ভূগোল ও পরিবেশ পশ্চিমবঙ্গ বড় প্রশ্ন উত্তর

 ভূগোল ও পরিবেশ পশ্চিমবঙ্গ বড় প্রশ্ন উত্তর

ভূগোল-ও-পরিবেশ-পশ্চিমবঙ্গ-বড়-প্রশ্ন-উত্তর

 

 

■ পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে আলােচনা করা।

 

 

  পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রাকৃতিক শ্রেণিবিভাগের পরিচয় দাও।

 

 ভূপ্রকৃতি অনুসারে পশ্চিমবঙ্গের শ্রেণিবিভাগ 

 

 পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গকে কয়েকটি বিভাগ ও উপবিভাগে ভাগ করা যায়।

 

পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রকৃতি

 

উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল

 

পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল

 

তিস্তার পূর্বদিক

 

তিস্তার পশ্চিমদিক

 

সিংগালিলা পর্বতশ্রেণি

 

সমভূমি অঞ্চল

 

উত্তরবঙ্গ সমভূমি

 

দার্জিলিংকার্সিয়াং

 

বদ্বীপ সমভূমি

 

পর্বতশ্রেণি

 

তরাই অঞ্চল

 

কলি হল

 

তাল।

 

রাঢ় সমভূমি

 

গগাব্ৰত্মপুত্র দোয়াব

 

বালুকাময়। উপকূলীয় সমভূমি

 

বরেন্দ্রভূমি দিয়ারা

 

সক্রিয় বদ্বীপ পরিণত বদ্বীপ উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল

 

মৃত বদ্বীপ

 

অবস্থান : পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশে শিলিগুড়ি মহকুমা বাদে সমগ্র দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা এবং আলিপুরদুয়ার জেলার উত্তর অংশ পার্বত্য এলাকার অন্তর্গত।

বৈশিষ্ট্য: এটি পূর্ব হিমালয়ের অংশ। এখানকার গড় উচ্চতা প্রায় 2000-2500 মিটার। 3) এখানে অনেক গভীর গিরিখাত ও কয়েকটি সুউচ্চ শৃঙ্গ আছে, ঐ এখানকার ভূমিভাগ উত্তর থেকে দক্ষিণ দিতে ঢালু।

 

ভূপ্রকৃতি:

  তিস্তা নদী এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে উত্তর দক্ষিণে প্রবাহিত হ ও হয় সমগ্র অঞ্চলটি পশ্চিম ও পূর্ব এই দুটি ভাগে ভাগ হয়েছে।

 

তিস্তা নদীর পশ্চিম দিকের অঞ্চল:

  তিস্তার পশ্চিম দিকে হিমালয়ের দুটি প্রধান পর্বতশ্রেণি বিস্তৃত– (১) সিংগালিলা পর্বতশ্রেণি এবং (২.) দার্জিলিং কাসিয়াং পর্বতশ্রেণি। সিংগালিলা পর্বতশ্রেণির প্রধান তিনটি উচু শৃঙ্গ দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত, যথা—সান্দাকফু (3630 মিটার) পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ), ফালুট (3596 মিটার) এবং সবরগ্রাম ( 3:54.3 মিটার)। আর দার্জিলিং-কার্সিয়াং পর্বতশ্রেণির টাইগার হিল ( 2573 মিটার) একটি বিখ্যাত পর্বতশৃঙ্গ। এখানকার একটি উল্লেখযােগ্য শৃঙ্গের নাম সিঞ্চল (2615 মিটার)।

তিস্তা নদীর পূর্ব দিকের অঞ্চল:

তিস্তা নদীর পূর্ব অংশের পার্বত্য ভূমির উচ্চতা অপেক্ষাকৃত কম। এই এই অংশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ রিসিলা (3121) মিটার এছাড়াও এখানে আছে (1885) মিটার ছােটো সিখুলা (1726) মিটার) প্রভৃতি শৃঙ্গ। এবং বক্সা-জান্তী পাহাড় দুরবিনদারা পর্বতশ্রেণি ও ডুয়ার্স ভূমি।

পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল:

অবস্থান: সমগ্র পুরুলিয়া জেলা মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও পশ্চিমাংশের তরঙ্গায়িত ভূমিভাগ পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল নামে পরিচিত। 

বৈশিষ্ট্য : ■ এই অঞ্চলটির পশ্চিমভাগের উচ্চতা (600মিটার) বেশি। এবং পূর্বভাগের (100মিটার) কম। এজন্য অঞ্চলটি পশ্চিম থেকে পূর্বে ঢালু। ■এখানকার অধিকাংশ ভূমিভাগ। পাথুরে ও নুড়িপুর্ণ । ■ অঞ্চলটি প্ৰধানত প্রাচীন গ্রানাইট ও নিস জাতীয় শিলা| ও কোনো কোনো অংশ বলেপাথর, শেল প্রভৃতি শিলা দ্বারা গঠিত।

পাহাড়সমূহ : এই অঞ্চলে কয়েকটি ছােটো পাহাড় দেখা যায়, যার মধ্যে উল্লেখযােগ্য হল—পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়, বাঘমুণ্ডি পাহাড় (670 মিটার), পাঞ্চেত পাহাড়, বাঁকুড়ার বিহারীনাথ পাহাড়, শুশুনিয়া পাহাড়, বীরভূমের মামা-ভাগনে পাহাড় প্রভৃতি। এদের মধ্যে অযোধ্যা পাহাড়ের গােগাবুরু (677 মিটার) মালভূমি এলাকার সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ ।

সমভূমি অঞ্চল:

অবস্থান : উত্তরের পার্বত্যভূমি ও পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল বাদে সমগ্র এলাকা পশ্চিমবঙ্গের সমভূমি অঞল নামে পরিচিত।

 

বৈশিষ্ট্য : 0 সমগ্র অঞলের উচ্চতা খুব বেশি নয়।  প্রধানত নদীবাহিত পলি সঞ্চিত হয়ে এই সমভূমি গড়ে উঠেছে।

 

: শ্রেণিবিভাগ : ভূপ্রকৃতির স্থানীয় বৈচিত্র্যানুসারে এই অঞ্চলকে চার ভাগে ভাগ করা যায়, যথা

 

® উত্তরবঙ্গ সমভূমি: উত্তরের দার্জিলিং হিমালয়ের পাদদেশভূমি থেকে দক্ষিণে গঙ্গা নদীর বামতীর পর্যন্ত বিস্তৃত সমভূমিটির নাম হল উত্তরবঙ্গ সমভূমি। এই অঞ্চলটি উত্তর থেকে দক্ষিণে ঢালু। এর মধ্যে সমভূমির উত্তর প্রান্তের ঢালু ভূমির নাম তরাই অঞ্চল এবং সমভূমির অবশিষ্ট অংশ গঙ্গা ব্রম্মপুত্র দোয়াব নামে পরিচিত। স্থানীয় ভূমিরূপের পার্থক্য অনুসারে গঙ্গা ব্রম্মপুত্র দোয়াবকে আবার তিনটি উপবিভাগে ভাগ করা যায়, যেমন—জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দিনাজপুরের নীচু জলাভূমি বা নিম্নভূমি তাল, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহ জেলার পূর্ব দিকের পুরােনাে পলিমাটি ও ল্যাটেরাইট মাটি দিয়ে গঠিত এলাকা বরেন্দ্রভূমি উত্তর এবং মালদহ জেলার পশ্চিমের নবীন পলিগঠিত অতি উর্বর অংশটি দিয়ারা নামে পরিচিত।

@ রাঢ় সমভূমি: পশ্চিমে মালভূমি অঞ্চল ও পূর্বে ভাগীরথী-হুগলি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলটির নাম রাঢ় সমভূমি। বাঁকুড়া জেলার পূর্বাংশ, পশ্চিম বর্ধমান জেলার পূর্বাংশ, বীরভূম জেলার উত্তর ও পূর্বাংশ, সমগ্র পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া ও হুগলি জেলা এবং মুরশিদাবাদ জেলার পশ্চিমাংশ রাঢ় সমভূমির অন্তর্গত। এই এলাকার পশ্চিমের ভূমি সামান্য তরঙ্গায়িত এবং ওইসব স্থানে রাঙামাটি দেখা যায়। সমগ্র এলাকাটি পশ্চিম থেকে পূর্বে ঢালু।

 

@ বদ্বীপ সমভূমি: সমগ্র নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং মুরশিদাবাদ জেলার পূর্বাংশ হল নিম্ন সমভূমি। একে বদ্বীপ সমভূমিও বলে। এই অংশটি গঙ্গা বদ্বীপের অংশ। এই অঞলের উত্তরাংশ মৃত বদ্বীপ, মধ্যাংশ পরিণত বদ্বীপ ও দক্ষিণাংশ তথা সুন্দরবন হল সক্রিয় বদ্বীপ।

 

@ বালুকাময় উপকূলীয় সমভূমি: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বঙ্গোপসাগরীয় উপকূলে বালুকাময় সমভূমি দেখা যায়। এই সমভূমি উত্তর থেকে দক্ষিণে ক্রমশ ঢালু হয়ে গেছে। এই অঞ্চলে অনেক বালিয়াড়ি দেখা যায়। এখানের দিঘা বালিয়াড়ির সামনে দিঘা সৈকতভূমি অবস্থিত।

পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির পরিচয় দাও। 

 পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি:

পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি নিয়ে আলােচনা করা হল-

 1. সমগ্র পুরুলিয়া জেলা এবং তার সংলগ্ন পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম জেলার পশ্চিমাংশের তরঙ্গায়িত উচ্চভূমিকে বলা হয় পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল। 2. ভূতাত্ত্বিক গঠন অনুসারে এই অঞল ঝাড়খণ্ডের ছােটোনাগপুর মালভূমির সম্প্রসারিত অংশ। এই অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে প্রাচীন এলাকা এবং প্রধানত প্রাচীন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দিয়ে গঠিত।

3. এই অঞ্চলের পশ্চিম দিকে ভূমির উচ্চতা বেশি (সর্বোচ্চ শৃঙ্গ গােগাবুরু, উচ্চতা677মিটার) এবং পূর্বদিকে ভূমির উচ্চতা কম (প্রায় 75 মিটার), অর্থাৎ এই মালভূমি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঢালু।

 

4. মালভূমি; (কোনো কোনো জায়গা কঠিন। প্রথম ছোটে। আছে, যেমন পুরুলিয়া জেলার পশ্চিমভাগে। যোধ্যা পাহাড় ও বাঘমুণ্ডি পাহাড় প্রভৃতি। তারে।

 

5. পুরুলিয়া জেলায় অযোধ্যা পাহাড়ের গোবর সমগ্র সর্বোচ্চ শৃঙ্গ (উচ্চতা 677 মিটার)। এই জেলার উত্তরভাগে আছে পাতে পাহাড় (উচ্চতা 190 মিটার) এবং দক্ষিণভাগে আছে। ভাণ্ডারি পাহাড় (433 মিটার)। পশ্চিম।

 

6. পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের পূর্বভাগ ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে | মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম জেলীর। পশ্চিমভাগে বিস্তৃত রয়েছে। এই অঞ্চলেও কয়েকটি ছােটো পাহাড়। | দেখা যায়। যেমন—ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি, বাঁকুড়া জেলার । শুশুনিয়া পাহাড় (440 মিটার) প্রভৃতি।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সমভূমি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি আলােচনা করাে। 

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সমভূমি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি:

উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল ও পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সমগ্র অংশই সমভূমি। স্থানীয় ভূমিরূপের পার্থক্য অনুসারে এই বিশাল সমভূমি অঞ্চলকে চার ভাগে ভাগ করা যায়, যথা—1. উত্তরবঙ্গ সমভূমি, 2. রাঢ় সমভূমি 3. বদ্বীপ সমভূমি এবং 4. বালুকাময় উপকূলীয় সমভূমি।

 

1. উত্তরবঙ্গ সমভূমি: দক্ষিণে গঙ্গা নদী এবং উত্তরে দার্জিলিং হিমালয় অঞলের মধ্যবর্তী সমতল এলাকার নাম উত্তরবঙ্গ সমভূমি। এই অঞ্চলকে আবার দুটি ক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করা যায়, যথা—®তরাই বা ডুয়ার্স সমভূমি এবং @ গঙ্গা ব্রম্মপুত্র দোয়াব সমভূমি।

 

■তরাই বা ডুয়ার্স সমভূমি: [i] আলিপুরদুয়ার জেলার দক্ষিণাংশ জলপাইগুড়ি জেলার দক্ষিণের অধিকাংশ এলাকা এবং দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহকুমা এই অঞ্চলের অন্তর্গত। [ii] উত্তরের হিমালয় পর্বত এই অংশে হঠাৎ ঢালু হয়ে দক্ষিণের সমভূমির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় এখানে ঢালু সমতলভূমির সৃষ্টি হয়েছে। [iii] এখানে কোথাও কোথাও নুড়ি ও পাথরের স্থূপ এবং জলাভূমি দেখতে পাওয়া যায়। [iv] এখানকার ভূমি উত্তর থেকে দক্ষিণে ঢালু। [v] প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় বলে এই অঞ্চলের ভূমিভাগ বছরের অধিকাংশ সময় স্যাতসেঁতে থাকে।

 

■ গঙ্গাব্ৰত্মপুত্র দোয়াব সমভূমি: গঙ্গা ও ব্রম্মপুত্র নদের মধ্যবর্তী এই দোয়াব সমভূমি অঞ্চলটিকে তিনটি উপবিভাগে ভাগ করা যায়। এগুলি হল—[i] তাল: মালদহ জেলার কালিন্দী ও মহানন্দা নদীর মধ্যবর্তী ভূমি এবং জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরের নিম্নভূমি তাল নামে পরিচিত। এখানে বহু বিল ও জলাভূমি আছে। [i] বারিন্দ বা বরেন্দ্রভূমি: দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলার পূর্বাংশের ভূমি সামান্য উঁচুনীচু এবং প্রাচীন পলি ও ল্যাটেরাইট মাটি দ্বারা গঠিত। এই অংশের নাম বারিন্দ বা বরেন্দ্রভূমি। [i] দিয়ারা: মালদহ জেলার দক্ষিণপশ্চিমাংশে কালিন্দী নদীর দক্ষিণের নবীন পলিগঠিত অঞ্চল দিয়ারা নামে পরিচিত।

 

2 . রাঢ় সমভূমি :  

১. পূর্বে ভাগীরথী-হুগলি নদী এবং পশ্চিমে মালভূমি অঞলের মধ্যবর্তী স্থানে যে বিস্তীর্ণ সমতলভূমি দেখা যায়, | সেটি রাঢ় অঞ্চল নামে পরিচিত। ২.  বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, মুরশিদাবাদ প্রভৃতি জেলা বা জেলার কিছু অংশ রাঢ় সমভূমির অন্তর্গত। ৩. দামােদর, অজয়, ময়ূরাক্ষী প্রভৃতি নদনদীর পলিসঞ্চয়ের ফলে রাঢ় অঞল গঠিত। হয়েছে। ৪. এই অঞ্চলের পশ্চিমাংশের গড় উচ্চতা (75 মিটার)। বেশি এবং পূর্বাংশের গড় উচ্চতা (10 মিটার) কম অর্থাৎ অঞ্চলটি। পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঢালু। ৫. এই অঞ্চলটির পশ্চিমভাগের ভূমি। সামান্য তরঙ্গায়িত এবং প্রাচীন পলিগঠিত।

 

3 বদ্বীপ সমভূমি: 

 রাঢ় অঞলের পূর্বে এবং গঙ্গার দক্ষিণে মুরশিদাবাদ জেলার পূর্বাংশ, সমগ্র কলকাতা, নদিয়া, উত্তর 24 পরগনা জেলা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কিছু অংশ নিয়ে বদ্বীপ সমভূমি গঠিত। গঠনের তারতম্য অনুসারে এই সমভূমি অঞলকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা—

 

■ মৃতপ্রায় বদ্বীপ: মুরশিদাবাদ ও নদীয়া জেলার অন্তর্গত বদ্বীপ সমভূমির উত্তরাংশকে বলে মৃতপ্রায় বদ্বীপ। কারণ বদ্বীপের উত্তরাংশের নদীগুলি আর নতুন করে পলি সঞয় করে না, অর্থাৎ বদ্বীপ গঠনের কাজ এইসব অঞলে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে কয়েকটি অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, বিল বা জলাভূমি দেখা যায়।

 

■ পরিণত বদ্বীপ: মৃতপ্রায় বদ্বীপ অঞলের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে সুন্দরবনের উত্তরাংশ পর্যন্ত পরিণত বদ্বীপ অঞল। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই চব্বিশ পরগনা ও দুই মেদিনীপুর জেলার কিছু অংশ নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। এই অঞ্চলের নদীগুলি এখনও স্থানে স্থানে কমবেশি পলি সঞ্চয় করে। বদ্বীপ গঠনের কাজ বজায় রেখেছে।

 

■ সক্রিয় বদ্বীপ: উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার দক্ষিণাংশ এই অঞলের অন্তর্গত। সুন্দরবন এলাকার নদীগুলি এখনও প্রচুর পরিমাণে পলি সঞ্চয় করায় এখানে অনবরত ভূমি গঠনের কাজ চলছে। তাই এই অঞ্চলের নাম সক্রিয় বদ্বীপ।

 

4. বালুকাময় উপকূলীয় সমভূমি :

  ১. পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বঙ্গোপসাগরের উপকূলে বালুকাময় সমভূমি অবস্থিত। ২. এই অঞলটি উত্তর থেকে দক্ষিণে ঢালু। ৩. এই অঞ্চলে অনেক বালিয়াড়ি আছে। এইসব বালিয়াড়ি কঁথি-দিঘা বালিয়াড়ি নামে পরিচিত। ৪. এর মধ্যে অধিকাংশ বালিয়াড়ির উচ্চাতা 10-15 মিটার। ৫. বালিয়াড়ির পিছনে কিছু জলাভূমি আছে। ৬.দিঘা বালিয়াড়ির সামনে দিঘা সৈকতভূমি অবস্থিত।

পশ্চিমবঙ্গের নদনদীগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

পশ্চিমবঙ্গের নদনদীসমূহ

 

উৎস, প্রবাহের দিক, জলপ্রবাহের পরিমাণ, মােহানা প্রভৃতির মধ্যে বৈচিত্র্য বা পার্থক্য অনুসারে পশ্চিমবঙ্গের নদনদীকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়—1. উত্তরবঙ্গের নদনদী, 2. মধ্যভাগের গঙ্গা ও তার বিভিন্ন শাখানদী, 3. পশ্চিমে মালভূমি ও রাঢ় অঞলের নদনদী, 4, দক্ষিণে সুন্দরবন অঞ্চলের নদনদী এবং 5. কঁথি বালিয়াড়ি অঞ্চলের নদনদী।

1. উত্তরবঙ্গের নদনদী : উত্তরবঙ্গের নদীগুলি অধিকাংশই বৃষ্টি ও বরফগলা জলে পুষ্ট। নদীগুলি হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে উৎপন্ন হয়ে তারপর ভূমির ঢাল অনুসারে উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে। এগুলি হল— তিস্তা: সিকিম হিমালয়ের জেমু হিমবাহ থেকে সৃষ্ট তিস্তা হল উত্তরবঙ্গের প্রধান নদী। এই নদী পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ি জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে যমুনা নদীতে মিশেছে। @ জলঢাকা: এই জলঢাকা নদীটি সিকিম-ভুটান সীমান্তের পার্বত্য এলাকা থেকে সৃষ্টি হয়ে জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে যমুনা নদীতে মিলিত হয়েছে। ও মহানন্দা: এই নদীটি দার্জিলিং হিমালয়ের মহালদিরাম পর্বতের কাছ থেকে সৃষ্টি হয়ে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে এবং শেষে গঙ্গানদীতে মিশেছে এবং এর উপনদীর নাম বালাসন। অন্যান্য নদী: উত্তরবঙ্গের অন্যান্য নদনদীর মধ্যে সংকোশ, রায়ডাক, তাের্সা প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য।

 

2. মধ্যভাগের গঙ্গা ও তার বিভিন্ন শাখানদী : পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নদী গঙ্গা। উত্তরাখণ্ডের গঙ্গােত্রী হিমবাহের গােমুখ গুহা থেকে সৃষ্ট এই নদী দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুরশিদাবাদ জেলার ধুলিয়ানের কাছে দুই ভাগে ভাগ হয়ে, পূর্বে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গঙ্গার মূলধারাটি বাংলাদেশে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। ধুলিয়ানের কাছে গঙ্গা থেকে নির্গত শাখানদীটি পশ্চিমবঙ্গে ভাগীরথী নামে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে হুগলি নদী নামে বঙ্গােপসাগরে মিশেছে। গঙ্গা ও পদ্মার কয়েকটি উল্লেখযােগ্য শাখানদীর নাম হল ইছামতী, চূর্ণি, মাথাভাঙা, জলঙ্গি প্রভৃতি।

 

3. পশ্চিমের মালভূমি ও রাঢ় অঞ্চলের নদী : এই অংশের বেশিরভাগ নদীই বৃষ্টির জলে পুষ্ট এবং ছােটোনাগপুর মালভূমিতে উৎপন্ন হয়ে এই অঞলের ওপর দিয়ে পশ্চিম থেকে পূর্বে বা দক্ষিণ-পূর্বে প্রবাহিত হয়েছে, যেমন—দামােদর, দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী প্রভৃতি। দামােদর: ঝাড়খণ্ডের পালামৌ জেলার খামারপাত পাহাড় থেকে সৃষ্টি হয়ে দামােদর নদ ভাগীরথী-হুগলি নদীতে পড়েছে। এর একটি শাখা মুণ্ডেশ্বরী নামে রূপনারায়ণ নদে মিলিত হয়েছে। @ রূপনারায়ণ: পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল থেকে সৃষ্টি হয়ে দ্বারকেশ্বর নদ ও শিলাবতী নদী দক্ষিণ-পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়েছে এবং শেষে পরস্পর মিলিত হয়ে রূপনারায়ণ নাম নিয়ে হুগলি নদীতে মিশেছে। 3 অন্যান্য নদনদী: এই অঞ্চলের অন্যান্য নদনদীর মধ্যে কংসাবতী, অজয়, ময়ূরাক্ষী, দ্বারকা প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য।

 

4. সুন্দরবন অঞ্চলের নদী : সুন্দরবনে অসংখ্য নদনদী দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে এবং এগুলি বেশিরভাগই জোয়ারের জলে পুষ্ট, যেমন—সপ্তমুখী, মাতলা, রায়মঙ্গল, বিদ্যাধরী প্রভৃতি।

 

5. কঁথি বালিয়াড়ি অঞ্চলের নদী : এই নদীগুলি মূলত জোয়ারের জলে পুষ্ট, যেমন রসুলপুর ও পিছাবনী নদী। এগুলি বঙ্গোপসাগরে মিশেছে।

 

★ পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের নদনদীর পরিচয় দাও। 

 

পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের নদনদীসমূহ

 

1 মালভূমি অঞ্চলের ওপর দিয়ে যেসব নদনদী বয়ে গেছে, সেগুলি। এই অঞ্চলের নদনদীগুলির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য হল—1. পশি.. অধিকাংশই ভাগীরথী-হুগলির উপনদী। 2. নদীগুলি ছােটোনাগদ মালভূমি থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। 3. ভূমির ঢাল অনুসারে নদীগুলি | বেশিরভাগই পূর্বে বা দক্ষিণ-পূর্বে প্রবাহিত হয়েছে। 4. নদীগুলি বর্ষার। জলে পুষ্ট বলে বর্ষাকাল ব্যতীত অন্যান্য সময়ে জল খুব কম থাকে। এই অঞ্চলের প্রধান নদনদীগুলি হল—

 

1. দামোদর : ঝাড়খণ্ডের পালামৌ জেলার খামারপাত পাহাড় থেকে! উৎপন্ন হয়ে দামােদর নদ হুগলি নদীতে মিশেছে। মুণ্ডেশ্বরী নামে দামােদরের একটি শাখা রূপনারায়ণে মিলিত হয়েছে। দামোদ | উপত্যকা পরিকল্পনা রূপায়িত হওয়ার আগে দামােদরে প্রায়ই প্রশ্ন বন্যা হত বলে একে তখন ‘দুঃখের নদ’ বলা হত।

 

2. ময়ূরাক্ষী: পশ্চিমের ছােটোনাগপুর মালভূমিতে উৎপন্ন হয়ে প্রথম ঝাড়খণ্ড এবং তারপর পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষে ভাগীরথীতে মিশেছে। ময়ূরাক্ষীর ডানদিছে উপনদী হল বক্রেশ্বর ও কোপাই এবং বামদিকের উপনদী ব্রাত্মণী ও

 

3. অজয়: পশ্চিমের ছােটোনাগপুর মালভূমিতে উৎপন্ন হয়ে অজয় নদ বীরভূম জেলার দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে গিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাছে ভাগীরথীতে মিশেছে।

 

4. কসাই বা কংসাবতী : এটি পুরুলিয়া জেলার অন্তর্গত অযােধ্যা পাহাড়ের উত্তরদিক থেকে সৃষ্টি হয়ে দক্ষিণ-পূর্বদিকে বয়ে গেছে । এবং অবশেষে কেলেঘাই নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে হলদি নামে হুগলি নদীতে মিশেছে। কুমারী নদী হল কংসাবতীর উপনদী। :

 

5. দ্বারকেশ্বর ও শিলাইবা শিলাবতী : 

নদী দুটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটালের কাছে পরস্পর মিলিত হয়ে রূপনারায়ণ নামে পূর্বমেদিনীপুর জেলার গেঁওখালির কাছে হুগলি নদীতে মিশেছে।

 

 অন্যান্য : এই অঞলের আর একটি উল্লেখযােগ্য নদী হল—

 6. সুবর্ণরেখা। ছােটোনাগপুর মালভূমিতে উৎপন্ন এই নদীটি পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলার দক্ষিণ ভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষে ওডিশা অতিক্রম করে বঙ্গােসাগরে পড়েছে। :

 

রাঢ় সমভূমি এবং গঙ্গার বদ্বীপ অঞ্চলের নদনদীর বর্ণনা দাও। সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলির বৈশিষ্ট্য লেখাে। 3+2

 

রাঢ় সমভূমি অঞ্চলের নদনদী

 

এই অংশের বেশিরভাগ নদীই ছােটোনাগপুর মালভূমিতে উৎপন্ন হয়েছে এবং তারপর পশ্চিমের মালভূমি অঞল অতিক্রম করে এই অঞলের ওপর দিয়ে পশ্চিম থেকে পূর্বে বা দক্ষিণ-পূর্বে প্রবাহিত হয়েছে। যেমন— 1, দামােদর: দামােদর নদ ঝাড়খণ্ডের পালামৌ জেলার খামারপাত

 

হাড় থেকে সৃষ্টি হয়ে পশ্চিমের মালভূমি অঞল পেরিয়ে এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভাগীরথী-হুগলি নদীতে পড়েছে। দামােদরের একটি শাখা মুণ্ডেশ্বরী নামে রূপনারায়ণ নদে মিলিত হয়েছে।

 

3. রূপনারায়ণ দ্বারকেশ্বর ও শিলাই বা শিলাবতী নদী ঘাটালের কাছে মিলিত হয়েছে এবং মিলিত ধারা রূপনারায়ণ নামে গেঁওখালির কাছে। হুগলি নদীতে মিশেছে।

 

অন্যান্য নদনদী: এই অঞ্চলের অন্যান্য নদনদীর মধ্যে 3. কংসাবতী, 4. অজয়, 5.বক্রেশ্বর, 6. ময়ূরাক্ষী, 7. দ্বারকা প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য।

 

গগার বদ্বীপ অঞ্চলের নদনদী :

 

গগার বদ্বীপ অঞলের প্রধান নদী হল ভাগীরথী-হুগলি। এটি বদ্বীপ অঞ্চলের পশ্চিম সীমানা দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে। ভাগীরথী-হুগলি নদীর পূর্বে বদ্বীপ অঞলের ওপর দিয়ে অন্যান্য যেসব নদী প্রবাহিত হয়েছে তাদের মধ্যে ভৈরব, জলঙ্গি, মাথাভাঙা, ইছামতি, চূর্ণি প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য। এইসব নদনদী ভূমির ঢাল অনুসারে উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে। 

 ভৈরব, জলঙ্গি ও মাথাভাঙা, পদ্মা থেকে শাখা হিসেবে বেরিয়েছে। এর মধ্যে মাথাভাঙা ও জলঙ্গি ভাগীরথী নদীতে মিশেছে। মাথাভাঙার দক্ষিণ । ভাগের নাম চূর্নি। এই মাথাভাঙা থেকেই ইছামতি নদী বেরিয়ে বঙ্গােপসাগরে পড়েছে।

 

এই অঞ্চলে ভূমির ঢাল খুব কম বলে নদনদীর গতিপথ বেশ আঁকাবাঁকা এবং বহু জায়গায় নদীর গতিপথ মজে গিয়ে খাল, বিল, জলাভূমি প্রভৃতি তৈরি হয়েছে।

 

এ ছাড়া রয়েছে জোয়ারের জলে পুষ্ট সুন্দরবনের অসংখ্য নদনদী, যেমন—রায়মঙ্গল, মাতলা, গােসাবা, বিদ্যাধরী প্রভৃতি। 

 

সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলির বৈশিষ্ট্য:-

 

সুন্দরবন অঞলের অধিকাংশ নদী জোয়ারের জলে পুষ্ট। যেমন— সপ্তমুখী, মাতলা, রায়মঙ্গল, বিদ্যাধরী প্রভৃতি। এইসব নদীর বৈশিষ্ট্যগুলি হল—1. নদীগুলি জোয়ারের জলে পুষ্ট, তাই এগুলিতে সারাবছরই জল থাকে অর্থাৎ, এগুলি নিত্যবহ নদী। 2. নদীগুলির জল লবণাক্ত। 3. নদীগুলি দৈর্ঘ্যে ছােটো। 4. নদীগুলিতে খড়ি দেখা যায়। 5. নদীগুলির মােহানা বেশ প্রশস্ত। 6. নদীগুলি বঙ্গোপসাগরে  পতিত হয়েছে।

 

 

■ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ঋতুতে জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা করাে। 

 

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ঋতুতে জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যসমূহ বছরের বিভিন্ন সময়ে উয়তার তারতম্য, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ,

বায়ুপ্রবাহের বৈচিত্র্য প্রভৃতি লক্ষ করে ভারত সরকারের আবহাওয়া বিভাগ পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুকে 4 টি প্রধান ঋতুতে ভাগ করেছে। এগুলি হল—1. গ্রীষ্মকাল, 2. বর্ষাকাল, 3. শরৎকাল এবং 4. শীতকাল।

 

1.গ্রীষ্মকাল:

১) সময়কাল মার্চ থেকে মে মাস। মার্চের শেষ থেকে সূর্য যতই নিরক্ষরেখা থেকে কর্কটক্রান্তিরেখার দিকে যায়, পশ্চিমবঙ্গের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পেতে থাকে।

 

২. বৈশিষ্ট্য: [i] এপ্রিল-মে মাসে তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এই সময় রাজ্যের স্বাভাবিক গড় তাপমাত্রা 30° সে থাকলেও পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের কোনা কোনো স্থানে তাপমাত্রা 40° সে বা তারও বেশি হয়। তখন ওই সব অঞ্চলের ওপর দিয়ে অত্যন্ত উত্তপ্ত ‘লু’ বায়ু বয়ে যায়। [ii] পার্বত্য অঞ্চলের ভূমির উচ্চতা বেশি হওয়ায় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে। দার্জিলিং-এর পার্বত্য অঞ্চলের উয়তা থাকে গড়ে 12°সে৪°সে; [iii] গ্রীষ্মকালের অপরায়ে মাঝে মাঝে বজ্রবিদাসহ ঝড়বৃষ্টিপাত বা শিলাবৃষ্টি হয়, যা কালবৈশাখী’ নামে পরিচিত। 

 

2.বর্ষাকাল:

 

১) সময়কাল: জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস। জুন মাসের প্রথমভাগ থেকেই শুরু হয় বর্ষাকাল। জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু রাজ্যে প্রবেশ করে। এর ফলে সারা রাজ্যেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়।

 

২.বৈশিষ্ট্য: [i] আর্দ্র মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় (গড়ে প্রায় 400 সেমি)। [ii] ক্রমশ রাজ্যের দক্ষিণ দিকে বৃষ্টি কমে যায়। উত্তরবঙ্গের সমভূমিতে 200-250 সেমি, দক্ষিণবঙ্গের বদ্বীপ অঞলে 150-200 সেমি বৃষ্টি হয় এবং উপকূল অঞলে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হয়। [iii] বর্ষাকালে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে গড়ে বৃষ্টিপাত হয় 175 সেমি। [iv] রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক বৃষ্টি হয় আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সাদুয়ারে (535 সেমি) ও সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় বীরভূম জেলার ময়ূরেশ্বরে (95 সেমি)। আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে বলে এই সময় গ্রীষ্মকালের তুলনায় উয়তা কিছুটা কমে যায়।

 

3. শরৎকাল

 

১. সময়কাল: অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস। সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগ ও অক্টোবর মাসের প্রথমভাগ থেকে সূর্য নিরক্ষরেখা পেরিয়ে ক্রমশ মকরক্রান্তিরেখার দিকে সরে যেতে থাকে।

 

২. বৈশিষ্ট্য: [i] দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পশ্চিমবঙ্গ থেকে ফিরে যেতে থাকে। ফলে বৃষ্টিপাত ক্রমশ কমে যায়; [i] বর্ষার বিদায়ে আকাশ মেঘমুক্ত হতে থাকে। ফলে এই সময় সাময়িকভাবে উয়তা বেড়ে যায়। গড় উয়তার পরিমাণ প্রায় 30 °সে। [iii] বর্ষা বিদায় নিলেও এই সময় মাঝে মধ্যে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল ঝড় ও বৃষ্টিপাত হয়, যা আশ্বিনের ঝড় নামে পরিচিত।

 

4. শীতকাল। 

 

১. সময়কাল: ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস। এইসময় সূর্য মকরক্রান্তিরেখার কাছাকাছি অবস্থান করে।

 

২ .বৈশিষ্ট্য: [i] এই সময় শীতল ও শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। [ii] শীতল ও শুষ্ক বায়ুর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের তাপমাত্রাও অনেক কমে যায় (গড় তাপমাত্রা পার্বত্য এলাকায়। সে-7″সে এবং দক্ষিণ এ পশ্চিমাংশে যথাক্র•ে 16 সে ও 1)সে হা)। [iii) উত্তর-পূর্ব  মৌসুমি বায়ু শুষ্ক বলে শীতকালে পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টিপাত হয় না। ফলে দৈনন্দিন আবহাওয়ায় শান্ত অবস্থা বিরাজ করে। তলে। মাঝেমাঝে পার্বত্য অঞ্চলে শীতকালে তুষারপাত হতে দেখা  যায়। [iv] এই সময় উত্তর-পশ্চিম ভারতের ওপর দিয়ে আসা নিম্নচাপের প্রভাবে মাঝে মাঝে পশ্চিমবঙ্গে অল্প বৃষ্টিপাত হয়।

একে পশ্চিমি ঝহ্মা বলা হয়

 

■পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে লেখো।

 

 

পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

 

 1. ঋতুপরিবর্তন : পশ্চিমবঙ্গের ঋতুপরিবর্তন। গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল, শরৎকাল ও শীতকাল—এই চারটি প্রধান ঋতু পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে চক্রাকারে আবর্তিত হয়। তবে এখানে শীতের প্রারম্ভে হেমন্তকাল ও গ্রীষ্মের সূচনায় বসন্তকাল নামে আরও দুটি স্বল্পস্থায়ী এবং অপ্রধান ঋতু পরিলক্ষিত হয়।

 

: 2. ক্রান্তীয় মৌসুমি বায়ুর অত্যধিক প্রভাব : গ্রীষ্মকালে উয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালে শীতল ও শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু এই রাজ্যের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই দুই মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে গ্রীষ্মকালে উয়-আদ্র এবং শীতকালে শীতল ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে।

 

3. বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ : পশ্চিমবঙ্গে গ্রীষ্মকালে যেদিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়, শীতকালে ঠিক তার বিপরীত দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়।

 

4. আর্দ্র গ্রীষ্মকাল,শুষ্ক শীতকাল : পশ্চিমবঙ্গে বেশিরভাগ বৃষ্টিপাত হয় গ্রীষ্মকালে (গ্রীষ্মকালের শেষ পর্যায়কে বলে বর্ষাকাল)। তাই গ্রীষ্মকাল আর্দ্র প্রকৃতির হয়। কিন্তু শীতকালে এখানে বৃষ্টিপাত হয় বললেই চলে। তাই শীতকাল শুষ্ক প্রকৃতির হয়।

 

5. উত্তরের পার্বত্যভূমি সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল অঞ্চল : দক্ষিণ-পশ্চিম। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজ্যের উত্তরপ্রান্তে, বিশেষত হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়। পার্বত্য অঞ্চলের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় 400 সেমি।

 

6. পার্বত্য অঞ্চল ব্যতীত অবশিষ্ট এলাকার জলবায়ু সমভাবাপন্ন :উত্তরবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির উচ্চতা বেশি বলে গ্রীষ্মকাল মনােরম, কিন্তু শীতকাল অত্যন্ত তীব্র। রাজ্যের অবশিষ্ট এলাকায় গ্রীষ্মকাল ও শীতকালের মধ্যে উয়তার খুব বেশি পার্থক্য হয় না, অর্থাৎ মনােরম জলবায়ু বিরাজ করে। তবে পশ্চিমের মালভূমি অঞলে (বিশেষত পুরুলিয়া) গ্রীষ্মকালে উয়তা বেশি থাকে।

 

■পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বিশ্লেষণ করো

 

পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব

 

করাে।

 

পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে দুটি ভিন্নধর্মী মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়1. গ্রীষ্মকালীন আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং 2. শীতকালীন শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু। পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু অনেকাংশে এই দুই মৌসুমি বায়ু দ্বারা প্রভাবিত হয়। যেমন—

 

1. ঋতু পরিবর্তন: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমন অনুসারেই পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুকে 4টি ঋতুতে ভাগ করা হয়— দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রাক্-আগমনকালীন সময়কাল গ্রীষ্মকাল, @ দক্ষিণপশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনকাল বা বর্ষাকাল, ও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনকাল বা শরৎকাল এবং ও উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর আগমনকাল বা শীতকাল।

 

2. ঋতুকালীন বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ: কেবল ঋতু বিভাজনই নয়, পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুর ঋতুকালীন বৈশিষ্ট্যও মৌসুমি বায়ুর প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। :

 

3. শীতকালীন উষ্মতা হ্রাস: ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়। এই বায়ু শীতল বলে পশ্চিমবঙ্গের তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। এজন্য এই সময়টিকে বলে শীতকাল। এ ছাড়া,

 

উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু শুষ্ক বলে শীতকালে পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টিপাত । তেমন হয় না।

 

4. গ্রীষ্মকালীন উয়তা বৃদ্ধি : ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিক থেকে। উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় নেয় এবং জুন। মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটে। এই দুই বার। আসা যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়কালে অর্থাৎ, মার্চ মাস থেকে মে মাসে। পশ্চিমবঙ্গের উয়তা যথেষ্ট বৃদ্ধি পায়। এজন্য এই সময়টিকে বলে। গ্রীষ্মকাল।

 

5. বৃষ্টিপাত সংঘটন: জুন থেকে সেপ্টেম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি। বায়ু আর্দ্র বলে এইসময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বৃষ্টিপাত হয়। এজন্য বছরের এই চার মাসকে বলে বর্ষাকাল। :

 

6. সাময়িক উয়তা বৃদ্ধি : অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে দক্ষিণপশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রত্যাবর্তন করে বলে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে এবং উন্নতা সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। তবে এরপরই উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর আগমনের পটভূমি তৈরি হতে থাকে বলে উয়তাও ক্রমশ কমতে থাকে। এই সময়টিকে বলে শরৎকাল।

■ পশ্চিমবঙ্গের মৃত্তিকার শ্রেণিবিভাগ করাে ও সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

পশ্চিমবঙ্গের মৃত্তিকার শ্রেণিবিভাগ

 

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অংশে জলবায়ু, জীবমণ্ডল, ভূপ্রকৃতি, আদিশিলা প্রভৃতির তারতম্যে বিভিন্ন প্রকার মৃত্তিকা সৃষ্টি হয়েছে। 

 

 

পার্বত্য অঞ্চলের মাটি

 

মালভূমি অঞ্চলের মাটি

 

তরাই অঞ্চলের মাটি

 

সমভূমি অঞ্চলের মাটি

 

উপকূলীয় মাটি

 

ল্যাটেরাইট মাটি

 

লােহিত মাটি (লাল)

 

পলিমাটি

 

প্রাচীন পলিমাটি

 

লবণাক্ত মাটি (কালচে)

 

নবীন পলিমাটি

 

1. পার্বত্য অঞ্চলের মাটি

 

১ অবস্থান : পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল অর্থাৎ দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুয়ারদুয়ার প্রভৃতি জেলায় এই মাটি দেখতে পাওয়া যায়।

 

২. বৈশিষ্ট্য : [i] এই মৃত্তিকার গভীরতা খুব কম। [i] প্রধানত নিস শিলা থেকে সৃষ্ট এই মৃত্তিকা কিছুটা আম্লিক প্রকৃতির এবং এটি পডসল মাটি। [i] এর রং প্রধানত ধূসর বাদামি। [iv] এই মৃত্তিকায় বেশি পরিমাণে নুড়ি, পাথর কাঁকর প্রভৃতি থাকে। [v] এতে যথেষ্ট পরিমাণে জৈব পদার্থ থাকে। [vi] ভূমির ঢাল বেশি এবং বৃষ্টিবহুল অঞল বলে এখানে মৃত্তিকা ক্ষয়ের সমস্যা . খুব বেশি।

 

উৎপন্ন ফসল : এই মৃত্তিকায় চা, কমলালেবু, সিঙ্কোনা প্রভৃতি উৎপাদিত হয়

 

2. তরাই অঞ্চলের মাটি

 

১. অবস্থান : পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশে তরাই। অঞলে এই মাটি দেখা যায়।

 

২. বৈশিষ্ট্য :  এই অঞলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বিভিন্ন নদনদী হিমালয়-ক্ষয়িত পদার্থসমূহ বহন করে এনে এখানে সঞ্চয় করার ফলে তরাই মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়েছে। [i] এই মাটিতে নুড়ি, কাকর, বালি প্রভৃতির পরিমাণ বেশি। [iii] গভীর বনভূমির জন্য মাটিতে জৈব পদার্থ বেশি থাকে। [iv] মাটির গভীরতা মধ্যম প্রকৃতির এবং [v] এর রং ধূসর থেকে কালাে। [vi] মাটির উর্বরতা মধ্যম প্রকৃতির। 

 

৩.উৎপন্ন ফসল : এই মাটিতে ধান, গম, চা, আলু প্রভৃতি চাষ করা হয়।

 

3. মালভূমি অঞ্চলের মাটি

 

১ অবস্থান : পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মালভূমি অঞ্চলে এবং মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বরেন্দ্রভূমি অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায়।

 

২. বৈশিষ্ট্য : [i] এখানে প্রধানত দুই ধরনের মাটি দেখা যায়— পশ্চিমভাগে ল্যাটেরাইট মাটি এবং পূর্বভাগে লাল মাটি। [i] ল্যাটেরাইট মাটি দেখতে অনেকটা ইটভাঙা সুরকির মতাে। এতে লােহার ভাগ বেশি থাকে। তবে এই মাটি অনুর্বর। সেচের সুবিধা থাকলে এই মাটিতে চাষাবাদ করা যায়। [ii] এই অঞ্চলের পূর্বভাগে আছে ল্যাটেরাইট-ক্ষয়িত লাল মাটি। এই মাটির কণাগুলি খুব সূক্ষ্ম হয়। মাটিতে লােহার ভাগ বেশি থাকে বলে এই মৃত্তিকার রং লাল। [iv] এই মৃত্তিকার জলধারণক্ষমতা কম। তাই জলসেচের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করা হয়।

 

৩. উৎপন্ন ফসল : এই মাটিতে ধান, গম, ভুট্টা, আলু প্রভৃতি ফসল : উৎপন্ন হয়।

 

4. সমভূমি অঞ্চলের মাটি

 

১.অবস্থান : জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দক্ষিণ দিনাজপুর, মুরশিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর প্রভৃতি জেলায় এই মাটি দেখা যায়।

 

 

২. বৈশিষ্ট্য :  এই মাটির গভীরতা খুব বেশি। [i] মাটি কিছুটা আম্লিক প্রকৃতির। [ii] মাটির মধ্যে বালি ও পলির পরিমাণ বেশি থাকে। [iv] বয়স অনুসারে এই মাটিকে দুইভাগে ভাগ করা হয়—প্রাচীন পলিমাটি ও নবীন পলিমাটি [v] প্রাচীন পলিমাটির রং লালচে বা হালকা লাল এবং নবীন পলিমাটি প্রধানত ধূসর রঙের। [vi] প্রাচীন পলিমাটির তুলনায় নবীন পলিমাটি বেশি উর্বর হয়।

 

৩. উৎপন্ন ফসল: ধান, গম, পাট, আখ প্রভৃতি পলিমাটিতে উৎপাদিত উল্লেখযােগ্য ফসল।

 

5. উপকূলের লবণাক্ত মাটি

 

১. অবস্থান : সুন্দরবন ও কাথি উপকূলে প্রধানত এই মাটি লক্ষ করা যায়।

 

২.বৈশিষ্ট্য :  এই মাটির গভীরতা খুব বেশি। [i] মাটির কণাগুলি খুব সূক্ষ্ম হয়। [i] মাটিতে লবণের পরিমাণ খুব বেশি থাকে। [iv] এই মাটিতে জোয়ারভাটার প্রভাব বেশি বলে মাটি আর্দ্র ও লবণাক্ত প্রকৃতির হয়। [v] মাটির রং কালচে প্রকৃতির।

 

৩. উৎপন্ন ফসল : বৃষ্টির জলের মাধ্যমে বিশেষ পদ্ধতিতে মাটির লবণতা হ্রাস করে নারকেল, সুপারি, ধান, তরমুজ, লঙ্কা শাকসবজি প্রভৃতি উৎপাদন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *