সমভূমির শ্রেণী বিভাগ| সমভূমির গুরুত্ব

 

সমভূমির শ্রেণীবিভাগ|সমভূমির গুরুত্ব

 

সমভূমির শ্রেণীবিভাগ 

 

উৎপত্তিগতভাবে সমভূমি কে তিন ভাগে ভাগ করা যায় — 1. সঞ্চয়জাত সমভূমি 2. ক্ষয়জাত সমভূমি 3 ভূগাঠনিক সমভূমি।

 

 

1, সঞ্চয়জাত সমভূমির শ্রেণিবিভাগ: সঞ্চয়জাত সমভূমি পাচপ্রকার হয়-~–

 

১. পলি সমভূমি সাধারণত নদীবাহিত পলি, বালি ইত্যাদি নদীর দু-পাশে (প্লাবন সমভূমি) বা মােহানার কাছে (বদ্বীপ সমভূমি) সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয়, তার নাম পলি সমভূমি। উদাহরণ: মধ্য ও নিম্নগতিতে গঙ্গা নদীর দুই তীরে ও অসমের ব্রম্মপুত্র উপত্যকায় প্লাবন সমভূমি এবং গঙ্গা নদীর মােহনায় সুন্দ্রন অঞ্চলে বদ্বীপ সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।

সমভূমির-শ্রেণী-বিভাগ-সমভূমির-গুরুত্ব

 

২. লােয়েস সমভূমি: অনেকসময় বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে সূক্ষ্ম বালিকণা, মাটি ইত্যাদি বহুদূরে উড়ে যায় এবং কোনাে নীচু জায়গায় সঞ্জয়ের ফলে যে সমভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় লােয়েস সমভূমি। উদাহরণ: গােবি 

৩. বজাদা বা মরু সমভূমি: বায়ু ও জলধারার মিলিত সঞয়কার্যে মরু অঞ্চলের বালি, কাকর ইত্যাদি কোনাে উচ্চভূমির পাদদেশে সঞ্জিত হয়ে বাজাদা সমভূমি সৃষ্টি হয়। উদাহরণ: সাহারা রুভূমিসংলগ্ন অ্যাটলাস পর্বতের পাদদেশের বাজাদা অঞ্চল।

৪. লাভা সমভূমি: ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত তরল ম্যাগমা, ভূত্বকের একাধিক কাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে ভূপৃষ্ঠে জমাট বেঁধে লাভা সমভূমির সৃষ্টি করে। উদাহরণ: ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ডের লাভা সমভূমি।

সমভূমির শ্রেণীবিভাগ|সমভূমির গুরুত্ব

৫.হিমবাহ সমভূমি: পর্বতের পাদদেশ অঞ্চলে (হিমরেখার নীচে) হিমবাহের মধ্যে থাকা নুড়ি, বালি, পাথর প্রভৃতি হিমবাহ জলে বাহিত হয়ে কোনাে নীচু স্থানে সঞ্চিত হলে যে সমগঠিত হয়, তাকে হিমবাহ সমভূমি বলে। উদাহরণ: – উত্তর আমেরিকার প্রেইরি ভূমি ও উত্তর ইউরােপের হিমবাহ সমভূমি।

2. ক্ষয়জাত সমভূমির শ্রেণিবিভাগ:

 ক্ষয়জাত সমভূমি দুই প্রকার:

১. সময় ভূমি: বহুযুগ ধরে কোনাে প্রাচীন মালভূমি বা উচ্চভূমি বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির (যেমন—নদী, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত প্রভৃতি) মাধ্যমে অনবরত ক্ষয় পেয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি করে তাকে সময় ভূমি বলে। উদাহরণ: ছােটোনাগপুর মালভূমির কোনাে কোনাে অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সমপ্রায় ভূমিতে পরিণত হয়েছে। 

২. পেডিমেন্ট: মরু অঞ্চলে প্রবল বেগে প্রবাহিত বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে পর্বতের পাদদেশে কিছুটা ঢালু সমভূমির সৃষ্টি হয়, এর নাম পেডিমেন্ট। উদাহরণ: সাহারা মরুভূমির অন্তর্গত অ্যাটলাস পর্বতের পাদদেশে পেডিমেন্ট দেখা যায়।

3. ভূগাঠনিক সমভূমির শ্রেণিবিভাগ : এই ধরনের সমভূমিকে ভাগে ভাগ করা হয়। যথা— ১.উন্নত সমভূমি, ২. অবনত সমভূমি এবং ৩. স্বাভাবিক বা গঠনগত সমভূমি।

সমভূমির শ্রেণীবিভাগ|সমভূমির গুরুত্ব

ভূ-আন্দোলনের ফলে সমুদ্রের অগভীর অংশসমূহ ওপরে উঠে উন্নত সমভূমি এবং উঁচু স্থানসমূহনীচে বসে গিয়ে অবনত সমভূমির সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরে তীরবর্তী

উপসাগরীয় সমভূমি এবং তুরানের নিম্নভূমি যথাক্রমে উন্নত ও অবনত সমভূমির দুটি বিশিষ্ট নিদর্শন। ভূপৃষ্ঠের কিছু কিছু অংশে ভূত্বকীয় শিলাস্তর পরপর সমান্তরালে বিন্যস্ত হয়ে আপনা থেকেই সমভূমি গঠন করেছে। উদাহরণ: রাশিয়ার সাইবেরীয় সমভূমি।

■ ভূ-আন্দোলনের ফলে গঠিত সমভূমি বা ভূগাঠনিক সমভূমি ও ক্ষয়জাত সমভূমি সম্পর্কে আলােচনা করাে।

ভূগাঠনিক সমভূমি

ধারণা : ভূ-আন্দোলনের ফলে (মহীভাবক) ভূপৃষ্ঠের কোনাে নিম্নভূমি উত্থিত হয়ে বা কোনাে উচ্চভূমি অবনমিত হয়ে সমভূমির রূপ ধারণ করলে, তাকে ভূগাঠনিক সমভূমি বলে।

: প্রকারভেদ : ভূগাঠনিক সমভূমি তিনপ্রকার। যথা-১. উন্নত সমভূমি, ২. অবনত সমভূমি ও ৩. স্বাভাবিক সমভূমি।

উৎপত্তি :  সমুদ্র উপকূলের অগভীর অংশ ভূ-আন্দোলনের ফলে ওপরে উঠে উন্নত সমভূমির সৃষ্টি করে। 

   ভূত্বকীয় শিলাস্তর সমান্তরালে বিন্যস্ত থাকলে ভূপৃষ্ঠে আপনা থেকেই সমভূমি সৃষ্টি হয়, যাকে স্বাভাবিক সমভূমি বলে।

বৈশিষ্ট্য : আকস্মিকভাবে এই সমভূমি সৃষ্টি হতে পারে।

উদাহরণ : আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরের তীরবর্তী উপসাগরীয় সমভূমি ও তুরানের নিম্নভূমি যথাক্রমে উন্নত ও অবনত সমভূমির এবং ‘সাইবেরীয় সমভূমি’ স্বাভাবিক সমভূমির নিদর্শন। :

ক্ষয়জাত সমভূমি

ধারণা : প্রাকৃতিক ক্ষয়কারী শক্তি দ্বারা (যেমন—নদী, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি) প্রাচীন কোনাে উচ্চভূমি সুদীর্ঘকাল ধরে ক্ষয় পেয়ে সমভূমির আকার ধারণ করলে, তাকে ক্ষয়জাত সমভূমি বলে।

প্রকারভেদ : ক্ষয়জাত সমভূমি দুই প্রকার, যথা—১. সমপ্রায় সমভূমি এবং ২. পেডিমেন্ট।

উৎপত্তি : প্রাচীন মালভূমি বা কোনাে উচ্চভূমি প্রাকৃতিক ক্ষয়কারী শক্তিগুলির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হলে ওই উচ্চভূমির উচ্চতা ক্রমশ হ্রাস পায় এবং কালক্রমে তা মৃদু ঢালযুক্ত সমভূমিতে পরিণত হয়। :

সমভূমির শ্রেণীবিভাগ|সমভূমির গুরুত্ব

বৈশিষ্ট্য : ১. উচ্চভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এই ধরনের সমভূমি সৃষ্টি হয়। ২. সমপ্রায় সমভূমির মাঝে কোথাও কোথাও কঠিন শিলায় গঠিত টিলার মতাে অংশ (মােনাডনক) দেখা যায়। ৩. এই ধরনের সমভূমির কোথাও কোথাও তরঙ্গায়িত ভাব থাকে।৪. ক্ষয়জাত ও সমভূমি উর্বর হয় না।

উদাহারন : ছোটনাগপুর মালভূমির কিছু কিছু অংশে সমাপ্ত সমভূমি এবং আফ্রিকার আটলাস পর্বতের পাদদেশে পেডিমেন্ট দেখা যায়।

■ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়জাত সমভূমি পরিচয় দাও।

বিভিন্ন ধরনের সঞয়জাত সমভূমি হল—

1. পলিগঠিত সমভূমি : সাধারণত নদীবাহিত পলি, বালি ইত্যাদি নদীর দু-পাশে বা মােহানার কাছে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয়, তার নাম পলিগঠিত সমভূমি। উদাহরণ: গঙ্গা সমভূমি, হােয়াংহাে সমভূমি প্রভৃতি। পলিগঠিত সমভূমিকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায়।

১. প্লাবন সমভূমি: বন্যা বা প্লাবনের ফলে নদীর দু-পাশের নীচু জায়গাগুলি ভরাট হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয়, তার নাম প্লাবন সমভূমি। 

উদাহরণ: মধ্য ও নিম্নগতিতে গঙ্গা নদীর দুই তীরে এবং অসমের ব্রম্মপুত্র উপত্যকায় এই ধরনের অনেক প্লাবন সমভূমি দেখা যায়।

২. বদ্বীপ সমভূমি: নদীর মােহনার কাছে বা অগভীর সমুদ্রে পলি জমা হয়ে ওলটানাে মাত্রাহীন বাংলা অক্ষর ব’ বা গ্রিক অক্ষর ডেল্টার  মতাে যে ভূখণ্ডের সৃষ্টি হয়, তাকে বদ্বীপ বা ডেল্টা বলে। .এরপর বদ্বীপগুলি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি করে নাম বদ্বীপ সমভূমি। উদাহরণ: গঙ্গাব্ৰত্মপুত্রের মােহানায় বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ সমভূমির সৃষ্টি হয়েছে। 

৩. উপকূলের সমভূমি: সমুদ্রস্রোত, বায়ু ও নদীবাহিত পলি, বালি, কাকর প্রভৃতি উপকূলের কাছে অগভীর সমুদ্রে সঞ্চিত হয়ে উপকূলের সমভূমির সৃষ্টি হয়। উদাহরণ: সামুদ্রিক অবক্ষেপ থেকে সৃষ্ট প্যালেস্তাইন সমভূমি এবং নদী, বায়ু প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা বাহিত পদার্থ সঞ্চিত হয়ে গঠিত ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের সমভূমির কিছু কিছু অংশ।

৪. হ্রদ সমভূমি: যখন নদী হ্রদে গিয়ে মেশে তখন নদীবাহিত পলি, বালি, কাকর ইত্যাদি হ্রদে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে হ্রদ সমভূমি বলে। উদাহরণ: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট বেসিন এবং কানাডার রেড নদী অববাহিকার হ্রদ সমভূমি।

৫. পাদদেশীয় সমভূমি: পর্বতের পাদদেশে নেমে আসা নদীসমূহ হঠাৎ করে খাড়া ঢাল থেকে মৃদু ঢালু সমভূমিতে এসে পড়লে নদীর শক্তি কমে যায়। এর ফলে নদীবাহিত নুড়ি, কাকর, পলি, বালি, কাদা ইত্যাদি সেই পাদদেশীয় অঞ্চলে জমা হয়ে ত্রিকোণাকার পললশঙ্কু গঠিত হয়। অনেকগুলি পললশঙ্কু একত্রে যুক্ত হয়ে পাদদেশীয় সমভূমি সৃষ্টি করে। হিমালয়ের পাদদেশে এরূপ সমভূমি ভাবর নামে পরিচিত।

2. লােয়েস সমভূমি : মরুভূমির বালিকণা বায়ুবাহিত হয়ে বহু দূরে কোনাে নীচু জায়গায় সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি করে, তাকে বলা হয় লােয়েস সমভূমি। উদাহরণ : গােবি মরুভূমির বালুকণার মাধ্যমে চিনের হােয়াংহাে নদী অববাহিকায় সৃষ্ট লােয়েস সমভূমি।

3. বাজাদা সমভূমি : মরু অঞ্চলের বালি, কাকর, নুড়ি ইত্যাদি কোনাে উচ্চভূমির পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে বাজাদা সমভূমির সৃষ্টি হয়। উদাহরণ: সাহারা মরুভূমিসংলগ্ন অ্যাটলাস পর্বতের পাদদেশের বাজাদা সমভূমি।

 লাভা সমভূমি : ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত তরল ম্যাগমা, ভূত্বকের একাধিক টল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে ভূপৃষ্ঠে লাভারূপে জমাট বেঁধে যে মভূমির সৃষ্টি করে, তাকে বলা হয় লাভা সমভূমি। উদাহরণ: ফ্রান্স নিউজিল্যান্ডের লাভা সমভূমি।

; হিমবাহ সমভূমি : পর্বতের পাদদেশ তালে (হিমরেখার নীচে) হিমবাহের মধ্যে থাকা নুড়ি, কাকর, পাথর প্রভৃতি (অর্থাৎ মােরেন), হিমবাহগলা জলে বাহিত হয়ে কোনাে নিম্নভূমিতে সঞ্চিত হলে যে মভূমি গঠিত হয়, তাকে হিমবাহ সমভূমি (বহিঃধৌত সমভূমি) বলে। উদাহরণ: উত্তর আমেরিকার প্রেইরি সমভূমি।

■ উদাহরণসহ সমভূমির গুরুত্ব আলােচনা করাে।

সমভূমির গুরুত্ব

1. কৃষিকাজের সুবিধা: অধিকাংশ সমভূমি অঞল নদীগঠিত উর্বর পলি মাটি দিয়ে গঠিত বলে কৃষিকাজে সুবিধা হয়। সমভূমি অঞ্চলের অধিবাসীদের প্রধান জীবিকাও তাই কৃষিকাজ। যেমন—গাঙ্গেয় সমভূমিতে ধান, পাট, ইক্ষু প্রভৃতি ফসল প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়। 2. উন্নত পরিবহণ ও যােগাযােগ ব্যবস্থা : সমভূমি অঞ্চলের ভূভাগ সমতল হওয়ায় সড়কপথ, রেলপথ ও জলপথের মাধ্যমে উন্নত পরিবহণ ও যােগাযােগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

3. অনুকূল জলবায়ু : পার্বত্য অঞল ও মালভূমি অঞল অপেক্ষা সমভূমি অঞলের জলবায়ু সমভাবাপন্ন হয়। এখানে উয়তা চরমভাবাপন্ন নয়, আবার জলভাগ (পুকুর, নদী, খাল, বিল) বেশি থাকায় বৃষ্টিপাতও পর্যাপ্ত হয়, যা অর্থনৈতিক উন্নতির পক্ষে সহায়ক।

4. জনবসতির বিস্তার : সমতল ভূভাগ, উর্বর মৃত্তিকা, উন্নত পরিবহণ ও যােগাযােগ ব্যবস্থা, অনুকূল জলবায়ু, কর্মসংস্থানের সুযােগ প্রভৃতি কারণে সমভূমিতে ঘন জনবসতি গড়ে ওঠে। যেমন—গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চল।

5. শিল্পের বিকাশ : সমতল ভূভাগ, অনুকূল জলবায়ু, উন্নত পরিবহণ ও যােগাযােগ ব্যবস্থা, সুলভ শ্রমিক, কৃষিজ কাঁচামালের জোগান প্রভৃতি কারণে সমভূমিতে শিল্পের বিকাশে সুবিধা হয়। যেমন—পশ্চিমবঙ্গের গাঙ্গেয় সমভূমিতে হুগলি ও হলদিয়া শিল্পাঞল গড়ে উঠেছে।

6. নগরায়ণের সুবিধা : সমভূমিতে একাধিক সুযােগসুবিধার কারণে আধুনিক সভ্যতার পরিচায়ক নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে। গ্রাম থেকে শহরে রূপান্তরের প্রক্রিয়াই হল নগরায়ণ। কলকাতা, পাটনা, কানপুর, আগ্রা, বারাণসী প্রভৃতি মহানগরগুলি সমভূমি অঞলেই গড়ে উঠেছে।

 

7. অন্যান্য গুরুত্ব: ১. সমভূমি অঞলের অনাবাদি তৃণভূমিগুলিতে পশুপালনক্ষেত্র গড়ে তােলা হয়। ২. নদনদী, জলাশয়ের আধিক্য এবং অনেকক্ষেত্রে কাছাকাছি সমুদ্রের অবস্থান (উপকূলীয় সমভূমিতে) প্রভৃতি কারণে মৎস্য চাষ ও মৎস্যশিকার ক্ষেত্র গড়ে ওঠে। ৩. ঘনজনবসতি থাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিসেবার উন্নতি হয় এবং মানুষের সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটে। ৪.কৃষি ও শিল্পের বিকাশ ঘটে বলে ব্যাবসাবাণিজ্যেরও উন্নতি হয়।

সমভূমির শ্রেণীবিভাগ|সমভূমির গুরুত্ব

● পৃথিবীর অধিকাংশ লােক সমভূমিতে বসবাস করে কেন?

: • পৃথিবীর অধিকাংশ লােক সমভূমিতে বসবাস করার কারণ : পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ সমভূমি অঞ্চলে বসবাস করার কারণগুলি হল—

1) উন্নতমানের কৃষিকাজের সুযােগ: পৃথিবীর অধিকাংশ সমভূমি উর্বর বলে সহজেই বিভিন্ন প্রকার ফসল উৎপাদন করা যায়।

 2) জলের জোগান: বেশিরভাগ সমভূমির ওপর দিয়েই বড়াে বড়াে নদী প্রবাহিত হয়েছে। তাই পানীয় জল, সেচের জল ও অন্যান্য কাজের জন্য প্রয়ােজনীয় জল পাওয়া সুবিধাজনক।

3) কর্মসংস্থানের সুযােগ : উর্বর মৃত্তিকা, সমতল ভূভাগ, উন্নত পরিবহণ ও যােগাযােগ ব্যবস্থা থাকায় সমভূমি অঞলে কৃষি, পশুপালন, শিল্প, ব্যাবসাবাণিজ্য প্রভৃতি অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযােগ বেশি। 

৪.পরিকাঠামােগত সুযােগসুবিধা : সমতল ভূভাগ হওয়ায় সমভূমিতে জনবসতি গড়ে তােলার একাধিক পরিকাঠামােগত সুযােগ-সুবিধা (শিক্ষা, চিকিৎসা, উন্নত যােগাযােগ ব্যবস্থা প্রভৃতি) থাকে।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *