ভারতীয় ইতিহাসে ভৌগােলিক উপাদান ও তার প্রভাব|teacj sanjib|

 ভারতীয় ইতিহাসে ভৌগােলিক উপাদান ও তার প্রভাব|teacj sanjib|

 

ভারতীয় ইতিহাসে ভারতবর্ষের নাম করণ :

ভারতবর্ষের নাম করণ :

 

 প্রাচীনকালে লেখা ভারতের কোনো ইতিহাস গ্রন্থ পাওয়া যায়নি। অথচ ভারতের ইতিহাসের সূচনা অতি প্রাচীন। প্রাচীন ভারতীয় কবি, দার্শনিকরা তাদের রচনায় ভারতবর্ষ বলতে ভারতের কোনাে বিশেষ অংশ না বলে সমগ্র উপদ্বীপকে বুঝিয়ে ছিলেন। বেদে উল্লেখ আছে যে, সপ্তসিন্ধু সপ্তদ্বীপ অর্থাৎ সাতটি বড় নদ-নদী এবং সাতটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত হয়েছে ভারতবর্ষ। 

ভারতীয়-ইতিহাসে-ভৌগােলিক-উপাদান-ও-তার-প্রভাব

 

 সুদূর অতীত থেকেই হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী এবং ব্রহ্মদেশ থেকে আফগানিস্তান পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ভূভাগ ভারতবর্ষ নামে পরিচিত। বিষ্ণুপুরাণ ও মনুসংহিতায় লিখিত শ্লোকে এই অখণ্ড ভারতবর্ষের ধারণা পরিলক্ষিত হয়। পৌরাণিক গ্রন্থে ভারতবর্ষ নামের উৎপত্তি সম্পর্কে বলা হয় যে, প্রাচীন কালে ভরত নামে একজন রাজা এই দেশে বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিলেন। তার নাম অনুসারে এই দেশের নাম হয় ভারতবর্ষ। রামশরণ শর্মা ও অন্যান্য আধুনিক ঐতিহাসিকরা মনে করেন ভরত নামে একটি প্রাচীন উপজাতির নাম থেকে ভারতবর্ষ নাম হয়েছে। কোন ভারতীয় এই নামটি ব্যবহার করেন প্রমাণ করা দুঃসাধ্য। 

 পারসিক ও আরবি ভাষায়“ সিন্ধু” কথাটি হিন্দুরূপে উচ্চারিত হত। বিদেশিরা সিন্ধুনদের উপত্যকায় বসবাসকারী ভারতীয়দের হিন্দু নামে অভিহিত করত। কালক্রমে সিন্ধুস্থানের নাম বিদেশি উচ্চারণে হিন্দুস্থান হয়। গ্রিক ভাষায় হিন্দু পরিচিত হয়েছে ইনডাস নামে। গ্রিক উচ্চারণ ইনডাস থেকে ইউরােপীয়রা ভারতবর্ষকে ‘ইন্ডিয়া’ নামে অভিহিত করে। আমাদের ভারতবর্ষ হিন্দুস্থান বা ইন্ডিয়া সাগর নামে নামকরণ হলেও কোনাে বিশেষ জাতি বা সম্প্রদায়ের এই নামের সম্পর্ক নেই।  কারণ যুগ যুগ ধরে ভারতে বহু জাতি, বহু ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষ, বসবাস করার ফলে বিভিন্ন জাতির সমবায়ে ভারতবর্ষে এক বিশেষ ধরনের মৌলিক সভ্যতা গড়ে উঠেছে। এই সভ্যতা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সভ্যতা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক।

 

ভারতীয় ইতিহাসে ভারতের বিভিন্ন ভৌগােলিক পরিবেশ :

ভারতের বিভিন্ন ভৌগােলিক পরিবেশ :

  ইতিহাসের সঙ্গে ভূগোলের অতি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কোনাে দেশের ইতিহাস সেই দেশের ভৌগােলিক পরিবেশের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। মানুষের দৈহিক ও মানসিক গঠন এবং জীবনধারা ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ুর দ্বারা প্রভাবিত হয়। “ভূগােল ও আবহাওয়া বিভিন্ন জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করে” – বােডিন। ভারতবর্ষে ভৌগােলিক বৈচিত্র্য। ভারতবাসীদের বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। ভারতের আয়তন, ভূ-প্রকৃতি ও বিভিন্ন জনগােষ্ঠীর অস্তিত্ব দেখে পণ্ডিতরা ভারতবর্ষকে উপমহাদেশ আখ্যা দিয়েছেন। 

 ভারতে রয়েছে দুর্গম পার্বত্য অঞল, গভীর অরণ্য অঞলমরুভূমি, মালভূমি, নদীমাতৃক উর্বর সমভূমি এবং সমুদ্র বেষ্টিত উপকূল ভূমি। এছাড়া জলবায়ুর বৈচিত্র্য ভারতবাসীর জীবন ধারায় প্রভাব বিস্তার করেছে। এই ভৌগােলিক বৈচিত্র্যের ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতবাসীর জীবনধারায়, খাদ্য, পােশাক, রীতিনীতি, ভাষা ও সংস্কৃতির বিভিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে।

 

ভারতীয় ইতিহাসে প্রাকৃতিক বিভাগ ঃ 

প্রাকৃতিক বিভাগ ঃ 

 

 ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিচারে ভারতবর্ষকে পাঁচটি ভৌগােলিক অঞ্চলে ভাগ করা যায়। (১) উত্তর ও উত্তর পূর্বে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, সিকিম, অরুণাচল প্রভৃতি রাজ্য রয়েছে। (২) সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রম্মপুত্র নদনদী বিধৌত সমভূমি উর্বরতার কারণে সমৃদ্ধ হওয়ায় পাটলিপুত্র, কনৌজ, দিল্লি প্রভৃতি স্থানে বহু উন্নত সভ্যতা ও শক্তিশালী সাম্রাজ্যের উন্মেষ হয়। (৩) এই সমতল ভূমির দক্ষিণে এবং বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের উত্তরের মধ্যবর্তী অংশে উচ্চ মালভূমি অঞল অবস্থিত। নর্মদা ও মহানদী এই অঞ্চলে প্রবাহিত। এখানে আদিবাসীদের বাসভূমি। 

 (৪) বিন্ধ্য পর্বতের দক্ষিণে দাক্ষিণাত্যের মালভূমি অঞল তুঙ্গভদ্রা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। কৃত্মা, কাবেরী, গােদাবরী, তুঙ্গভদ্রা নদীগুলি এই অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলে পল্লব, চালুক্য, বিজয়নগর, বহমনী প্রভৃতি রাজ্যের উদ্ভব হয়েছিল। (৫) সুদূর দাক্ষিণাত্য তুঙ্গভদ্রা নদী থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত উপকুলবর্তী অঞ্চল বিস্তৃত। এই অঞলে দ্রাবিড় সভ্যতার বিকাশ হয়েছিল। এখানকার অধিবাসীরা সমুদ্র-সান্নিধ্যে থাকায় নৌবিদ্যায় পারদর্শী ছিল। এখানে চোল, চের, পান্ড প্রভৃতি রাজ্যের উদ্ভব হয়েছিল।

 

ভারতের ইতিহাসে ভৌগােলিক প্রভাব :

 

ভারতে বিভিন্ন পরিবেশ ভারতবাসীর জীবনযাত্রা, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি প্রাকৃতিক অবস্থার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। ভারতের তিনদিক সমুদ্র বেষ্টিত এবং উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা ভারতকে সুরক্ষিত করেছে। তার ফলে ভারতের মানুষের জীবনধারা ও সংস্কৃতি স্বাতন্ত্র্য লাভ করেছে। ভারতের মধ্য দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা যাওয়ায় এই অঞ্চল উত্মমণ্ডলে অবস্থিত। ভারতের অধিকাংশ অঞল নাতিশীতােষ্ণ জলবায়ুর দ্বারা প্রভাবিত।

 

• ভারতীয় ইতিহাসে হিমালয়ের প্রভাব :

হিমালয়ের প্রভাব :

 

হিমালয় পর্বত ভারতে দেবত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত। ঐতিহাসিক কে এম পানির ভারতবর্ষকে হিমালয়ের দান’ বলেছেন। জনজীবনে হিমালয়ের প্রভাব গভীর। প্রথমত, ভারতের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম দিকে হিমালয় পর্বতশ্রেণি বহির্বিশ্ব থেকে ভারতকে বিচ্ছিন্ন করেছে। ফলে ভারতে স্বতন্ত্র সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিকশিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এই পর্বতমালা প্রহরীর মত উত্তরে দণ্ডায়মান থাকায় বহির্শত্রুর হাত থেকে ভারতবর্ষকে রক্ষা করছে। তৃতীয়ত, হিমালয় পর্বত উত্তর ও মধ্য এশিয়ার শৈত্য প্রবাহকে প্রতিরােধ করে নাতিশীতােষ্ণ আবহাওয়া বজায় রেখে ভারতবাসীকে স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করছে। চতুর্থত, হিমালয় থেকে নির্গত বরফগলা জল ভারতের অধিকাংশ নদনদীকে পুষ্ট করায় উত্তর ভারতের সমভূমিকে সুজলা, সুল্লায় সমৃদ্ধ করেছে।

 

 পঞমত, ভারতের উত্তর-পশ্চিম দিকে হিমালয় পর্বতের কোলে খাইবার, বালান, গােমাল প্রভৃতি সংকীর্ণ গিরিপথের মধ্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্য ওইতিহাস ও ভূগােলের সম্পর্ক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। আবার এই পথ দিয়ে মধ্য এশিয়া থেকে আগত গ্রিক, শক, কুষাণ, হুণ, পাঠান, মুঘল প্রভৃতি বিভিন্ন জাতি ভারতে প্রবেশ করে, রাজ্য স্থাপন করে ভারতীয় জনসমাজের সঙ্গে মিশে ভারতীয় সংস্কৃতিকে পুষ্ট করেছে। যষ্ঠত, সাগর থেকে উথিত দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিমালয়ে প্রতিহত হয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে কৃষি, অর্থনীতি ও জলসম্পদকে সমৃদ্ধ করেছে। ভারতীয় দর্শন, ধর্ম ও সাহিত্যে হিমালয়ের স্থান অনন্য।

ভারতীয় ইতিহাসে বিন্ধ্য পর্বতের প্রভাব :

বিন্ধ্য পর্বতের প্রভাব :

বিন্ধ্য পর্বতের দ্বারা ভারতের ইতিহাস প্রভাবিত হয়েছে। এই পর্বতের জন্য ভারতবর্ষ আর্যাবর্ত ও দাক্ষিণাত্য এই দুইভাগে বিভক্ত হয়েছে। প্রথমত, বিন্ধ্যপর্বত ভারতের মধ্যস্থলে থাকায় উত্তর ভারত ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে যােগাযােগের অন্তরায় সৃষ্টি করে। ফলে সমগ্র ভারতব্যাপী রাজনৈতিক ঐক্য স্থাপিত হতে পারেনি। প্রাচীন যুগে উত্তর ভারতের শাসকরা বিন্ধ্য পর্বতের বাধা অতিক্রম করে দক্ষিণভারতে স্থায়ী প্রাধান্য স্থাপন করতে পারেনি। অপরদিকে দক্ষিণ ভারতের শাসকরা উত্তর ভারত আক্রমণ করে সাফল্য লাভ করেনি। দ্বিতীয়ত, বিন্ধ্য পর্বতের দুর্গমতার কারণে উত্তর ভারত থেকে দাক্ষিণাত্য বিচ্ছিন্ন ছিল বলে দক্ষিণ ভারতে স্বতন্ত্র দ্রাবিড় প্রভাবিত সভ্যতা ও সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। 

  পরবর্তী কালে আর্য ও দ্রাবিড় সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটে। তৃতীয়ত, বিন্ধ্য পর্বত অতিক্রম করে আর্য অনুপ্রবেশ ব্যাপক না হওয়ায় দক্ষিণ ভারতের ভাষায় সংস্কৃত ভাষার প্রভাব কম থাকায় উত্তর ভারত ও দক্ষিণ ভারতের ভাষার মিল নেই। চতুর্থত, বিদেশীরা উত্তর ভারত বারবার আক্রমণ করলেও বিন্ধ্য পর্বতের জন্য দক্ষিণ ভারত বিদেশি আক্রমণ থেকে অনেকাংশে মুক্ত ছিল। বিন্ধ্যপর্বতের বাধার কারণে দাক্ষিণাত্যে সভ্যতা, সংস্কৃতির বিপর্যয় হয়নি। ফলে প্রাচীন শিল্পকলার অস্তিত্ব বজায় রয়েছে।

ভারতীয় ইতিহাসে নদ-নদীর প্রভাব :

 নদ-নদীর প্রভাব :

  প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরা ভারতবর্ষ মূলত নদীমাতৃক। আর যে কারণে, ভারতবর্ষের অভ্যন্তরে প্রবাহিত নদ-নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল প্রাচীনতম সভ্যতা। নদ-নদীগুলি উপত্যকার উর্বরতা বৃদ্ধি করে। নদীতীরে গড়ে উঠেছে বাণিজ্যকেন্দ্র, জনপদ ও সভ্যতা। ভারতের প্রাচীন হরপ্পা সভ্যতা সিন্ধু নদকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীকালে সিন্ধু গঙ্গা নদী উপত্যকায় আর্য সভ্যতা বিকাশ লাভ করে। উত্তর ভারতে এই নদীগুলির উপকূলে হরিদ্বার, কনৌজ, পাটলিপুত্র, বারাণসী, দিল্লি প্রভৃতি জনপদ ও রাজনৈতিক কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। 

   দক্ষিণভারতে কৃত্মা, গােদাবরী, কাবেরী, তুঙ্গভদ্রা প্রভৃতি নদী দাক্ষিণাত্যের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে প্রভাব বিস্তার করেছে। এই নদনদীর অববাহিকা অঞলেই প্রাচীন চোল, চের, পাণ্ড্য, পল্লব, চালুক্য প্রভৃতি রাজ্য গড়ে ওঠে। দেশের অভ্যন্তরে নদী পথে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। যাত্রী পরিবহন করে দেশের বিভিন্ন স্থানের অধিবাসীদের মধ্যে ঐক্যবােধ সৃষ্টি হয়েছে। নদীতীরে তীর্থস্থানগুলিতে সমবেত ভারতবাসীদের মধ্যে মিলনের ফলে ঐক্যবােধ জাগ্রত হয়েছে।

ভারতীয় ইতিহাসে সমুদ্রের প্রভাব :

সমুদ্রের প্রভাব :

 পর্বতমালার ন্যায় সমুদ্রও ভারত ইতিহাসের গতি প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে। ভারতের পূর্বে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে আরব সাগর এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর ভারতবর্ষকে বেষ্টন করে রেখেছে। এই সব সমুদ্র ভারতের ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে। প্রথমত, তিনদিক সমুদ্র বেষ্টিত থাকায় প্রাচীন ভারত বিদেশি শত্রুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত ছিল। একমাত্র নৌশক্তিতে বলীয়ান ইউরােপীয়রা সমুদ্র পথে ভারত আক্রমণ করেছিল। 

  দ্বিতীয়ত, ভারতের সমুদ্রতীরে অনেক বাণিজ্য বন্দর গড়ে উঠেছিল। এই বন্দরগুলির মাধ্যমে সমুদ্র পথে দক্ষিণ এশিয়া, ব্রয়দেশ, মালয়, জাভা, সুমাত্রা, বাের্নিও, ইন্দোচীন, মধ্যএশিয়া ও আফ্রিকা প্রভৃতি দেশের সঙ্গে প্রাচীন ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তৃতীয়ত, সমুদ্র বাণিজ্যের স্বার্থে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় উপনিবেশ স্থাপিত হয়েছিল এবং ভারতীয় ধর্ম সংস্কৃতি সমুদ্র বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। 

 চতুর্থত, ভারতীয়রা নৌবিদ্যায় পারদর্শী ছিল। চোলরাজারা নৌশক্তির । দ্বারা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রাজ্যাংশ অধিকার করেছিলেন। পঞ্চমত, সমুদ্র বাণিজ্যের জন্য ইউরােপে ভারতীয়, পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ইউরােপীয় দেশগুলি ভারতীয়। ঘটিয়ে ভারতকে শস্যশ্যামলা করেছে। ।

ভারতীয় ইতিহাসে জলবায়ুর প্রভাব :

জলবায়ুর প্রভাব 

জলবায়ুর বৈচিত্র্য ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারাকে প্রভাবিত করেছে। উত্তরে শীতের প্রবল প্রকোপ, ক্রান্তীয় অঞ্চলের উন্মতা, মৌসুমি বায়ু প্রভাবিত প্রবল বারিপাত অঞ্চল, অর্থাৎ, ঋতু বৈচিত্র্যের কারণে ভারতবাসীর খাদ্য, পােশাক, সংস্কৃতি ও জীবনধারায় প্রভেদ সৃষ্টি হয়েছে। নাতিশীতােষ্ণু অঞলে স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে ঘন জনবসতি গড়ে উঠেছে। ভারতবর্ষে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের ফলে ভারতবাসীর মধ্যে কষ্ট সহিষ্ণু, নির্ভীক, রণনিপুণ ও দৃঢ়চেতা চরিত্র গঠিত হয়েছে। প্রকৃতির প্রভাবে ভারতের সাহিত্য, সংস্কৃতি, দর্শন, শিল্প ও ধর্মচেতনা বিভিন্ন সুরে গ্রথিত হলেও ঐক্যের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *