আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার প্ৰশ্ন উত্তর দশম শ্রেণীর বাংলা

 আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার প্ৰশ্ন উত্তর দশম শ্রেণীর বাংলা

 

 

আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি

শঙ্খ ঘােষ

 আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে।

 

আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার উৎস

‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’কবিতাটি কবিশঙ্খ ঘােষের পাষাণ হয়ে আছে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে।

আয়-আরাে-বেঁধে-বেঁধে-থাকি-কবিতার-প্ৰশ্ন-উত্তর-দশম-শ্রেণীর-বাংলা

 

আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার সারাংশ

দেশবাসী অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তাদের ডানপাশে ধস। বাঁপাশে গিরিখাদ। মাথারওপর বােমারু বিমান। পায়ে হিমানীর বাঁধ। তারা পথহীন, গৃহহীন। এমন অসহায় দুরবস্থা তাদের। কাছাকাছি কিংবা দূরে তাদের শিশুদের শব ছড়ানাে। তবে তারাও কি এখন মৃত্যুর বলি হবে? একত্র হয়ে নিজেরা শক্ত বাঁধনে বাঁধা হওয়া ছাড়া তাদের অন্য কোনাে পথ নেই।

হয় তাদের ইতিহাস নেই, নয়তাে তাদের ইতিহাস এমনটাই। তারা চোখমুখ ঢাকা বারাে মাসের ভিখিরি। পৃথিবী বেঁচে আছে হয়তাে, অথবা মৃত। তাদের কেবা জানে। কেবা খোঁজ রাখে তাদের ভিখিরি দশার। কোথাও কেউ না থাকলেও তবু তাে কয়েকজন মানব বােধবুদ্ধি ও চেতনাসম্পন্ন মানুষ আছেন। তারা এসে হাতে হাত রেখে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেরানিজেদের আরও শক্ত বাঁধনে বেঁধে সংঘবদ্ধতার দৃষ্টান্ত রাখুন।

আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি বড় প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন ) ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় কবির সমাজচেতনার পরিচয় দাও।

উত্তর: এ কালের বিবেক কবি শঙ্খ ঘােষ একজন মননশীল ও অনুভূতিপ্রবণ মানুষ। তাই স্বাধীনতার পরবর্তী কালের রাষ্ট্রীয় , দেশের মানুষের অভাব-অনটন, তাদের বিপন্নতার ছবি এঁকেছেন তাঁর ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায়। সমাজসচেতন শিল্পী বলেই সমকালের ছবিকে বাঙ্য় রূপ দিয়েছেন কবি। কবি প্রত্যক্ষ করেছেন, বিংশ শতাব্দী অতিক্রম করেও একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বব্যাপী ক্ষমতা লােলুপতা জনজীবনে প্রভাব বিস্তার করেছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিধর দেশগুলি নিজেদের আধিপত্য কায়েম করার লক্ষ্যে চালাচ্ছে যুদ্ধ। ফলে সাধারণ মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। ঘৃণ্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফলে মানুষের মধ্যে বাড়ছে সাম্প্রদায়িক হিংসা, গােষ্ঠী সংঘর্ষ। এর কুফল ভােগ করতে হচ্ছে দেশের নিরীহ, অতি সহজ সরল, শান্তিপ্রিয় মানুষজনকে। মানুষ হয়ে পড়ছে নিরাশ্রয়, তাদের চলার পথ হয়ে পড়ছে অবরুদ্ধ। কবি সখেদে, চরম দুঃখে উচ্চারণ করেন-“আমাদের পথ নেই কোনাে/ আমাদের ঘর গেছে উড়ে। সাম্রাজ্যবাদীর মদমত্ততায় খুন হতে হয় সুকুমারমতি নিস্পাপ শিশুদের। অনুভূতিপ্রবণ কবির শিহরিত চিত্ত উচ্চারণ করে—‘আমাদের শিশুদের শব/ছড়ানাে রয়েছে কাছে। দূরে। কবি এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে শঙ্কার সঙ্গে বলে  ওঠেন, ‘এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি? আসলে দেশের ক্ষমতাসীন শক্তি ক্ষমতার দম্ভে দিশাহীন আচরণ করে। এতে ভুক্তভােগী সাধারণ মানুষ। তারা ক্রমে ভিখারি দশাপ্রাপ্ত হয়ে যায়। ইতিহাসে লেখা হয় না তাদের কথা। তর করি সমাজেসচেতন মানুষ হিসেবে আশা, স্বপ্নকে জাগিয়ে দিতে চান মানুষের মনে। তিনি বলে ওঠেন, তবু তাে কজন আছি বাকি। অর্থাৎ বিবেকবান মানুষ এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি। তারা একদিন সংঘবদ্ধ হবেন। প্রতিরােধ-প্রতিবাদে গর্জে উঠবেন। আর কবির তাদের প্রতি আহ্বান ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি। এই উচ্চারণ কবির সমাজসচেতন মননেরই পরিচায়ক।

প্রশ্ন)  ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘আমাদের ইতিহাস বিষয়ে কবির ধারণাটি ব্যক্ত করাে। অথবা, আমাদের ইতিহাস নেই/অথবা এমনই ইতিহাস’-কবি ‘আমাদের ইতিহাস নেই’ বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন কেন?

– উত্তর: প্রত্যেক দেশ, প্রত্যেক জাতির নিজস্ব একটা ইতিহাস আছে। তার সুখ-দুঃখের, উত্থান-পতনের, গৌরব-অগৌরবের সে ইতিহাস লেখা হয়। কিন্তু কোনাে কোনাে ক্ষেত্রে সে ইতিহাসও লেখা হয় না। বাংলার যথার্থ ইতিহাসের অভাবের কথা অনেক বাঙালি। মনীষাই খেদের সঙ্গে ব্যক্ত করেছেন। এ কালের বিবেক, আধুনিক

বাংলা সাহিত্যের অসামান্য স্রষ্টা শঙ্খ ঘােষ তার ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় গভীর দুঃখের সঙ্গে উচ্চারণ করেছেন ‘আমাদের ইতিহাস নেই।

আলােচ্য কবিতায় কবি ‘আমাদের’ বলতে অখণ্ড এক মানবসত্তাকেই বুঝিয়েছেন। যুগে যুগে কালে কালে যে মানুষেরা নির্যাতিত সর্বস্ব হারানাে, মর্যাদা-বতি, শােষিত তাদের কথাই বলেছেন কবি। আসলে মানুষের যন্ত্রণার অংশীদার তিনি। যে সাধারণ মানুষ দেশের চালিকাশক্তি, যাদের প্রচেষ্টায় পৃথিবী-রথ সচল, তাদের কোনাে ইতিহাস রচিত হয় না। রাজা আসে, রাজা যায়। ওরা চিরকাল একইভাবে রয়ে যায়। কবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘ওরা চিরকাল দাঁড় টানে, ধরে থাকে হাল।

কবিতায় কবি আরও বলেছেন যে, ‘অথবা এমনই ইতিহাস’ ওইসব মানুষের জন্য লেখা হয়, তা মােটেই সুখপাঠ্য নয়। কারণ রচিত সেই কিৎি ইতিহাস ‘চোখ-মুখ ঢাকা। অর্থাৎ সে ইতিহাসে মানব-মহিমা নেই। এই সাধারণ সুবিধা-বঞ্চিত, শােষিত মানুষ ‘ভিখারি বারােমাস। নিঃস্ব, রিক্ত এইসব মানুষ। কবির সহমর্মিতা দেশের ওই ভাগ্যহত মানুষগুলির প্রতি। 

প্রশ্ন ) কবিশঙ্খ ঘােষের আয়আরােবেঁধেবেঁধেথাকি কবিতায় সমকালীন মানুষের অস্তিত্ব সংকটের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় লেখাে।

উওর : মানবতাবাদী কবি শঙ্খ ঘােষ তার ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় সমকালীন মানুষের অস্তিত্ব সংকটের চিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন।

> কবি দেখেছেন বড়াে সংকটাপন্ন অবস্থায় বেঁচে আছে মানুষ। তাদের ডানদিকে ধস, বাঁয়ে গিরিখাদ, মাথার ওপর বােমারু বিমান, পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ। এককথায় তারা অবরুদ্ধ। তাদের সাধারণ চলাচলের পথটিও মুক্ত নয়। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে তাদের বাসস্থান। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, ধর্মান্ধতা, বর্বর জঙ্গি হানা, রাজনৈতিক চক্রান্ত, শােষণ-শাসনের ষড়যন্ত্র সাধারণ মানুষকে একেবারে কোণঠাসা করে ফেলেছে। বিবেচনাহীন স্বার্থান্ধ রাষ্ট্রনায়কের মবিমৃষ্যকারীতায়, নিষ্ঠুরতায় প্রাণহানি ঘটছে যত্রতত্র। ভবিষ্যতের ধারক, নিস্পাপ শিশুরাও খুন হয়ে যাচ্ছে নির্বিচারে। যত্রতত্র পড়ে থাকছে তাদের শব। আতঙ্কিত সর্বজন। পায়ে পায়ে মৃত্যু এগিয়ে আসছে সকলের দিকেই।

এক মৃত্যুময় অবস্থানে বেঁচে আছে সবাই। ইতিহাসে এদের ঠাই নেই। এদের ইতিহাস বলে যদি কিছু থেকেও থাকে সেটা বিকৃত ইতিহাস। সভ্যতার আলাে থেকে এদের দূরে রাখা হয়েছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে, আত্মশক্তি, আত্মবিশ্বাস হারিয়ে এরা চির ভিখারিতে পরিণত হয়েছে। পৃথিবী এদের ব্যাপারে নিস্পৃহ। এদের কথা কেউ জানে না। জানান দেওয়ার ক্ষমতাটুকুও নেই। নিঃস্ব হয়ে দোরে দোরে ছুটছে এরা। এদের জন্য কোথাও কিছু নেই। দেশের নাগরিকদের মধ্যে এরা একটা সংখ্যা মাত্র। এরা কাউকে ভাবিত করতে পারে না। কেউ ভাবেও না এদের নিয়ে। এই দুঃসময়েও কবি আশাবাদী। তিনি মনে করেন এই অবস্থাতেও কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ আছেন। বেঁচে থাকতে হলে হাতে হাত রেখে ঐক্যবদ্ধ হতে  হবে এখন।

আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি

প্রশ্নঃ  “আমাদের শিশুদের শব/ছড়ানাে রয়েছে কাছে দুরে।”-কার, কোন্ কবিতার অংশ? ‘আমাদের’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর : স্বনামধন্য কবি শঙ্খ ঘােষের ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ শীর্ষক কবিতা থেকে উদ্ধৃতাংশটি উৎকলিত হয়েছে। যুদ্ধ, দাঙ্গা, জঙ্গি হানায় বিধ্বস্ত পৃথিবীতে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড দেখতে অভ্যস্ত; শােষণ, বঞ্চনার শিকারে অসহায় সাধারণ মানুষ; যারা নিজেদের শিশুদের শবদেহ দেখেও নীরব থাকতে বাধ্য হয়েছে তাদের কথাই বলা হয়েছে আমাদের’ শব্দটিতে।

হিংসা, হানাহানি, হত্যাকাণ্ডে বড়াে বিপন্ন, আতঙ্কিত বর্তমান সমাজের সাধারণ মানুষ। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, জঙ্গি হানা, রাষ্ট্রীয় বর্বরতা চরম সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। বর্বরােচিতনৃশংসতায় বলি হচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ। ঘটে যাচ্ছে নারকীয় হত্যাকাণ্ড। রেহাই পাচ্ছে না নিস্পাপ শিশুরাও। কাছে দূরে সর্বত্র ছড়িয়ে থাকছে শিশুদের মৃতদেহ। শিশুরা যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধারক, ওরা যে নিম্পাপ, এ কথাও মনে থাকছে না নরঘাতকদের। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শুধু বর্তমান নয় ভবিষ্যতের পৃথিবীকেও সীমাহীন অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে এরা। নির্মূল করে দিচ্ছে নব সূর্যোদয়ের যাবতীয় সম্ভাবনা। শিশুহত্যার মতাে নারকীয় কাণ্ড ঘটায় যারা তাদের দেখে আতঙ্কিত সবাই। তারা নিজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে না পেরে হতাশ। পৃথিবীর অবিমৃষ্যকারী হিংসার এ এক চরম দৃষ্টান্ত।

আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার প্ৰশ্ন উত্তর

সংক্ষিপ্ত প্ৰশ্ন উত্তর

প্রশ্ন ) ‘আমাদের চোখমুখ ঢাকা’—এ কথার তাৎপর্য কী?

– উত্তর : শঙ্খ ঘােষ খুব সমাজসচেতন কবি। সমাজের চির- আক্রান্ত অবলা আপামর মানুষের মুখপাত্ররূপে তাঁর পরিতৃপ্ত কবি- ভাষা—“আমাদের চোখমুখ ঢাকা। অর্থাৎ চোখে দেখেও দেখা হয় , মুখ থাকলেও কথা স্ফুরিত হয় না। দেখা হয় না মানে না-দেখার ভান করতে হয়। কথা স্ফুরিত হয় না মানে কথা বলতে মানা। তাই পরিতাপে পরিতাপে দিন যায়। আত্মধিক্কার আসে। এতদসত্ত্বেও আশাবাদী কবি। এই কবিতায়ও কবি তার আশাবাদিতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

 

 প্রশ্ন ) আমরা ভিখারি বারোমাস’ –বিশ্লেষণ অথবা, ‘আমরা ভিখারি বারােমাস’-কথাটির তাৎপর্য কী?

 

উওর : কবি দেশের জনমানুষকে ভিখারির মতাে দেখেছেন। কবি নিজেও তাদের মধ্যে শামিল হয়েছেন। নিঃস্বরাই ভিখারি হয়ে যায়। দেশবাসী কি নিঃস্ব হয়ে গেছে ? তাদের নিঃস্বতা কীসে? আসলে তাদের নিজের নিজত্ব বলে কিছু নেই। মনুষ্যত্ব, ব্যক্তিত্ব, দৃঢ়তা, সাহস ইত্যাদি হারিয়ে মানুষ ভিখারি হয়েছে। তাদের কাছ থেকে এসব কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেই তাদের এসবে অধিকার নেই। তাই তারা বারােমাস অর্থাৎ, নিত্যভিখারি।

 

প্রশ্ন ) ‘আমাদের কথা কে-বা জানে’–এ কথা কবি কে বলেছেন? –

 

উত্তর : উস্কৃতিতে হতভাগ্য মানবতার জন্য কবির গভীর মনােবেদনা প্রকাশ পেয়েছে। জগতের প্রতিটি মানুষের একটা সাধারণ চাহিদা থাকে। সে চাহিদার অনেকখানি পূরণ না হলে স্বাধীনতা কীসে? অবশ্য একটা দেশ কত দিন স্বাধীন, কতটা উন্নতি আনতে পেরেছে, ইত্যাদির প্রসঙ্গও থাকে । কিন্তু ন্যূনতম অধিকারের দাবিকেও নস্যাৎ করা যায় না। যারা সমাজের দণ্ডমুণ্ড, তারা নিজেদের কর্তৃত্ব এবং তাত্মপোষণ নিয়ে মশগুল। তাই সর্বসাধারণের আকাঙ্ক্ষা ও মর্যাদাকে আমল দেওয়ার অতটা সময় পান না।

প্রশ্ন ) ‘আমরা ফিরেছি দোরে দোরে।’—এ কথার। তাৎপর্যস্পষ্ট করাে।

উত্তর : দেশের অবহেলিত মানবতা অবশেষে নিরুপায় হয়ে গেলে, টিকে থাকবার জন্য স্রোতের তৃণকেও আশ্রয় করে থাকে। অবমানিত মনুষ্যত্ব অগত্যা পথে পথে বার হয়ে পড়ে। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে মানবতা ভিক্ষা করে। মানুষ তার জন্মগত অধিকারটুকুর খোঁজে মানুষের কাছে হাত পাতে। কী দুরবস্থা মানবসভ্যতার! তাদের আশা, হয়তাে ফিরে পাবে তার হারানো আত্মমর্যাদা।

 

প্রশ্ন ) ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’-কোন্ পরিস্থিতিতে কবি কীভাবে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন?

 

উত্তর : কবি উপলব্ধি করেছেন, একটা হতাশাজনক নিরুপায় অবস্থার মধ্য দিয়ে তিনি (মানুষ) চলেছেন। চারপাশে প্রচণ্ড বাধা-বন্ধকতা-হুংকার। প্রতিবাদ করা যায় না। প্রতিরােধ করা যায় না। এক আজব অক্টোপাস চারদিক থেকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে অকেজো করে দেওয়ার জন্য উদ্যত। তাই চলার বাঁচার কোনাে পথ নেই—উপায় নেই। অগত্যা? কবি জনমানুষকে ডাক দিচ্ছেন, সংকটময় মুহূর্তে সবাই একতাবদ্ধ হয়ে, পরস্পরকে সংকল্পের বাঁধনে বেঁধে বেঁধে জীবন বাঁচাতে।

 

প্রশ্ন )  “আমাদের ইতিহাস নেই”—কে, কেন এ কথা বলেছেন? 

 

উত্তর : কবি শঙ্খ ঘােষ রচিত ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে নেওয়া আলােচ্য অংশে সমাজের শােষিত, বঞিত, নিপীড়িত, বিপন্ন, বিধ্বস্ত, অসহায়, সর্বহারা শ্রেণির মানুষের কথাই কবি বােঝাতে চেয়েছেন।

স্বদেশের সাধারণ জনমানুষের কথা চিরকালই অবহেলিত থেকেছে। কবি প্রত্যক্ষ করেছেন ইতিহাসে এদের উপেক্ষিত হতে। ক্ষমতাবানদের কথাই ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে। এদের বন্দনা গান রচিত হয় ইতিহাসে। অথচ সাধারণ সর্বহারা জনগণের কথা তাতে থাকে না। সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি তাে সর্বহারা মানুষই। এ কথা সমাজের বিত্তবানরা মানতে চায় না। দেশের সামগ্রিক বিকাশে শােষিত, নিপীড়িত, উৎপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের ভূমিকা চেপে রাখা হয় ইতিহাসে। আর তাই মানবতাবাদী কবি উক্ত মন্তব্যটি করেছেন।

প্রশ্নঃ  “আমাদের ঘর গেছে উড়ে”-বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর : কবি শঙ্খ ঘােষের ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’কবিতা থেকে উদ্ধৃত এই অংশে অসহায় সাধারণ মানুষের আশ্রয়হীনতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

যুদ্ধ, দাগা, হিংস্রতা, হানাহানি, ধ্বংসের তাণ্ডব মানুষকে গৃহহীন করেছে। অবিবেচক, নরপিশাচের নিক্ষিপ্ত বােমায় কিংবা ঝড়ের তাণ্ডবে উড়ে গেছে ঘর। গৃহচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে উদ্বাস্তু শিবিরে। তারা ছিন্নমূল। নিদারুণ এই দুঃসময়ে হারিয়ে গেছে মানবিক মূল্যবােধ। সার্বিকভাবে নিরাশ্রয় মানুষ প্রতিদিন এক মৃত্যুময় বেঁচে থাকায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। দেখা দিয়েছে তাদের অস্তিত্বের সংকট।

প্রশ্ন) ‘আমাদের শিশুদের শব/ছড়ানাে রয়েছে কাছে দূরে!’—উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য লেখাে।

উত্তর : সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, জঙ্গি হানা, সাম্প্রদায়িকতা, কূট রাজনৈতিক চক্রান্ত পৃথিবীকে অসহিষ্ণু, অশান্ত, অস্থির করে তুলেছে। হিংসা, হানাহানি, হত্যাকাণ্ড চলেছে নিরন্তর। রেহাই পাচ্ছে না নিস্পাপ শিশুরাও। শিশুহত্যার মতাে নারকীয় কাণ্ড ঘটছে পৃথিবীর যে-কোনাে প্রান্তে। পড়ে থাকছে তাদের নিথর দেহ। হত্যাকাণ্ড চলছে নির্বিচারে। অসহায় দুর্বল পিতা তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে না পেরে হতাশায় ডুবে যাচ্ছে। অপরিণামদর্শী, নরপিশাচের চরমতম অমানবিকতার দৃষ্টান্ত রূপে ছড়িয়ে থাকা শিশুদের শবের চিত্র তুলে ধরে কবি সভ্যতার ঘুম ভাঙাতে চেয়েছেন।

 

প্ৰশ্ন) ‘পৃথিবী হয়তাে গেছেমরে’—পৃথিবী সম্পর্কে এই প্রশ্ন ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে কেন?

 

উত্তর : কবি শঙ্খ ঘােষের ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে গৃহীত এই অংশটুকু যথেষ্ট তাৎপর্যবহ। সভ্যতার ইতিহাসে দেখা গেছে পৃথিবী বারবার কাটিয়ে উঠেছে তার নারকীয় দুঃস্বপ্নের দিন। অবসান ঘটেছে দানবীয় তাণ্ডবের। কিন্তু বর্তমানে ঙ্গোহীন হিংসা, হানাহানি, শােষণ-সন্ত্রাসের দিনে, অমানবিক পরিস্থিতিতেও পৃথিবী নীরব। অদ্ভুত এক নির্বিরােধী ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা। এক মৃত্যুময় বেঁচে থাকা। কবি মানবপ্রেমিক, তাই এই দুঃসময়েও মানুষের এমন ঘৃণ্য আপসপন্থী মনােভাবে বিস্মিত হয়েছেন। তার মনে হয়েছে পৃথিবী হয়তাে মরে গেছে। 

আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা

প্ৰশ্ন ) প্রশ্নঃ )“এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?”- কাদের এই জিজ্ঞাসা? এই জিজ্ঞাসার কারণ কী? 

উত্তর : যুদ্ধ, দাঙ্গা, হিংসা, হানাহানি, পাশবিক নৃশংসতা থেকে নিজেদের শিশুসন্তানকে যারা রক্ষা করতে পারেনি সেই অসহায়, মৃতপ্রায় মানুষদের মনে এই সংশয়পূর্ণ জিজ্ঞাসা।

বর্তমানের আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে লােভ, হিংসা, স্বার্থান্ধতার চরম প্রকাশ দেখে সাধারণ মানুষ অসহায়, আত্মশক্তিহীন, মৃতপ্রায়। তারা দেখে চলেছে নৃশংসতার চরম প্রকাশ। ভবিষ্যতের ধারক নিস্পাপ শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে। । অমানবিকভাবে খুন করা হচ্ছে তাদের। এক প্রতিবাদহীন, অসহায় মৃত্যুবরণ করে যত্রতত্র পড়ে থাকছে তারা। সুতরাং যে কোনাে সময়, যে-কোনাে ব্যক্তির মৃত্যু ঘনিয়ে আসতে পারে। তাই এই জিজ্ঞাসা।

প্রশ্ন )  ‘তবু তাে কজন আছি বাকি’-‘তবু তাে’ কথাটি কেন বলা হয়েছে? অংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ 

> উত্তর : বর্তমানের ন্যায়নীতিভ্রষ্ট, আদর্শহীন, মনুষ্যত্বহীন সমাজে শােষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত, আত্মশক্তিহীন, কোণঠাসা, হতাশাগ্রস্ত মানুষ ছাড়াও কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন আশাবাদী মানুষও পৃথিবীতে আছে। এ কথা বােঝাতেই ‘তবু তাে’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

উদ্ধৃতাংশে কবির আশাবাদী মানসিকতা ব্যক্ত হয়েছে। পৃথিবীর এই দুঃসময়েও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন, আশাবাদী মানুষদের বিশ্বাসে আস্থা রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ালে এই ভয়ংকর অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে। এখন প্রয়ােজন হাতে হাত রেখে আরও কাছাকাছি আসা, আরও বেঁধে বেঁধে থাকা। তাহলেই এই দুঃস্বপ্নের দিন-রাত থেকে মুক্তিলাভ ঘটবে। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ সামান্য কয়েকজন হলেও এখনও দিন বদলের স্বপ্ন দেখেন কবি। 

 

প্রশ্নঃ ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’—কবি কাদের বঁধে বেঁধে থাকতে বলেছেন? তার এমন আহ্বানের কারণ  কী?

 

উত্তর : ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় যুদ্ধে, জঙ্গি হানায়, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসে, দাগায়, শােষণে, নিপীড়নে নিঃস্ব, হতাশ, আত্মশক্তিহীন সাধারণ মানুষদের কবি বেঁধে বেঁধে থাকতে বলেছেন।

 

সমকালীন আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের অস্তিত্বের সংকট দেখা দিয়েছে। তাদের পদে পদে মৃত্যুভয়। ছিন্নমূল জীবনে বিধ্বস্ত হতে হতে তারা ভিখারিতে পরিণত হয়েছে। তাদের না আছে বাসস্থান, না আছে পরিচিতি। মৃত্যুময় জীবনযাপন করতে করতে তারা হতাশ, ভীত-সন্ত্রস্ত, আত্মশক্তিহীন। অস্তিত্ব রক্ষার আত্মজাগরণের প্রশ্নে এই ঐক্যবদ্ধ একান্ত আবশ্যক বলে কবির এই আহ্বান।

 

আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি ছোট প্ৰশ্ন উত্তর

 

প্রশ্ন )  ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় কবি তাঁর কোন্ অভিপ্রায়কে প্রকাশ করেছেন?

 

উত্তর : কবিতায় কবি মানুষের সংহতি, একমত, একতা বা সংঘবদ্ধতার বিষয়টিকে প্রকাশ করেছেন।

 

 প্রশ্ন ) ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার মূলকথা কী?

 

উত্তর : কবিতার মূলকথা—জীবনে চলার পথে অনেক বাধা থাকবে, কিন্তু তার কাছে মাথা নত না করে চলতে হবে। সমবেত ভাবে সমস্যার সামনে দাঁড়িয়ে তার সমাধান করতে হবে। 

 

প্রশ্ন ) পথ না থাকলে কি করতে হবে?

 

উত্তর : সমকালীন চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দিশেহারা মানুষের চলার পথ নেই। তাই কবি হাতে হাত রেখে পরস্পর বেঁধে বেঁধে থেকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরােধ গড়ে তােলাকেই করণীয় বলে মনে করেছেন।

 

প্রশ্ন) ‘আমাদের ইতিহাস নেই’—একথা বলা হয়েছে।  কেন?

 

উত্তর: সাম্রাজ্যবাদীদের লােভ ও যুদ্ধের উন্মাদনা আমাদের অর্থাৎ, সাধারণ মানুষদের জীবন-জীবিকা ও অস্তিত্বের সংকট তৈরি করে বলে আমাদের ইতিহাস নেই’বলা হয়েছে।

 

প্রশ্ন> “ছড়ানাে রয়েছে কাছে দূরে!”—কী ছড়ানাে রয়েছে? 

 

উত্তর : শিশুদের শব।

 

উত্তর : সমকালীন চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দিশেহারা

 

উত্তর : শিশুদের শব।

 

প্রশ্নঃ) “আমাদের কথা কে-বা জানে”-কেন আমাদের কথা কেউ জানে না?

 

উ: সামাজিক শােষণে, বঞ্চনায়, নিপীড়নে দরিদ্র ঘরহারা, হা-অন্ন মানুষগুলি কোনাে দিনই নিজের বিশিষ্টতাকে ব্যক্ত করতে জানে না। শ্রেণিগতভাবেও তারা বড়াে অবহেলার পাত্র। তাই তাদের কথা কেউ জানে না।

 

প্রশ্ন ) “আমাদের চোখমুখ ঢাকা” কী? ‘—এ কথার অর্থ

 

উত্তর : সমাজে, সভ্যতায়, ইতিহাসে ক্ষমতাধর, প্রভাবশালী মানুষগুলিরই মুখ আলােকিত হয় চিরকাল। শােষণ, বঞ না, নিপীড়নের শিকার সাধারণ মানুষ সমাজের একটি বিশেষ শক্তি হয়েও অন্ধকারেই থেকে যায়।

 

প্রশ্ন ) ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি কেল বেঁধে বেঁধে থাকতে বলেছেন?

 

উত্তর : সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, দাগা, সাম্প্রদায়িকতা, রাজনৈতিক সন্ত্রাস, শােষণ, বঞনা বর্তমান পৃথিবীর মানুষকে দুর্বল এবং পারস্পরিক সম্পর্কশূন্য করে তুলেছে। হাতে হাত রেখে, কাছাকাছি থেকে সমষ্টিরূপে আত্মপ্রকাশ করলে কল্যাণ সাধিত হবে।

 

প্রশ্ন ) “আমাদের ঘর গেছে উড়ে”- —ঘর উড়ে গেছে বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?

 

উত্তর : উদ্ধৃত এই অংশে সমাজের দরিদ্র, আশ্রয়হীন মানুষগুলির কথা বলা হয়েছে। তাদের ঘর উড়ে গেছে অর্থাৎ, সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক নিষ্ঠুরতায় তারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

 

প্রশ্ন ) ‘আমাদের পথ নেই কোনাে’-কেন পথ নেই?

 

উত্তর : যুদ্ধে, দাঙ্গায়, সাম্প্রদায়িক হানাহানিতে, শােষণে, বনায় এক নিদারুণ প্রতিকূল অবস্থায় দিশেহারা মানুষ চলার পথ খুঁজে পাচ্ছে না। যে-কোনাে চূড়ান্ত অঘটনের ভয়ে প্রতি পদক্ষেপে তারা তটস্থ।

 

প্রশ্ন )) “আমরা ভিখারি বারােমাস”—কথাটির অর্থ ক?

 

উ : সকালের নিদারুণ শোষণ ও বঞ্চনার আশ্রয় এবং জাবিক হারিয়ে ভিখারির মতাে পরনির্ভর হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তাদের এই দুর্দশার অন্ত নেই। তারা চির ভিখারি।

 

প্রশ্ন ) “আমাদের শিশুদের শব/ছড়ানাে রয়েছে কাছে ” দূরে।’—কথাটির অর্থ কী?

 

উওর : সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনে, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসে, দাঙ্গায়, হিংসায় উন্মত্ত এই পৃথিবী শিশুদেরও নিষ্কৃতি দেয় না। তাদের হিংসার বলি হয়ে শিশুদের শব ছড়িয়ে আছে যত্রতত্র।

 

প্রশ্ন ) “তবু তাে কজন আছি বাকি”-“তবু তাে’ কথাটি কেন বলা হয়েছে?

 

উত্তর : যুদ্ধে, রাষ্ট্রীয় চক্রান্তে, সন্ত্রাসে, শােষণে, শাসনে বিধ্বস্ত চিরভিখারি মানুষগুলি ছাড়াও কিছুশুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এখনও রয়ে গেছেন। এঁরা মানবতায় আস্থা রেখে সংঘবদ্ধ হতে প্রয়াসী। এ কথা বােঝাতেই তবু তাে’কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে।

 

প্রশ্ন ) ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি ‘আমাদের’ বলতে কাদের কথা বলেছেন?

 

উওর : ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি শঙ্খ ঘােষ শােষিত,বঞ্চিত, নিপীড়িত, দরিদ্র,নিরুপায় মানুষদেরকথাইবলেছেন ‘আমাদের’ শব্দটিতে। কবি নিজেকেও এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন।

 

প্রশ্ন ) ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটির নামকরণ কবি কীভাবে করেছেন?

 

উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিসর্জন’নাটকের জয়সিংহের একটি সংলাপ এই কবিতার নামকরণে ব্যবহার করেছেন।

 

প্রশ্ন ) ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় কবি কী কী না থাকার কথা বলেছেন?

 

উওর : ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’কবিতায় কবিপথ, ইতিহাস ও কোথাও কোনাে ঘর না থাকার কথা বলেছেন।

 

প্রশ্ন ) ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় আমাদের চতুর্দিক কেমন?

 

উওর : কবিতায় আমাদের ডাইনে ধস, বাঁয়ে গিরিখাদ, মাথায় বােমারু, পায়ে হিমানীর বাঁধ। এককথায় সবদিকে বিপদ ।

 

প্ৰশ্ন ) ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় আমাদের আশ্রয় সম্পর্কে কবি কী বলেছেন?

 

কবি বলেছেন, “আমাদের ঘর গেছে উড়ে” অর্থাৎ, আমরা আশ্রয়হীন ও অসহায়।

 

প্রশ্নঃ ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কী ধরনের  কবিতা?

 

উত্তর : ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ সমাজ সচেতনতামূলক কবিতা।

 

প্রশ্ন ) ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি কবির কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে?

 

উত্তর : কবি শঙ্খ ঘােষের ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি সংগৃহীত হয়েছে ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ শীর্ষক কাব্যগ্রন্থ থেকে।

 

প্রশ্ন ) “আমাদের ডান পাশে ধ্বস/আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ”—কথাটির মাধ্যমে কবি কী বুঝিয়েছেন?

 

উত্তর : কথাটির মাধ্যমে কবি বুঝিয়েছেন মনুষ্যত্বহীন, মূল্যবােধহীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত, হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবীতে আমাদের অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের অবস্থা বড়াে সংকটাপন্ন।

 

প্রশ্ন ) “আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি”—কবিতায় কবি কেন বলেছেন আমাদের পথ নেই আর?

 

উত্তর : দেশের সমকালীন পরিস্থিতি সুস্থ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রতিকূল। নিষ্ঠুরতায়, শােষণে, সন্ত্রাসে বিভ্রান্ত মানুষ একেবারে নিরুপায়, কোণঠাসা। এই অবস্থায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরােধ ছাড়া উপায় নেই।

 

প্রশ্ন ) “পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ”—কথাটির মাধ্যমে কবি কী বােঝাতে চেয়েছেন?

 

উত্তর : পায়ে পায়ে কথাটির অর্থ হলাে প্রতি পদক্ষেপে।

যুদ্ধ, সন্ত্রাস, নিষ্ঠুরতা, মানবিক বােধশূন্যতা মানুষের চলার পথে বরফের দেয়ালের মতাে হিমশীতল বাধা তুলে ধরেছে। এই কথাই বলতে চেয়েছেন কবি।

 

প্রশ্ন )  “আমাদের মাথায় বােমারু”-এখানে কোন ইঙ্গিত ধরা পড়েছে?

 

উত্তর : যুদ্ধবাজ, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি, ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করতে বােমারু বিমান থেকে আক্রমণ চালিয়ে বিধ্বস্ত বিপন্ন করে চলেছে। জনজীবন। এই ইঙ্গিতটাই উদ্ধৃতাংশে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

 

প্রশ্ন ) “এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?”—এ কথা বলা হয়েছে কেন?

 

উত্তর : যুদ্ধে, সন্ত্রাসে, হানাদারি শত্রুর আক্রমণে সন্ত্রস্ত মানুষ মৃত্যুময় জীবনকে দেখে নিজেদের বেঁচে থাকার সম্পর্কেও সন্দিগ্ধ, তাই এ কথা বলা হয়েছে।

 

প্রশ্ন)  “আমরা ভিখারি বারােমাস’’–এ কথা কবি কোন্ অর্থে বলেছেন?

 

> উত্তর : যুদ্ধে, দাঙ্গায়, সন্ত্রাসবাদী আক্রমণে, সাম্রাজ্যবাদী শােষণে, নিপীড়নে সাধারণ মানুষ আশ্রয় ও জীবিকা হারিয়ে আত্মশক্তিহীন পরনির্ভর হয়ে উঠেছে। অন্য-বস্ত্র-আশ্রয়ের প্রয়ােজনে তারা ভিখারির স্তরে পৌঁছে গেছে।

 

প্রশ্ন ) “অথবা এমনই ইতিহাস”—কেমন ইতিহাস?

 

উত্তর : শােষিত, নিপীড়িত, বঞ্চিত সাধারণ মানুষগুলি একটা সমষ্টিগত পরিচয় নিয়ে ইতিহাসে থেকে যায়। সেইইতিহাসও বনায় ভরা, নিদারুণ ঔদাসীন্য নিয়ে লেখা। তাই ব্যক্তিগত বা গােষ্ঠীগতভাবে তাদের অস্তিত্বই নেই।

 

উত্তর : পায়ে পায়ে কথাটির অর্থ হলাে প্রতি পদক্ষেপে।

 

আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার নামকরণের সার্থকতা

 

প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘােষ ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় একটি বিচ্ছিন্ন ছন্নছাড়া হতাশাগ্রস্ত মহাসংকটে নিমজ্জিত মানবসমাজের অপূর্ব ছবি এঁকেছেন কবিতার প্রথম ও দ্বিতীয় স্তবকের অনেকখানি জায়গা জুড়ে। জাতির জীবনে ধস নেমেছে। পাশে গিরিখাদ। আকাশে বােমারু বিমানের হানা। পায়ে হিমানীর গুরুভার জড় শৃঙ্খল। নিরুপায় নিরাশ্রয় মানুষ। শিশুমৃত্যুর মতাে ভয়াবহ শােকার্ত পরিবেশ। মৃত্যুভয়ে বড়ােরাও আতঙ্কিত। কী ভয়ংকর দুঃসময়। এটাই হয়তাে এই বিধ্বস্ত একতাহীন জাতির পরিণামের ইতিহাস। আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা হারিয়ে মানুষগুলি ভিখিরিতুল্য। প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে তারা যে জীবন্ত মানবসত্তা এই বােধও হারাতে বসেছে। এই দুরবস্থা, এই মহাসংকট থেকে উত্তরণে কবির পথনির্দেশ হলাে এসাে, পরস্পরের হাতে হাত রাখাে, আরও ঐক্যবদ্ধ হও। সংঘবদ্ধতাই পরিত্রাণের পথ। ঐক্যশক্তিই মুক্তির পাথেয়। ‘আয় আরাে বেঁধে বেঁধে থাকি নামের মধ্যে এই অপূর্ব ভাবব্যঞ্জনা নিহিত। কাজেই কবিতার নামকরণটি যথাযথ ও সার্থক।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *