বাংলা গদ্য প্রবন্ধের ধারা প্রশ্ন উত্তর

 বাংলা গদ্য প্রবন্ধের ধারা প্রশ্ন উত্তর

 

বাংলা গদ্য প্রবন্ধ

 

বাংলা গদ্য প্রবন্ধের ধারা এই অধ্যায় উইলিয়াম কলেজের, বাংলা গদ্যের বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, হুতুম পেঁচার নকশা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং অবনীন্দ্রনাথ  ঠাকুরের অবদান আলোচনা করা হয়েছে।

 

বাংলা গদ্য প্রবন্ধে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অবদান:

 

◆ বাংলা গদ্যের বিকাশের ক্ষেত্রে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক গােষ্ঠীর অবদান সম্পর্কে আলােচনা করো। অথবা, বাংলা গদ্যের উম্ব ও ক্রমবিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করো। 

 

উত্তর

 

বাংলা গদ্যের চর্চা ও বিকাশের ক্ষেত্রে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম কেরি নির্মিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের গুরুত্ব তানন্যসাধারণ | শিক্ষাদানের উপযুক্ত পাঠ্যপুস্তক রচনার জন্য কেরি নিজেও  উদ্যোগী হন। উলিয়ামকেরির রচিত  ইতিহাস-মালা গ্রন্থটি  ইতিহাস হলেও তা আসলে লােককাহিনি ও বেতাল, কথাসরিৎসাগর, পঞ্চতন্ত্র ইত্যাদির সংকলন।

বাংলা-গদ্য-প্রবন্ধের-ধারা-প্রশ্ন-উত্তর

 

রামরাম বসু: পণ্ডিত রামরাম বসুর রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র প্রথম মুদ্রিত বাংলা গদ্যগ্রন্থ। আরবি-ফারসি শব্দ মেশানাে এই গ্রন্থের সাধু গদ্যরীতি যথেষ্ট স্বচ্ছন্দ| লিপিমালা-য় আরবি-ফারসি বাহূল্য ত্যাগ করে রামরামের গদ্যের বাক্যগঠনরীতি আরও সহজ হয়েছে।

 

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার : মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকারের বত্রিশ সিংহাসন-এর গদ্যে কিছু আড়ষ্টতা থাকলেও রাজাবলি, প্রবােধচন্দ্রিকায় ক্লাসিক গদ্যনির্মাণরীতি দেখা যায়। হিতােপদেশ, বেদান্তচন্দ্রিকা মৃত্যুঞ্জয়ের আরও দুটি উল্লেখযােগ্য রচনা। একইসঙ্গে সরল বাংলা ও আলংকারিক বাংলা ভাষার সমন্বয় দেখা যায় মৃত্যুঞ্জয়ের লেখায়।

 

এঁরা ছাড়াও ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে উল্লেখযােগ্য ছিলেন

 

গােলােকনাথ শর্মা: হিতােপদেশ(১৮০২ খ্রি.); তারিণীচরণ মিত্র: ঈশপের গল্প (১৮০৩ খ্রি.); রাজীবলােচন মুখােপাধ্যায়: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫ খ্রি.); চণ্ডীচরণ মুনশি: তােতা ইতিহাস (১৮০৫ খ্রি.); হরপ্রসাদ রায়: পুরুষপরীক্ষা (১৮১৫ খ্রি.); কাশীনাথ তর্কপঞ্চানন: পদার্থ কৌমুদী (১৮২১ খ্রি.), আত্মতত্ব কৌমুদী (১৮২২ খ্রি.)। 

 

বাংলা গদ্যের সূচনা পর্বে গদ্যের এই বিকাশ ও বিবর্তনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা তাই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে গেছে।

 

বাংলা গদ্য প্রবন্ধে ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান:

 

◆ বাংলা গদ্য প্রবন্ধে বিদ্যাসাগর

 

 উত্তর

 

১. অনুবাদমূলক রচনা: বিদ্যাসাগরের অনুবাদমূলক রচনাগুলি নিছক ভাষান্তর নয়, এগুলির মধ্যে তার নিজস্ব সৃজনধর্মী শিল্পীসত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। শকুন্তলা এবং সীতার বনবাস গ্রন্থ দুটি যথাক্ৰমে কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম্ এবং ভবভূতির উত্তর রামচরিত নাটক ও বাল্মীকি রামায়ণ-এর ‘উত্তরকাণ্ড’ অবলম্বনে লেখা! ইংরেজি গ্রন্থ অবলম্বনে তিনি রচনা করেন বাঙ্গালার ইতিহাস, বােধােদয়, কথামালা, ভ্রান্তিবিলাস প্রভৃতি; আর হিন্দি বেতালপচ্চীসী অবলম্বনে রচনা করেন বেতাল পঞ্চবিংশতি।

 

২. মৌলিক রচনা বিদ্যাসাগরের মৌলিক রচনাগুলির মধ্যে আছে সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্যশাস্ত্র বিষয়ক প্রস্তাব, বিদ্যাসাগর চরিত, শােককাব্য প্রভাবতী সম্ভাষণ প্রভৃতি।

 

৩. পাঠ্যপুস্তক শ্রেণির রচনা: বর্ণপরিচয়, ব্যাকরণ কৌমুদী, শব্দমঞ্জরী প্রভৃতি তার উল্লেখযােগ্য পাঠ্যপুস্তক শ্রেণির রচনা।

 

৪. সংস্কারমূলক রচনা: বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব, বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক বিচার প্রভৃতি তার সমাজসংস্কারমূলক রচনা।

 

৫. ব্যমূলক রচনা: বিদ্যাসাগরের ব্যঙ্গমূলক রচনার মধ্যে বেনামে প্রকাশিত অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল, ব্রজবিলাস ও রত্নপরীক্ষা উল্লেখযােগ্য।

 

বৈশিষ্ট্য: বিদ্যাসাগরের সমস্ত রচনাকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—কোথাও তিনি ভাষাশিল্পের প্রতি মনােযােগী, আবার কোথাও তীঘ্ন যুক্তি দিয়ে কিংবা

 

বিদ্রূপের কশাঘাতে প্রাচীন সংস্কারকে আঘাত করতে উদ্যত | বিদ্যাসাগর যতি চিহ্নের  বাবহার করে বাংলা গদ্যে শৃঙ্খলা নিয়ে আসেন; উপবাক্যের ব্যবহার করে বাংলা গদ্যের অন্যায়ের ধারণাকে পাল্টে দেন।

 

বাংলা গদ্য প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান:

◆ বাংলা প্রবন্ধসাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান সম্পর্কে সংক্ষেপে আলােচনা করো।

উত্তরঃ

সাহিত্য, ইতিহাস, পশন, সমাজনীতি, কথা, শিয়ত, * প্রতি ২িষয়ে অজ গঙ্গরান করেছেন ব%ি-মদ ট্রোপাধ্যায়। সিমালপুর ওপর নিড করে বঙ্কিমচন্দ্রের প্রবন্ধগুলিকে মােটামুটি চারটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়

১, জ্ঞান-বিজ্ঞান বিষয়ক : সাম্য (১৮৭৯ খ্রি.) এবং বিবিধ প্রবন্ধ (১ম ১৮৮৭, ২য় ১৮৯২ খ্রি.) প্রবন্ধগ্রন্থে বঙ্গদেশের কৃষকদের দুরবস্যা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও অন্যান্য নানা সামাজিক সমস্যার আলোচনা স্থান পেয়েছে। বিজ্ঞানরহস্য (১৮৭৫ খ্রি.) গ্রন্থের আশ্চর্য সৌরােৎপাত, ধুলা, গগন পর্যটন প্রভৃতি প্রবন্ধের নাম শুনলেই এর বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা গড়ে ওঠে।

২. সাহিত্য সমালােচনামূলক: উত্তরচরিত, গীতিকাব্য, বিদ্যাপতি ও জয়দেব, শকুন্তলা, মিরান্দা ও দেসদিমােনা প্রভৃতি হল তার কয়েকটি বিশিষ্ট সাহিত্য সমালােচনামূলক প্রবন্ধ।

৩, ধর্ম ও দর্শন বিষয়ক: ধর্মতত্ত্ব (১৮৮৮ খ্রি.) গ্রন্থে প্রকাশ পেয়েছে বঙ্কিমের অনুশীলনতত্ত্বের ধারণা। বঙ্কিমের কৃষ্ণচরিত্র (১৮৮৬ খ্রি.) গ্রন্থে কৃষ্ণ হল দেশ ও জাতির সংকটময় অবস্থায় জাতির এক আদর্শ নেতা।

৪, ব্যঙ্গাত্মক ও হাস্যরসাত্মক রচনা: বঙ্কিমের এই শ্রেণির প্রবন্ধগ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযােগ্য হল লােকরহস্য (১৮৭৪ খ্রি.), কমলাকান্তের দপ্তর (১৮৭৫ খ্রি.) এবং ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত।

বাংলা গদ্য প্রবন্ধে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান:

◆  বাংলা গদ্যসাহিত্যে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃতিত্ব আলােচনা করাে।

 উত্তর

বাংলা গদ্যসাহিত্যের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হলেন রবীন্দ্রনাথের ভাইপাে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মূলত চিত্রশিল্পী ছিলেন বলেই তার গদ্যের মধ্যে ছিল চিত্রধর্মিতা। বিষয়বস্তু ও আঙ্গিক অনুসারে তার রচনাকে চার ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

১. রূপকথামূলক রচনা: শকুন্তলা(১৮৯৫ খ্রি.), ক্ষীরের পুতুল(১৮৯৬ খ্রি.), নালক, বুড়াে আংলাগ্রন্থগুলি শিশুমনের কল্পনার উপযােগী করে লেখা। তার লেখা রাজকাহিনীতে (১৯০৯ খ্রি.) রাজপুত বীরদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

২. স্মৃতিচারণামূলক রচনা: অবনীন্দ্রনাথের দুটি স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ হল ঘরােয়া (১৯৪১ খ্রি.), জোড়াসাঁকোর ধারে (১৯৪৪ খ্রি.)। গ্রন্থ দুটিতে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির আভিজাত্য, সংস্কৃতি, রুচি, শিল্পসাধনা ইত্যাদি প্রসঙ্গ বিবৃত হয়েছে।

৩. শিল্প সংক্রান্ত রচনা: ভারতশিল্প (১৯০৯ খ্রি.), বাংলার ব্রত (১৯১৯ খ্রি.), ভারত শিল্পের ষড়ঙ্গ (১৯৪৪ খ্রি.)। বাগীশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী (১৯২৯ খ্রি.) হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত ঊনত্রিশটি বক্তৃতার বই আকারে প্রকাশ।

৪. পুথি ও পালাজাতীয় রচনা: চাইবুড়াের পুঁথি, মারুতির পুঁথি, লম্বকর্ণ পালা, গােল্ডেন গুজ পালা|

অবনীন্দ্রনাথের গদ্যরীতির বৈশিষ্ট্য: (১) তার গদ্য লেখার ভঙ্গি মজলিশি ধরনের| এর ফলে শ্রোতাও তঁার গল্পের মধ্যে নিজেকে খুব সহজেই এক করে ফেলে। (২) তঁার গদ্যের মধ্যে চিত্রশিল্পী অবনীন্দ্রনাথকে খুঁজে পাওয়া যায়। (৩) সংগীতধর্মিতা তঁার গদ্যের একটি বড়াে গুণ। (8) শব্দ, ছন্দ ও চিত্রকল্প রচনার সাহায্যে শিশুমনের উপযােগী কল্পনারাজ্য নির্মাণে বিশেষ দক্ষতাই তাঁর গদ্যরীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

বাংলা গদ্য প্রবন্ধের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান:

◆ বাংলা প্রবন্ধসাহিত্যের ক্ষত্রে রবীন্দ্রনাথের অবদান সম্পর্কে সংক্ষেপে আলােচনা করাে।

উত্তর 

১.ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ: গ্রাচীন সাহিত্য, সাহিত্য, আধুনিক সাহিত্য, লােকসাহিত্য, সাহিত্যের পথে, সাহিত্যের স্বরূগ, বাংলা ভাষা পরিচয়, বাংলা শব্দতত্ত্ব, ছন্দপ্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক ভাবনার পরিচয় ছড়িয়ে আছে।

২. রাজনীতি, সমাজ, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও শিক্ষা বিষয়ক প্রবন্ধ: স্বদেশ, রাজনীতি, সমাজ, বিজ্ঞান, ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের বক্তব্য সংকলিত হয়েছে আত্মশক্তি, ভারতবর্ষ, রাজাপ্রজা, স্বদেশ, কালান্তর, সভ্যতার সংকট প্রভৃতি পুস্তক-পুস্তিকায়। তাঁর শিক্ষা সংক্রান্ত প্রবন্ধগুলি সংকলিত হয়েছে শিক্ষা নামক গ্রন্থে।

৩, ধর্ম, দর্শন ও অধ্যাত্ম বিষয়ক প্রবন্ধ; ধর্ম ও শান্তিনিকেতন প্রবন্ধগ্রন্থ দুটিতে দার্শনিক রবীন্দ্রনাথের পরিচয় পাওয়া যায়। মানুষের ধর্ম প্রবন্ধে মানবতা সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব দর্শন ও অভিমতের সন্ধান পাওয়া যায়।

 

৪. ব্যক্তিগত রচনা: তাঁর ব্যক্তিগত রচনাগুলি নানা রকমের, যেমন—ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, ডায়ারি, রম্যরচনা, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ (Personal essay), চিঠিপত্র ইত্যাদি। য়ুরােপ প্রবাসীর পত্র, য়ুরােপ যাত্রীর ডায়ারি, জাপান যাত্রী, যাত্রী, জীবনস্মৃতি, ছেলেবেলা, রাশিয়ার চিঠি, পথের সঞ্চয়, ছিন্নপত্র, পঞ্চভূত, বিচিত্র প্রবন্ধ প্রভৃতি গ্রন্থে এই জাতীয় রচনার পরিচয় পাওয়া যায়। জীবনস্মৃতি ও ছেলেবেলা গ্রন্থ দুটিতে ঠাকুরবাড়ি ও শিশু রবীন্দ্রনাথের নানা পরিচয় বিবৃত হলেও তা আসলে রবীন্দ্রনাথের কবি হয়ে ওঠারই ইতিবৃত্ত।

বাংলা গদ্য প্রবন্ধের ইতিহাসে হুতােম প্যাঁচার নকশার অবদান:

★বাংলা গদ্য প্রবন্ধে হুতােম-প্যাঁচার-নকশা

 

উত্তর

 

কালীপ্রসন্ন সিংহের হুতােম প্যাচার নকশার প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে ; প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড একত্রে প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে। এটি বাংলা চলিত গদ্যে লেখা প্রথম গ্রন্থ। এই গ্রন্থের মধ্যে তৎকালীন কলকাতার সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা অবিকল ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি লােকমুখে উচ্চারিত ধ্বনিরূপ যথাযথ রাখার জন্য তিনি বানানকেও উচ্চারণের অনুরূপ করার চেষ্টা করেছেন। এ ছাড়া, এই গ্রন্থের উল্লেখযােগ্য অবদানগুলি হল— 

 

১. কলকাতা ও কাছাকাছি মফস্সল অঞ্চলের মানুষের প্রতিদিনকার জীবনচিত্রের প্রকাশ ঘটানাে।

 

২. তৎকালীন সমাজের নানা ধরনের ভণ্ডামির মুখােশ উন্মােচন করে দেওয়া।

 

৩.এই গ্রন্থে সমাজের সকল স্তরের মানুষের ছবি ফুটে উঠেছে। চড়ক পার্বণের রঙ্গ থেকে শুরু করে গাজন, মাহেশের রথ, দুর্গাপুজো প্রকৃতির বর্ণনা যেমন পাওয়া যায়, তেমনই পাওয়া যায় জমিদার, ভিখারি, কেরানি, দোকানি, হাটুরে, পুরুত ঠাকুর প্রভৃতি বিভিন্ন পেশার মানুষের বর্ণনা।

৪. ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে শুভবােধ জাগানাে ছিল আলােচ্য গ্রন্থটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

 

৫. গ্রন্থটিতে যেমন প্রবাদ-প্রবচনের যথাযথ প্রয়ােগ লক্ষ করা যায়, তেমনট দেখা যায় লেখকের সাংবাদিক সুলভ দৃষ্টিভঙ্গি এবং তদ্ভব বা আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহারে অনায়াস দক্ষতা।

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *