছি

 

 ‘স্পেনীয় ক্ষত’ বিভিন্নভাবে নেপােলিয়নকে ধ্বংস ক শুরু করে।

 

[1] নেপােলিয়ন স্পেন দখল করলে প্রবল জাতীয়তাবাদে স্পেনবাসী তার বিরুদ্ধে দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামে লিপ্ত হয় (১৮০৮-১৪ [2] স্পেন, পাের্তুগাল ও ইংল্যান্ডের সম্মিলিত বাহিনীর কাছে ফ্র চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে।[3] যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে নেপােলিয়নের ভাব নষ্ট হয়।[4] এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে নেপােলিয়নের অর্থনৈতিক ও সাম বিপর্যয় ঘটে। [5] ইউরােপে নেপােলিয়ন-বিরােধী শক্তি ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে।

 

 

প্রশ্নঃ *মহাদেশীয় ব্যবস্থা বলতে কী বােঝ?

 

ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন বার্লিন, মিলান, ওয়ারশ, ফঁতেনবু প্রভৃতি ডিক্রির মাধ্যমে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরােধ ঘােষণা করে বলেন যে, ইংল্যান্ডের কোনাে জাহাজ ইউরােপের কোনাে বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং ইউরােপের কোনাে রাষ্ট্র ইংল্যান্ড থেকে পণ্য আমদানি করতে পারবে না। এই নীতি ‘মহাদেশীয় ব্যবস্থা বা মহাদেশীয় অবরােধ ব্যবস্থা বা কন্টিনেন্টাল সিস্টেম’ নামে পরিচিত।

 

গ্রশ্ন। * নেপােলিয়ন কী উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহাদেশীয় অবরােধ ঘােষণা করেন ?

 

নেপােলিয়ন প্রধানত দুটি উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহাদেশীয় অবরােধ ঘােষণা করেন। যথা+1] মহাদেশীয় ভূখণ্ডে শিল্পোন্নত ইংল্যান্ডের পণ্য বিক্রি করে দিয়ে ইংল্যান্ডের অর্থনীতি পঙ্গু করা এবং [2] ইউরােপে ব্রিটিশ পণ্যের অনুপস্থিতির সুযােগে ফ্রান্সে দ্রুত শিল্পায়ন ঘটিয়ে ব্রিটিশ পণ্যের শূন্যস্থান দখল করা।

 

প্রশ্নঃ  বার্লিন ডিক্রিকী?

 

 

 নেপােলিয়ন মহাদেশীয় অবরােধ ব্যবস্থা কার্যকর করার উদ্দেশ্যে যেসব হুকুমনামা জারি করেন, সেগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল বার্লিন ডিক্রি (১৮০৬ খ্রি.)। এতে বলা হয়-1] ইংল্যান্ড বা তার উপনিবেশগুলির কোনাে জাহাজ ফ্রান্স এবং ফ্রান্সের মিত্র বা নিরপেক্ষ কোনাে দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। [2] এসব দেশে কোনাে জাহাজে করে ব্রিটিশ পণ্য ঢুকলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে।

 

প্রশ্নঃ  বার্লিন ডিক্রিতে কী বলা হয় ? 

 

ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে (১১ নভেম্বর) বার্লিনে এক হুকুমনামা বা ঘােষণা জারি করে বলেন যে41] ইংল্যান্ড বা তার উপনিবেশগুলির কোনাে জাহাজ ফ্রান্স এবং ফ্রান্সের মিত্র বা নিরপেক্ষ কোনো দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। [2] এসব দেশে কোনাে ব্রিটিশ পণ্য ঢুকতে দেওয়া হবে না। [3] এসব দেশে কোনাে জাহাজে করে ব্রিটিশ পণ্য ঢুকলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। এই ঘােষণা বার্লিন ডিক্রি নামে পরিচিত।

 

প্রশ্ন। অর্ডার্স-ইনকাউন্সিলে কী বলা হয়?

 

ইংল্যান্ড কর্তৃক ঘােষিত ‘অর্ডার্স ইন কাউন্সিল’-এর ঘােষণায় বলা হয় যে4[1] ফ্রান্স ও তার মিত্র দেশগুলির বন্দরে অন্য কোনাে দেশের জাহাজ ঢুকতে পারবে না। ঢুকলে সেই জাহাজ ও তার মালপত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে। [2] কোনো নিরপেক্ষ দেশ ফ্রান্স ও তার মিত্র কোনাে দেশের বন্দরে একান্তই জাহাজ পাঠাতে চাইলে সেই জাহাজকে যথার্থ ফি ইংল্যান্ডের কাছ থেকে লাইসেন্স বা আগাম অনুমতি নিতে হবে।

 

প্রশ্ন। ফঁতেনফ্লু-এর গােপন সন্ধি (১৮০৭ খ্রি.) সম্পর্কে কী জান?

 

পাের্তুগাল মহাদেশীয় অবরােধ ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করা নেপােলিয়ন স্পেনের সঙ্গে ফঁতেনঝু এর গােপন সন্ধি (১৮০৭ টি স্বাক্ষর করেন। এই সন্ধির দ্বারা স্থির হয় যে41) ফ্রান্স ও স্পেনে। যৌথ বাহিনী পাের্তুগাল আক্রমণ করবে। [2] যুদ্ধে জয়লাভের প পাের্তুগাল ও তার উপনিবেশগুলি ফ্রান্স ও স্পেন ভাগ করে নেবে।

 

প্রশ্নঃ  মিলান ডিক্রি কী?

 

 ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে মিলান শহর থে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরােধ ঘােষণা করে বলেন যে[1] কোনাে নিরপেক্ষ বা মিত্র দেশ অবরুদ্ধ বন্দরে জাহাজ পাঠালে; বাজেয়াপ্ত করা হবে। [2] কোনাে নিরপেক্ষ দেশের জাহাজ ইংল্যা । প্রবেশ করলে তা শত্রুদেশের জাহাজ বলে গণ্য হবে। এই ঘােষণা মিলান ডিক্রি নামে পরিচিত।

 

প্রশ্ন ) মহাদেশীয় অবরোধ প্রথা কার্যকর করতে গিয়ে নেপোলিয়ন হল্যান্ডের কি পদক্ষেপ নেন?

 

নেপােলিয়ন মহাদেশীয় অবরােধ প্রথা কার্যকর করতে গিয়ে রােম হল্যান্ডের প্রতি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। [1] রােমের পাে নেপােলিয়নের মহাদেশীয় অবরােধ মানতে অস্বীকার করেন। ফা নেপােলিয়ন পােপকে বন্দি করেন। [2] হল্যান্ডের শাসক (নেপােলিয়নের ভাই) মহাদেশীয় অবরােধ মানতে অস্বীকার কর, নেপােলিয়ন তাকে সিংহাসনচ্যুত করে হল্যান্ড দখল করেন।

 

প্রশ্নঃ ফঁতেনরু সন্ধি কত সালে, কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়? 

 

ফঁতেনফ্লু সন্ধি ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন ও বিড চতুর্থ শক্তিজোটের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।

 

প্রশ্নঃ মহাদেশীয় ব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হয়েছিল? 

 

নেপােলিয়নের মহাদেশীয় ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছিল কারণ। [1] নেপােলিয়ন মহাদেশীয় অবরােধ ঘােষণা করলেও শক্তিশ নৌবাহিনীর অভাবে তা বাস্তবায়িত করতে পারেননি। [2] ফ্রাণে বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড ‘অর্ডার্স-ইন কাউন্সিল’ নামে পালটা অবরােধ ঘাে করে তা নৌশক্তির জোরে বাস্তবায়িত করেন। [3] ফ্রান্সের পণ্যসাম গুণগত মান ব্রিটিশ পণ্যের সমতুল্য ছিল না বলে মহাদেশীয় ভূখণে রাষ্ট্রগুলি ব্রিটিশ পণ্যই কিনতে চাইত।

 

প্রশ্ন ) টিলসিটের সন্ধি’ থেকে রাশিয়া সরে দাঁড়িয়েছিল কেন?

 

রাশিয়া ও ফ্রান্সের মধ্যে টিলসিটের সন্ধি (১৮০৭ খ্রি.) স্বাক্ষরিত হয়। এই সন্ধি থেকে রাশিয়ার সরে দাঁড়ানাের কারণ ছিল—[1] সন্ধিতে সম্ভাব্য রুশ-তুরস্ক যুদ্ধে নেপােলিয়ন রাশিয়াকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি পরে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। [2] নেপােলিয়ন সুইডেনের বিরুদ্ধেও জার প্রথম আলেকজান্ডারকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা করেননি।

 

প্রশ্ন ) কনফেডারেশন অব দ্য রাইন’কী ? এর প্রতিষ্ঠাতা কে?

 

 ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন জার্মানির উটেমবার্গ, বেডেন, হেসবার্গ প্রভৃতি ছােটো ছােটো রাজ্য দখল করে এদের নিয়ে কনফেডারেশন বা রাষ্ট্রসমবায় গঠন করেন। এটি কনফেডারেশন অব দ্য রাইন’ নামে পরিচিত।

 

এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন।

 

প্রশ্ন। কনফেডারেশন অব দ্য রাইন কোন্ কোন্ রাজ্য নিয়ে গঠিত হয়?

 

  নেপােলিয়ন জার্মানির উটেমবার্গ, ব্যাভেরিয়া, ব্যাডেন, হেসবার্গ, স্যাক্সনি-সহ ক্ষুদ্র রাজ্যগুলি নিয়ে কনফেডারেশন অব রাইন’  গঠন করেন।

 

প্রশ্ন) ট্রাফালগারের যুদ্ধ কবে কাদের মধ্যে হয়?

 

[1] ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ সংঘটিত হয়। 2] ফ্রান্স  ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে ইংরেজ নৌ-সেনাপতি নেলসন ফরাসি নৌ-সেনাপতি ভিলনেউভ-কে শােচনীয়ভাবে পরাজিত করেন।

 

 প্রশ্ন )ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধের গুরুত্ব কী?

 

  ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ (২১ অক্টোবর, ১৮০৫ খ্রি.) ছিল নেপােলিয়নের পতনের প্রথম ধাপ। এই যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ইউরােপে নেপােলিয়নের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয় এবং ফরাসি নৌবহর । সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।

 

প্রশ্ন ) ডাইরেক্টরির আমলে ইটালিতে নেপােলিয়নের সাফল্য ব্যক্ত করাে।

 

 ডাইরেক্টরির শাসনকালে (১৭৯৫-৯৯ খ্রি.) নেপােলিয়ন [1] ইটালির সার্ডিনিয়াকে পরাজিত করে স্যাভয় ও নিস দখল করেন। [2]ইটালির পার্মা, মডেনা ও নেপক্স-এর শাসকরা নেপােলিয়নের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। [3] অস্ট্রিয়াকে পরাজিত করে লম্বার্ডি, ভেনিস ও মিলান দখল করেন।

 

প্রশ্ন )কিংডম অব ওয়েস্টফেলিয়া’সম্পর্কে কী জান? ।

 

নেপােলিয়ন এলবা নদীর পশ্চিম তীরবর্তী হ্যানােভার, স্যাক্সনি প্রভৃতি জার্মান রাজ্যগুলি দখল করে সেগুলিকে নিয়ে একটি রাষ্ট্রসমরায় গড়ে তােলেন যা ‘কিংডম অব ওয়েস্টফেলিয়া’ নামে পরিচিত। নেপােলিয়নের ছােটো ভাই জেরােম বােনাপার্ট এখানকার রাজা হন।

বিপ্লবী আদর্শ নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ

 

প্রশ্ন ) গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারশ’ কী?

 

 নেপােলিয়ন প্রাশিয়ার অধীনস্থ পােল্যান্ড এবং রাশিয়ার কিছু অংশ নিয়ে একটি রাষ্ট্রসমবায় গড়ে তােলেন যা ‘গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারশ’ নামে পরিচিত। স্যাক্সনির রাজা এখানকার শাসন পরিচালনার দায়িত্ব পান।

 

 

প্রশ্নঃ  ‘কোড নেপােলিয়ন’-এর গুরুত্ব কী ছিল ?

 

কোড যেমন— নেপােলিয়নের বিভিন্ন গুরুত্ব ছিল, (1) আইনসংহিতার মূল নীতিগুলি তৎকালীন যুগের বিচারে অত্যন্ত। আধুনিক ছিল। [2] আইনগুলি পরবর্তীকালে ইউরােপের বিভিন্ন দেশের আইনব্যবস্থায় স্থান পায়। ফিশারের মতে, এই আইনগুলি বিপ্লবের স্থায়ী বিজয়কে সুনিশ্চিত করে।

 

 

প্রশ্নঃ  কাকে, কেন ‘দ্বিতীয় জাস্টিনিয়ান’ বলে অভিহিত করা হয়?

 

 ফরাসি ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে ‘কোড শাসক নেপােলিয়ন। নেপােলিয়ন’ নামে নতুন আইনসংহিতা প্রণয়ন করেন। সমকালীন যুগের চেয়ে প্রগতিশীল এই আইনব্যবস্থা ছিল নেপােলিয়নের সর্বাপেক্ষা গৌরবময় সংস্কার এবং সর্বাধিক উল্লেখযােগ্য কীর্তি। এই কৃতিত্বের জন্য নেপােলিয়নকে দ্বিতীয় জাস্টিনিয়ান’ বলে অভিহিত করা হয়।

 

প্রশ্ন।   নেপােলিয়নের শিক্ষা সংক্রান্ত সংস্কারগুলি লেখাে।

 

নেপােলিয়নের শিক্ষাসংক্রান্ত প্রধান সংস্কারগুলি ছিল [1] তিনি প্রতিটি কমিউন বা পৌরসভায় একটি করে প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তােলেন। [2] তিনি সামরিক শিক্ষাদানের জন্য ফ্রান্সে ২৯টি লাইসি বা আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তােলেন। [3] সমগ্র ফ্রান্সে একইরকম শিক্ষা-পদ্ধতি প্রচলনের উদ্দেশ্যে তিনি ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে ইম্পিরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব ফ্রান্স’ প্রতিষ্ঠা করেন।

 

প্রশ্ন।  * নেপােলিয়নের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের দুটি উদ্দেশ্য লেখাে। 

 

 নেপােলিয়নের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের প্রধান দুটি উদ্দেশ্য ছিল— [1] বিপ্লব-বিধ্বস্ত ফ্রান্সে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশবাসীর মনে শান্তি ও নিরাপত্তাবােধ সুনিশ্চিত করা। [2] দেশের অর্থনৈতিক সংকট দূর করা।

 

 

 

প্রশ্ন।  কনকর্ডাট কত খ্রিস্টাব্দে কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়? 

 

 

| কনকর্ডাট বা ধর্ম-মীমাংসা চুক্তি ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন ও পােপ সপ্তম পায়াস-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।

 

প্রশ্নঃ নেপােলিয়নের আইনসংহিতায় (কোড নেপােলিয়ন) কতগুলি বিধি ও কটি ভাগ ছিল? 

 

 

 নেপােলিয়নের আইনসংহিতায় ২২৮৭টি বিধি ও ৩টি ভাগ ছিল।

 

 

 

প্রশ্ন।  নেপােলিয়নের আইনসংহিতার ত্রুটি কী ছিল? 

 

নেপােলিয়নের আইনসংহিতার প্রধান ত্রুটি ছিল—1] এই আইনের দার। নেপােলিয়নের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও বিপ্লবের অগ্রগতি রুদ্ধ হয়।

 

. [2] পিতাকে পরিবারের সর্বময় কর্তৃত্ব ও সন্তানদের ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব হয়। [3] ফরাসি বিপ্লবের দ্বারা নারীসমাজের বন্ধনমুক্তি ও সমান অধিকার লাভের যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল তা নেপােলিয়নের আইন পূরণ করতে পারেনি। [4] শ্রমিকদের কাজের অধিকার, নিম্নতম মজুরির অধিকার, ধর্মঘটের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের বিপদে ফেলা হয়।

 

প্রশ্নঃ  ব্যাংক অব ফ্রান্স কে, কত খ্রিস্টাব্দে গঠন করেন? 

 

ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে ব্যাংক অব ফ্রান্স গঠন করেন।

 

প্রশ্নঃ * কনকর্ডাট’ বা ‘ধর্ম-মীমাংসা চুক্তি কী?

 

ফরাসি বিপ্লবকালে ‘সিভিল কনস্টিটিউশন অব দ্য ক্লার্জি’ নামে এক দলিল দ্বারা ফরাসি গির্জার জাতীয়করণ করা হলে ফরাসি রাষ্ট্রের সঙ্গে পােপের বিরােধ বাধে। এই বিরােধের মীমাংসার উদ্দেশ্যে নেপােলিয়ন পােপ সপ্তম পায়াস-এর সঙ্গে যে চুক্তি স্বাক্ষর করেন তা কনকর্ডাট’ বা ‘ধর্ম-মীমাংসা চুক্তি’ নামে পরিচিত।

 

প্রশ্নঃ কনকর্ডাটের প্রধান শর্তগুলি কী ছিল? 

 

কনকর্ডাটের প্রধান শর্তগুলি ছিল—[1] পােপ ফরাসি গির্জা ও গির্জার সম্পত্তির জাতীয়করণ মেনে নেন। [2] ফ্রান্স রােমান ক্যাথলিক ধর্মমত ও গির্জাকে স্বীকৃতি দেয়। [3] বলা হয়, সরকার যাজকদের নিয়ােগ করবে এবং পােপ তাদের স্বীকৃতি দেবে। [4] রাষ্ট্র যাজকদের বেতন দেবে।

 

প্রশ্নঃ ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে কনকর্ডাট চুক্তি’-এর গুরুত্ব লেখো?

 

১৮০১ খ্রিস্টাব্দে কনকর্ডাট চুক্তি’-এর গুরুত্ব ছিল—[1] এই চুক্তির দ্বারা পােপ নবম পায়াস ফরাসি গির্জা ও গির্জার সম্পত্তির জাতীয়করণ মেনে নেন। [2] ফরাসি সরকার রােমান ক্যাথলিক ধর্মকে স্বীকৃতি দেয়। [3] যাজকদের নিয়ােগের ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতে চলে আসে। [4] সিন্ধান্ত হয় যে, এখন থেকে যাজকরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে বেতন পাবে।

 

 

প্রশ্ন। কনসুলেট ও ডাইরেক্টরির শাসনের মধ্যে দুটি সাদৃশ্য লেখো? 

 

  কনসুলেট ও ডাইরেক্টরির শাসনের মধ্যে দুটি সাদৃশ্য হল— [1] উভয় ব্যবস্থায় একাধিক শাসনের অস্তিত্ব ছিল। [2] উভয় ব্যবস্থায় শাসকরা ফ্রান্সের সাম্রাজ্যবাদী নীতি বজায় রেখেছিল।

 

প্রশ্ন।  * নেপােলিয়ন কীভাবে প্রাদেশিক প্রশাসন বিভাজিত করেন?

 

  নেপােলিয়ন সমগ্র ফ্রান্সকে ৮৩টি ডিপার্টমেন্ট বা প্রদেশে এবং প্রদেশগুলিকে ৫৪৭টি ক্যান্টন বা জেলায় বিভক্ত করেন। প্রদেশ ও জেলার শাসনকর্তা ছিলেন যথাক্রমে প্রিফেক্ট’ ও সাব- প্রিফেক্ট’।

 

প্রশ্ন।   নেপােলিয়ন কর্তৃক নিযুক্ত কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মচারীর নাম লেখাে।

 

  নেপােলিয়ন কর্তৃক নিযুক্ত কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা ছিলেন বিদেশ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত তালির, অর্থ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত গােদিন, পুলিশ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফুচে প্রমুখ।

 

 প্রশ্ন।  নীলনদের যুদ্ধ কবে, কাদের মধ্যে হয়েছিল?

 

 নীলনদের যুদ্ধ ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে হয়েছিল। এই যুদ্ধে ব্রিটিশ নৌ-সেনাপতি নেলসনের হাতে নেপােলিয়ন পরাজিত হন।

 

প্রশ্নঃ  নেপােলিয়ন নিজের বংশের শাসকদের কোথায় কোথায় শাসক পদে বসান।

 

 নেপােলিয়ন নিজ ভ্রাতা জোসেফকে স্পেনের সিংহাসনে, লুই বােনাপার্টকে হল্যান্ডের সিংহাসনে এবং জেরােম বােনাপার্টকে ওয়েস্টফেলিয়ার সিংহাসনে বসান।

 

প্ৰশ্ন।  কবে, কোথায় নেপােলিয়নের জন্ম হয়েছিল?

 

 ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট ভূমধ্যসাগরের কর্সিকা দ্বীপের অ্যাজাকসিও নামক স্থানে এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে নেপােলিয়নের জন্ম হয়েছিল।

 

বিপ্লবী আদর্শ, নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ নবম শ্রেণি

 

প্রশ্ন।  নেপােলিয়নের যুগ কাকে বলে? 

 

নেপােলিয়ন ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথম কনসাল হিসেবে ফ্রান্সের ক্ষমতা দখল করেন। তখন থেকে ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নেপােলিয়ন ছিলেন ফ্রান্সের সর্বময়কর্তা। এই পর্বে তাকে পরিবর্তন ঘটে। তাই এই সময়কালকে ‘নেপােলিয়নের যুগ’ বলা হয়। কেন্দ্র করেই ফ্রান্স তথা ইউরােপে ব্যাপক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। তাই এই সময় কালকে নেপোলিয়নের যুগ বলা হয়।

 

প্রশ্নঃ  ক্যাম্পাে ফরমিয়াের সন্ধির শর্তগুলাে লেখাে।

 

 

ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন ও অস্ট্রিয়ার সম্রাট দ্বিতীয় ফ্রান্সিসের মধ্যে ক্যাম্পাে-ফোর্মিও সন্ধি (১৭৯৭ খ্রি.) স্বাক্ষরিত হয়। এই সন্ধির প্রধান শর্তগুলি ছিল—[1] অস্ট্রিয়া উত্তর ইতালির লম্বার্ডি ফ্রান্সকে ছেড়ে দেবে, [2] ফরাসি সাম্রাজ্যের সীমানা রাইন নদীর পূর্ব পার পর্যন্ত নির্দিষ্ট থাকবে। [3] বেলজিয়াম ও আয়ােনীয় দ্বীপপুঞ্জের ওপর ফ্রান্সের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

 

 

প্রশ্ন। ব্রুমেয়ার’ বলতে কী বােঝ? 

 

 ফরাসি সেনাপতি নেপােলিয়ন বােনাপার্ট ডাইরেক্টরির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ফ্রান্সে কনসুলেট’ নামে নতুন শাসনব্যবস্থা চালু করেন এবং নিজে প্রথম কনসাল হিসেবে ফ্রান্সের শাসনক্ষমতা হস্তগত করেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক এই ঘটনাকে ফরাসি বিপ্লবের সমাপ্তি বলে মনে করেন। এই ঘটনা ঘটেছিল ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দের ৯ নভেম্বর অর্থাৎ প্রজাতন্ত্রী ফ্রান্সের ক্যালেন্ডার অনুসারে ১৮ ব্লুমেয়ার তারিখে, এজন্য এই ঘটনাকে ‘১৮ ব্ৰমেয়ার’ বলা হয়।

 

 প্রশ্নঃ নেপােলিয়ন কীভাবে ফ্রান্সের ক্ষমতা দখল করেন ?

 

 নেপােলিয়ন প্রথম জীবনে একজন সাধারণ সৈনিক থেকে যােগ্যতার প্রমাণ দিয়ে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হন। তিনি অদক্ষ ডাইরেক্টরির শাসনকালে (১৭৯৫-৯৯ খ্রি.) বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে চমকপ্রদ সাফল্যের পরিচয় দিয়ে দেশবাসীর মন জয় করেন এবং ডাইরেক্টরির শাসনের অবসান (৯ নভেম্বর, ১৭৯৯ খ্রি.) ঘটিয়ে কনসুলেট নামে নতুন শাসনব্যবস্থা চালু করেন। তিনি প্রথম কনসাল হিসেবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন।

 

প্রশ্ন।  ‘ভঁদেমিয়ার ঘটনা কী? অথবা, অক্টোবরের ঘটনা কী?

 

 ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯ খ্রি.) পরবর্তীকালে রাজতন্ত্রের সমর্থক উন্মত্ত জনতা ১৭৯৫ খ্রিস্টাব্দের ৫ অক্টোবর ফরাসি জাতীয় সভা আক্রমণ করলে ফরাসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নেপােলিয়ন অল্প সংখ্যক সৈন্য নিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করেন এবং জাতীয় সভা রক্ষা করেন। এটি ‘দেমিয়ার ঘটনা’ বা ‘অক্টোবরের ঘটনা’ নামে পরিচিত।

 

প্রশ্নঃ সিজালপাইন প্রজাতন্ত্র কি?

 

নেপােলিয়ন ইটালির লম্বার্ডি দখল করে সেখানে যে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন তা সিজালপাইন প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত। এটি ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে ইতালীয় রাজ্য’ নামে পরিচিত হয়।

 

প্রশ্ন। কে, কোথায় বাটাভিয়া’ প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন?

 

অধীনে এক তাবেদার প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বাটাভিয়া প্রজাতন্ত্র ফরাসি সেনাপতি পেশেঠু হল্যান্ড দখল করে সেখানে ফ্রান্সের নামে পরিচিত।

 

প্রশ্নঃ *কনসুলেটের শাসন’কী? *

 

  ফরাসি সেনাপতি নেপােলিয়ন ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে ডাইরেক্টরির শাসনের অবসান ঘটিয়ে (৯ নভেম্বর, ১৭৯৯ খ্রি.) ফ্রান্সে এক নতুন শাসনব্যবস্থা চালু করেন। এই ব্যবস্থায় নেপােলিয়নসহ মােট ৩ জন কনসালের হাতে ফ্রান্সের শাসনভার তুলে দেওয়া হয়। এটি কনসুলেটের শাসন’ নামে পরিচিত।

 

প্রশ্নঃ কনসুলেটের শাসনকালে ফ্রান্সের তিন জন কনসালের নাম লেখাে।

 

 

কনসুলেটের শাসনকালে ফ্রান্সের প্রথম কনসাল ছিলেন নেপােলিয়ন যিনি ছিলেন দেশের চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। অন্য দুই কনসাল ছিলেন আবে সিয়েস ও রজার ডুকোস। তাঁরা ছিলেন প্রথম কনসালের সহকারী ও আজ্ঞাবাহী মাত্র।

 

প্রশ্ন। প্রথম কনসাল হিসেবে নেপােলিয়নের কী ক্ষমতা ছিল?

 

  প্রথম কনসাল হিসেবে নেপােলিয়ন অপ্রতিহত ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তার হাতে সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী, মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত প্রমুখের নিয়ােগ, আইন প্রণয়ন, যুদ্ধ ঘােষণা, শান্তিস্থাপন প্রভৃতি দায়িত্ব ছিল।

 

বিপ্লবী আদর্শ, নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ ছোট প্রশ্ন উত্তর

 

প্রশ্নঃ. নেপােলিয়নের বাহিনীর বিরুদ্ধে কে ‘পােড়ামাটি নীতি’ নিয়েছিলেন? 

 

নেপােলিয়ন বাহিনীর বিরুদ্ধে রুশ সেনাপ্রধান কুটুসফ পােড়ামাটি নীতি নিয়েছিলেন। 

 

প্রশ্নঃ. ‘পােড়ামাটি নীতি’ কোন্ রাষ্ট্র গ্রহণ করেছিলেন?

 

  রাশিয়া ফরাসি অভিযানের বিরুদ্ধে ‘পােড়ামাটি নীতি গ্রহণ করেছিল।

 

প্রশ্নঃ. রাশিয়া কোন্ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘পােড়ামাটি নীতি গ্রহণ করে?

 

  রাশিয়া নেপােলিয়নের ফরাসি সেনাবাহিনীর আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে ‘পােড়ােমাটি নীতি গ্রহণ করে।

 

প্রশ্নঃ. বােরােডিনাের যুদ্ধ কবে, কাদের মধ্যে হয়েছিল?

 

 ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া ও ফ্রান্সের মধ্যে বােরােডিনাের যুদ্ধ হয়েছিল।

 

প্রশ্নঃ. ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে কোন্ ঘটনা নেপােলিয়নকে শক্তি করেছিল ?  

 

 ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া অভিযানের সময় নেপােলিয়নের গ্রান্ড আর্মির ব্যাপক ধ্বংসসাধন তাকে শঙ্কিত করেছিল।

 

প্রশ্নঃ. শতদিবসের রাজত্ব কোন্ সম্রাটের সময়ের ঘটনা?

 

শতদিবসের রাজত্ব ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়নের সময়ের ঘটনা।

 

প্রশ্নঃ. ‘একশত দিবসের রাজত্ব’ কোন্ সময়কালকে বােঝায়?

 

 নেপােলিয়ন এলবা দ্বীপের নির্বাসন থেকে ফিরে এসে (১ মার্চ, ১৮১৫ খ্রি.) ফ্রান্সে তিনি আবার মােটামুটি ১০০ দিন রাজত্ব করার সুযােগ পান। একশত দিবসের রাজত্ব’ বলতে ১ মার্চ থেকে ১০০ দিন সময়কালকে বােঝায়।

 

প্রশ্নঃ. প্রথমে কারা, কার বিরুদ্ধে উপদ্বীপের যুদ্ধ শুরু করে ? 

 

 প্রথমে স্পেন ও পাের্তুগাল, ফ্রান্সের বিরুদ্ধে উপদ্বীপের যুদ্ধ শুরু করে।

 

প্রশ্নঃ. লাইপজিগের যুদ্ধ কবে, কাদের মধ্যে হয়েছিল? 

 

 ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স ও চতুর্থ শক্তিজোটের বিভিন্ন দেশের মধ্যে লাইপজিগের যুদ্ধ হয়েছিল।

 

প্রশ্নঃ. কবে, কোন যুদ্ধে নেপােলিয়নের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে ?  

 

 ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে (১৮ জুন) ওয়াটারলু-এর যুদ্ধে নেপােলিয়নের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে।

 

প্রশ্নঃ. কোন যুদ্ধকে জাতিসমূহের যুদ্ধ’ বলা হয়? অথবা, কোন যুদ্ধ জাতিসমূহের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত? 

বিপ্লবী আদর্শ নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ

লাইপজিগের যুদ্ধকে (১৮১৩ খ্রি.) জাতিসমূহের যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করা হয়।

 

প্রশ্নঃ. নেপােলিয়ন স্পেন জয়ের পর স্পেনের সিংহাসনে কাকে বসান?

 

  নেপােলিয়ন স্পেন জয়ের পর তার নিজের ভাই জোসেফকে স্পেনের সিংহাসনে বসিয়েছিলেন।

 

প্রশ্নঃ . উপদ্বীপের কোন যুদ্ধে ফরাসি বাহিনীর চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে ? 

 

 উপদ্বীপের ভিত্তোরিয়ার যুদ্ধে (১৮১৩ খ্রি.) ফরাসি বাহিনীর চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে।

 

প্রশ্নঃ. কবে, কাদের মধ্যে ড্রেসডেনের যুদ্ধ হয়েছিল ?

 

১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে ড্রেসডেনের যুদ্ধ হয়েছিল।

 

প্রশ্নঃ  শতদিবসের রাজত্ব’-এর সময়কাল উল্লেখ করাে।

 

শতদিবসের রাজত্ব’-এর সময়কাল হল ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ থেকে ২৯ জুন।

 

প্রশ্নঃ. কবে, কাদের উদ্যোগে ফ্রান্স-বিরােধী তৃতীয় শক্তিজোট গড়ে ওঠে?

 

  ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, রাশিয়া ও সুইডেনের উদ্যোগে ফ্রান্স-বিরােধী তৃতীয় শক্তিজোট গড়ে ওঠে।

 

প্রশ্নঃ, চতুর্থ শক্তিজোটের কয়েকজন সেনাপতির নাম লেখাে। 

 

 উইটগেনস্টাইন, ইয়র্ক, বুলাে, ব্লকার প্রমুখ ছিলেন চতুর্থ শক্তিজোটের কয়েকজন সেনাপতি।

 

প্রশ্নঃ  কোন্ রুশ সেনাপতির হাতে নেপােলিয়নের পতন হয় ?

 

 রুশ সেনাপতি কুতুজভের হাতে নেপােলিয়নের পতন হয়।

 

প্রশ্নঃ  কোন্ সন্ধির মাধ্যমে নেপােলিয়নকে এলবা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানাে হয় ? 

 

  ফঁতেনব্লু সন্ধির মাধ্যমে নেপােলিয়নকে এলবা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানাে হয়।

 

প্রশ্নঃ. ‘ওয়াটারলুর যুদ্ধ’ কত খ্রিস্টাব্দে হয় ?

 

 ওয়াটারলুর যুদ্ধ হয় ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে।

 

প্রশ্নঃ  নেপােলিয়নের জীবনের শেষ যুদ্ধ কোনটি ?

 

  নেপােলিয়নের জীবনের শেষ যুদ্ধ হল ওয়াটারলুর যুদ্ধ (১৮১৫ খ্রি.)।

 

প্রশ্নঃ. কোন্ ইংরেজ সেনাপতি ওয়াটারলুর যুদ্ধে নেপােলিয়নকে পরাজিত করেন? 

 

  ইংরেজ সেনাপতি আর্থার ওয়েলেসলি বা ডিউক অব ওয়েলিংটন ওয়াটারলুর যুদ্ধে নেপােলিয়নকে পরাজিত করেন।

 

প্রশ্নঃ. নেপােলিয়ন কবে, কোন্ সন্ধির দ্বারা সিংহাসন ত্যাগ করে এলবা দ্বীপে নির্বাসনে যান?

 

নেপােলিয়ন ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে ফতেনব্লু এর সন্ধির দ্বারা সিংহাসন ত্যাগ করে এলবা দ্বীপে নির্বাসনে যান।

 

প্রশ্নঃ  একজন রুশ সাহিত্যিকের নাম বলল।

 

 একজন রুশ সাহিত্যিক হলেন লিও টলস্টয়।

 

প্রশ্নঃ  কবে, কাদের নিয়ে ফ্রান্স বিরােধী দ্বিতীয় শক্তিজোট গড়ে ওঠে? 

 

  ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে (১২ মার্চ) ইংল্যান্ড, রাশিয়া, অস্ট্রিয়া, নেপলস, পাের্তুগাল ও তুরস্ককে নিয়ে ফ্রান্স-বিরােধী দ্বিতীয় শক্তিজোট গড়ে ওঠে।

 

প্রশ্নঃ  মৈত্রী জোট-এ কোন্ তিন দেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল?

 

মৈত্রী জোট-এ ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া এবং রাশিয়া—এই তিন দেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

প্রশ্নঃ নেপােলিয়ন স্পেনের কোন্ শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করেন? 

 

 নেপােলিয়ন স্পেনের বুরবো রাজবংশের শাসক চতুর্থ চার্লস ও যুবরাজ ফার্দিনান্দকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।

 

প্রশ্নঃ . নেপােলিয়ন কাকে স্পেনের সিংহাসনে বসান? 

 

 নেপােলিয়ন ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে স্পেন দখল করে নিজ ভ্রাতা জোসেফকে স্পেনের সিংহাসনে বসান।

 

প্রশ্নঃ  কোন্ যুদ্ধে পরাজয় ছিল নেপােলিয়নের পতনের প্রথম ধাপ। 

 

ঐতিহাসিক ডেভিড টমসনের মতে, স্পেনীয় যুদ্ধে পরাজ ছিল নেপােলিয়নের পতনের প্রথম ধাপ।

 

প্ৰশ্ন :‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ গ্রন্থটি কার রচনা?

 

 » ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ গ্রন্থটি লিও টলস্টয়-এর রচনা।

 

 প্রশ্নঃ কোন্ রুশ উপন্যাসে নেপােলিয়নের রাশিয়া অভিযানের বিবরণ রয়েছে? 

 

 লিও টলস্টয় রচিত ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ উপন্যায়ে নেপােলিয়নের রাশিয়া অভিযানের সুন্দর বিবরণ আছে।

 

প্রশ্নঃ  নেপােলিয়ন কবে রাশিয়া আক্রমণ করে?

 

  নেপােলিয়ন ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া আক্রমণ করে।

 

প্রশ্নঃ  কোন্ গ্রন্থে নেপােলিয়নের রুশ অভিযানের বিবরণ পাও যায় ?

 

  লিও টলস্টয়-এর ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ গ্রন্থে নেপােলিয়নের রুশ অভিযানের বিবরণ পাওয়া যায়।

 

প্রশ্নঃ  ‘পােড়ামাটির নীতি’ কী ? 

 

 ‘পােড়ামাটির নীতি’ হল যুদ্ধের একপ্রকার রণকৌশল। এ শত্রুদলের অগ্রগতির সময় নিজ দেশের সম্পদ ধ্বংস কর সেনাদের পিছু হটানাে হয়।

 

নবম শ্রেণীর ইতিহাস অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন বিপ্লবী আদর্শ, নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ

 

প্রশ্নঃ  টিলসিটের সন্ধি কত খ্রিস্টাব্দে হয় ?

 

 

 টিলসিটের সন্ধি হয় ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে। 

 

প্রশ্নঃ  টিলসিটের সন্ধি কাদের মধ্যে হয়েছিল ?

 

ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন এবং রাশিয়ার জার প্রথম আলেকজান্ডারের মধ্যে ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে টিলসিটের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে অস্ট্রিয়া ও প্রাশিয়া এই সন্ধিতে যােগদান করে।

 

প্রশ্নঃ  সিজালপাইন প্রজাতন্ত্রের ভিত্তিভূমি কী ছিল?

 

নেপােলিয়ন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সিজালপাইন প্রজাতন্ত্রের ভিত্তিভূমি ছিল ইটালি।

 

প্রশ্নঃ  সিজালপাইন প্রজাতন্ত্রের পরের নাম কী?

 

  সিজালপাইন প্রজাতন্ত্রের পরের নাম হল ইটালি প্রজাতন্ত্র। 

 

 

প্রশ্নঃ  ইতালীয় প্রজাতন্ত্র কাকে বলে?

 

ডাইরেক্টরি শাসনকালে ইটালিতে সিজালপাইন প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হয়। এটিই ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে ইটালীয় প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত হয়। 

 

 

প্রশ্নঃ নেপােলিয়ন ইউরােপের কোন্ কোন্ দেশ অধিকার করেন? 

 

  নেপােলিয়ন ইউরােপের জার্মানির বৃহদংশ, ইটালির বৃহদংশ, স্পেন, হল্যান্ড, মিশর, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, পােল্যান্ড প্রভৃতি দেশ অধিকার করেন। 

 

প্রশ্নঃ ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্য কে গঠন করেন?

 

  নেপােলিয়ন বােনাপার্ট হ্যানােভার, স্যাক্সনি, ব্যান্সউইক, হেসে কেসেল প্রভৃতি রাজ্যাংশ নিয়ে ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্য গঠন করেন।

 

প্রশ্নঃ. নেপােলিয়ন কোন্ কোন্ রাজ্যাংশ নিয়ে ‘কিংডম অব ওয়েস্টফেলিয়া’ গঠন করেন? 

 

 নেপােলিয়ন এলবা নদীর পশ্চিম তীরবর্তী হ্যানােভার, স্যাক্সনি প্রভৃতি জার্মান রাজ্যগুলি দখল করে সেগুলিকে নিয়ে ‘কিংডম অব ওয়েস্টফেলিয়া’ রাজ্য গঠন করেন।

 

প্রশ্নঃ নেপােলিয়নের কোন্ দুই ভাই জার্মানি ও নেদারল্যান্স-এ শাসন ক্ষমতায় বসেন? 

 

 নেপােলিয়নের ভাই জেরােম বােনাপার্ট জার্মানির ও লুই নেপােলিয়ন নেদারল্যান্ডস-এর শাসন ক্ষমতায় বসেন।

 

প্রশ্নঃ  কত খ্রিস্টাব্দে নেপােলিয়ন কনফেডারেশন অব দ্য রাইন গঠন করেন? 

 

 ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে নেপােলিয়ন জার্মানির উটেমবার্গ, বেডেন, হেসবার্গ প্রভৃতি ছােটো ছােটো রাজ্য দখল করে। কনফেডারেশন অব দ্য রাইন’ গঠন করেন।

 

 

প্রশ্নঃ হােহেনলিন্ডেনের যুদ্ধ কবে, কাদের মধ্যে হয়েছিল ? 

 

  ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে হােহেনলিন্ডেনের যুদ্ধ হয়েছিল।

 

প্রশ্নঃ . কবে, কাদের মধ্যে লুনভিলের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়?

 

  ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে লুনভিলের সদি স্বাক্ষরিত হয়।

 

প্রশ্নঃ উলমের যুদ্ধ কবে, কাদের মধ্যে হয়েছিল?

 

. উলমের ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে উমের যুদ্ধ হয়েছিল।

 

প্রশ্নঃ  ম্যারেঙ্গের যুদ্ধ কবে, কাদের মধ্যে হয়েছিল?

 

  ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে ম্যারেঙ্গের যুদ্ধ। হয়েছিল।

 

প্রশ্নঃ  ট্রাফালগারের যুদ্ধে ফ্রান্স কার কাছে পরাজিত হয় ?

 

  ট্রাফালগারের যুদ্ধে ফ্রান্স ইংল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়।

 

 

 বিপ্লবী আদর্শ, নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ ছোট প্রশ্ন উত্তর

 

 

প্রশ্নঃ  ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি কে ছিলেন?

 

 ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি ছিলেন নেলসন।

 

প্রশ্নঃ. ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধে কে কাকে পরাজিত করেন?

 

  ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধে ইংল্যান্ডের সেনাপতি নেলসন ফরাসি সেনাপতি ভিলেনেউভকে পরাজিত করেন।

 

প্রশ্নঃ  গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারশ’ কোথায় গঠন করা হয় ?

 

নেপােলিয়ন প্রাশিয়ার অধীনস্থ পােল্যান্ড এবং রাশিয়ার কিছু অংশ নিয়ে গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারশ’ গঠন করেন।

 

প্রশ্নঃ , ফঁতেনব্লু চুক্তি’ কত সালে হয়? 

 

 ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন ও চতুর্থ শক্তিজোটের মধ্যে ফঁতেনব্লু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই সন্ধির দ্বারা নেপােলিয়ন ফ্রান্সের সিংহাসন ত্যাগ করে এলবা দ্বীপে নির্বাসিত হন।

 

প্রশ্নঃ  পেনিনসুলার যুদ্ধ কাদের মধ্যে হয়েছিল ?

 

  স্পেন ও পাের্তুগালের সম্মিলিত বাহিনীর সঙ্গে ফ্রান্সে পেনিনসুলার যুদ্ধ (১৮০৮ খ্রি.-১৮১৪ খ্রি.) হয়েছিল। এই যুদ্ধে স্পেনের আবেদনে ইংল্যান্ড প্রচুর সেনাবাহিনী সামরিক সাহায্য পাঠান।

 

প্রশ্নঃ . নেপােলিয়ন কত খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের আইনসংহিতার সংকলন করেন?

 

 নেপােলিয়ন ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের আইনসংহিতার সংকলন করেন।

 

প্রশ্নঃ  কবে কোড নেপােলিয়ন প্রচলিত হয় ?

 

 ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে ‘কোড নেপােলিয়ন’ প্রচলিত হয়।

 

প্রশ্নঃ ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে আইনসংহিতা সংকলন করেন কে ? 

 

 ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে আইনসংহিতা সংকলন করেন সম্রাট নেপােলিয়ন বােনাপার্ট।

 

প্রশ্নঃ  কাদের মধ্যে কনকর্ডাট/ধর্মবিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?

 

ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন এবং পােপ সপ্তম পায়াসের মধ্যে (১৮০১ খ্রি.) কনকর্ডাট বা ধর্মবিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

 

প্রশ্নঃ  ফরাসি সমাজের বাইবেল’ কাকে বলা হয় ?

 

 ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দেনতুন আইনবিধির প্রবর্তন করেন। কোড নেপােলিয়ন’ নামে পরিচিত এই আইনবিধি ফরাসি সমাজের বাইবেল’ নামে পরিচিত।

 

প্রশ্নঃ  নেপােলিয়ন প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলি কী নামে পরিচিত? 

 

নেপােলিয়ন প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলি লাইসি নামে পরিচিত। 

 

প্রশ্নঃ  কে ব্যাংক অব ফ্রান্স’ প্রতিষ্ঠা করেন? অথবা, ব্যাংক অব ফ্রান্স কে গঠন করেন 

 

 নেপােলিয়ন বােনাপার্ট (১৮০০ খ্রি.) ব্যাংক অব ফ্রান্স প্রতিষ্ঠা করেন।

বিপ্লবী আদর্শ নেপােলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ

প্রশ্নঃ  নেপােলিয়নকে কেন দ্বিতীয় জাস্টিনিয়ন বলা হয় ?

 

   মধ্যযুগে রােমান সাম্রাজ্যের যুগে সম্রাট জাস্টিনিয়ান প্রথম বিভিন্ন আইন সংকলিত করে খ্যাতি অর্জন করেন। আধুনিক যুগে ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়নও তার কোড নেপােলিয়ন প্রবর্তনের মাধ্যমে কৃতিত্বের পরিচয় দেন। এজন্য তাকে দ্বিতীয় জাস্টিনিয়ান বলা হয়।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *