সুয়েজখালে হাঙ্গর শিকার গল্পের প্রশ্ন উত্তর একাদশ শ্রেণি বাংলা

 সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার গল্পের প্রশ্ন উত্তর একাদশ শ্রেণি বাংলা

সুয়েজখালে-হাঙ্গর-শিকার-গল্পের-প্রশ্ন উত্তর-একাদশ-শ্রেণি-বাংলা

 

সুয়েজখালে হাঙ্গর শিকার

 

স্বামী বিবেকানন্দ (১৮৬৩-১৯০২)

 

প্রশ্নঃ) “এই দুইপ্রকার মাছ পরিবেষ্টিত না হয়ে হাঙর চলেন না।”~~~-কার লেখা কোন রচনার অংশ? প্রবন্ধ অবলম্বনে হাওরের এই বিশেষ চলন সম্পর্কে লেখো। ২+৩ 

 

উত্তরঃ

 

স্বামী বিবেকানন্দের ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’ নামক রচনা থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে।

 

 জাহাজের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা লেখকরা একসময় দেখেন, পাঁচ-সাত ইঞ্চি জলের ভিতরে থাকা বিশাল আকারের একটি কালাে বস্তু তাদের জাহাজের দিকে এগিয়ে আসছে। কাছে এলে দেখা গেল চ্যাপটা মাথাবিশিষ্ট একটা হাঙর কেতাদুরস্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে আসছে। হাঙরটা একবার ঘাড় ঘােরালেই জলে বিরাট এক আবর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। গম্ভীর চালে এগােনাে হাঙরটির আগে আগে কয়েকটা ছােটো মাছ এগিয়ে চলেছে। এদের মধ্যে আড়কাটি মাছ বা পাইলট ফিশ হাঙরকে শিকার দেখিয়ে দেয় এবং হাঙরের উচ্ছিষ্ট পায়। লেখক আরও দেখলেন যে, কতকগুলি অন্য-জাতীয় ছােটো মাছ হাঙরের পিঠে, পেটে এবং অন্যান্য জায়গায় খেলে বেড়াচ্ছে। এদের দু-একটি আবার হাঙরের ঘাড়ে চেপে বসেছে। যে মাছগুলি হাঙরের আশেপাশে এবং তার গায়ে, পিঠে চড়ে সাঁতরাচ্ছে, তাদের নাম হাঙরচোষক। মাছটির পিঠের পাখনার সামনের অংশে অর্থাৎ বুকের দিকটায় চার ইঞ্চি লম্বা ও দুই ইঞ্চি চওড়া একটি চ্যাপটা আকৃতির গােলাকার চোষক অঙ্গ আছে। জুতাের নীচের অংশের মতাে খাজকাটা, খরখরে অংশবিশিষ্ট এই চোষক-অঙ্গের সাহায্যেই এই মাছ হাঙরের গায়ে চুম্বকের মতাে আটকে থাকে বা চলে-ফিরে বেড়ায়। হাঙরের গায়ে লেগে থাকা পােকা-মাকড় খেয়েই এই মাছেরা বেঁচে থাকে। আড়কাটি ও হাঙর-চোষক—এই দুইপ্রকার সহায়ক বা পার্শ্বচর মাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়েই হাঙর সবসময় চলাফেরা – করে।

 

“রাতেও যাওয়া হবে না, চব্বিশ ঘণ্টা এইখানে পড়ে থাকো…।” কেন সেখানে পড়ে থাকার কথা বলা হয়েছে ? 

 

অথবা, প্লেগ রােগের সংক্রমণের সম্ভাবনায় লেখক ও তাঁর সহযাত্রীদের কী সমস্যায় পড়তে হয়েছিল?

 

 উত্তর 

 

 স্বামী বিবেকানন্দের ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’ রচনাটিতে দেখা যায়, লেখকের জাহাজ ইউরােপ যাওয়ার পথে লােহিত সাগর পার করে ১৪ জুলাই মিশরের সুয়েজ বন্দরে থামে মাল নামাবার জন্য। স্বৰ্গরূপী ইউরােপে যাতে প্লেগ রােগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তাই ইউরােপের প্রবেশদ্বার সুয়েজ বন্দরে সতর্কতামূলক নজরদারি ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কড়া। কারণ, সেই সময় সমগ্র মিশর প্লেগ রােগে রীতিমতাে আক্রান্ত ছিল। আর জাহাজের যাত্রীরাও সম্ভবত প্লেগ রােগের বাহক—এই আশঙ্কার ফলে দুতরফেই ছিল পরস্পরের ছোঁয়াছুঁয়ি বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা। জাহাজ থেকে মাল নামাবার জন্য তাই সুয়েজ বন্দরের কুলিদের ব্যবহার করা হয়নি। জাহাজের খালাসিরা কুলির মতাে মালগুলি বয়ে নিয়ে জাহাজের ক্রেনে তুলে দিচ্ছিল এবং ক্রেন সেই মাল সুয়েজ বন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা নৌকায় আলগােছে ফেলছিল। তাই মাল খালাস করতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। এদিকে রাত্রিতে সুয়েজ বন্দর পার হতে গেলে জাহাজের সামনে বিজলি আলাে লাগানাের প্রয়ােজন ছিল। অথচ প্লেগ রােগের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচার জন্য মিশরের লােকেদের সাহায্য নেওয়ার উপায় ছিল না। ফলে, কিছুতেই জাহাজের সামনে আলাে লাগানাে সম্ভব হয় না। এই কারণেই জাহাজের যাত্রীদের চব্বিশ ঘণ্টা সুয়েজ বন্দরে পড়ে থাকতে হয়েছিল| ভােরে সূর্যের আলােতেই ইউরােপের পথে যাত্রা শুরু করা ছাড়া তাদের উপায় ছিল না।

সুয়েজখালে হাঙ্গর শিকার বড় প্রশ্ন উত্তর:

প্রশ্ন) জাহাজের পেছনে বড়াে বড়াে হাঙ্গর ভেসে ভেসে বেড়াচ্ছে।”-লেখকের অনুসরণে হাঙরের সেই ভেসে ভেসে বেড়ানাের দৃশ্য নিজের ভাষায় বর্ণনা করাে। 

 

অথবা “মনটা একটু ক্ষুন্ন হল।’-কেন এবং কার মন ক্ষুন্ন হয়েছিল? কোন্ দৃশ্য তার মনের পরিবর্তন ঘটিয়েছিল? ২+৩ 

 

উত্তর

 

‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’ রচনার লেখক স্বামী বিবেকানন্দের জাহাজ সুয়েজ বন্দরে দাঁড়ানাের পর সকালেই লেখক শুনতে পান যে, “জাহাজের পেছনে বড়াে বড়াে হাঙর ভেসে ভেসে বেড়াচ্ছে। হাঙরের কথা শুনে লেখক সঙ্গীসাথি-সহ খুব দ্রুত জাহাজের পেছনদিকে পৌছােন। সেখানে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ছাদ থেকে বারান্দার রেলিং ধরে দলে দলে নারী-পুরুষ-শিশু সামনে ঝুঁকে, মুখ বাড়িয়ে হাঙর দেখছিল| লেখকরা যখন সেখানে পৌঁছলেন, তখন হাঙররা আর সেখানে ছিল না। এত আশা নিয়ে গিয়েও হাঙর দেখতে না পেয়ে তাই লেখকের মন ক্ষুন্ন হয়েছিল| মনমরা হয়ে লেখক তাই হাঙরের আশায় জলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। এই সময় তিনি লক্ষ করেন, গাধাড়ার মতাে দেখতে এক ধরনের মাছ জলে ভেসে বেড়াচ্ছে এবং খুব ছােটো আর একজাতীয় মাছ জলে কিলবিল করছে। এদের মধ্যে একটা-দুটো বনিটো মাছ তিরবেগে ছুটে বেড়াচ্ছে। প্রায় ৪৫ মিনিট পর এক যাত্রীর চিৎকার শুনে লেখক দেখেন যে, পাঁচ-সাত ইঞ্চি জলের ভিতরে থাকা অবস্থায় বিরাট বড়াে আকারের একটি কালাে বস্তু খানিকটা দূর থেকে জাহাজের দিকেই আসছে। কাছে এলে দেখা যায় যে, একটা প্রকাণ্ড চ্যাপটা মাথা নিয়ে কেতাদুরস্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে আসছে হাঙর নামধারী এক বিরাটাকার দৈত্য। তার একবার ঘাড় ঘােরানােয় বিরাট আবর্ত তৈরি হচ্ছিল জলে। নানাপ্রকার ছােটোবড়াে মাছকে সঙ্গে নিয়ে হাঙরটি গম্ভীর চালে জাহাজের দিকে এগিয়ে আসছিল। সাঙ্গোপাঙ্গ এই হাঙরটিই লেখকের মুগ্ন মনের পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। 

 

প্রশ্ন) /স্বামী বিবেকানন্দের ‘সুয়েজখলে: হাঙ্গর শিকার’ রচনা অবলম্বনে জাহাজযাত্রীদের হাঙর-শিকারের প্রস্তুতির বিবরণ দাও। 

 

উত্তরঃ

 

 স্বামী বিবেকানন্দের ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’ রচনায় আমরা দেখি যে হাঙর-পরিপূর্ণ সুয়েজ খালে জাহাজের দ্বিতীয় শ্রেণির এক ফৌজি যাত্রী হাঙর শিকারে উৎসাহী হয়ে পড়েন। সারা জাহাজ খুঁজে নােঙরের আকৃতির এক বিশাল হাওরবড়শিও জোগাড় করেন তিনি। সেই ভীষণাকৃতির বড়শিতে কেজিখানেক শুয়ােরের মাংস গেঁথে ভালাে করে দড়ি দিয়ে বেঁধেও দেন তিনি৷ বড়শিটি থেকে চার হাত দূরে বড়াে একখণ্ড কড়িকাঠ ফাতনা হিসেবে রেখে তা ওই দড়ি দিয়েই বেঁধে লাগানাে হয়। তারপর ফাতনা-সহ দড়িবাঁধা বড়শিটা জলে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর জাহাজের নীচে থাকা নৌকার ঘুমন্ত আরব পুলিশদের ডেকে তুলে যাত্রীরা হাঙরের টোপসহ বড়শি ও ফাতনাটাকে জাহাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার অনুরােধ করেন। তারা একটা লতাডালের অগ্রভাগ দিয়ে ঠেলে ফাতনাটাকে দূরে সরিয়ে দেন। অন্যদিকে, হাঙর বড়শির টোপ গিললে তাকে টেনে তােলার জন্য চল্লিশপঞ্চাশ জন সবল যাত্রী দড়ির কাছে অপেক্ষা করতে থাকেন। সমুদ্রের ওপর সেই বড়শিফাতনার দশ বর্গহাত জায়গা জুড়ে সেই টোপ-মাংসের তেল চিকচিক করতে থাকে এবং তার গন্ধও চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

 

এভাবেই জাহাজটির দ্বিতীয় শ্রেণির যাত্রীরা ফৌজি যাত্রীটির নেতৃত্বে হাঙরশিকারের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

 

প্রশ্নঃ) “যাঃ, টোপ খুলে গেল! হাঙ্গর পালালাে।”—টোপ খুলে হাওর কীভাবে পালিয়েছিল তা রচনা অবলম্বনে লেখাে।

 

উত্তরঃ

 

স্বামী বিবেকানন্দের ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনায় আমরা দেখি যে, সেরখানেক শুয়ােরের মাংসের টোপ-সহ প্রকাণ্ড বড়শি ফাতনা-সহ জলে ফেলার অনেকক্ষণ পর একটি হাঙর টোপ গিলতে এগিয়ে আসে। কিন্তু এগিয়ে এসেও দুদুবার হাঙরটি টোপ না গিলে ল্যাজ নাড়িয়ে, শরীর ঘুরিয়ে চলে যায়। তৃতীয়বার ল্যাজ বাঁকিয়ে একটা পাক দিয়ে ঘুরে এসে শেষমেষ হাঁ করে টোপ মুখে দেয় হাঙরটি এবং তারপরই চিৎ হয়ে পড়ে থাকে। এটা দেখে সবাই চিৎকার

 

করতে থাকে—“টোপ খেয়েছে—টান্ টন্ টা৷” চষ্টিশ-পঞ্চাশ জন লােক তখন বড়শির দড়ি ধরে প্রাণপণে টানতে থাকে। কিন্তু হাঙরটির ছিল যেমন শক্তি, তেমন ছিল তার ল্যাজ ঝাপটানাে আর রাক্ষুসে হা। সুতরাং হাঙরে-মানুষে টানাটানি চলতে থাকে। এই টানাটানিতে কখনও হাঙরটি জলের ওপর উঠল, কখনও আবার জলের মধ্যেই ঘুরতে লাগল, কখনও বা নিস্তেজ হয়ে রইল। কিন্তু মাংস-সহ বড়শিটি হাঙরের পেটে যাওয়ার বা মুখের ভিতরে বিঁধে যাওয়ার আগেই যেহেতু যাত্রীরা তাড়াহুড়াে করে টানাটানি শুরু করেছিল, তাই একসময় হঠাৎই বড়শি-সহ টোপ খুলে যায় হাঙরের মুখ থেকে| ফলে হাঙরটি যাত্রীদের হতাশ করে পালিয়ে যায়।

 

প্রশ্নঃ) “তার উপর সে কী দৃশ্য।”—দৃশ্যটি কী? এই দৃশ্যের পরবর্তী হাওর-শিকারের দৃশ্যটি প্রবন্ধ অনুসরণে লেখাে। 

 

‘সুয়েজখালে:‘হাঙর শিকার’ প্রবন্ধটি কার লেখা? প্রবন্ধটি অবলম্বনে হাওর-শিকারের বর্ণনা দাও। 

 

উত্তর

 

স্বামী বিবেকানন্দের ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গার শিকার’ রচনায় ‘বাঘা’ হাঙরটি পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আর-একটি হাঙর টোপের দিকে এগিয়ে। আসতে থাকে, লেখক যার নাম দেন ‘থ্যাবড়া।

 

 সমুদ্রের ওপর দশ বর্গহাত জায়গা জুড়ে সুগন্ধি, সুস্বাদু টোপ-মাংস দুলছিল এবং তার তেল চিকচিক করছিল। তেলের উপর রােদ পড়ে সাদা, লাল, জাফরানি প্রভৃতি রঙের আলাের খেলা চলছিল সেই মাংসের চারদিকে। সেই দৃশ্যের কথাই এখানে বলা হয়েছে।

 

‘থ্যাবড়া’ খানিকক্ষণ বড়শির ধারে কাছে ঘুরপাক খাওয়ার পর টোপটা মুখে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখে| এরপর চিৎ হয়ে শুয়ে আড়াআড়িভাবে টোপটা গিলে যেই চলে যেতে উদ্যত হয়—অমনি সবাই মিলে টান দেয় কাছিতে। অবাক হয়ে থ্যাবড়া মুখঝাড়া দিয়ে টোপটাকে ঝেড়ে ফেলতে চাইলে বড়শিটা পুরােপুরি তার শরীরের মধ্যে গেঁথে যায়। এরপর সবাই মিলে প্রাণপণে কাছি ধরে টানতে থাকলে ক্রমশ থ্যাবড়ার মাথাটা এবং অর্ধেক শরীর জলের ওপর দেখা যায়। টানাটানির ফলে বড়শিতে আরও বিদ্ধ হয় থ্যাবড়া, তার ঠোট এফেঁড়-ওফেঁাড় হয়ে যায়। এসব দেখে এক যাত্রী, পাহারাদার জলপুলিশকে অনুরােধ করেন সাবধানে হাঙরটির ল্যাজের দিকে একটা দড়ি বেঁধে দিতে। নইলে মাত্র একটা দড়ি দিয়ে এতবড়াে জন্তুকে টেনে তােলা খুবই মুশকিলের ব্যাপার। এরপর টানা শুরু হলে দেখা যায় যে, হাঙরটির পেটের নীচে ঝুলছে তার নাড়িভূঁড়ি, যা টানাটানির চোটে পেটের বাইরে বেরিয়ে এসেছে। একজন যাত্রীর কথামতাে ওগুলি কেটে দেওয়া হলে হাঙরের ওজন অনেকটাই কমে যায়, কিন্তু রক্তের স্রোত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর সবার সাহায্যে থ্যাড়া হাঙরটিকে টেনে জাহাজে তােলা হয়। এরপর জাহাজের ডেকে ফেলে ফৌজি যাত্রী কড়িকাঠ দিয়ে হাঙরের মাথায় বারবার আঘাত করতে থাকলেন। হাঙরটির মৃত্যু হলে তার পেট চিরে ফেলা হল। এভাবেই হাঙর শিকারের বীভৎস পরিণতি ঘটল। 

 

সুয়েজখালে হাঙ্গর শিকার গল্প:

 

প্রশ্ন) “এ কথা ইউরােপীয়েরা স্বীকার করতে চায় না;”—কোন্ কথা ইউরােপীয়রা স্বীকার করতে চায় না এবং কেন? ৩+২ 

 

 

উত্তর

 

স্বামী বিবেকানন্দের ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনা থেকে উদ্ধৃতাংশটি নেওয়া হয়েছে| প্রাচীনকাল থেকেই নানাবিধ প্রাকৃতিক সম্পদ ও রত্নসম্ভারে সমৃদ্ধিশালী আমাদের ভারতবর্ষের ওপরেই যে নির্ভর করে থাকত বর্তমানে- ঐশ্বর্য-সম্পদে ফুলে-ফেঁপে ওঠা, ধনগর্বী দেশগুলির ব্যাবসাবাণিজ্য এবং ঐশ্বর্য-সমৃদ্ধি—এই কথাই ইউরােপীয়রা স্বীকার করতে চায় না। 

 

 আধুনিক যুগে ইউরােপীয়রাই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উন্নতজাতি। অথচ একসময় ব্যাবিলন, ইরান, গ্রিস, রােম ইত্যাদি সকল দেশের বাণিজ্য ভারতের ওপরই নির্ভরশীল ছিল। ফলে সেসময়ে বিভিন্ন ইউরােপীয়জাতি ভারতে আসবার জলপথ আবিষ্কারে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। অবশেষে পাের্তুগিজরা ভারতে আসার নতুন পথ আবিষ্কার করে নিজেদের বাণিজ্যকে সমৃদ্ধ করে। এরপর একে একে ওলন্দাজ, ফরাসি, দিনেমার, ইংরেজের আগমন ঘটে এবং মুক্ত উদার ভারতভূমিকে নিঃস্ব করে সবকিছু নিজেদের দেশে নিয়ে যায়। আধুনিক যুগে অবশ্য বিদেশেও অনেক উৎকৃষ্ট জিনিসপত্র উৎপন্ন হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বাভাবিকভাবেই ভারতের কদর কমেছে। তাই উন্নত দেশগুলি স্বীকার করতেই চায় না যে একসময় ভারতে উৎপন্ন সুতির কাপড়, তুলাে, পাট, নীল, লাক্ষা, চাল, হিরে, মােতি, রেশম, কিংখাব বা বিভিন্ন ধরনের মশলার ওপরই নির্ভর করে থাকত তাদের দেশের ব্যাবসাবাণিজ্য এবং ও আমদানি রপ্তানি। ভারতের মতাে নেটিভ দেশের কাছে ঋণস্বীকার করলে পাছে তাদের অহংবােধ এবং আপন সভ্যতার প্রতি গর্ব খর্ব হয়, সেকারণেই এই সহজ সত্য তারা স্বীকার করে না।

 

 

প্রশ্নঃ) “মানবজাতির উন্নতির বর্তমান অবস্থার জন্য যতগুলি কারণ প্রাচীনকাল থেকে কাজ করেছে তার মধ্যে বােধহয় ভারতের বাণিজ্য সর্বপ্রধান”—কোন্ কোন্ জিনিসের আশায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভারতে বাণিজ্য শুরুর আগে কোন্ কোন্ পথে কীভাবে ভারতের সঙ্গে অন্যান্য দেশগুলি বাণিজ্য করতে আসত ? সুয়েজ খাল খননের পর বাণিজ্যে কী কী সুবিধা হয়েছিল? ১+৩+১ 

 

উত্তর 

 

  স্বামী বিবেকানন্দ তঁার ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনায় উল্লেখ করেছেন যে, সুতি কাপড়, তুলা, পাট, নীল, লাক্ষা, চাল, হিরে, মতি ইত্যাদির সঙ্গে উৎকৃষ্ট রেশমি পশমিনা যেমন ভারতে পাওয়া যেত, তেমনই লবঙ্গ, এলাচ, মরিচ, জায়ফল, জয়িত্রি ইত্যাদি নানাবিধ মশলার প্রাপ্তিস্থানও ছিল ভারতবর্য। # কোনাে দেশ যখন সভ্য হয়েছে অর্থাৎ উন্নতির পথে অগ্রসর হয়েছে তখন তারা ভারতে বাণিজ্য করতে এসেছে। এই বাণিজ্য প্রধানত দুটি ধারায় চলেছিল—একটি ডাঙাপথে আফগানিস্তান, ইরান হয়ে, অন্যটি লােহিত সাগর হয়ে জলপথে৷ইরান বিজয়ের পর সিকান্দার শা তার সেনাপতি নিয়াকুসকে সিন্ধুনদ হয়ে আরবসাগর পার হয়ে লােহিত সমুদ্র দিয়ে জলপথের সন্ধানে পাঠান। প্রাচীনকালে ব্যাবিলন, ইরান, গ্রিস, রােম ইত্যাদি প্রাচীন দেশের ঐশ্বর্যবৃদ্ধি অনেক পরিমাণে ভারতের বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করত। তুর্কিরা রােম সাম্রাজ্য দখল করে ইতালীয়দের ভারতবাণিজ্যের পথ বন্ধ করে দিলে কলম্বাস আটলান্টিক পার হয়ে নতুন রাস্তা বের করার চেষ্টা করেন—যার ফল আমেরিকা মহাদ্বীপের আবিষ্কার। পাের্তুগিজরা আবার আফ্রিকাকে বেষ্টন করে ভারতে আসার নতুন পথ আবিষ্কার করেছিল।

 

 

প্রশ্নঃ) “তারাই আবহমানকাল নীরবে কাজ করে যাচ্ছে।” —লেখকের বক্তব্য অনুসরণ করে বুঝিয়ে দাও। 

 

 অথবা, “হে ভারতের শ্রমজীবী”—শ্রমজীবী সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দের ধারণা ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনা অবলম্বনে লেখাে। 

 

 অথবা, “তােমাদের প্রণাম করি।” বা কাদের প্রণাম করেছেন?তাদের প্রতিবার আন্তরিক শ্রদ্ধার পরিচয় দাও। ১+৪ 

 

 উত্তর

 

বক্তা স্বামী বিবেকানন্দ ভারতবর্ষের শ্রমজীবী মানুষদের প্রণাম করেছেন। স্বামী বিবেকানন্দ ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ প্রবন্ধটিতে শ্রমজীবী মানুষের দুরবস্থা দেখে নিজের সহানুভূতি জ্ঞাপন করেছেন এবং সামাজিক এই শােষণের বিরুদ্ধে নিজের প্রতিবাদ বজায় রেখেছেন। তার মতে, মুক্ত উদার দেশ ভারতবর্ষের আদি বাসিন্দারা চিরকাল বিদেশি আক্রমণকারী জাতির দ্বারা অবহেলিত, লাঞ্ছিত, অপমানিত হয়ে চলেছে। এদেশের লােকের দ্বারা উৎপন্ন ফসলে ভরে গেছে তাদের দেশের ঐশ্বর্য-সম্পদ। তাই তিনি এদেশের চাষাভুসাে, তাতি-জেলে প্রমুখ নগণ্য মানুষকে ‘বিজাতিবিজিত স্বজাতিনিন্দিত ছােটো জাত’ বলে সম্বােধন করেছেন। এরা চিরকাল নীরবে কাজ করে যায়, কিন্তু পরিশ্রমের ফল পায় না। তাই এসব শ্রমজীবী মানুষকে তিনি সজাগ হতে বলেছেন যাতে বিশ্ব পরিবর্তনের আবহাওয়ায় তাদেরও এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। স্বামীজি বলেছেন যে, আমাদের পিতৃপুরুষরা দু-খানা দর্শন, দশখানা কাব্য-সাহিত্য লিখে গগন ফাটিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু এদের দুর্দশার কথা তারা কেউই লিপিবদ্ধ করে যাননি৷ বড়াে কর্মে, বড়াে স্বার্থে অনেকেই তাদের স্বার্থ বিসর্জন দেয়, কাপুরুষও প্রাণ ত্যাগ করতে সমর্থ হয়। কিন্তু অতিক্ষুদ্র কাজে অজান্তে যারা নিঃস্বার্থতা, কর্তব্যপরায়ণতা দেখায়, সেই চিরপদদলিত, মনুষ্যসমাজের ভারবাহী শ্রমজীবী মানুষকেই তিনি তার এই প্রবন্ধে প্রণাম জানিয়েছেন। সকলের পূজ্য ধর্মবীর, রণবীর বা কাব্যবীরদের উধের্ব তিনি এই শ্রমজীবী মানুষদের স্থান দিয়েছেন।

 

সুয়েজখালে হাঙ্গর শিকার গল্প ছোট প্রশ্ন উত্তর:

(১) অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি

 

প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান

 

কমবেশি ২০টি শব্দে উত্তর দাও।

 

১. প্রাগাধুনিক যুগে কোন্ কোন্ ইউরােপীয় জাতির ওপর ভারতের লক্ষ্মী সদয়া হয়েছিলেন তা‘সুয়েজখালে:হাঙ্গর শিকার’রচনা অবলম্বনে লেখাে।

 

  উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ থেকে জানা যায়, প্রাগাধুনিক যুগে পাের্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ (হল্যান্ডবাসী) এবং দিনেমার জাতির ওপর ভারতের লক্ষ্মী সদয়া হয়েছিলেন। :

 

২ “তাই ভারতের আর কদর নাই।”—কেন?

 

উত্তর আমেরিকাসহ কয়েকটি দেশে বেশ কয়েকটি জিনিস ভারতের চেয়ে বেশি ভালােভাবে উৎপন্ন হচ্ছে বলেই ভারতের আর তেমন কদর নেই।

 

৩, “একথা ইউরােপীয়েরা স্বীকার করতে চায় না।”—কী স্বীকার করতে চায় না?

 

: ‘সুয়েজখালে; হারশি বা রানা থেকে জানা যায়, বর্তমানে ইউরোপীয়দের যে {ন ৩’, তার সূতিকাগার ছিল ‘নেটি গুণ। ত। তারা সী- তে চায় না।

 

৪. “যারা চাষাড়া তাতি-জোলা, ভারতের নগণ্য মনুষ্য,”- এদের সম্বন্ধে লেখক বিবেকানন্দ কী বলেছেন?

 

উত্তর : ভারতের চাষাভুসাে, তাতি-জোলা ইত্যাদি মানুষদের সম্পর্কে বিবেকানন্দ বলেছেন যে এরা আবহমানকাল ধরে নীরবে কাজ করে গেলেও উপযুক্ত পারিশ্রমিক পায়নি।

 

৫. স্বামী বিবেকানন্দ কাদের ‘বিজাতিবিজিত, স্বজাতিনিন্দিত ছােটো জাত বলে অভিহিত করেছেন?

 

উত্তরঃ ভারতের চাষাভুসাে, তঁাতি-জোলা প্রভৃতি নগণ্য মানুষ আবহমানকাল ধরে পরিশ্রম করলেও এই পরিশ্রমের উপযুক্ত ফল পায়নি। এদের বিবেকানন্দ ‘ বিজাতিবিজিত, স্বজাতিনিন্দিত ছােটো জাত’ বলে অভিহিত করেছেন।

 

৬. ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’ রচনায় উল্লিখিত সুয়েজ খাল কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল?

 

উত্তর: মিশরের ফ্যারাওদের আমলে কতকগুলি লবণাক্ত জলা খননের দ্বারা সংযুক্ত করে ভূমধ্যসাগর ও লােহিত সাগর-স্পশী সুয়েজ খাল তৈরি করা হয়েছিল।

 

৭. ‘মুসলমান সেনাপতি অমরু মিসর বিজয় করে’ কী করেন?

 

উত্তর: মুসলমান সেনাপতি অমরু মিশর বিজয় করে সুয়েজখালের বালি তুলে এবং তার চেহারা পালটে দিয়ে তাকে নতুন করে গড়ে তােলেন।

 

৮, ফরাসিদের পরামর্শে অধিকাংশ ফরাসি অর্থে এই খাত খনন করান’ কে?

 

 উত্তর: তুরস্কের ‘সুলতান’ উপাধিধারী সম্রাটের প্রতিনিধি হিসেবে মিশরের ‘খেদিব’ উপাধিধারী সম্রাট ইসমায়েল ফরাসিদের পরামর্শে অধিকাংশ ফরাসি অর্থে সুয়েজ খাত খনন করান।

 

৯. “এ খালের মুশকিল হচ্চে যে,”—কী মুশকিল সুয়েজখালের?

 

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনায় উল্লিখিত হয়েছে যে, মরুভূমিপথে যাওয়ার জন্য সুয়েজখাল বারবার বালিতে পূর্ণ হয়ে যায়—এটাই ছিল সুয়েজখালের মুশকিল।

 

১০. ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’ রচনা অবলম্বনে সুয়েজখালটি সরু হওয়ায় জাহাজ চলাচলে কী অসুবিধা হত লেখাে।

 

: সুয়েজখাল সরু হওয়ার জন্য তার মধ্য দিয়ে একবারে একটিমাত্র ছােটো বা মাঝারি রণতরি বা বাণিজ্য-জাহাজ চলতে পারত, বড়াে জাহাজের চলাচল প্রায় অসম্ভব ছিল।

 

১১. “এখন একখানি জাহাজ যাচ্ছে আর একখানি আসছে, এ দুয়ের মধ্যে সংঘাত উপস্থিত হতে পারে”-সংঘাত এড়ানাের জন্য কী ব্যবস্থা করা হয়েছিল?

 

উত্তর: সুয়েজখালে দুটি বিপরীতমুখী জাহাজের সংঘাত এড়ানাের জন্য খালটিকে কয়েকটি অংশে ভাগ করে প্রতিটি অংশের দুপাশটা এমনভাবে চওড়া করে দেওয়া হয়েছিল যে, সেখানে দু-তিনটে জাহাজ একসঙ্গে থাকতে পারে।

 

 

১২. “এটি রাজনৈতিক মীমাংসা।”—কোটির কথা বলা হচ্ছে এখানে? 

 

 উত্তর: সুয়েজখাল কোম্পানির অধিকাংশ শেয়ার ইংরেজদের হাতে থাকলেও এ খালের সমস্ত কাজ ফরাসিরাই করে থাকে—এটাই ছিল ইংরেজ এবং ফরাসিদের রাজনৈতিক মীমাংসা।

 

১৩, সুয়েজ খাল কে খনন করেন? কোন্ কোন্ দেশ এই খালের মাধ্যমে বাণিজ্য করত? 

 

উত্তর: সুয়েজ খাল খনন করেন ফর্ডিনেন্ড লেসেন্স নামক এক ফরাসি স্থপতি। ইরাক, ইরান, গ্রিস, ইতালি প্রভৃতি দেশ এই খালের মাধ্যমে বাণিজ্য করত।

 

১৪, ভারতবর্ষের শ্রমজীবীদের স্বামীজি প্রণাম জানিয়েছেন কেন? [হেয়ার স্কুল]

 

উত্তর: ভারতের শ্রমজীবী মানুষরা নিঃস্বার্থ এবং কর্তব্যপরায়ণ হয়ে ‘অপার সদ্ভুিতা, অনন্ত প্রীতি ও নির্ভীক কার্যকারিতার মাধ্যমে নিজেদের কাজ করে যায়। সেজন্যই স্বামীজি তাদের প্রণাম জানিয়েছেন। 

 

১৫. “সুয়েজখাল ফরাসীদের হাতে।”—কথাটি বুঝিয়ে দাও। 

 

 

উত্তর: সুয়েজ খাল ফরাসিদের পরামর্শে ও অর্থে খনন করা হলেও খালকোম্পানিতে মালিকানার অধিকাংশ শেয়ার ইংরেজদের হাতে ছিল। কিন্তু যাবতীয় কাজ ফরাসিরাই করে থাকত।

 

১৬, “বাবা, কি হাঙ্গর!”—বক্তার এমন উক্তির কারণ কী?

 

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনায় দেখা যায়, হাঙর শিকার করে জাহাজের ডেকে তােলার পরে হাঙরটির আয়তনে বিস্মিত হয়েই যাত্রীরা মন্তব্যটি করে।

 

১৭. “এই খাতের মধ্যে বড়াে বাণিজ্য-জাহাজ একখানি একবারে যেতে পারে। শুনেছি যে,”—প্রাবন্ধিক কী শুনেছেন? 

 

 উত্তর: প্রাবন্ধিক স্বামী বিবেকানন্দ শুনেছেন যে, সুয়েজ খালের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত বড়াে রণতরি বা বাণিজ্য-জাহাজ একেবারেই যেতে পারে না।

 

সুয়েজখালে হাঙ্গর শিকার ছোট প্রশ্ন:

২) কমবেশি ২০টি শব্দে উত্তর দাও। 

 

১. আসল ইংরেজি শুয়ােরের মাংস, কালাে প্রকাণ্ড বড়শির চারিধারে বাঁধা অবস্থায় জলের মধ্যে কার মতাে দোল খাচ্ছিল?

 

উত্তর: : প্রশ্নাক্ত বস্তুটি নানা রঙের পােশাকে সজ্জিত গােপিদের মধ্যে থাকা দোদুল্যমান কৃষঠাকুরের মতাে জলের মধ্যে দোল খাচ্ছিল।

 

২. “মােদ্দাকাছির কাছে কাছে থেকো।”—লেখক কী কারণে এ কথা বলেছেন?

 

উত্তর: যাতে হাঙর টোপ গিললে তাকে সবাই মিলে টেনে তুলতে পারে, সেজন্য ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনার লেখক স্বামী বিবেকানন্দ এ কথা বলেছেন।

 

৩. “অমনি পড়ল টান”—কখন টান পড়ল?

 

উত্তর: থ্যাবড়া’ নামক দ্বিতীয় হাঙরটি চিৎ হয়ে শুয়ে আড়াআড়িভাবে টোপ গিলে নিয়ে তারপর ধীরেসুস্থে সেটি উদরস্থ করে যেই চলে যেতে উদ্যত হল, তখনই টান পড়ল।

 

 ৪. “উলটো উৎপত্তি!!”—কী কারণে উলটো উৎপত্তি ঘটল?

 

উত্তর: থ্যাবড়া’ নামের হাঙরটি টোপ গিললে সবাই দড়ি ধরে টানতে শুরু করল|তখন অবাক হয়ে সে মুখঝাড়া দিয়ে টোপটিকে ঝেড়ে ফেলতে উদ্যত হল| ফলে উলটো উৎপত্তি ঘটল।

 

৫. “উলটো উৎপত্তি”—উলটো উৎপত্তিটা কী?

 

উত্তর: উলটো উৎপত্তিটা হল, “থ্যাবড়া’ নামক হাঙর টোপ গেলার পর দড়িতে টান পড়ায় বিস্মিত হয়ে সেটাকে ঝেড়ে ফেলতে গেলে তার মুখে বড়শি গেঁথে গেল।

 

৬. “থাম্ থা—ও আরব পুলিশ-মাঝি”—আরব পুলিশ-মাঝিকে কী অনুরােধ করা হয়েছিল?

 

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনায় উল্লিখিত আরব পুলিশ-মাঝিকে অনুরােধ করা হয়েছিল বড়শিবিদ্ধ হাঙরের ল্যাজের দিকে একটা দড়ি বেঁধে দিতে।

 

৭ দ্বিতীয় হাঙরটির ল্যাজের দিকে একটা দড়ি বেঁধে দেওয়া হয়েছিল কেন?

 

উত্তর: মাথার দিকে বাঁধা একটা মাত্র দড়ি দিয়ে অতবড়াে একটা জন্তুকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় জল থেকে টেনে তােলা কঠিন ছিল বলেই তার ল্যাজের দিকেও একটা দড়ি বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।

 

৮, “সাবধান হয়ে ভাই”—কাকে সাবধান হতে বলা হয়েছে?

 

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ রচিত সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’ রচনার উল্লিখিত অংশে আরব পুলিশ-মাঝিকে সাবধান হতে বলা হয়েছে।

 

৯). “সাবধান হয়ে ভাই”—কোন্ ব্যাপারে সাবধান হওয়ার কথা বলা হয়েছে?

 

উত্তর: আরব পুলিশ-মাঝিটি যখন হাঙরটির ল্যাজের দিকে একটা বড়াে দড়ি বাঁধতে যাচ্ছিলেন, তখন হাঙরের ল্যাজের ঝাপটা থেকে তাকে সাবধান। হতে বলেছিলেন বক্তা |

 

১০. “সাবধান হয়ে ভাই’—সাবধান হওয়া প্রয়ােজন কেন? 

 

উত্তর: হাঙরের ল্যাজের ঝাপটায় ঘােড়ার পা ভেঙে দেওয়ার মতাে শক্তি থাকে বলেই বড়শিবিদ্ধ হাঙরটির ল্যাজে দড়িবাঁধার কাজে সাবধান হওয়া প্রয়ােজন।

 

১১. “হাঙ্গরের পেটের নীচে দিয়ে ও ঝুলছে কী?”—কী ঝুলছে? উত্তর: এখানে হাঙরের পেটের নীচে দিয়ে তার নাড়িভুড়ি ঝােলার কথা বলেছেন ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’ লেখক স্বামী বিবেকানন্দ।

সুয়েজ খালে হাঙ্গর শিকার গল্পের ছোট প্রশ্ন উত্তর

১২. “যাক্, ওটা কেটে দাও।”—কোন্টা কাটার কথা বলা হয়েছে? উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনা থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে হাঙরের পেটের নীচে ঝুলন্ত নাড়িভুড়িটা কেটে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

 

১৩, “যাক, ওটা কেটে দাও,”—ওটা কেটে দিতে বলার কারণ কী? উত্তর: প্রশ্নোস্তৃত অংশে এ কথা বলা হয়েছে, কারণ হাঙরের ঝুলন্ত নাড়িভুড়ি কেটে দিলে হাঙরের ওজন অনেকটা কমে যাবে।

 

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনায় জাহাজের দ্বিতীয় শ্রেণির যে ফৌজি লােকটি হাঙর-শিকারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ও তৎপর ছিলেন, তিনিই বক্তা। :

 

১৫. “বটে তাে”-বক্তা কোন্ কথা শুনে এ কথা বলেছেন?

 

উত্তর: ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ পাঠ্যাংশে হাঙরকে জাহাজে তােলা হলে সাবধানী যাত্রীরা ফৌজি লােকটিকে কড়িকাঠ দিয়ে হাঙরের মাথায় আঘাত করতে অনুরােধ করলে তিনি প্রশ্নোধৃত উক্তিটি করেন।

 

১৬. “মেয়েরা—‘আহা কী নিষ্ঠুর! মেরাে না’ ইত্যাদি চিৎকার করতে লাগল”—কখন?

 

উত্তর: গায়ে কাপড়ে রক্তমাখা অবস্থায় ফৌজি লােকটি যখন পুরুষযাত্রীদের অনুরােধে কড়িকাঠখানা দিয়ে হাঙরটির মাথায় দুম্ দুম্ করে আঘাত করতে থাকেন, তখন প্রশ্নোক্ত ঘটনাটি ঘটেছিল।

 

১৭. স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’ রচনায় জাহাজে ওঠানাে মৃত হাঙরটির মাথায় যখন ফৌজি লােকটি কড়িকাঠটা দিয়ে আঘাত করছিলেন, তখন মহিলা যাত্রীরা কী বলে চিৎকার করছিল?

 

 উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনা থেকে গৃহীত প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতিতে মহিলাযাত্রীরা “আহা কী নিষ্ঠুর! মের না ইত্যাদি বলে চিৎকার করছিল।

 

 

১৮. “অথচ দেখতেও ছাড়বে না।”—এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে? 

 

উত্তরঃ জাহাজে তােলা মৃত হাঙরটির মাথায় যখন ফৌজি যাত্রীটি আঘাত করছিলেন, তখন সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা যেসব মহিলা সেই নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদ করছিলেন, তাদের কথাই এখানে বলা হয়েছে। 

 

১৯, “কেমন রক্তের নদী বইতে লাগল,”—কখন? 

 

উত্তরঃ স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনায় শিকার করা হাঙরটার পেট চেরা হলে রক্তের নদী বইতে লাগল।

 

২০. ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনায় হাঙরের পেট চেরা হলে সেখান থেকে কী বেরল?

 

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনায় উল্লিখিত ঘটনায় হাঙরের পেট চেরা হলে সেখান থেকে হাড়, মাংস, চামড়া এবং একরাশ কাঠের টুকরাে বের হল।

 

 ২১. “সেদিন আমার খাওয়া-দাওয়ার দফা মাটি হয়ে গিয়েছিল।”- কেন?

 

 উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রায় সব জিনিসের মধ্যেই লেখক স্বামী বিবেকানন্দ হাঙরের গন্ধ পাচ্ছিলেন বলে সেদিন তার খাওয়া-দাওয়া মাটি হয়ে গিয়েছিল।

 

২২ সুয়েজ খাল খননের ফলে কী সুবিধা হয়েছে?

 

 উত্তর: সুয়েজ খাল খনন করার ফলে তা ভূমধ্যসাগর এবং লােহিত সাগরকে যুক্ত করে ইউরােপ ও ভারতের পারস্পরিক ব্যাবসাবাণিজ্যের পথ সুগম করেছে।

 

২৩, প্রাচীনকালে ভারতবর্ষ থেকে কী কী জিনিস বহির্বিশ্বে যেত তা ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’ রচনা অবলম্বনে লেখাে। :

 

উত্তর: প্রাচীনকালে সুতিবস্ত্র, তুলাে, পাট, নীল, গালা, চাল, হিরে, মােতি, রেশমিবস্ত্র, পশমিনা, কিংখাব, লবঙ্গ, এলাচ, মরিচ, জায়ফল, জয়িত্রি ইত্যাদি ভারতবর্ষ থেকে বহির্বিশ্বে যেত।

 

২৪, “কাজেই অতি প্রাচীনকাল হতেই যে দেশ যখন সভ্য হত, তখন ওই সকল জিনিসের জন্য ভারতের ওপর নির্ভর।”—কোন্ কোন্ জিনিস?

 

উত্তর: সুতিবস্ত্র, রেশমিবস্ত্র, পশমিনা, কিংখাব, তুলাে, পাট, নীল, গালা, হিরে, মােতি, চাল, লবঙ্গ, এলাচ, মরিচ, জায়ফল, জয়িত্রি ইত্যাদি জিনিসের কথা বলা হয়েছে।

 

২৫. “এ সুয়েজখাল খাতস্থাপত্যের এক অদ্ভুত নিদর্শন।”—কে, খনন করেন এই খাল?

 

অথবা, সুয়েজ খালটি কে খনন করেন?

 

 

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘সুয়েজখালে: হাঙ্গর শিকার’ রচনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুয়েজখাল খনন করেন ফর্ডিনেন্ড লেসেন্স নামক এক ফরাসি থপতি।

 

২৬. “নানাবিধ মসলার স্থান-ভারতবর্ষ।”—কোন্ কোন্ মশলার স্থান ভারতবর্ষ? 

 

উত্তর: লবঙ্গ, এলাচ, মরিচ, জায়ফল, জয়িত্রি প্রভৃতি মশলার স্থান ভারতবর্ষ।

 

২৭. “এই বাণিজ্য দুটি প্রধান ধারায় চলত;-ধারা দুটি কী?

 

 উত্তর: ইউরােপ ও ভারতের পারস্পরিক বাণিজ্য স্থলপথে আফগানিস্তান, ইরাক হয়ে এবং জলপথে লােহিত সাগর হয়ে—এই দুটি ধারায় চলত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *