দ্বীপান্তরের বন্দিনী | দ্বীপান্তরের বন্দিনী কবিতার প্রশ্ন উত্তর একাদশ শ্রেণি বাংলা- teacj sanjib

 দ্বীপান্তরের বন্দিনী | দ্বীপান্তরের বন্দিনী কবিতার প্রশ্ন উত্তর একাদশ শ্রেণি বাংলা- teacj sanjib

দ্বীপান্তরের-বন্দিনী|-দ্বীপান্তরেরবন্দিনী-কবিতার-প্রশ্ন-উত্তর-একাদশ-শ্রেণি-বাংলা- teacj-sanjib

 

দ্বীপান্তরের বন্দিনী কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬)

 

১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ফণীমনসাকাব্যগ্রন্থ থেকে ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী কবিতাটি সংকলিত হয়েছে।

 

দ্বীপান্তরের বন্দিনী কবিতার বিষয়বস্তু :

 

ব্রিটিশ শাসকের অত্যাচারে দেশবাসীর স্বাধীনতার স্বপ্ন ক্রমশ ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল।স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নির্বিচারে দ্বীপান্তরে নির্বাসন স্বাধীনতা আন্দোলনের গতিকে অনেকাংশেই রুদ্ধ করে দিয়েছিল সেই সময় আন্দামান তখন হয়ে উঠেছিল সাম্রাজ্যবাদী শােষণের ভয়াবহতার প্রতীক। ইংরেজদের অত্যাচারের সামনে স্বাধীনতার সমস্ত স্বপ্নই যেন ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছিল। এরই মধ্যে মুক্তির সুরের কিছু ইঙ্গিতও মিলছিল, মনে হচ্ছিল রক্তাক্ত প্রেক্ষাপটে শান্তি এবং পবিত্রতার শুভ্রতা নেমে আসছে। কিন্তু দুঃখময় বাস্তব অবস্থাকে অস্বীকারের সুযােগ কবির সামনে কোনােভাবেই ছিল না।

  কবি দেখেছেন সত্য এবং সুন্দরের নিদারুণ লাঞ্ছনা| ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার নামে আইনের সাহায্য নিয়ে অত্যাচার কীভাবে নির্মম হয়ে ওঠে, সত্য বললেই বক্তাকে বন্দি করে কীভাবে তার কণ্ঠস্বর রােধ করে দেওয়া হয় ইত্যাদি ঘটনাও প্রত্যক্ষকরেছেন কবি। স্বাধীনতার মন্ত্র উচ্চারণ করলেই সেই সময়ের সাম্রাজ্যবাদী শাসনব্যবস্থায় ‘বিদ্রোহী’ আখ্যা দেওয়া হত। এই পরিস্থিতিতে মুক্তির স্বপ্নে দেশে একদিন আন্দোলিত হয়েছেন কবি। ঈশ্বরের বিধানে এ  দেশে একদিন স্বাধীনতার বাণী উচ্চারিত হবে বলে কবি মনে করেছেন। স্পষ্টভাবে দিনবদলের স্বপ্ন, যুগান্তরের ইঙ্গিতকেও এই কবিতায় প্রকাশ করেছেন কবি।

 

দ্বীপান্তরের বন্দিনী কবিতার বড় প্রশ্ন উত্তর:

 

প্রশ্নঃ-“হায় শৌখিন পূজারি” –‘শৌখিন পূজারি’ কে? তাঁকে ‘শৌখিন বলা হয়েছে কেন? 

 

 উত্তর

 

দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম ‘শৌখিন পূজারি বলতে শখের স্বাধীনতা সংগ্রামী বা দেশপ্রেমিকদের বুঝিয়েছেন।

 

 • স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনকারীদের মধ্যে এমন কিছু লােক থাকে যারা শুধু নিজেদের নামকে বিখ্যাত করার তাগিদে দেশের লােকের সামনে তাদের নকল দেশপ্রেম জাহির করে বেড়ায়। এদেরকেই কবি শখের আন্দোলনকারী বলেছেন। আমরা জানি, সকল পূজারি প্রকৃত দেববন্দনা করে না। কি লােক নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভক্তরূপে পূজা করে থাকে। ভগবান বন্দনার পেছনে লুকিয়ে থাকে তাদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সিদ্ধির নির্ণয় বাসনা রবীন্দ্রনাথের ভাষা ধার করে তাই বলা যায়, এই স্বার্থসদ্ধানী লােকের। ‘পূজা পূজাই নয়, বেতন’। এইরকম স্বার্থান্বেষী, সুযােগসন্ধানী শখের পূজারিদের সঙ্গে কবি এই দেশের শখের স্বাধীনতা আন্দোলনকারীদের তুলনা করেছেন।

  এরা প্রকৃত অর্থে দেশমাতৃকার শিকল ভাঙার জন্য আন্দোলনকারীদের দলে নাম লেখালেও একনিষ্ঠ হয়ে তাদের পথ অনুসরণ করে না। সবসময় নিজের স্বার্থ বজায় রেখে চলে। আবার সময় বিশেষে মত পরিবর্তন করে বিপক্ষের দলে যােগ দিয়ে প্রকৃত স্বদেশিদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করতে তারা দ্বিধা করে না। এরা কখনও দেশের বা দশের জন্য নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিতে এগিয়ে যায় না। কবির মতে, স্বাধীনতা। আন্দোলনের নামে সমাজে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠা অর্জন এবং নিজের আখের গােছানাের মানসিকতাসম্পন্ন এইরকম শখের আন্দোলনকারীর কোনাে প্রয়ােজন নেই স্বাধীনতার লড়াইতে।

 

তাদের শােষণের রাজত্ব কায়েম রাখতে। ব্রিটিশ শাসনের এরূপ অত্যাচারী স্বরূপকে বােঝানাের জন্যই আলােচ্য মন্তব্যটি করা হয়েছে।

 

প্রশ্নঃ শান্তি-শুচিতে শুভ্র হল কি/রক্ত সোঁদাল খুন-খারাব ?” রক্ত সোঁদাল খুন-খারাব’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? এইরক্তাক্ত অধ্যায় কীভাবে সমাপ্ত হতে পারে বলে কবি মনে করেছেন?

 

উত্তরঃ

দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় কবি নজরুল ইসলাম সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ শাসকদের অত্যাচারী স্বরূপকে প্রকাশ করেছেন। ইংরেজ শাসকেরা শুধু আন্দোলনরত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আন্দামানে নির্বাসনেই পাঠাত না, তার সাথে প্রতিবাদীদের উপর চালানাে হত নির্মম অত্যাচার। স্বাধীনতার শতদলকে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হত অস্ত্রের আঘাতে। ‘বীণার তন্ত্রী’ অর্থাৎ স্বাধীনতার দাবিকে সান্ত্রীর তরবারি ছিন্ন করে দিত। সত্য বললে এখানে বন্দি হতে হত। অত্যাচারের প্রতিবাদ তাে দূরের কথা, অত্যাচারের কথা বলারও অধিকার ছিল না। সাধারণ মানুষের উপরে এই দমনপীড়ন এবং স্বাধীনতার কন্ঠরােধের প্রচেষ্টাতেই দেশ রক্তাক্ত হয়েছিল।

 

  এই রক্তাক্ত অধ্যায় সমাপ্ত হতে পারে একমাত্র স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে। ‘বন্দিনী বাণী’র মুক্তির অর্থ ‘রক্ষ-পুর’ বা ইংরেজ শাসনের অবসান। কামান গােলার সিসা ভূপে’ স্বাধীনতার প্রতিষ্ঠা এই অরাজক অবস্থার অবসান ঘটাতে পারে। স্বাধীনতাই পারে দেশে শান্তি নিয়ে আসতে। সাম্রাজ্যবাদী শাসনে অপবিত্র এই স্বদেশভূমি স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পবিত্র হবে। দ্বীপান্তরের ঘানি’তে যুগান্তরের যে ঘূর্ণিপাক কবি প্রত্যক্ষ করেছেন তাই ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটাবে। আর তার মাধ্যমেই, অর্থাৎ স্বাধীনতার প্রতিষ্ঠাতেই এই রক্তাক্ত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে পারে।

 

প্রশ্ন : “বাণী যেথা ঘানি টানে নিশিদিন,/ বন্দী সত্য ভানিছে। ধান,”—মন্তব্যটির তাৎপর্য আলােচনা করে কবি নজরুলের স্বদেশচেতনার পরিচয় দাও। 

 

উত্তরঃ

দীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় কবি নজরুল পরাধীনতা ও সাম্রাজ্যবাদী বের প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের পক্ষে সরব হয়েছেন।  ব্রিটিশ শাসন তন্ত্র চয়েছিল দেশবাসীর মনে ভীতির সঞ্চার করে ভারতবর্ষে তাদের শোষণের সাম্রাজ্য অটুট রাখতে। দ্বীপান্তরে নির্বাসন কিংবা অত্যাচারের নির্মমতা ছিল সেই বাণীর কণ্ঠস্বর কে স্তব্ধ করে দেয়ার প্রয়াস।

 

 

 এমনকি বিচারব্যবস্থা তখন ছিল ন্যায়ের বিপক্ষে। যার ন্যায় এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তাদের উলটে ‘বিদ্রোহী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে ব্রিটিশ শাসনে। অর্থাৎ, আইনের অপপ্রয়োগ এর মাধ্যমেও তারা সচেষ্ট হয়েছিল তাদের শোষণের রাজত্ব কায়েম রাখতে। ব্রিটিশ শাসনের এরূপ অত্যাচারী স্বরূপ কে বোঝানোর জন্যই আলোচ্য মন্তব্য করা হয়েছে।

 

 বিদ্রোহের অগ্নি-অক্ষরেই নজরুলের কাব্যসাধনা। কিন্তু প্রত্যক্ষ বিদ্রোহের বদলে নজরুল এই কবিতায় এক ধরনের কাব্যিক আড়াল তৈরি করেছেন। শােষণ-অত্যাচারের ভরকেন্দ্র হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন ‘আন্দামান’কে। সাম্রাজ্যবাদী শাসকের নাম একবারও উচ্চারণ না করে অত্যাচার, শােষণের নির্মমতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন কবি। কিন্তু সব কিছুর মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়েছে ‘মুক্ত ভারতী’র অর্থাৎ স্বাধীন স্বদেশের জন্য কবির তীব্র আকুলতা। কবি ‘যুগান্তরের ধর্মরাজ’-এর আবির্ভাবের অপেক্ষা করেছেন। তার জন্যই পাণজন্য শাঁখ বাজাতে বলেছেন। পরিবর্তনের প্রত্যয়েই বিশিষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় নজরুলের স্বদেশচেতনা।

 

প্রশ্নঃ, “জীবন-চুয়ানো সেই ঘানি হতে”রূপকটির ব্যাখ্যা দাও। অথবা, “জীবন-চুয়ানাে সেই ঘানি হ’তে/আরতির তেল এনেছ কি?”রূপকটির অর্থ বুঝিয়ে দাও।

 

উত্তর

 

কাজী নজরুল ইসলামের স্বাধীনতার পটভূমিতে লেখা কবিতা ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ থেকে এই পঙক্তিটি নেওয়া হয়েছে। 

 পরাধীন ভারতভূমিকে স্বাধীন করবার জন্য প্রতিবাদী বিপ্লবীদের শাস্তিস্বরূপ আন্দামানে নির্বাসিত করা হত। সেখানে লােহার কারাগারে ব্রিটিশ প্রহরীদের অকথ্য অত্যাচার সহ্য করে তাদেরকে তেলের ঘানি ঘােরাতে হত, যেটা প্রকৃতপক্ষে পশুর ন্যায় শ্রমসাধ্য একটি কাজ। এখানে সেই ঘানির কথাই বলা হয়েছে। এই ঘানি পিষে তেল বের করতে করতে আমাদের বিপ্লবীদের চরম জীবনীশক্তি নিঃশেষিত হয়ে যেত, সমস্ত তেজ হারিয়ে তারা নিস্তেজ হয়ে পড়ত। হারিয়ে যেত তাদের পুনরায় লড়বার ক্ষমতা। জীবনীশক্তিকে নষ্ট করে দেওয়ার ঘানিকেই এখানে ‘জীবনচুয়ানাে’ বাক্যবদ্ধের মধ্য দিয়ে বােঝানাে হয়েছে। এইভাবে ক্রমাগত ঘানি ঘােরাতে ঘােরাতে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবনীশক্তি ফুরিয়ে গেলেও কবি জানেন যে, এইসব স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগ কখনােই সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার নয়। তাদের জীবনের তিতিক্ষা ও আত্মদানের দৃষ্টান্তকে পাথেয় করে দেশের বাকি সকলের মনেও পরাধীনতার গ্লানি জাগিয়ে তুলতে হবে। দ্বীপান্তরে বন্দি বীরদের আত্মত্যাগ আর তিতিক্ষাই হল এখানে ‘আরতির তেল’। আর কবির স্থির বিশ্বাস—এই আরতির তেলের সাহায্যেই একদিন উজ্জ্বল হয়ে উঠবে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিময়ী শিখা।

 

প্রশ্নঃ “শতদল যেথা শতধা ভিন্ন/শস্ত্রপাণির অস্ত্র-ঘায়” —মন্তব্যটির তাৎপর্য লেখাে। 

 

উত্তর

 

ফণীমনসা কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় কবি নজরুল ইসলামের কবিচেতনায় ‘আন্দামান’ হয়ে উঠেছে ইংরেজের শােষণ- অত্যাচারের প্রতীক। 

 দেশের স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ এবং সংগ্রামরত মানুষদের ওপরে ইংরেজের যে অত্যাচার নেমে এসেছিল, ‘আন্দামান’ এই কবিতায় সম্ভবত তারই প্রতীক। কারণ সেকালের আন্দামানই ছিল রাজদ্রোহী বিপ্লবীদের নির্বাসন ক্ষেত্র। ইংরেজ শাসন যেন এক রুপাের কাঠি যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে বিবশ করে দেয়। পদ্মরূপ স্বাধীনতার পাপড়ি শতছিন্ন হয়ে যায় ইংরেজদের অস্ত্রের আঘাতে ‘সম্রপাণি’ বলতে এই কবিতায় ব্রিটিশ পুলিশ প্রশাসনকে বােঝানাে হয়েছে | সাম্রাজ্যবাদী শােষণের এই নগ্নরূপকেই প্রশ্নোধৃত অংশে তুলে ধরা হয়েছে।

 

এই পরিস্থিতিতে কবি প্রত্যাশা করেছেন বন্দিনী বাণী’ মুক্ত হােক। ‘বাণী’ বলতে কবি এখানে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য দেশবাসীর সমবেত কণ্ঠস্বরকে বুঝিয়েছেন। ইংরেজদের রাক্ষসপুরী ধ্বংস হল কি না তার জন্য কবি উদ্গ্রীব হয়ে উঠেছেন। কারণ তৎকালীন কংগ্রেসের আবেদন-নিবেদন নীতির প্রতি নজরুলের বিন্দুমাত্র আস্থা ছিল না। এতে রক্তাক্ত ভারতবর্য যে কিছুতেই ‘শুভ্র’ হতে পারবে না—তা তিনি বুঝেছিলেন। | যদিও রক্তাক্ত সমাজে কবি শান্তি এবং শুচিতার শুভ্রতা প্রত্যাশা করেছেন। কবি দেখতে চেয়েছেন মুক্ত ভারতী’ অর্থাৎ স্বাধীন স্বদেশভূমিকে।

 

প্রশ্ন – “মুক্ত কি আজ বন্দিনী বাণী ?/ধ্বংস হল কি রক্ষ-পুর?”—মন্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করাে।

 

উত্তর

 

 

নজরুল তঁার ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ইংরেজ শাসিত ভারতবর্যে প্রত্যক্ষ করেছেন অস্ত্রের সাহায্যে কীভাবে স্বাধীনতার কণ্ঠস্বরকে স্তন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিবাদী বিপ্লবী প্রাণকে বন্দি করে রাখা হয় কারাগারের আড়ালে। বন্দি স্বদেশের মুক্তি আর শােষণব্যবস্থার অবসানের সেই উত্তেজনাই ধরা পড়েছে প্রশ্নোধৃত অংশে।

 

আলােচ্য পঙক্তিতে দুটি শব্দবন্ধ আলাদা করে লক্ষ করার মতাে। একটি হল বন্দিনী বাণী’, অন্যটি ‘রক্ষপুর’। ‘বাণী’ বলতে এখানে ভারতবাসীর | স্বাধীনতার ন্যায্য দাবিকে বােঝানাে হয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশ শাসকরা এর জন্য দেশপ্রেমিকদের অপরাধী সাব্যস্ত করে আন্দামানে দ্বীপান্তরে পাঠিয়ে দেয়।

 

দেশবাসীকে ভয় দেখিয়ে তাদের প্রতিবাদ বা আন্দোলন, “দ করে নীরব করে দিতে চেয়েছিল স্বাধীনতার বাণীকে। আর এই বাণী উরিখ। দেওয়াই ছিল সেই সময় ইংরেজদের একমাত্র লক্ষ্য। যেনতেনপ্রকারেন তারা নীরব করে দিতে চেয়েছিল স্বাধীনতার বাণীকে। আর এই বাণী উচ্চারণ করতে গিয়ে অনেক স্বদেশ প্রেমিককে শাস্তিস্বরূপ দ্বীপান্তরে পাঠিয়ে দেওয়া সেই বাণী হয়ে উঠেছে বন্দিনী বাণী।

 রামায়ণে দেখা যায়, রাবন যেমন সীতাকে সমুদ্র পেরিয়ে লংকার অশােকবনে বন্দি করে রেখেছিল। ব্রিটিশরাও অনুরূপে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সমুদ্র পেরিয়ে। আন্দামানে আটক করে রেখেছিল| অর্থাৎ এই কবিতায় ব্রিটিশরা অত্যাচারী রাবণের সঙ্গে তুলনীয় হয়েছে, আর তাদের শাসনব্যবস্থা তুলনীয় হয়ে “রক্ষ-পুর’-এর সঙ্গে।

 

প্রশ্নঃ-“ধ্বংস হ’ল কি রক্ষ-পুর?”—রক্ষ-পুর’কী এবং কীভাবে তা ধ্বংস করা সম্ভব। 

 

স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা কাজী নজরুল ইসলামের ফণীমনসা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ‘রক্ষপুর’ বলতে কবি। অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

 

। রামায়ণের কাহিনি অনুসারে, সীতাকে রাক্ষসরাজ রাবণ হরণ করে নিয়ে গিয়ে লঙ্কার পঞ্চবটী বনে লুকিয়ে রেখেছিলেন। পরাধীন ভারতের বিপ্লবীদের ব্রিটিশরা আন্দামানে দ্বীপান্তরে বন্দি করে রাখত। এ ছাড়াও, এ দেশে নানাভাবে চলত ব্রিটিশদের কঠোর দমনপীড়ন। এইভাবে তারা ভারতমাতাকে শিকলের বাঁধনে বন্দি করে রেখেছিল। কিন্তু কবি নিশ্চিত জানেন, আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ কিছুতেই সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার নয়। ইতিহাসের অনিবার্যতার সূত্র ধরে এরপর কবি স্থির বিশ্বাসে বলে ওঠেন যে, পাপ-পুণ্যের বিচারকর্তা যুগান্তরের ধর্মরাজের চরণ-পদ্ম বর্তমানে কেবল পদ্মের ওপর রাখার অপেক্ষা। তাই যে  দ্বীপান্তর স্বাধীনতার স্বপ্নকে নির্বাসিত করেছিল, সেইখানেই কবি লক করেছেন যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক’-এর সম্ভাবনা। যার প্রবলতাকে কেউ। ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না, নিশ্চিতরূপে যা ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান। ঘটিয়ে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করতে সক্ষম হবেই বলে কবির বিশ্বাস। কবিতাটির উপসংহারে তাই বিপ্লবী প্রাণের আবাহনের জন্য কবি দেশবাসীকে ‘পাঞ্চজন্য শাঁখ বাজাতে বলেছেন।

 

 

প্রশ্নঃ-“কামান গােলার সিসা ভূপে কি/উঠেছে বাণীর শিশমহল?” -কবির এই মন্তব্যের তাৎপর্য বিচার করাে। অথবা, বাণীর শিশমহল বলতে কী বােঝানাে হয়েছে? কবির এই মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করাে। 

 

 উত্তর 

 

কাজী নজরুল ইসলাম তার দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অত্যাচার ও লাঞ্ছনায় বিপন্ন স্বদেশভূমির সঙ্গে গভীর একাত্মতা অনুভব করেছেন| এই ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বন্দি ও নির্বাসিত হয়েছেন অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামী। কবির চোখে এই নির্বাসিত বন্দিরা হয়ে উঠেছেন ভারত-আত্মার মূর্ত প্রতীক। ব্রিটিশ শাসকরা চেয়েছিল হিন্দু-মুসলমানকে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে লিপ্ত করে বা কামান-গােলার সাহায্যে দেশবাসীর মনে ভীতির সঞ্চার করে এদেশে নিজেদের সাম্রাজ্য অটুট রাখতে। বিদ্রোহী কবি নজরুল চেয়েছেন, সেই অত্যাচারের অবসান ঘটুক।

 

সেই সময় সংগ্রামের দিকে লক্ষ রেখে তিনি কিন্তু স্বাধীনতাপ্রাপ্তির ব্যাপারে হয়তাে একটু সন্দিহানই ছিলেন। না হলে “উঠেছে বাণীর শিশমহল” বাক্যটি উল্লেখ করে পূর্ণচ্ছেদের পরিবর্তে জিজ্ঞাসাচিহ্ন ব্যবহার করতেন না। রাজনৈতিক দর্শনে শুচিতা বজায় রাখার প্রচেষ্টায় কিছুতেই যে রক্তস্নাত ভারতবর্ষ ‘শুভ্র’ হতে পারে না, নজরুল তা জানেন। সুসজ্জিত ইংরেজ সৈন্যের কামান-গােলার আক্রমণে স্বাধীনতার স্বপ্নের প্রাসাদ তাই মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যেতে বাধ্য। এরূপ স্বাধীনতার স্বপ্ন বা আকাঙ্ক্ষাকে কবি এখানে তুলনা করেছেন ‘বাণীর শিশমহল’-এর সঙ্গে। কাচনির্মিত বাড়ির মতােই নরমপন্থী মনােভাব আর আলাপ-আলােচনার মাধ্যমে তাই স্বাধীনতা লাভের প্রত্যাশাও সেই সময় স্বাধীনতা নিতান্তই ঠুনকো।

 

 

প্রশ্নঃ-“আইন যেখানে ন্যায়ের শাসক,/সত্য বলিলে বন্দী হই”-—অংশটির মধ্য দিয়ে কবির কোন মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে ?

 

উত্তরঃ

 

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ফণীমনসা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় কবি লক্ষ করেছিলেন স্বাধীনতাপ্রিয় কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের নারকীয় অত্যাচার | আইনের দ্বারা সেখানে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ঘুরপথে মানুষের সত্যভাষণের অধিকারক কেড়ে নেওয়াই হয়েছিল | সত্যভাষণের পরিণতি সেখানে শাস্তি। আইন কার্যত পরিণত হয় এক ধরনের তামাশায়৷ তা কেবল ব্যবহার করা হয় শােষণ ও অত্যাচারের পক্ষে রায়দানের জন্য, ভারতবাসীর স্বাধীনতাকামী আন্দোলনকে ভোতা করে দেওয়ার জন্য এবং দ্বীপান্তরে নির্বাসনে পাঠিয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠকে নীরব করে দেওয়ার ক্ষেত্রে। এই নীতিহীন অত্যাচারী শাসনব্যবস্থা প্রসঙ্গেই কবি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন।

 

নজরুলের কবিচেতনার মূল নিহিত ছিল স্বাধীনতার স্বপ্নে আর সাম্রাজ্যবাদী এবং সামাজিক শােষণের বিরুদ্ধে। আন্দামানে স্বাধীনতাকামী মানুষদের নির্বাসন এবং অত্যাচারের নির্মমতাকে কবি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। অত্যাচারের অবসানে স্বাধীনতার স্বপ্ন তাই তাকে বারবার আন্দোলিত করেছে। যুগান্তরের ধর্মরাজ’-এর আবির্ভাব কবি যেন মনের চোখ দিয়ে দেখছেন; আর তঁাকে আবাহনের জন্যই আকুল হয়ে উঠেছেন| যে দ্বীপান্তর স্বাধীনতার স্বপ্নকেও নির্বাসিত করেছিল, সেখানেই ‘যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক’-এর অর্থাৎ দিনবদলের সম্ভাবনা দেখেছেন কবি।

 

দ্বীপান্তরের বন্দিনী কবিতার প্রশ্ন উত্তর:

 

প্রশ্নঃ- “তবে তাই হােক! ঢাক’ অঞ্জলি, / বাজাও পাঞ্চজন্য শাঁখ!/ দ্বীপান্তরের ঘানিতে লেগেছে/যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক।” কবি কেন ‘বাজাও পাঞ্চজন্য শাখ’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন? ‘যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক’ কথাটির তাৎপর্য লেখাে। ২+৩

 

 অথবা, “দ্বীপান্তরের ঘানিতে লেগেছে যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক।”—‘যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক’ কথাটির তাৎপর্য ’ বিশ্লেষণ করাে। 

 

উত্তর:

 কৃষ্মের শঙ্খের নাম পাঞ্চজন্য। নজরুল ইসলাম তার ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ মানুষদের এই পাঞ্চজন্য শাঁখ বাজাতে বলেছেন। এই শাঁখের শব্দেই থাকবে যুগান্তরকে স্বাগত জানানাের আহ্বান। দীর্ঘ অত্যাচার অবিচারের অবসানে নতুন যুগকে স্বাগত জানানাের জন্যই কবি পাঞ্চজন্য শাঁখ বাজাতে চেয়েছেন। পঞজন নামক রাক্ষসকে হত্যা করার পর তার অস্থি দিয়ে তৈরি হয় পাঞ্চজন্য শাখ। সেই দৃষ্টান্তকে মনে রেখেই ব্রিটিশদের অত্যাচারী শাসনব্যবস্থা ‘রক্ষ-পুর’-কে ধ্বংস করার জন্যই কবি অত্যন্ত সুকৌশলে পাঞ্চজন্য শঙ্খের প্রসঙ্গ এই কবিতায় উল্লেখ করেছেন। 

 

  সেই সময়ে দেশপ্রেমিক স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আন্দোলনকে স্তন্ধ করে দেওয়ার জন্য, তাদেরকে স্বাধীনতা আন্দোলনের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়া হত আন্দামানে। কিন্তু এরই মধ্যে কবি লক্ষ করেন ইতিহাসের অনিবার্যতাকে। তার কানে ভেসে ওঠে “মুক্তবদ্ধ সুর, অর্থাৎ স্বাধীনতার কণ্ঠস্বর ‘যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক’ শব্দবন্ধের দ্বারা এই বিষয়টিকেই কবি ইঙ্গিত করেছেন। ঘূর্ণিপাককে কেউ যেমন ঠেকিয়ে রাখতে পারে না, তেমনই দ্বীপান্তর আন্দামানের ঘানিতে লাগা ঘূর্ণিপাকের প্রবলতাকেও কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না বলে কবির বিশ্বাস। ফলে ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতবর্ষ দ্রুত স্বাধীনতা লাভ করবে বলেই কবির নিশ্চিত প্রত্যয়।

 

প্রশ্নঃ- দ্বীপান্তরের বন্দিনী কবিতায় কবিতায় যে স্বদেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে তা আলােচনা করাে।

 

উত্তরঃ

 

কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ফণীমনসাকাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় কবির স্বদেশপ্রেমের অসামান্য প্রকাশ দেখা যায়। 

 

১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশির প্রান্তরে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তাচলে গিয়েছিল, তার জন্য কবির আক্ষেপ এই কবিতায় তীব্র স্বরে ধবনিত হয়েছে। স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে বন্দি ও দেশান্তরী হতে হয়েছে অসংখ্য দেশপ্রেমিককে। আন্দামান আর নির্বাসন তখন সমার্থক হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতার লাঞ্ছনা, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ওপর ব্রিটিশ শাসকদের নির্মম অত্যাচারকে কবি মর্মস্পর্শী ভাষায় এই কবিতায় ব্যক্ত করেছেন। কবি দেখেছেন প্রতিবাদের আর মুক্তির কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নির্লজ্জ প্রয়াস। এমন এক আইনের শাসনে দেশ বাঁধা, যেখানে সত্য কথা বললে বন্দি হতে হয়, স্বাধীনভাবে কথা বললে ‘বিদ্রোহী আখ্যা পেতে হয়। কিন্তু শােষণের অবসান আর স্বাধীনতার উন্মেষের মধ্যেই রয়েছে জীবনের সার্থকতা—এটাই কবির বিশ্বাস তাই ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’র উপসংহারে কবি এই বিপ্লবী প্রাণকে আহ্বানের জন্যই ‘পাঞজন্য শাখ’ বাজাতে বলেছেন। ইতিহাসের অনিবার্যতায় দ্বীপান্তর আন্দামানের ‘ঘানিতে লেগেছে’ এমন এক ‘ঘূর্ণিপাক’—যাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না; যা নিশ্চিতরূপে ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতকে স্বাধীনতার আলাে দেখাবে বলে কবির বিশ্বাস।

 

প্রশ্ন :- দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী শাসকের যে বর্ণনা কবি দিয়েছেন তা নিজের ভাষায় লেখাে।

 

উত্তর

 

সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে অসন্তোষ আর বিক্ষোভেরই প্রকাশ ঘটেছে কবি নজরুলের ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায়।

 

দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামরত মানুষজনকে ইংরেজ সরকার শাস্তিস্বরূপ আন্দামানে দ্বীপান্তরে পাঠাতেন। কবির কাছে আন্দামান তাই এমন এক জায়গা যেখানে “রূপের কমল রূপার কাঠির / কঠিন স্পর্শে যেখানে স্নান”। ‘রূপের কমল’ বলতে এখানে দেশপ্রেমিক তথা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রাপশক্তির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কবি নজরুলের মতে, ইংরেজ শাসন যেন এক রুপাের কাঠি, যার ছোঁয়াতে রূপকথার রাজকন্যার মতাে দেশের সার্বভৌমত্ব বা স্বাধীনতার বাসনা বিবর্ণ হয়ে যায়। স্বাধীনতার শতদল সেখানে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ব্রিটিশ সান্ত্রী বা ‘শস্ত্ৰ-পাণির’ অর্থাৎ ইংরেজ পুলিশের অস্ত্রের নির্মম আঘাতে। অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর বিপ্লবসাধনাকে এইভাবে দমন করার চেষ্টা করা হয়। আর এই কাজকে সান্ত্রীর সাহায্যে বীণার তীর ছিড়ে করে দেওয়ার মতাে কাজ বলে কবি উল্লেখ করেছেন। অত্যাচারী ইংরেজ শাসনকে কবি ‘রক্ষপুর’ বা ‘যক্ষপুরী’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। সীতাকে যেমন বিনা দোষে বন্দি করে রেখেছিল রাবণ, ঠিক তেমনই সত্যভাষী দেশপ্রেমিকদের বন্দি করে দ্বীপান্তরে পাঠিয়েছে রাবণরূপী ব্রিটিশ সরকার। তবে সত্যকে এভাবে বন্দি করে রাখার যে প্রয়াস তা নিতান্তই হীন বলে নজরুলের অভিমত।

 

 

প্রশ্নঃ-“তবে তাই হােক!”—এক্ষেত্রে কবির অভীষ্ট কী ? 

 

উত্তর

 

নজরুল ইসলাম তার দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় একদিকে যেমন ইংরেজের সাম্রাজ্যবাদী শােষণের ছবিকে তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে তা থেকে মুক্তির স্পষ্ট আকাঙ্ক্ষাও এখানে প্রকাশিত হয়েছে। কবি দেখেছেন স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামরত মানুষদের ওপরে নেমে এসেছে তীব্র অত্যাচার। আইনের শাসনের নামে সত্যকেই আসলে বন্দি করে রাখা হয়েছে। মুক্ত কণ্ঠে কথা বলতে গেলে ‘বিদ্রোহী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার শতদল ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে ইংরেজ পুলিশ প্রশাসনের নির্মম আঘাতে। কিন্তু |

 

  একারণেই মুক্তির আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র হয়ে উঠছে। কবিস্বাধীনতার জন্য যারা আত্মদান করেছে তাদের থেকে প্রেরণা নিয়ে ভারতী’র সন্ধান করতে হবে। দ্বীপান্তরের আন্দামানে কবি যেন নি, পেয়েছেন সেই মুক্তির সুর। কামান গােলার সিসা স্থূপেই স্বাধীনতার প্রাসাদের নির্মাণের সম্ভাবনা দেখেছেন কবি। তার কানে ভেসে এসেছে । বন্ধ সুর’ অর্থাৎ স্বাধীনতার কণ্ঠস্বর। যুগান্তরের ধর্মরাজ’ অর্থা:। পরিবর্তনের দিশারিকে কবি যেন প্রত্যক্ষ করেন, আর তারই আহ্বানী। রচনা করেন কবি নিজে। “তবে তাই হােক’—সেই সম্ভাবনার স্বীকৃতি। | ‘দ্বীপান্তরের ঘানি’তে যে ‘যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক’ লেগেছে তার জন্য পাজন। শাঁখ বাজাতে বলেছেন কবি।

 

দ্বীপান্তরের বন্দিনী কবিতার ছোট প্রশ্ন উত্তর:

 

কমবেশি ২০টি শব্দে উত্তর দাও। 

 

১. “পূজারি, কাহারে দাও অঞ্জলি?”—কবির এই প্রশ্নের কারণ কী? 

 

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতার উদ্ধৃতাংশে কবির এই প্রশ্নের মূলে রয়েছে মুক্ত স্বদেশকে দেখতে না পাওয়া। 

 

২. কবি পূজারির কাছে কার সন্ধান করেছেন?

 

উত্তর: কবি পূজারির কাছে ‘মুক্ত ভারতী’ অর্থাৎ স্বাধীন দেশের সন্ধান করেছেন।

 

৩. “মুক্ত ভারতী ভারতে কই?”—‘ভারতী’ কাকে বলা হয়েছে? 

 

উত্তর: ‘ভারতী’ বলতে স্বদেশ ভারতকে বােঝানাে হয়েছে।

 

৪. ন্যায়ের শাসক বলতে কবি কাদের বুঝিয়েছেন?

 

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ন্যায়ের শাসক বলতে কবি বিদ্রুপ করে ইংরেজ শাসনব্যবস্থাকে বুঝিয়েছেন। 

 

৫. “সত্য বলিলে বন্দী হই,”—কবির এমন উক্তির কারণ কী? 

 

উত্তর: ইংরেজ শাসনে সত্য বললে অর্থাৎ স্বাধীনতার পক্ষে এবং সাম্রাজ্যবাদী অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বললেই বন্দি হতে হয় বলে কবি এমন মন্তব্য করেছেন।

 

৬. “অত্যাচারিত হইয়া যেখানে/বলিতে পারি না অত্যাচার”—এই বলতে পারার কারণ কী?

 

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতার উদ্ধৃতাংশে অত্যাচারিত হয়েও কিছু বলতে না পারার কারণ হল প্রবল বিরুদ্ধ শক্তির প্রবলতার সামনে দেশের মানুষের অসহায়তা।

 

 

৭. কবি ভারতের বন্দিদশাকে কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?

 

 উঃ : কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় কবি ভারতের বন্দিদশাকে পৌরাণিক চরিত্র সীতার লজ্জায় বন্দি থাকার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

 

৮. ‘বাণী’ অর্থাৎ স্বাধীনতার দাবিকে কবি কীভাবে লক্ষ করেছিলেন? 

 

উত্তর: কবি বন্দিনী সীতার মতাে স্বাধীনতার দাবিকে দেখেছিলেন।

 

৯. “বাণীর মুক্ত শতদল যথা/আখ্যা লভিল বিদ্রোহী”–এর অর্থ কী?

 

 উঃ , কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতার উদ্ধৃতাংশের অর্থ হল ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্যে কেউ স্বাধীনভাবে কথা বললে রাষ্ট্রশক্তি তাকে ‘বিদ্রোহী’ ঘােষণা করে।

 

১০. কারা ‘বিদ্রোহী’ আখ্যা লাভ করল?

 

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় দেশের সাহসী মানুষ যারা মুক্ত কষ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়েছিল তারা ‘বিদ্রোহী’ আখ্যা লাভ করল।

 

১১. স্বাধীনতার মন্ত্র উচ্চারণকারীরা ইংরেজ শাসনে কী আখ্যা পেত?

 

 উত্তর: ইংরেজ শাসনে স্বাধীনতার মন্ত্র উচ্চারণকারীরা ‘বিদ্রোহী’ আখ্যা পেত।

 

১২. পূজারির সঙ্গে কী থাকার কথা কবি জানতে চেয়েছেন? |

 

উত্তর: দেশমাতাকে বন্দনার জন্য একজন পূজারির সঙ্গে ‘বাণী পূজা- উপাচার’ আছে কি না কবি জানতে চেয়েছেন।

 

১৩. দেশমায়ের পূজার উপচার কী হতে পারে বলে কবি মনে করেছেন? 

 

উত্তর: দেশের জন্য বিপ্লবীদের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং আত্মদানই দেশমায়ের পূজার প্রধান উপচার বলে কবি মনে করেছেন।

 

১৪, কারা সিংহকে খাঁচায় রাখে?

 

উত্তর: ইংরেজ প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে সিংহের মতাে বিক্ৰমে লড়তে থাকা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের খাচায় অর্থাৎ কারাগারে বন্দি করে রাখে।

 

১৫. বাঘকে কীসের আঘাত করা হয়?

 

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় বাঘকে অগ্নিশেলের আঘাত করা হয়।

 

১৬. দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় বাঘ ও সিংহের প্রতীকে কবি কাদের বােঝাতে চেয়েছেন?

 

উত্তর: ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় বাঘ ও সিংহের প্রতীকে কবি অসমসাহসী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বােঝাতে চেয়েছেন। :

 

১৭. “তবে কি বিধির বেতার-মন্ত্র/বেজেছে বাণীর সেতারে আজ,”—এই ‘বিধির বেতার-মন্ত্র’ কী?

অথবা, ‘বিধির বেতার-মন্ত্র’ বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?

অথবা, দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ‘বিধির বেতার-মন্ত্র’ কী?

 

 

উত্তর : কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতার উদ্ধৃতাংশে ‘বিধির বেতার-প্লে’ হল স্বাধীনতার বার্তা।

 

১৮. বাপীর সেতারে’ কবি কীসের বাজনা শুনতে চেয়েছিলেন? 

 

উত্তর: বাপীর সেতারে’ কবি বিধির বেতার গল্প শুনতে চেয়েছিলেন।

 

১৯. কবি কাকে পদ্মে অধিষ্ঠিত হতে দেখেছেন? 

 উত্তর: কবি যুগান্তরের পরাজবে পদ্মে অধিষ্ঠিত হতে দেখেছেন

 

২০. “পদ্মে রেখেছে চরণ-পদ্ম”- কথাটি আসলে কী? 

 

উত্তর: “পদ্মে রেখেছে চরগ-পদ্ম” কথাটির মাধ্যমে যুগান্তরের ধারা, আগমন বা ব্রিটিশ শাসনের অবসানের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে |

 

২১. ধর্মরাজ কীসের বার্তা বহন করে এনেছেন?

 

উঃ ধর্মরাজে যুগান্তরের বার্তা বহন করে এনেছেন

 

। ২২. ধর্মরাজের আবাহনে কবি কী বাজাতে বলেছেন? 

 

উত্তর: ধর্মরাজের আবাহনে কবি পাঞ্চজন্য “শাখ বাজাতে

 

২৩. কবি কেন ঢাক ও পাঞ্চজন্য  শাঁখ বাজাতে বলেছেন?

 

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায়  মনে করেন দ্বীপান্তরের ঘানিতে যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক লেগেছে, তছি । ঢাক ও পাঞ্চজন্য বাজাতে বলেছেন।

 

২৪, যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে কী হবে বলে কবি মনে করেন?

 

: যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে দেশের বর্তমান পরাধীনতার বিনাশ হয়ে ন। যুগের সূচনা হবে বলে কবি মনে করেন।

 

দ্বীপান্তরের বন্দিনী কবিতার অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি:

 

 ১. “আসে নাই ফিরে ভারত-ভারতী?/মা’র কতদিন দ্বীপান্তর?”—‘মা’কে দ্বীপান্তরিতা বলা হয়েছে কেন? 

 

উত্তর: স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনকারীদের দ্বীপান্তরে পাঠানাে হত বলেই সেই তাৎপর্যে দেশ ‘মা’কে দ্বীপান্তরিতা বলা হয়েছে।

 

২.‘ভারত-ভারতী’ বলতে কবি কাকে বুঝিয়েছেন? 

 

উত্তর: ‘ভারত-ভারতী’ বলতে কবি দেশমাকে বুঝিয়েছেন।

 

৩. ‘মা’র কতদিন দ্বীপান্তর?’—এই ‘মা’ কে? 

 

উত্তর: কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত “দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতার উদ্ধৃতাংশে ‘মা’ হলেন কবি তথা ভারতবাসীর দেশমাতা। 

 

 

৪. ‘ভারত-ভারতী’-কে কবি কোথায় দেখেছেন?

 

 

উত্তর: ‘ভারত-ভারতী’-কে কবি দ্বীপান্তরে দেখেছেন।

 

৫. “পুণ্যবেদির শূন্যে ধ্বনিল”—বেদি শূন্য কী কারণে?

 

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতার উদ্ধৃতাংশে বেদিকে শূন্য বলা হয়েছে, কারণ বেদিতে অধিষ্ঠিত দেশমাতা দ্বীপান্তরে বন্দিনি হয়েছেন।

 

৬. ‘পুণ্যবেদির শূন্য’ বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?

 

পুণ্যবেদির শূন্য বলতে স্বদেশভূমিকে বােঝানাে হয়েছে।

 

 ৭. দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় মায়ের কতদিন দ্বীপান্তর ঘটেছে বলা হয়েছে?

 

উত্তর: : কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতা অনুযায়ী দেশমায়ের দেড়শত বছর দ্বীপান্তর ঘটেছে।

 

৮. ‘সপ্ত সিন্ধু তেরাে নদী পার’-এ কবি কী দেখেছেন ? 

 

উত্তর: ‘সপ্ত সিন্ধু তেরাে নদী পার’-এ কবি দ্বীপান্তরের আন্দামানকে দেখেছেন।

 

৯.‘দ্বীপান্তর’ বলতে কোন্ জায়গার কথা বলা হয়েছে? 

 

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ‘দ্বীপান্তর’ বলতে আন্দামানের কথা বলা হয়েছে। :

 

১০. ‘দ্বীপান্তরের আন্দামান’ কথাটি কোন্ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে?

 

উত্তর:  স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নির্বাসন এবং ভারতীয়দের ইংরেজ শাসকদের দমনপীড়নের প্রতীক হিসেবে ‘দ্বীপান্তরের আন্দামান’ কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে। 

 

১১. দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ‘রূপের কমল’ কীভাবে ম্লান হয়েছে? 

 

উত্তর:  কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতা অনুযায়ী রূপের কমল রুপাের কাঠির স্পর্শে বা আঘাতে ম্লান হয়েছে।

 

১২. “শতদল যেথা শতধা ভিন্ন/শস্ত্র-পাণির অস্ত্র-ঘায়,”—এই ‘শস্ত্ৰ-পাণি কী?

 

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় উল্লিখিত ‘শ-পাপি’ হল ইংরেজ সরকারের পুলিশ প্রশাসন।

 

১৩, “শতদল যেথা শতধা ভিন্ন”—এই ‘শতদল’ কী?

 

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় উল্লিখিত এই ‘শতদল’ হল স্বাধীনতার বাসনা।

 

১৪. দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ‘অস্ত্রের আঘাতে কী হয়েছে?

 

উঃ : কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় অস্ত্রের আঘাতে শতদল বা পদ্মের পাপড়িগুলি শত খণ্ডে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

 

“যন্ত্রী যেখানে সান্ত্রী বসায়ে/বীণার তন্ত্রী কাটিছে হায়”- এখানে যন্ত্রী এবং সান্তী’ বলতে কাদের বােঝানাে হয়েছে?

 

উত্তর: মন্ত্রী’ বলতে ইংরেজ শাসক এবং সন্ত্রী’ বলতে তার পুলিশ প্রশাসনকে বোঝানো হয়েছে।

 

 ১৭ দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় কোথা থেকে মুক্ত-বন্ধ সুর’ উঠে।

 

উত্তর : কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ছিন্ন বীণা ও তারহীন সেতার থেকে ‘মুক্তবদ্ধ সুর’ উঠে আসে।

 

 

 ১৮. “মুক্ত কি আজ বন্দিনী বাণী?”- বন্দিনী বাণী’ বলতে কীসের কথা

 

উত্তর: ‘বন্দিনী বাণী’ বলতে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামরত মানুষদের কারারুদ্ধ  করে রাখার ঘটনাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

 

১৯, “ধ্বংস হ’ল কি রক্ষ-পুর?”– এই ‘রক্ষ-পুর’ কী?

 

উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতার | উদ্ধৃতাংশে ‘রক্ষপুর’ হল ইংরেজ-শাসিত ভারত।

 

২০, ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ‘রক্ষ-পুর’ ধ্বংস হলে কী কী ঘটবে?

 

 উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় রক্ষপুর ধ্বংস হলে যক্ষপুরীর রৌপ্য-পঙ্কে রূপকমল ফুটবে ও কামান-গােলা থেকে বেরােনাে সিসার স্থূপে বাণীর শিশমহল উঠবে।

 

২১. দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ‘যক্ষপুরী’ বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?

 

 উত্তর: ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ‘যক্ষপুরী’ কথাটির দ্বারা ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থাকে বােঝানাে হয়েছে।

 

২২, “যক্ষপুরীর রৌপ্যপঙ্কে/ফুটিল কি তবে রূপ-কমল?”—এই ‘রূপকমল’ কী?

 

উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতার উধৃতাংশে ‘রূপকমল’ হল প্রাণশক্তি।

 

২৩, ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ‘বাণীর শিশমহল’ বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?

 

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় বাণীর শিশমহল বলতে ক্ষণস্থায়ী অথচ গম্ভীর অব্যক্ত প্রতিবাদকে বােঝানাে হয়েছে।

 

২৪, বাণীর শিশমহল’-কে কবি কোথায় দেখতে চেয়েছেন?

 

উত্তর: ব্রিটিশ শাসকদের কামান-গােলায় কবি ‘বাণীর শিশমহল’-কে দেখতে চেয়েছেন।

 

২৫. দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় রক্তপাত এবং হত্যালীলায় অস্থির পটভূমি কীসের দ্বারা শুভ্র হতে পারে বলে কবি মনে করেছেন?

 

I: ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় রক্তপাত এবং হত্যালীলায় অস্থির পটভূমি শান্তি ও শুচিতার দ্বারা শুভ্র হতে পারে বলে কবি মনে করেছেন। 

 

২৬, দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় রক্ত সোঁদাল’ কথার অর্থ কী?

 

 উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ‘রক্তসোঁদাল কথার অর্থ হল রক্তে সিক্ত বা রক্তে ভেজা।

 

২৭, “কীসের তরে এ শঙ্খীরব?’— এ কথা বলার কারণ কী?

 

 উত্তর: স্বাধীনতার জন্য দেশবাসীর উন্মুখ হয়ে থাকা এবং তাকে আবাহনের যে আকাঙ্ক্ষা তা বােঝানাের জন্যই আলােচ্য মন্তব্যটি করা হয়েছে।

 

২৮, “বাণী যেথা ঘানি টানে নিশিদিন’—কথাটির দ্বারা কী বােঝানাে হয়েছে?

 

উত্তর। কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতার উদ্ধৃতাংশটির দ্বারা মানুষের মুক্ত কণ্ঠকে রুদ্ধ করে রাখার চেষ্টাকে বােঝানাে হয়েছে।

 

২৯. দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় আন্দামানে কবি কাকে ঘানি টানতে দেখেছেন?

 

উত্তরঃ ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় আন্দামানে কবি ‘বাণী’ অর্থাৎ স্বাধীনতার কণ্ঠস্বরকে ঘানি টানতে দেখেছেন।

 

– ৩০, “বাণী যেথা ঘানি টানে নিশিদিন”– কোথায় কেন বাণী ঘানি টানছে?

 

 উত্তরঃ পরাধীন ভারতে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসনে ‘বাণী’ অর্থাৎ স্বাধীনতার কণ্ঠস্বরকে দ্বীপান্তরে নির্বাসিত হয়ে ঘানি টানতে হচ্ছে।

 

৩১. ইংরেজ শাসনে আইনের প্রয়ােগ কেমন ছিল?

 

 উত্তর: ইংরেজ শাসনে আইনের প্রয়ােগ ঘটিয়ে সত্যভাষীদের বন্দি করা হত।

 

 ৩২. “বন্দী সত্য ভানিছে ধান”—কথাটির অর্থ কী? 

 

 উত্তর: ইংরেজ শাসনে যে সত্য মূল্যহীন, যে সত্যের পথে থাকলে শুধু অত্যাচারিত নয় এমনকি কারারুদ্ধও হতে হয়, উদ্ধৃত অংশে সে কথাই বলা হয়েছে।

 

৩৩. দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ‘জীবন-চুয়ানাে ঘানি’ থেকে কবি তেল আনতে বলেছেন কেন?

 

| উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় কবি জীবনচুয়ানাে ঘানি থেকে তেল আনতে বলেছেন শক্তিদেবীর আরতি করার জন্য।

 

, ৩৪.“জীবন-চুয়ানাে সেই ঘানি”-র তাৎপর্য কী?

 

উত্তরঃ “জীবন-চুয়ানাে সেই ঘানি”—এই কথার মাধ্যমে দেশের জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাসকে বােঝানাে হয়েছে।

 

৩৫. “আরতির তেল এনেছ কি?”-আরতির তেল কোথা থেকে আনার কথা বলা হয়ছে?

 

উত্ত: জীবন চুয়ানাে ঘানি অর্থাৎ দেশের মানুষের আত্মনিবেদন ও সংগ্রামের যে ইতিহাস সেখান থেকেই আরতির তেল’ অর্থাৎ প্রেরণা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। :

 

৩৬, “হােমানল হতে”—এখানে কোন্ হােমানলের কথা বলা হয়েছে? 

 

উত্তরঃ ‘হােমানল’ বলতে এখানে স্বাধীনতার পক্ষে এবং ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে বােঝানাে হয়েছে।

 

৩৭. দ্বীপান্তরের বন্দিনী’কবিতায় কবিকাদের শৌখিন পূজারি’ বলেছেন?

 

 উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় কবি শখের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ‘শৌখিন পূজারি’ বলেছেন।

 

৩৮. শৌখিন পূজারি’ কী করছে?

 

উঃ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় শৌখিন পূজারি দেবীর অনুপস্থিতিতেও বৃথা দেবীর শঙ্খে ফুঁ দিচ্ছে ও অঞ্জলি দিচ্ছে। 

 

৩৯. দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ‘পুণ্যবেদির শূন্যে কী ধ্বনিত হচ্ছে?

 

 উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় কবি অনুভব করেছেনপুণ্যবেদির শূন্যে পরাধীন ভারতবাসীর ক্রন্দন ধ্বনিত হচ্ছে।

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *