সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও ব্যর্থতা। মানবাধিকার রক্ষায় জাতিপুঞ্জের ভূমিকা।

 সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও ব্যর্থতা। মানবাধিকার রক্ষায় জাতিপুঞ্জের ভূমিকা।

সম্মিলিত-জাতিপুঞ্জের-সাফল্য-ও- ব্যর্থতা -মানবাধিকার-রক্ষায়-জাতিপুঞ্জের-ভূমিকা

 

 সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও ব্যর্থতার মূল্যায়ন করো।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য

উত্তর। ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে যুদ্ধমুক্ত করে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করা এবং সাম্য ও সমানাধিকারের ভিত্তিতে বিশ্বজুড়ে সমৃদ্ধির পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করার মহান লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৫ সালে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ নামক বিশ্ব সংস্থাটির জন্ম হয়। এই বিশ্ব সংস্থাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভগ্নস্তুপের ওপর শুধু একটি শান্তির সৌধ নির্মাণ করেই ক্ষান্ত হবে না, সমগ্র মানবজাতির এক মহাসংসদরূপে (Parliament of man) অথবা একটি বিশ্ব-যুক্তরাষ্ট্র (federation of the world) হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে—এই উচ্চাশা সেদিন সকলের মনে উঁকি দিয়েছিল।

 

এখন প্রশ্ন হল এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটি কতখানি তার লক্ষ্যের দিকে এগােতে পেরেছে, আর মানবজাতির আশা-আকাঙ্খকে কতখানি বাস্তবায়িত করতে পেরেছে? এই প্রশ্নটিকে ঘিরে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিরােধের অন্ত নেই। সুম্যান (Schuman), পামার ও পারকিনস (Palmer and Perkins), নিকোলাস (Nicholas) প্রমুখ চিন্তাবিদদের মতে,

 

জাতিপুঞ্জ তার উদ্দেশ্য রূপায়ণে পুরােপুরি ব্যর্থ। সুম্যান তাে বলেছেন, “সম্মিলিত “ জাতিপুঞ্জ হল নতুন মােড়কে পুরনাে জাতিসংঘ” (“The United Nations is a League of Nations in a new guise.”)। বস্তুতপক্ষে জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে আজ অবধি যেভাবে জাতিতে জাতিতে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, সংকট মুহূর্তে যেভাবে জাতিপুঞ্জকে প্রায় অচল করে দেবার চেষ্টা চালানো হয়েছে, সর্বোপরি জাতিপুঞ্জকে যেভাবে বৃহৎ শক্তিবর্গের (বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের) ক্রীড়নকে পরিণত করার চেষ্টা হয়েছে, তাতে জাতিপুঞ্জ সম্পর্কে গভীর হতাশার সঞ্চার হওয়া আশ্চর্যের নয়। তাপর একদল লেখক ও বিশেষজ্ঞের মতে, ব্যর্থতা, হতাশা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। নিম্নে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ তুলে ধরা হল :

 

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য :

 

(১) আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কোরিয়া সমস্যা, সুয়েজ সমস্যা, কঙ্গো সমস্যা, ভিয়েতনাম সমস্যা, সাইপ্রাস সমস্যা, সিরিয়া ও লেবাননের সমস্যা, কিউবা সমস্যা প্রভৃতি ক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জ উল্লেখযােগ্য অবদান রাখে।

 

(২) যুদ্ধ প্রতিরােধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়া থেকে আজ পর্যন্ত এই পাঁচ দশকে পৃথিবীতে ছােটখাটো বিবাদ লেগে থাকলেও আন্তর্জাতিক স্তরে কোন বড় বিবাদ বাধে নি। এটি জাতিপুঞ্জের সাফল্যেরই দ্যোতক। বস্তুত সুয়েজ সমস্যা, কোরিয়া সমস্যা, কঙ্গো সমস্যা, আরব-ইস্রায়েল যুদ্ধ প্রভৃতির যে-কোনটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বযুদ্ধ বেধে যেতে পারত। কিন্তু প্রধানত জাতিপুঞ্জের হস্তক্ষেপের ফলেই তা ঘটে নি।

 

(৩) অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সাফল্য ও শুধুমাত্র বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অনুন্নত দেশগুলির প্রগতি সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জের অবদান কম নয়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, ইউনেস্কো (UNESCO), বিশ্ব ব্যাঙ্ক (IBRD), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)—জাতিপুঞ্জের অধীনস্থ এই সমস্ত সংস্থা অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে। 

 

(৪) মানবাধিকার রক্ষা ও মানবিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জের অবদান কম নয়। ১৯৪৮ সালে জাতিপুঞ্জের উদ্যোগে মানবিক অধিকারের সার্বিক ঘােষণা (Universal Declaration of Human Rights) একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এছাড়া আন্তর্জাতিক ‘ শিশুবর্য, নারীবর্ষ’, ‘প্রতিবন্ধীবর্য’, ‘ বিশ্ব খাদ্য ও আবাসন দিবস’ প্রভৃতি পালনের মাধ্যমে জাতিপুঞ্জ মানবাধিকার সংরক্ষণে এবং সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অসামান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

 

(৫) নিরস্ত্রীকরণ ও জাতিপুঞ্জ তার জন্মলগ্ন থেকে নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে, আণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণের ক্ষেত্রে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ সভার অধিকাংশ অধিবেশনেই নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে এবং অস্ত্র প্রতিযােগিতার বিপক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

 

(৬) ঔপনিবেশিকতার অবসান : জাতিপুঞ্জের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এশিয়া, আফ্রিকা। ও লাতিন আমেরিকার বহু উপনিবেশ স্বাধীনতা অর্জন করে এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা না করে। এছাড়া অছি পরিষদের ১১টি অছি অঞ্চলের মধ্যে ১টি বাদে সবকটি অঞ্চল যত হতন করেছে।

 

(৭) অন্যান্য ক্ষেত্রে সাফল্য ও বিশের জনগণের বৌদ্ধিক বিকাশে, আন্তর্জাতিকতাবাদের এসারে, বিশ্বের দেশগুলির মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে, অনুন্নত শনির কারিগরি ও প্রযুক্তি বিদ্যাগত দক্ষতার প্রসারে জাতিপুঞ্জের উৎসাহ ও উদ্যোগের ঘাটতি নেই।

 

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতা ।

 

জাতিপুঞ্জের সাফল্য ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ করার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে। জাতিপুঞ্জের মূল উদ্দেশ্য হল ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে মুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তি ও নিরাপত্তাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। এই ক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জের সাফল্যের থেকে ব্যর্থতাই বেশি। মধ্যপ্রাচ্যে আরব-ইস্রায়েল বিরােধ, কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ, কিউবা, গুয়েতমালা ও ভিয়েতনামে মার্কিন হস্তক্ষেপ, লেবাননে ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আক্রমণ, সাম্প্রতিককালে (১৯৯১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বহুজাতিক সৈন্যবাহিনী কর্তৃক ইরাক আক্রমণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতা লক্ষণীয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা। আন্দোলনকালে পাকিস্তানের ব্যাপক নরহত্যা ও নৃশংস অত্যাচারের বিরুদ্ধে জাতিপুঞ্জ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়। হাইতিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে গদিচ্যুত করে সামরিক শাসন কায়েম হল, সােমালিয়ায় মার্কিন হেলিকপ্টার বােমা ফেলে অজস্র নরীহ সামালিকে নিহত অথবা পঙ্গু করল, অথচ জাতিপুঞ্জ থেকে কোন প্রতিবাদ শােনা গেল না। নিরস্ত্রীকরণ তথা অস্ত্র প্রতিযােগিতা রােধে জাতিপুঞ্জ আলােচনা চালিয়েছে বা প্রস্তাব নিয়েছে সত্য, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় নি। পৃথিবীতে আণবিক মারণাস্ত্রের ভার রয়েছে, তা দিয়ে পৃথিবীকে কয়েকশ বার ধ্বংস করা যায়। বিশ্বব্যাঙ্ক, হতর্জাতিক অর্থভাণ্ডার প্রভৃতি সংস্থাগুলি অর্থনৈতিক সাহায্যের নামে অনুন্নত দেশের হনতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে, এমনকি তাদের স্বাধীনতাকেও বিপন্ন করে তুলেছে। দক্ষিণ কা, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক, প্রিটোরিয়া, জিম্বাবােয়ে প্রভৃতি দেশে মানবাধিকারের চরম • ঘটে চলেছে, অথচ জাতিপুঞ্জ এসব ক্ষেত্রে নীরব। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ •? ?করপে দেখা দিয়েছে। সলােমান রুশদি, তসলিমা নাসরিন প্রমুখ ব্যক্তিদের দে সাদের হীন চক্রান্ত চলেছে, অথচ জাতিপুঞ্জের কোন ইতিবাচক ভূমিকা চোখে পড়ে না।

 

জাতিপুঞ্জের এই ব্যর্থতার পশ্চাতে যে কারণগুলি বর্তমান সেগুলি হল নিম্নরূপ : প্রথমত, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা  রক্ষার মূল দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের। নিরাপত্তা পদে নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা আবার বৃহৎ শক্তির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পঞ্চশক্তি ঐক্যমতে পেছাতে পারে নি। ফলে শান্তিরক্ষার ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদ যখন ঐ কোন পদক্ষেপ নিতে উদ্যত হয়েছে তখনই পঞ্চশক্তির মধ্যে কেউ না কেউ ভেটো প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদকে অচল করে দিয়েছে।

 

দ্বিতীয়ত, ভেটো ব্যবস্থা ছাড়াও সনদের বিশেষ কয়েকটি ধারা জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতার জন্য দায়ী। উদাহরণস্বরূপ আত্মরক্ষার প্রয়ােজনে যুদ্ধ করার সম্মতি, আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার নীতি’ প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য।

 

তৃতীয়ত, নিজস্ব কোন সৈন্যবাহিনী না থাকা জাতিপুঞ্জের দুর্বলতার অন্যতম কারণ। 

 

চতুর্থত, জাতিপুঞ্জের নিজস্ব কোন আয়ের উৎস নেই। সদস্য রাষ্ট্রগুলির বিশেষ করে পশ্চিমী দেশগুলির অর্থসাহায্যের ওপর জাতিপুঞ্জকে নির্ভর করতে হয়। জাতিপুঞ্জব নিজের পায়ে দাঁড়ান যত তাসম্ভব হয়ে উঠেছে, পশ্চিমী দেশগুলি ততই তাকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগিয়েছে।

 

পঞ্চমত, অনেকের মতে, আঞ্চলিক শক্তিজোট এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলির উগ্র জাতীয়তাবাদ জাতিপুঞ্জকে দুর্বল করে দিয়েছে।

 

যষ্ঠত, জাতিপুঞ্জের দুর্বলতার অপর একটি কারণ এর স্বেচ্ছামূলক সদস্যপদ । সপ্তমত, সােভিয়েত ইউনিয়ন সহ বিশ্বের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলির বিপর্যয়ের আগে পর্যন্ত ধনতান্ত্রিক জোট এবং সমাজতান্ত্রিক জোটের মধ্যে যে ঠাণ্ডা লড়াই (Cold War) চলেছিল, তা জাতিপুঞ্জকে ভীষণভাবে দুর্বল করে দেয়।

 

অষ্টমত, সােভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর (১৯১১) থেকে বিশ্বরাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আর এটাই জাতিপুঞ্জকে আগের থেকেও বেশি স্থবির করে দিয়েছে। পানামা, নিকারাগুয়া, আইভরি কোস্ট, ইকোয়েডর প্রভৃতি দেশে হাজার মানবাধিকার লঙ্নের ঘটনা ঘটছে ; কিন্তু এগুলি জাতিপুঞ্জের নজরে পড়ছে । কী করে পড়বে? টিকি যে আমেরিকার কাছে বাঁধা। নিরাপত্তা পরিষদে ইরাকের ব্যাপারে নেতিবাচক ভােট দেওয়ার অপরাধে ইয়েমেনে সমস্ত রকম মার্কিন সাহায্য বন্ধ হয়ে গেল।

 

উপসংহার :

ওপরের আলােচনা থেকে দেখা যাচ্ছে জাতিপুঞ্জের সাফল্য যেমন আছে, ব্যর্থতাও তেমনি কম নয়। এই সাফল্য ও ব্যর্থতাকে সঙ্গী করেই জাতিপুঞ্জ অর্ধশতাব্দী পার করে দিল। এইভাবেই জাতিপুঞ্জ আরও অনেকদিন টিকে থাকবে। কারণ এর প্রয়ােজন যে এখনও ফুরায়নি। তাই পল লুসাকার সঙ্গে একমত হয়ে বলতে পারি, যে প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক শান্তির স্বার্থে জাতিগুলি একসময় সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেছিল, সে প্রেরণার আজও সমান প্রয়ােজন ।

 

■  মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ভূমিকার মূল্যায়ন

 

 উত্তর। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মুখ্য উদ্দেশ্য হল আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা। আর এই বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে মানবাধিকারের স্বীকৃতি একান্তভাবে প্রয়ােজন, কারণ বিশ্বের সকল মানুষের মানবিক অধিকার ও স্বাধীনতার স্বীকৃতি ব্যতিরেকে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। এই বিষয়টি মাথায় রেখে সনদের প্রস্তাবনায় মন মানবিক অধিকারের ওপর আস্থা স্থাপন করা হয়েছে। আস্থা স্থাপন করা হয়েছে প্রতিটি মানুষের মর্যাদাবােধ ও গুণাবলীর ওপর। নারী-পুরুষ এবং ক্ষুদ্র ও বৃহৎ জাতি-নির্বিশেষে সকলের জন্য সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার শপথ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

জাতিপুঞ্জের মর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ ১৯৪৬ খৃষ্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতপূর্ব রাষ্ট্রপতি জিভেল্টের পত্নী এলিনর রুজভেল্টের সভাপতিত্বে একটি মানবিক অধিকার কমিশন গঠন করে। সুদীর্ঘ আড়াই বছর ব্যাপী তর্ক-বিতর্কের কষ্টসাধ্য পথ অতিক্রম করে অবশেষে ১৯৪৮ খৃষ্টাব্দে এই কমিশন সর্বজনগ্রাহ্য একটি বিশ্বজনীন ঘােষণার খসড়া প্রস্তুত করে। ঐ বছর ১০ই ডিসেম্বর জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভার প্যারিস সম্মেলনে ৪৮–০ ভােটে এই ঘােষণাপত্রটি গৃহীত হয়। পরবর্তীকালে সাধারণ সভার সিদ্ধান্তক্রমে এই দিনটি বিশ্বের সর্বত্র ‘মানবাধিকার দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।

 

ঘােষণাপত্রের ৩০টি ধারায় প্রধান প্রধান অধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সংযােজন করা হয়েছে। এই ঘােষণাপত্রের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে : “মানব পরিবারের সকল সদস্যের সহজাত মর্যাদা এবং অভিন্ন ও অপরিহার্য অধিকারের স্বীকৃতি হল স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং বিশ্বশান্তির মূলভিত্তি।” মানবাধিকার সম্পর্কিত ঘােষণাপত্রকে দুটি অংশে ভাগ করা যায়। প্রথম অংশের অন্তর্ভুক্ত অধিকারগুলি মূলত পৌর ও রাজনৈতিক প্রকৃতি সম্পন্ন। ঘােষণাপত্রে ২ থেকে ২১ নং ধারাগুলিতে পৌর ও রাজনৈতিক অধিকার সমূহের উল্লেখ আছে। প্রথম অংশের অন্তর্ভুক্ত অধিকারগুলির মধ্যে উল্লেখযােগ্য হল ঃ জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার ; গমনাগমন ও বসবাসের অধিকার ; শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার অধিকার ; সংস্থা গঠনের অধিকার ; স্বৈরাচারী গ্রেপ্তার ও আটকের বিরুদ্ধে অব্যাহতির অধিকার ; নিরপেক্ষ আদালতের দ্বারা ন্যায় বিচারের অধিকার চিঠিপত্রের গােপনীয়তার অধিকার ; সম্পত্তির অধিকার ; ভােটাধিকার ও সরকারে যােগদানের অধিকার ; জাতীয়তার অধিকার ইত্যাদি। 

 

ঘােষণাপত্রের দ্বিতীয় অংশে উল্লিখিত অধিকারগুলি হল আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রকৃতির ঘােষণাপত্রের ২২ থেকে ২৭ নং ধারায় এই সমস্ত অধিকারগুলির উল্লেখ আছে। ধিকারগুলির মধ্যে উল্লেখযােগ্য হল ও কর্মের ও উপযুক্ত জীবনযাত্রার মানের বিকার সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার ; বিশ্রাম ও অবসর গ্রহণের অধিকার ; শিক্ষার কর; সাংস্কৃতিক জীবনে যােগ দেওয়ার অধিকার, সরকারি চাকুরিলাভের ক্ষেত্রে সমানাধিকার, স্বাস্থ্যরক্ষার অধিকার ইত্যাদি।

 

[মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘােষণাপত্র ছাড়াও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ মানব অধিকার ৫ কেটি ঘােষণাপত্র গ্রহণ করেছে, যেমন—(১) শিশুর অধিকারের ঘােষণা {calat at 1(sri tor the Rights of the child), (২) নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অবসান 270 (Declaration on the Elimination of Discrimination Against ৬৫ea), (৩) ৩ শ্ৰদান সম্পর্কিত ঘােষণা (The Declaration on Territal .syltry)) ( 2 ) সা0ি. প্রগতি ও উন্নয়ন সম্পর্কিত ঘোষণা (‘The [১edia 30fল। tar। ১৫৯Lia1 11 (}TCss and Developmen), (৫) মানসিক প্রতিবন্ধীদের “The Declaration on the Rights of the Mentally Retarded

 

মানবাধিকার সংক্রান্ত ঘােষণাকে কার্যকর করার ব্যাপারে জাতিপুঞ্জের উদ্যোগ:

 

 মানবাধিকার সংক্রান্ত ঘােষণার মধ্য দিয়েই জাতিপুঞ্জ তার দায়িত্ব শেষ করে নি, এই ঘােষণাকে অর্থবহ করার ব্যাপারেও জাতিপুঞ্জ অনেকখানি উদ্যোগ নিয়েছে। জাতিপুঞ্জ বিশ্বের বিভিন্ন তাঞ্চলে মানবাধিকার সংক্রান্ত আলােচনাচক্র ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ব্যবস্থা করেছে। অনেক ক্ষেত্রে মানব অধিকার লঙ্ঘনের অভিযােগ সম্বন্ধে জাতিপুঞ্জ ব্যাপক আলোচনার ব্যবস্থা করেছে এবং যেসব রাষ্ট্র মানবাধিকার রক্ষার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা অবলম্বন করে নি তাদের ধিক্কার জানিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইজরায়েল ও হাঙ্গেরীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযােগ উঠলে, এ বিষেয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য সাধারণ সভা তথ্যানুসন্ধান কমিটি নিয়োগ করেছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোন ঘটনা বিশ্ব শান্তির পরিপন্থী প্রতিপন্ন হলে নিরাপত্তা পরিষদ হস্তক্ষেপ করে। রােডেশিয়া মানবাধিকার লঙ্ন করলে নিরাপত্তা পরিষদ ১৯৬৬ সালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করেছিল।

 

জাতিপুঞ্জের সচিবালয়ের মানবাধিকার সম্পর্কিত একটি বিভাগ আছে। সচিবালয় এই বিভাগের মাধ্যমে মানবাধিকার সম্পর্কিত কাজকর্ম পরিচালনা করে থাকে। জাতিপুঞ্জ মানবাধিকারের ব্যাপারে বর্ষপঞ্জী (Yearbook) প্রণয়ন ও প্রকাশের ব্যবস্থা করে। মানবাধিকার সম্পর্কে পরামর্শমূলক সাহায্যের জন্য জাতিপুঞ্জ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা প্রতিহত করার জন্য এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য মানবাধিকার কমিশন একটি উপ-কমিশন (Sub-Commission) গঠন করেছিল।

 

১৯৫৯ সালে সাধারণ সভা শিশুদের সাধারণ অধিকার সম্বন্ধে একটি ঘােষণাপত্র গ্রহণ করে। তাছাড়া কোন জাতির অস্তিত্ব বিলােপের চক্রান্ত প্রতিরােধ, রাজনৈতিক আশ্রয়গ্রহণ, শ্রমিকসংঘের অধিকার, বেগার শ্রমের বিলােপ, দাসপ্রথা বিলােপ, যুদ্ধবন্দী, নারী সমাজের মর্যাদা রক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন সম্মেলন আহ্বান, কমিশন গঠন ও প্রস্তাব অনুমােদনের মাধ্যমে জাতিপুঞ্জ মানবাধিকার রক্ষার চেষ্টা করেছে। মানবাধিকার কমিশনের সাব-কমিশন শিক্ষা, ধর্মীয় অধিকার, ন্যায়নীতি রূপায়নে বৈষম্যমূলক আচরণের বিষয়ে একটি সমীক্ষা করেছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য সম্বন্ধে সাব-কমিশন কর্তৃক প্রণীত একটি চুক্তি ১৯৬০ সালে ইউনেস্কো গ্রহণ করেছে।

 

১৯৫৬ সালে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে প্রতি ৩ বছর অন্তর তাদের দেশে মানবাধিকারের বিকাশ এবং অগ্রগতি সম্বন্ধে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেয়। ১৯৬৬ সালে সকল প্রকার বর্ণবৈষম্যবাদের উচ্ছেদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আহ্বান করা হয়। জাতিপুঞ্জের শুরু থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, রােডেশিয়া প্রভৃতি বহু রাষ্ট্র থেকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক অভিযােগ পাওয়া গেছে। এই সব বিষয়ে সাব-কমিশন তদন্ত ও অনুসন্ধান করেছে।

 

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের উদ্যোগে ১৯৯৩ সালের জুন মাসে ভিয়েনাতে মানবাধিকার সম্পর্কে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে মানবাধিকার সম্পতে সার্বজনীন ঘােষণার প্রতি অঙ্গীকার ঘােষণা করা হয়। বর্ণবৈষম্যবাদ, বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার, অত্যাচার জাতিগত বৈষম্য বন্ধের উন্য আবেদন জানানো হত। তবে

 

 

অংশগ্রহণকারী রাষ্টগুলির মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও মতপার্থক্যের জন্য ঐ সম্মেলনে মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে কোন নতুন মাত্রা সংযােজিত হয় নি।

 

মূল্যায়ন :সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মানবাধিকার সম্পর্কিত ঘােষণাটি বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশা-আকাঙ্গার উদ্রেক করেছিল। জাতিপুঞ্জও ঘােষিত অধিকারগুলিকে বাস্তবায়িত করার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে। তা সত্ত্বেও মানবাধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করা যায় নি। এই ব্যর্থতার কারণ হিসাবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি উল্লেখ করা হয় ।

 

(১) আইনগত বাধ্যবাধকতার অভাব ; মানবাধিকারগুলিকে মেনে চলা বা কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোন আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। তাই নিকোলাস (Nicholas), লুয়ার্ড (Evan Luard) প্রমুখ লেখকদের মতে, ঘােষণায় উল্লিখিত মানবাধিকারগুলির কোন বাস্তব মূল্য নেই। সনদে মানবাধিকারকে কার্যকর করার কোন ব্যবস্থা নেই। মানবাধিকারকে কার্যকর করার ব্যাপারে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের ওপর কোনরূপ আইনানুগ দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয় নি।

 

(২) ঠাণ্ডা লড়াই : অনেকের মতে পৃথিবীর খুব কম দেশেই মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতাকে স্বীকার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই ব্যর্থতার জন্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ‘ঠাণ্ডা লড়াই’ (Cold War)-এর রাজনীতিকে অনেকে দায়ী করেন।

 

(৩) জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতা : পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এবং এখনও ঘটে চলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণকায়দের মানবাধিকার মর্মান্তিকভাবে পদদলিত করা হয়েছে, নামিবিয়ায় বর্ণবৈষম্য নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড প্রভৃতি দেশগুলি দীর্ঘকাল ধরে বর্ণবৈষম্যবাদকে সমর্থন যুগিয়েছে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জ কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নি। শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় বংশােদ্ভূতদের নির্বিচার নিধন শুরু হয়েছিল। এক্ষেত্রেও জাতিপুঞ্জ কোন অর্থবহ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়। কোন কোন সমালােচকের মতে, এক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জের প্রধান ত্রুটি হল, সুনির্দিষ্ট অভাব-অভিযােগের বিচার বিশ্লেষণের অভাব (“…the main weakness of the UN’s work in this field is that it rarely looks into concrete cases.”Evan Luard)। এই কারণেই মানবাধিকার বিষয়ে তদারকির জন্য একজন হাইকমিশনার নিয়ােগের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল। তবে অনেক রাষ্ট্রের বাধাদানের ফলে এই প্রস্তাব কার্যকর করা যায় নি।

 

(৪) সনদের ২(৭) নং ধারার ত্রুটি : মানবাধিকার সম্পর্কিত ক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসাবে কেউ কেউ সনদের ২(৭) নং ধারাকে দায়ী করে থাকেন। এই ধারা অনুসারে কোন রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে জাতিপুঞ্জ হস্তক্ষেপ করতে পারে • হাবিকভাবেই অভিযুক্ত রাষ্ট্রগুলি মানবাধিকার লঙ্ঘন করে সনদের ২(৭) নং ধারার আশ্রন বল করতে পারে। এছাড়া আর একটি ত্রুটির কথাও কেউ কেউ উল্লেখ করেন। জাতিপুঞ্জের সনদে কোন ব্যক্তিকে তার লঙ্তি অধিকার সংরক্ষণ বা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জাতির কাছে সরাসরি আবেদন করার অধিকার বা সুযোগ দেওয়া হয় নি।

 

(৫) সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে ত্রুটি ও মানবাধিকার সংরক্ষণের নামে কতকগুলি কভেনশন্ আহ্বান করা বা ঘােষণাপত্র প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়, ঐসব কনভেনশন বা ঘােষণাপত্র যাতে বাস্তবায়িত হয় তা দেখাও প্রয়ােজন। কিন্তু এখানেই জাতিপুঞ্জের দুর্বলতা। ১৯৫৬ সালে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ সদস্যদের প্রতি তিন বছর অন্তর নিজ নিজ দেশে মানবাধিকার প্রয়ােগ বিষয়ে রিপাের্ট দানের নির্দেশ দেয়। কিন্তু দেখা গেল যে, ঐ রিপাের্টে বিশেষ তথ্য থাকে না, ঐ রিপাের্টের ভিত্তিতে কোন ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয় না। ১৯৭৩ সালে এক প্রস্তাব অনুসারে বলা হয় যে, অভিযোগগুলি একটি Working Group পরীক্ষা করে দেখবে। কিন্তু এই পদ্ধতিও কার্যকরী হয় নি। অনেক ক্ষেত্রে Working Group সাব-কমিশনের কাছে রিপোর্ট দিয়েছে, অথচ সাব-কমিশন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি। কখনও কখনও সাব কমিশন মানব অধিকার কমিশনের কাছে রিপাের্ট পেশ করেছে। কিন্তু তারপরও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নি।

 

উপসংহার :

 মানবাধিকার রক্ষায় জাতিপুঞ্জ অনেকখানি ব্যর্থ একথা সত্য ; এব্যাপারে জাতিপুঞ্জকে আরও বেশি তৎপর হওয়া উচিত এটাও ঠিক। কিন্তু মনে রাখতে হবে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ হল বিশ্ব-বিবেক। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ন্যায় সাধু উদ্যোগের পিছনে বিশ্বজনমতের সমর্থন আছে বলেই বিশ্বের কোন রাষ্ট্রই জাতিপুঞ্জের এই উদ্যোগকে দীর্ঘকাল দাবিয়ে রাখতে পারবে না। অত্যাচারীর কবল থেকে নিপীড়িত মানুষের মুক্তি ঘটবেই। 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *